31/12/2021
#ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয় #
Failure is the Pillar of Success. সে রকমই পৃথিভীর সেরা ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই লেখাটি সফল ক্যারিয়ার, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী – যার কথাই বলা হোকনা কেন, সবাইকেই ব্যর্থতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সফল হতে হয়েছে।
লেখার প্রথমেই যে বিখ্যাত ব্যক্তির নাম আসবে তিনি হলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন।১২ ফেব্রুয়ারি১৮০৯ সালে কেনটাকি এর হডজেনভিলে কাছে সিংক স্প্রিং ফার্মের একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি ঘরে টমাস লিংকন জন্মগ্রহণ করেন ।
১৮০৯ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটিকে আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ধরা হয় তাঁকে। রাজনীতি ও খ্যাতির দিক দিয়ে তিনি নি:সন্দেহে পৃথিবীর ইতিহাসের সফলতম মানুষদের একজন। কিন্তু তাঁর শুরুটা কিন্তু ব্যর্থতার গল্প দিয়েই পরিপূর্ন ছিল ।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে তাঁর চাকরি থেকে বিতাড়িত হতে হয়। সেই সময়ে তিনি তাঁর প্রথম নির্বাচনেও হারে ২৯ বছর বয়সে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এর সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করে হারেন।
১৮৪৮ সালে, ৩৯ বছর বয়সী লিংকন ওয়াশিংটনের জেনারেল ল্যান্ড অফিসের কমিশনার হওয়ার জন্য নির্বাচন করে পরাজিত হন।
৪৯ বছর বয়সে সিনেটর হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়ে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হন। এত ব্যর্থতার পরও তিনি রাজনীতি না ছেড়ে চেষ্টা করে যান।
অবশেষে ১৮৬১ সালে, ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের প্রায় পুরোটাই ছিল ব্যর্থতার গল্প। কিন্তু এরপর তিনি ইতিহাস বদলে দেন।
এর পর যে বিখ্যাত ব্যক্তির কথা বলবো তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। তিনি এতটাই সফল বিজ্ঞানী ছিলেন যে, ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা মাথায় আসলেই প্রথমেই প্রায় সকল মানুষের মনে তাঁর কথাই প্রথমে আসে। তাঁকে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয়।
কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্ম নেয়া এই জার্মান জিনিয়াসকে একটা সময় পর্যন্ত গর্ধভ মনে করা হত। কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না। কথা বলা শিখতেই তাঁর ৪ বছর লেগেছিল। পড়াশুনায় ছিলেন একদম কাঁচা।
১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেছিলন।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, একাধিক বপড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর বাবার একমাত্র দু:খ ছিল যে এগর্ধভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন।
কোনও কাজ না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ইন্সুরেন্স সেলস ম্যানের কাজ নেন। কোনও কাজ না পারলে মানুষ এই ধরনের চাকরি করতো। ২ বছর পর তিনি পেটেন্ট অফিসে কাজ পান। যেখানে নতুন ডিভাইস পেটেন্ট করার আগে পরীক্ষা করা হতো।
কিন্তু একটা সময়ে এই মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর সেই ‘ডাল ব্রেন নিয়ে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি মূল সূত্র সৃষ্টি করে গেছেন। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য নোবেল প্রাইজ জিতেছেন। প্রমাণ করেছেন যে পৃথিবীর সেরা ব্যর্থতারাই সেরা সফল ব্যক্তি। এ রকম অনেক উদাহরণ যমেনঃ জ্যাক মা, চার্লি চ্যাপলিন, কনোনেল স্যান্ডার্স, হেনরি ফোর্ড, টমাস আলভা এডিসন এবং জে কে রাওলিং এরা সবাই প্রথম জীবনে সেরা ব্যর্থ ছিল। তাই বলছি ব্যর্থ হলে হাল ছেড়ে দিবেন না কারন ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম স্যার বলেন, FAIL means; First Attempt in Learning, অর্থাৎ প্রথম প্রচেষ্টায় কিছু শেখা।