10/12/2025
রোকেয়া নামা - (পর্ব : ২)
নিজের জীবদ্দশায় ভারত-বাংলার মুসলিম নারীদের প্রথম ও সবচে বড় যে ক্ষতি বেগম রোকেয়া করেছেন, সেটি হল—তিনিই এ অঞ্চলের মানুষদের সর্বপ্রথম ইরতিদাদ বা ধর্মত্যাগের পথ দেখান। তার আগে সরাসরি এ জঘন্য কাজের আর কোন উদাহরণ সম্ভবত ভারতবাসী দেখেনি।
১৩১০ বঙ্গাব্দের বৈশাখ, ইংরেজিতে মে ১৯০৩। ওই সময় বেগম রোকেয়ার বয়স সর্বোচ্চ ২৩ অথবা ২৪। গিরিশচন্দ্র সেন সম্পাদিত ‘মহিলা’ নামের পত্রিকায় তিন ধাপে রোকেয়ার ‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধতে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেগুলো থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি—
এক. “দিদীমাদের মুখে শুনি যে, নারী নরের অধীন থাকিবে, ইহা ঈশ্বরেরই অভিপ্রেত— তিনি প্রথমে পুরুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, পরে তাহার সেবা শুশ্রূষার নিমিত্ত রমণীর সৃষ্টি হয়। কিন্তু একথার আমার সন্দেহ আছে। কারণ দিদীমাদের এ জ্ঞান পুরুষদের নিকট হইতে গৃহীত।”
________
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
"স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’।
এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।"
(সূরা বাকারা ৩০-৩১)
"তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন আর তাত্থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। যখন সে স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয় তখন সে লঘু গর্ভধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন ভারী হয়ে যায় তখন উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডেকে বলে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে (গঠন ও স্বভাবে) ভাল সন্তান দান কর তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।"
(সূরা আরাফ-১৮৯)
___________
কিন্তু বেগম রোকেয়া বলেন, তিনি এটি বিশ্বাস করেন না। অর্থাৎ, বেগম রোকেয়ার মতে, আল্লাহ যে আদম আঃ-কে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আদম আঃ-এর শান্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন হাওয়া আঃ-কে, কুরআনের এই আয়াতগুলো পুরুষদের বানানো মিথ্যা গল্প।
(চলবে)
লেখা : সাজিদ হাসান
#সীরাহ #রোকেয়া_নামা
10/12/2025
রোকেয়া নামা - (পর্ব : ৩)
‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেসব থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি
_______________
দুই. “আমাদিগকে প্রতারণা করিবার নিমিত্ত পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে “ঈশ্বরের আদেশপত্র” বলিয়া প্রচার করিয়াছেন... পুরাকালে যে ব্যক্তি প্রতিভাবলে দশজনের মধ্যে পরিচিত হইয়াছেন, তিনিই আপনাকে ঈশ্বরপ্রেরিত দূত কিংবা দেবতা বলিয়া প্রকাশ করিয়া অসভ্য বর্বরদিগকে শাসন করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। ক্রমে যেমন পৃথিবীর অধিবাসীদের বুদ্ধি বিবেচনা বৃদ্ধি হইয়াছে, সেইরুপ পয়গম্বরদিগকে (ঈশ্বরপ্রেরিত মহোদয়দিগকে) এবং দেবতাদিগকেও বুদ্ধিমান হইতে বুদ্ধিমত্তর দেখা যায়!”
_____________
অর্থাৎ, নারীদের প্রতারিত করতে পুরুষরা তাওরাত, ইঞ্জিল, কুরআনসহ সকল আসমানী কিতাবকে আল্লাহর নাযিলকৃত আদেশগ্রন্থ বলে প্রচার করে। আদতে সেগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত আসমানি কিতাব নয়।
এবং, পয়গম্বর বা নবীরা মহান আল্লাহর প্রেরিত দূত নয়। বরং তারা সবাই ছিল ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার। নিজেদের সময়কার অসভ্য বর্বর মানুষদের মধ্যে সবচাইতে চতুর ও বুদ্ধিমান ছিলেন তারা। তাই কুটিল বুদ্ধি খাটিয়ে তারা নিজেদের পয়গম্বর বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন!
বেগম রোকেয়ার মতে, এর প্রমাণ হল—যুগে যুগে মানুষ আগের যুগের মানুষদের চাইতে বেশী জ্ঞান অর্জন করেছে। তাই সেই সময়কার সবচে চতুর পয়গম্বর বা নবীদেরকেও সময়ের পরিক্রমায় আগের যুগের নবীদের চাইতে বেশী বুদ্ধিমান দেখা গেছে (উদাহরণস্বরূপঃ তিনি বলতে চেয়েছেন, ইবরাহিম আঃ-এর সময়ের মানুষদের যে জ্ঞান ছিল, তার চাইতে পরবর্তী সময়ের ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ-এর আমলের মানুষদের জ্ঞান ছিল আরও বেশী। তাই, সমসাময়িক আপডেটেড জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের সময়কার অধিক জ্ঞানী মানুষদেরকেও বোকা বানাতে পেরেছেন। সেজন্যই দেখা যায়, ইবরাহিম আঃ-এর তুলনায় ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ অধিক জ্ঞানী )!
[চলবে]
লেখা : সাজিদ হাসান
#সীরাহ #রোকেয়া_নামা
10/12/2025
রোকেয়া নামা - (পর্ব : ৪)
আমাদের ভালোবাসার রাসূল, পবিত্র কুমারী মাতার সন্তান, মুহাম্মাদ সাঃ-এর আগমনের সুসংবাদ দানকারী ঈসা ইবনে মারইয়াম আঃ সম্পর্কে বেগম রোকেয়া বলেন,
____________________________
“ক্রমে জগতের বুদ্ধি বেশী হওয়ায় সুচতুর প্রতিভাশালী পুরুষ দেখিলেন যে, “পয়গম্বর” বলিলে আর লোকে বিশ্বাস করে না। তখন মহাত্মা ঈশা আপনাকে অবতারের অংশবিশেষ (ঈশ্বরপুত্র!) বলিয়া পরিচিত করিয়া ইঞ্জিল গ্রন্থ রচনা করিলেন। তাহাতে লেখা হইল, “নারী পুরুষের সম্পূর্ণ অধীনা—নারীর সম্পত্তিতে স্বামীর সম্পূর্ণ অধিকার।” আর বুদ্ধি-বিবেকহীনা নারী তাই মানিয়া লইল।”
__________________________________________
বেগম রোকেয়ার দাবি, পৃথিবীতে আগত সকল নবীই ভণ্ডামি করে নিজেদেরকে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হিসেবে দাবি করেছে। একটা সময় পর ধোঁকা খেতে খেতে তাই মানুষ আর বোকা রইলো না। ফলে, কোন নবী নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ বলে দাবি করলে লোকে সে মিথ্যা দাবীতে বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিলো।
আর তাই, সুচতুর (!) ঈসা আঃ মানুষকে প্রতারিত করতে নিজের মর্যাদা (!) আরও এক ধাপ বাড়িয়ে নিলেন। সরাসরি নিজেকে আল্লাহর অংশ বলে দাবি করলেন। এরপর নিজে নিজেই ইঞ্জিল রচনা করলেন (অর্থাৎ, ঈসা আঃ আল্লাহর প্রেরিত দূত নয়। আর, ইঞ্জিল আল্লাহর প্রেরিত ঐশী কিতাব নয়)।
ইঞ্জিল লেখার সময় তিনি সেখানে নারীদের শোষণ করতে অন্যায্য বিধান ঢুকিয়ে দিলেন। আর বুদ্ধি-বিবেকহীনা নারীরা ঈসা আঃ-এর সেসব মিথ্যাচার বিশ্বাস করে নিলেন!
[রেফারেন্সঃ রোকেয়া সমগ্র, অলংকার না Badge of slavery প্রবন্ধ]
[চলবে]
লেখা : সাজিদ হাসান
#সীরাহ #রোকেয়া_নামা
07/03/2023
মাননীয় উপাচার্য স্যার... আপনার কাছে আবেদন জিওলজি তে বিএসসি কোর্স চালু করার...
বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প ঝুঁকিতে | অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতা | স্থপতি ইকবাল হাবিব | Episode 7156
তৃতীয় মাত্রা, পর্ব-৭১৫৬, তারিখ-০৬.০৩.২০২৩আজকের অতিথি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচ....
05/05/2022
https://bou.ac.bd/images/exam/cse_exam_sch_310322.pdf
09/11/2021
Joydebpur Railway Station...
01/10/2021
Signal Receiver (aerial -- satellite) of Open University of Bangladesh