Adiba Zannat

Adiba Zannat

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Adiba Zannat, Education, Chowrasta, Gazipur.

21/11/2025

বুখারাতে একজন দোকানদার বাস করতেন। তার স্ত্রী খুব সুন্দরী ও নেককার ছিল। তার ঘরে প্রায় বারো-পনেরো বছর ধরে এক ছেলে পানি দিয়ে যেত। একদিন পানি দিতে এসে সে ঐ মহিলার হাত ধরে ফেলল। এরপর কামভাব নিয়ে তার হাত চটকিয়ে বেরিয়ে গেল।

মহিলা খুবই বিচলিত হলেন এই ভেবে যে, ছেলেটা প্রায় পনেরো বছর আমাদের ঘরে আসা-যাওয়া করছে। অথচ শেষ পর্যন্ত এমন করতে পারল সে! এটা ভেবে মহিলা কেঁদে দিল এবং খুব গম্ভীর হয়ে রইল।

ইতোমধ্যে স্বামী ঘরে এসে দেখল তার স্ত্রী কাঁদছে। সে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করল। জানতে চাইল, কেন সে কাঁদছে? মহিলা স্বামীর কাছে সব খুলে বলল।

এবার স্বামীও কাঁদতে শুরু করল। স্ত্রী বলল, ‘তোমার আবার কী হলো? তুমি কাঁদছ কেন?’ স্বামী বলল, ‘দোষ ঐ ছেলের না, আমার।’

স্ত্রী বলল, ‘কীভাবে?’

স্বামী উত্তর দিল, ‘আজ এক মহিলা চুড়ি কিনতে এসেছিল। সে চুড়ি পছন্দ করে আমাকে বলল তার হাতে পরিয়ে দিতে। চুড়ি পরাতে গিয়ে অনুভব হলো, তার হাত খুব মোলায়েম ও সুন্দর। তাই আমি কামভাব নিয়ে তার হাত চটকিয়ে দিয়েছিলাম। এর বদলা হিসেবে ঐ ছেলে তোমার হাত চটকিয়েছে।’

এরপর ঐ লোক বলল, ‘আমি তাওবা করছি। আর জীবনেও এমন গুনাহ করব না।’ এরপর বলল, ‘আজকের পর ঐ ছেলে যদি কখনো এমন করে তাহলে অবশ্যই আমকে জানাবে।’

পরের দিন সেই ছেলে আবার আসল। এসেই মহিলার সামনে কাচুমাচু হয়ে বলল, ‘গতকাল আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। তাই আমার দ্বারা এমন গুনাহ হয়ে গেছে। খালিস দিলে তাওবা করেছি। আর কক্ষনো এমন হবে না। আপনি দয়া করে আমাকে মাফ করে দিন।’

এখন দেখুন, ঐ ব্যক্তি পরনারীর সাথে যেমন আচরণ করেছে তার স্ত্রীর সাথেও আরেকজন তেমন আচরণ করেছে। আবার সে যখন তাওবা করেছে তখন অন্যজনও সাথে সাথে তাওবা করেছে।



এই ঘটনা এক আলিম জনৈক বাদশাকে শুনানোর পর বাদশা বলল, ‘আমি এটা বাস্তবে পরীক্ষা করে দেখতে চাই।’ বাদশা কখনও কারও সাথে এমন অনাকাঙ্খিত কিছু করেনি। তাই সে তার মেয়েকে বলল, ‘তুমি শাহী পোশাক খুলে সাধারণ পোশাক পরিধান করে শহর থেকে একটু ঘুরে আসো।’ একজন দাসীকেও তার সাথে দিল। যাতে করে কী কী ঘটনা ঘটে এটা সে বলতে পারে।

শাহজাদী পুরো শহর ঘুরে এল। কেউ তার দিকে চোখ তুলেও তাকাল না। প্রাসাদে ফিরে এসে সে নিজের কামরার দিকে যাচ্ছিল। তার গায়ে তখন সাধারণ পোশাক। দেখে বুঝাই যাচ্ছিল না যে, এ শাহজাদী। তাই একজন কাজের ছেলে তাকে প্রাসাদের দাসী মনে করে চুমো দিয়ে বসল এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে কেটে পড়ল।

শাহজাদী এসে তার বাবাকে সব খুলে বলল। বাদশা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘সেই আলিম ঠিকই বলেছিল। আমার এখন স্মরণে এসেছে। যৌবনের শুরুতে এক মেয়ের সাথে আমি ঠিক এই রকম একটা ব্যবহার করেছিলাম। আমি যে কাজ করেছিলাম আমার মেয়ের সাথেও তাই ঘটেছে।’ এটাই হলো কিসাস বা শোধ।

অনেক সময় দেখা যায় ব্যভিচার করে ভাই কিন্তু তার মুল্য দিতে হয় বোনকে। অর্থাৎ অন্য কেউ তার বোনের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এমনিভাবে অপরাধ করে বাবা বা স্বামী আর তার মুল্য চুকাতে হয় মেয়ে বা স্ত্রীকে। এর উল্টাটাও হয়। এটা আল্লাহ তাআলার একটা নেজাম।

এই কারণে যেসব যুবকেরা সব সময় এসব নোংরা কাজের চিন্তায় থাকে তাদের মনে রাখা উচিত যে, তাদেরও বোন আছে, মেয়ে আছে, স্ত্রী আছে। তারা যদি অন্যের ইজ্জত-আব্রুর দিকে চোখ তুলে তাকায় তাহলে তাদের ইজ্জত-আব্রুর দিকেও অন্যরা চোখ তুলে তাকাবে। তাই এইসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত।

ইমাম শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যিনা হলো বান্দার জন্য কর্য স্বরূপ। এই কর্য তার নিকটাত্মীয় কারও মাধ্যমেই শোধ করা হয়।’

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই গুনাহ থেকে তাওবা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

ঘটনাটি নেওয়া হয়েছে 'দরদমাখা আহ্বান' বই থেকে
মূল-'মাওলানা যুলফিকার আহমাদ নকশবন্দি'
অনুবাদক- আবদুল্লাহ আল মাসউদ

02/10/2025

আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। আমার বিয়ের আজ সাত বছর পূর্ণ হলো। অবশ্য আমাদের সম্পর্কের বয়স আরো বেশি। বিয়ের আগে প্রেম করেছি তিন বছর। তারপর পারিবারিকভাবে বিয়ে।

মেরাজ এর সাথে প্রেমটা আসলে ঠিক প্রেম ভেবে করা হয়নি। এক দুর্দান্ত আকর্ষণ ছিল শুরু থেকেই। মেরাজ আমার আপন ফুপাত ভাই। ছোটবেলা থেকেই দুজনের খুনসুটি বেশ জমতো। ও আমাকে দেখলেই বেণী ধরে টান দিয়ে বলতো,” কিরে, কেমন আছিস ! যা দেখি, তোর গ্রামার বইটা নিয়ে আয় ! টেন্স টা একটু ধরি ! দেখি কেমন পারিস ! '

আমি তখন সবে ফ্রক ছেড়ে স্কার্ট ধরেছি। লজ্জা নামক বস্তটার সাথে নতুন নতুন সখ্যতা হয়েছে। বলা নেই কওয়া নেই হুটহাট চলে আসে আর আমার গন্ডদেশ লাল করে দিয়ে চলে যায়। আর লজ্জাটা এমন সময়ই আসতো যখন কিনা মেরাজ ভাই আমাদের বাসায় আসত। মেরাজ ভাইয়ের ঠাট্টাগুলো তখন থেকেই বেশ ভোগাতো আমায়। সে চলে যাবার পরও মনের ভেতর সেসব স্মৃতি ঘুরপাক খেতে থাকত অনেকক্ষণ ধরে।

মেরাজ ভাইয়ের চোখের সামনে দিয়েই একটু একটু করে বড় হলাম। কৈশোর পেরিয়ে তারুন্য, তারপর বাঁধভাঙ্গা যৌবন। একদিন মেরাজ ভাই আমাকে ব্যাডমিন্টন খেলতে দেখে চোখ গরম করে ধমক দিয়ে বলল, ” কি রে লম্বা ঠ্যাং বের করে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব কি খেলছিস ?”

' ব্যাডমিন্টন । '

' ব্যাডমিন্টন তো বুঝলাম, ওড়না নাই তোর ! '

' আমি কি বড় হয়েছি নাকি যে ওড়না পরব ! '

' চটকনা মেরে বত্রিশটা দাঁত ফেলে দেবো। খালি পাকা পাকা কথা। যা, ওড়না পরে আয়। আর এখন থেকে স্যালোয়াড় কামিজ পরবি। খাসির রানের মতো পা বের করে..!'
কথাটা খুব গায়ে লেগেছিল। না ঠিক গায়ে না, আঁতে লেগেছিল। আগে কখনো মেরাজ ভাইয়ের বকাটাকে ঠিক বকা মনে হয়নি। তবে ঐ কথার পর থেকে আর পারতপক্ষে মেরাজ ভাইয়ের সামনে পড়তাম না। সযত্নে নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম। মেরাজ ভাই তখন ভার্সিটির তুখোড় ছাত্র। শত শত বান্ধবীর ভীড়ে সেও আমাকে হয়তো ভুলেই গিয়েছিল। তারপর একদিন…

মেরাজ ভাইয়ের একমাত্র বোন কণা আপার বিয়ে ঠিক হল। আমাদের পুরো বাড়ীর দাওয়াত পড়লো বিয়ের সাতদিন আগে থেকে। আমি তখন স্কুলের চৌকোঠ পেরোনো সদ্য কলেজ পড়ুয়া তরুনী। নিজের সমস্ত সত্ত্বায় যৌবনের মনমাতানো সৌরভ টের পাচ্ছি অণুক্ষণ। সেই সৌরভের ম’ ম’ গন্ধে চারপাশে ভ্রমরের গুঞ্জণও অনুভব করছিলাম। যেখানেই যাই ফেউ পিছু লাগে। সবাই শুধু বন্ধুত্ব পাতাতে চায়। কাছে আসার শর্টকাট ওয়ে যেটাকে বলে, সেই 'ফ্রেন্ডশিপ' এর অফার রোজই দুচারটা পাওয়া শুরু করেছি।

এমনকি মেরাজ ভাইয়ের এক চাচাতো ভাই রাজীব ভাইও কণা আপার বিয়ের দুদিন আগে হঠাৎ করে পেছন থেকে এসে আমার দুই গালে আলতো করে রং মাখিয়ে দিলেন। দৃশ্যটা মেরাজ ভাই দুর থেকে দেখে ফেলেছিল এবং আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে প্রচন্ড চড় কষিয়েছিল সেদিন। গালের লাল রঙের আড়ালে চড়ের রংটা কেউ টের না পেলেও আমার গালটা পুরোমাত্রায় টের পেয়েছিল সেই চড়ের জ্বলুনি। কণা আপার বিদায়ের মুহূর্তে গালের জ্বালাতেই হাপুস নয়নে কাঁদছিলাম। সবাই ভাবছিল আমি কণা আপার জন্য কাঁদছি।
কেবল মা একবার ডেকে বললেন, ' তোর গালে আঙ্গুলের দাগ কিসের রে ! কেউ মেরেছে নাকি! '

আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলেছিলাম। আরে কিসের দাগ! কি উল্টোপাল্টা বকছ ! ' মা’কে ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে দিয়ে একাকী বাথরুমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সাবান দিয়ে ঘষে গালের রং তুলতেই আসল চিত্রকর্ম ফুটে উঠেছিল। পাঁচ আঙ্গূলের অঙ্গুরীয় চিত্রকর্ম । ইস্, কি জোরেই না চড়টা মেরেছে কসাইটা। মাথাটা একেবারে ঘুরে উঠেছিল। এখন এই দাগ ঢাকি কি দিয়ে !

কণা আপার ফাঁকা ঘরে এসে গালের ফুটে ওঠা দাগগুলোকে ফেস পাউডার দিয়ে ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা চালালাম। এরই মধ্যে আমার ডাক পড়লো নিচে একসাথে খাবার জন্য। দ্রুত নিচে নেমে এলাম। কণা আপাকে বিদায় দিয়ে সবাই তখন এক আনন্দমাখা শোকে মুহ্যমান। হঠাৎ মেরাজ ভাই সুযোগ বুঝে আমার হাত ধরে আচমকা হিড়হিড় করে বারান্দার নির্জন কোণে টেনে নিয়ে এলো। সেদিনই প্রথম মেরাজ ভাইয়ের সিগারেটের গন্ধ আমার মুখে এসে আছড়ে পড়েছিল।

মেরাজ ভাই এর চোখগুলো দেখাচ্ছিল ঠিক জবা ফুলের মতো। আমার এক নিঃশ্বাস ব্যবধানে থেকে সে বলল, ' ঠিক করে বল, রাজিবের সাথে তোর কি চলছে! '

রাজিব মেরাজ ভাইয়ের বড় চাচার ছেলে। আমি কোনমতে মাথা দুদিকে নেড়ে ‘কিছু না তো’ শব্দ দুটো আওড়ালাম। মেরাজ ভাই তখন মুখটা আরো কাছে এগিয়ে এনে বলল,' মাস দুয়েকের মধ্যেই আমি বাইরে চলে যাব। যাবার আগে আম্মাকে দিয়ে মামার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাব। চুপচাপ হ্যাঁ বলে দিবি। নইলে কিল কিন্তু একটাও মাটিতে পড়বে না। মনে থাকবে ! '

আমার তখন ভরা যৌবনে আগুন লাগি লাগি করছে। উত্তাপটা টের পাচ্ছি অল্প অল্প। কোনোমতে মাথা নেড়ে সায় দিলাম। মেরাজ ভাই হঠাৎ গলার স্বর খাদে নামিয়ে বলল,' চড়ের জন্য স্যরি। পরে কোনোদিন আরও ভালো করে ক্ষমা চেয়ে নেব ! এখন যা !'

আমার যে ছাই কি হয়েছিলো । ফট করে মুখের উপর বলে দিলাম, ' এখনই চাইতে সমস্যা কি? এখনই চান নইলে বিয়েতে মানা করে দেব। '

মেরাজ ভাই কিছুক্ষণ আমাকে দেখলেন। আমার নত হয়ে যাওয়া দৃষ্টি আর লাল হয়ে যাওয়া গালের দাগ। তিরতির করে কাঁপতে থাকা অধরোষ্ঠ তার নিচে রাজহংসীর মতো মরাল গ্রীবা। দেখা শেষ হলে বলল, ' উঁহুঁ…. এখন না !' বলে দ্রুত সরে গিয়েছিল সেখান থেকে।

মেরাজ ভাই যাবার দিন পনের আগেই বাবা আর ফুপী মিলে আমাদের বিয়ে ঠিক করে ফেললেন। সেই অনুযায়ী পরের সপ্তাহেই আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।

এক ঘোরলাগা সন্ধ্যায় আমার হাত দুটো বাবা মেরাজের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ক্ষণ কোনোদিনও ভোলার নয়। বাসর রাতে মেরাজ ভাই চড়ের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরম ভালোবাসায় আর আন্তরিকতায়। তারপর আমাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, কাউকে গায়ে হাত দিতে দেয়াটা চরম অন্যায়।

আমি না বোঝার ভান করে বেশ মজা করে প্রশ্ন করেছিলাম, ' কেন ?'

মেরাজ ভাই ততোধিক মজা করে বলেছিলেন ,
' ভাইব্রেশন নষ্ট হয়ে যায়। শরীর হচ্ছে টাচ মোবাইলের মতো। অতিরিক্ত স্পর্শে এর স্পর্শকাতরতা নষ্ট হয়ে যায়। আজকাল চারিদিকে দেখিস না, দশ বারোটা প্রেম করার পর মেয়েগুলোর কেমন জড়তা কেটে যায়, এজন্যেই তো এদের জামাইরে পানসে লাগে। দুই দিনও যায় না, নানান ছুতোনাতায় ডিভোর্স। আগে মেয়েদের চোখে বিয়ে বা স্বামী নিয়ে একটা রঙীন স্বপ্ন শিহরণ কাজ করত। আবার বাবা-মা ছেড়ে যাবার ব্যথায়ও কাঁদত। এখনকার মেয়েগুলা বেশিরভাগই যেন কেমন। কাঁদেও না শিহরিতও হয় না। ওদের ভাইব্রেশন একেবারে গেছে। শোন্, মন হচ্ছে ঝাউবন। বাতাস লাগলে দুলবেই। তোকে স্থির থাকতে হবে।'

আমি শুনেই লজ্জায় রাঙা হয়ে বলেছিলাম,' আমাকে কেমন মনে হয় আপনার?'
মেরাজ ভাই উত্তরটা অন্যভাবে দিয়েছিলেন। যাক, এই হলো আমার বিয়ের গল্প।

বিয়ের পরপরই মেরাজ ইটালি চলে গেল। পরের তিনটা বছর আমার কাটলো কাঁটার শয্যায়। চিঠি আর ফোন আমার ব্যাকুলতা পৌঁছে দিচ্ছিল সুদুর ইটালিতে মেরাজের কাছে। তখনও ফেসবুক চালাতে শিখিনি। মেরাজ শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। নিজেই আইডি খুলে দিয়েছিল। পাসওয়ার্ডও ওরই দেয়া। আমি মেসেঞ্জারে শুধু মেরাজের সাথেই কথা বলতাম। মেরাজ তিন বছরের মাথায় চলে এলে আমার একাকীত্ব ঘুচল।

এরপর একের পর এক ফাল্গুন এসেছে। আমাদের সম্পর্ক দিনে দিনে আরো মধুর থেকে মধুরতর হয়ে উঠেছে। ইমোশন কমে গিয়ে গাঢ় হয়েছে ফিলিংস। এখন আমি মেরাজের চোখের ইশারাও বুঝি। হাজারো ভীড়ের মধ্যেও ও আমার দিকে তাকালেই আমি বুঝে ফেলি ওর কি চাই। '

এরই মাঝে আমাদের একমাত্র মেয়ে 'রৌশনী' আমাদের দুজনের বন্ধনটাকে আরো মজবুত করে তুলল ! মেয়ে অন্তঃপ্রান বাবা মেরাজ মেয়ের ব্যপারে খুব সতর্ক। বারবার আমাকে সতর্ক করে বলত, মেয়ের দিকে খেয়াল রাখবা। ওকে কারো কোলে বসতে দিবা না। ওকে এখন থেকেই গুড টাচ ব্যাড টাচ এগুলি শিখাবা। কি যে অবস্থা চারিদিকে। আজকাল নেট দেখে দেখে দুনিয়ার অসভ্যতা শিখে ফেলেছে অল্প বয়েসী ছেলেপেলেরা। এরা বড় কাউকে পায় না তো তাই বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোকে তাদের লালসার খোরাক বানিয়ে ফেলেছে।

মেরাজ আর আমার ভালোবাসার ফসল আমাদের একমাত্র মেয়ে রৌশনী’র বয়স এখন তিন। ওর কথার ফুলঝুরিতে আমার সারা ঘর এখন মুখরিত।

আজ আমার সপ্তম বিবাহ বার্ষিকীতে আমরা দুই মা মেয়েতে অপেক্ষা করছি মেরাজের জন্য। আমি ঘরেই মেরাজের পছন্দের খাবারগুলো রেঁধেছি। মেরাজকে সকালে পই পই করে বলে দিয়েছিলাম যেন সন্ধ্যার আগেই চলে আসে। এখন বাজে রাত দশটা অথচ কোনো খবর নেই। ফোন দিলাম, বন্ধ দেখাচ্ছে।

মেরাজ ফিরল তবে অনেক রাত করে। বউ হিসেবে আমি বরাবরই ধীরস্থির শান্ত মেজাজের। ওর দেরীর কারণ জানতে চাইলাম। মেরাজ এড়িয়ে গেল। আমাদের সম্পর্কটা বরাবরই খুব মসৃণ। কখনো বড় ধরনের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। তবে আজ মনে হচ্ছে এই মেরাজ আমার অচেনা। ও আমার চোখে চোখ রাখছিল না। কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে যাচ্ছিল। তবে সম্পর্কটাও যে দিনকে দিন উষ্ণতা হারাচ্ছিল তা টের পেতে কষ্ট হয়নি।

তারপর এলো সেই অনাকাঙ্খিত দিনটি যেদিন মেরাজ আমাকে জানালো সে আসলে কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে। মেয়েটা তাকে বিয়ে করতে চায়। মেরাজও তাই চায়। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম বলতে পারব না। শুনলাম নিজেই বলছি, ' আমার ভালোবাসায় কি কোনো কমতি ছিল ? কোনো ভুল করেছি আমি ! '

মেরাজ নিজের চুলগুলো মুঠো করে ধরে বলেছিলো, ' তোমার না, আমার ভুল হয়েছে। মেয়েটার সাথে ইনবক্সে চ্যাট করতে গিয়ে কখন যে ওর কথায় ইমপ্রেসড হয়ে গিয়েছি বলতে পারব না। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। মানে বিয়ে না করে উপায় নেই ! তোমার অনুমতি আছে তো ! '

কান্না চেপে অনুমতি দিলাম। আমার এই সহজ সরল রূপটাই নাকি মেরাজের ভালো লাগে। খুশি হয়ে গিয়েছিল সেদিন। ভেবেছিলাম, থাক করুক বিয়ে। আমার ভাগেরটুকু আমি ঠিকমতো পেলেই চলবে। বিয়ে না করে যদি আমার অগোচরে গার্লফ্রেন্ড বানিয়ে পুষতো তাহলে সে হয়তো আমার সংসারের ভাগ নিতে আসতো না কিন্তু আমার স্বামীকে আরো বেশি নিজের করে পেতো কারণ যে কোন নিষিদ্ধ সম্পর্কের আকর্ষণ সবসময় বেশি। তারচে হালালভাবে থাকুক। অন্তত মেরাজকে তো আমি পাব।

এর দিন দশেকের মাথায় মেরাজ আমাকে না বলে হঠাৎ চট্টগ্রাম চলে গেল আর ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিল। আমি অনুভূতিশূন্য অবস্থায় ফুপীকে চিঠিটা দেখালাম। জানালাম যে মেরাজ আমাকে তালাক দিয়েছে। সত্যি বলতে সেদিন রাগ করব না অভিমান করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। কেবল মেরাজের একটি কথা বারবার আমার মনে পড়ছিল।
‘ তুই হলি আমার অক্সিজেন। অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচেনা জানিস তো! ‘ মেরাজ আমাকে বিয়ের পর কখনো তুই কখনো তুমি বলেই ডাকতো।

মেয়েকে আঁকড়ে ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য ব্যাগ গুছালাম। ফুপী বললেন, ' তুই যাবি কেন। ঐ হারামজাদী যাবে। ঢাকায় আসুক, দুটোকে ঝাড়ুপেটা করব। তোকে আমি বিয়ে করিয়ে এনেছি। ঐ ফেসবুকআলিকে আমি চিনি না জানি। আমার নাতিন নিয়ে তুই আমার চোখের সামনে থাকবি।'

ক্লান্ত গলায় বললাম, ' বাড়ি তো বেশি দুরে না ফুপী। আপনি রোজ আপনার নাতিনকে গিয়ে দেখে আসবেন। কিন্তু আমি মেরাজের মুখ এ জীবনে আর দ্বিতীয়বার দেখতে রাজী নই। আর আমার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে এটা ওকে বলে দেবেন !'

জীবন জীবিকার প্রয়োজনে একটা স্কুলে চাকরী নিলাম। মেরাজ মেয়ের খরচ দিয়ে যাচ্ছিল। একটু বেশিই দিচ্ছিলো। আমি রৌশনীর প্রয়োজনীয়টুকু রেখে বাকিটা ফুপীর হাতে ফিরিয়ে দিতাম।

মেয়েকে নিয়ে দিন একরকম কেটে যাচ্ছে আমার। সমস্যা কেবল একটাই, মেয়েকে নিয়ে পথেঘাটে বের হলে মেরাজের সাথে হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়ে যায়। আর তখনই কলিজাটা দুমড়ে মুচড়ে উঠে।

মেরাজ অবশ্য মেয়েকে দেখলেই আঙ্গুল তুলে ডাক দেয় আর মেয়েটা তখন আমার দিকে তাকায়। আমি নিরবে মেয়েকে নিয়ে সরে আসি। মাঝেমধ্যেই ফুপীকে দিয়ে রৌশনীকে ডেকে নিয়ে যেত আর একগাদা চকোলেট চিপস জুস দুহাত ভরে দিয়ে দিতো। কখনো আমার জন্য আইসক্রিমও দিয়ে দিতো সাথে। আমি দুদিন ফিরিয়ে দেবার পর দেয়া বন্ধ করেছিল। মাঝেমধ্যে ফোনে মেসেঞ্জারে নক করত। তারপরই ব্লক করলাম ওকে।

এর মধ্যে একদিন আমার আম্মু এসে রাজীব ভাই আমার খবর পেয়ে তার আম্মুর মাধ্যমে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আমি যতদুর শুনেছি রাজীব ভাইয়ের স্ত্রী বিয়ের ছয়মাসের মধ্যেই হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছেন। তারপরে আর তিনি বিয়েই করেননি। আজ হঠাৎ তার বিয়ের সাধ জাগলো কেন কে জানে !

আমি মা’কে কঠিন স্বরে জানিয়ে দিলাম, আমার ইদ্দত এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে বিয়ের প্রস্তাব কেন! তাছাড়া আমিতো বলেছি আমি আর বিয়ে করবো না। বিয়ের শখ জন্মের মতো মিটে গেছে।

আম্মু বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ' এভাবে কি সারাটা জীবন একা থাকবি ! রাজীব ভাল ছেলে। সে তো রৌশনীকে সহই তোকে বিয়ে করতে চেয়েছে। তোর ইদ্দতেরও আর মাত্র চার পাঁচদিন বাকি। তুই রাজী হলে আগামী সপ্তাহেই রাজীব বিয়ে করতে প্রস্তুত। '

' তাকে মানা করে দাও। সে রাজী হলে কি হবে! আমি তো রাজী না।'

আম্মু ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে গেলেন। রাজীব ভাইয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবার পরের দিনই আম্মু হন্তদন্ত হয়ে এলেন আমার কাছে।

উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলেন,” শুনেছিস রানু , মেরাজের এই বউটা নাকি সুবিধার না। সে নাকি ফেসবুকে দুনিয়ার ছেলেদের সাথে খাতির রেখেছে। খুব চালু মেয়ে। বিষয়টা মেরাজ টের পেয়ে যাওয়ায় এখন ওদের মধ্যে মহা গ্যাঞ্জাম দেখা দিয়েছে। রাগারাগির এক পর্যায়ে মেরাজ নাকি ঐ বৌ’কে বেরও করে দিয়েছে। বেচারা মেরাজ এখন তার মায়ের কাছে কেঁদে গিয়ে পড়েছে । বলছে যে তার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। সে মোহের ফাঁদে পড়েছিল। ঐ মেয়ের ফুসলানিতেই সে তোকে ডিভোর্স দিয়ে নিজের কপাল পুড়িয়েছে কিন্তু মন থেকে ও নাকি শুধু তোকেই ভালোবাসে। হায়রে ফেসবুক ! কতজনের যে ঘর ভাঙ্গল। মেরাজ তো তবু তার ভুলটা বুঝতে পারছে। সে এখন তোকে যে কোন মূল্যে ফেরত চায়। তোর ফুপী মনে হয় আজই আসবেন তোর সাথে কথা বলতে। আল্লাহর রহমত যে মেরাজ তার নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। এবার তো আর তোর আপত্তি নেই, কি বলিস ! '

মনের কোন এক বন্ধ দরোজায় প্রচন্ড আঘাত হানলো মেরাজের খবরটা। বুকের ভেতর গুমরে মরা অভিমানগুলো একটু খানি নিঃশ্বাস ফেলার জন্য আঁকুপাঁকু করে উঠল। কয়েক মিনিট শান্ত হয়ে বসে ভাবলাম। তারপর উঠে গিয়ে দু ‘রাকাত নামাজ পড়তে মনটা এবার অনেকটাই শান্ত হয়ে এলো।

আমার নামাজ শেষ হতে দেখে মা এলেন। তার মোবাইলটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ' নে কথা বল।'
আমি অবাক হয়ে তাকালাম। হতবিহ্বলের মত হ্যালো বলতেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম মেরাজের কণ্ঠ শুনে। সেই ভরাট কণ্ঠস্বর। সেই যাদুমাখা সুর।
' জানু, আমাকে ক্ষমা করা যায়না ? প্লিজ ? '
অনেকদিন পর কেউ আমাকে এই নামে ডাকল। আমি নির্বাক হয়ে বসে রইলাম।
ওপাশে মেরাজের আকুতি, নিঃশব্দ কান্না, ভেজা কণ্ঠস্বর কোনকিছুই আমাকে স্পর্শ করতে না পেরে ব্যাকুল হয়ে যাচ্ছিল। মেরাজ ছটফটে কণ্ঠে বলল, ' একটাবার বল ক্ষমা করেছো। আমি এক্ষুনি ছুটে আসব তোমার কাছে। বলো না জানু ! বলো বলো না প্লিজ। ক্ষমা করেছ আমায় ! '
' হ্যাঁ করেছি। ' বরফের শীতলতা আমার কণ্ঠে। মেরাজ থেমে গেল। আমি শান্ত স্বরে বললাম, ' যাও, ক্ষমা করে দিলাম। '
' সত্যি ক্ষমা করেছো ? '
' ক্ষমা মিথ্যেমিথ্যি হয় না। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু ভুলে যাইনি তুমি কী করেছ। ক্ষমা করে দেয়া একজিনিস আর অপরাধ ভুলে যাওয়া আরেক জিনিস। তুমি কোন ভুল করোনি। ঠান্ডা মাথায় আমাকে খুন করেছো। তাই আমি তোমাকে ক্ষমা করলেও তোমার অপরাধ অগ্রাহ্য করতে পারব না। তাছাড়া আমি চাইনা আমার নতুন জীবনের শুরুতে কারও দীর্ঘশ্বাস মিশে থাকুক। '
' নতুন জীবন ? '

আমি দ্বিতীয় কোন কথা না বলে কল কেটে দিলাম। মায়ের হাতে ফোন ফিরিয়ে দিয়ে বললাম, ' মা, একটু রাজীব ভাইকে ফোন করো তো ! '

মা অবাক হয়ে আমাকে দেখছিলেন। বললেন, ' হঠাৎ রাজীবকে কেন ! কী বলবি তুই ওকে ? '

' আমি বলব না , তুমি আমার হয়ে ওনাকে বলবে যে আমি রাজীব ভাইয়ের প্রস্তাবে রাজী। এই কথাটা বলার জন্যই ফোন করতে বলেছি। এখন তুমি ফোন করে ওনার মায়ের সাথে কথা বলবে না আমি বলব ?'

' এ কেমন জেদ ? মেরাজ তো নিজের ভুল স্বীকার করেছে। মানুষের তো ভুল হতেই পারে। সে এখন তোর জন্য তড়পাচ্ছে। কতবার তোড়কে ফোন দিল ছেলেটা। তুই তো ওর ফোনটাও ধরলি না। তাছাড়া ও তো তোকে ভালবাসে। তুই এসবের মধ্যে রাজীবকে টানছিস কেন ?'

' মেরাজ যা করেছে এটা ভুল ছিল না মা। অপরাধ ছিল। আর যদি তোমার মতে এটা ভুল হয়েও থাকে তবে মেরাজ যে ভুল করেছে সেই একই ভুল আমি করতে চাইনা। ভাল তো আমিও মেরাজকে একসময় বাসতাম, শ্রদ্ধাও করতাম। এখন সেই শ্রদ্ধাটা আর নেই। যেখানে শ্রদ্ধা নেই সেখানে ভালোবাসা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। মানুষ ভুল করতে পারে তা আমিও জানি। মেরাজ আমাকে ছোটোবেলা থেকেই ভালো মন্দের জ্ঞান শিখিয়ে এসেছে। মন্দের পথে হাঁটলে মন্দ যে তাকে একসময় গিলে ফেলে এই জ্ঞানটুকু তার মধ্যে খুব ভালভাবেই ছিলো। সব জেনে বুঝেও সে ঐ পথেই গেছে এবং শখ করেই গপ্পরে পড়েছে। পড়ার মুহূর্তে একবারও আমাদের কথা ভাবেনি। আমি সেই একই ভুল দুইবার করব না। তুমি রাজীব ভাইকে ফোন দাও, এক্ষুণি। '

অগত্যা মা রাজীবের মা’কে ফোন দিয়ে আমার সম্মতির কথাটা জানিয়ে দিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজীবের মেসেজ এলো!
' অনেক ধন্যবাদ। সারাজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম।'

নিরবে মেসেজটা দেখে দুচোখ বন্ধ করতেই তরতর করে দুফোটা পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল আমার। জানিনা এ কিসের কান্না। ভালোবাসার না চরমতম অভিমানের।

ছোটগল্প
ক্ষমা করে দিলাম
সমাপ্ত

লিখেছেন-মোর্শেদা হোসেন রুবি

20/09/2025

#মদিনার একটি হাসপাতালের আই সি ইউতে দীর্ঘ তিন বছর ধরে এভাবে অবচেতন অবস্থায় গভীর পর্যবেক্ষণে আছেন লোকটি। উনি একজন আলেম। নাম মাওলানা হেদায়াতুল ইসলাম। বাড়ি ফেনী। তিনি দুই হাজার বাইশের শুরুর দিকে উমরাহর সফরে মদিনা এসে হঠাৎ স্ট্রোক করে মালিক ফাহাদ হসপিটালে ভর্তি হন। সেই থেকে আজ অবধি তিনি আই সি ইউতে আছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। কথা বলতে পারেন না। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও নেই। বেঁচে থেকেও যেন মৃত।

তাঁর সাথে পরিবারের কেউ নেই। এমনকি পরিবারের কেউ তাঁর খবরটুকুও নেন না। আসলে দেশ থেকে খবর নেওয়ার তেমন সুযোগও নেই। দীর্ঘ এই তিন বছরের মধ্যে নাকি পরিবারের কেউ উনাকে দেখতেও আসেননি। পরিবারের সদস্যরা জানেনও না লোকটি বেঁচে আছেন নাকি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। লোকটি তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু আজ তিন বছর ধরে তিনি একা। কেউ নেই তাঁর পাশে। স্ত্রী সন্তান থাকলেও পৃথিবীতে তিনি বড্ড একা। অসহায়।

উমরাহর সফরে যখন তিনি স্ট্রোক করেন তখন সাথে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু উমরাহর সফরের নির্দিষ্ট সময় শেষে স্ত্রী দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সংকটাপন্ন স্বামীকে আই সি ইউতে একা রেখে। রোগীর অবস্থা অপরিবর্তিত দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাকি তাঁর স্ত্রীকে এখানে রোগীর সাথে অবস্থান করার প্রস্তাব দিয়েছিল। স্ত্রীর থাকা-খাওয়া সহ যাবতীয় ব্যয়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা সৌদির হজ্ব মন্ত্রণালয় বহন করবে বলে প্রস্তাবও নাকি করেছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি চলে যান দেশে।

তিন বছর ধরে তিনি আই সি ইউতে আছেন। অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। এভাবে আর কতদিন তিনি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করবেন আল্লাহ ভালো জানেন। একজন রোগীকে আই সি ইউতে রাখার দৈনিক খরচ কী পরিমাণ হতে পারে তা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু লোকটি সম্পূর্ণ ফ্রী চিকিৎসা পাচ্ছেন এই দীর্ঘ সময় ধরে। তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সৌদি আরবের হজ্ব মন্ত্রণালয় বহন করছে। দুর্ভাগ্য তিনি চেতনা ফিরে পাচ্ছেন না। তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত।

আজ আমরা তাঁর এক নিকট আত্মীয় সহ মদিনার আল মুয়াসাত হাসপাতালের সংরক্ষিত সুবিশাল আই সি ইউ কেবিনে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের পরিচয় জানতে পেরে জিজ্ঞাসা করেন, "উনার ছেলেসন্তান বা পরিবারের কেউ কি নেই? আরও বলেন, "এই আই সি ইউতে আরো অনেক রোগী রয়েছেন। যাদের স্বজনরা নিয়মিত দেখতে আসেন। খোঁজ নেন। কিন্তু এই রোগীর কোনো স্বজন কখনও আসেন না। খোঁজও নেন না। আমরা ভেবেছি তার পরিবারের কেউ নেই।"

ডাক্তার নার্স আর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন অভিব্যক্তি শুনে কিছুক্ষণের জন্য থ বনে গিয়েছিলাম। ভাবতে লাগলাম, "আহ! কার জন্য এতসব আয়োজন? যেই স্ত্রী সন্তানের জন্য নিজের জীবনের সুখ আহ্লাদ সব ত্যাগ করে মানুষ রাতদিন পরিশ্রম করে সেই স্ত্রী সন্তান বা পরিবারপরিজনকে যদি জীবনের কঠিন অন্তিম মুহূর্তে পাশে না পায় তাহলে এই জীবনের স্বার্থকতা কী? এটাই বুঝি দুনিয়ার বাস্তবতা? মায়া ভালবাসা আবেগ এসব বুঝি শুধুই অভিনয়? দিনশেষে আসলেই কেউ কারো নয়? সবাই একা?

কিয়ামতের কঠিন দিনে স্ত্রী প্রাণপ্রিয় স্বামীকে চিনবে না। মা-বাবা প্রাণপ্রিয় সন্তানকে চিনবে না। আদরের ভাই বোনকে চিনবে না। সবাই ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করবে। রক্তের বন্ধনগুলো একে একে অচেনা হয়ে যাবে। কেউ পাশে দাঁড়াবে না। এতদিন এসব কথা কোরআন হাদিস থেকে শুধু শুনে এসেছি। অস্বাভাবিক অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু আজকের এই ঘটনা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমাকে এটুকু বুঝতে শিখিয়েছে যে, দুনিয়ার সামান্য অসুস্থতা যদি মানুষকে এতো দূরে ঠেলে দিতে পারে, তাহলে আখিরাতের ভয়াবহ দিনের বাস্তবতা ঠিক কেমন হতে পারে?

©️সালমান হজ্জ গ্রুপ থেকে সংগৃহীত

13/08/2025

নির্দিষ্ট কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা ঠিক হবে কিনা বা কিভাবে চাওয়া উচিত এই বিষয়ে এক বোনের লিখা তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা শেয়ার করতে চাই -

#আল্লাহ আমার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দিন।
কলেজে পড়া কালীন আমার একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয়।ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে ভালোলাগার সম্পর্ক তৈরি হয়। আমি তাকে সবসময় জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে তার নাম ধরে নামাজে,তাহাজ্জুদে দোআ করতাম।যেন তাকেই পাই।আর কাওকে না।

এভাবে সময় যেতে থাকে।এক সময় তার আচরণ খুব পালটে যায়।খুব কষ্টে কাটে তখন কার দিন গুলি আমার।তার পরেও তাকে পাওয়ার জন্য দোয়া করতাম।

এর মধ্যেই আল্লাহর রহমতে আমাদের পরিবারের পবিত্র ওমরাহ্ পালন করার তৌফিক হয়।আমরা সবাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।যাওয়ার আগে একজনের কাছ থেকে দুয়া কবুল হওয়ার জায়গা গুলির ব্যাপারে জেনে নেই।সেগুলির মধ্যে হচ্ছে,প্রথম কাবা শরীফে দৃষ্টি পরার সাথে দোয়া করা,আর আরেকটি হলো মদিনা শরীফের রিয়াদুল জান্নাহ।

আমি দোয়া কবুলের জায়গা গুলোর ব্যাপারে জানার পর থেকে ভাবতে থাকি যে আমি ওখানে গিয়েই তাকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবো।

কিন্তু আমি যখন সেখানে পৌঁছে কাবা শরীফকে প্রথম দেখি তখন আমি কোন ভাবেই তার নাম মুখে আনতে পারছিলাম না!
আমি আমার অবস্থা দেখে নিজেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম।পরে আমার মন থেকে এটাই দোয়া করলাম যে আল্লাহ যেন আমার জন্য যেটা ভালো হবে সেটাই করেন,তার রহমত আর বরকত এর সাথে।
রিয়াদুল জান্নাতেও একই ঘটনা হলো,সেখানেও তার নাম মুখে আসলোনা।
ওমরাহ্ পালন করে অামরা চলে আসি।

দেশে আসার পর আমার মনে হলো যে অামি তার প্রতি আর কোন আকর্ষণ পাচ্ছিনা!! খুব ই অবাক হলাম নিজের পরিবর্তন দেখে।
কিছুদিন পর আল্লাহর রহমতে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর আমি আগের চেয়ে খুব ভালো থাকা শুরু করলাম।নামাজে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতাম,আর বলতাম যে,আল্লাহ,তুমি আমার জন্য যাকে ভালো মনে করবা,যেভাবে ভালো মনে করবা,অামি তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবো।

কিছুদিন পর আমার ফেসবুকে একটা মেসেজ আসলো।সুন্দর ভাবে সালাম দেয়া।দেখলাম মেসেজটি আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে ভালো আর মেধাবী ছেলেটার।যার সাথে আমার খুব প্রয়োজন ছাড়া কখনো কথাই হয়নি।খুব অবাক হলাম।
সে জানতে চাইলো ক্লাসে কেনো আসিনা।ওমরাহ পালনের কথা তাকে বললাম।
তারপর মাঝে মাঝে চ্যাটিং হতো।
অস্বীকার করবনা,তাকে আমার ভালো লাগা শুরু করলো।
কিন্তু আমি নিজের নাফস্ কে ঠিক রাখার আল্লাহর কাছে সাহায্য চেতাম।
কিছুদিন পর সে আমাকে হঠাৎ তার বোনের সাথে কথা বলিয়ে দিলো।
অাপু বললেন যে তার ভাই আমার কথা তাদের বাসায় বলেছে,আমাকে তার পছন্দ,বিয়ে করতে চায়। কথাটা শোনার পর খুব অদ্ভুত লাগছিলো আমার...
আমি আমার আম্মুর সাথে সব খুলে বললাম।আম্মু বললো যে আব্বুর সাথে আলোচনা করবেন।
আমার আব্বু ছেলেটিকে মোটামোটি ভালই চিনতেন।তাই আম্মু ব্যাপারটা বলার পর
আব্বু বেশি সময় নিলেন না।
দুই পরিবার আলাপে বসলো এবং আলহামদুলিল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো.....
#অালহামদুলিল্লাহ...আমার এখন প্রতিটা দিন কে আল্লাহ উনার অশেষ রহমত দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিচ্ছেন। খুব সুখে আছি আমরা।
বোনেরা, এজন্য যখনই কিছু চাইবেন আল্লাহর কাছে,খুব ভেবে চিন্তে চাইবেন।আর সব সময় আল্লাহর ফায়সালা কে খুশি মনে মেনে নিবে। কারন,আমাদের জন্য কে উত্তম আর কি উত্তম এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ই ভালো জানেন।
আল্লাহ আমাদের সবার জীবন তার অশেষ রহমত,বরকত এবং নেয়ামত দিয়ে ভরিয়ে দিক।"

(এই আপুর কাহীনি পোস্ট করে আপনাদের আমার এটাই বুঝানো উদ্দেশ্য যে,
বিয়ের আগের প্রেম ভালো বাসা হতে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।
হারাম প্রেম করে আল্লাহর অসন্তুষ্টি কামিয়ে পাপের বোঝা বাড়িয়ে সুখী হবার আশা করা যায়না।
তবু যদি কাওকে কোন ভাবে পছন্দ হয়েই যায়,
প্রেম করেই ফেলেছেন আর ভুলতেও পারছেন না
তখন কোন হারাম সম্পর্ক না রেখে....
এভাবে দোয়া করা উচিত হবে যে,
"হে আল্লাহ!
অমুক আমার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কল্যানকর হলে তাকে আমার জীবন সঙ্গী করো।
যাকে নিয়ে আমি সুখী হতে পারবো তাকেই স্বামীরূপে দিও.....
নিশ্চয় তুমি ই জানো সে আমার জন্য সঠিক কিনা।"

#কারন কে আপনার জন্য উত্তম তা আল্লাহ ছাড়া কেও জানেন না...
আপনার পছন্দ ই সঠিক হবে এমন ভাবা ভুল।
আপু সত্যি কি জানেন?
আবেগ দিয়ে দুনিয়া চলেনা।
আজকে যার জন্য আপনি পাগল কাল তাকে পেয়ে আপনার জীবন আরো বেশি দুর্বিষহ হতে পারে।
আপনার চার পাশে এমন অনেক কাহীনি আছে দেখুন।
প্রেমে পাগল হয়ে বিয়ে করে তারপর কত কষ্ট নিয়ে সংসার করছে বা ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
আবেগ মোহ ভুলে যদি আপনি আজই নিজের ভালো নিজে বুঝতে না পারেন তাহলে কাউকে অনেক চেয়ে কাল আপনি পেতেই পারেন।
বাট কতটুকু সুখী হবেন এটাই হবে দেখার বিষয়।
তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন না।
আল্লাহর ফায়সালার উপর ভরসা রাখুন।
নিশ্চয় তিনি আপনার ভালো চান.... ♥

Jumana Puspo.

04/07/2025

মানুষ মাটির নীচে গিয়ে পচে যায় আর;
মাটির উপরে থেকে মুহুর্তে মুহূর্তে রং বদলায়।

-Thoughts of Adiba

21/05/2025

প্রশ্নঃ ৬৭৯১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার স্বামীর মনের মতো মানুষ হব কীভাবে? দয়া করে বলে দিবেন।

উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

🌿 স্বামীর ভালবাসা অর্জনের কার্যকরী কয়েকটি উপায়।

১. স্বামী ঘুম থেকে উঠার আগে নিজে উঠে পরিপাটি হয়ে নিন। যাতে স্বামী আপনাকে সকাল বেলায় অপরিপাটি না দেখে। এ সময় সুগন্ধি ব্যবহার করুন। যাতে সকালে আপনাকে দেখেই আপনার স্বামীর মন ভরে যায়।

২. তার ঘুম যেভাবে ভাঙ্গালে পছন্দ করবে, সেভাবে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলুন। তাকে শুনিয়ে ঘুম থেকে উঠার দোয়া পড়ুন।

৩. তার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তবেই অন্য কাজে যাবেন। সে তার কাজে যাওয়ার সময় কপালে আর বুকে দুইটা......... দিয়ে সালাম দিয়ে "ফী আমানিল্লাহ" বলে বিদায় দিন।

৪. সে কখন বাসায় আসতে পারে তা অনুমান করে পরিপাটি হয়ে থেকে তার অপেক্ষা করুন এবং সে আসার সাথে সাথে দরজা খুলে দিয়ে সালামের জবাব দিন। তিনি সালাম না দিয়ে থাকলে আপনি হাসিমুখে সালাম দিন। মুচকি হেসে আগ বাড়িয়ে হাতের ব্যাগ নিজ হাতে তুলে নিন। তার সাথে কথা বলার সময় সর্বদা হাসি মুখে কথা বলুন।

৫. তার সামনে কখনো গন্ধ নিয়ে যাবেন না। সবসময় একটা সুঘ্রাণ রাখুন নিজের শরীরে।

৬. পরিপূর্ণ পর্দা করুন।

৭. স্বামীকে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাযের জন্য ডেকে দিন। আল্লাহর তরফ হতে স্বামীর হৃদয়ে আপনার প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা জন্ম নিবে ইনশাআল্লাহ।

৮. স্বামীর মনে কখনো আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।

৯. কখনো স্বামীকে নিজের উপর রাগ হতে দিবেন না বরং স্বামী যে ইশারায় চালাতে চায় সে ইশারায় চলুন (আল্লাহর নাফরমানীর কাজ ব্যতিত)।

১০. স্বামী কোন কাজ করতে আদেশ করলে সাথে সাথে হাসিমুখে কাজ করে দিন।

১১. স্বামীর কাছে থাকাকালীন তার অনুমতি ব্যতিত কোন নফল ইবাদাত করবেন না। স্বামীর খেদমত অন্যান্য নফল ইবাদাত থেকেও উত্তম।

১২. স্বামীর কাছে পৃথিবীর কোন মানুষের গীবত করবেন না।

১৩. স্বামীর হুকুম ছাড়া স্বামীর মাল থেকে কাউকে ঋণ দেয়া অথবা দান করা থেকে বিরত থাকুন।

১৪. স্বামীর কোন দোষের কথা পৃথিবীর কোন মানুষকে না বলা। বরং স্বামীর মাথা যখন একদম ঠান্ডা থাকবে তখন স্বামীকে হাসিমুখে বিনয়ের সহিত তার ভুল ধরিয়ে ও সুধরে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

১৫. স্বামীর কোন কাজ নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও তর্ক না করবেন না।

১৬. স্বামী আপনার জন্য অল্প মূল্যে কিছু নিয়ে আসলেও "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করুন এবং এমন একটা ভাব করুন যেন এটা আপনার কাছে ভীষণ পছন্দ হয়েছে। এতে পুরুষেরা স্বস্তি পায়।

১৭. স্বামীর বাড়িতে যতই কষ্ট থাকুক, স্বামীর সাথে সমাধানের চেষ্টা করুন। কখনও হা-হুতাশ করে স্বামীকে কষ্ট দিবেন না।

ফরয নামাযের পর এবং দৈনিক ন্যূনতম দু'রাকা'আত সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দোয়া করুন। তিনি অবশ্যই কষ্ট লাঘব করবেন ইনশাআল্লাহ।

১৮. স্বামীর মেজাজ বুঝে ব্যবহার করুন। তার মুখে হাসি থাকলে আপনিও হাসুন। আর তার মন কোন কারণে খারাপ থাকলে আপনিও তার মন খারাপের ভাগিদার হোন। মন খারাপের সময় হেসে এটা প্রকাশ করবেন না যে তার মন খারাপে আপনার কিছু যায় আসে না। আর মেজাজ খারাপ থাকলে একদম চুপ থাকবেন।

১৯. স্বামী আপনাকে যে টাকা দিবে তার পুরোপুরি হিসাব তাকে দিয়ে দিন। আপনার ওপর একটা অন্য রকম বিশ্বাস সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।

২০. শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করুন। শ্বশুরবাড়ির সকলকে ভালোবাসুন।

২১. স্বামী যখন আপনার সঙ্গে ঘরোয়া কাজে অংশগ্রহণ করবেন সাধ্যমতো তাকে সহযোগিতা করুন। তার কাজের প্রশংসা করুন। ভুলগুলো পরে মোক্ষম সময়ে বুঝিয়ে দিন।

২২. ঘরের কাজ কারো জন্য ফেলে রাখবেন না।

২৩. স্বামী তার বাবা-মায়ের কাছে টাকা দিলে তা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। তাদের ছেলের টাকা তারা নিবে না তো কে নিবে? আপনার প্রাপ্য আপনাকে সঠিকভাবে দিলেই আলহামদুলিল্লাহ।

২৪. স্বামী সফর থেকে ফিরলে তৎক্ষণাৎ আনন্দ প্রকাশ করে তার খেদমতে একটু বাড়তি মনোযোগ দিন। কিছুক্ষণ পর শান্ত হলে তারপর আপনার মনে জমিয়ে রাখা প্রশ্নগুলো করতে পারবেন।

২৫. স্বামী আকার-ইঙ্গিতে সহবাসের আগ্রহ প্রকাশ করলে (শরঈ ওযর না থাকলে) আগ্রহের সঙ্গে সাড়াদিন।

মনে রাখবেন, স্বামী বিছানায় ডাকলে স্ত্রী বিনা ওজরে অমত করলে ফেরেশতারা এই স্ত্রীর উপর লা'নত করতে থাকে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের বোনদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেনঃ ইসহাক মাহমুদ

22/04/2025

দুচোখ যেদিকে যায় একদিন চলে যাবো" বলে দুঃখ কমানো মানুষগুলো জানে,
তার আসলে যাবার মত কোনো জায়গা নেই।সে জানে, সে যেখানে আছে সেখানেও সে আসলে নেই।

এই বিশাল দুনিয়ায় কিছু বদনসিব মানুষের একটা পুরো জীবন চলে যায়,
মূলত ঐ একখানা ঘরের সন্ধানেই, একখানা একান্ত আশ্রয়ের পিপাসাতেই ।

মাথা গোঁজার মত জায়গার তো অভাব নেই এই দুনিয়ায়, আশ্র‍য় তো শরনার্থীরো মেলে,
আমাদের অভাবটা মূলত মন বোঝার মত একখানা ঘরের, শান্তি মেলার মত একখানা পায়রার নীড়ের।

সে ঘরের দেয়ালে ফাটল থাক, ভাঙা হোক দুয়ার, মরচে ধরা হোক জানালার শিক,
অন্তত তার বাসিন্দাকে এমনভাবে আগলে রাখুক, যেন রাত নামলে কোনো জোনাক পাখি আর না গায়-
মৃত্যু কতদূরে, মৃত্যু কতদূরে ! 🖤
- কালেক্টেড।

14/03/2025

পুরুষের জীবন তিক্ত করে তোলে মাত্র ৩ জন নারী।

১.মা
২.বোন
৩.স্ত্রী!

এই তিন জনের মধ্যে যে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসে, মায়া করে 'পুরুষ'কে ছাড় দেয় সে-ই আবার সবচেয়ে বেশি ঠকে যায়।

কখনো কখনো ভালোবাসা মানুষকে এতোটাই অন্ধ করে তোলে যে; ঠকতে ভীষণ ভালো লাগে, আনন্দ লাগে....…। কিন্তু জীবনের কোনো এক বেলায় এসে হিসেব মেলে না। মনে হয় ঠকে যাওয়ার পাল্লাটা এতো ভারী কেনো?
বহন করা যে দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে। পরিশেষে সান্ত্বনা একটাই; আর তা হলো- হাসতে হাসতে সবটা উজাড় করে দিয়েও দিনশেষে ঠকেই গেলাম।

-আদিবা জান্নাত

09/03/2025

রোযার কতিপয়_আধুনিক মাসাইল
------------------------------------

১. #ইনজেকশন (Injection): ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গবে না। (জাওয়াহিরুল ফতওয়া)

২. #ইনহেলার (Inhaler): শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ঔষধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করান হয়, এভাবে মুখের ভিতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে। (ইমদাদুল ফতওয়া)

৩. #এনজিও_গ্রাম (Angio Gram): হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয় তার নাম এনজিও গ্রাম। এযন্ত্রটিতে যদি কোন ধরনের ঔষধ লাগানো থাকে তারপরেও রোজা ভাঙ্গবে না। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা)

৪. #এন্ডোস_কপি (Endos Copy): চিকন একটি পাইপ যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ঔষধ ছিটানো হয়ে থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে, আর যদি কোন ঔষধ লাগানো না থাকে তাহলে রোযা ভাঙ্গবে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৫. #নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin): এরোসল জাতীয় ঔষধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নীচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে।ঔষধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায় এবং ঔষধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৬. #লেপারোস_কপি (Laparoscopy): শিক্ জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোন অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে অন্যস্থায় রোযা ভাঙ্গেব না। (আল মাকালাতুল ফিকহীয়া)

৭. #অক্সিজেন (Oxygen): রোজা অবস্থায় ঔষধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোযা ভাঙ্গবে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৮. #মস্তিস্ক_অপারেশন (Brain Operation): রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করে ঔষধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক রোজা ভাঙ্গবে না। (আল মাকালাতুল ফিকহীয়া)

৯. #রক্ত নেয়া বা দেয়া : রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করলে বা শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভাঙ্গবে না। (আহসানুল ফতওয়া)

১০. #সিস্টোসকপি (cystoscopy): প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। (হেদায়া)

১১. #প্রক্টোসকপি (proctoscopy): পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপ বলে।মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় কোন পিচ্ছল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ঐ পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।(ফতওয়া শামী)

১২. #কপার-টি (Coper-T): কপার-টি বলা হয় যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে, যেন সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে বীর্য জরায়ুতে পৌছাতে না পারে। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।কাযা কাফফারা উভয়টাই ওয়াজিব হবে।

১৩. #সিরোদকার অপারেশন(Shirodkar Operation):সিরোদকার অপারেশন হল অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশংখা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুষ্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা।এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়।যেহেতু এতে কোন ঔষধ বা বস্তু রোযা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌছে না তাই এর দ্বারা রোযা ভাঙ্গবে না।

১৪. #ডি_এন্ড_সি (Dilatation and Curettage): ডি এন্ড সি হল আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোযা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাযা কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।(হেদায়া)

১৫. (M.R): এম আর হল গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আঁট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম,আর সিরন্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ভ্রণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব মাসিক শুরু হওয়ার কারণে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। কিন্তু যদি রাতের বেলা করা হয় তাহলে দিনের রোজা কাযা করতে হবে না। (ফতহুল কাদীর)

১৬. #আলট্রাসনোগ্রাম(Ultrasongram): আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সবই চামড়ার উপরে থাকে, তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোযা ভাঙ্গবে না। (হেদায়া)

১৭. #স্যালাইন (Saline): স্যালাইন নেয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেয়া মাকরূহ। (ফতওয়ায়ে দারাল উলূম)

১৮. #টিকা নেয়া (Vaccine) : টিকা নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় ব্যবহার করা হয় না। (আপকে মাসায়াল)

১৯. #ঢুস লাগানো (Do**he): ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভিতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। ঢুস যে জায়গা বা রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে এ জায়গা বা রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থান । (ফতওয়া শামী)

২০. #ইনসুলিন গ্রহণ করা: (Insulin): ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, ইনসুলিন রোযা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালী জায়গায় প্রবেশ করে না।(জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

২১. #দাঁত তোলা: রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েয আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। ঔষধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশী অথবা সমপরিমান রক্ত যদি গলায় যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (আহসানুল ফতওয়া)

২২. #পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা : রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

২৩. #মিসওয়াক করা : শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোন ক্ষতি হয় না। চাই যখনই করা হোক না কেন। (ফতওয়া শামী)

২৪. #মুখে_ঔষধ ব্যবহার করা : মুখে ঔষধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ঔষধ অংশ বিশেষ গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভাঙ্গবে না। (ফতওয়া শামী)

২৫. #রক্ত_পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশী পরিমাণে রক্ত দেয়া যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, তা মাকরূহ।

২৬. #ডায়াবেটিসের ‍সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেয়া হয়, এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না।

২৭. #নাকে ঔষধ দেয়া : নাকে পানি বা ঔষধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। (ফতওয়া রাহমানিয়া)

২৮. #চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করা : চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়। (হেদায়া)

২৯. #কানে ঔষধ প্রদান করা : কানে ঔষধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোযা ভাঙ্গবে না।

৩০. #নকল দাঁত মুখে রাখা: রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। (ইমদাদুল ফতওয়া)

৩১. #হিজামা বা সিংগা বা cupping এ রোযা ভাংগে না। যদি শরীর দুর্বল লাগার ভয় বা সম্ভাবনা থাকে তাহলে মাকরুহ। যদি এমন ভয় বা সম্ভাবনা না থাকে তাহলে মাকরুহ না।

(সংগৃহীত)

Want your school to be the top-listed School/college in Gazipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Chowrasta
Gazipur