28/01/2026
উ’সামা ইবনু যায়দ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে তো শা’বান মাসে যে পরিমাণ সাওম পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ সাওম পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন, শা’বান মাস রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তলোন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তা’আলার নিকটে উত্তোলন করা হবে আমার সাওম পালনরত অবস্থায়।
(মুসনাদে আহমাদ : ২১৭৫৩, সুনান আন-নাসায়ী : ২৩৫৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯৮৫৮)
শাবান মাসের প্রতি নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেন এত গুরুত্বারোপ করতেন, এই হাদীসে তিনি তা খুলে বলেছেন। তাঁর কথার মর্ম হল, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই এ মাসটি গুরুত্বের দাবিদার। তাছাড়া সামনে রমযান আসছে, ফযীলতপূর্ণ মাস হিসেবে রমযানকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। শা'বান মাসের আগে রজব মাস আছে, রজব মাস পবিত্র চার মাসের একটি, তাই রজব মাসকেও গুরুত্ব প্রদান করা হয়। মাঝখানে শাবানের ব্যাপারে গাফলতি হয়ে যায়। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করলেন যে, দেখো, একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসটিও গুরুত্বের দাবিদার। এ মাসে বান্দার গোটা বছরের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই শা'বান আল্লাহর দরবারে আমলনামা পেশ হওয়ার মাস। কাজেই এই মাসেরও যথাযথ কদর করা চাই। এ কারণেই আমি এ মাসে এত রোযা রাখি।
ইমাম ইবনে রজব (রাহ.) এই হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি গভীর বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, (মর্ম) : এই হাদীসে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কখনো কোনো একটা সময়, ব্যক্তি বা স্থানের ফযীলত প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, তখন সবাই সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্র নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অথচ ভিন্ন বিবেচনায় অন্য কোনো স্থান, কাল, পাত্র সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্রের চেয়েও উত্তম হতে পারে। কিন্ত অনেকে সেদিকে লক্ষ করে না। [সূত্র : লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ. ২৫১]
সুতরাং, একাধিক ফযীলতের কারণে যেভাবে রমযান মাসকে গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং পবিত্র মাস হিসেবে আশহুরে হুরুম বা পবিত্র চার মাসকে যেভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়, তেমনি সারা বছরের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস হিসেবে শা'বান মাসকেও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা কর্তব্য। আর এই গুরুত্ব প্রদান করার উপায় হল, সবধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া। শা'বান মাসের অধিকাংশ দিন রোযা রেখে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতকে এই নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন।
প্রসঙ্গত, এখানে উল্লেখ করে দেওয়া প্রয়োজন, সহীহ হাদীসে আছে, আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হয়। দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয় (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৪২)। এটি হল প্রতিদিনের আমলনামা। অপর একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়। (দ্র. সুনান আত-তিরমিজী, হাদীস ৭৪৭) এটি হল সাপ্তাহিক আমলনামা। আর একবার পেশ করা হয় বাৎসরিকভাবে। সেটা হল শা'বান মাসে। এখানে সেটার কথাই বলা হয়েছে। (দ্র. লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৪৪)
-মাসিক আল কাউসার (সংখ্যা : ০২)🌸