Islamic Holy Verse

Islamic Holy Verse

Share

ইয়া আল্লাহ। আপনি এক ও অদ্বিতীয়। আপনিই সকল কিছুর রব। আমরা আপনারই বান্দা এবং আপনারই ইবাদত করি।

17/02/2026

একজন আলেম বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে দোকানদার দাম কমিয়ে বলতো। যে পণ্যের দাম ২০০ টাকা, বিক্রেতা দাম চাইতো ১৫০ টাকা। তিনি ব্যাপারটা খেয়াল করলেন।

একদিন জিজ্ঞেস করলেন, “এই দাম কি সবার জন্য?”

বিক্রেতা বললো, “না, শুধুমাত্র আপনার জন্য। আল্লাহর কসম! আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলে আমি কিছুতেই এই দামে বিক্রি করতাম না।”

সেই আলেম বুঝতে পারলেন তাঁর সম্মানার্থে বিক্রেতা ক্রয়মূল্যেই বিক্রি করে দেয়। আলেম হবার কারণে তাকে এই সম্মান দেখায়। তিনি চাইলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারতেন।

কিন্তু, তাঁর মনে হলো- এতে করে আল্লাহ দুনিয়াতেই তাঁকে সব দিয়ে দিবেন! ‘আলেম’ পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি দুনিয়াতে লাভবান হতে চাননি।

এরপর থেকে মৃত্যু অবধি তিনি কোনোদিন বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করেননি। কেনাকাটার প্রয়োজন হলে অন্য লোকদেরকে দিয়ে কিনতেন।

সেই আলেমের নাম হাসান আল-বসরী রাহিমাহুল্লাহ।

বই: ‘ইমাম সিরিজ’
©

15/02/2026

"Light Upon My Heart"
Best Nasheed by ©Islamic Holy Verse










27/01/2026

এই অবরোধ ও হত্যাকাণ্ড কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া আবেগী ঘটনা ছিল না, এটা ছিল ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ফল, যার শিকড় অনেক দূরে প্রোথিত ছিল। মদিনায় যে প্রায় ৪০ দিন অবরোধ চলেছিল, সেই অবরোধকারীরা মূলত তিনটি অঞ্চল থেকে এসেছিল—মিশর, কুফা ও বসরা। এরা সবাই সাহাবি ছিলেন না, বরং অধিকাংশই ছিল নবাগত মুসলমান, রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষিত, সহজে উসকানি গ্রহণকারী মানুষ এবং কিছু ছিল সরাসরি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সদস্য।

এই আন্দোলনের নেপথ্যে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র হলো আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা। সে ছিল একজন ইয়েমেনি ইহুদি, যে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করে। তার কাজ ছিল বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে মানুষের মধ্যে সন্দেহ, বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ানো। সে বলত, “খিলাফত আলী (রাঃ)-এর প্রকৃত অধিকার”, “উসমান (রাঃ) অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় আছেন”, “শাসনব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত”, “গভর্নররা জুলুম করছে”—এই ধরনের কথা ছড়িয়ে সে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করত। সে চিঠির মাধ্যমে ভুয়া অভিযোগ তৈরি করত, এক শহরের মানুষের কাছে আরেক শহরের নামে মিথ্যা বার্তা পাঠাত, যাতে মনে হয় গোটা উম্মাহ ক্ষুব্ধ।

এই প্রোপাগান্ডার ফলে মিশরের একদল লোক, কুফার একদল লোক এবং বসরার একদল লোক “সংস্কারের দাবি” নিয়ে মদিনার দিকে রওনা দেয়। বাহ্যিকভাবে তাদের বক্তব্য ছিল—
তারা বলত গভর্নররা অন্যায় করছে, প্রশাসনে অবিচার হচ্ছে, উসমান (রাঃ) আত্মীয়দের বেশি সুযোগ দিচ্ছেন, বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে, সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা হচ্ছে না।
এগুলো ছিল তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য। কিন্তু ভেতরের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে দেওয়া, কেন্দ্রকে দুর্বল করা এবং গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করা।

প্রথমে তারা মদিনায় এসে আলোচনা করে। হযরত উসমান (রাঃ) অত্যন্ত শান্তভাবে তাদের কথা শোনেন, অনেক অভিযোগ যাচাই করেন, কিছু গভর্নরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন, কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। তারা বাহ্যিকভাবে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ফেরার পথে একটি জাল চিঠি “পাওয়া যায়” — যেখানে লেখা ছিল, মিশরের গভর্নরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্রোহীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দিতে। এই চিঠিটি হযরত উসমান (রাঃ)-এর নামে বানানো ছিল, কিন্তু তিনি তা লেখেননি। এটি ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের তৈরি একটি ফাঁদ।

এই চিঠিকে অজুহাত বানিয়ে তারা আবার মদিনায় ফিরে আসে, এবার আর আলোচনার জন্য নয়—চাপ সৃষ্টি করার জন্য। তখনই শুরু হয় অবরোধ। তারা খলিফার বাড়ি ঘিরে ফেলে, বাইরে পাহারা বসায়, লোকজনের যাতায়াত সীমিত করে দেয়। ধীরে ধীরে পানি, খাদ্য প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। এই অবরোধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের নাম ইতিহাসে এসেছে, যেমন—
মিশর দিক থেকে আসা বিদ্রোহীদের মধ্যে ছিল কিনানা ইবনে বিশর, সুদান ইবনে হামরান, মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (আবু বকর রাঃ-এর ছেলে, যিনি পরে ভুল বুঝতে পেরে সরে যান), আরও কিছু উগ্রপন্থী যুবক।
এরা সাহাবি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ কেউ ছিল না, বরং ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও উসকানিতে উত্তেজিত মানুষ।

এই সময় সাহাবিরা চেয়েছিলেন শক্ত প্রতিরোধ করতে। আলী (রাঃ) নিজে তাঁর ছেলে হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে পাহারায় বসিয়েছিলেন। তালহা (রাঃ), যুবায়ের (রাঃ), বহু সাহাবি তরবারি হাতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু হযরত উসমান (রাঃ) বারবার নিষেধ করেন। তিনি বলেন,
“আমার কারণে কোনো মুসলমানের রক্ত ঝরবে না। আমি নবীজি ﷺ-কে বলতে শুনেছি, একদিন আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হবে, আমি চাই সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হোক, কিন্তু মুসলমানদের হাতে মুসলমানের রক্ত না ঝরুক।”
তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে উম্মাহর ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দেন।

অবরোধ দীর্ঘ হতে থাকে। একসময় বিদ্রোহীরা আরো উগ্র হয়ে ওঠে। একদিন তারা দেয়াল টপকে ও পেছনের দিক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন হযরত উসমান (রাঃ) রোজা অবস্থায় ছিলেন, নিজের ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর স্ত্রী নায়লা (রাঃ) বাধা দিতে গেলে তাঁর আঙুল কেটে যায়। তিনি কোনো প্রতিরোধ করেননি, কোনো তলোয়ার তুলেননি, কোনো চিৎকার করেননি।

এরপর সেই বিদ্রোহীরা নির্মমভাবে তাঁকে আঘাত করে হত্যা করে। ইতিহাসে এসেছে—তিনি তখন কুরআনের যে আয়াত পড়ছিলেন, সেখানে তাঁর রক্ত পড়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত পরিণতি।

এই হত্যার মাধ্যমে শুধু একজন খলিফাই শহীদ হননি—এর মাধ্যমে মুসলিম ইতিহাসের দরজা খুলে যায় এক দীর্ঘ রক্তাক্ত অধ্যায়ের দিকে। জামাল যুদ্ধ, সিফফিন যুদ্ধ, খারিজি ফিতনা—সবকিছুর সূচনা হয় এই ঘটনার পর থেকেই। হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাত ছিল ফিতনার প্রথম বড় বিস্ফোরণ।

তিনি এমন একজন খলিফা ছিলেন, যিনি ক্ষমতা বাঁচাতে যুদ্ধ করেননি, নিজের প্রাণ দিয়ে উম্মাহকে রক্তপাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। ইতিহাস তাঁকে স্মরণ করে একজন নিরব শহীদ, একজন ধৈর্যের প্রতীক, একজন ষড়যন্ত্রের শিকার ন্যায়পরায়ণ খলিফা হিসেবে।
©

#ইসলামের_নূর #ইসলামেরবার্তা #ইসলামেরআলো #ইসলামেরপথ #ইসলামেরকথা

26/01/2026

একটা ছেলের বয়স যখন ১৭/১৮ হয়ে আসে। তখন তার মধ্যে যৌন খায়েশ সৃষ্টি হতে শুরু করে। অপর লিঙ্গের প্রতি তার তীব্র অনুভূতি সৃষ্টি হতে থাকে।

বিপরীতে একটা মেয়েও ঠিক তেমনি। তার বয়স যখন ১৩/১৪ তখন থেকেই সে বুঝতে শুরু করে। তার যৌনতা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে পরিণত হয়। তার প্রতিটা পেশী একজন অপর লিঙ্গ চায়।

আসি মূল কথায়- বাংলাদেশে প্রায় ৬২.৯% যুবক যুবতী মাস্টারবেশন এবং পর্ন অ্যাডিক্টেড! এদের মধ্যে ছেলের সংখ্যা বেশি হলেও। মেয়েরাও একটা বৃহত্তম অংশ।

এখন একটা ছেলে যখন ১৭/১৮ বছর বয়সে পৌঁছায়। তখন তাকে তীব্র যৌনক্ষুধা নিয়ে পার করতে হয় আর অনেক বছর। তার মাথার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় সফলতার নামে মিথ্যা ক্যারিয়ারকে। তাকে নসিহত করা হয় নিজের পায়ে আগে দাঁড়াতে। ছেলেটা হালালের খোঁজে যখন বিবাহের কথা বলে। তখন তাকে পরিবার ও সমাজ থেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়। তাকে বোঝানো হয় বয়স এখনো বাকি। সবে তো ১৮ মাত্র। আগে নিজ পায়ে দাঁড়াও।

তখনই এই যুবকটা নিজের যৌনতার ক্ষুধা নিবারণ করতে বেছে নেয় মাস্টারবেশন ও পর্নোগ্রাফি। লিপ্ত হয় প্রেম ভালোবাসায়। খেয়ে নেয় মেয়েটার সতীত্ব।

অন্যদিকে ঘরের বোনদের অবস্থা:
যে মেয়েটা ১৩/১৪ বছর বয়সে ম্যাচুরিটি হল। যে বুঝতে শুরু করল যৌনতা। অপর লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। তখন তাকে পাঠানো হয় হাই স্কুলে কিংবা মাদ্রাসায়। বোঝানো হয় বয়স এখনো আছে। তোমারও ক্যারিয়ার আছে। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় উন্মুক্ত ভেড়ার পালের মতো।

আর তখন সে তীব্র যৌন ক্ষুধায় লিপ্ত হয় পর্নোগ্রাফি এবং মাস্টারবেশনের মতো ভয়ংকর নির্লজ্জতায়।

আপনি ভাবতে পারেন!? মেয়েরাও মাস্টারবেশন করে। যার তীব্রতা আপনার আমার থেকেও বেশি।

এটা কখন হলো? কেন ঐ নারীকে সঠিক সময়ে বিবাহ দেওয়া হল না? ওই নারীকেও কি নিজ পায়ে দাঁড়াতে হবে? ওই নারীকেও কি পুরুষের মতো ক্যারিয়ার স্থির করতে হবে? ওই নারী কি চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে হবে?

একটা ছেলের মাথায় শত বোঝা থাকে। তবে মেয়েটাকে ঘরে রেখে কেন নষ্ট করল?

যখন বোনেরা মেসেজ করে বলে ভাই সঠিক সময়ে বিবাহ দেয়নি পিতা-মাতা। পরে নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে না পেরে। রিলেশনে লিপ্ত হয়েছি। বয়ফ্রেন্ডের পাল্লায় পড়ে নিজের সতীত্ব ধ্বংস করেছি। এখন আমি কি করতে পারি আমি নিজের মনকে বোঝাতে পারছি না। কে আমাকে বিবাহ করবে। আমি কোন পুরুষের হক নষ্ট করব।

এই প্রশ্নগুলো যখন মেসেঞ্জারে দেখি তখন বিবেক আর ঠিক থাকে না।

এই জাহেল সমাজ আর মূর্খ পিতা-মাতা নিজ হাতে পেলে পুষে মেয়েটাকে বেশ্যা বানালো।

আমার চোখের সামনে এত পরিমাণ ঘটনা ঘটছে। আমি আপনাদের কল্পনা করে বুঝাতে পারব না যে আমি হতভম্ব এগুলো দেখে। মেয়েরা চেয়েছে বিবাহ করতে। কিন্তু তাদের পিতা মাতা বিবাহ দেয়নি। বলেছে আরো ৪-৫ বছর পরে। এই চার-পাঁচ বছরের মধ্যে মেয়েরা নিকৃষ্ট বেশ্যায় পরিণত হয়েছে। একদম আমার চোখে দেখা ঘটনা।

আর তাদের মাস্টারবেশন আর পর্নোগ্রাফি তো রয়েছেই।

আর কাফেরের ডিম ফোটা বাচ্চারা তাগুতের বাচ্চারা বাল্যবিবাহ মারায়। ওদের বাল্যবিবাহ ছবকের নামে শত মেয়ে নষ্ট হচ্ছে।
এই কাফেরের বাচ্চাদের স্লোগানের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু মানুষ সুশীলতা করে নারীদেরকে জাহান্নামের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।

আসুন আমরা শপথ করি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। বাল্য বিবাহ করার জন্য। একাধিক বিবাহ করার জন্য।
©

15/01/2026

একদা আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর মজলিসে তিনজন ব্যক্তি একজন যুবককে হাতকড়া পরা অবস্থায় নিয়ে এল। তারা আরজ করল— "হে আমীরুল মুমিনীন! এই লোকটি আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে, আমরা আপনার কাছে এর ইনসাফ ও জানের বদলে জান (কিসাস) চাই।"

হযরত ওমর (রা.) ধীরস্থিরভাবে যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "বলো দেখি, কী হয়েছিল?" যুবকটি বলল, "আমি একজন রাখাল। আমার একটি উট ভুলবশত এই ব্যক্তিদের বাবার বাগানে ঢুকে একটি গাছ থেকে পাতা খেয়েছিল। তিনি রেগে গিয়ে পাথর মেরে আমার উটটিকে মেরে ফেললেন। রাগের মাথায় আমি সেই পাথরটি নিয়েই তাকে পালটা মারলে তিনিও মারা যান।"

হযরত ওমর (রা.) ঘোষণা করলেন, "তবে আইনের বিধান অনুযায়ী তোমাকে আজ মৃত্যুদণ্ড বরণ করতে হবে।"

যুবকটি বলল, "আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনার রায় মেনে নিলাম। কিন্তু আমার কাছে ছোট ভাইয়ের একটি আমানত লুকানো আছে যার কথা কেউ জানে না। আমি না থাকলে সেই শিশুটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাকে শুধু তিন দিন সময় দিন—যাতে আমি সেই ধন-সম্পদ বুঝিয়ে দিয়ে আবার এখানে ফিরে আসতে পারি।"

হযরত ওমর (রা.) অবাক হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার জামিনদার (গ্যারান্টর) কে হবে? কে দিবে তোমার ফিরে আসার নিশ্চয়তা?"

যুবকটি পুরো মজলিসে বসা লোকগুলোর চোখের দিকে তাকিয়ে সবার অলক্ষ্যে মহাবীর সাহাবী হযরত আবু যার আল-গিফারী (রা.)-এর দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল, "এই ব্যক্তিটিই আমার জামিন হবেন!"

হযরত ওমর (রা.) আবু যার রা. কে জিজ্ঞেস করলেন, "আবু যার! তুমি কি একে চেনো? তুমি জানো যে,এ যদি পালিয়ে যায় তবে কিন্তু এর বদলে তোমাকেই ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে হবে?" আবু যার (রা.) দৃঢ়কণ্ঠে উত্তর দিলেন— "হে আমীরুল মুমিনীন! আমি তাকে চিনি না, তবুও আজ তাঁর এই অভাবের দিনে আমি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর জামিন হলাম।"

তিনটি দিন কেটে গেল। পুরো মদীনা তখন নিস্তব্ধ হয়ে অপেক্ষা করছে। তৃতীয় দিনের সূর্য প্রায় অস্তমিত। জল্লাদ দরবারে তৈরি, আবু যার রা.ও হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন—সবাই আফসোস করছিল যে আজ হয়তো ইসলামের এক সূর্য হারিয়ে যাবে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই দেখা গেল, মরুভূমির ধুলা উড়িয়ে একটি মানুষ হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে আসছে! সেটি ছিল সেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুবক! সে ঘেমে নেয়ে একদম জরাজীর্ণ হয়ে ওমর রা. এর সামনে দাঁড়াল এবং বলল— "আমি এসেছি! আমার ছোট ভাইয়ের আমানত আমি তাঁর মামাদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমি মৃত্যুদণ্ড নিতে প্রস্তুত।"

পুরো মজলিস বিস্ময়ে থমকে গেল। হযরত ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কেন ফিরে এলে? তুমি তো অনায়াসে পালিয়ে বাঁচতে পারতে?"
যুবকটি উত্তর দিল, "যাতে মানুষ কোনোদিন বলতে না পারে যে—এই পৃথিবী থেকে 'সততা ও ওয়াদা'র মর্যাদা চিরতরে বিদায় নিয়েছে!"

হযরত ওমর আবু যার রা.কে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি না চিনেও কেন এর ঝুঁকি নিলে?"
আবু যার (রা.) বললেন, "যাতে পৃথিবী থেকে এই নজির শেষ না হয়ে যায় যে, বিপদে পড়া মানুষকে কেউ নিঃস্বার্থ সাহায্য করার জন্য নিজের জান বাজি রাখে না!"

সবশেষে বাদী পক্ষের সেই ছেলেরা ডুকরে কেঁদে উঠল। তারা বলল, "আমীরুল মুমিনীন! আমরা ওই যুবককে আজ আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিলাম।"

ওমর (রা.) কারণ জানতে চাইলে তারা বলেছিল, "দুনিয়ায় যাতে এই সাক্ষী চিরকাল বেঁচে থাকে যে, মানুষ ক্ষমা করতেও জানে এবং মানুষের অন্তর থেকে দয়া ও মায়া বিলীন হয়ে যায়নি!"

© Salman Farsi
সূত্র:
إعلام الناس بما وقع للبرامكة مع بني
العباس ص11
(مجاني الأدب في حدائق العرب 4/230)

03/01/2026

শীত নিবারণের বিবাহিতদের উত্তম পন্থাঃ-


আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবি (সা.) কখনও কখনও ফরয গোসল করে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন শরীর উষ্ণ করার জন্য। আমি তাকে আমার সাথে জড়িয়ে নিতাম। অথচ আমি তখনও গোসল করিনি। [তিরমিযি, আসসুনান : ১২৩]

ইমাম তিরমিযি শিরোনাম দিয়েছেন ‘গোসলের পর উষ্ণতা লাভের জন্য স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা’।

ইমাম ইবনু আবি শাইবা (রহ.) তাঁর মুসান্নাফে এ ব্যাপারে সাহাবা-তাবিয়িনের বেশকিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

ইবরাহিম আত-তাইমি (রহ.) বলেন,
ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﻛﺎﻥ ﻳَﺴْﺘَﺪْﻓِﺊُ ﺑِﺎﻣْﺮَﺃَﺗِﻪِ ﺑﻌﺪَ ﺍﻟﻐُﺴْﻞ
‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ফরয গোসলের পর তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণতা লাভ করতেন।’

ইবনু উমর (রা.) বলেন,
ﺇﻧﻲ ﻷَﻏْﺘَﺴِﻞُ ﻣِﻦ ﺍﻟﺠَﻨَﺎﺑَﺔ، ﺛﻢ ﺃَﺗَﻜَﻮَّﻯ ﺑِﺎﻟﻤَﺮْﺃَﺓِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃﻥْ ﺗَﻐْﺘَﺴِﻞ
‘আমি ফরয গোসল করার পর স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণতা লাভ করি, তার গোসলের পূর্বেই।’

ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন,
ﺫَﺍﻙَ ﻋَﻴْﺶُ ﻗُﺮَﻳﺶٍ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸِّﺘﺎﺀ
‘এটা (ফরয গোসলের পর উষ্ণতার জন্য স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা) শীতকালে কুরাইশদের রীতি।’

উম্মু দারদা (রা.) বলেন,
ﻛﺎﻥ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺪَّﺭْﺩَﺍﺀِ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞ، ﺛﻢ ﻳَﺠِﻲﺀُ ﻭﻟَﻪُ ﻗَﺮْﻗَﻔَﺔٌ ﻳَﺴْﺘَﺪْﻓِﺊُ ﺑﻲ
‘আবু দারদা (রা.) শীতকালে ফরয গোসল করে কাঁপতে কাঁপতে আমার কাছে আসতেন। আমার দ্বারা উষ্ণতা গ্রহণ করতেন।’

ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেন,
ﻛﺎﻥ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔُ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞُ، ﺛﻢ ﻳَﺴْﺘَﺪْﻓِﺊُ ﺑﺎﻟﻤَﺮْﺃَﺓِ ﻭﻫِﻲَ ﺟُﻨُﺐ
‘আলকামা (রহ.) ফরয গোসল করতেন, তারপর তাঁর স্ত্রীর দ্বারা উষ্ণ হতেন। অথচ তার স্ত্রী তখনও জুনুবি অবস্থায়।’

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন,
ﺇﻧﻲ ﻷَﺳْﺘَﺪْﻓِﺊُ ﺑِﻬﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸِّﺘﺎﺀ ، ﻭﺃَﺗَﺒَﺮَّﺩُ ﺑِﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺼَّﻴْﻒ ﻭﻳﻌﻨﻲ : ﺍﻣﺮﺃﺗَﻪ
‘আমি তার (আমার স্ত্রীর) দ্বারা শীতকালে উষ্ণতা গ্রহণ করি, আর গ্রীষ্মকালে শীতলতা লাভ করি।’

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ীদের মতে গোসল করার পর স্বামী তার (অপবিত্র স্ত্রী - তথা জানাবাতের গোসল করে নি এমন অবস্থায়ও) স্ত্রীর শরীরের সাথে শরীর স্পর্শ করে উষ্ণতা নিতে পারে এবং সেই অবস্থায় ঘুমিয়ে যেতে পারে এতে কোন সমস্যা নেই । (তিরমিযী 123 নং হাদীস দ্রষ্টব্য)



অবিবাহিত মিসকীন ভাইদের প্রতি আহ্বান-
"মোজা মাফলার-জ্যাকেট জাম্পার সংগ্রহের পিছনে শুধু না ছুটে সাথে একটা 'জ্যাকেট বউ' সংগ্রহের চিন্তা করুন"


©

03/01/2026

হযরত রাবী বিন খুসাইম (রহ.) ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার একজন মানুষ। কিছু দুষ্টু লোক তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তা নষ্ট করার চক্রান্ত করল। তারা শহরের সবচেয়ে সুন্দরী এক নারীকে এক হাজার দিরহাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল যাতে সে রাবী বিন খুসাইম রহ.কে প্রলুব্ধ করতে পারে এবং তাঁর আমল নষ্ট করতে পারে।

সেই নারী এক হাজার দিরহামের লোভে সবচেয়ে দামী পোশাক পরল এবং সুগন্ধি মেখে নিজেকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করল। একদিন রাবী বিন খুসাইম রহ. যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন সেই নারী পর্দা সরিয়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল এবং নানাভাবে তাঁকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করল।

রাবী বিন খুসাইম রহ. তার দিকে তাকালেন, কিন্তু প্রলুব্ধ হওয়ার বদলে তাঁর চেহারা গম্ভীর হয়ে গেল। তিনি সেই নারীকে উদ্দেশ্য করে বললেন:

"হে নারী! তোমার এই উজ্জ্বল রূপ আর লাবণ্যের কী অবস্থা হবে যখন তোমার শরীরে তীব্র জ্বর আক্রমণ করবে এবং তোমার এই রং ফ্যাকাশে হয়ে যাবে?

তোমার কী অবস্থা হবে যখন আজরাঈল (আ.) তোমার সামনে এসে দাঁড়াবেন এবং তোমার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেবেন?

তোমার কী অবস্থা হবে যখন কবরের অন্ধকার ঘরে মুনকার-নাকির ফেরেশতা তোমাকে প্রশ্ন করবে?"

রাবী বিন খুসাইমের এই তিনটি প্রশ্ন সেই নারীর হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধল। মৃত্যুর সেই ভয়াবহতা এবং কবরের হিসাবের চিন্তা তাকে এতটাই গ্রাস করল যে, সে এক প্রচণ্ড চিৎকার দিয়ে সেখানেই বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল।

যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন সে এক সম্পূর্ণ অন্য মানুষে পরিণত হয়েছে। সে তাঁর সমস্ত বিলাসিতা ত্যাগ করল এবং আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে সঁপে দিল। ইতিহাসবিদরা বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মহিলাটি এত বেশি ইবাদত ও রোনাজারি করেছিলেন যে, তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি একটি 'পোড়া কাঠ' (অত্যধিক ইবাদত ও কান্নায় তাঁর শরীর শুকিয়ে জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল)।

দুনিয়ার রূপ ও সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী। আমরা যখন কোনো পাপের দিকে পা বাড়াই, তখন যদি আমাদের মৃত্যুর কথা এবং কবরের জিজ্ঞাসাবাদের কথা মনে পড়ে, তবে সেই পাপ থেকে ফিরে আসা সহজ হয়। আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের মুখ থেকে বের হওয়া সত্য কথা মানুষের অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে নিয়ে আসে।

📖 আত তাউওয়াবিন- ইবনে কুদামা রহ.
© Salman Farsi

03/01/2026

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বাড়ির পাশেই এক মুচি বাস করত। লোকটি সারাদিন কাজ করত, কিন্তু রাত হলেই সে বাড়ি ফিরে মদ পান করতে করতে মাতাল হয়ে যেত এবং উচ্চস্বরে গান গাইত। মাতাল অবস্থায় সে বারবার একটি কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করত:

"তারা আমাকে হারিয়ে ফেলেছে (অবহেলা করেছে)! অথচ তারা জানল না, কঠিন বিপদের দিনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর মতো কত বড় এক বীরকে তারা হারিয়েছে!"

প্রতি রাতেই সে এভাবে চিৎকার করত যতক্ষণ না ঘুমের ঘোরে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ত। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সারারাত ইবাদত ও নফল নামাজে মগ্ন থাকতেন, আর পাশের ঘর থেকে প্রতিবেশীর এই গান ও চিৎকার শুনতেন। কিন্তু তিনি কখনো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি; বরং তিনি তাঁর এই প্রতিবেশীর আওয়াজে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

হঠাৎ এক রাতে ইমাম সাহেব লক্ষ্য করলেন, পাশের ঘরটি একদম নিস্তব্ধ। কোনো গান বা চিৎকার শোনা যাচ্ছে না। এভাবে টানা তিন দিন পার হয়ে গেল। ইমাম সাহেব প্রতিবেশীর খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলল, "পুলিশ তাকে মাতলামির দায়ে গ্রেপ্তার করেছে এবং সে এখন কারাগারে বন্দী।"

পরদিন ফজর নামায শেষ করে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সরাসরি কুফার আমীরের (গভর্নর) প্রাসাদে গেলেন। ইমামের আগমনের খবর শুনে আমীর অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং তাঁকে পাশের আসনে বসালেন। আমীর জিজ্ঞেস করলেন, "হে ইমাম! আপনার কী প্রয়োজন?

ইমাম সাহেব বললেন, "আমার এক প্রতিবেশী মুচিকে পুলিশ ধরে এনেছে, আমি তাকে মুক্ত করতে এসেছি।"

ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতো একজন বিশ্ববিখ্যাত আলেম একজন সাধারণ মুচির জন্য সুপারিশ করতে এসেছেন দেখে আমীর অবাক হলেন। তিনি বললেন, "শুধু আপনার ঐ প্রতিবেশী নয়, ওই রাতে যত লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আপনার সম্মানে আমি সবাইকে মুক্তি দিচ্ছি!"

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সেই মুচি ইমামের পিছু পিছু আসছিল। ফেরার পথে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) হাসিমুখে মুচির দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন:

"আমি কি তোমাকে হারিয়ে যেতে দিয়েছি??"
(মুচি মাতাল অবস্থায় যে কবিতাটি গাইত—‘তারা আমাকে হারিয়েছে’—ইমাম সাহেব সেই কবিতার শব্দ দিয়েই তাকে প্রশ্নটি করলেন)।

মুচি লজ্জিত হয়ে নিচু স্বরে বলল, "না ইমাম! বরং আপনি প্রতিবেশীর হক রক্ষা করেছেন এবং আমার সম্মান বাঁচিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আজ থেকে আমি আর কখনো মদ পান করব না।"

সেই দিন থেকেই লোকটি মদ ছেড়ে দিল এবং তওবা করে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ইলমের মজলিসে নিয়মিত শরিক হতে শুরু করল। এক সময় সে ইরাকের কুফা নগরীর একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

প্রতিবেশীর ত্রুটিতে ধৈর্য ধরে তাঁর বিপদে অকৃত্রিম বন্ধু হওয়া প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য, যেখানে ঘৃণা বা শাসনের পথে না গিয়ে কেবল মমতার স্পর্শেই একজন পথভ্রষ্ট মানুষকে আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব। নিজের আভিজাত্য ও পদমর্যাদা ভুলে সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত মনুষ্যত্ব ও আধ্যাত্মিকতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

সূত্র: সামারাতুল আওরাক, পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭।
© Salman Farsi

03/01/2026

নিয়মিত দরুদ পাঠকারীর মৃত্যুর সাথে সাথে যা ঘটলো-

বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুল্লাহ্ একদিন পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করছিলেন। তিনি দেখলেন, এক যুবক তাওয়াফ করছে কিন্তু সে অন্য কোনো তাসবিহ বা দোয়া পড়ছে না। সে প্রতিটি কদমে কদমে শুধু সায়্যিদুনা হযরত রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ওপর দুরুদ শরিফ শরীফ পাঠ করছে। হযরত সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুল্লাহ্ কৌতূহলী হয়ে যুবককে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই! তুমি অন্য সব দোয়া বাদ দিয়ে শুধু দুরুদ শরিফ কেন পড়ছ? এর পেছনে কি বিশেষ কোনো কারণ আছে? যুবকটি প্রথমে তাঁকে চিনতে চাইল। যখন সে জানল ইনি সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুল্লাহ্ তখন সে বলল :-

❝আপনি যদি এই যুগের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি না হতেন, তবে আমি আমার গোপন কথা বলতাম না। আমি এবং আমার বাবা হজে এসেছিলাম। পথের মাঝে এক জায়গায় আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। মৃত্যুর সাথে সাথেই বাবার চেহারা কুচকুচে কালো হয়ে গেল। বাবার এই অবস্থা দেখে আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়লাম এবং তাঁর মুখের ওপর কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম। একপর্যায়ে ক্লান্তিতে আমার চোখ লেগে এল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম, ❝এক অপরূপ সুন্দর এবং সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি আমার বাবার লাশের কাছে এলেন। তাঁর মতো সুন্দর এবং পরিষ্কার পোশাক পরা মানুষ আমি আগে কখনো দেখিনি। তিনি বাবার মুখের কাপড় সরালেন এবং তাঁর পবিত্র হাত বাবার চেহারায় বুলিয়ে দিলেন। সাথে সাথে বাবার কালো চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো ফর্সা ও উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি চলে যেতে লাগলেন। আমি দৌড়ে গিয়ে তাঁর জামার কোণা ধরে বললাম, ❝হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কে? আল্লাহ্ আপনাকে এই বিপদের মুহূর্তে আমাদের সাহায্যকারী হিসেবে কেন পাঠিয়েছেন। তিনি ﷺ মুচকি হেসে বললেন, তুমি কি আমাকে চেনো না? আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ যার ওপর কুরআন নাজিল হয়েছে। তিনি ﷺ বললেন, তোমার বাবা যদিও অনেক পাপে লিপ্ত ছিল এবং নিজের ওপর জুলুম করেছিল, কিন্তু সে আমার ওপর প্রচুর পরিমাণে দুরুদ শরিফ পাঠ করত। তাই যখন সে বিপদে পড়ল, আল্লাহ্ আমাকে তাঁর সাহায্যে পাঠালেন। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করে, আমি তাঁর বিপদে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সাহায্যকারী হয়ে আসি।❞


যুবক বলল, ❝আমি ঘুম থেকে জেগে দেখলাম, সত্যিই আমার বাবার চেহারা ধবধবে সাদা হয়ে গেছে।❞



[ সূত্র :- দাফউশ শুবাহ আনির রাসূল ওয়ার রিসালা]

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
©

02/01/2026

একদা হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে আরয করলেন, "হে পরওয়ারদেগার! জান্নাতে আমার সাথে কে থাকবে? আমি আমার সেই সাথীকে দেখতে চাই।" আল্লাহ তাআলা ওহী পাঠালেন, "হে মুসা! অমুক শহরে চলে যাও, সেখানে তুমি তোমার জান্নাতের সাথীর দেখা পাবে।"

হযরত মুসা (আ.) সেই শহরে পৌঁছালেন। সেখানে যুবকটির সাথে তাঁর দেখা হলো। সে ছিল পেশায় একজন কসাই। হযরত মুসা (আ.) নিজেকে মুসা হিসেবে পরিচয় না দিয়ে শুধু একজন মুসাফির বা ‘আল্লাহর বান্দা’ হিসেবে পরিচয় দিলেন এবং তাঁর মেহমান হতে চাইলেন। যুবকটি সানন্দে রাজি হলো।

হযরত মুসা (আ.) সারাদিন যুবকের দোকানে বসে তাঁর কাজ দেখতে লাগলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন, যুবকটি মাংস বিক্রির সময় হাড়ের ভেতরের মজ্জা এবং চর্বির কিছু ভালো অংশ আলাদা করে সযত্নে সরিয়ে রাখছে। কাজ শেষে যুবকটি সেই মজ্জা ও চর্বি নিয়ে মুসা (আ.)-কে সাথে করে নিজ বাড়িতে ফিরল।

বাড়িতে পৌঁছে যুবকটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার তৈরি করল। এরপর সে ঘরের ছাদ থেকে ঝোলানো দুটি বড় দোলনার একটি নামিয়ে আনল। সেখানে অতি বৃদ্ধ এক লোক শুয়ে ছিলেন, যাঁর বার্ধক্যের কারণে ভ্রু দুটি চোখের ওপর ঝুলে পড়েছিল। যুবকটি পরম মমতায় তাঁর মুখ ধুইয়ে দিল, পোশাক পরিষ্কার করল এবং আতর মাখিয়ে দিল। এরপর নিজ হাতে তাঁকে সেই নরম খাবার ও পানি খাওয়াল। খাওয়া শেষে বৃদ্ধ লোকটি তৃপ্তির হাসি হেসে বিড়বিড় করে কিছু বললেন।

এরপর যুবকটি দ্বিতীয় দোলনাটি নামিয়ে আনল। সেখানে এক অতি বৃদ্ধা নারী ছিলেন। তাঁর সাথেও সে একই রূপ আচরণ করল। সেই বৃদ্ধা নারীও খাওয়ার পর যুবকের জন্য দোয়া করলেন।

হযরত মুসা (আ.) এই সেবা দেখে অভিভূত হলেন। তিনি যুবককে জিজ্ঞেস করলেন, "এই বৃদ্ধ দম্পতি তোমার কে হন এবং তাঁরা খাওয়ার পর কী দোয়া করলেন?"

যুবকটি বলল, "হযরত, এঁরা আমার বাবা ও মা। আমি প্রতিদিন এভাবেই তাঁদের সেবা করি। আমার বাবা প্রতিদিন খাওয়ার পর দোয়া করেন— 'হে আল্লাহ! আমার ছেলের এই পরিশ্রমকে বৃথা করবেন না এবং তাঁকে জান্নাতে হযরত মুসা (আ.) এর সাথী বানিয়ে দিন।' আর আমার মা-ও হুবহু একই দোয়া করেন।"

হযরত মুসা (আ.) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "হে যুবক! সুসংবাদ নাও! আমিই সেই মুসা। আর আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতে তুমিই হবে আমার নিত্যসঙ্গী।"

একথা শুনে যুবকটি কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। যখন সে তাঁর পিতামাতাকে এই খবর দিল, তাঁরা খুশিতে আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে সেই মুহূর্তেই ইন্তেকাল করলেন। হযরত মুসা (আ.) স্বয়ং তাঁদের জানাজায় ইমামতি করলেন।

মা-বাবার সেবা করা কেবল একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি সরাসরি জান্নাত পাওয়ার একটি মাধ্যম। একজন সাধারণ কসাই হয়েও সেই ব্যক্তিটি তাঁর মা-বাবার খিদমত করার কারণে হযরত মুসা (আ.)-এর জান্নাতী সঙ্গী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন।

সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ ( ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)
© Salman Farsi

30/12/2025

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকির উপরেই হযরত আয়শা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাসূল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তায় পড়ে যান কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে। কেউ মসজিদে, কেউ জান্নাতুল বাকীতে একেকজন একেক রকম মত দিচ্ছিলেন।

তখন আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছি কোনো নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এরপর সাহাবায়ে কেরাম একমত হলে এখানেই রাসূল (সাঃ) কে দাফন করা হয়।

দাফনের পরও আয়শা (রাঃ) এই ঘরেই আগের মত বসবাস করতেন। রাসূলের মৃত্যুর ২বছর পর আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় তিনিও ইন্তেকাল করেন।

অসুস্থ থাকাকালীন তিনি বলেছিলেন, আমি চাই আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর পাশে দাফন করা হোক, যদি আয়িশা অনুমতি দেন। আয়শা (রাঃ) অনুমতি দিলে রাসূল (সাঃ) এর পাশেই আবু বকর (রাঃ) কেও দাফন করা হয়।

এরপর আয়শা (রাঃ) এর ইচ্ছে ছিলো রাসূল (সাঃ) ও তার পিতা আবু বকরের পাশে তিনি নিজে দাফন হতে। কিন্তু মৃত্যুশয্যায় শুয়ে হযরত উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, আমি রাসূল (সা.)-এর রওজার পাশে দাফন হতে চাই।

তুমি মা আয়েশা (রা.) এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর তার দুই সাথীর পায়ের কাছে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইছে। তাকে 'আমিরুল মুমিনীন' বলো না, শুধু 'উমর' বলো।

এটা শুনে আয়িশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। এবং তিনি দীর্ঘ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর বললেন, আমি এই জায়গাটি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।

আয়শা (রাঃ) অনুমতি দেওয়ার পরও উমর (রাঃ) তার ছেলেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আবার অনুমতি চাইবে। কারণ হতে পারে আমার জীবদ্দশায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যদি আবার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে দাফন করবে নতুবা সাধারণ কবরস্থানে দাফন করে দিও।

তার মৃত্যুর পর রওজার দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলে মা আয়েশা (রা.) বললেন, "উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।

উমর (রাঃ) কে দাফনের আগে আয়শা (রাঃ) সেই ঘরে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। কিন্তু তার দাফনের পর ছবিতে যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে পর্দার ব্যবস্থা করেন।

আয়শা (রাঃ) বলেন, উমরকে যখন তাঁদের সঙ্গে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি সেখানে প্রবেশ করিনি যতক্ষণ না আমি আমার কাপড় শক্ত করে জড়িয়ে পূর্ণ পর্দা করে প্রবেশ করেছি।

আয়শা (রাঃ) ৬৫ বা ৬৬ বছর বয়সে এই ঘরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রাসূল এর মৃত্যুর পরেও প্রায় ৪৭ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এই মহিয়সী। এই পুরো সময় ইলমের চর্চা, উম্মতের ফিকির ও ইবাদতে কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওসিয়ত করে বলেছিলেন, আমাকে রাসূল (সাঃ) এর সাথে ঘরে দাফন করো না, রাসূল (সাঃ) এর বাকি স্ত্রীদের সাথে দাফন করো। কারণ আমি চাই না আমাকে বাকি স্ত্রীদের থেকে বিশেষভাবে পবিত্র বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করা হোক।

এরপর এই মহিয়সীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। রদ্বিআল্লাহু আনহা। 🌹

©সংগৃহীত

28/12/2025

তোমার জন্য এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা..কারণ তুমি কোনভাবেই বাঁ-চ-তে পারবে না..রাজসাক্ষী হয়ে তুমি প্রকৃত অ-প-রা-ধীদের নাম প্রকাশ করে দাও..তাদের নাম বলে দাও যারা তোমাকে খু-নে-র নির্দেশ দিয়েছিল..তোমাকে মে-রে ফেলার আগেই তুমি একটা ভিডিও রেকর্ড করো এবং সেখানে সমস্ত ঘটনা খুলে বল..তাতে করে তোমার পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্ম মানুষের ঘৃ-ণা থেকে বেঁচে যাবে..তুমি মনে রেখো তারা তোমাকে মে-রে ফেলবেই..কারণ তারা ভালো করে জানে তুমি ধরা পড়লে সবার নাম বলে দেবে..তাই সুযোগ থাকতে তোমার পা-পে-র কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করো..তা নাহলে তোমার বাবাকে আমরা ডাকবো খু-নি ফয়সালের বাবা..তোমার মাকে আমরা ডাকবো খু-নি ফয়সালের মা..তোমার বংশকে আমরা বলবো খু-নি ফয়সালের বংশ 🙂

Want your school to be the top-listed School/college in Gazipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Gazipur