05/05/2026
আজ সেই দিন (৫ মে ) ......সেই দিনের ১৯১১ সালে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অকুতোভয় অগ্নিস্নাত বিপ্লবী। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামে তাঁর জন্ম। আজকের দিনে তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সংক্ষিপ্ত অবদান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নারী বিপ্লবীদের পথিকৃৎ
প্রীতিলতা ছিলেন চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী। সেই সময়ে যখন নারীদের ঘরের বাইরে আসা কঠিন ছিল, তখন তিনি সরাসরি সশস্ত্র বিপ্লবে যোগ দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে নারীরাও দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে পারেন।
২. ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ (১৯৩২)
প্রীতিলতার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বীরত্বপূর্ণ অবদান ছিল চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ। এই ক্লাবের প্রবেশপথে লেখা ছিল— "Dogs and Indians are not allowed" (কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ)। এই চরম অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী ক্লাবটি আক্রমণ করেন।
৩. আত্মাহুতি ও দেশপ্রেম
আক্রমণ সফল করে ফেরার পথে প্রীতিলতা গুলিবদ্ধ হন। ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়ার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করে তিনি সঙ্গে থাকা পোটাসিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর এই আত্মত্যাগ বাংলার বিপ্লবীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল।
৪. শিক্ষাজীবনে শ্রেষ্ঠত্ব
বিপ্লবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ডিস্টিংশনসহ বি.এ পাস করেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের নন্দনকানন অপর্ণাচরণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
তাঁর বার্তা:
মৃত্যুর আগে প্রীতিলতা লিখেছিলেন— "মেয়েরা আজ আর শুধু ঘরের কোণে থাকবে না, দেশের প্রয়োজনে তারাও অস্ত্র ধরতে জানে।" তাঁর এই আদর্শ আজও দক্ষিণ এশিয়ার নারী জাগরণ ও দেশপ্রেমের এক বড় উৎস।