10/11/2025
'ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ (আশ্বিন ১৩১৮ সাল -আশ্বিন ১৩২০ সাল) I
সম্পাদনায়: মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক
কৃতজ্ঞতা স্বীকার (২য় পর্ব)
২০২০ সালের জুন মাস থেকে আজ পর্যন্ত ফেবুতে আমি কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরা নিয়ে অনেক লেখা প্রকাশ করার পর আমার বহু ফেবু বন্ধু ও শুভাকাঙ্খী আমাকে বিবিধভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। এই স্বল্প পরিসরে সবার নামগুলো উল্লেখ করা সম্ভবপর না হলেও যাঁদের নাম উল্লেখ না করলেই নয় তাঁরা হলেন: আব্দুল হান্নান ভাই (প্রাক্তন সচিব), ড. মাহবুব উল্লাহ ভাই (অর্থনীতিবিদ), ড. মাহমুদুল আলম ভাই (অর্থনীতিবিদ), ড. সেলিম জাহান (অর্থনীতিবিদ), অধ্যাপক মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কবির মজুমদার ভাই, সায়ীদ কামাল, সুধীর কুমার দাস (আমার বাবার প্রাক্তন ছাত্র), মনজুর কাদের খান ও তদীয় পত্নী সামিনা, তাসনিম উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ফারাহ আজাদ দোলন, অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (শাহীন--আমার বাবার অতি প্রিয় ছাত্র সোম নিবাসী মরহুম জনাব মুনীর উদ্দিন আহাম্মদ সাহেবের ছেলে), নিলুফার বেগম (কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী প্রধানশিক্ষক), কালীগঞ্জ সরকারী শ্রমিক কলেজের অধ্যাপিকা উম্মে ছালমা শিল্পী (টিউরী গ্রাম নিবাসী মরহুম জনাব আব্দুল হাই সাহেবের বড় মেয়ে) এবং তাঁর একমাত্র কন্যা আতীয়া শাহরীন রাত্রী (বর্তমানে কানাডার সাচকাটুন নামক শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ সাস্কাচেওয়ান-এ লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত) ও তাঁর বর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। তাছাড়া এই স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করার ব্যাপারে যাঁদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই উৎসাহ পেয়েছি তারা হলো আমার অনুজাপ্রতীম আত্মীয়া ব্যাংকার ফারজানা আফরোজ প্রীতি এবং আমার স্নেহধন্য কালীগঞ্জ সরকারী শ্রমিক কলেজের অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম (মিঠু) ও তদীয় পত্নী অধ্যাপিকা তাহমিনা মৌটুসী।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি ও কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের যাঁদের ফেবু মন্তব্য পড়ে বা লেখালেখি নিয়ে অনেক সময় আলাপ করে অনুপ্রাণিত হয়েছি আমার সেই আন্তরিক স্নেহাস্পদদের নামগুলো হল: শাকিব আল শোয়েব ও তদীয় পত্নী ড. রাফিয়া খান (বর্তমানে টেক্সাস নিবাসী), মোহাম্মদ আলম, শাহরীন সারাহ, আশফাক আহমেদ (সুমন) ও তদীয় পত্নী ইলা, আজিজ আহমদ ও তদীয় পত্নী মুনিয়া সুলতানা, মীর শহীদুর (সাধন) ও তদীয় পত্নী নাজনীনা মীর (শিল্পী), আলী মিয়া ও তদীয় পত্নী রুনা, হারুন নুরুল আলম ও তদীয় তদীয় পত্নী কানিজ হারুন (বর্তমানে নিউ ইয়র্ক নিবাসী), মাসুদুল হক ও তদীয় পত্নী তানজিদা খাতুন, জাকির হোসেন ও তদীয় পত্নী ড. মীরা মমতাজ এবং শেখ আবীর ও তদীয় পত্নী শাহরিনা সোহা।
আমার গুরুগৃহ কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর লেখালেখি করার ব্যাপারে আমার অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্খী আমাকে উৎসাহ প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে কৃতজ্ঞচিত্তে যাঁদের নামগুলো উল্লেখ করতে চাই তাঁরা হলেন: ফরিদা শিরিন (শিরিন আপা), আলমগীর কবির সামাদ (ছোট মানিক) ও তদীয় পত্নী পারভীন আলমগীর, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের ম্যানহাটান শহরে অবস্থিত ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূগোলের অধ্যাপক ড. বিমলকান্তি পাল ও তদীয় পত্নী অঞ্জলী পাল, যুক্তরাষ্ট্রের প্যানসেলভানিয়ায় অবস্থিত ব্লুমসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, কানাডার লেকহেড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রিবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স শহরে অবস্থিত 'ইউনিভার্সিটি অফ নিউ অরলিন্সের’ অর্থনৈতিক অর্থশাস্রের (Financial Economics) অধ্যাপক ড. কবির হাসান ও তদীয় তদীয় পত্নী ডা. তাহমিনা হাসান (তিথি), ও লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের লেক চার্লস শহরে অবস্থিত ম্যাকনীজ স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ডঃ মতিউর রহমান, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. হারুন খান, মুস্তাফা চৌধুরী ও মাকসুদুর রহমান খান (আদনান)।
আমার চিরকালের মঙ্গলাকাক্সক্ষী ক্যাপ্টেন ইমাম আনোয়ার হোসেন (যিনি ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি সকাল এগারোটায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন) ও তদীয় পত্নী নাসিম আক্তার জাহান আমাদের স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর আমার লেখাগুলো পড়ে আমাকে যেভাবে উৎসাহিত করেছিলেন সেইজন্য তাঁদের কাছে আমার ঋণ শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমার পরম বন্ধু ও শুভাকাঙ্খী মেজর জেনারেল (অব.) সায়ীদ আহমেদ জীবনভর আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ফেসবুকে আমার লেখা পড়ে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সতীর্থদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ মাসুম, শফিকুল ইসলাম (নোমান), গোলাম মুস্তাফা ও রিয়াজুদ্দিন চৌধুরী আমাকে বিবিধভাবে উৎসাহ জুগিয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরানো বন্ধুদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. শওকত হোসেনের বিশেষ রচনাশৈলীতে ভরপুর কিছু লেখা আমাকে অপরিমেয় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডলিপি সৎগ্রাহক আপেল মাহমুদ বিবিধভাবে এই বইটি প্রকাশে অনুপ্রাণিত করেছেন। এছাড়া টরন্টো নিবাসী (বিশিষ্ট সাংবাদিক) সৈকত রুশদীর অনেক লেখা পড়ে এই আকরগ্রন্থ প্রকাশে উৎসাহিত হয়েছি।
এছাড়া আমাদের পরম আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে আমার স্কুলের ইতিহাস ও ঐত্যিহ্যের উপর লেখালেখির কাজকে যাঁরা নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়েছেন তাঁরা হলেন: ড. শিখা রহমান ও তদীয় স্বামী প্রকৌশলী রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ড. মাহমুদ হোসেন (টিপু) ও তদীয় পত্নী লীনা, টিপুর আম্মা ফাতেমা হোসেন এবং টিপুর প্রয়াত আব্বা জনাব আমীর হোসেন I
এই বিশেষ সংকলনের ভূমিকা স্বরূপ ‘মাসিক সাহিত্যপত্র ‘ছাত্র-সুহৃদ-এর আবির্ভাব ও তিরোভাব : প্রসঙ্গ কথা’নামক প্রথম প্রবন্ধে আমি উল্লেখ করেছি যে স্কুলজীবনেই আমার একাধিক বাল্যবন্ধু ও সমসাময়িক শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এ মুদ্রিত লেখাগুলো অতি মনোযোগের সঙ্গে পড়েছিল। আজকে আমার সেইসব প্রয়াত বন্ধুদের নামগুলো অনেক কৃতজ্ঞচিত্তে উল্লেখ করতে চাই: শামসুল হক ( (এস.এস.সি. ১৯৬৫), আব্দুল হান্নান, জামিল আহমেদ ((এস.এস.সি. ১৯৬৫), গোলজার হোসেন (এস.এস.সি. ১৯৬৫-বক্তারপুর), মজাহারুল হক চৌধুরী ওরফে হাবুল (এস.এস.সি. ১৯৬৫- সুলতানপুর/চরসিন্দুর), মহিউদ্দিন খান ((এস.এস.সি. ১৯৬৫- আজমতপুর), ভাটিরার মেজবাহউদ্দিন শিকদার (এস.এস.সি. ১৯৬৫) (আমার ছোট বোন ফাতেমা জামানের স্বামী), এবিএম ওসমান গনি (এস.এস.সি. ১৯৬৫-তাঁর মূল নাম ছিল ওসমান আলী আকন্দ-আমৃত্যু তাঁকে এই নামেই ডেকেছি), মোহাম্মদ খোরশেদুজ্জামান কায়ছার ((এস.এস.সি. ১৯৬৫), এ.কে.এম. আতিকুজ্জামান (এস.এস.সি. ১৯৬৫-সোম), নুরুল ইসলাম ভূইয়াঁ (এস.এস.সি. ১৯৬৩- দুর্বাটি), অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এস.এস.সি. ১৯৬৩-মুন্সেফপুর), আরব আলী (এস.এস.সি. ১৯৬৩-বালিগাঁও), মোহাম্মদ আতাউর রহমান (এস.এস.সি. ১৯৬৩-বালিগাঁও), আমিনুর রহমান (এস.এস.সি. ১৯৬৩-ওরফে আমিন চেয়ারম্যান), ড. হরিপদ ঘোষ মিন্টু (এস.এস.সি. ১৯৬৩), নুরুজ্জামান (এস.এস.সি. ১৯৬৪-দুর্বাটি), ওবায়দুল্লাহ (এস.এস.সি. ১৯৬৪-টিউরী), অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির এস.এস.সি. ১৯৬৬-উত্তর ভাদার্তী), লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল হক (মণি), হাবিবুজ্জামান অরুন (এস.এস.সি. ১৯৬৪, ১৯৬৬, , বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম (প্রখ্যাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও বিস্মৃত মসলিন কটন মিলের কিংবদন্তিতুল্য জেনারেল ম্যানেজার জনাব হাফিজুল ইসলামের সন্তান), বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন তালুকদার (এস.এস.সি.. ১৯৬৮). মোহাম্মদ রফিক খান (তুমলিয়া) ও নাজিমুদ্দিন (এস.এস.সি. ১৯৬৬-টিউরী)।
স্কুলজীবনের সেই সময়ে ‘ছাত্র-সুহৃদ-এর পাঠকদের মধ্যে আমার চেয়ে দুই বছরের বড় আমার অকালপ্রয়াত সেজো ভাই মোহাম্মদ খোরশেদুজ্জামান (কায়ছার)-এর নামটি উল্লেখ করতে গিয়ে অনেক বিস্মৃত কথাবার্তা মনে পড়ে যা হয়তো বা কোনো গ্রন্থে লোকলোচনে গোচরীভূত করতে সমর্থ হবো না। তবে উল্লেখ্য যে, অনেক সময় আমার অনুপস্থিতিতে কায়ছারই সঙ্গ দিয়ে আমার বন্ধুদেরকে ‘ছাত্র-সুহৃদ’ পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
আমাদের চেয়ে বয়সে অনেক বড়দের মধ্যে যাঁদেরকে রীতিমতো ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর লেখাগুলো পড়তে দেখেছি তাঁরা হলেন ভাদার্তী দক্ষিণ পাড়ার আমার অগ্রজপ্রতিম মোহাম্মদ ফজলুল করিম (মেট্রিক, ১৯৫৮ সাল) ও দক্ষিণ ভাদার্তীর শ্রী নরেশ চন্দ্র দাস (মেট্রিক, ১৯৫৫ সাল)। এছাড়া আমাদের স্কুলের পুরনো যুগের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যাঁদেরকে আমার বাবার বাংলাঘরে বসে ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর লেখাগুলো পড়তে দেখেছি তাঁরা হলেন: আমার বাবার ক্লাসমেট মরহুম মুজিবুর রহমান, আমাদের পরম আত্মীয় মরহুম ছায়েদ আলী খান, মরহুম আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার (মেট্রিক, ১৯২০ সাল) ও মরহুম এমদাদ আলী সরকার (মেট্রিক, ১৯২৪ সাল)। তাঁদের মধ্যে কেউ আজ বেঁচে নেই এই কথা সত্য I তবে তাঁদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক স্মারক বইটি প্রকাশে দীর্ঘদিন ধরে আমার নিজের মাঝে অদম্য উৎসাহ ও কর্মতৎপরতা অনুভব করেছি।
ইদানীংকালে আমার ফেসবুকের পাতায় প্রকাশিত ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এ মুদ্রিত লেখাগুলো পড়ে অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন ওইসব বিস্মৃত কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধগুলোর লেখকদের মধ্যে কাকে কাকে আমি স্বচক্ষে দেখেছিলাম। আমার উত্তর হলো: আমার বাবা ‘শ্রী বদরুজ্জামান (মেট্রিক ১৯১৫ সাল) ছাড়া কতিপয় লেখক যাঁদেরকে আমি সামনাসামনি দেখেছি তাঁরা হলেন: শ্রী মহম্মদ নজর আলী পাঠান (মেট্রিক, ১৯১২ সাল), শ্রী হরেন্দ্রচন্দ্র সাহা (মেট্রিক ১৯১৩ সাল), শ্রী বাছির উদ্দিন আহম্মদ (মেট্রিক, ১৯১৪ সাল), শ্রী অক্রূরচন্দ্র ধর (মেট্রিক, ১৯১৫ সাল), শ্রী মজিবুর রহমান (তিনি ১৯১৫ সালে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তবে তিনি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি), শ্রী বিরামউদ্দিন (মেট্রিকুলেশন, ১৯১৭ সাল), শ্রী আবদুল হাছিব খাঁ (মেট্রিকুলেশন, ১৯১৭ সাল) এবং শ্রী আবদুস সামাদ ওরফে ছুমু সরকার (মেট্রিকুলেশন, ১৯২০ সাল)। বিস্মৃত ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর জন্য যাঁরা লিখেছিলেন সেইসব মহাত্মাগণের কাছে আমরা সবাই ঋণী। তাই উল্লেখিত গুণীজনদেরকে শ্রদ্ধাবনত হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আমাদের স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যাঁরা আমাকে ছাত্র সুহৃদে মুদ্রিত লেখাগুলো নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করার জন্য নিরন্তর উৎসাহ প্রদান করেছেন তাঁদের মধ্যে আমার অগ্রজ ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জানের (মেট্রিকুলেশন, ১৯৫১) নাম ভূমিকাতে উল্লেখ করেছি। কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট হাই স্কুল এলামনাই এসোসিয়েশন-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন হোসেন ভাই (মেট্রিকুলেশন, ১৯৫৩), ১ম সহ-সভাপতি আজাদ ফারুক (এস.এস.সি. ১৯৬৩), ২য় সহ-সভাপতি মরহুম এবিএম ওসমান গনি (এস.এস.সি. ১৯৬৫) ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব কনক এই বইটি প্রকাশ করার জন্য আমাকে লাগাতার উৎসাহিত করেছেন। স্কুলে আমার ৩ বছরের সিনিয়র জাঙ্গালিয়ার কৃতী সন্তান আমাদের স্কুলের প্রাক্তন কৃতি মরহুম গনি নেওয়াজ (মেট্রিকুলেশন, ১৯৬১) এই বইটি প্রকাশের জন্য তাঁর জীবদ্দশায় আমাকে ক্রমাগত তাগাদা দিয়েছিলেন। এছাড়া বোয়ালী গ্রামের কৃতী সন্তান ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্কুলের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র ও তুখোড় খেলোয়াড় জনাব মেজবাহউদ্দিন আহম্মদ ঝন্টু ভাই (মেট্রিকুলেশন, ১৯৬১) -যিনি দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত) ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক এই স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করার জন্য আমাকে যেভাবে নিরন্তর উৎসাহিত করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না I এই সীমাহীন আন্তরিকতার জন্য আমি আমার শুভাকাঙ্খী ঝন্টু ভাইয়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ন পাইলট হাই স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর গবেষণাকালে অনেকের সাথে সাক্ষাতে বা ফোনে আলাপ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ প্রকাশকল্পে আমাদের স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যাঁদের উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়েছি তাঁরা হলেন: ড. জসিমুজ্জামান ভাই (মেট্রিকুলেশন, ১৯৫৭), প্রকৌশলী কাজী জহিরুল আজম ভাই (মেট্রিকুলেশন, ১৯৫৯), প্রফেসর আব্দুল মালেক ভাই (মেট্রিকুলেশন, ১৯৬২ ), শিক্ষাবিদ ইমামুদ্দিন খান ভাই (এস.এস.সি. ১৯৬৩)- (আজমতপুর), ড. আহাদ নেওয়াজ চোধুরী পাপ্পু (এস.এস.সি. ১৯৬৫), প্রকৌশলী সৈয়দ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ইকবাল (এস.এস.সি. ১৯৬৫), আনোয়ারুল কাদের মোহন (এস.এস.সি. ১৯৬৫), নুরুল হোসেন খান বাবর (এস.এস.সি. ১৯৬৫), এ. কে. এম. ওসমান গনি (এস.এস.সি. ১৯৬৫)- (ঘোনাপাড়া), নাসিরুদ্দিন আহমেদ (এস.এস.সি. ১৯৬৫) ও তাঁর অমায়িক ছেলে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান রুবেল (ঘোনাপাড়া), জোবেদ আলী (এস.এস.সি. ১৯৬৫)- (মাতিচর), তারিণী কান্ত মল্লিক (এস.এস.সি. ১৯৬৫- (রাবান), প্রয়াত মনিন্দ্রচন্দ্র পাল (এস.এস.সি. ১৯৬৫)-(রাবান), শামসুল হোসেন ফাহিম (এস.এস.সি. ১৯৬৬), বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ভূইয়াঁ হুমায়ুন (এস.এস.সি. ১৯৬৬), মোহাম্মদ সোলায়মান আলম (এস.এস.সি. ১৯৬৬), নায়ীম আহমদ (বাবুল), ড. ওয়াদুদ ভূইয়াঁ এবং জসিমুদ্দিন আহম্মদ (শাহীন) I আমার স্নেহধন্য শাহীনের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড় ফেরদৌস (প্রয়াত), কনক (প্রয়াত), নিরঞ্জনচন্দ্র দাস, মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন, সবুজ, আব্দুল মজিদ ও ওসমান গনি আমাদের স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর লেখালেখি প্রকাশের কাজে আমাকে নিরবধি উৎসাহ জুগিয়ে গেছে। আমার স্নেহধন্য রেজাউল সরকার যে ‘ছাত্র-সুহৃদ-এর একাধিক নিরুদ্দিষ্ট সংখ্যা সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে উদ্ধার করে আমাকে চিরঋণী করেছেন সে কথা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি। সবার প্রতি রইল আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতা ও নিরন্তর শুভকামনা ।
ঐতিহ্যবাহী কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর লেখালেখির জন্য আরও অনেকের কাছ থেকেই নিরন্তর উৎসাহ পেয়েছি। আমার অনুজপ্রতিম খালাতো ভাই সোম নিবাসী অকালপ্রয়াত আবুল কালাম আজাদ ও ইদানীংকালে তাঁর মমতাময়ী ও সুযোগ্যা কন্যা সাবরিনা শাহরীন রিমির কাছ থেকে আমাদের বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের ওপর সংকলন প্রকাশকল্পে অনেক উৎসাহ পেয়েছি। আমার সবচেয়ে বড় আপা জাহানারা জামানের জ্যৈষ্ঠ ছেলে ও আমাদের স্কুলের একজন প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (রতন) ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক এই বিশেষ সংকলন দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে । আমার মেজ আপা রৌশনারা জামান-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান আমার অতি প্রিয় ভাগ্নে মরহুম মাসুদুর রহমান বইটি প্রকাশ করার জন্য তাগাদা দিয়ে গেছে। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে কালীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরার উপর যেসব লেখা যতবারই ফেবুতে পোস্ট করেছি ততবারই অকালে প্রয়াত আমার অতি প্রিয় ভাগ্নে মাসুদের আপন ফুফাতো ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা সায়েদুল হক ফরহাদ প্রতিটি লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ে তার মন্তব্য জানায়ে আমাকে যেভাবে উৎসাহিত করেছে তা হলো তুলনাবিহীন এবং এই জন্য তাঁর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের প্রতিষ্ঠা, বিকাশ ও সাফল্য এবং আমার বাবার শিক্ষকতা জীবনের উপর আমি যখন একাধিক প্রবন্ধ ইংরেজীতে লিখেছিলাম তখন আমার কর্মস্থল অস্টিন পি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রফেসর জেমস প্রেসকট প্রায় প্রতিটি প্রবন্ধ পড়ে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করার কাজে অশেষ সহযোগীতা করেছে এবং এই জন্য আমি তাঁর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
আমাদের পরিবার বেশ বড় একটি পরিবার এবং এই পরিবারের লোকসংখ্যাও কম নয়। তবে আমার স্ত্রী (সাবিনা জামান) ও দুই ছেলে (নাভীদ আশফাক জামান ও নাদীম বদরুজ জামান) এবং আমার বড় ভাই ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান ছাড়া বর্তমানের ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক আকরগ্রন্থ প্রকাশে পরিবারের অন্য কারুর কোন সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও এই কথা স্বীকার করতেই হবে যে ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর মূল কপিগুলো সংরক্ষণে আমার বাবা ও মা ছাড়াও তাঁদের সব সন্তানদেরই কম-বেশি ভূমিকা ছিল। তাই আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের কাছেই আমি ঋণী। ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক এই বিশেষ সংকলন প্রকাশ করে আমি নিজেকে কিছুটা হলেও ঋণমুক্ত মনে করছি।
এই বিশেষ সংকলনের সংক্ষিপ্ত নাম 'ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ হলেও এই বইয়ের বিশদ নাম হলো ‘ঐতিহ্যবাহী কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের বিলুপ্ত 'ছাত্র-সুহৃদ-এর আত্মকথা: শতবর্ষী স্থবিরতা ও উদাসীনতার গহিন গহ্ববর থেকে বিস্মৃত একটি সাহিত্য-মাসিকের অমৃত রচনাবলি পুনরুদ্বার’ I এই গ্রন্থ প্রকাশে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে আমি অনেক বিজ্ঞজনের নাম উল্লেখ করেছি। অবশ্য সব ভুল- ত্রুটির জন্য একমাত্র আমিই দায়ী। এছাড়া আমার কোনো মতামতের বা মূল্যায়নের সঙ্গে আমার বৃহত্তর পরিবারের বা আমার বর্তমানের কর্মস্থলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ বইটি হাতে পেয়ে অনেকেই যে খুশি হবেন এই বিশ্বাস আমার আছে। তবে আমার অগ্রজের একমাত্র পুত্রসন্তান আসিফ জামান দিপু যে তার ‘মানিক কাকাকে’নিয়ে গর্ববোধ করত এই ব্যাপারে সন্দিহান হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আসিফ জামান (জন্ম: ২২ এপ্রিল, ১৯৬৯ সাল; মৃত্যু : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ সাল): ৫৬তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ। ২২ এপ্রিল, ২০২৫ সাল I বেঁচে থাকলে আমার অতি প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র আসিফ জামান দিপুর বয়স হত ৫৬ বৎসর।
আমার বাবা-মায়ের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক গ্রন্থটি বের করতে গিয়ে মর্মে মর্মে অনুধাবন করেছি যে আমার বাবা-মা আমার কর্মশক্তির-বিন্দু আকারে আমার সঙ্গেই আছে I কৃতিত্বে সমুজ্জল আমার পিতৃপ্রতীম অগ্রজ ও মহৎপ্রাণ শিক্ষক ডঃ মোহাম্মদ রশিদুজ্জামানকে কখনোই বিদায় বলব না এবং তাঁকে স্মরণ রাখব সীমাহীন শ্রদ্ধায় ও বিনম্র আলেখ্যে, মূর্তে-বিমূর্তে I
বহু মানবিক গুনে গুণান্বিত অতি প্রিয় দিপু আমার সকল উদ্যমের জলীয়-কণা আকারে আমার হৃদয়ে বাস করে এবং তাকে অহর্নিশ স্মরণ করি এক মনোরম অনুভাবনায় I কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পলাতকা’নামক কাব্যগ্রন্থের ‘শেষ প্রতিষ্ঠা’ নামক স্বর্ণময় কবিতার কথা দিয়ে অকালে প্রয়াত আসিফ জামান দিপুর ৫৬তম জন্ম বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করছি:
(পলাতকা)
শেষ প্রতিষ্ঠা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"এই কথা সদা শুনি, ‘গেছে চলে’, ‘গেছে চলে’।
তবু রাখি ব’লে
ব’লো না, ‘সে নাই’।
সে-কথাটা মিথ্যা, তাই
কিছুতেই সহে না যে,
মর্মে গিয়ে বাজে।
মানুষের কাছে
যাওয়া-আসা ভাগ হয়ে আছে
তাই তার ভাষা
বহে শুধু আধখানা আশা।
আমি চাই সেইখানে মিলাইতে প্রাণ
যে-সমুদ্রে ‘আছে’ ‘নাই’ পূর্ণ হয়ে রয়েছে সমান”।