জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া, মাদানী নেসাব

  • Home
  • Bangladesh
  • Gazipur
  • জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া, মাদানী নেসাব

জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া, মাদানী নেসাব Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া, মাদানী নেসাব, Education Website, মোগরখাল, Gazipur.

18/03/2026

#বেফাকুল_মাদারিসিল_আরাবিয়া_বাংলাদেশ
(কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড)
এর ৪৭তম কেন্দ্রীয় পরিক্ষায়
জামিয়া আরাবিয়া নুরিয়া (মোগরখাল) এর ফলাফল।
মোট মুমতাজ (এ+) ৭৯ জন
মেধাতালিকায় স্থান ১৭ জন
আলহামদুলিল্লাহ

জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া মোগরখাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মুফতি লেহাজ উদ্দিন দা.বা. গুরুতর অসুস্থ।  তাই...
26/05/2025

জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া মোগরখাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মুফতি লেহাজ উদ্দিন দা.বা. গুরুতর অসুস্থ। তাই জামিয়ার সকল উস্তাদ উনার সুস্থতার জন্য সকলের নিকট দো'আর আবেদন করেছেন।

21/05/2025

✪✪কুরবানী বিষয়ক প্রশ্ন-উত্তরঃ⇨🖊 উত্তর প্রদানে : ফতোয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা।৩৩৪৪. প্রশ্নঃ কুরবানীর সময় আমরা কুরবানীর পশু কিনতে হাটে যাই। প্রত্যেক পশু কেনার পর হাসিল দিতে হয়। এখন জানার বিষয় হল, হাসিল কুরবানীর পশুর হক, নাকি হাটের ট্যাক্স? কেউ যদি হাসিলের টাকা না দিয়ে চলে আসে তাহলে তার কুরবানীতে কোনো সমস্যা হবে কি না?

উত্তর
হাসিল হাটের ভাড়া। এটি হাট কর্তৃপক্ষের হক। যা হাটের সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে নেওয়া হয়। তাই এ টাকা পরিশোধ করা জরুরি। হাসিল না দিলে হাট কর্তৃপক্ষের হক নষ্ট করার গুনাহ হবে। তাই কেউ হাসিল না দিয়ে থাকলে হাট কর্তৃপক্ষের নিকট তা পৌঁছে দিতে হবে। অবশ্য হাসিল না দেওয়ার কারণে কুরবানী নাজায়েয হয়ে যাবে না।

*****

৪২৮১. প্রশ্ন
মুহতারাম, ঈদের ক’দিন পূর্বে কুরবানীর জন্য একটি গাভী ক্রয় করি। কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে, এটি গর্ভবতী এবং প্রায় প্রসব আসন্ন। ফলে অন্যান্য শরীকগণ এটা কুরবানী দিতে অপছন্দ করে। তাই আমরা অন্য একটি পশু ক্রয় করে কুরবানী করি। এখন জানার বিষয় হল, দ্বিতীয় পশু দ্বারা কুরবানী কি সহীহ হয়েছে? গর্ভবতী পশুর কুরবানীর বিধান কী? আর প্রথম পশুটা কি আমরা বিক্রি করতে পারব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর
প্রসব আসন্ন গর্ভবতী পশুটি কুরবানী না করে ঠিকই করেছেন। কেননা এধরনের পশু কুরবানী করা মাকরূহ। আর এ অবস্থায় অন্য পশু দিয়ে কুরবানী করা সহীহ হয়েছে। যেহেতু অন্য পশু কুরবানী করেছেন তাই এ পশুটি চাইলে বিক্রিও করতে পারেন বা নিজেরাও রেখে দিতে পারেন। তবে দ্বিতীয় পশুর মূল্য যদি প্রথম পশুর চেয়ে কম হয়ে থাকে তাহলে যে পরিমাণ টাকা কম হয়েছে সে পরিমাণ টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬০; ইমদাদুল আহকাম ৪/২৭৮

*****

৪৮৫৯. প্রশ্ন
আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আমার জানার বিষয় হল, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন-জঙ্গলে ও পাহাড়ী এলাকায় মালিকানাহীন অনেক বন্য ছাগল-ভেড়া থাকে। কুরবানীর কিছু আগে খামারীরা সে সমস্ত বন্য ছাগল-ভেড়া ধরে এনে কিছু দিন খামারে রাখে। এই ছাগল-ভেড়াগুলো সাধারণ ছাগল-ভেড়া থেকে আকারে একটু বড় হয়। এগুলো খামারীদের যেহেতু কিনতে হয় না তাই এগুলো তারা সস্তা দামে বিক্রি করে দেয়। জানতে চাই, এই বন্য ছাগল-ভেড়া দ্বারা কুরবানী করা কি সহীহ হবে?

উত্তর
না, এসব বন্য ছাগল-ভেড়া কিছু দিনের জন্য খামারে আটকে রাখলেও এগুলো দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না। কেননা এগুলো জন্মগতভাবে বন্য পশু। আর কুরবানী সহীহ হওয়ার জন্য পশু জন্মগতভাবে পৃহপালিত হওয়া আবশ্যক। বন্য পশু গৃহে বা খামারে এনে লালন-পালন করলেও তা দ্বারা কুরবানী সহীহ নয়।

-কিতাবুল আছল ৫/৪১১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২২
*****
প্রশ্ন:
আমি কুরবানীর ঈদের তিন মাস আগে কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি গাভী ক্রয় করেছি। কুরবানীর আগে সেই গাভীটির একটি বাচ্চা হয়েছে। জানার বিষয় হল, এ বাচ্চাটির ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?

উত্তর:
উক্ত বাচ্চাটি সদকা করে দিতে হবে। অবশ্য জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি জবাই করে দেয় তবে তার গোশত সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব হবে।
-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩২২
*****
৩৩৭০. প্রশ্ন:
কুরবানীর পশু কেনার সময় এর সাথে অনেক সময় মোবাইল সেট, কখনো ফ্রিজ ফ্রি দেয়। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত মোবাইল বা ফ্রিজ কি ব্যবহার করা যাবে, নাকি সদকা করে দিতে হবে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর:
কুরবানীর পশুর সাথে মোবাইল, ফ্রিজ বা অন্য কিছু ফ্রি দিলে তা নিজে ব্যবহার করতে পারবে। তা সদকা করে দেওয়া জরুরি নয়। কারণ এটা কুরবানীর পশুর সাথে পেলেও তা কুরবানীর অংশ বা সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়; বরং তা পৃথক ক্রয়কৃত পণ্যের মতোই।
*****
২০৬০. প্রশ্ন
এক ব্যক্তির একটি গরু আছে। সে মান্নত করেছে যে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে এ বছর গরুটি কুরবানী করব। লোকটি গরীব। বর্তমানে সে চাচ্ছে উক্ত গরুর পরিবর্তে আরেকটি গরু কিনে কুরবানী করবে। তার জন্য কি ওই গরুটির পরিবর্তে অন্য গরু কুরবানী করা জায়েয হবে?

উত্তর
তাকে ওই গরুটিই কুরবানী করতে হবে। এটা রেখে অন্য গরু কুরবানী করা জাযেয় হবে না।

বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১

*****

৪৫৫৭. প্রশ্ন
আমাদের পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি কুরবানীর জন্য একটি গরু ক্রয় করে। কিন্তু ঘটনাক্রমে কুরবানীর আগের দিন গরুটি চুরি হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির নিকট যদি কুরবানীর দিনসমূহে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তাহলে তাকে আরেকটি পশু খরিদ করে কুরবানী করতে হবে। সেক্ষেত্রে একটি ছাগল কুরবানী দিলেও চলবে। আর কুরবানীর দিনসমূহে যদি তার নিকট প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে তাহলে তাকে নতুন করে কুরবানী করতে হবে না।

-কিতাবুল আছল ৫/৪১০; শরহু মুখতাছারিত তাহাবী ৭/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২
*****
১৯৪৮. প্রশ্ন
কুরবানীর পশু ক্রয় করার পর যদি মারা যায় অথবা চুরি হয়ে যায় তাহলে কি আরেকটি পশু ক্রয় করে কুরবানী করতে হবে?

উত্তর
ঐ ব্যক্তি যদি ধনী হয়ে থাকে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় তাহলে তাকে অন্য পশু ব্যবস্থা করে কুরবানীর সময়ের মধ্যে কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। আর যদি সে এমন গরীব হয় যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় সেক্ষেত্রে তাকে আর কিছুই করতে হবে না।

সুনানে কুবরা বায়হাকী ৯/২৮৯; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৫
*****
২৪৩০. প্রশ্ন
আমার এক পরিচিত লোক, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব। গত কুরবানীর ঈদে কুরবানীর জন্য একটি পশু ক্রয় করে বাজার থেকে আনার সময় পথিমধ্যে তা হারিয়ে যায়। এরপর তিনি আরেকটি পশু কিনেন। ঘটনাক্রমে পরে হারানো পশুটিও পাওয়া যায় এবং তিনি উভয়টি কুরবানী করেন।

এখন জানার বিষয় হল, তার উপর উভয়টি কুরবানী করা কি জরুরি ছিল? নাকি যেকোনো একটি কুরবানী করলেই যথেষ্ট হত? জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, উভয়টি কুরবানী করা তার উপর জরুরি ছিল।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উভয় পশু কুরবানী করাটা উত্তম কাজ হয়েছে। এক্ষেত্রে উভয়টি কুরবানী করা জরুরি ছিল না। যেকোনো একটি কুরবানী করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যেত। প্রশ্নোক্ত লোকটির কথা ঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪১৩; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩৬২

*****

১৯৬৩. প্রশ্ন
আমি গত বছর একটি গাভী ক্রয় করি। এটাই আমার একমাত্র সম্পদ। গাভীটি ক্রয় করার কয়েক দিন পর আমি নিয়ত করি যে, কিছু দিন আমি দুধপান করার পর কুরবানী করে দিব। জানার বিষয় হল, গাভীটি কুরবানী করা কি আমার জন্য জরুরি হয়ে গেছে? না প্রয়োজনের সময় তা বিক্রি করতে পারব?

উত্তর
প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী আপনি চাইলে ঐ গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। কোনো পশু ক্রয় করার পর এভাবে নিয়ত করলে তা কুরবানী করা জরুরি হয়ে যায় না।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৩; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৮৮
*****
৪৯১২. প্রশ্ন
গত বছর ডিসেম্বর মাসে আমার ছেলে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি আগামী কুরবানীর ঈদে একটি কুরবানী করব। আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে এখন সুস্থ। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, প্রত্যেক বছর তো আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়। এখন আমার কি দুটো কুরবানী করতে হবে, নাকি একটি করলেই চলবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর
আগামী কুরবানীর দিন আপনি যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন তাহলে আপনাকে দুটো কুরবানী করতে হবে। একটি মান্নতের কুরবানী, অপরটি ঈদুল আযহার কুরবানী।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬০; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৭
*****
১৯৪১. প্রশ্ন
এক বিত্তবান ব্যক্তি কুরবানীর এক মাস পূর্বে একটি কুরবানী মান্নত করে। কুরবানীর দিন সে শুধু একটি কুরবানী করে। জানার বিষয় হল, উক্ত কুরবানীর দ্বারা তার মান্নত আদায় হয়েছে কি না?

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর দুটি কুরবানী করা জরুরি ছিল। ১. সাধারণ ওয়াজিব কুরবানী ও ২. মান্নতের ওয়াজিব কুরবানী। যেহেতু সে একটি কুরবানী করেছে তাই এখন কুরবানীর উপযুক্ত একটি পশুর মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর সময়মতো কুরবানী না করার কারণে ইস্তিগফার করতে হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৪-১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৮; মাবসূত সারাখসী ১২/৯
*****
৪৪৯৩. প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তির দুটি গাভী ছিল, যেগুলোর দুধ বিক্রি করে তার সংসার চলত। ঘটনাক্রমে একবার তার দুটো গাভীই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। একসময় সে বলে, গাভীগুলো সুস্থ হলে সামনের কুরবানী ঈদে এই কালো গাভীটা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করব। পরবর্তীতে গাভীদুটো সুস্থ হয়। কিন্তু কোনো কারণে সে ঐ বছর কালো গাভীটি কুরবানী করেনি। এদিকে পরের বছর ঐ গাভীটি একটি বাচ্চা প্রসব করে এবং তা বড়ও হয়ে যায়।

এখন ঐ ব্যক্তি গাভীটি কুরবানী না করার কারণে অনুতপ্ত। সেইসাথে সে জানতে চাচ্ছে, এ অবস্থায় এখন তার করণীয় কী?

উল্লেখ্য, সে একজন খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় এবং সাধারণত সে কুরবানী করে না।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটির জন্য গত কুরবানীর সময় কালো গাভীটি কুরবানী করা ওয়াজিব ছিল। যেহেতু সে গাভীটি ঐ বছর কুরবানী করেনি তাই এখন তাকে এ গাভীটি তার বাচ্চাসহ জীবিত সদকা করে দিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২, ২০২; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৭/৩৪২; আলকেফায়া শরহুল হেদায়া ৮/৪৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭১; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২২
*****
১৬৫৭. প্রশ্ন
আমার একটি গাভী আছে। কয়েক মাস আগে মারাত্মক অসুস্থ হয়। তখন আমি মান্নত করলাম যে, গাভীটি সুস্থ হলে আল্লাহর ওয়াস্তে কুরবানী করব। আল্লাহর রহমতে গাভীটি সুস্থ হয়। কিছুদিন পর একটি বাচ্চা দেয়। আমার জানার বিষয় হল এই বাছুরটি কী করব? তা আমি নিজের জন্য রাখতে পারব কি? আর গাভীটি কুরবানী করার পর তার গোশত আমি খেতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শর্তপূর্ণ হওয়ার কারণে গাভীটি মান্নতের পশু হয়ে গেছে। অতএব এর বাছুরটি আপনি নিজের জন্য রাখতে পারবেন না। বরং তা সদকা করে দিবেন। এক্ষেত্রে বাছুরটির মূল্য দান করে দিলেও চলবে। তবে সরাসরি বাছুরটি দান করা উত্তম। আর গাভীটি কুরবানী করার পর তার গোশত, চামড়া ইত্যাদিও সদকা করে দিতে হবে। এ থেকে আপনি, আপনার স্ত্রী ও সন্তানাদি এবং অন্য কোনো ধনী লোক খেতে পারবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪১

*****

১৬৫৭. প্রশ্ন
আমার একটি গাভী আছে। কয়েক মাস আগে মারাত্মক অসুস্থ হয়। তখন আমি মান্নত করলাম যে, গাভীটি সুস্থ হলে আল্লাহর ওয়াস্তে কুরবানী করব। আল্লাহর রহমতে গাভীটি সুস্থ হয়। কিছুদিন পর একটি বাচ্চা দেয়। আমার জানার বিষয় হল এই বাছুরটি কী করব? তা আমি নিজের জন্য রাখতে পারব কি? আর গাভীটি কুরবানী করার পর তার গোশত আমি খেতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শর্তপূর্ণ হওয়ার কারণে গাভীটি মান্নতের পশু হয়ে গেছে। অতএব এর বাছুরটি আপনি নিজের জন্য রাখতে পারবেন না। বরং তা সদকা করে দিবেন। এক্ষেত্রে বাছুরটির মূল্য দান করে দিলেও চলবে। তবে সরাসরি বাছুরটি দান করা উত্তম। আর গাভীটি কুরবানী করার পর তার গোশত, চামড়া ইত্যাদিও সদকা করে দিতে হবে। এ থেকে আপনি, আপনার স্ত্রী ও সন্তানাদি এবং অন্য কোনো ধনী লোক খেতে পারবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৪; আদ্দুররুল মুখ

*****

প্রশ্ন:
শুনেছি, যিনি কুরবানী করবেন তার জন্য যিলহজ্বের ১লা তারিখ থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটা মুস্তাহাব। কথাটি কি সঠিক? হাদীসে কি এ ধরনের কথা আছে?

উত্তর:
হ্যাঁ, কুরবানীকারীর জন্য ১লা যিলহজ্ব থেকে পশু কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটার কথা হাদীসে এসেছে।
হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরবানী করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যেন যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল না কাটে। (সহীহ মুসলিম ২/১৬০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১)
উল্লেখ্য, এই বিধান তখনি প্রযোজ্য হবে যখন অবাঞ্ছিত পশম ও নখ না কাটার সময় ৪০ দিন থেকে বেশি না হয়। কেননা, সহীহ হাদীসে আছে, আনাস রা. বলেন, গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, বগল পরিষ্কার করা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার বিষয়ে আমাদের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল যে, আমরা যেন ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব না করি।
-সহীহ মুসলিম ১/১২৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৯৬

*****

৪১৭৭. প্রশ্ন
আমরা জানি, যে ব্যক্তি কুরবানী করবে হাদীস শরীফে তাকে যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল, নখ ইত্যাদি না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সে চুল, নখ কখন কাটবে? কুরবানীর আগে নাকি পরে?


উত্তর
ঐ ব্যক্তি নিজের কুরবানী সম্পন্ন হওয়ার পর নখ, চুল কাটবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أُهِلَّ هِلَالُ ذِي الْحِجَّةِ، فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ، وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ.

‘যে ব্যক্তির কুরবানীর পশু আছে যা সে কুরবানী করবে যিলহজে¦র চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।

-সহীহ মুসলিম ,হাদীস ১৯৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯১; মিরকাতুল মাফাতীহ ৩/৩০৬; বাযলুল মাজহূদ ১৩/১২

*****

প্রশ্ন:
একজন মহিলাকে বলতে শুনেছি, কুরবানীর দিন পশু জবাই করার আগ পর্যন্ত রোযা রাখতে হয়। শরীয়তে এরূপ কিছু আছে কি না?

উত্তর:
কুরবানী দিনের অংশ বিশেষে রোযা রাখতে হবেÑ এ কথা ঠিক নয়। ঈদের দিনে রোযা রাখার বিধান নেই। তবে এক্ষেত্রে মাসআলা হল, কুরবানীর দিন কুরবানীর গোশত দিয়ে খাবার শুরু করা মুস্তাহাব। তাই এর আগ পর্যন্ত যথাসম্ভব খানাপিনা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
হযরত বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, ঈদুল আযহার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর গোশত খাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য কিছু খেতেন না।
Ñসুনানে দারাকুতনী ২/৪৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১১২৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩
******
৩০৩১. প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় কিছু লোক আছে, যারা সামর্থ্য না থাকার কারণে কুরবানী দিতে পারে না। তাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা কুরবানীর দিন মুরগী বা হাঁস যবাই করে থাকে। আমি জানতে চাই, কুরবানীর দিন হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবাই করা জায়েয আছে কি?

উত্তর
কুরবানীর দিনেও কুরবানীর নিয়ত না করে কেবল খাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁস, মুরগী ইত্যাদি যবাই করা জায়েয। এতে দোষের কিছু নেই।

তবে কুরবানীর নিয়তে কিংবা কুরবানীর সাদৃশ্য অবলম্বনের উদ্দেশ্যে হাঁস, মুরগী যবাই করা যাবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৩/২৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬০

*****

প্রশ্ন:
আমি গতবার কুরবানীর প্রথম দিন কুরবানী না করে দ্বিতীয় দিন কুরবানী করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল, প্রথম দিনই কুরবানী করা উত্তম। তার কথা কি ঠিক?

উত্তর:
হ্যাঁ, কোনো ওজর না থাকলে প্রথম দিনই কুরবানী করা উত্তম।
খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী রা. বলেন, কুরবানী করার সময় তিনদিন। এর মধ্যে প্রথম দিন কুরবানী করা উত্তম।
-মুসনাদে আহমদ ৪/৩৫০; আলমুহাল্লা ৬/৪০; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩৩১
*****
৪০৩০. প্রশ্ন
এ বছর কোনো এক কারণে আমাদের কুরবানী বিলম্বিত হয়ে যায়। কুরবানীর ২য় দিন মাগরিবের পর আমরা কুরবানী করি। প্রশ্ন হল, রাতে কুরবানী করা সহীহ কি না? যদি সহীহ না হয় তাহলে এখন আমদের করণীয় কী?

উত্তর
দশ যিলহজ্ব ঈদের নামাযের পর থেকে বার তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনে ও রাতে যে কোনো সময় কুরবানী করা সহীহ। আপনাদের কুরবানীও সহীহ হয়েছে।

অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলে রাতে কোনো পশু যবাই করা অনুত্তম। কারণ অন্ধকারে করলে যবাইয়ে ভুলত্রুটি হতে পারে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে যবাই করা দোষণীয় নয়।

-কিতাবুল আছল ৫/৪১২; মাবসূত, সারাখসী ১২/১৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০

*****

৩৯৬৫. প্রশ্ন
আমি ও আমার স্ত্রী দেশেই থাকি। কিন্তু আমাদের ছেলে-মেয়ে সবাই লন্ডনে থাকে। আমরাও মাঝে মাঝে গিয়ে তাদের সাথে কিছুদিন থেকে আসি। দেশে যেহেতু আমাদের সন্তানাদি কেউ নেই তাই এখানে আমাদের জন্য কুরবানী দেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার। তাই আমাদের সন্তানরা চাচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে তারা লন্ডনে কুরবানী করে দিবে। কিন্তু তারা আমাদের থেকে একদিন আগে কুরবানী করে। অতএব তারা যদি তাদের কুরবানীর সময় আমাদের পক্ষ থেকেও কুরবানী করে দেয় তবে কি তা সহীহ হবে? এবং এর দ্বারা কি আমাদের কুরবানী আদায় হবে?

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছেলেরা যদি আপনার পক্ষ থেকে ঐ দেশে কুরবানী করে তাহলে বাংলাদেশে কুরবানীর সময় হওয়ার পরই সেটি করা সমীচিন হবে। অবশ্য ঐ দেশে কুরবানীর সময় হয়ে যাওয়ার পরও যদি তারা সেখানে আপনার কুরবানী আদায় করে দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে। কেননা কুরবানী আদায়ের জন্য পশু যেখানে যবাই করা হবে সেখানকার সময় মুখ্য। পশু যবাইকারীর স্থানে কুরবানীর সময় হয়ে গেলেই কুরবানী করা সহীহ হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩/৩৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮; ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/৪০
*****
প্রশ্ন:
আমাদের পার্শ্ববর্তী সমাজের কয়েকজন দ্বীনদার লোকের সাথে আমি শরিকে কুরবানী করে থাকি। আমাদের ঈদগাহে ঈদের নামায একটু বিলম্বে হয়। পাশের সমাজে সকাল সাতটার দিকেই হয়ে যায়। আমার শরিকরা তাদের সমাজে ঈদের জামাত হওয়ার পরপরই আমাদের কুরবানীর পশুটি যবাই করে ফেলে। তখনো আমাদের ঈদগাহে ঈদের নামায অনুষ্ঠিত হয়নি। জানার বিষয় হল, আমি ঈদের নামায পড়ার আগে তারা আমার কুরবানী করে ফেলার কারণে কোনো অসুবিধা হয়েছে কি? এক্ষেত্রে আমার কুরবানী কি আদায় হয়েছে?

উত্তর:
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কুরবানী আদায় হয়ে গেছে। কেননা এক এলাকার কোনো এক স্থানে ঈদের নামায হয়ে গেলে ঐ এলাকাবাসী সকলের জন্য কুরবানী করা সহীহ হয়ে যায়। তাই যে ব্যক্তি পরবর্তী জামাতে নামায পড়বে তার জন্যও কুরবানী করা সহীহ।
-কিতাবুল আছল ৫/৪০৫; শরহু মুখতাছারিত তহাবী ৭/৩৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১১; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৫৯৭

*****

২০৭১ . প্রশ্ন:
আমাদের এলাকার মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত সাড়ে সাতটায় শুরু হয়েছে। আর মাঠে শুরু হয়েছে আটটায়। যারা ঈদগাহে নামায পড়েছেন তারা প্রায় সকলেই মাঠের জামাত শেষে কুরবানী করেছেন। কিন্তু দু চার জনের কুরবানী এলাকার মসজিদের জামাতের পর তাদের ছেলে ও আত্মীয়দের পরামর্শে মাঠের জামাত শেষ হওয়ার আগেই জবাই করা হয়েছে। এখন অনেকেই বলছে, যেহেতু কুরবানীদাতাদের নামাযের আগে জবাই হয়েছে তাই তাদের কুরবানী আদায় হয়নি। এভাবে কিছু শরীকানা কুরবানী ঈদগাহে নামায আদায়কারী শরীকের নামায শেষ হওয়ার আগেই মসজিদের জামাতের পর জবাই করা হয়েছে।

উত্তর:
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সকলের কুরবানী সহীহ হয়েছে। কুরবানীদাতা ঈদের নামায না পড়ে থাকলেও এলাকার যেকোনো স্থানে ঈদের জামাত হয়ে গেলেই কুরবানীর পশু জবাই করা যায়। তবে ঈদের নামায পড়েই কুরবানী করা উত্তম।
মাবসূত, সারাখসী ১২/১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১১; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৮; ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/৩৯

*****

কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই করব
মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে।
*****
৪৬১৮. প্রশ্ন
আমার বড় ভাই স্ত্রীসহ কানাডা থাকেন। এবছর কুরবানী ঈদের আগে কিছু টাকা পাঠিয়ে আমাকে তাদের দু’জনের পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী করতে বলেছিলেন। আমি ঐ টাকা দিয়ে দু’টি খাসি কিনে তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করে দিয়েছি। তবে খাসি কেনার সময় এবং পরে যবাইয়ের সময় কোনটা কার জন্য তা নির্দিষ্ট করিনি। গ্রামের এক ব্যক্তি বলছে, এভাবে নির্দিষ্ট না করার কারণে তাদের কারো কুরবানী আদায় হয়নি। সম্মানিত মুফতী সাহেবের কাছে ঐ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দুজনের পক্ষ থেকে যেহেতু দুটি খাসি কুরবানী করা হয়েছে তাই উভয়ের কুরবানী সহীহ হয়ে গেছে। কেননা এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা না হলেও প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করে খাসি কুরবানী হয়েছে। ‘নির্দিষ্ট না করায় কুরবানী সহীহ হয়নি’ প্রশ্নের এ কথা ঠিক নয়। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকের কুরবানীর পশু নির্দিষ্ট করে নেওয়াই উত্তম ছিল।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৫৫
*****
৩৩১৮. প্রশ্ন
গত বছর আমি হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। তখন কুরবানীর জন্য টাকা ব্যাংকে দিয়ে দিই। পরে আমার এক সাথীকে বলতে শুনেছি, ব্যাংকের মাধ্যমে কুরবানী করলে নাকি কুরবানী সহীহ হয় না। কারণ ব্যাংককে কুরবানী করার জন্য যতজন হাজ্বী টাকা দেয় ততটা কুরবানী তো করা হয় তবে পশু কোনটা কার জন্য তা নির্দিষ্ট করা হয় না। আর নির্দিষ্ট না করার কারণে তাদের কুরবানী সহীহ হয় না। তাই ব্যাংকের মাধ্যমে কুরবানী করা যাবে না।

উত্তর
প্রশ্নোক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কুরবানী সহীহ হওয়ার জন্য প্রত্যেকের পশু নির্দিষ্ট করা জরুরি নয়। বরং যতজন হাজ্বী টাকা জমা করবে ততটা পশু যবাই করলেই প্রত্যেকের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। সুতরাং হাজ্বীদের জন্য সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ব্যাংকের মাধ্যমে কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য যারা ব্যাংকের মাধ্যমে দমে শোকর আদায় করবে তারা নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্ব করে হলক করবে যেন হলক কুরবানীর পর হয়।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৫৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৮০
*****
৩৭৩০. প্রশ্ন
আমার এক ভাই সৌদী আরব থাকে। গত কুরবানীর সময় সে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। আমরা আমাদের কুরবানী প্রথম দিনেই করে ফেলি। কিন্তু তার কুরবানীটা করেছি তৃতীয় দিনে। প্রশ্ন হল, আমাদের তৃতীয় দিনে তো সৌদী আরবে কুরবানীর সময় ছিল না। এ অবস্থায় আমার ভাইয়ের কুরবানী আদায় হয়েছে কি?

উত্তর
যেখানে কুরবানী দেওয়া হয় মূলত ঐ স্থানের সময়ই ধর্তব্য হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেহেতু কুরবানীর সময়েই হয়েছে তাই ঐ কুরবানী সহীহ হয়েছে। অবশ্য যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার ওখানেও কুরবানীর সময় থাকে- এটা লক্ষ রেখে কুরবানী করা ভালো।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬; ফাতাওয়া শরইয়্যাহ ১১/১৫৯

*****

৩২৫৪. প্রশ্ন
আমি কুমিল্লায় থাকি। গত বছর কুরবানীর জন্য একটি খাসী ক্রয় করি। ঈদের দিন বাড়িতে যাওয়ার প্রোগ্রাম থাকায় ফজরের পরপরই তা যবাই করে ফেলি তখনো কোথাও ঈদের নামায হয়নি। সপ্তাহখানেক পর জনৈক ব্যক্তি আমাকে বললেন আমার কুরবানী সহীহ হয়নি। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত কুরবানী সহীহ হয়েছে কি না? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী? দয়া করে বিস্তারিত দলিলপ্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর
ঐ ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। আপনার উক্ত কুরবানী আদায় হয়নি। কেননা এলাকার কোথাও ঈদের নামায হওয়ার আগে কুরবানী করলে তা আদায় হয় না। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের আগে কুরবানীর পশু যবাই করবে সেটা তার নিজের জন্য হবে (কুরবানী হবে না।) আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পর কুরবানী করবে তার কুরবানী আদায় হবে এবং সে মুসলমানদের পথ অনুসরণ করেছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫০৩১

হযরত বারা’ রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈদের দিন আমরা
কপি পোস্ট।

20/04/2025

তারকীব تركيب খুব বেশি কঠিন বিষয় নয়,
মাত্র ৩৫টি সূত্র আয়ত্ত করতে পারলে শিক্ষার্থীদের তারকীবভীতি দূর হবে, ইনশাআল্লাহ।
---------------------------------------------------
লেখক ও গবেষক
মুফতি শহিদুল ইসলাম মাসউদ
খতিব
সেনপাড়া জামে মসজিদ মিরপুর ১০ ঢাকা
শিক্ষা সচিব
বাইতুল আমান মসজিদ মাদরাসা কমপ্লেক্স কাজীপাড়া মিরপুর ১০ ঢাকা।

১)مُسْنَد এর সাথে مُسْنَدُ إلَيْهِ আসা আবশ্যক :
إسْنَاد অর্থ সংযুক্ত করা, সম্পর্ক করা।
যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ، نَصَرَ زَيْدٌ
(যায়েদ সাহায্য করেছে, যায়েদ দন্ডায়মান)।
বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে مُسْنَدُ إلَيْهِএবং যাহা বলা হয় তাকে مُسْنَد বলে।
جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ এর মধ্যে ফে‘লকে مُسْنَدএবং
ফায়েলকে مُسْنَدُ إلَيْهِবলে।
যেমন: نَصَرَ زَيْدٌ(যায়েদ সাহায্য করেছে)।
جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ এর মধ্যে খবরকে مُسْنَدএবং
মুবতাদাকে مُسْنَدُ إلَيْهِবলে। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ।

২) جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةএর সাথে فِعْلٌএবং فَاعِلٌআসা আবশ্যক:
 যে বাক্য إسم দ্বারা শুরু তাকে جملة اسمية এবং
যেটি فعل দ্বারা শুরু তাকে جملة فعلية বলা হয়।
 কাজটিفعل , কাজটি যিনি করেন فاعل এবং
কাজটি যার উপর পতিত হয় তাকে مفعول বলে।
যেমন: نَصَرَ زَيْدٌ خَالِدًا
 جــمـلــة فــعـلــيــة যাহা ‘ফেল-ফায়েল” অর্থাৎ একটি ইসিম এবং একটি ফেল দ্বারা গঠিত হয়।
 جملة فعلية এর মধ্যে ফে‘লকে مسندএবং
ফায়েলকে مسند إليهবলে।
فِعْلُ + فَاعِلُ = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
যেমন نَصَرَ زَيْدٌ، جَاءَ عُمَرُ، قَرَأتْ فَاطِمَةُ، صَلَّي عَلِيٌّ
অর্থ- যায়েদ সাহায্য করেছে, ওমর এসছে, ফাতেমা পড়েছে, আলী নামাজ পড়েছে, ওয়ালিদ বসেছে।

৩) جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌএর সাথে একাধিক إسمআসা আবশ্যক:
 যে বাক্যটি إسم দ্বারা শুরু হয় তাকে جملة اسمية বলা হয়।
 এমন বাক্যে فعل এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না।
 جـملـة إسـمـيـة যাহা ‘মুবতাদা এবং খবর”
অর্থাৎ দুইটি ইসিম দ্বারা গঠিত হয়।
যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (যায়েদ দন্ডায়মান)।

৪) مَـوْصُـــوْفএর সাথে صِــفَــةআসা আবশ্যক:
 বাক্যের মধ্যে দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ বুঝানোকে صفتবলে। যেমন: زَيْدُنِ الْعَالِمُ، مَكَّةُ الْمُكَرَّمَةُ অর্থ- যায়েদ একজন জ্ঞানী, পবিত্র মক্কা।
 আর যার দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ বুঝানো হয় তাকে موصوفবলে।
 صفت-موصوف এর জন্য ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি মিল থাকা আবশ্যক (বচন, লিঙ্গ, ইরাব, পরিচিতি)।
১. مُذَكَّر، مُؤَنَّث ২. وَاحِد، تَـثْنِيَّة، جَمَع
৩. مَعْرِفَة، نَكِرَة ৪. رَفَع، نَصَب، جَر.
 معرفة এমন একটি ইসম যাহা কোন নির্দিষ্ট ইসিমকে বুঝানোর জন্য গঠন করা হইয়াছে।
 মা‘রেফা সাত প্রকার :
১. عَلَمُ ২. مُضْمَرَات ৩. مَوْصُوْلَات ৪. اِشَارَات
৫. مُعَرَّف بِالَّلامِ ৬. الاِضَافَةُ ৭. مُنَادَي
 معرفة না হওয়াটাই نكرةএর আলামত, আর নাকিরা কখনো মুবতাদা হতে পারে না। যেমন: رَجُـلٌ عَالِـمٌ
فِعْلُ + فَاعِلُ (مَوْصُوفْ+صِفَةٌ)=جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
যেমন: جَاءَ رَجُلٌ مَرِيْضٌ، ذَهَبَ طَالِبٌ زَكِيٌّ، رايت رجلا فقيرا
অর্থ- একজন অসুস্থ লোক এসেছে, একজন মেধাবী ছাত্র গেলো, আমি একজন দরিদ্র মানুষকে দেখেছি।

৫) حَـرْفِ جَــارএর সাথে مَجْرُور আসা আবশ্যক:
 حرف جر অর্থ যের প্রদানকারী হরফ। এ ধরনের তারকীবকে جر ও مجرور বলা হয়।
 مضاف اليه ঐ إسم কে বলা হয়, যাহার সাথে حرف جار দ্বারা কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে সম্বন্ধ করা হয়।
 সেই হরফে জারটি প্রকাশ্য হতে পারে।
যেমন- مَرَرْتُ بِزَيْدٍ
(আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)।
 অথবা حرف جر উহ্য হবে।
যেমন- غلام زيدযাহা মূলে ছিল- غلام لزيد
(যায়েদের গোলাম)।
 حُرُوْفِ جَـــر যে ইসিমের পূর্বে সে ইসিমকে মাজরুর বলে।
 حُرُوْفِ جَـــر (ইসিমকে যের প্রদানকারী হরফ) ১৭টি:
بَ، تَ، كَ، لَامْ، واو، مُــنْـذُ، مُــذْ، خَـلَا، رُبَّ، حَـاشَا، مِنْ، عَــدَا، فـِيْ، عَــنْ، عَــليْ، حَــتّٰي، إلٰـيْ.

৬) نَـعَـتএর সাথে مَـنْـعُـوتআসা আবশ্যক :
 صفت-موصوف কে نعت- منعوتও বলা হয়। نعتঅর্থ গুণ, আর منعوتঅর্থ গুণান্বিত।
 نعت বিশেষণ: উহা ঐ تابعযাহা একক অর্থ বুঝায়, যাহা متبوع এবং متبوعএর সংশ্লিষ্ট জিনিসের মধ্যে হইবে। আরنعت কে صفتও বলা হয়।
 প্রথম প্রকার نعتএর জন্য تابع এবং متبوعএর মধ্যে দশটির মধ্যে ৪টি বিষয়ে সমতা থাকা শর্ত।
 যেমন- هَذَا قَلَمٌ جَدِيْدٌ (ইহা একটি নতুন কলম)।

৭) مُــضَــافএর সাথে مُــضَــافُ إلَــيْــهِ আসা আবশ্যক :
 বাক্যে দুইটি বস্তুর সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করাকে إِضَافَةবলে।
 যে বস্তুর সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করা হয় সে বস্তুকে مُضَافবলে।
 বস্তুর সাথে যার সম্পর্ক প্রকাশ করা হয় তাকে مُضَافُ إلَيْهِবলে।
 বাংলা বাক্যে শব্দের শেষে “র” থাকা إضافةএর আলামত, (করিমের বই, আল্লাহর রাসুল)।
 “মুযাফ” তিন বিষয় থেকে সবসময় মুক্ত : ক) মুযাফের শুরুতে আলিফ লাম হওয়া থেকে মুক্ত,
খ) দ্বিবচন এবং বহুবচনের নূন থেকে মুক্ত, গ) তানভীন (দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ) থেকে মুক্ত।
 চার অবস্থায় আরবী শব্দে তানভীন দাখিল হয় না (ফেল, ইযাফত, গায়রে মুনসারিফ, আলিফ লাম)।
مُبْتَدَأ + خَبَرْ(مُضَافْ+ مُضَافُ اِلَيْهِ)= جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ
যেমন- مُحَمَّدٌ رَسُولُ الله اَلْقُرْانُ كِتَابُ اللهِ،
অর্থ- কুরআন আল্লাহর কিতাব,
মোহাম্মদ (স:) আল্লাহর রাসুল।

৮) مُــبْــتَــدَإএর সাথে خَــبَــرআসা আবশ্যক:
 মুবতাদা ও খবর: বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে مبتدأ এবং যাহা বলা হয় তাকে خبرবলে।
 যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌবাক্যে زَيْدٌ মুবতাদা, আর قَائِمٌ খবর।
 মুবতাদা হওয়ার জন্য শর্ত ৭টি :
১. إسْمُ , ২.رَفْع , ৩. إبْتِدَأ, ৪. عَامِلُ مَعْنَوِي ,
৫.مُسْنَدُ إلْيْهِ , ৬.مَعْرِفَةْ ৭.نَكِرَة تَأخِيْر
 বি.দ্র: ছয়টি শর্তের মধ্যে যদি যেকোন একটি না পাওয়া যায় তাহলে মুবতাদা হবে না।
مُبْتَدَأ + خَبَرْ= جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ
যেমন- اَلْإسْلَامُ حَقٌّ، اَلْكُفْرُ بَاطِلٌ، اللهُ خَالق، زَيْدٌ عَالِمٌ
অর্থ- ইসলাম সত্য, কুফর বাতিল, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকর্তা, ইহা একটি কলম, যায়েদ জ্ঞানী।

৯)تَــفْــسِــيْــر এর সাথে مُــفَــسَّــر আসা আবশ্যক:
 যেকোন শব্দের ব্যখ্যা করাকে تَـفْسِيرবলে,
আর যে শব্দের ব্যখ্যা করা হয় তাকে مُــفَــسَّــرবলে।
 حرفُ التفسير (ব্যাখ্যাদানকারী হরফ) ২টি: أيْ- أنْ

১০) بَــيَــانএর সাথে مُــبَــيَّــن আসা আবশ্যক:
 স্পষ্ট করাকে بَيَـانবলে,
আর যে শব্দকে স্পষ্ট করা হয় তাকে مُبينবলে।
 عطف بيان কোন বিশেষণ নয়, বরং এমন একটি تابع (অনুগামী) যাহা দ্বারা متبوع এর অর্থ স্পষ্ট হয়।
 কোন বস্তুর দুইটি নাম থাকলে অধিকতর প্রসিদ্ধ নামটি আতফে বয়ান হয়।
 যেমন : نَصَرَ زَيْدٌاَخُوْكَ
অর্থ- তোমার ভাই যায়েদ সাহায্য করেছে।

১১)فِــعْــلِ لَازِم এর সাথে فَاعِــل আসা আবশ্যক:
 فِعْلُ لَازِم (অকর্মক ক্রিয়া) : যাহা শুধু ফেল+ফায়েল দ্বারাই অর্থ প্রকাশ করতে পারে মাফউল এর মুখাপেক্ষী হয়না এবং যাহাمتعدي এর বিপরীত।
যেমন- قَعَدَ خَالِدٌ، قَامَ زَيْدٌ
অর্থ- খালেদ বসেছে, যায়েদ দাঁড়িয়েছে।
 সকল কাজفعل , কাজটি যিনি করেন فاعل এবং কাজটি যার উপর পতিত হয় তাকে مفعول বলে।
 বাক্যে সাধারণত প্রথমেفعل , তার পর فاعل এবং সর্বশেষمفعول বসে।
যেমন: نَصَرَ زَيْدٌ خَالِدًا
অর্থ- যায়েদ খালেদকে সাহায্য করেছে।

১২)فعل متعدي এর সাথে فَاعِــلْ + مَــفْــعُــولِ بِــهِ আসা আবশ্যক:
 فعل متعدي : যাহা শুধু ফেল ফায়েল দ্বারা অর্থ প্রকাশ করতে পারেনা, বরং মাফউল এর মুখাপেক্ষী হয়।
 যার অর্থ বুঝা কর্তা ছাড়া আরও কোন সংশ্লিষ্ট বস্তুর উপর নির্ভর করে।
যেমন: نَصَرَ زَيْدٌ خَالِدًا
অর্থ- যায়েদ খালেদকে সাহায্য করেছে।
فِعْلُ + فَاعِلُ + مَفْعُوْلُ به = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
যেমন: مَسَحَ خَالِدٌ الْوَجْهَ- نَصَرَ عُمَرُ عَلِيًّا- قرأ زيد كتابا
অর্থ- খালেদ চেহারা মাসেহ করলো, ওমর আলীকে সাহায্য করেছে, যায়েদ বই পড়লো ।

১৩)فِـعْــلِ مَـجْــهُــوْل এর সাথে نَائِــبُ فَاعِــلআসা আবশ্যক:
 কর্তা উল্লেখ থাকলে কর্তৃবাচ্য (مَعْرُوف),
কর্তা উল্লেখ না থাকলে কর্মবাচ্য (مَجْهُول) ।
যেমন: نُصِرَ زَيْدٌ
 ماضي مجهول এবংمضارع مجهول -এর ক্ষেত্রে প্রথম অক্ষর পেশযুক্ত হবে। যেমন: فُعِلَ- يُفْعَلُ
 অন্যথায় معروف হবে। যেমন: فَعَلَ- يَفْعَلُ

১৪)حَــال এর পূর্বে ذُوالْـحَــالআসা আবশ্যক:
 حال হাল এমন একটি শব্দ যাহা فاعل কিংবা مفعول অথবা উভয়েরই অবস্থা বর্ণনা করে।
যেমন- جَاءزَيْدٌرَاكِبًا
অর্থ-যায়েদ আরোহী অবস্থায় ফিরেছে।
 حال সব সময় نكرة এবং ذوالحال অধিকাংশ সময় معرفة হয়ে থাকে। যেমন- جَاءَنِيْ رَجُلٌ رَاكِبًا
فِعْلُ + فَاعِلُ +ذُوْالْحَالْ+حَالْ= جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
যেমন- وَجَدْتُ الْاُسْتَاذَ جَالِسًا- جَاءَ خَالِدٌ رَاكِبًا
অর্থ- খালেদ আনন্দিত অবস্থায় এসেছে, শিক্ষককে বসা অবস্থায় পেয়েছি, খালেদ আরোহী অবস্থায় ফিরেছে।

১৫)تَـمِــييـز এর সাথে مُــمَـيـيَّــز আসা আবশ্যক:
 تمييز অর্থ- সন্দেহ নিরসনকারী পদ।
আর مميز অর্থ- যার সন্দেহ দূর করা হয়।
 تمييز এমন একটি نكرة যাহা (সংখ্যা, পরিমাণ, ওজন, দূরত্ব) ইত্যাদি অস্পষ্ট পরিমাণের উল্লেখের পর বর্ণনা করা হয় এবং সেই نكرة শব্দটি ঐ সন্দেহকে দূরীভূত করে। যেমন-
عِنْدِيْ عِشْرُوْنَ دِرْهَمًا- هَذَا خَاتَمٌ حَدِيْدًا
অর্থ- আমার কাছে দশ দিরহাম আছে,
ইহা একটি স্বর্ণের আংটি।

১৬)اداة إسْــتِــثْــنَــاء এর সাথে مُــسْــتَــثْــنَــي + مُــسْــتَــثْــنَـي مِـنْـهُআসা আবশ্যক:
 مُسْتَثْنَي পৃথককৃত, مُسْتَثْنَي منه যাহা থেকে পৃথক করা হয়, حروف إستثناءপৃথককারী হরফসমূহ।
 مُسْتَثْنَي مُتَّصِل ঐ মুসতাছনাকে বলা হয় যাহা الا এবং তাহার সমগোষ্ঠীর (خَلَا، عَدَا، حَاشَا، مَاخَلا، مَاعَدَا، لَيْسَ) দ্বারা সংখ্যা হতে বের করে দেয়া হয়।
যেমন- جَاءَنِيْ الْقَوْمُ اِلَّا زَيْدًاঅর্থ- যায়েদ ছাড়া গোত্রের সবাই আমার কাছে এসেছে।
 مُسْتَثْنَي مُنْقَطِع ঐ মুসতাছনাকে বলে যাহা الا এবং তাহার সমগোষ্ঠীর পরে বর্ণনা করা হয় বটে কিন্তু তাহা مُسْتَثْنَي منه এর অন্তর্ভূক্ত নয় বিধায় উহাকে مُسْتَثْنَي منهথেকে বের করা হয় না।
 যেমন- جَاءَنِيْ الْقَوْمُ اِلَّا حِمَارًا
অর্থ- গাধা ছাড়া গোত্রের সবাই আমার কাছে এসেছে।
فِعْل+ مُسْتَـثْـنَي مِنْهُ+ حَرْفُ إسْتِـثْـنَاءَ+مُسْتَـثْـنَي = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ (جَاءَ الْقَوْمُ خَلَا زَيْدًا) جَاءَنِيْ الْقَوْمُ خَلَا زَيْدًا
অর্থ- যায়েদ ছাড়া গোত্রের সবাই আমার কাছে এসেছে।

১৭)بَــدَل এর সাথে مُــبْــدَل مِــنْــهُ আসা আবশ্যক:
 بدل অর্থ পরিবর্তন করা, আর যে শব্দ থেকে পরিবর্তন করা হয় তাকেمبدل منه বলে।
 بدل ঐتابع যে উহার পূর্ববর্তী শব্দকে যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাকেও সেই বস্তুর সাথে সম্বন্ধ করা হয় এবং সেই সম্বন্ধের দ্বারা প্রকৃত পক্ষে সেই تابع টি মাকছুদ বা উদ্দেশ্য,متبوع মাকছুদ নহে।
 যেমন : جَاءزَيْدٌ خَالِدٌ অর্থ- যায়েদ এসেছে, যায়েদ।
فِعْلُ + فَاعِلُ (مُبْدَلُ مِنْهُ+ بَدَل)=جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
(اِنْتَصَرَ الْقَائِدُ مُوْسَي- اُحِبُّ الْخَلِيْفَةَ الْمَأمُونْ)
অর্থ- সেনাসদস্য মুসাকে সাহায্য করলো,
আমি খলিফা মামুনকে ভালোবাসি।

১৮) تَاكِيْدএর সাথে مُؤكَّد আসা আবশ্যক :
 تاكيد দৃঢ়তা সৃষ্টিকারী পদ:
যে শব্দকে তাকীদ করা হয় তাকেمؤكد বলে
 এমন একটি تابعযাহা দ্বারা متبوعএর সহিত সম্বন্ধযুক্ত বস্তুর সম্পর্ক দৃঢ় করা কিংবা متبوع এর একক সংখ্যাগুলি প্রত্যেকটি متبوعএর অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
 تاكيد দুই প্রকার : (১) تاكيدِ لَفْظِي (২) تاكيدِ مَعْنَوِي
 تاكيد لَفْظِي প্রথম শব্দটিকে বার বার উল্লেখ করে যে تاكيد করা হয়। যেমন- جَاءَ زَيْدٌ زَيْدٌ অর্থ- যায়েদ এসেছে, যায়েদ।
 تاكيد مَعْنَوِيনয়টি শব্দ দ্বারা হয়ে থাকে :
نَفْسٌ، عَيْنٌ، كِلَا، كِلْتَا، كُلٌّ، اَجْمَعُ، اَكْتَعُ، اَبْتَعُ، اَبْصَعُ

১৯)عَــامِــل এর সাথে مَــعْــمُــول আসা আবশ্যক :
 عَامِل-এর পরিচয়: যেসব শব্দের কারণে إسْمُ الْمُعْرَبِ এর শেষে اِعْرَاب (তথা যবর, যের, পেশ অথবা ওয়াও, আলিফ, ইয়া) এর পরিবর্তন সাধিত হয় তাকেعَامِل বলে।
 عَامِل তিন প্রকার। যথা- رَافِعٌ، نَاصِبٌ، جَارٌّ
 যে আমেলের কারণে ইসম এর শেষে عَلَامَةُ الرَّفْعِ যুক্ত হয়, তাকে عَامِلٌ رَافِعٌ বলে।
 যেমন: قَامَ زَيْدٌ অর্থ- যায়েদ দাঁড়িয়েছে। বাক্যে قَامَ ফেলটি হলো عَامِلٌ رَافِعٌ
 مَعْمُول : আর আমেল যে শব্দের উপর আমল করে তাকে مَعْمُول বলে।

২০)فِــعْــلِ مَــدَح এর সাথে فَاعِــلِ مَدَح + مَـخْــصُــوْص بِالْـمَــدَحِআসা আবশ্যক:
 اَفْعَالِ مَدْحُ (প্রশংসাজ্ঞাপক ক্রিয়া) ২টি: نِعْمَ – حَبَّذَا
 যার প্রশংসা করা হয় তাকে فَاعِلِ مَدَح এবং যে শব্দ দ্বারা প্রশংসা করা হয় তাকে مَخْصُوصْ بِالْمَدَح বলে। এগুলো فاعل ও مَخْصُوص بِالْمَدَحকে পেশ দেয়।
 যেমন: نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ
অর্থ- যায়েদ একজন চমৎকার লোক।

২১)فِــعْــلِ ذَم এর সাথে فَاعِــلِ ذَم + مَـخْــصُــوْص بِالذَم আসা আবশ্যক:
 اَفْعَالِ ذم (নিন্দাজ্ঞাপক ক্রিয়া) ২টি: بِئْسَ، سَاءَ
 যার নিন্দা করা হয় তাকে فَاعِلِ ذَم এবং যে শব্দ দ্বারা নিন্দা করা হয় তাকে مَخْصُوص بِالذَّم বলে।
 এগুলো فَاعِل ও مَخْصُوص بِالذَّمকে পেশ দেয়। যেমন: بئس الرَّجُلُ زَيْدٌঅর্থ- যায়েদ খারাপ লোক।

২২)عَــدَد এর সাথে مَــعْــدُود আসা আবশ্যক:
 اسماء العدد ঐ ইসম যাহা বস্তুসমূহের একক সংখ্যাগুলির পরিমাণ বুঝানোর জন্য গঠন করা হয়েছে।
 সংখ্যার মূল ১২টি শব্দ।
এক হইতে দশ পর্যন্ত এবং مائةও الفশব্দদ্বয়।
 আরবী সংখ্যাবাচক সকল বিশেষ্যকে أسْمَاءُ الْعَدَد বলে।
 আরবী প্রতিটি সংখ্যার عَدَدএবং مَعْدُودকে নির্ধারিত কিছু নিয়ম অনুসরন করতে হয়।

২৩) ظَــرْفٌএর সাথে فَــاعِــلْ ظَـرْف আসা আবশ্যক:
 مَفْعُوْلُ فِيْهِ ঐ স্থান বা কালের নাম যার মধ্যে কর্তার যে কর্মটি ঘটিয়া থাকে তাকেمفعول فيه বলে এবং ইহাকেظرف (পাত্র)ও বলা হয়।
যরফ ظرف দুই ভাগে বিভক্ত : ظَرْفِ زَمَان، ظَرْفِ مَكَان
 ظرف زَمَان وَمَكَان আবার দুই ভাগে বিভক্ত :مُبْهَم، مَحْدُود (অসীম এবং সীমিত)
 ظَرْفِ مَبْنِيَّة (জুরুফে মাবনিয়্যাহ) :
জুরুফে মাবনিয়্যাহ কয়েক ভাগে বিভক্ত।
 প্রথম প্রকার مُضَافُ اِلَيْهِকে বিলুপ্ত করে,
উহাকে اِضَافَتথেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
 ظَرْفِ مَكَان : فَوْقُ، قُدَّامُ، تَحْتُ، حَيْثُ
 ظَرْفِ زَمَان: اِذْ، اَيَّانَ، قَطُّ، اِذَا، اَمْسِ، عَوْضُ، مَتَي، مُذْ، قَبْلُ، كَيْفَ، مُنْذُ، بَعْدُ
 فِعْلُ + فَاعِلُ + مَفْعُوْلُ فيه = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ (صَامَ عُمَرُ شَهْرًا، صَلَّي عَلِيٌّ لَيْلًا، سافر خالد يوم الجمعة)
 فِعْلُ + فَاعِلُ + (مُضَافْ+ مُضَافُ اِلَيْهِ) مَفْعُوْلُ فِيْهِ = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
(مَاتَ اَحْمَدُ يَوْمَ الْخَمِيْسِ، اَنْزَلَ اللهُ الْقُرْانَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، صُمْتُ شَهْرًا، قُمْتُ لَيْلًا)
অর্থ- আহমাদ বৃহস্পতিবার মারা গেছে, আল্লাহ তায়ালা কদরের রাতে কুরআন নাযিল করেছেন,
আমি মাসব্যাপী রোযা রেখেছি, আমি রাতে দাঁড়িয়ে নামায পড়েছি।

২৪) مُـشَـبَّـهْ بِالْــفِــعْــلِএর সাথে اِسْمٌ এবং خَـبــرٌআসা আবশ্যক : حُرُوْفُ مُشَبَّه بِالْفِعْلِ ৬টি :
যেমন- إنَّ، أنَّ، كَانَّ، لَكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلَّ
এ হরফগুলি মোবতাদা ও খবরের পূর্বে এসে মুবতাদাকে নছব এবং খবরকে রফা‘ প্রদান করে। এদের মুবতাদাকে إسْمُ إنَّ এবং খবরকে خَبْرُ إنَّবলা হয়।
حَرْفِ مُشَبَّهْ بِالْفِعْلِ+ اسْمِ اِنَّ+ خَبَرِ إِنَّ= جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ
যেমন- إنَّ زَيْدًا قَائِمٌ- لَعَلَّ خَالِدًا غَالِب- لكن اللهَ عَلِيْم
অর্থ- নিশ্চয় যায়েদ দাঁড়ানো, নিশ্চয় খালেদ অনুপস্থিত, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞানী

২৫) شَــرْطٌএর সাথে جَــزَاءএবং جَــوَابُ الــشَّــرْطِ আবশ্যক :
 حُرُوْفُ الـــشَّـــرْطِ(শর্তবোধক হরফ) ৩টি : إنْ، لَوْ، أمَّا শর্তের পরের প্রতিদানকে جَــزَاءْ বলে।
 حُرُوْفُ الـــشَّـــرْطِ শর্তের হরফ তিনটি হরফ বাক্যের প্রারম্ভে আসে।
 প্রত্যেকটি দুইটি বাক্যের উপর দাখেল হয়, إسْمِيَّةٌহউক অথবা فِعْلِيَّةٌ অথবা ভিন্ন ভিন্ন হউক।
 إن ভবিষ্যতকালের জন্য আসে, যদিও مَاضِي এর পূর্বে প্রবেশ করে।
 অর্থাৎ, তখন উহাকেإسْـتِـفْهَامْ এর অর্থে পরিবর্তন করা হয়।
 যেমন- إنْ زُرْتَـنِي اُكْرِمْكَ অর্থ- যদি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমাকে সম্মান করবো।
 اِنْ تُكْرِمْنِيْ اُكْرِمْكَ- اِنْ تَذْهَبْ اَذْهَبْ- مَنْ يَّعْمَلِ الْخَيْرَ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ= جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ شَرْطِيَّةٌ /
 حَرْفِ شَرطْ+ فِعْلُ+ فَاعِلُ+ مَفْعُوْلُ بِهِ = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ شَرْطٌ (مَنْ يَّعْمَلِ الْخَيْرَ)
 فِعْلُ + فَاعِلُ + مَفْعُوْلُ بِهِ = جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ جَزَاءُ (يَدْخُلُ الْجَنَّةَ)

২৬)أفْعَالُ مُقَارَبَة এর সাথে اِسْمٌ এবং خَــبــرٌআসা আবশ্যক:
 أفْعَالُ مُقَارَبَة (নৈকট্যজ্ঞাপক ক্রিয়া) : ঐ ফে‘ল যা নিজের ফায়েলকে খবরের নিকটবর্তী হওয়া বুঝায়।
عَسَي، حَرَي، اِخْلَوْلَقَ، كَادَ، كَرُب، اَوْشَكَ

২৭) فِــعْــلِ نَاقِــصএর সাথে اِسْمٌ এবং خَبَـرٌআসা আবশ্যক:
 إسمُ كَانَ وَأخَوَاتِهَا (كَانَ ও তার সমগোষ্ঠীয় শব্দসমূহেরإسم ) : এসব فعل কে أفْعَالُ نَاقِصَةُ বলে।
 এ সকল فعل মুবতাদা ও খবর এর পূর্বে এসে مبتداء কে পেশ দেয় এবং উহাকে إسم كانবলা হয়, আর খবরকে নছব দেয়, উহাকে خبر كان বলা হয়। كان আসার পরে إسم كان মুছনাদ ইলাহি হয়।
 যেমন: كانَ زيدٌ قائمًا اَفْعَالِ نَاقِصَةُ ১৩টি :
كَانَ، صَارَ، اَصْبَحْ، اَمْسَي، ظَلَّ، بَاتَ، مَادَامَ، اَضْحَي، لَيْسَ، مَازَالَ، مَابَرِحَ، مَافَتَي، مَااَنْفَكَ
فِعْلُ نَاقِصْ+إسْمُ اَصْبَحَ+خَبَرِاَصْبَحَ =جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ- (اَصْبَحَ سَعِيْدٌ غَنِيًّا- كَانَ اللهُ عَلِيْمًا- صار زيد غنيا)
অর্থ- সাঈদ ধনী হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানী,
যায়েদ ধনী হয়েছে।

২৮) فِــعْــلِ قُــلُــوبএর সাথে একাধিক مَـفْـعُـول بهআসা আবশ্যক :
 যেই সমস্ত فعلঅন্তরের সাথে সম্পর্ক রাখে অথবা অন্তর থেকে ফায়দা দেয়
 اَفْعَالِ قُـلُوب ৭টি:
حَسِبْتُ– عَلِمْتُ– وَجَدْتُ– خِلْتُ– رَايْتُ– ظَنَنْتُ– زَعَمْتُ
 এগুলো একাধিক مَفْعُول কে যবর দেয়।
فِعْلُ قُلُوب+فَاعِل+ مَفْعُول+مَفْعُول= جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
যেমন : عَلِمْتُ زَيْدًا قَائِمًا
অর্থ- আমি জানলাম যে, যায়েদ দাঁড়ানো।

৩০) إسْـمُ إشَــارَةএর সাথে مُــشَــارٌ إِلَــيْــهِ আসা আবশ্যক:
 إسْم اِشَارَة ইঙ্গিতবাচক শব্দ : আর যার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয় তাকে مُشَارٌ اِلَيْهِ বলে
 إسْم اِشَارَة ঐ ইসম যাহা দ্বারা কোন বস্তুকে নির্দেশ করা হয় এবং এই ইঙ্গিতের পাঁচটি শব্দ ছয়টি অর্থের জন্য ব্যবহার হয়।إسْم اِشَارَة এর পরের শব্দ মারেফা হলেই কেবল مُشَارٌ اِلَيْهِ হবে, অন্যথায় খবর হবে।
 যেমন: هَذَا قَلَمٌ، هَذَا الْكِتَابُ الْجَمِيْلُ অর্থ- ইহা একটি কলম, ইহা একটি সুন্দর বই।
ذَا، ذَانَ، ذَيْن، اُوْلَاءِ، اُوْلِيْ، تَا، تِيْ، تَهْ، ذَهْ، ذَهِيْ، تَهِيْ، تَانِ، تَيْنِ، اُولَاءِ، اُوْلِي.
 কোন কোন সময় اسماء اشارةএর শুরুতে هاপ্রবেশ করে। যেমন-هَذَا ইহা একটি (পু:), هَذَانِ ইহা দুইটি (পু:), هَذِهِ ইহা একটি (স্ত্রী.)।

২৯) لَا لِـنَــفْي الجِــنْــسএর সাথে اِسْمٌ এবং خَــبْــرٌআসা আবশ্যক:
ঽ لَا لِنَــفِيِ الـجِــنْـسِ (জাতিবাচক নাসূচক): ইসিমকে যবর প্রদানকারী হরফ ১টি: لا যেমন: لَا رَجُلَ قَائِمٌ
 حَرْفِ نَفِيْ+ إسْمُ لَا+ (حَرْفُ جَارْ+ مَجْرُورْ، مُتَعَلَّقْ مَعْ شِبْهِ فِعْلٍ مُسْتَقَرٍّ)+خَبْرُلَا= لَا رَجُلَ فِيْ الدَّارِ
حَرْفِ لَائِي نَفِيْ لِلْجِنْسِ+ اِسْمِ لَا+ خَبَرِ لَا = جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ
(لَا طَالِبَ حَاضِرٌ- لَاتَاجِرَ غَائِبٌ)
অর্থ- ঘরে কোন পুরুষ নেই, কোন ছাত্র উপস্থিত নেই, কোন ব্যবসায়ী অনুপস্থিত নেই।

৩১)مَا এবং لَا এর সাথেاِسْمٌ এবং خَــبْــرٌ আসা আবশ্যক:
 حرفِ مُـشَــبَّـــهَـتَـــيْــنِ بِــلَيْسَ (لَيْسَ-এর সাথে সম্পর্কিত ما، لا): ইসিমকে পেশ প্রদানকারী হরফ ২টি: ما – لا
حَرْفِ مُشَبَّهْ بِلَيْسَ+ اِسْمِ لَا+ خَبَرِ لَا= جُمْلَةٌ إسْمِيَّةٌ (لَارَجُلٌ تَاجِرًا- مَا نَعِيْمٌ تِلْمِيْذًا
অর্থ- কোন ব্যবসায়ী পুরুষ নেই, নাঈম ছাত্র নয়।

৩২) مَــوْصُــوْل এর সাথে صِــلَــة আসা আবশ্যক:
 اِسْمُ مَوْصُول (সম্বন্ধবাচক ইসম): এমন একটি ইসম যা তার পরে ব্যবহৃত صله ব্যতীত বাক্যের পূর্ণ অংশ হতে পারে না। আরصله এমন একটি জুমলায়ে খবরিয়া হয়, যাহার মধ্যে موصولএর প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী একটি জমীর হওয়া আবশ্যক।
 اِسْمُ مَوْصُولএমন একটি ইসম যাহা তাহার পরে ব্যবহৃত صِلَهব্যতীত বাক্যের পূর্ণ অংশ হতে পারে না।
যেমন- إقْرَأ بإسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ অর্থ- পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
 বাংলা বাক্যে ইসমে মাওসুলের ব্যবহার- যে, যারা, যিনি, যাকে, যাদেরকে, যেটা, যেগুলো ইত্যাদি।
اَلَّذِيْ، اَلَّذَانِ، اَلَّذَيْنِ، اَلَّتِيْ، اَللَّتَانِ، اَللَّتَيْنِ، اَلَّذِيْنَ، اَلْاُوْلٰی، اَللَّاءِ، اَللَّائِیْ، اَللَّاتِيْ، اَللَّوَاتِيْ، مَا، مَنْ، اَيٌّ، اَيَّةٌ.
 مَا، مَنْ، اَيٌّ، اَيَّةٌ، ذُوْ একবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয়।

৩৩) عَــدْلএর সাথে مَــعْــدُول আসা আবশ্যক:
 عدل (পরিবর্তন): যে শব্দ নিজের রূপ বা আকৃতি থেকে পরিবর্তন হয়ে অন্য রূপ ধারণ করে।
 যেমন: عامر، زافر থেকে عمر، زفر

৩৪) حَـرْفِ عَــطْــفএর সাথে مَــعْــطُــوف + مَــعْــطُــوفُ عَــلَــيْــهِ আসা আবশ্যক:
 حُرُوْفُ عَطْف (দুই শব্দের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী হরফ) দশটি। যেমন- جَاءزَيْدٌ وَعَمْرٌ
واو، فاء، ثم، حتي، او، اما، ام، بل، لكن، لا
 معطوف টি معطوف عليهএর হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হয়।
 معطوف যদি কোন বস্তুর صفت বা خبرঅথবা صله কিংবা حال হয়. তাহলেمعطوف عليه ও তা হবে।
 عطف بالحروف (সংযোগকারী অব্যয়): এমন একটি تابعযার প্রতি ঐ বস্তুর সাথে সম্পর্ক করা হয়েছে- যার সম্পর্ক করা করা হয়েছে উহার متبوع এর সাথে। ইহাকে عَطْفُ النُّسُقِও বলা হয়।
فِعْلُ+مَعْطُوف عَلَيْهِ (مُضَاف+ مُضَافُ اِلَيْهِ)+مَعْطُوفْ(مُضَافْ+ مُضَافُ اِلَيْهِ)= جُمْلَةٌ فِعْلِيَّةٌ
رَوَي عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودْযেমন-
অর্থ- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।

৩৫) تَــابِــعএর সাথে مَــتْــبُــوعআসা আবশ্যক:
 تابع প্রত্যেক ঐ দ্বিতীয় শব্দকে বলা হয় যে শব্দের اعراب একই কারণে পূর্ববর্তী শব্দের اعراب এর মত হয়। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে একই اعراب হয় এবং উভয়ের মধ্যে ঐ اعرابহওয়ার কারণও অভিন্ন।
 تابع পাঁচ প্রকার : (১)اَلنَّعَتُ، (২) اَلْعَطْفُ بِالْحُرُوْفِ،
(৩) اَلتَّاكِيْدُ، (৪) اَلْبَدْلُ، (৫) عَطْفُ الْبَيَانِ

৩৬) حَـرْفُ نِــدَاءএর সাথে مُــنَــادَي + جَــوَابُ نِــدَاء আসা আবশ্যক:
 حُرُوْفِ النِّدَاءِ মুনাদাকে যবর প্রদানকারী হরফ ৫টি:يَــا، أيَـــا، هَيَا، أيْ، هَـمْــــزَةُ الـْمَـــفْـــتُـــوْحَــةِ
 منادي অর্থ আহুত : منادي এমন একটি ইসম যাহাকে কোন حرف نداء দ্বারা ডাকা হয়। সেই حرف نداء শব্দের মধ্যে উল্লেখ থাকতে হবে।
যেমন: يا زَيْدُ অর্থ- হে যায়েদ

কপি পোস্ট

Address

মোগরখাল
Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া, মাদানী নেসাব posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share