The Way To Heaven

The Way To Heaven

Share

لا اله الا الله محمد رسول الله

16/01/2026

ধ্বংসের সতর্কবার্তা: কুরআনের আলোকে আমাদের জীবন

১. অপবাদ রটানো ও অপমান করা
ويل لكل همزة لمزة
"ধ্বংস তার, যে (মানুষের) পিছে অপবাদ রটায় এবং সামনে অপমান করে।" (সূরা হুমাযাহ: ১)
আমরা অনেক সময় কথায় বা কাজে অন্যকে ছোট করি, অপবাদ দিই। কুরআন আমাদের সতর্ক করেছে—এ ধরনের আচরণ ধ্বংসের কারণ।

২. আন্দাজে কথা বলা
ويل يومئذ للمكذبين الذين هم في خوض يلعبون
"ধ্বংস হোক তারা যারা আন্দাজে কথা বলে।" (সূরা আয-যারিয়াত: ১০)
যারা যাচাই না করে, গুজব ছড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির হুমকি।

৩. আল্লাহর সাথে শরীক করা
ويل للمشركين
"ধ্বংস তাদের যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে।" (সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৬)
শিরক—আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে অংশীদার করা—সবচেয়ে বড় অন্যায়।

৪. আল্লাহর নামে মিথ্যা রটানো
ويل للذين يفترون على الله الكذب
"ধ্বংস ঐসকল লোকদের যারা আল্লাহর নামে অযথা মিথ্যা কথা রটায়।" (সূরা আম্বিয়া: ১৮)
আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা, ভুল তথ্য ছড়ানো—এটি ভয়াবহ অপরাধ।

৫. মিথ্যাবাদী ও পাপাচারী
ويل لكل أفاك أثيم
"ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য।" (সূরা জাসিয়াহ: ৭)
মিথ্যা ও পাপাচার—এগুলো সমাজ ও আত্মার জন্য ধ্বংস ডেকে আনে।

৬. পরিমাপে কম দেওয়া
ويل للمطففين
"ধ্বংস তাদের যারা পরিমাপে কম দেয়।" (সূরা মুতাফফিফিন: ১)
ব্যবসা-বাণিজ্যে অসততা, কম দেওয়া—এটি আল্লাহর কাছে ঘৃণিত।

---

কেন এই আয়াতগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

এই আয়াতগুলো আমাদেরকে সতর্ক করে দেয়—অন্যায়, মিথ্যা, অপবাদ, শিরক, এবং অসততা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। কুরআন শুধু ধর্মীয় বই নয়, এটি আমাদের নৈতিকতার পথপ্রদর্শক।
هذا بيان للناس وهدى وموعظة للمتقين
"এটি মানুষের জন্য স্পষ্ট বার্তা, পথনির্দেশ এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।" (সূরা আল-ইমরান: ১৩৮)

---

আমাদের করণীয়

- **সততা বজায় রাখুন**
- **অন্যকে সম্মান করুন**
- **গুজব ও মিথ্যা থেকে দূরে থাকুন**
- **শিরক ও অন্যায় থেকে বাঁচুন**
- **ব্যবসা-বাণিজ্যে ন্যায্যতা বজায় রাখুন**

আসুন, আমরা কুরআনের এই সতর্কবার্তাগুলোকে হৃদয়ে ধারণ করি এবং নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করে তুলি।

---

03/01/2026

📖 হাদীস ও নসিহত: ইখলাস বনাম রিয়া

আদী বিন হাতেম বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন:

"কিছু সংখ্যক লোককে কেয়ামতের দিন জান্নাতে পাঠানোর আদেশ দেয়া হবে। তারা যখন জান্নাতের খুব কাছাকাছি চলে যাবে, তার ঘ্রাণও পাবে, এবং তার ভেতরের প্রাসাদগুলো ও অন্যান্য অনুপম নিয়ামতগুলো দেখবে, তখন ফেরেশতাদেরকে বলা হবে যে, “ওদেরকে ওখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা জান্নাতের ঐ সব নিয়ামতে ওদের কোন অধিকার নেই।”

অতপর তারা চরম হতাশা ও অনুশোচনা নিয়ে ফিরে যাবে। তারপর তারা বলবেঃ "হে আল্লাহ! তোমার প্রিয়জনদের জন্য যে নিয়ামত নির্দিষ্ট করে রেখেছ, তা দেখানোর আগে যদি আমাদেরকে জাহান্নামে পাঠাতে, তাহলে তা আমাদের জন্য অনেকটা সহজ হতো।”

আল্লাহ বলবেন:

"আমি তোমাদের সাথে এই আচরণই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম। তোমরা যখন একাকী থাকতে, আমার প্রতি চরম অবাধ্যতার আচরণ করতে। আর যখন মানুষের সাথে মেলামেশা করতে, তখন তাদের সাথে খোদাভীরু লোকদের মত আচরণ করতে। নিজেদের কার্যকলাপ দ্বারা মানুষের কাছে যে মানসিকতা তোমরা প্রকাশ করতে, আমার প্রতি তোমরা আন্তরিকতার সাথে সেই মানসিকতা পোষণ করতেনা। তোমরা মানুষকে ভয় করতে, আমাকে ভয় করতেনা। তোমরা মানুষকে গুরুত্ব দিতে, আমাকে গুরুত্ব দিতেনা। মানুষের জন্য তোমরা ত্যাগ স্বীকার করতে, আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেনা। তাই আজ আমি তোমাদেরকে আমার অগাধ প্রতিদান থেকে বঞ্চিতও করবো, আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও দেবো।”

---

📜 আল্লাহকে ধোকা দেওয়ার অর্থ

অপর এক হাদীসে আছে যে, এক ব্যক্তি রাসূল (সা) কে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, মুক্তি কিভাবে পাওয়া যাবে!

তিনি বললেন: আল্লাহকে যদি ধোকা না দাও তাহলে মুক্তি পাবে।

লোকটি বললো: আল্লাহকে ধোকা দেয়ার অর্থ কী?

তিনি বললেন: যে কাজ তোমাকে আল্লাহ ও তার রাসূল করতে বলেছেন, সে কাজ যদি তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশী করার জন্য কর, তাহলে সেটাই হবে আল্লাহকে ধোকা দেয়ার শামিল।

রাসূল (সা) আরো বললেন:

"তুমি রিয়াকারী (লোক দেখানো কাজ) থেকে বিরত থাক। কেননা রিয়া হচ্ছে ছোট শিরক। যে ব্যক্তি রিয়াকারীতে লিপ্ত থাকবে, কিয়ামতের দিন সমবেত জনতার সামনে তাকে চারটে বিশেষণে ভূষিত করে ডাকা হবে, যথা: হে রিয়াকার, হে বিশ্বাসঘাতক, হে অবাধ্য, হে ক্ষতিগ্রস্ত!

তোমার আমল বাতিল হয়ে গেছে, তোমার প্রতিদান নষ্ট হয়ে গেছে, আমার কাছে তোমার কোন পারিশ্রমিক পাওনা নেই। হে ধোকাবাজ, তুমি যার জন্য কাজ করেছ তার কাছ থেকে পারিশ্রমিক নাও গে।”

---

🧠 ইখলাস (নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা) কী?

কথিত আছে যে, জনৈক মুসলিম মনীষীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা (ইখলাস) কাকে বলে?

তিনি জবাব দিলেন:

"মানুষ নিজের পাপ কাজকে যেমন লুকায়, তেমনি তার ভালো কাজকেও লুকাবে। এটাই নিষ্ঠা বা ইখলাস।”

তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো:

ইখলাস বা আন্তরিকতার উদ্দেশ্য কী?

তিনি বললেন:

"লোকে তোমার প্রশংসা করুক- এটা কামনা না করা।”

---

🌿 ফযীল বিন ইয়ায (রহ.) এর মূল্যবান উক্তি

হযরত ফযীল বিন ইয়ায বলেন:

"লোকের ভয়ে খারাপ কাজ ত্যাগ করা রিয়াকারী, আর মানুষকে খুশী করার জন্য ভালো কাজ করা শিরক। আর ইখলাস হচ্ছে এই উভয় রোগ থেকে মুক্ত থাকার নাম।”

---

✒️ **Credit:** বই – *কবিরা গুনাহ*

........................................................................................................................................
A Warning Against Hypocrisy and Showing Off (Riya)

Adi ibn Hatim (RA) narrated that the Messenger of Allah (ﷺ) said:

On the Day of Judgment, some people will be ordered to be taken to Paradise. When they come very close to it, they will smell its fragrance and see its palaces and blessings. Then the angels will be told, “Take them back, for they have no share in Paradise.”

They will return in extreme regret and sorrow and say, “O Allah! Had You sent us to Hell without showing us what You prepared for Your beloved servants, it would have been easier for us.”

Allah will say, “I intended this for you. When you were alone, you disobeyed Me openly. When you were among people, you appeared pious. You feared people but did not fear Me. You valued people but did not value me. You sacrificed for people but not for Me. Therefore, today I deprive you of My reward and give you a painful punishment.”

In another Hadith, a man asked the Prophet (ﷺ), “How can one attain salvation?”
He replied, “If you do not deceive Allah, you will be saved.”

The man asked, “What does it mean to deceive Allah?”
The Prophet (ﷺ) said, “When you perform deeds commanded by Allah and His Messenger for the sake of someone other than Allah, that is deceiving Allah.”

The Prophet (ﷺ) further said:

Avoid showing off (riya), for it is minor shirk. On the Day of Judgment, those who practiced riya will be called before all people:
‘O show-off! O traitor! O disobedient one! O loser! Your deeds are rejected, your reward is lost, and you have no claim with Me. Go and seek your reward from those for whom you acted.’

A Muslim scholar was once asked, “What is sincerity (ikhlas)?”
He replied:

“To hide your good deeds just as you hide your sins.”

When asked about the purpose of sincerity, he said:

“Not desiring praise from people.”

Fudayl ibn ‘Iyad (RA) said:

“Abandoning sins out of fear of people is hypocrisy. Performing good deeds to please people is shirk. Sincerity is being free from both.”

Credit: Book – Kabira Gunah







30/12/2025

যাদুকর এবং চালান জ্বিনকে শেষ করার আমল!
যারা যাদুকর চালান জ্বিনে আক্রান্ত। বারবার যাদু করে,জীবন অতিষ্ঠ করে রেখেছে তারা এই আমলটা করতে পারেন। অনেক শক্তিশালী এবং কার্যকরী একটা আমল।
নিয়মঃ-
বড় একটা বোতলে এক বোতল পানি নিতে হবে। যে ব্যক্তি এটি করবে তাকে অবশ্যই নামাজি ব্যক্তি হতে হবে!
ঐ পানিতে ফজরের নামাজের পর ২ রাকাত নফল আদায় করে -

দূরুদে ইব্রাহিম ১ বার,
সূরা ফাতিহা-৭বার,
আয়াতুল কুরছি-৭ বার,
-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু,ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির- ১ বার,
দূরুদে ইব্রাহিম-১ বার।

প্রত্যেকবার দোয়া এবং সূরা পাঠ করে ফুঁ দিতে হবে ঐ পানিতে। পরবর্তী যোহর,আছর, মাগরিব এবং এশার পর দু'রাকাত নফল আদায় করে একই নিয়মে পানি পড়া তৈরি করুন।
এভাবে করে ৭ দিন সময় নিয়ে পানি তৈরি করুন!
পরবর্তীতে এই পানি ৪১ দিন, গোসলের সময়, ওযু করার সময়, এবং ৩ বেলা খাবেন!
প্রতিদিন পানি ব্যবহার করার পর আবার নতুন করে পানি মিক্স করে পূর্ণ করে রাখুন।
এভাবে ৪১ দিন করার পর ইনশাআল্লাহ যাদুকর জ্বিন থেকে মুক্তি পাবেন!
The Way To Heaven

23/12/2025

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এক রাতে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। তিনি দেখলেন, একটি শুকর একটি গাছকে গুঁতো দিয়ে উপড়ে ফেলতে চাইছে। ঠিক তখনই ওই গাছ থেকে একটি ছোট ডাল বের হয়ে শুকরের মাথায় আঘাত করল। আঘাতের সাথে সাথে শুকরটি একটি নেককার মানুষে পরিণত হয়ে গেল এবং গাছের নিচে বসে ইবাদত শুরু করল।

সকালে উঠে আবু হানিফা রহ. স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে তার ওস্তাদ শায়খ হাম্মাদ বিন সালামা রহ. এর কাছে ছুটে গেলেন। তখন আবু হানিফার বয়স মাত্র ১২-১৫ বছর। গিয়ে দেখলেন, তার ওস্তাদ খুব চিন্তিত।

আবু হানিফা রহ. স্বপ্নের কথা ভুলে জিজ্ঞেস করলেন, "হুজুর! আপনি এত চিন্তিত কেন?"
শায়খ হাম্মাদ রহ. বললেন: "খলিফা আমাকে ডেকেছেন একদল নাস্তিকের সাথে বিতর্ক করার জন্য, যারা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে না। এটা খুব কঠিন কাজ, তাই আমি চিন্তিত।"

আবু হানিফা বললেন: "হুজুর! আপনি না গিয়ে আমাকে পাঠান। যদি আমি হেরে যাই, তবে লোকে বলবে,'ও তো বাচ্চা, হেরে গেছে'। আর যদি আমি জিতে যাই, তবে আপনার সম্মান বাড়বে।" ওস্তাদ তাকে অনুমতি দিলেন।

আবু হানিফা রহ. খলিফার দরবারে গেলেন। নাস্তিকদের নেতা তাকে দেখে বলল: "তোমার ওস্তাদ কোথায়? তিনি কি ভয়ে আসেননি?"
আবু হানিফা বললেন: "আমার ওস্তাদ হলেন জ্ঞানের বিশাল বৃক্ষ। আর তোমরা তার সামনে বসার যোগ্য নও। তাই তিনি তার একটি ছোট ডাল (শাখা) পাঠিয়েছেন।"

নাস্তিকরা বলল: "তোমরা যাকে আল্লাহ বলো, তাকে কি দেখা যায়?"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "আমার রবকে চোখ দিয়ে দেখা যায় না, তিনি সব দেখেন।"
নাস্তিকরা বলল: "প্রমাণ দাও।"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তার শরীর থেকে রুহ বেরিয়ে যায়। তোমরা কি সেই রুহ দেখতে পাও?"
তারা বলল: "না।"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "যদি তোমরা তোমাদের শরীরের রুহকেই দেখতে না পাও, তবে সেই রুহের স্রষ্টাকে কীভাবে দেখবে?"

নাস্তিকরা বলল: "তোমার রব কোন দিকে মুখ করে আছেন?"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "কুরআনে আছে—তোমরা যেদিকেই তাকাও, সেদিকেই আল্লাহ রয়েছেন।"
তারা বলল: "কুরআন মানি না, যুক্তি দাও।"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "অন্ধকার ঘরে বাতি জ্বালালে আলো কোন দিকে থাকে?"
তারা বলল: "সব দিকে।"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "পার্থিব বাতির আলো যদি সব দিকে থাকে, তবে আসমান-জমিনের নূরের কি কোনো নির্দিষ্ট দিক হতে পারে?"

নাস্তিকদের নেতা বলল: "তোমরা বলো জ্বিনরা আগুনের তৈরি। আবার বলো জাহান্নামের আগুন দিয়ে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। আগুন দিয়ে আগুনকে কীভাবে পোড়ানো সম্ভব?"

আবু হানিফা রহ. উত্তর না দিয়ে মাটি থেকে একটি শক্ত মাটির ঢিল (মাটির ইট) কুড়িয়ে নিলেন এবং নাস্তিক নেতার কপালে ছুড়ে মারলেন। এতে সে খুব ব্যথা পেলো।
খলিফা বললেন: "তুমি এটা কী করলে?"
আবু হানিফা রহ. বললেন: "এটা আমার উত্তর। এই লোকটির শরীর মাটির তৈরি। আর আমি তাকে মাটির ঢিল দিয়েই আঘাত করেছি। মাটি দিয়ে যেমন মাটিকে আঘাত দিলে ব্যথা লাগে, ঠিক তেমনি আল্লাহ আগুন দিয়ে আগুনের তৈরি জ্বিনকেও শাস্তি দিতে পারেন।"

নাস্তিক নেতা তার বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে বলল: "আমাকে তোমার ওস্তাদের কাছে নিয়ে চলো, আমি তার ছাত্র হতে চাই।" সে তওবা করে মুসলমান হয়ে গেল।

তখন আবু হানিফা রহ. তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বুঝতে পারলেন:
শুকর: নাস্তিকদের নেতা।
গাছ: তার ওস্তাদ শায়খ হাম্মাদ রহ.।
ছোট ডাল: স্বয়ং ইমাম আবু হানিফা রহ.।
শুকরের মানুষ হওয়া: নাস্তিক নেতার ইসলাম গ্রহণ।

© Salman Farsi
(সূত্র: কিতাব "আল আইম্মাতুল আরবা'আ")

21/11/2025

ভূমিকম্প সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানের সয়লাব হবে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

22/10/2025

সুন্দরবনের বাঘেরা দৈনিক ৫-১৫ কেজি হরিনের মাংস খায়, তবে সুযোগ পেলে বড় পুরুষ বাঘ ৩০ কেজি মাংসও খেতে পারে। যার বর্তমান বাজার দর আনুমানিক (২০-৩০) হাজার টাকা। যদি গরু বা মহিষের মাংস খায় তারও বর্তমান বাজার দর (১৫-২০) হাজার টাকা।

অথচ বাঘের কোন ইনকাম নাই, কোনো চিন্তাও নাই।

কিন্তু আপনি ভাত খান ২৫০-৩৫০ গ্রাম!

তার জন্য আপনি চুরি করেন, সুদ খান, ঘুষ খান, অন্যের হক নষ্ট করেন। আরো কত কী...

আপনার একাউন্টে অনেক টাকা, আপনার শরীরে অনেক রোগ, আপনার সন্তানেরা কথা শুনে না, আপনার অনেক দুশ্চিন্তা।

বাঘ কি চিন্তা করে আজকে কি খাবো!
আপনি চিন্তা করেন আগামি ২০ বছর কি খাবো?

আল্লাহ সবার রিযিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, অথচ তারপরও মানুষ টেনশন করে, চুরি করে, ডা'কাতি করে, সুদ খায়, ঘুষ খায়, অপকর্ম করে!

12/08/2025

সূরা আরাফ শুরু করলাম

আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফেক্ট পেলাম

ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে

আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি

হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম

অথচ এই সুরার মাধ্যমে আমাদের জানানো হলো যে

না!

জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা লোকেশন আছে

লোকেশনটার নাম আরাফ!

এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নাম করন

"আরাফ" হবে তাদের জন্য

যারা এতটাও ভালো কাজ করেনি যেঁ জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে

আবার এতটাও খারাপ কাজ করেনি যেঁ জাহান্নামে যেতে হবে

এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!

এই আরাফবাশি সবসময়ই আশায় থাকবে যে

তাদেরকে যেন কোন না কোন সময় জান্নাতে আপগ্রেড করা হয়. [১]

এই আরাফ ছাড়াও হাশর আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফেক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা

আর সেটা হলো কান্তারা!

আমরা মনে করি

"কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি!"

ভুল!

পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়

পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।

হাশরের দিনে বিশাসীদের বিচার হবে দু বার

এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে

আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে

জি ঠিকই শুনেছেন

পূর্বের বিচার হবে

"স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার"

আর পরের বিচার হবে

"বান্দার হক নষ্ট করার বিচার"

আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে

সেই জায়গাটির নামই হলো "কান্তারা"

আল-কান্তারাহ হলো সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত

বিস্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে

তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে

এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন [২]

কল্পনা করুন,

একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ-তে জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে

অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না

কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ

উলটো তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে হচ্ছে

সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?

আমার রাসুল অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে

"মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া বা ব্যাংকরপ্টড

রাসূল বলেছেন

“তোমরা কি জানো , কে আসল দেউলিয়া?”

সাহাবারা উত্তর দেন

“যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”

রাসূল বললেন

“না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি

যেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে

অথচ সে দেখতে পাবে যে

সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে কারণ জীবদ্দশায়

সে অন্যদের গালি দিয়ে বেড়াতো

অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো

অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো

অন্যের রক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং

অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো

আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে ট্র্যান্সফার করে দিতে হচ্ছে

শুধু তাই না

যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে

তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে

এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” [৩]

তাই বলছি

আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি

আপনার মুখের স্পিচ দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন

কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন

তাদের জন্য একটাই কথা

দেখা হবে বন্ধু

দেখা হবে কান্তারায়!

লেখা সামিউল হক হাফি.


©

07/05/2025

পাপী ব্যক্তির সাথে গভীর সম্পর্ক ও মেলামেশা রক্ষা করে চলা ও আন্তরিক বন্ধত্ব পোষণ করার পরিণতি:

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বনি ইসরায়েলী সমাজে সর্ব প্রথম যে লোক ক্রুটির সৃষ্টি করেছে সে এভাবে করেছে যে,এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে পাপের কাজে লিপ্ত দেখে প্রথমে তাকে বলতো: যে ব্যক্তি ! আল্লাহকে ভয় করো,তুমি যা করছো তা বন্ধ করো ,পরিহার করো। কেননা এ কাজ তোমার জন্য মোটেই হালাল না।কিন্তু পরের দিন যখন সে সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করত,তখনও সেই গুনাহের কাজে তাকে লিপ্ত দেখে তাকে তা নিষেধ করতো না। বরং তার সাথেই আসন গ্রহণ করে পানাহারে(মদ পানে) তার সহিত শরীক ও একাকার হয়ে যেত।আর সে যখন তাই করত,তখন:
ضرب الله قلوب بعضكم ببعض.
আল্লাহ তাদের কতক লোকের প্রভাবে অন্য কতক লোকের দিলকে বিভ্রান্ত করে দিলেন।

এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য অভিশাপ। কেননা তারা নাফরমানী করেছে ও সীমালংঘন করার কাজে লিপ্ত থাকতো।

Ref book: "আল্লাহর হক বান্দার হক" মওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম।

07/12/2024

😥একজন মানুষ কখন ফজরের নামাজ মিস করে, জানেন? যখন সে একথা ভাবতে পারে না যে, এই ওয়াক্তই হতে পারে তার জীবনের শেষ ওয়াক্ত। যখন সে এ কথা চিন্তা করতে পারে না যে, পরের ওয়াক্ত অর্থাৎ যোহরের নামাজে তার লা'শটা মাসজিদের সামনে দাফনের অপেক্ষায় থাকতে পারে। যদি এইসব চিন্তা সে মাথায় আনতে পারত তাহলে সে কখনোই জামাত মিস করতে পারত না। কিন্ত সে তো এখনো বেখবর!
লেখা : রাকিব আলী
#সীরাহ

একজন মানুষ কখন ফজরের নামাজ মিস করে, জানেন? যখন সে একথা ভাবতে পারে না যে, এই ওয়াক্তই হতে পারে তার জীবনের শেষ ওয়াক্ত। যখন সে এ কথা চিন্তা করতে পারে না যে, পরের ওয়াক্ত অর্থাৎ যোহরের নামাজে তার লা'শটা মাসজিদের সামনে দাফনের অপেক্ষায় থাকতে পারে। যদি এইসব চিন্তা সে মাথায় আনতে পারত তাহলে সে কখনোই জামাত মিস করতে পারত না। কিন্ত সে তো এখনো বেখবর!

লেখা : রাকিব আলী

#সীরাহ

21/11/2024

'হাশরের ময়দানে বান্দাকে যখন উপস্থিত করা হবে এবং তার হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে, সে দেখবে সেখানে তার নামাজ, রোজা কিছুই লেখা নেই। কোনো নেক কাজই আমলনামায় দেখতে পাবে না।

সে তখন বলবে, "ইয়া আল্লাহ! এটা তো মনে হয় অন্য কারও আমলনামা! আমার তো ভালো আমল ছিল, এখানে সেগুলোর উল্লেখ নেই।"

ফেরেশতারা জবাব দেবে, "তোমার রব ভুল করেন না এবং ভুলেও যান না। বরং তোমার আমলগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে এজন্য যে, তুমি মানুষের গীবত করতে।'
— প্রখ্যাত তাবেয়ী সাইদ ইবনু যুবাইর (রহ.)
[বাহরুদ দুমুঈ, ১৩৩]

09/10/2024

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ করতে আর অন্যায়কাজ হতে নিষেধ করতে? সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎকাজে আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম। (বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ১০ হাদীস নং ৩২৬৭; মুসলিম ৫৩/৭ হাঃ ২৯৮৯)























02/10/2024

"পৃথিবীতে পোশাকবিহীন এসেছিলে, হে গালিব! একটি কাফনের জন্য এত লম্বা সফর করলে!"
~ মির্জা গালিব

Want your school to be the top-listed School/college in Gazipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Gazipur