29/06/2026
🌍 আমার ইরাসমাস মুন্ডুস যাত্রা – পর্ব ১:
নিম্ন GPA, নেই IELTS, নেই GRE – তবুও আমি বিশ্বাস হারাইনি!
(আমি যখন আমার স্নাতকের ৪র্থ বর্ষ, ২য় সেমিস্টারে পড়ছি, তখনই ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ পেয়ে যাই — তখনো আমি গ্র্যাজুয়েট হইনি।)
আমি আমার লক্ষ্যের দিকে কাজ শুরু করি স্নাতকের ২য় বর্ষ থেকে, কারণ আমি জানতাম আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ পেতে হলে সময়, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা দরকার।
আমার ৩য় সেমিস্টারে আমার CGPA ছিল মাত্র ১.৯৭, এবং আমি অ্যাকাডেমিক প্রবেশনে চলে যাই। East West University -তে, যদি কেউ দুইবারের বেশি প্রবেশনে যায়, তাহলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে।
সেই সময়টা খুব ভয়ের ছিল।
অনেক বন্ধু এবং সিনিয়র তখন বলেছিল:
“এই GPA নিয়ে স্কলারশিপের কথা ভুলে যাও।”
“পাশ করাটাই এখন মূল টার্গেট হওয়া উচিত।”
কিছু শিক্ষকও সতর্ক করেছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।
আমি শেখার ওপর মনোযোগ দিই এবং ধীরে ধীরে CGPA বাড়িয়ে ২.৫, পরে ২.৫৭ পর্যন্ত নিয়ে আসি। পারফেক্ট না হলেও, এটা ছিল উন্নতি। তখন থেকেই আমি একটি সিদ্ধান্ত নিই:
"আমি গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য এগিয়ে যাবো।"
📩 কোল্ড ইমেইল এবং প্রাথমিক প্রচেষ্টা
সেই সময় থেকে আমি বিভিন্ন দেশের প্রফেসরদের ইমেইল করা শুরু করি — জাপান, ইউরোপ সহ অনেক দেশে — এই বলে:
“আমি কি আপনার ল্যাবে ইন্টার্নশিপ করতে পারি বা ভবিষ্যতে মাস্টার্স করতে পারি?”
এইভাবে আমি ২০০’র বেশি প্রফেসরকে ইমেইল করি, এবং অনেকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে আমার আত্মবিশ্বাস, রিসার্চ কানেকশন এবং ভবিষ্যতের ভিশন তৈরি হয়।
৩য় বর্ষে আমি আবেদন করি:
MEXT (University-Recommended) – জাপানের প্রফেসরদের সুপারভিশনে
Erasmus Mundus – ইউরোপের ৩টি ভিন্ন প্রোগ্রামে
জাপানে ৩ জন প্রফেসর আমাকে MEXT-এর অধীনে নিতে রাজি ছিলেন। একজন আমাকে Hiroshima University-এর মাধ্যমে আবেদন করতেও বলেন। আমি আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু MEXT পাইনি।
এটা হতাশাজনক ছিল।
কিন্তু আমি একটি ব্যাকআপ প্ল্যান করেই রেখেছিলাম — এবং সেই বছরেই আমি Erasmus Mundus এ নির্বাচিত হই, যেটাকে আমি এখন আশীর্বাদ বলে মনে করি।
🧠 ধাপে ধাপে প্রোফাইল তৈরি
একটি সত্য কথা — তখন আমার ছিল:
নিম্ন GPA (2.57)
IELTS না থাকা (আমি MOI – Medium of Instruction ব্যবহার করেছি)
GRE ছিল না
কোনো প্রকাশিত গবেষণাপত্র ছিল না
তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করি:
"তাহলে আমি কীভাবে আমার CV কে শক্তিশালী করবো?"
তখনই আমি নিজ উদ্যোগে গবেষণার কাজ শুরু করি — আইডিয়া তৈরি, পেপার পড়া, এবং কিছু লেখার চেষ্টা। একা একা এটা কঠিন ছিল, কিন্তু এতে ডিসিপ্লিন এবং ইনিশিয়েটিভ শেখা হয়।
একই সাথে আমি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর (ACS, BPS, RSC) সদস্য হই। অনেককে ইমেইল করে বিনামূল্যে সদস্যপদ পাই। এতে আমি পাবলিকেশন, ওয়েবিনার, সেমিনার – সবকিছুতে অংশ নিতে পারতাম। এতে আমি বড় গবেষকরা কিভাবে চিন্তা করেন, সেটা বুঝতে পারি।
আমি AI, প্রোগ্রামিং সহ নানা বিষয়ে অনলাইন কোর্সও করি — আমার স্কিলসেট বাড়ানোর জন্য।
আমি BioPC – A Bioinformatics Lab of Research and Training-এ যুক্ত হই এবং ট্রেনিং কোর্স করি। কোর্স শেষ করে সেখানে আমি Research Assistant হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।
পরে আমি ABCD Laboratory, Bangladesh-এ ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। কোর্স শেষ করে আমি সেখানে Junior Research Collaborator হিসেবে যুক্ত হই। আমি কৃতজ্ঞ মোঃ জুুনাইদ ভাইয়ের প্রতি, যিনি ABCD Lab-এর প্রধান। তাঁর সহায়তা ছাড়া এই পথচলা পূর্ণ হতো না — তিনি আমার একজন বড় মেন্টর।
এই অভিজ্ঞতাগুলো আমার প্রোফাইলে বড় ভূমিকা রেখেছে।
🔁 হাল ছেড়ো না — শুধু পথ খুঁজে বের করো
আমি শুধু এটুকু বলতে চাই: আশা হারিও না।
অন্যদের কথার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করো না।
অনেক সিনিয়র বলেছিল, ২.৫ GPA দিয়ে মাস্টার্সই পাওয়া যাবে না — স্কলারশিপ তো স্বপ্ন!
কিন্তু আমি ফুল ফান্ডেড Erasmus Mundus স্কলারশিপ পেয়েছি।
এটা কোনো ম্যাজিক নয়।
এটা ছিল ২–৩ বছরের কঠিন পরিশ্রম।
আমি ঈদের দিন, ঈদের নামাজের পর, গভীর রাতে — ইমেইল পাঠাতাম, তথ্য পড়তাম, নিজেকে তৈরি করতাম।
এটা কোনো ১–২ দিনের শর্টকাট নয়। এটা একটা প্রক্রিয়া।
সবশেষে আমি আমার চাচা, ড. দেলোয়ার হোসেন-এর কথা বলতে চাই।
তিনি শুধু একজন মেন্টর নন — শৈশব থেকে আমার অনুপ্রেরণার উৎস।
তখন তিনি জাপানে PhD করছিলেন, তবুও আমাকে সাহায্য করতে কখনো পিছপা হননি।
“ধন্যবাদ” বলাটা যথেষ্ট নয় — তিনি যা করেছেন, তার জন্য শব্দই নেই।
লেখা : Md.Saad Hossain