04/10/2015
২০১৫-২০১৬ ভর্তি
কলেজ চয়েজ ও বিষয় চয়েজ সম্পর্কে
আপনাদের জন্য কিছু কথা না লিখে
পারলাম না।
কলেজ চয়েসঃ
''২০১৫-১৬ বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কলেজ
চয়েস খুবই
গুরুত্বপূর্ন।''
আগে জিপিএ পয়েন্ট একটু কম থাকলেও
নামিদামি
কলেজে আবেদন করা হতো এই ধারনায়
যে- এম.সি.কিউ
পরীক্ষায় একটু ভালো নাম্বার পেলে
চান্স পাওয়া
সম্ভব।চেষ্টা করলে সম্ভব ছিলো।তখন ৫০%
ছিলো
কর্তৃপক্ষের সিস্টেমের হাতে আর ৫০%
ছিলো নিজের
হাতে।কিন্তু এবার ভর্তি পরীক্ষা না
হওয়ায় আপনাদের
হাতে কিছুই নেই।অনেকেরই ভালো
কলেজে পড়ার স্বপ্ন
পূরন হবে না এটাই বাস্তব সত্য।জিপিএ
খারাপ মানেই
সে ছাত্র খারাপ এমনটা নয়।আবার
১ঘন্টার পরীক্ষায়
মেধা যাচাই হয় না কথা টা ভুল।যে
পড়ালেখা করছে সে
১ঘন্টা ঠিকই কাজে লাগাতে পারে।
ব্যতিক্রম কিছুটা
হয়।তবে তার সংখ্যা খুবই কম। আমি আমার
জায়গা থেকে
এই ভর্তি প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।এরকম
একটা লেভেলে
এভাবে ভর্তি করানো শুধুই বোকামি।ও
বাচ্চামি।
যাই হোক, মূল কথায় আসি।আমি শুধু দিক-
নির্দেশনা
দিতে পারবো আমার জায়গা থেকে
বা থিংকিং
থেকে।বাকিটা আপনার উপর।আপনি
আপনার জন্য যেটা
ভালো মনে করবেন সেটাই করবেন। হু
আই এম?? লাইফ ইজ
ইওরস,চয়েস ইজ ইওরস।
১. এমন কোন কলেজ চয়েস দিবেন না
যেখান থেকে
আপনার দূরুত্ব অনেক।প্রতিদিন আসা
যাওয়া করা সম্ভব
হবে না।তারথেকে কাছের কোন
কলেজে আবেদন করুন।
(মেয়েদের জন্য)।আপনার দ্বারা সম্ভব
হলে দূরেরটাতেই
করবেন।
২. যাদের জিপিএ ৮.০০-১০.০০ এর
ভেতরে তারা
বিভাগীয় নামিদামি কলেজে
আবেদন করতে পারেন
চান্স পাওয়ার আশায়।যেমনঃ ঢাকা
কলেজ,তিতুমীর
কলেজ,ইডেন কলেজ, রাজশাহী
কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, বি.এম
কলেজ,বি.এল কলেজ,এম.সি
কলেজ,কার্মাইকেল কলেজ
ইত্যাদি।এগুলো কলেজে সবাই ই ভর্তি
হতে চায়।আসনের
তুলনায় আবেদন করবে অনেক।চাপ
থাকবে বেশি।যাদের
পয়েন্ট ৭.৫০ তারা এধরনের সরকারি
কলেজে চান্স
পাওয়ার আশা না করাটাই ভালো।
আবেদন করুন।চান্স
হলে হলো না হলে নাই।রিলিজ স্লিপ
নিয়ে
অর্ধসরকারী কলেজে আবেদন করতে
পারবেন।
৩. যাদের পয়েন্ট একটু কম ৭.০০- ৮.০০
তারা অন্যান্য
সরকারি কলেজে আবেদন করুন।এবার আর
জিদ করে লাভ
হবে না।আপনি চাইলেই নামিদামি
কলেজে পড়তে
পারবেন না।কারন আপনার হাতে কিছু
নেই।তাই
পরিস্থিতি মেনে নিয়ে একটু নরমাল
কলেজে আবেদন
করুন।যদি চান্স পেতে চান।যাদের
পয়েন্ট ৮.৫০ এর
ভেতরে তারাও রিস্কে আছেন।
নামিদামি কলেজে নাও
হতে পারে।চাইলে একটু সাধারন
কলেজে আবেদন করতে
পারেন।
৪. যারা ৬:০০-৭:০০ পয়েন্টের ভেতর
তারা শুধুমাত্র একটা
ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারেন।সাধারন
সরকারী কলেজে
(নামিদামি নয়) আবেদন করতে পারেন।
যে কোন একটা
সাবজেক্টে হয়ে গেলে সেটা আপনার
গুড লাক।
৫. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট
প্রকাশ করে-- ক)
প্রথম মেরিট লিষ্ট। খ) দ্বিতীয় মেরিট
লিষ্ট। গ) রিলিজ
স্লিপ ঘ) রিলিজ স্লিপ-২ (আসন খালি
থাকা সাপেক্ষে)
এই কয়েকটি ধাপে।এটা বলাই যায়
সরকারি কলেজে
আবেদন করলেন,চান্স পেলেন
না,তারমানে এখানেই
শেষ নয়।আপনার জন্য আরো সুযোগ আছে
কোথাও ভর্তি
হওয়ার।তবে সেটা বেসরকারী
কলেজে।১ম ও ২য় মেরিটে
ভর্তির পর সকল সরকারি কলেজের আসন
পূর্ণ হয়ে যায়।
তাই রিলিজ স্লিপ দেওয়া হয়
অর্ধসরকারি/বেসরকারি
কলেজে আবেদনের জন্য।সেখানে
আপনি ৩ থেকে ৫ টি
কলেজে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
তাই আপনি যদি একটু রিস্ক নিতে চান
বা ভাগ্য
পরীক্ষা করতে চান তাহলে পয়েন্ট যতই
কম থাকুক না
কেনো প্রথম আবেদন টা সরকারি
কলেজেই করতে
পারেন।হলে হলো না হলে
রিলিজস্লিপ।
আর যদি একদমই রিস্ক নিতে না চান
তাহলে প্রথম
আবেদন টা সরাসরি বেসরকারি
কলেজেই করতে
পারেনন।এর দ্বারা আপনি ১ম মেরিটেই
চান্স পাবেন
এটা মোটামুটি আশা করা যায়।এবং
ভালো সাবজেক্ট ও
পেতে পারেন।কারন সবাই ঝুকবে
সরকারি কলেজের
দিকে।যেগুলো সরকারি নয়
সেগুলোতে চাপ কম থাকবে
আর রিলিজস্লিপ মানেই চান্স পেয়ে
যাওয়া নয়।
সেখানেও ডিপেন্ট করবে আপনার
জিপিএ ও কলেজের
আসন সংখ্যা।আসন যদি ১০০টা হয় আর
আপনার থেকে
যদি অন্য ১০০জনের জিপিএ বেশি
থাকে সেক্ষেত্রে
আপনি চান্স পাবেন না।অন্যরাই পাবে।
এখানে আরো একটি ব্যাপার আছে।শুধু
ভর্তি হলেই হবে
না।আপনাকে স্বামর্থের বিষয়টাও
দেখতে হবে।একটা
বেসরকারি কলেজে চান্স পেলেন,
কিন্তু ভর্তি হতে
পারলেন না সেটা দুঃখজনক।
(i) সরকারি কলেজ- এখানে চান্স
পেলে ভর্তি ফি
৩০০০-৫০০০টাকার ভেতর।মাসিক বেতন
নাই বললেই চলে।
(ii) অর্ধসরকারি কলেজ- এখানে চান্স
পেলে ভর্তি ফি
৮০০০-১৫০০০টাকা।মাসিক বেতন
১০০০-১৫০০টাকা।যেমনঃ
তেঁজগাও কলেজ,মিরপুর
কলেজ,বোরহানউদ্দিন কলেজ।
(iii) সম্পূর্ন বেসরকারি কলেজ- এখানে
চান্স পেলে ভর্তি
ফি ২০০০০-৩০০০০টাকা।মাসিক বেতন
১৫০০-২০০০টাকা।য
েমনঃ ঢাকা সিটি কলেজ,ঢাকা
কমার্স কলেজ।
এখন আপনি সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে
আবেদন করুন।
আপনার হাতে ২৫দিন সময় আছে আবেদন
করার।খোজ খবর
নিন সবকিছুর।তারপর নিজের জন্য যেটা
ভালো