30/03/2020
নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19):
নামকরণ পরিচিতি: করোনা ভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন "করোনা" শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ "মুকুট". কারণ বৈদুত্যিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো. ১৯৬০ এর দশকে মুরগির সংক্রামক ভাইরাস হিসেবে প্রথম করোনা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়. পরবর্তীতে মানুষের সাধারণ সর্দি কাশিতেও ২ধরণের করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়. বর্তমানে নভেল করোনা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগকে COVID-19 বলা হয়.
রোগের প্রাথমিক লক্ষণ: ১. জ্বর
২. কাঁশি (শুস্ক কাঁশি)
৩. গলা ব্যথা
৪. মাংস পেশিতে ও মাথা ব্যথা
৫. ডায়রিয়া
৬. শ্বাস প্রশ্বাস জনিত সমস্যা.
এই সব লক্ষণ দেখা দিলে মানুষের দেহের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকেই ৮০% মানুষ সুস্থ হয়ে যান. এবং মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকেই শরীর এই ভাইরাসের বিপরীতে কাজ করে. এই ভাইরাসটি অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের এবং যারা পূর্ব থেকেই ডায়াবেটিস, ফুসফুস কিংবা হৃদ রোগে ভুগছেন তাদের জন্য মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে. তবে এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে আপনাকে
**উদ্বিগ্ন বা ঘাবড়ে না যেয়ে শান্ত থাকতে হবে.
**জ্বর বেশি থাকলে কমানোর চেষ্টা করতে হবে. (পানি পট্টি দিয়ে)
**কাঁশি, গলা ব্যথা হলে গরম খাবার, চা, গরম পানি পান করে ব্যথা উপশম করতে পারেন.
**ডায়রিয়া হলে কাঁচা কলা কিংবা চিড়া অথবা ডাব খেয়ে শরীরে শক্তি যোগাতে পারেন.
**পর্যাপ্ত পরিমান বিশ্রামের বিকল্প নাই. বিশ্রাম নিন, আলাদা থাকুন. চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন.
প্রয়োজনে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে প্রাথমিক ভাবে জ্বর ও অন্নান্য উপসর্গ কমানোর ঔষুধ সেবন করতে পারেন. যদিও এই রোগের কার্যকর কোনো ঔষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি.
কিন্তু আপনি কখন বুঝবেন আপনি নিজে বা বাসায় বসে এই রোগের চিকিৎসা করতে পারবেন না বা হাসপাতালের দারস্ত হতে হবে:-
মেডিকেল পরিভাষায় ডাক্তাররা আপনার শরীরের ৩টি দিক দেখে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলবেন (অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরে)
BAT
B = BLOOD pressure { করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে. সাধরণত 100/65 এর নিচে গেলে ডক্টরদের দুশ্চিন্তার বিষয়. সে জন্য আপনি পা এর নিচে বালিশ রেখে রিলাক্স হবেন, চিন্তামুক্ত থেকে বিশ্রাম নিবেন, পানি পান করুন. না হলে ডাক্তারের পরামর্শে হসপিটালে ভর্তি হন}
A = Alter Mental Status { করোনায় আক্রান্ত রোগী মানসিক স্থিতির স্খলন হবে, ভুলে যেতে থাকবে, চিনতে পাবে না প্রিয়জনদের ও. এই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে হসপিটালে ভর্তি হন}
T = Tachypnea {সাধারণ মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫ বার শ্বাস নেন, অসুস্থ অবস্থায় প্রতি মিনিটে ২৫/২৬ বার পর্যন্ত হতে পারে. এর বেশীহলে চিন্তার বিষয়. আপনি চেষ্টা করতে পারেন শ্বাস নিয়ে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখতে পারেন কিনা? যদি পারেন তাহলে স্বাভাবিক আর যদি না পারেন তাহলে ডক্টরের উপদেশে হাসপাতাল ভর্তি হতে হবে}
আপনি এই চিকিৎসা কিংবা কন্ডিশন গুলো বাসায় চেক করতে পারেন কিংবা নিকটস্থ ডাক্তার বা প্রেসার মাপার ব্যবস্থা করতে পারেন.
কি ভাবে রোগ বিস্তার হয়: মানুষের সংস্পর্শে এই রোগ ছড়ায়. সাধারণত করোনা আক্রান্ত রোগীর বা বাহকের থুথু, সর্দি, (কথা বলার সময়, হাঁচি বা কাঁশির) মাধ্যমে নির্গত থুথুর ছিটায় এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটে. রোগী বা বাহকের থেকে এই ভাইরাস নির্গত হয়ে কোনো বস্তুতে লেগে থাকে যা সুস্থ ব্যক্তি স্পর্শ করে সে অঙ্গ মুখ, নাক বা চোখ স্পর্শ করলে সুস্থ মানুষের দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে. নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে এই ভাইরাস ৩ঘন্টা বা বেশি সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে. এবং অন্য কেউ কথা বা হাঁচি কাশির দ্বারা ৬ফুট দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তার ঘটতে পারে.
করণীয়: আপনাকে সব সময় পরিষ্কার থাকতে হব. ঘনঘন সাবান দিয়ে (২০ সেকেন্ড ধরে) হাত ধুতে হবে. সাবান না থাকলে এলকোহল মিশ্রিত হান্ডসেনিটিজের দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন. মুখ নাক ম্যাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখুন. অযথা মুখে নাকে চোখে আঙ্গুল দেয়া থেকে বিরত থাকুন. এক জন থেকে অন্যজন দূরুত্ব রেখে চলুন (কমপক্ষে ৬ফুট). ঘেঁষা ঘেসি করে না দাঁড়ায়, করমর্দন থেকে বিরত থাকুন. হাঁচি, কাঁশির সময় হাতের উপরের অংশ দিয়ে মুখ ঢেকে নিন, টিস্যু ব্যবহার করলে ব্যবহৃত টিস্যুটি বদ্ধ ডাস্টবিনে অথবা পলিথিনে বেঁধে রাখুন.
কি খাবার খাবেন: আপনি করোনা আক্রান্ত হতে না চাইলে আইস যুক্ত খাবার খান (পাকা পেঁপে, সবুজ শাক, সবজি, ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ ফল). ডাবের পানি ও পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করুন. মধু , কালো জিরা ঠান্ডা উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখে তাই এইসব বেশি বেশি করে খান.
আর করোনা আক্রান্ত হলে ডাবের পানি ও ফলের জুস্ খান. অন্যখাবার গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন (ভাত).
ভিটামিন 'সি' ও 'ডি' খাওয়ার চেষ্টা করুন প্রয়োজনে মাল্টি ভিটামিন টেবলেট খেতে পারেন.
আপনি করোনা আক্রান্ত হলে বা লক্ষণগুলো দেখা দিলে: নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা করে ফেলুন. আপনার ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলো আলাদা করুন (বিছানা, কাপড়, থালা, মগ, সাবান ইত্যাদি). আপনার টিস্যু গুলো বদ্ধ বক্সে কিংবা পলিথিন বন্ধ করুন. বাথরুম আলাদা করতে পারলে খুব ভালো হয় সম্ভব না হলে এলকোহল মিশ্রিত পনি বা জীবাণু নাশক পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন ব্যবহারের আগে এবং পরে. নিজেকে পৃথক করুন কিভাবে করবেন বিস্তারিত জানুন.
সবার সুসাস্থ, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি.
সংক্রমণ থেকে নিজে বাঁচতে ও বৃদ্ধ মানুষদের রক্ষা করতে বাসায় থাকুন. এইটাই আপনার জন্য স্বেচ্ছাসেবা কাজ. বাইরে গিয়ে সাহায্য করার থেকে বাসায় বসে রোগের বিস্তার রোধে সাহায্য করুন. আল্লাহ ভরসা
(তথ্য উপাত্ত ইন্টারনেট ও করোনা রোগের চিকিৎসা দেয়া ডাক্তারের পরামর্শ, আমেরিকান CDC এর ওয়েবসাইট থেকেও নেয়া) নিশান