12/09/2022
পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছে
Bengal Homoeo Medical Collage
12/09/2022
পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছে
05/08/2022
অধ্যায় মাত্রা তত্ত্ব
১। প্রশ্নঃ মাত্রা বলতে কি বুঝ ? মাত্রার সংজ্ঞা ঃ গ্রীক শব্দ ( posos ) থেকে ইংরেজী ( dose ) শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে । যার অর্থ পরিমাণ , কোন কিছুর নির্দিষ্ট পরিমাণকে মাত্রা বলে । যেমন- ১ টা ১০ নং অনুবাটিকা , ১ ফোঁটা , ১ গ্ৰেণ ইত্যাদি ।
২। প্রশ্ন : হোমিওপ্যাথিক মাত্রাতত্ত্ব বলতে কি বুঝ ? হোমিওপ্যাথিক মাত্ৰাতত্ত্ব : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে অংশে ঔষধের প্রস্তুতকরণ , সংরক্ষণ সময় , প্রুভিং কালে ও রোগীর উপরে প্রয়োগের সময় ঔষধের পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় , তাকে হোমিওপ্যাথিক মাত্রাতত্ত্ব ( Posology of Homoeopathy ) বলা হয় । [ একে আবার ডকট্রিন অফ ডোজও বলা হয় । ] ৩। প্রশ্নঃ মাত্রাতত্ত্ব বলতে কি বুঝ ? এর প্রকারভেদ আলোচনা কর । মাত্ৰাতত্ত্ব ( posology ) : গ্রীক শব্দ ( posos ) ও ( logos ) নামক শব্দ দুইটি দ্বারা ইংরেজী posology শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে । যার অর্থ যথাক্রমে “ পরিমাণ ” ও “ জ্ঞান " । অর্থাৎ মাত্রতত্ত্ব ( posology ) শব্দটির অর্থ পরিমাণ সম্পর্কে জ্ঞান । চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিমাণ বিষয়ক জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করে , তাকে মাত্রাতত্ত্ব ( posology ) বলে । প্রকারভেদ : মাত্রা সাধারণত দুই প্রকার । যথা : সূক্ষ্ম মাত্রা ও স্থুল মাত্রা বা পরিমিত মাত্রা ।
আবার প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে মাত্রাকে আরও কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে : ( i ) সর্বোচ্চ মাত্রা ঃ কোন ঔষধ সর্বাধিক যে পরিমাণ সেবন বা প্রয়োগ করলে কোন প্রকার ক্ষতিকর ক্রিয়া সৃষ্টি হয় না , সে পরিমাণকে উক্ত ঔষধের সর্বোচ্চ মাত্রা বলা হয় । ( ii ) ন্যূনতম মাত্রা ঃ কোন ঔষধ ন্যূনতম পরিমাণ সেবন করলে দেহে ফিজিওলজিক্যাল ক্রিয়া সৃষ্টি হয় , ঔষধের সে পরিমাণকে ন্যূনতম ঔষধ বলা হয় । ( iii ) বিপদ জনক মাত্রা ঃ যে পরিমাণ ঔষধ সেবন করলে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটে ঔষধের সে পরিমাণকে বিপদ জনক মাত্রা বলে ৷ ( iv ) ভগ্নাংশ সংক্রান্ত মাত্রা : কোন ঔষধের পূর্ণ মাত্রার আংশিক ভাগকে ভগ্নাংশ সংক্রান্ত মাত্রা বলা হয় । ইহা সাধারণত শিশুদের জন্য প্রযোজ্য । ( v ) প্রান্তিক / বৃহত্মাত্রা : স্বাভাবিক মাত্রার অতিরিক্ত ঔষধ সেবন করানো হলে এ অতিরিক্ত পরিমাণ ঔষধকে বৃহৎত্মাত্রা বলে । সাধারণতঃ অনেক সময় জটিল রোগের শুরুতে দ্রুত রোগের তীব্রতা হ্রাসে ব্যবহার হয় । ( vi ) রোগ প্রশমিত মাত্রা : যে মাত্রায় দেহের রোগ কার্যকরীভাবে প্রশমিত হয় । সে পরিমাণ ঔষধকে রোগ প্রশমিত মাত্রা বলে । ( vii ) প্রতিষেধক মাত্রা : যে পরিমাণ ঔষধ সেবনে রোগ প্রতিরোধ হয় , সে পরিমাণ ঔষধকে প্রতিষেধক মাত্রা বলে । ( viii ) সচরাচর মাত্রা : যে পরিমাণ ঔষধ প্রায় চিকিৎসক সচরাচর ব্যবহার করেন , তাকে সচরাচর মাত্রা বলে । ( ix ) বিষ মাত্রা : যে পরিমাণ ঔষধ সেবনে প্রাণনাশ ঘটে ঔষধের সে পরিমাণকে বিষ মাত্রা বলা হয় ।
৪। প্রশ্নঃ হোমিওপ্যাথি মাত্রাতত্ত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা দাও । হোমিওপ্যাথিক মাত্ৰাতত্ত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা : হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির যে অংশে ঔষধ প্রস্তুত সংরক্ষণ , প্রুভিং রোগীর উপরে ঔষধ প্রয়োগের সময় ইত্যাদি অবস্থায় ঔষধের পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করে , তাকে হোমিওপ্যাথির মাত্রাতত্ত্ব ( Homoeopathic posology ) বলে । হোমিওপ্যাথি বা সদৃশ বিধান আবিষ্কারের পূর্বে তৎকালীন প্রচলিত এলোপ্যাথিক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগে রোগারোগ্য হলে ও রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়ে আরও কতগুলি নতুন লক্ষণ বা কষ্ট দ্বারা আক্রান্ত হয় । ডাঃ হ্যানিম্যান ইহার কারণ সম্বন্ধে বলেন- সুস্থদেহে ঔষধ সেবন করলে যেমন কতগুলি কৃত্রিম লক্ষণ প্রকাশিত হয় , প্রাকৃতিক রোগাক্রান্ত দেহে ঔষধ প্রয়োগ করলে সে লক্ষণগুলি দুরীভূত হয় । ঔষধজনিত লক্ষণগুলি রোগ লক্ষণগুলিকে . পরাজিত করে বিতাড়িত হয় । ইহাই হোমিওপ্যাথির প্রাকৃতিক আরোগ্য নীতি । বৃহত্মাত্রায় ঔষধের লক্ষণ অধিক প্রবল হয় যে রোগারোগ্যের পরও উহা থাকে এবং রোগীর ভীষন ক্ষতিসাধন করে । ঔষধের এ ক্ষতিকর অবস্থা দূর করার জন্যই ডাঃ হ্যানিম্যান মাত্রাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন । ঔষধের রোগাৎপাদিকা শক্তিই তার আরোগ্যদায়িনী ।
৫। প্রশ্ন : পরিবর্তিত মাত্রা কাকে বলে ? পরিবর্তিত মাত্রা ঃ ক্ষুদ্রতম পরিমাণের একমাত্রা ঔষধ পানিতে গুলে তা থেকে ঔষধ সেবনের পূর্বে প্রত্যেকবার ১০/১২ বার সজোরে ঝাঁকি দিতে হবে । প্রত্যেকবার ঔষধ সেবনের পূর্বে মাত্রাকে পানিতে গুলে বিভক্ত এবং ঝাঁকি দিয়ে প্রথম বারের ঔষধের মাত্রা অপেক্ষা পরবর্তী মাত্রার কিছুটা পরিবর্তিত করার পদ্ধতিকে পরিবর্তিত মাত্রা বলা হয় ।
৬। প্রশ্ন : চিকিৎসায় পরিবর্তিত মাত্রা প্রয়োগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা কর । ১০ , ১২ , ১৪ ১৫৬ চিকিৎসায় পরিবর্তিত মাত্রা প্রয়োগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা : ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান “ অর্গানন অব মেডিসিন ” গ্রন্থের ২৪৭ নং অনুচ্ছেদে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পরিবর্তিত মাত্রা প্রয়োগের যৌক্তিকতা সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন । আরোগ্য ত্বরান্বিত করার জন্য অল্পক্ষণ পরপর প্রয়োগ করা অথবা একই শক্তির ঔষধ অপরিবর্তিত মাত্রায় প্রয়োগ করা উচিত নয় । এমন কি একই শক্তির ঔষধ অপরিবর্তিত অবস্থায় দ্বিতীয়বার প্রয়োগ গ্রহন করাও উচিত নয় । কারণ সেরূপ অপরিবর্তিত মাত্রাকে জীবনীশক্তি কখনো বিনা বাধায় গ্রহন করে না । অর্থাৎ আরোগ্য সদৃশ রোগ লক্ষণ ছাড়াও ঔষধের অন্যান্য লক্ষণ বিকশিত হয় । পূর্ববর্তী মাত্রা আগেই জীবনীশক্তির উপর বঞ্চিত পরিবর্তন সাধন করেছেন , কাজেই সে একই ঔষধের গতিশীল সম্পূর্ণ সদৃশ অপরিবর্তিত দ্বিতীয় মাত্রা জীবনীশক্তির মধ্যে ঠিক পূর্বের অবস্থাসমূহ আর দেখতে পায় না । সে ধরনের অপরিবর্তিত শক্তির ঔষধ আরো প্রয়োগ করা হলে রোগী বাস্তবিক পক্ষে আরো অন্যভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে , এমন কি পূর্বাপেক্ষা অধিকতর অসুস্থ হতে পারে কারণ এই অবস্থায় প্রযুক্ত ঔষধের লক্ষণগুলোই ক্রিয়াশীল থাকে , মূল রোগ লক্ষণের সহিত তাদের কোন সাদৃশ্য থাকে না । কাজেই আরোগ্যের পথে কোন রূপ অগ্রগতি সাধিত হয় না । বরং রোগীর অবস্থা বাস্তুবিক বৃদ্ধি হয়ে থাকে । কিন্তু যদি পরবর্তিত মাত্রা প্রতিবারেই সামান্য পরিবর্তন করে অর্থাৎ কতকটা উচ্চতর শক্তিতে পরিণত করে প্রয়োগ করা হয় তবে জীবনীশক্তি সে ঔষধের সাহায্যে কোন রূপ বাধা ছাড়াই পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ প্রাকৃতিক রোগের অনুভূতি কমতে থাকে এভাবে আরোগ্য অধিকতর অগ্রগতি হয় । সুতারাং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় পরিবর্তিত মাত্রা প্রয়োগের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম
৭। প্রশ্ন : পরিমিত মাত্রা বলতে বুঝ ? হোমিওপ্যাথিতে ঔষধের শক্তিকরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাও । ০৮ , ১০ বা , হোমিওপ্যাথিতে ঔষধের শক্তিকরণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর । পরিমিত মাত্রা ( Moderate dose ) : যখন কোন ভেষজ বা ঔষধের জড়তা যথাসম্ভব অপসারিত না করে যে মাত্রা নির্ণীত হয় , তাকে পরিমিত মাত্রা বলে । হোমিওপ্যাথিতে ঔষধের শক্তিকরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা : সাধারণতঃ দেখা যায় যে হোমিওপ্যাথিক তরলীকৃত ঔষধের কোন ৩০ শক্তির ঔষধে এটম পর্যন্ত থাকে না । ডাল্টনের মতে পদার্থকে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এটমিক স্তর পর্যন্ত পাওয়া যায় । তাঁর ধারণা এটম অবিভাজ্য । এই ধারণার বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষ এবং হোমিওপ্যাথির বিরোধী শক্তি ইহাকে এলকোহলের চিকিৎসা বলে বিদ্রুপ করতে অভ্যস্ত । কিন্তু তাঁদের জানা উচিত ডাল্টনের এটমিক থিউরী বর্তমানে অচল । বর্তমানে বৈজ্ঞানিক অভিমত এই যে , এটমকে ভেঙ্গে ইলেকট্রন , প্রোটন , নিউট্রন প্রভৃতি পাওয়া যায় এবং বস্তু অবিনশ্বর ও অন্তহীনভাবে বিভাজ্য । পদার্থকে বিভাজন দ্বারা কত প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করা যায় , বর্তমান যুগের পারমানবিক বোমা তার জ্বলন্ত প্রমাণ । এই বিষয়ে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আইস্টাইনের সূত্র প্রণিধানযোগ্য । তার মতে E = mc এখানে E = শক্তি m = বস্তুর ভর c = আলোর গতি পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করলে কি পরিমাণ শক্তির সৃষ্টি হয় তা উপরের সূত্র হতে সহজেই উপলব্ধি করা যায় । তাই ডাঃ হ্যানিমানের শক্তিকরণ দ্বারা বস্তুকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে আশ্চর্য হওয়া বা অবিশ্বাসের কি আছে ? শক্তিকরণ পদ্ধিতে বস্তুকে শুধু তরল করা হয় না বরং নির্দিষ্ট নিয়মে ঘর্ষণ মর্দন দ্বারা উহার শক্তি বৃদ্ধি করা হয় ।
৯। প্রশ্ন ঃ ক্ষুদ্রতম মাত্রা কি ? হোমিওপ্যাথিতে ক্ষুদ্রতম মাত্রার গুরুত্ব লিখ ? বা “ সূক্ষ্ম মাত্রা অধিক কার্যকর ” -ব্যাখ্যা কর । বা , ন্যূনতম মাত্রার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতম ক্রিয়ার সূত্রটি বর্ণনা কর । ১৩ ক্ষুদ্রতম মাত্রাঃ একই আকৃতির ১০০ টা অনুরটিকা ওজন এক গ্রেণ হয় , এমন একটা অনুবটিকা শক্তিকৃত ঔষধের দ্বারা ঔষধিকৃত করে , ইহাকে মাত্রা হিসাবে রোগীকে সেবন করতে দেয়াকে , ক্ষুদ্রতম বা সূক্ষ্মমাত্রা বলে । মহাত্মা ডাঃ হ্যানিম্যান বলেছেন যে , এক ফোঁটা ঔষধ ৫০০ টির বেশি অনুবটিকাকে সিক্ত করে ব্লটিং পেপারে শুকিয়ে নিলে এর একটি অনুবটিকা যে টুকু ঔষধ ধারণ করতে পারে , তাকে সূক্ষ্ম বা ক্ষুদ্রতম মাত্রা বলে । হোমিওপ্যাথিতে ক্ষুদ্রতম মাত্রায় গুরুত্ব / “ সূক্ষ্ম মাত্রা অধিক কার্যকর ” : হোমিওপ্যাথির অন্যতম নীতি হচ্ছে সদৃশ নিয়মে চিকিৎসা পদ্ধতি । সদৃশ লক্ষণ মতে সদৃশ লক্ষণ সম্পন্ন রোগে সদৃশ ঔষধ দ্বারা রোগারোগ্য করতে হলে ঔষধের অতি সূক্ষ্মমাত্রাই প্রয়োজন হয়ে থাকে । উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ঔষধ , মাত্রা ক্ষুদ্র হওয়ায় , ঔষধের প্রভাব শরীর হতে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই দুরীভূত হয়ে যায় । ক্ষুদ্রতম মাত্রার ঔষধ ব্যবহার করার অর্থই হল সদৃশ লক্ষণ মতে ব্যবহার করার পর ঔষধশক্তি রোগশক্তির স্থানসমূহ দখল করে এবং রোগশক্তিকে দুরীভূত করায় পর ঔষধশক্তির প্রাবল্যতা দেহের অর্গানসমূহের মধ্যে তখনও স্বল্প সময়ের জন্য থাকে । ক্ষুদ্রতম মাত্রা দেয়ার কারণে ঔষধের স্থিতিকাল ও আক্রান্ত কোষ বা টিস্যূসমূহকে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাবিত করে । মাত্রা যত ক্ষুদ্র হবে হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি তত সামান্য ও ক্ষণস্থায়ী হবে । বৃহত্মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ করলে ইহার ক্রিয়া দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় , ফলে রোগী দুর্বল করে ও রোগারোগ্য হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি বেশি হয় । সুতরাং মহাত্মা ডাঃ হ্যানিম্যানের মতে , আদর্শ আরোগ্য করতে হলে , ক্ষুদ্রতম মাত্রা ব্যবহার করতে হবে । অতএব , হোমিওপ্যাথিতে ক্ষুদ্রতম মাত্রায় প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম ।
৮। প্রশ্ন ঃ “ শক্তিকৃত মাত্রা রোগকে ধ্বংস করে ” - ব্যাখ্যা কর । ০৮,১০ “ শক্তিকৃত মাত্রা রোগকে ধ্বংস করে ” - ব্যাখ্যা ঃ - ঔষধের স্বাস্থ্য পরিবর্তনকারী শক্তিই ইহার আরোগ্যকারী ক্ষমতা । যে সকল বস্তু সুস্থ মানুষের দেহকে অসুস্থ করে অর্থাৎ যে বস্তুর মধ্যে স্বাস্থ্য পরিবর্তনকারী শক্তি অন্তর্নিহিত আছে , তাকে ঔষধে বলা হয় । শক্তিকৃত ঔষধের আরোগ্যদায়িনী ক্ষমতা রোগ আরোগ্য অপরিসীম । ভেষজ রোগ উৎপন্ন করে কিন্তু উহা রোগ আরোগ্য করতে সক্ষম নয় । মানবদেহে রোগ প্রকৃতিক সংঘটিত হয় আর আরোগ্যের জন্য শক্তিকৃত ঔষধ প্রয়োজন অর্থাৎ শক্তিকৃত ঔষধ প্রয়োগের ফলে দেহে কৃত্রিম রোগ সৃষ্টির মাধ্যমে রোগ আরোগ্য হয় । মানবদেহে প্রাকৃতিক রোগজ - উদ্দীপনা অপেক্ষা ঔষধের দ্বারা অধিকতর প্রবলভাবে আক্রান্ত হতে দেখা যায় । সেজন্য উপযোগী ঔষধ সমূহের দ্বারা প্রাকৃতিক রোগ নিরাকৃত ও পরাভূত হয় । ঔষধের মাত্রা আমরা নিয়ন্ত্রিত করতে পারি বলেই এরূপ ঘটে । ঔষধ যে কৃত্রিম রোগ সৃষ্টিকারী উপাদান সমূহের ক্রিয়া সম্পুর্ণ ভিন্নরূপ । সর্বাবস্থায় প্রতিটি প্রকৃত ঔষধ প্রত্যেকটি জীবন্ত মানব দেহে ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে এবং এদের অদ্ভুত লক্ষণ সমূহ সৃষ্টি করে থাকে । সুতরাং প্রতিটি জীবন্ত মানব শরীরে ঔষধের দ্বারা সব সময়ে নিশ্চিতভাবে বা শর্তহীনভাবেই আক্রান্ত ও অভিভুত হতে বাধ্য । কিন্তু প্রাকৃতিতে রোগের দ্বারা কোন সময়েই এরূপ হতে পারে না । রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানসমুহের দ্বারা মানবের সুস্থ শরীরকে অসুস্থ করার শক্তি গৌণ ও শর্তসাপেক্ষ এমন কি একান্ত শর্তসাপেক্ষ । কিন্তু ঔষধ শক্তি সম্পূর্ণ শর্তহীন এমন কি পূর্বোক্ত শক্তি অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী ।
আলোচনায়ঃ-
ডা. এম আল মামুন
ডিএইচএমএস, ঢাকা।
দেশ হোমিও কমপ্লেক্স
জামগড়া কেন্দ্রীয় জামেমসজিদ সংলগ্ন, আশুলিয়া, ঢাকা।
ভাইসপ্রিন্সিপাল বেঙ্গল হোমিও মেডিকেল কলেজ।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য- আশুলিয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঢাকা
বেলাডোনা | Belladonna | dr m bokhtier Rahman
18/07/2022
আলহামদুলিল্লাহ অনেকেই এডমিশন নিচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন ছাত্র ছাত্রী dhms এডমিশন নিয়েছে।
ইনশাআল্লাহ আমরা ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেই খুব শীঘ্রই ক্লাস শুরু করবো।
01/07/2022
২ টি ফ্রি ক্লাস করে সিদ্ধান্ত নিন।
ক্যারিয়ার গড়ুন হোমিওপ্যাথিতে!! নিজেকে একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার সুবর্ন সুযোগ। বিস্তারিত জানতে ম্যাসেজ বাটনে চাপ দিন।
অনলাইন ও সরাসরি ক্লাসের সুবিধা রয়েছে।
01/07/2022
30/06/2022
আপনিও এডমিশন নিয়ে, একজন গর্বিত চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন।
Nux vomica | Dhms 1st year | dr M Bokhtier Rahman
Arnica mont | Dhms 1st year | dr M Bokhtier Rahman
Acconite nap | Dhms 1st year | একোনাইট ন্যাপ | Bengal Homoeo medical collage | Aconite napilus
11/06/2022
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়গুলো কি কি?
প্রশ্নটিই করার কারণে আপনাকে ধন্যবাদ। সাইকোলজিতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। তার মধ্যে কিছু কৌশল নিয়ে আজকে আলোচনা করলাম। আপনি আপনার জীবনে এগুলো এপ্লাই করে দেখতে পারেন।
আমার স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, আমি আর আগের মত মনে রাখতে পারিনা, আমি কোন কিছু পড়লে ভুলে যাই, এরকম অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। অনেকেই আবার তাদের বর্তমান স্মৃতিশক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় । স্মৃতিশক্তি আসলে অনেকগুলো বিষয়ের সাথে জড়িত। কোন বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করলে, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকলে,কোন ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেলে, মস্তিষ্কে আঘাত পেলে, একসাথে অনেক তথ্য মুখস্থ করার চেষ্টা করলে, কোন মানসিক সমস্যা থাকলে ব্যক্তি স্মৃতি থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হতে পারেন। দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে আমরা নতুন বিষয় মুখস্থ করতে ব্যর্থ হই এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মুখস্থ করা বিষয়ও ভুলে যাই । তাছাড়া বার্ধক্য জনিত কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্মৃতি কতগুলো নিউরনের সংযোগে তৈরি হয়। আমরা যদি আমাদের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রথম কোন সাধারণ তথ্য পেয়ে থাকি তাহলে তা আমাদের স্মৃতিতে নিউরোনের মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরী করে। যদি ঐ তথ্য বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয় তাহলে নিউরনগুলো মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী হয়।
স্মৃতিশক্তির সাথে আমাদের খাদ্যের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে । কিছু খাবার যেমন, ওমেগা -3 এসিড মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এ ওমেগা -3 চর্বিযুক্ত মাছে পাওয়া যায় । আবার কিছু কিছু খাবার যেগুলো আপনার মস্তিষ্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যেমন, চিনি, প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার, মাখন, লাল মাংস, ফাস্টফুড, লবণ ইত্যাদি।স্মৃতি সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে আমরা এসব খাবার পরিহার করে চলতে পারি । আমরা যখন কোন মানসিক চাপে থাকি তখন আমাদের ব্রেইন থেকে কর্টিসোল নামক এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরণ হয় যেটা আমাদের স্মৃতি থেকে কোন তথ্য পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই চাপ মুক্ত জীবন যাপন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুশীলনের সাহায্যে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা না গেলেও অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতির উপাদানের (যেমন, শিখন, সংরক্ষণ,পুনরুদ্রেক, প্রত্যাভিজ্ঞা, স্থান-কাল নির্দেশ ইত্যাদি )কাজকে ত্বরান্বিত করা যায়। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
১। উচ্চারণ: কোন তথ্য মুখস্থ করার ক্ষেত্রে নিরবে পড়ার চেয়ে উচ্চারণ করে পাঠ করা অনেক ভাল। উচ্চারণের একটি বিশেষ সুবিধা হল এর ফলে চক্ষু এবং কর্ণ এ দুটি ইন্দ্রিয় সমানভাবে কাজ করে। আপনি যদি কোন কিছু শব্দ করে পড়েন তাহলে স্মৃতির নিউরনগুলো মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী হবে এবং সেটা মনে রাখার সহজ হবে। এছাড়া ছন্দ ও সুরের মাধ্যমে পাঠ করলে তা সহজে মুখস্থ হয়
২। সামগ্রিক বনাম আংশিক পদ্ধতি: ছোট একটি তথ্য মুখস্থ করার ক্ষেত্রে অংশ অংশ ভাবে পড়ার চেয়ে সামগ্রিকভাবে পড়া উত্তম। অর্থহীন বিষয়বস্তু শেখার ক্ষেত্রে আংশিক পদ্ধতি অধিক কার্যকর
৩। বিরতি পদ্ধতি: কোন নির্দিষ্ট পাঠ মুখস্থ করার সময় মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে শিক্ষা লাভ করলে তথ্যগুলি স্থায়ীভাবে স্মৃতিতে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সময় পায় এর ফলে শিক্ষন স্থায়ী হয়
৪।অর্থ অনুধাবন: বিষয়বস্তুর অর্থ বুঝে পাঠ অভ্যাস করলে দ্রুত মুখস্থ হয়। অর্থ না বুঝে পাঠ অভ্যাস করলে মুখস্থ হতে বেশী সময় লাগে
৫। রুটিন পদ্ধতি: রুটিন অনুযায়ী পাঠ অভ্যাস করলে স্মৃতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে
৬।সংগঠন: পাঠ করার পর যদি বিষয়বস্তু সুন্দরভাবে সাজান হয় তবে তা স্মরণ করা সহজতর হয়। এলোমেলোভাবে পাঠ করলে তা সহজে স্মরণ করা যায়না
৭।নিদ্রা পূর্বে পাঠ : নিদ্রার পূর্বে পাঠ মুখস্থ করলে তা সহজে স্মৃতিচিহ্ন থেকে বিলীন হয় না। কারণ নিদ্রায় যাওয়ার ফলে স্মৃতির চিহ্নগুলো বাধাগ্রস্ত হয় না। তাছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক
৮।গভীর মনোযোগ: স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগ একটি শর্ত হিসেবে কাজ করে। গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে তা সহজেই স্মরণ করা যায়
৯।Survey Q 3R : কোন বিষয়বন্তু মুখস্থকরণের ক্ষেত্রে রবিনসন এক যুগান্তকারী নিয়ম প্রণয়ন করেছেন। তার নিয়মটি Survey Q 3R পদ্ধতি নামে পরিচিত। এখানে, Survey মানে -জরিপ করা Q মানে Question - প্রশ্ন করা, Read - পড়া (R-1), Recite- আবৃত্তি (R-2) এবং Review-পর্যালোচনা(R-3)। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী প্রথমে বিষয়বস্তু সম্পর্কে জরিপ করে নিজে নিজে প্রশ্ন করবে এবং নিজে নিজে সে প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধান করবে । পড়ার সময় আবৃতি সহকারে পাঠ করবে এবং বিষয়বস্তু পড়া শেষে তা পুনরায় স্মরণ করার চেষ্টা করবে। এ রূপ প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী সহজেই কোন বিষয়েকে আয়ত্ত আনতে পারবে
১০।সংক্ষেপণ/মনেমোনিক্স (mnemonics): কোন তথ্য মুখস্থ করার জন্য আপনি সংক্ষেপণ/মনেমোনিক্স (mnemonics) ব্যবহার করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে আপনি কতগুলোর শব্দ প্রথম অদ্যাক্ষর দিয়ে একটি ছোট শব্দ তৈরি করতে পারেন । যেমন: আপনাকে কতগুলি পয়েন্ট মুখস্থ করতে হবে। আপনি ওই পয়েন্ট গুলির প্রথম অদ্যাক্ষর দিয়ে একটি শব্দ বা বাক্য তৈরি করে তা খুব সহজেই মুখস্থ করতে পারেন।যেমন: ছোটবেলায় আমরা শিখেছি বেনীআসহকলা অর্থাৎ বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল। এক্ষেত্রে শব্দটি বা বাক্যটি অর্থবহ করলে ফলাফল আরো ভালো পাওয়া যায়।
উল্লিখিত কৌশল গুলো অনুসরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্মৃতির উপাদানের কাজ ত্বরান্বিত করতে পারি।