গাজীপুরে সমরাস্ত্র কারখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তান-সন্ততিদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে কারখানার অভ্যান্তরে ১৯৬৮ সালে কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭১ সালে ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে রুপানন্তরিত হয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বর্তমান বালক শাখার ভবনটি নির্মিত হয়। ১৯৭২ সালে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্
ট বোর্ডের কায্র্ক্রম শুরু হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে কারখানা কর্তৃপক্ষ উক্ত উচ্চ বিদ্যালটিকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নিকট হস্তান্তর করেন এবং অদ্যাবধি উক্ত বিদ্যালয়টি গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় নামে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।
উক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার পরিচালক (পরিকল্পনা এবং সংরক্ষণ) কর্ণেল মো: নুরুল হুদা । বর্তমানে বিদ্যালটিতে ১,১৯৭ জন ছাত্র অধ্যয়নরত আছে। মাধ্যামিক পযার্য়ে উভয় শাখায়ই বিজ্ঞান, মানবিক ও বানিজ্য শাখায় ছাত্রদের লেখাপড়ার সুযোগ আছে।
বিদ্যালয়ের বিগত তিন বছরের এসএসসি, জুনিয়র ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলখুবই আশাব্যঞ্জক
আবাসন ব্যবস্থা
ক। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য ইয়ার মার্ক করা ১টি বাস ভবন রহিয়অছে। ইহা ছাড়া বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ২টি চার তলা বিশিষ্ট ভবনে ১৬টি ২য় শ্রেণীর মর্যাদা সম্পন্ন বাসস্থান আছে। উক্ত বাসস্থানে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকাগণ বসবাস করেন।
খ। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ন্ত্রনাধীন গ্রীন মার্কেটে তিন তলা বিশিষ্ট ৩য় শ্রেণীর মর্যাদার বাসস্থান রহিয়াছে। উক্ত বাসস্থানে বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী ও জুনিয়র শিক্ষক শিক্ষিকাগণ বসবাস করেন। ইহা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী ও জুঃ শিক্ষকের জন্য ১টি ৫তলা বিশিষ্ট বাসস্থান নির্মানাধীন।
গ। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারঃ বিদ্যালয়ে ২ কক্ষ বিশিষ্ট ২য় তলায় ছাত্রদের ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়ার জন্য একটি বিজ্ঞানাগার রহিয়াছে। বিজ্ঞানাগারে রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও যন্ত্রপাতি আছে। শ্রেণী দৈনিক নির্গন্ট অনুযায়ী বিজ্ঞানাগারে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাস বিষয় শিক্ষকগণ নিয়া থাকেন।
ঘ। কম্পিউটার কক্ষঃ অত্র বিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল হতে কম্পিউটার বিষয় চালূ করা হইয়াছে ও ০১ টি কম্পিউটার কক্ষ রহিয়াছে। ২০০৩ সালে ষ্টেশন সদর দপ্তর রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃক ০১টি, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ০২টি কম্পিউটার অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয় এবং ২০০৪ সনে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃক ০৩টি কম্পিউটার প্রদান করা হয়। কম্পিউটার বিষয় শিক্ষা দানের জন্য কমিপউটার বিষয় শিক্ষক নিয়োগ করা হইয়াছে। বর্তমানে আরও ০৮টি কম্পিউটার প্রয়োজন (টেবিলসহ)।
ঙ। বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীঃ বিদ্যালয়ে ২২২৩টি বই বিশিষ্ট একটি লাইব্রেরী কক্ষ রহিয়াছে। বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী পরিচালনার জন্য একজন লাইব্রেরীয়ান রহিয়াছেন। লাইব্রেরীয়ানের মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে বই বিতরণ ও আহরণ করা হয়।
চ। বিতর্ক, সাঃ জ্ঞান, উপস্থিত বক্তৃতা ও আবৃত্তিঃ বিদ্যালয়ের শ্রেণী দৈনিক নির্ঘন্টে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবারে বিতর্ক, সাঃ জ্ঞান, উপস্থিত বক্তৃতা ও আবৃত্তি ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি সন্নিবেশ করা হইয়াছে এবং নিয়মিত ক্লাসগুলি হইতেছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ছাত্রগণ বিজয়ের গৌরব অর্জন করিয়া পুরস্কার পাইয়া থাকে।
ছ। বিদ্যালয়ে খেলাধূলার সামগ্রীঃ বিদ্যালয়ে খেলাধূলার সামগ্রী পর্যাপ্ত না থাকিলেও ক্যারাম বোর্ড, ব্যাডমিন্টন, দাবা, ভলিবল, ফুটবল ইত্যাদির মাধ্যমে ছাত্রগণ অনুশীলন করিয়া থাকে এবং জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। ছাত্রদের মানসিক ও শারীরীক বিকাশের লক্ষ্যে শারীর চর্চা শিক্ষকের পরিচালনায় ছাত্রগণ নিয়মিত অনুশীলন করিয়া থাকে।
জ। বয় স্কাউটঃ বিদ্যালয়ের স্কাউটিং পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষককে উক্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হইয়াছে। উক্ত শিক্ষকের মাধ্যমে ছাত্রদিগকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং বিশ্ব জাম্বুরী মৌচাকে ও কমডেকায়, চট্টগ্রামে ছাত্রগন অংশগ্রহণ করিয়া থাকে।
ঝ। বিদ্যালয়ের ম্যাগাজিন প্রকাশঃ ছাত্রদের মানসিক প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর বিদ্যালয়ে ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়।
ঞ। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়টি সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধীদপ্তর ঢাকা সেনানিবাসের অর্থানুকুল্যে পরিচালীত হইলেও স্থাণীয়ভাবে বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক মাননীয় কম্যান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা, সভাপতি, গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, সভাপতি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার কর্তৃক পক্ষে বিদ্যালয়ের হিতাকাঙ্খী ও অভিভাবক। তদসঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দের সক্রিয় ভূমিকা পালনে ও আদশ নির্দেশনার ফলে বিদ্যায়টির লেখাপড়ার মান উত্তরোত্তর উন্নত হইতেছে। অনাগত ভাবিষ্যতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে গাজীপুর ক্যানটনমেন্ট এর অন্যান্য বৃনেদ্র দিক নির্দেশনা, আর্শিবাদ ও সদয় পরামর্শ কামনা করিতেছি।