ইসলামী জীবন গড়ি - Islami Jibon Gori

  • Home
  • ইসলামী জীবন গড়ি - Islami Jibon Gori

ইসলামী জীবন গড়ি  -  Islami Jibon Gori Our first objective is to spread the light of Islam and Islam among all. O Allah, please help us.

Besides, we are willing to do something for the deprived children and poor old men and women.

জামার হাতা, প্যান্ট গুটিয়ে নামাজ পড়া কি মাকরুহ, হারাম নাকি জায়েজ?**********ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ন...
11/05/2026

জামার হাতা, প্যান্ট গুটিয়ে নামাজ পড়া কি মাকরুহ, হারাম নাকি জায়েজ?
**********

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল দু’ হাত, দু’ হাঁটু ও দু’ পা।

- সহিহ বুখারী ৮১০, ৮১২, ৮১৫, ৮১৬; মুসলিম ৪৩/৪৪, হাঃ ৪৯০, আহমাদ ২৫৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭২।

রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সালাতের মধ্যে যদি কেউ কাপড় গুটান, তাহলে এই কাজ তাঁর জন্য মাকরুহ, অপছন্দনীয়, এটি জায়েজ নেই।

- মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/৮০৯, ১/১১২ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭৭২, ২/১৩৬ পৃঃ); মুসলিম হা/১১২৩; মিশকাত হা/৮৮৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৮২৭, ২/২৯৭ পৃঃ।

ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ছালাতের মধ্যে টাখনুর নীচে কাপড় পরে, সে হালালের মধ্যে আছে, না হারামের মধ্যে আছে তা আল্লাহর যায় আসে না’ । উক্ত হাদীছে টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে ছালাত আদায়কারী মুছল্লীর জন্য সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে।

- আবু দাঊদ, হা/৬৩৭, ১/৯৩ পৃ., সনদ ছহীহ; আওনুল মা‘বূদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৪০।

যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় পরবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না; বরং তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

- মুসলিম হা/৩০৬, ১/৭১ পৃঃ; মিশকাত হা/২৭৯৫; আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৩৩২।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কাপড় (প্যান্ট, পায়জামা বা লুঙ্গি) সর্বদা টাখনুর ওপরে পরা আবশ্যক। এটি কেবল নামাজের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের সব সময়ের বিধান। তবে নামাজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা হলো—প্যান্টের নিচের অংশ বা জামার হাতা কোনো অবস্থাতেই গুটিয়ে বা ভাঁজ করে রাখা যাবে না। নামাজে দাঁড়ানোর আগেই পরনের পোশাক স্বাভাবিক করে নিতে হবে; কারণ কাপড় গুটিয়ে বা ফোল্ড করে (যাকে হাদিসের পরিভাষায় ‘কাফ্ফুস সওব’ বলা হয়) নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমি।

এমনকি ওজু করার পর রাকাত পাওয়ার তাড়াহুড়োয় যদি কেউ হাতা গুটানো অবস্থায় নামাজে শরিক হয়ে যান, তবে নামাজের ভেতরেই 'আমলে কলীল'-এর মাধ্যমে (এক হাত ব্যবহার করে ধীরে ধীরে) হাতা ঠিক করে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, কাপড় গুটিয়ে নামাজ পড়া যেমন অনুচিত, তেমনি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়াও নিষিদ্ধ। তাই সর্বোত্তম উপায় হলো, কাপড় বা প্যান্ট দর্জি দিয়ে বানানোর সময় থেকেই টাখনুর ওপরে রাখা, যাতে নামাজের সময় নতুন করে তা গুটানোর প্রয়োজন না পড়ে। যারা কেবল নামাজের সময় প্যান্ট গুটিয়ে রাখেন কিন্তু অন্য সময় টাখনুর নিচে পরেন, তাদের এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করা জরুরি।

জান্নাতুল বাকির (বাকিউল গারকাদ বা মাকবারতুলবাকি এর) মাজারগুলো কি আসলেই ভেঙে ফেলা হয়েছিল?প্রথমেই একটি বিষয় ছোট্ট করে বলে ...
22/04/2026

জান্নাতুল বাকির (বাকিউল গারকাদ বা মাকবারতুলবাকি এর) মাজারগুলো কি আসলেই ভেঙে ফেলা হয়েছিল?

প্রথমেই একটি বিষয় ছোট্ট করে বলে নেই। আমাদের দেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারতের অধিকাংশ লোকজন মদিনার যে গোরস্থানকে "জান্নাতুল বাকি" বলে উপস্থাপন করে থাকেন, হাদিসের পরিভাষায় সে গোরস্থানকে "বাকিউল গারকাদ বা মাকবারতুলবাকি " বলা হয়েছে। তাই হাদিসের পরিভাষার বিপরীতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী স্থানের নামের বিকৃতি উচিত নয়।

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম পবিত্র স্থান মদিনার 'মাকবারতুলবাকি' গোরস্থান। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সেখানে একসময় বড় বড় মাজার বা গম্বুজ ছিল কি না, আর থাকলে সেগুলো কেন ভেঙে ফেলা হলো? এ বিষয়ে ইসলামের সহিহ সুন্নাহ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

✦ ইসলামের দৃষ্টিতে কবর ও মাজারের বিধান:
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কবর হবে অত্যন্ত সাধারণ। কবরের ওপর পাকা স্থাপনা তৈরি বা চুনকাম করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় বিশিষ্ট সাহাবি জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সা.) কবরে চুনকাম করতে, তার ওপর বসতে এবং তার ওপর ঘর বা বিল্ডিং নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।"

সুত্র : হাদিস একাডেমি - ২১৩৫, আন্তর্জাতিক - ৯৭০, ইসলামী ফাউন্ডেশন - ২১১৪, ইসলামীক সেন্টার - ২১১৭।

এই হাদিসটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কবরে প্লাস্টার লাগানো, পাকা করা কিংবা গম্বুজ নির্মাণ করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী।

✦ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও সুন্নাহর প্রয়োগ:
কবরকে কেন্দ্র করে যদি সুন্নাহ-বিরোধী কোনো উঁচু স্থাপনা বা মাজার তৈরি করা হয়, তবে তা অপসারণ করা ইসলামি সরকারের দায়িত্ব। প্রখ্যাত তাবেয়ি আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদি বর্ণনা করেন যে, আলি (রা.) তাকে বলেছিলেন:

"আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাব না, যে কাজে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো— কোনো মূর্তি বা প্রতিকৃতি পেলে তা মুছে দেবে এবং কোনো উঁচু কবর পেলে তা (ভেঙে) সমান করে দেবে।"

সুত্র : সুনান আত তিরমিজী - ১০৪৯, আল আহকাম - ২০৭, ইরওয়া - ৭৫৯, তাহজীরুস সাজিদ - ১৩০, সহিহ মুসলিম [হাদিসের মানঃ সহিহ]

মুহাদ্দিসগণের মতে, 'সমান করা' মানে একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া নয়, বরং জাহেলি যুগের মতো উঁচু না রেখে সাধারণ কবরের মতো সামান্য উঁচু রাখা, যাতে তা চেনা যায়।

✦ মদিনার বাকিউল গারকাদ বা মাকবারতুলবাকি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:
মদিনার মাকবারতুলবাকিতে সাহাবা ও তাবেঈদের যুগে কোনো মাজার বা গম্বুজ ছিল না। পরবর্তীতে বিভিন্ন যুগে সুন্নাহর জ্ঞানহীনতার কারণে সেখানে কবরের ওপর বড় বড় স্থাপনা ও মাজার তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান সৌদি সরকার মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং আলি (রা.)-এর নির্দেশিত সেই সুন্নাহর আলোকেই ওই অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করে বাকি গোরস্থানকে তার আদি ও সুন্নাহসম্মত রূপে ফিরিয়ে এনেছে।

এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং তাওহিদ ও সুন্নাহর সংরক্ষণ এবং কবর পূজা বা শিরকের মূলোৎপাটনের একটি আবশ্যিক পদক্ষেপ। যদিও সুফি বা বিদাতপন্থীরা একে নেতিবাচকভাবে প্রচার করে, কিন্তু একজন সচেতন মুসলিমের কাছে রাসুলের (সা.) সুন্নাহর অনুসরণই সর্বাগ্রে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল প্রকার শিরক ও বিদআত থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক সুন্নাহর ওপর পরিচালিত হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

তথ্যসূত্র ও মূল বক্তব্য:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব)

09/01/2026

"কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে? তারা বলবে, আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং মিসকিনদের খাবার দিতাম না।" (সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৪২-৪৪)

আয়াতগুলো পড়ার পর বুকটা কেঁপে উঠল। আমরা দুনিয়ার মোহে এতটাই অন্ধ যে, যে কপাল সিজদায় লুটিয়ে থাকার কথা ছিল, তা আজ অহংকারে আকাশছোঁয়া। যে হাত দিয়ে আর্তমানবতার সেবা করার কথা ছিল, সেই হাত আজ কেবল নিজের স্বার্থ গোছাতে ব্যস্ত।

হে আল্লাহ! আমি স্বীকার করছি আমি উদাসীন ছিলাম এখনো আছি, আমি অবহেলা করেছি এখনো করছি। দুনিয়ার তুচ্ছ ব্যস্ততায় আপনার দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার 'নামাজ'কে আমি যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারিনি। হে দয়াময়, আমার এই অবহেলা ক্ষমা করুন। মৃত্যু আসার আগেই আমাকে আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তৌফিক দিন। আমীন।

আমার ভুল ধরিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ, আমি সত্যের পথে নিজেকে সবসময় পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। আপনি?সঠিক সত্য জানার পর নিজের ভুল আ...
08/01/2026

আমার ভুল ধরিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ, আমি সত্যের পথে নিজেকে সবসময় পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। আপনি?

সঠিক সত্য জানার পর নিজের ভুল আমল বা ধারণা বদলে নিতে পারাটাই হলো প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য।

আমি মনে করি, জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এসে যদি দেখি আমার কোনো কাজ বা ইবাদত সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে না, তবে জেদ বা গোঁড়ামি না করে তখনই তা সংশোধন করে নেওয়া উচিত। কারণ দিনশেষে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর কাছে, মানুষের কাছে নয়।

ইনশাআল্লাহ, আমি সত্যের পথে নিজেকে সবসময় পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। আপনি প্রস্তুত তো? নাকি বলবেন "দীর্ঘদিনের অভ্যাস বা প্রথা পরিবর্তন করা কঠিন"!

#সুন্নাহ #সংশোধন

06/09/2025

বালাগাল ‘উলা বেকামালিহী’ এসব পড়া যাবে না! এ সমস্ত ভুয়া আমল থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

26/03/2025

প্রচলিত তারাবির সালাতে 4G, 5G দ্রুত তেলাওয়াত কি জাহা*ন্না*মের কারণ হবে?

কুরআন অধ্যয়ন ও তিলাওয়াতের আদব তারতীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মধুর সূরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।



20/02/2025

মাঝে কোনো পর্দা থাকে না, কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়! 🥲
আল্লাহ্ তা‘আলা সকলকে বিনয়ী ও নম্র হতে আদেশ করেন।

সুবাহান আল্লাহ,

যে ব্যাক্তি (পৃথিবীতে) কোন মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন।
যে ব্যাক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন।

[ সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ২২৮০, আন্তর্জাতিক: ২৪৪২ নাম্বার ]

সে দিন তারা ভীত-বিহবল হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ছুটোছুটি করবে।
তাদের চক্ষু এতটুকুর জন্যও নিজের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে একেবারেই আশা শূন্য’’। (সূরা ইব্রাহীম : ৪২-৪৩)



17/02/2025

কি জীবন আমাদের তাই না? মূল্যহীন দুনিয়াকে ভেবে নিয়েছি মণিহার! "আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় ..." !


13/02/2025

নারীর স্বাধীনতা ও পুরুষের পর্দা
-------------
“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে (নজর ঝুকিয়ে চলে) এবং তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাযতে রাখে; এটিই তাদের জন্য উত্তম। ওরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারাও যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থান সংরক্ষন করে---।”

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لَا تُتْبِعِ النَّظَرَ النَّظَرَ، فَإِنَّ الْأُولَى لَكَ وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ " “(কোন নারীর উপর তোমার দৃষ্টি পড়লে তার প্রতি) বারবার দৃকপাত করো না। বরং নজর সত্বর ফিরিয়ে নিও, কারণ, তোমার জন্য প্রথমবার ক্ষমা, দ্বিতীয়বার নয়”।[1]

যেহেতু “চক্ষুও ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার হল (কাম) দৃষ্টি।”

পর্দার ব্যাপারে আল্লাহর সাধারণ নির্দেশঃ-

“(হে নারী জাতি!) তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর এবং প্রাক-ইসলামী (জাহেলিয়াতী) যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না।”

“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমণ্ডলের) উপর টেনে নেয়। এতে (ক্রীতদাসী থেকে) তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। (লম্পটরা তাদেরকে উত্যক্ত করবে না।)”

“মুমিন নারীদেরকে বল, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাজত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের (অন্যান্য) আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় (উড়না অথবা চাদর) দ্বারা আবৃত করে”।[2]

“(হে পুরুষগণ!) তোমরা তাদের (নারীদের) নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র”।[3]

বলুন, নিশ্চয় আমার রব হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা(১)। আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালংঘন এবং কোন কিছুকে আল্লাহ্‌র শরীক করা- যার কোন সনদ তিনি নাযিল করেননি। আর আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না।(৪)

সুতরাং, মুসলিম নারীর নিকট পর্দা:- আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য।

পর্দা, নারীকে কাফের ও ক্রীতদাসী থেকে বাছাই করে সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারী রূপে চিহ্নিত করে।

পর্দা, আল্লাহর গযব ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মাধ্যম। নারীদের প্রধান শত্রু তার সৌন্দর্য ও যৌবন। আর পর্দা তার লাল কেল্লা।

[1] আহমদ: ১৩৬৯
[2] সূরা নূর, আয়াত: ৩১
[3] সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৩
[৪] সূরাঃ আল-আ'রাফ,আয়াত: ৩৩

যে যে সময়ে নামায নিষিদ্ধ*************১। ফরয নামায বাকী থাকলে তা আদায় করার সুযোগ হওয়া মাত্র যে কোন সময়ে সত্বর পড়ে নেওয়া জ...
11/02/2025

যে যে সময়ে নামায নিষিদ্ধ
*************
১। ফরয নামায বাকী থাকলে তা আদায় করার সুযোগ হওয়া মাত্র যে কোন সময়ে সত্বর পড়ে নেওয়া জরুরী। মহানবী (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এবং সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে (যথাসময়ে) নামায পেয়ে যায়।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০১নং)

তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য ডুবে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য উঠে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়।” (বুখারী, মিশকাত ৬০২নং)

----
দিবারাত্রে পাঁচটি সময়ে নামায পড়া নিষিদ্ধ; মহানবী (ﷺ) বলেন,
(১) “আসরের নামাযের পর সূর্য না ডোবা পর্যন্ত আর কোন নামায নেই এবং
(২) ফজরের নামাযের পর সূর্য না ওঠা পর্যন্ত আর কোন নামায নেই।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১০৪১ নং)

উক্ববা বিন আমের (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ) আমাদেরকে তিন সময়ে নামায পড়তে এবং মুর্দা দাফন করতে নিষেধ করতেন;

(৩) ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত,
(৪) সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং
(৫) সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম, আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ১০৪০ নং) যেহেতু এই সময়গুলিতে সাধারণত: কাফেররা সূর্যের পূজা করে থাকে তাই। (মুসলিম, মিশকাত ১০৪২ নং)

নামায নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এটি হল সাধারণ নির্দেশ। কিন্তু অন্যান্য হাদীস দ্বারা কিছু সময়ে কিছু নামাযকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে। যেমন:

২। অনুরুপ কোন ফরয নামায পড়তে ভুলে গিয়ে থাকলে তা স্মরণ হওয়া মাত্র সত্বর যে কোন সময়ে অথবা ঘুমিয়ে গিয়ে থাকলে জাগার পর উঠে সত্বর যে কোন সময়ে আদায় করা জরুরী। মহানবী (ﷺ) বলেন, “কেউ ঘুমিয়ে গেলে তা তার শৈথিল্য নয়। শৈথিল্য তো জাগ্রত অবস্থাতেই হয়ে থাকে। সুতরাং যখন কেউকোন নামায পড়তে ভুলে যাবে অথবা ঘুমিয়ে যাবে, তখন তার উচিৎ, তা স্মরণ (বা জাগ্রত) হওয়া মাত্র পড়ে নেওয়া। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে তুমি নামায কায়েম কর।” (মুসলিম, মিশকাত ৬০৪নং, কুরআন মাজীদ ২০/১৪)

৩। দিন-দুপুরে মসজিদে জুমুআহ পড়তে এসে ইচ্ছামত নফল নামায পড়া বিধেয়। এ নামাযও নিষেধের আওতাভুক্ত নয়। (মিশকাত ১০৪৬নং)

৪। ফজরের ফরয নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত সুন্নত পড়তে সময় না পেলে ফরযের পর তা পড়া যায়। আল্লাহর রসূল (ﷺ) একদা এক ব্যক্তিকে দেখলেন ফজরের ফরয নামাযের পর দু’ রাক্‌আত নামায পড়ল। তিনি তাকে বললেন, “ফজরের নামায তো দু’ রাকআত মাত্র!” লোকটি বলল, ‘আমি ফরযের পূর্বে দু’ রাকআত পড়তে পাই নি, এখন সেটা পড়ে নিলাম।’ এ কথা শুনে তিনি নীরব থাকলেন। (অর্থাৎ, মৌনসম্মতি জানালেন।) (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ১০৪৪)

৫। কারণ-সাপেক্ষ যাবতীয় নামায যথার্থ কারণ উপস্থিত হওয়া মাত্র যে কোন সময়েই পড়া যায়। যেমন :-

ক- কা’বা শরীফের তওয়াফের পর দু’ রাকআত নামায। তওয়াফ শেষ হওয়ার পরেই যে কোন সময়ে ঐ নামায পড়া যায়। মহানবী (ﷺ) বলেন, “হে আব্দে মানাফের বংশধর! দিবারাত্রের যে কোন সময়ে কেউএ গৃহের তওয়াফ করে নামায পড়লে তাকে তোমরা বাধা দিও না।” (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ১০৪৫ নং)

খণ্ড তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (মসজিদ-সেলামী) দু’ রাকআত নামায। যে কোনও সময়ে মসজিদ প্রবেশ করে বসার ইচ্ছা করলে বসার পূর্বে এই নামায পড়তে হয়। মহানবী (ﷺ) বলেন, “তোমাদের কেউমসজিদ প্রবেশ করলে সে যেন দু’ রাকআত নামায পড়ার পূর্বে না বসে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৭০৪নং)

গ- সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের নামায। মহানবী (ﷺ) বলেন, “সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে তাতে গ্রহণ লাগে না। সুতরাং গ্রহণ লাগা দেখলে তোমরা আল্লাহর নিকট দুআ কর, তকবীর পড়, নামায পড় এবং সদকাহ্‌ কর।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৪৮৩ নং)

ঘ- জানাযার নামায। আসর ও ফজর নামাযের পরও জানাযার নামায পড়া যাবে। অবশ্য শেষোক্ত তিন সময়ে এই নামায বৈধ নয়। যেমন পূর্বোক্ত হাদীসে এ কথা বর্ণিত হয়েছে। (আজামে ১৩০-১৩১পৃ:)

সুতরাং সাধারণ নফল নামায উক্ত সময়গুলিতে নিষিদ্ধ। তবে আসরের পর সূর্য হ্‌লুদবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ নয়। (সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ২৫৪৯ নং)

স্বালাতে মুবাশ্‌শির
আবদুল হামীদ ফাইযী মাদানী

29/01/2025

আমি গুরুত্বপূর্ণ কেউ না!
---------------
“কিন্তু, ধৈর্যশীলদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দান করুন, যারা (ধৈর্যশীলরা) মুসিবতে পড়লে বলে, “আমরা অবশ্যই আল্লাহর জন্য এবং তার নিকটই আমরা ফিরে যাব।” (২-সূরা বাকারাঃ আয়াত-১৫৫-১৫৬)

“আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা রেখেছেন তাতে তুষ্ট হও, তাহলেই তুমি সর্বাপেক্ষা সুখী মানুষ হবে।”

আশ্চর্যজনক যে, যখন জীবন-যাপন পদ্ধতির পরিবর্তন আমাদের উপর প্রভাব ফেলে তখন আমরা কিভাবেই না আমাদের চিন্তা-ভাবনাকে খাপ খাইয়ে নিই!

পঞ্চাশ বছর আগে একটি বাড়ির উপাদান (জিনিসপত্র) ছিল-তালপাতার তৈরি একটি মাদুর, একটি পানির কলসী, কিছু কয়লা এবং অন্যান্য তুচ্ছ কিছু জিনিসপত্র। বর্তমানে মানুষ যেভাবে জীবন চালিয়ে নিচ্ছে অতীতেও সেভাবে তারা জীবন চালিয়ে নিতে পারত; কোন উপাদানের বা উৎসের বা আরাম-আয়েশের অভাব অতীতের জীবনমানকে বর্তমানের চেয়ে কোন অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ করেনি।

একজন আরব কবি বলেছেন-

“তুমি যখন আত্মাকে প্রলোভন দেখাবে তখন আত্মা আরো চাইবে, আর যখন একে অল্পের কথা বলা হয় তখন এটা অল্পে তুষ্ট হয়।”

“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন মুসিবত আসে না, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথ দেখান। (৬৪-সূরা আত তাগাবুনঃ আয়াত-১১)

“আর মানুষ তো এমনই যে, যখন তাকে তার প্রভু সম্মানিত করে ও ধন-সম্পদ দান করে পরীক্ষা করেন তখন বলে, “আমার প্রভু আমাকে সম্মানিত করেছেন।” আর যখন তার প্রভু তাকে রিযিক কমিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করেন তখন সে বলে, “আমার প্রভু আমাকে অপমানিত করেছেন।” (৮৯-সূরা আল ফাজর : আয়াত-১৫-১৬)

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলামী জীবন গড়ি - Islami Jibon Gori posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to ইসলামী জীবন গড়ি - Islami Jibon Gori:

Shortcuts

  • Want your school to be the top-listed School/college?

Share