Mosaddik Studio

Mosaddik Studio

Share

Educational consultant

Photos from Mosaddik Studio's post 01/04/2026

২ এপ্রিল ১৯৭১: জিঞ্জিরার সেই নারকীয় রক্তস্নান
সেদিন ছিল শুক্রবার। ভোরের আলো ফোটার আগেই যমদূত হয়ে হানা দিয়েছিল পাকিস্তানি হায়েনারা। ২৫শে মার্চের কালরাত থেকে বাঁচতে ঢাকা শহরের হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় ভেবে জমায়েত হয়েছিল বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে—জিঞ্জিরা, কালিন্দী ও শুভাড্যায়। কিন্তু তারা জানত না, এই জনপদটিকেই মৃত্যুপুরী বানানোর নীল নকশা সাজিয়েছেন কুখ্যাত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশীর।
মিটফোর্ড হাসপাতালের ছাদ থেকে ফ্লেয়ার ছুঁড়ে যখন সিগন্যাল দেওয়া হলো, ঘড়িতে তখন ভোর পাঁচটা। মুহূর্তেই শান্ত জনপদ প্রকম্পিত হলো মর্টার শেল আর মেশিনগানের গর্জনে। পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠল পাকিস্তানি সেনারা। একদিকে জ্বলছিল গান পাউডারে ভস্মীভূত ঘরবাড়ি আর বাজার, অন্যদিকে চারদিকে ছুটছিল নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষের আর্তচিৎকার।
হায়েনাদের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায়নি কোলের শিশুও। মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে শিশুকে আছাড় দিয়ে কিংবা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে চোখের সামনে। মান্দাইল ডাকের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে স্টেনগানের ব্রাশফায়ারে মুহূর্তেই ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় ৬০টি তাজা প্রাণ। কালিন্দীর একটি বাড়িতে ১১ জন নারীকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
সেই বিভীষিকার বর্ণনা দিতে গিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন এক রুদ্ধশ্বাস দৃশ্য—শেলের আঘাতে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি তখনো দৌড়াচ্ছেন, আর তাঁর কবন্ধ দেহ থেকে ফিনকি দিয়ে ছোটা রক্তে ভিজে যাচ্ছে শুভাড্যার মাটি। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ পচা ডোবা কিংবা কবরের ভেতরেও লুকিয়ে ছিল, কিন্তু খুনি বশীরের নির্দেশে ঘাতক বাহিনী পিঁপড়ার মতো খুঁজে খুঁজে মানুষ মেরেছে।
সকাল সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট—এই দীর্ঘ নয় ঘণ্টায় জিঞ্জিরা ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছিল লাশের ভাগাড়ে। রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল বুড়িগঙ্গার জল। মাত্র নয় ঘণ্টার এই তাণ্ডবে শহীদ হয়েছিলেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। ইতিহাসের পাতায় জিঞ্জিরা গণহত্যা এক রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি হিসেবে টিকে আছে, যা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় পাকিস্তানি হানাদারদের সেই চরম বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার কথা।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, অষ্টম খণ্ড (পৃষ্ঠা ৩৭৬-৩৭৮)

জিঞ্জিরা জেনোসাইড ১৯৭১/ নির্মলেন্দু গুণ

দৈনিক বাংলা: ১৩ নভেম্বর, ১৯৭২

জিঞ্জিরা গণহত্যা ও আমার সর্বনাশ/ আবদুল হান্নান

৩ এপ্রিল শনিবার ১৯৭১; একাত্তরের দিনগুলি/ জাহানারা ইমাম

৭১ এর দশ মাস/ রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী

the daily star বাংলা প্রকাশিত
২ এপ্রিল ২০২১,
সর্বশেষ আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৩

29/03/2026

মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল ও সেক্টর গঠন
সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শেখ মুজিবকে সরকার গঠনে আহ্বান করার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। প্রতিবাদে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এরপর ২৫ শে মার্চ রাতে গণহত্যা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।

গণহত্যা শুরুর পর সামরিক বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বাঙালি সদস্য এবং তরুণ দেশপ্রেমিকেরা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত।
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
সেখানে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
এপ্রিলের ১০ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার তথা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
তারপর আরও চারটি সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করে সেগুলোর সেক্টর কমান্ডারদের নাম ঘোষণা করেন তাজউদ্দিন আহমদ।
উনিশশ একাত্তর সালের ১১ই জুলাই থেকে ১৭ই জুলাই পর্যন্ত কলকাতাস্থ ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল সেখানে।

সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রধানতম ছিল সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা, এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চল ভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।

আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম এদেশের মানুষের কাছে ছিল না।

এমন অবস্থায় স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রণকৌশল গ্রহণ করতে হয়েছিল।

আর পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ফেলা ছিল এসব রণকৌশলেরই একটি অংশ।
মূল লেখা বিবিসি বাংলা

25/03/2026

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’ সংবাদপত্রে একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘বার্থ অব অ্যা নেশন’ (একটি জাতির জন্ম) শীর্ষক সেই নিবন্ধটি যখন প্রকাশিত হয়, সেসময় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তখন তার র‌্যাঙ্ক ছিল মেজর জেনারেল।
পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ পত্রিকাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ নিবন্ধটি আবারও প্রকাশিত হয়।

স্মৃতিচারণ নিবন্ধটিতে জিয়া ছাত্রজীবন এবং সৈনিক জীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার আলোকে পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন এবং রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সামরিক শাসনের ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেছিলেন।
তিনি লেখেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর জনাব জিন্নাহ (পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা) তার ঐতিহাসিক ঢাকা সফরে ঘোষণা করছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। আমার মতে সেদিন থেকেই বাঙালিদের হৃদয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়।’

জিয়া তার লেখায় আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই সেদিন ঢাকায় এই অস্বাভাবিক দেশটির ধ্বংসের বীজ বুনে দিয়েছিলেন।’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান তার নিজের মনে গভীর রেখাপাত করা প্রধান রাজনৈতিক ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিররণ দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন; আইয়ুব খানের সামরিক শাসন; ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ; ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন।

পাকিস্তানি শাসকদের ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা, বাঙালিদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাব এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ—এসবই বাঙালিদের শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছিল বলেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন জিয়া ।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও সুসংহত করেছিল।

জিয়া লিখেছেন, ‘ওই মামলার পরিণতি (শেখ মুজিবের নিঃশর্ত মুক্তিলাভ) বাঙালি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে... তারা বাঙালি (বেসামরিক) জনগণের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় পাকিস্তানি শাসকদের জন্য ছিল বড় এক ধাক্কা। ক্ষমতা হস্তান্তরে তাদের টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে, ফলে ১৯৭১ সালের মার্চে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।

জিয়া লিখেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখন গোপনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের কাছে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ হিসেবে এসেছিল। এরপর আমরা আমাদের পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ দিলাম...তারপরই নেমে এলো ২৫ ও ২৬ মার্চের কালরাত।’

জিয়া উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলোই বাঙালিদের জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে পরিণত হয়।

তিনি লিখেছেন, সেই কালরাতে ১টার দিকে তাঁর কমান্ডিং অফিসার চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি জেনারেল আনসারির কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেন। সেখানে একটি নেভি ট্রাকে করে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। জেনারেল আনসারি সেখানে শিকারির মত অপেক্ষায় ছিলেন, ‘সম্ভবত আমাকে চিরতরে শেষ (হত্যা) করে দেওয়ার জন্য।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বন্দরের পথে যাওয়ার পথে বাঙালি মেজর খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাঁকে থামান এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সশস্ত্র হামলার খবর দেন। এরপর জিয়া দ্রুত নিজ ব্যাটালিয়নে ফিরে আসেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, বাঙালি সৈন্যরা ততক্ষণে সব পাকিস্তানি অফিসারকে একটি কক্ষে বন্দি করে ফেলেছে।

জিয়া লিখেছেন, অফিসে পৌঁছে তিনি বাঙালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমআর চৌধুরী এবং মেজর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কাউকেই পাননি। সামরিক কর্মকর্তাদের না পেয়ে তিনি বেসামরিক টেলিফোন অপারেটরকে ফোন করেন।

তাঁর ভাষায়, ‘আমি অপারেটরকে অনুরোধ করলাম ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, কমিশনার, ডিআইজি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাতে যে, ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ করেছে এবং তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করবে।’

সৌজন্যে আরটিভি/এআর

22/03/2026

১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত ২৩ মার্চ উদ্যাপিত হতো পাকিস্তান দিবস বা লাহোর প্রস্তাব দিবস হিসেবে। এদিন পাকিস্তানের পতাকায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, দোকানপাট সব। যেদিকে তাকাতাম, চাঁদ-তারা আর চাঁদ-তারা। মনে হতো যেন রাত ঘনিয়ে এসেছে চারদিকে। এ বছরই, সম্ভবত মার্চের ১৮/১৯ তারিখ জনাব আবদুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর নয়, এবার পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উঠবে। প্রতিটি যানবাহনে, ভবনে, সব কার্যালয়ে, উচ্চ আদালতে উত্তোলিত হবে ওই পতাকা। এ নির্দেশনার আলোকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পূর্বঘোষিত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পতাকা উত্তোলন দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এটা প্রদীপ্ত সূর্যের মতো সত্য যে, শুধু পল্টনেই নয়, সমগ্র দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও মহকুমা শহরেও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ডাকে একযোগে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলিত হয় এদিন। কেবল ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের খণ্ডিত অবাঙালি অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকা ছাড়া সব জায়গা থেকে পাকিস্তানের শেষ চিহ্নটি অবলুপ্ত করে দেওয়া হয়। ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন দিবস, এটা ইতিহাসস্বীকৃত বাস্তব। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, এ পতাকাটি যত দিন আপন মহিমায় গৌরবদীপ্ত ভঙ্গিমায় বাঙালির সুতীব্র আবেগের আবির মাখিয়ে উড্ডীয়মান থাকবে- তত দিন দিগন্তবিস্তীর্ণ আকাশের বক্ষে প্রদীপ্ত সূর্যের মতো শাশ্বত ও স্মরণীয় থাকবে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নির্দেশে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকাটি সগৌরবে উড়িয়ে দেয় এ দেশের স্বাধীনতা-পাগল মানুষ। বিউগলে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সুর ভেসে আসছে। ধীরে ধীরে পতাকাটি উড়ল আর শুরু হলো একেকটি ব্রিগেডের অভিবাদন দেওয়ার অভিযাত্রা। ৩০৩ রাইফেল থেকে উপর্যুপরি আকাশের দিকে গুলিবর্ষণ হতে লাগল। তখন আউটার স্টেডিয়ামটি ছিল না। যত দূর চোখ যায়, সীমাহীন সমুদ্রের উচ্ছ্বসিত ঊর্মিমালার মতো মানুষ আর মানুষ। কর্মসূচি অনুযায়ী ওই ব্রিগেড ও স্বতঃস্ফূর্ত জনতাকে নিয়ে মার্চপাস্ট করে ৩২ নম্বরে গিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকাটি তুলে দেওয়া হয় । পতাকাটি গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, 'বাংলার দাবির প্রশ্নে কোনো আপস নাই। বহু রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজনবোধে আরও রক্ত দেবো, কিন্তু মুক্তির লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাবই। বাংলার মানুষকে আর পরাধীন করে রাখা যাবে না। আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রাম আমাদের চলবে। এই সংগ্রামের পন্থা কী হবে তা আমিই ঠিক করে দেবো, সে ভার আমার উপরই ছেড়ে দিন। শাসক-কায়েমি স্বার্থবাদীদের কীভাবে পর্যদুস্ত করতে হয় আমি জানি। অতুলনীয় ঐক্য, নজিরবিহীন সংগ্রামী চেতনা আর প্রশংসনীয় শৃঙ্খলা বোধের পরিচয় দিয়া বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছে, শক্তির জোরে তাদের আর দাবাইয়া রাখা যাবে না। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, যতদিন সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির সার্বিক মুক্তি অর্জিত না হবে, যতদিন একজন বাঙালি বেঁচে থাকবে, এই সংগ্রাম আমাদের চলবে। মনে রাখবেন, সর্বাপেক্ষা কম রক্তপাতের মাধ্যমে যিনি চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন, তিনিই সেরা সিপাহশালার। তাই বাংলার জনগণের প্রতি আমার নির্দেশ, সংগ্রাম চালিয়ে যান, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন, সংগ্রামের কর্মপন্থা নির্ধারণের ভার আমার উপরই ছেড়ে দিন।'

17/03/2026

আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন
আজ ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন।
ব্রিটিশ শাসনামলে জন্ম নেওয়া বঙ্গবন্ধু কৈশোর থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রথমবার কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি প্রখ্যাত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম-এর সান্নিধ্যে আসেন এবং ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

15/03/2026
15/03/2026

আজ ১৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা এই দিনে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং চলতে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সব অফিস আদালতে চলে কর্মবিরতি। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ঘরবাড়ি এমনকি যানবাহনে উড়ানো হয় কালো পতাকা। সামরিক বাহিনীর নয়াবিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে ছাত্ররা বাংলাদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের ১৫তম দিনে এসে আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তান। আন্দোলন অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয় মুক্তিকামী বাঙালীর কাছে।
প্রতিপক্ষের আঘাতের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সামরিক বাহিনীর নয়াবিধি জারির প্রতিবাদে ছাত্রদের ডাকা সমাবেশে বাংলাদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করা হয়।
বাঙালীর অধিকার হরণের প্রতিবাদে শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা তাদের খেতাব বর্জন করতে থাকেন।
এদিন, ঢাকার বিভিন্ন জায়গার চেকপোষ্ট বসিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যদের নজরদারি বন্ধের দাবি জানান বঙ্গবন্ধু। এরফলে বাঙালীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সব চেষ্টাও ব্যর্থ হয় ইয়াহিয়া খানের সরকারের।
এমন এক উত্তাল দিনে কঠোর সামরিক নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুও স্বাধীনতার দাবিতে অটল থেকেই দেখা করতে যান ইয়াহিয়া খানের সাথে। সৌজন্যে একুশে টিভি

06/03/2026

"আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি- আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরের রাজপথ আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।
আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়- তারা বাঁচতে চায়। তারা অধিকার পেতে চায়। নির্বাচনে আপনারা সম্পূর্ণভাবে আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন শাসনতন্ত্র রচনার জন্য। আশা ছিল জাতীয় পরিষদ বসবে, আমরা শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এই শাসনতন্ত্রে মানুষ তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি লাভ করবে। কিন্তু ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।
২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মুমূর্ষু আর্তনাদের ইতিহাস, রক্ত দানের করুণ ইতিহাস। নির্যাতিত মানুষের কান্নার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করেও ক্ষমতায় বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি করে আইয়ুব খান দশ বছর আমাদের গোলাম করে রাখলো। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দেওয়া হলো এবং এরপর এ অপরাধে আমার বহু ভাইকে হত্যা করা হলো। ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া খান এলেন। তিনি বললেন, তিনি জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবেন, শাসনতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম।
তার পরের ঘটনা সকলেই জানেন। ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা হলো- আমরা তাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করলাম। কিন্তু ‘মেজরিটি’ পার্টির নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমার কথা শুনলেন না। শুনলেন সংখ্যালঘু দলের ভূট্টো সাহেবের কথা। আমি শুধু বাংলার মেজরিটি পার্টির নেতা নই, সমগ্র পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা। ভূট্টো সাহেব বললেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে অধিবেশন ডাকতে, তিনি মার্চের ৩ তারিখে অধিবেশন ডাকলেন।
আমি বললাম, তবুও আমরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যাব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি ন্যায্য কথা বলে আমরা তা মেনে নেব, এমনকি তিনি যদি একজনও হন।
জনাব ভূট্টো ঢাকা এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা হলো। ভূট্টো সাহেব বলে গেলেন আলোচনার দরজা বন্ধ নয়; আরো আলোচনা হবে। মাওলানা নূরানী ও মুফতি মাহমুদসহ পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য পার্লামেন্টারি নেতারা এলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হলো- উদ্দেশ্য ছিল আলাপ-আলোচনা করে শাসনতন্ত্র রচনা করবো। তবে তাদের আমি জানিয়ে দিয়েছি ৬-দফা পরিবর্তনের কোন অধিকার আমার নেই, এটা জনগণের সম্পদ। কিন্তু ভূট্টো হুমকি দিলেন। তিনি বললেন, এখানে এসে ‘ডাবল জিম্মী’ হতে পারবেন না। পরিষদ কসাই খানায় পরিণত হবে। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি সদস্যদের প্রতি হুমকি দিলেন যে, পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলে রক্তপাত করা হবে, তাদের মাথা ভেঙে দেওয়া হবে। হত্যা করা হবে। আন্দোলন শুরু হবে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত। একটি দোকানও খুলতে দেওয়া হবে না।
তা সত্ত্বেও পঁয়ত্রিশ জন পশ্চিম পাকিস্তানি সদস্য এলেন। কিন্তু পয়লা মার্চ ইয়াহিয়া খান পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলেন। দোষ দেওয়া হলো, বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে, বলা হলো আমার অনমনীয় মনোভাবের জন্যই কিছু হয়নি।
এরপর বাংলার মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলো। আমি শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য হরতাল ডাকলাম। জনগণ আপন ইচ্ছায় পথে নেমে এলো।
কিন্তু কি পেলাম আমরা? বাংলার নিরস্ত্র জনগণের উপর অস্ত্র ব্যবহার করা হলো। আমাদের হাতে অস্ত্র নেই। কিন্তু আমরা পয়সা দিয়ে যে অস্ত্র কিনে দিয়েছি বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে, আজ সে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে আমার নিরীহ মানুষদের হত্যা করার জন্য। আমার দুখি জনতার উপর চলছে গুলি। আমরা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখনই দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে চেয়েছি, তখনই ষড়যন্ত্র চলেছে- আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
ইয়াহিয়া খান বলেছেন, আমি নাকি ১০ই মার্চ তারিখে গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করতে চেয়েছি, তাঁর সাথে টেলিফোনে আমার আলাপ হয়েছে। আমি তাঁকে বলেছি আপনি দেশের প্রেসিডেন্ট, ঢাকায় আসুন দেখুন আমার গরীব জনসাধারণকে কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে।
আমি আগেই বলে দিয়েছি কোন গোলটেবিল বৈঠক হবে না। কিসের গোলটেবিল বৈঠক? কার গোলটেবিল বৈঠক? যারা আমার মা বোনের কোল শূন্য করেছে তাদের সাথে বসবো আমি গোলটেবিল বৈঠকে? তেসরা তারিখে পল্টনে আমি অসহযোগের আহ্বান জানালাম। বললাম, অফিস-আদালত, খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করুন। আপনারা মেনে নিলেন।
হঠাৎ আমার সঙ্গে বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে একজনের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা বৈঠকের পর ইয়াহিয়া খান যে বক্তৃতা করেছেন, তাতে সমস্ত দোষ আমার ও বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। দোষ করলেন ভূট্টো- কিন্তু গুলি করে মারা হলো আমার বাংলার মানুষকে। আমরা গুলি খাই, দোষ আমাদের- আমরা বুলেট খাই, দোষ আমাদের।
ইয়াহিয়া সাহেব অধিবেশন ডেকেছেন। কিন্তু আমার দাবী সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে, হত্যার তদন্ত করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো পরিষদে বসবো কি বসবো না। এ দাবী মানার আগে পরিষদে বসার কোন প্রশ্নই ওঠে না, জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয়নি। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ২৫ তারিখে পরিষদে যোগ দিতে যাব না।
ভাইয়েরা, আমার উপর বিশ্বাস আছে? আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, মানুষের অধিকার চাই। প্রধান মন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে নিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো; মনে আছে? আজও আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।
আমি বলে দিতে চাই, আজ থেকে কোর্ট-কাচারী, হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট, অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অনির্দিষ্ট-কালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিস যাবেন না। এ আমার নির্দেশ। গরীবের যাতে কষ্ট না হয় তার জন্য রিক্সা চলবে, ট্রেন চলবে আর সব চলবে। ট্রেন চলবে- তবে সেনাবাহিনী আনা-নেয়া করা যাবে না। করলে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য আমি দায়ী থাকবো না।
সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট জজকোর্ট সহ সরকারী, আধা-সরকারী এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো বন্ধ থাকবে। শুধু পূর্ব বাংলার আদান-প্রদানের ব্যাঙ্কগুলো দুই-ঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা যেতে পারবেন না। টেলিগ্রাফ, টেলিফোন বাংলাদেশের মধ্যে চালু থাকবে। তবে, সাংবাদিকরা বহির্বিশ্বে সংবাদ পাঠাতে পারবেন।
এদেশের মানুষকে খতম করা হচ্ছে, বুঝে শুনে চলবেন। দরকার হলে সমস্ত চাকা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আপনারা নির্ধারিত সময়ে বেতন নিয়ে আসবেন। যদি একটিও গুলি চলে তাহলে বাংলার ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলবেন। যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রাস্তা ঘাট বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা তাদের ভাতে মারবো-পানিতে মারবো। হুকুম দিবার জন্য আমি যদি না থাকি, আমার সহকর্মীরা যদি না থাকেন, আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ কিছু বলবে না। গুলি চালালে আর ভাল হবে না। সাত কোটি মানুষকে আর দাবিয়ে রাখতে পারবা না। বাঙালী মরতে শিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। শহীদদের ও আহতদের পরিবারের জন্য আওয়ামী লীগ সাহায্য কমিটি করেছে। আমরা সাহায্যের চেষ্টা করবো। আপনারা যে যা পারেন দিয়ে যাবেন।
সাত দিনের হরতালে যে সব শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছেন, কারফিউর জন্য কাজ করতে পারেননি-শিল্প মালিকরা তাদের পুরো বেতন দিয়ে দেবেন।
সরকারী কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। কাউকে যেন অফিসে দেখা না যায়। এ দেশের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ থাকবে। আপনারা আমার উপর ছেড়ে দেন, আন্দোলন কিভাবে করতে হয় আমি জানি।
কিন্তু হুঁশিয়ার, একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের মধ্যে শত্রু ঢুকেছে, ছদ্মবেশে তারা আত্মকলহের সৃষ্টি করতে চায়। বাঙালী-অবাঙালী, হিন্দু-মুসলমান সবাই আমাদের ভাই, তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্র যদি আমাদের আন্দোলনের খবর প্রচার না করে তবে কোন বাঙালী রেডিও এবং টেলিভিশনে যাবেন না।
শান্তিপূর্ণভাবে ফয়সালা করতে পারলে ভাই ভাই হিসাবে বাস করার সম্ভাবনা আছে, তা না হলে নেই। বাড়াবাড়ি করবেন না, মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রস্তুত থাকবেন, ঠাণ্ডা হলে চলবে না। আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়লে তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। শৃঙ্খলা ছাড়া কোন জাতি সংগ্রামে জয়লাভ করতে পারে না।
আমার অনুরোধ প্রত্যেক গ্রামে, মহল্লায়, ইউনিয়নে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
“এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।
জয় বাংলা।"

22/08/2024

হে পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহ আপনার রহমত দিয়ে বন্যাকবলিত মানুষদের হেফাজত করুন।

Photos from MOSADDIK HASAN's post 19/08/2024

রাস্তায় ট্রাফিকের মত অক্লান্ত পরিশ্রমের কাজ করে যাচ্ছে আমাদের আগামী দিনের নবীন প্রজন্ম যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ত্যাগের মাধ্যমে আগামীর দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, স্বচ্ছ ও পাপ মুক্ত এই প্রজন্মের তরুণদের সাথে থাকতে পেরে গর্বিত।

Photos from MOSADDIK HASAN's post 13/07/2024

তরুণ,সুদর্শন, মেধাবী ফেরদৌস এবং বালিয়ানের সুপরিচিত মেম্বার মঞ্জু ভাই

Want your school to be the top-listed School/college in Fulbaria?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Fulbaria
2216