22/05/2020
স্কুল জীবন। ব্যাচ-১৬🖤🖤
যখন স্কুলে পড়তাম কখনো ভাবিনি সেই দিন গুলোকে এমন ভাবে মিস করবো। বড় ভাইরা বলত, স্কুলে আছিস অনেক মজার দিন কাটাচ্ছিস, আরো মজা করে নে যেন পরে আফসোস করতে না হয়।কিন্তু ভাইদের কথায় তখন কান দিতাম না। ওই যে কথায় আছে না "দাত থাকতে দাতের মর্ম বুঝে না" সেরকম ছিল আমাদের অবস্থা। তখন মনে হতো স্কুল লাইফ কোনো মজাই না। কলেজ/ভার্সিটি লাইফ মনে হয় অনেক মজার। কিন্তু কলেজ জীবন পার করে ভার্সিটিতে এসে এখন বুঝতেছি যে, না স্কুল জীবনের মজাটার কোন তুলনা হয় না।
স্কুলে কত কাহিনী করলাম, ফ্রেন্ড রা মিলে কত দুষ্টুমিই না করলাম। স্যার দের হাতে কত মার খেলাম। একটার পর একটা বিচার লেগেই থাকত। এক বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা বিচার চলে যেত হেড স্যারের কাছে। স্যাররাও বোধহয় অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল আমাদের উপর, তাইতো বলত তোদের মত খারাপ ব্যাচ আর দেখিনি। স্কুলে থেকে যত প্রকার দুষ্টামি করা যায় বলতে গেলে প্রায় সবই করেছি আমরা।
একদিকে যেমন দিন গুলোকে যেমন মিস করি, তেমনি স্কুলের দিনের কাহিনী গুলো ভেবে মনটাও খুশি হয়ে যায়। আর কখনো ব্যাচের সব ছেলেমেয়েরা মিলে ক্লাসে বসা হবে না, তবুও সবাই একসাথে ক্লাসে বসে আছি এটা মনে মনে ভাবতে খুবই ভালো লাগে।
প্রভাত স্যারের গরু ডাক, সামসুল হক স্যারের গোল্ডেন বয় বলে ডাক,মাহমুদা ম্যাডামের কানের মোচর, হারুন স্যারকে পাম দিয়ে পড়া না বলা, জাহিদ স্যারের hw খাতা দেখে সাত ঘুরানি দিয়ে খাতা ফেরত দেওয়া,লুনা ম্যাডামের ক্লাসে পানি দিয়ে ভেজাভেজি করা, শাহ আলম স্যারের সাথে ভাই সুলভ ব্যবহার, মাকসুদ স্যারের পিটি প্যারেট, ধ্রুবলাল স্যারের বছরের শুরু ২ মাসে বই শেষ করিয়ে দেওয়া, তৃষ্না ম্যাডামের বাংলা পড়ানো, হেড স্যারের কাছে মার খাওয়া। এসব কথা মনে পড়লেই খারাপ লাগে। মনে হয় আবার ক্লাসে গিয়ে বসে পড়ি সবাই মিলে। আবার স্যারদের বকা খাই। কিন্তু নাহ এমন দিন আর কখনো ফিরে পাবো না।😢
অবশেষে বলতে চাই স্কুলে পড়ুয়া ছোট ভাই-বোনেরা, স্কুল জীবনকে মনে করো না যে পার হলেই ভালো।। তোমরাও যখন বড় হবে আমাদের মতোই স্কুল জীবন কে মিস করবে।তাই এখনি সব রকমের মজা করে নাও যাতে বড় হয়ে কোনো আফসোস না থাকে। তবে হ্যা খারাপ কাজ করাকে মজা বলে না। ভালো কাজের মধ্যে থেকেই লাইফকে এঞ্জয় করো।🙂🙂