শুভ নববর্ষ 🎉১৪৩২
কোর্ট-কাচারির আইন-কানুন
কোর্ট-কাচারির আইন-কানুন [Field of Law Study & Law Careers Advising]
উচ্চ আদালত থেকে কোন মামলার কার্যক্রম স্টে (Stay) করা হলে অধস্তন আদালত সেই বিষয়ে আগাতে পারে না (Cannot proceed with the proceedings). এটি করলে বাইন্ডিং এফেক্ট অফ দ্য ডিসিশন এন্ড অর্ডারস অফ দা সুপ্রিম কোর্ট এর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি ভায়োলেট হয়।
63 DLR (AD) (2011) ৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত রাষ্ট্র বনাম মুক্তা খাতুন এবং অন্যান্য মামলার রায়ের কথাটি মাথায় আসছে - Any decision passed by the Appellate Division is binding upon all courts in Bangladesh and no judge can ignore it. If he does, it may not only be contemptuous but also tantamount to violation of the constitution.
স্বাধীনতা পূর্ব এই বঙ্গে আদালত অবমাননা আইন বলতে Contempt of Court Act,1926 ই ভরসা ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করার কিছুদিন পরেই ১০ এপ্রিল ১৯৭১ Laws Continuance Enforcement Order 1971 এর আদেশের মাধ্যমে এবং ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা (retrospective effect) দিয়ে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল থেকে আইনটি স্বাধীন বাংলাদেশেও পূর্বের ন্যায় কার্যকারিতা বহাল থাকে । ২০১৩ সালে আদালত অবমাননা আইন নামে একটি আইন পার্লামেন্টে পাশ হয় এবং পাশ হবার দিন থেকেই অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ সালেই কার্যকর হয় ( came into effect) . একই বছরে আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন হিসেবে একটি রীট ফাইল করা হয় এবং বলা হয় আদালত অবমাননা আইন ২০১৩ এর ধারা ০৪ - ০৭, ০৯-১১, ১৩ (০২) গুলো সংবিধান এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৩৮ পৃষ্ঠার রায়ের এক পর্যায়ে উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন - The Contempt of Court Act 2013 was enacted to protect the government servants and journalists while disregarding the other citizens of the country. This is absolutely discriminatory when article 27 of the constitution stipulates that all the citizens are equal and deserve equal protection of law.
আদালত রায়ের গর্ভে আরো বলেন - It is very surprising note that the alleged sections protect the interest of only the government officials and journalists, totally disregarding all other citizens. It is time an again decided in different courts of different jurisdiction that the Supreme Court is a court of record and shall have all power of contempt itself. However , the impugned sections of the instant statute look like to have been made to curtail this power of this court, as provided in article 108 of the constitution.
আদালত অবমাননা আইন ২০১৩ এর ধারা ০৬ এ বলা হয়েছে অধস্তন আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে সরল বিশ্বাস অভিযোগ করলে সেটা আদালত অবমাননা বলে গণ্য করা হবে না। (Allegations against the presiding judge of a subordinate court with bona fide intention is not a contempt of court).
আদালত আরো বলেন আদালত অবমাননা আইন ২০১৩ এর উল্লেখিত ধারা সমূহ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ -
সুপ্রীম কোর্ট একটি "কোর্ট অব্ রেকর্ড" হবেন এবং ইহার অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকবে ;
অনুচ্ছেদ ১১২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা করবেন এবং অনুচ্ছেদ ২৭ - সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী, এই ২৭, ১০৮, ১১২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সবকিছু মিলিয়ে ২০১৩ সালে আদালত অবমাননা আইনটিকে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন।
অধস্তন আদালত অবমাননার বিষয়ে পেনাল কোডের ২২৮ ধারা এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৮০ এবং ৪৮৫, ৪৮৫ক, ৪৮৬ ধারাতে সুনির্দিষ্ট বিধান গুলো পাওয়া যায় । সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রণিত পারিবারিক আদালত আইনের ২৩ ধারায় পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করলে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিচার কার্যে বিচারকদের রক্ষাকবজের কথা মাথায় রেখে শুধুমাত্র একটি ধারা সম্বলিত একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৮৫০ সালে যার নাম Judicial Officer's Protection Act. আইনটির সেই একমাত্র ধারাটিতে বলা হয়েছে বিচার কার্য করতে গিয়ে সৎ বিশ্বাসে বিচারক কোন ভুল কাজ করলে সেই বিচারককের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যাবে না। পেনাল কোডের ৭৭ ধারায় বলা হয়েছে বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনা কালে বিচারক কে আইনে যে সকল ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে তিনি সেগুলো সরল মনে বিশ্বাস করে কোন কাজ করলে তা অপরাধ হবে না। জুডিশিয়াল সার্ভিস-শৃঙ্খলা বিধিমালা ২০১৭ এর বিধি ১৭ একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় শারীরিক এবং মানসিক অদক্ষতা ব্যতিত অন্য কোন অদক্ষতা প্রমাণিত হলে ( Inefficiencies except physical or mental incapacity) , অসাদাচরণ প্রমাণিত হলে (misconduct), দুর্নীতিমূলক কার্যে লিপ্ত হওয়া বা জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে (Indulge in corruption) , রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এমন কোন কাজ করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ( Engaging in any activities which is harmful of the state where he belongs to), সার্ভিস ত্যাগ করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ( Quitting service without the due process of law) , শারীরিক এবং মানসিক অদক্ষতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ( Physical or mental incapacity ), ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে (Criminal Offence) সংশ্লিষ্ট বিচারক কে বিভিন্ন ভাবে দন্ড আরোপ করা যায়।
উচ্চ আদালতের অবমাননার অভিযোগে অধস্তন আদালতের বিচারক কে প্রাথমিক ভাবে শাস্তি দেয়া সম্ভবত ১৯৭২ সালের পর এটিই প্রথম। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে এবং কোন মামলার আপিল মুল মামলার মতই একটা চলমান প্রক্রিয়া। এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। তবে এই বিষয়টি আজ বাংলাদেশের আইন জগতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
©
গালিব হাসান
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
চাকরি (সরকারি ও বেসরকারি) থেকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা অপসারণ হলে আপনার করনীয়:
বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ বিভিন্ন ধরনের চাকরিতে কর্মরত আছেন। এদের ভিতর কেউ আছেন সরকারি চাকরিতে আবার কেউ আছেন বেসরকারী চাকরীতে। চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় অনেকেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হিংসার বশীভূত হয়ে চাকরি থেকে বহিষ্কার কিংবা অপসারণ হন। কোন ব্যক্তি কে চাকরি থেকে অপসারণ করতে হলে অনেক নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে হয়।কতৃপক্ষ যদি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে অপসারণ কিংবা সাময়িক বরখাস্ত করে তাহলে আদালতের মাধ্যমে চাকরিজীবীর প্রতিকার রয়েছে।
★সরকারি চাকরিজীবীদের করণীয়:
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হন তাহলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ কে চ্যালেঞ্জ করবেন। প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমস্ত প্রকার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করতে পারবেন।প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে দেয়া হয়েছে কিনা সেটাও আমলে নিতে পারবেন যেমনঃ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দেন তাহলে তিনি যথাযথ নিয়ম নীতি অনুসরণ করেননি বলে গণ্য হবে।প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে যদি তিনি প্রতিকার লাভে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি প্রশাসনিক অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে যেতে পারবেন।
★বেসরকারি চাকরিজীবীদের করণীয়:
বেসরকারি চাকরি থেকে হরহামেশাই কোনো কারণ ছাড়াই বা সামান্য কোনো কারণেই প্রচুর চাকরিজীবী চাকরি হারান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যদি কোন ব্যক্তি চাকরি হারান তাহলে তিনি শ্রম আদালতে যেতে পারে। শ্রম আদালতে যাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কে অবশ্যই কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নন ম্যানেজারিয়াল পদবী থাকতে হবে। ম্যানেজারিয়াল কিম্বা policy-making এর সাথে জড়িত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা শ্রম আদালতে যেতে পারবেন না। তাদের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট করতে পারবেন।
চাকরিজীবীদের জন্য আশার কথা এই যে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যখনই তাদেরকে কোন ধরনের অপসারণ কিংবা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন কোথাও না কোথাও নিয়ম-নীতি লংঘন করে আদেশ দেন যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন এবং অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।
**বাংলাদেশে খ্রিস্টান বিবাহের এবং বিবাহ বিচ্ছেদের আইনী পদক্ষেপগুলি কী কী?
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পবিত্র চুক্তি। তাদের বিয়ে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয় রেজিস্ট্রি। খ্রিস্টান বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত যে বিধান রয়েছে তাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ অ্যাক্ট (খ্রিস্টান বিবাহ আইন) অনুযায়ী খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে সম্পাদিত হয়। তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করার আগে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়, যা অন্যান্য ধর্মের চেয়ে কিছুটা আলাদা।
**আসুন জেনে নেই, খ্রিস্টান বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন করার আগে বাধ্যতামূলক বিষয়গুলো।
গির্জার কাছে নোটিশ
বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের আগে পাত্রপাত্রীর পুরো নাম, ডাক নাম, পেশা বা অবস্থা ও বাসস্থানের ঠিকানা গির্জার কাছে নোটিশ আকারে দিতে পাঠাতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির পর গির্জার যাজক নোটিশটি খোলা জায়গায় টানিয়ে দেবেন যাতে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
আপত্তি বিবেচ্য
পাত্র ও পাত্রী পক্ষের পাঠানো নোটিশ কয়েক সপ্তাহ ঝোলানো থাকবে। নোটিশের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা গির্জায় জানাতে হবে। আর আপত্তি না পেলে গির্জার প্রধান বিয়ের দুটি পক্ষের কাছ থেকে একটি ঘোষণা গ্রহণ করবেন। এছাড়া এই ঘোষণাটি বিয়ের পক্ষগুলো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে দেবেন। সেই ঘোষণায় কিছু বিধিনিষেধ আছে যা দুই পক্ষকে পূরণ করতে হবে।
আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক
পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিবাহ বা আত্নীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাত্রপাত্রীর মধ্যে জানা মতে এমন কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক নেই যাতে তাদের বিয়েতে আইনসম্মত বাধা আছে।
পাত্র-পাত্রী সাবালক
বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীকে অবশ্যই সাবালক হতে হবে। পাত্র-পাত্রী যদি সাবালক না হয় তবে বিবাহ আইননত বৈধ হবে না।
এই ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার কমপক্ষে চারদিন পর গির্জার যাজক বিয়ের আবেদনকারীকে একটি সার্টিফিকেট দেবেন। সেই সার্টিফিকেট জারির দুই মাসের মধ্যে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
**এবার জেনে নেই খ্রিষ্টান বিবাহ বিচ্ছেদ এর নিয়ম:
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস এ দেশে। অনেক সময় খ্রিস্টান ধর্মের দম্পতিরা আসেন তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কে জানতে। অনেক দম্পতি প্রশ্ন করেন যে, কেবল নোটারি করলেই বিবাহ বিচ্ছেদ হবে কি না? অনেকে প্রশ্ন করেন যদি স্বামী-স্ত্রী সমঝোতার মাধ্যমে নোটারি করায় তবে বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না ইত্যাদি।
খ্রিস্টান ধর্মে ‘তালাক’ উচ্চারণ করলেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় না। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ‘আমি বিবাহ বিচ্ছেদ করলাম’ অথবা ‘আজ থেকে আমরা আর স্বামী-স্ত্রী নই’ এ ধরনের কথা লিখে নোটারি করলেও বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না। এমনকী যদি কোনো খ্রিস্টান দম্পতি নিজেরা সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ নেবার জন্য কোনো চুক্তি করেন তবে সেটি কোর্ট থেকে ডিক্রি না নেওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মোকদ্দমা করে শুনানি পূর্বক রায় নিয়ে তবেই খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত দম্পতিরা বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন। ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯-এ বলা আছে যে কোথায়, কিভাবে এবং কী কী কারণে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত দম্পতিরা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে মোকদ্দমা করতে পারবেন। ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯-এর ১০ ধারা মতে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। এই ধারায় আরো উল্লেখ করা আছে যে কী কী কারণে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মোকদ্দমা করতে পারেন। ১০ ধারা মতে স্বামী বা স্ত্রী জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। জেলা জজ বিবাহ বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দিলে ঐ রায়টি কার্যকর হবার জন্য হাইকোর্টের কনফারমেশন লাগবে। হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতির বেঞ্চে এই শুনানি হবে, যদি ভিন্ন মতামত হয় তবে মেজোরিটির রায় প্রাধান্য পাবে। আবার যদি দুজন বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয় এবং ভিন্ন রায় আসে তবে সিনিয়র বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পাবে। ধারা ১১ মতে যদি কোনো স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অ্যাডেল্ট্রি বা ব্যভিচারের অভিযোগ এনে বিবাহ বিচ্ছেদ চান তবে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ঐ লোকের নামও পিটিশনে লিখতে হবে।
সংক্ষিপ্ত ভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের খ্রিষ্টান বিবাহবিচ্ছেদ নিজস্ব ধর্মীয় আইনে পরিচালিত হয়। যেসব আইনে খ্রিষ্টান ডিভোর্স পরিচালিত সেগুলো হলো দ্য ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯, দ্য ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৭২, দ্য কোড অব ক্যানন ল’ (ক্যাথলিকদের জন্য)।
ক্যানন আইনের ১০৫৬ ধারামতে, খ্রিষ্টান বিয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঐক্য ও অবিচ্ছেদ্যতা। প্রটেস্ট্যান্টদের মতে, বিয়ে একটি ধর্মীয় সংস্কার। বিয়ে এবং বিয়ের বিচ্ছেদ নিয়ে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দ্য ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
এ অ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিষ্টান দম্পতির সম্পর্ক তিনটি উপায়ে ছিন্ন করা যায়—
প্রথমত, দ্য ডিভোর্স অ্যাক্টের ধারা ১০ অনুযায়ী স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ এনে আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ এনে আবেদন করার কোনো সুযোগ নেই। তবে স্বামী যদি ব্যভিচারসহ ধর্মত্যাগ, অন্য ধর্ম গ্রহণ, অপর কোনো নারীকে বিয়ে করেন, কোনো নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকেন, বহুকামিতা, পাশবিকতা বা নৃশংসতা করেন, অথবা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দুই বছর স্ত্রীর খোঁজখবর না রাখেন, তাহলেই শুধু স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রীর পক্ষে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার কোনো সুযোগও এ আইনে দেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয়ত, নিচে উল্লেখ করা কারণে বিয়ে বাতিল করার জন্য যেকোনো পক্ষ আদালতে আবেদন করতে পারেন—
১. স্বামী বিয়ের সময় এবং মামলা দায়ের করার সময় পর্যন্ত পুরুষত্বহীন ছিল;
২. বিয়ের পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এমন সম্পর্ক বিদ্যমান, যার কারণে বিয়ে করা আইনত নিষিদ্ধ;
৩. বর বা কনে কেউ বিয়ের সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল;
৪. স্বামী বা স্ত্রী যে কারও পূর্ববর্তী স্ত্রী বা স্বামী বিয়ের সময় জীবিত ছিল।
সর্বশেষ জুডিশিয়াল স্যাপারেশনের মাধ্যমেও সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাবে। ব্যভিচার, নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা বা কোনো কারণ ছাড়া দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে স্বামী বা স্ত্রী একে অপরকে পরিত্যাগ করলে স্বামী বা স্ত্রী আদালতে জুডিশিয়াল স্যাপারেশনের মামলা করতে পারে।
দ্য ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯-এর ধারা ১৭ ও ২০-এর অধীনে বিবাহবিচ্ছেদ ও বাতিল–সম্পর্কিত রায় হাইকোর্ট ডিভিশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়, যা অনেক বিচারপ্রার্থীর জন্য ঝামেলাদায়ক। আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া জটিল বলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকে অ্যাফিডেভিট করে বিবাহবিচ্ছেদ ও আবার বিয়ে করে থাকেন। তবে তা আইনসিদ্ধ নয়। আগের বিয়ের বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ না হলে আবার বিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মমতে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দান করা সম্পত্তি কি ফেরত নেয়া যায়?
ধরুন, কাউকে কিছু দান করলেন। এখন কি সেই দান আপনি প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন? একবার স্বেচ্ছায় দান করার পর তা প্রত্যাহার করা আইনে খুব শক্ত। মুসলিম আইনের ১৬৭ ধারায় (ডি এফ মোল্লা) দান বাতিল সম্পর্কে বলা হয়েছে। ওই ধারার ১ উপধারা অনুসারে, দখল প্রদানের আগে যে কোনো সময়ে দাতা কর্তৃক হেবা বাতিল করা যেতে পারে। কারণ দখল প্রদানের আগে দান আদৌ সম্পূর্ণ হয় না। সুতরাং দান বা হেবা বাতিল করতে হলে সেটি দখল অর্পণের আগেই করতে হবে। ২ উপধারায় বলা হয়েছে, দখল অর্পণের পরও প্রদত্ত দান কিছু ক্ষেত্রে বাতিল করা যেতে পারে। তবে সেসব ক্ষেত্রে আদালতের ডিক্রি আবশ্যক। সেই অবস্থাগুলো হলো_ ক. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে এবং স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে যখন কিছু দান করা হয়; খ. যখন নিষিদ্ধ ধাপের মধ্যে সম্পর্কিত একজন অন্যকে দান করে (যেমন যখন বাবা তার মেয়েকে দান করেন); গ. দানগ্রহীতা যখন মারা যাবে; ঘ. যে কোনো কারণেই হোক যখন প্রদত্ত বস্তুর মূল্য বেশি হবে অথবা এমনভাবে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হবে যে তার আসন্ন আকৃতি শনাক্ত করা যাবে না; ঙ. যখন দাতা দানের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, এ অবস্থাগুলোয় দখল অর্পণ করা হয়ে গেলে, আদালতের ডিক্রি ছাড়া দান বাতিল করা যাবে না। ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, দাতা কর্তৃক প্রদত্ত কোনো দান বাতিল করা যেতে পারে কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা ওই দান বাতিল করতে পারবে না। ৪ উপধারায় বলা হয়েছে, একবার দখল অর্পিত হলে আদালতের ডিক্রি ছাড়া প্রদত্ত দান বাতিল করা যাবে না। দান বাতিলের জন্য দাতার ঘোষণা কিংবা তা আবার গ্রহণের উদ্দেশে কোনো মামলা করলে তা দানটি বাতিলের পক্ষে যথেষ্ট বিবেচিত হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ডিক্রি প্রদান করা না হবে দান গ্রহীতা দানের বিষয়বস্তুটি ব্যবহার ও হস্তান্তর করতে পারবে।
হিন্দু আইনের দান একবার আইনত সম্পন্ন হয়ে গেলে তা আর বাতিল করা যায় না। তবে দান গ্রহীতা যদি প্রতারণা করে কিংবা অবৈধ প্রতিপত্তির মাধ্যমে দানের দলিল অর্জন করে, যদি পাওনাদারকে ঠকানোর উদ্দেশে দান করা হয়, সে ক্ষেত্রে ওই দান বাতিল বা বাতিলযোগ্য বলে গণ্য হবে।
মিউটেশন বা নামজারি খতিয়ান:
©
আমরা অনেকেই মিউটেশন বা নামজারি খতিয়ান এর সাথে জরিপ খতিয়ানকে মিলিয়ে কনফিউজড হই।
√√ ধরুন, আপনি আজকে একটি এলাকায় একটা টুকরো জায়গা কিনবেন। এই এলাকায় সবশেষে জরিপ ছিল আর. এস জরিপ এবং এই মুহূর্তে কোনো জরিপ চলমান নাই। তাহলে কি ভাবে আপনি জমির মালিক হবেন।
√√ প্রথমে sub- registry অফিসে জমির দলিল হবে। তারপর AC (land) অফিসে আপনার নামে খতিয়ানের জন্য আবেদন করবেন। ধরুন, আপনি যার কাছ থেকে জমি কিনেছেন তার নামে আর. এস খতিয়ান আছে। আপনার আবেদন এখন তার নাম কেটে আপনার নাম তুলবে এবং আপনার নামে খাজনা দিতে পারবেন। আপনারা এলাকায় পরে যখন নতুন কোন জরিপ হবে, তখন আপনার নামে S.A বা R.S এর মত জরিপ খতিয়ান হবে।
অর্থাৎ, মিউটেশন বা নামজারি খতিয়ান এর মানে হলো জমির পূর্ববর্তী মালিকের নামের জায়গায় খতিয়ানে নতুন মালিকের নামের পরিবর্তন করা।ইংরেজী মিউটেশন (Mutation) শব্দের অর্থ হলো পরিবর্তন।
√√জমি ক্রয় বা অন্য যে কোন উপায়ে (যেমন হেবা, উত্তরাধিকার সূত্রে, বা দান) জমির মালিক হয়ে থাকলে হাল নাগাদ রেকর্ড সংশোধন করার ক্ষেত্রে মিউটেশন বা নামজারী বা নাম খারিজ করতে হয়।
√√ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল ১ঌঌ০ এর ২০ অনুচ্ছেদ বলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারী বা মিউটেশনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
Mutation বা নামজারি খতিয়ান চিনবার উপায়ঃ
√√খতিয়ানে "নামজারি খতিয়ান" লিখা থাকবে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাইন থাকবে।
√√এই খতিয়ানটি ১পৃষ্ঠার ও আড়াআড়ি হবে।
ধন্যবাদ।
17/08/2021
২২ আগস্ট থেকে হাইকোর্টে আগাম জামিন শুনানি
আইন অঙ্গনের রিতী-রেয়াজ রক্ষার দায় কার⁉️
পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে আইনজীবীগন স্বাক্ষর রেখেগেছেন তুখোর রাজনিতীবিদ, সফল রাস্ট্রনায়ক হিসেবে।রাজনীতি বা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনের জ্ঞানই যে একমাত্র সহায়ক তেমনটা আবার নয়।কেননা শুধু আইন জানা নয়; আইনের প্রয়োগ, সঠিক কর্ম পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নের পারদর্শীতা এ ক্ষেত্রে সঠিক যোগ্যতার মাপকাঠি বলেই বিবেচিত হয়।আইনজীবীদেরকে বলা হয় A lawyer is a Master of all Masters কেননা একজন আইনজীবীর কাছে আইনগত সহযোগিতার প্রয়োজনে সকল পেশার মানুষের আনাগোনা থাকে। তাই পেশার প্রয়োজনেই একজন আইনজীবীকে সকল পেশার জ্ঞান কমবেশি রাখতে হয় বলেই হয়তো একজন আইনজীবী সকল বিষয়ে সাবলিল থাকেন সর্বত্র । বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে আইনজীবীগন যখন অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে তখন আর কোনো সরকারই তার সিংহাসন আগলে রাখতে পারেনি। আর এসব কারনেই সম্ভবত আজও আইন প্রনেতাদের মাঝে আইনজীবী সংখ্যার আধিক্য।
একজন মানুষের পেশা হিসেবে আইনকে বেছে নিতে হলে এলএলবি, এমএলএম বা বার-এট-ল সনদ থাকাটাই শেষ কথা নয় বরং বলা যায় এই সনদ প্রাপ্তি কেবল পেশা জীবনের প্রারম্ভ। এর পরে তাকে বিশাল পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে চলতে হয় এবং যার জন্য একান্ত প্রয়োজন সেই বহুপুরাতন এবং বহুল প্রচারিত শব্দ ‘ধৈর্য্য’ ও ‘অধ্যাবসায়’। একজন আইনের ছাত্রের মেধা জ্ঞান ধৈর্য্য ও অধ্যাবসায় কে সঙ্গি করে একজন প্রাকটিজিং সিনিয়রের অধীনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেই আইনজীবী জীবনের পথে পা রাখতে হয়। এই সময়ে তাকে শিখতে হয় সিনিয়র কিভাবে ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করেন, কিভাবে মামলায় তৈরী হন, কিভাবে নথি-পত্র ঘেটে মামলার প্রকৃত ফ্যাক্ট জেনে নেন,কিভাবে সে ফ্যাক্টের সাথে প্রয়োজনীয় ল’ খুঁজে বের করেন এবং পরিশেষে কিভাবে সেই ফ্যাক্টের সাথে ল’এর সংমিশ্রন ঘটিয়ে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময়ে শুধু নিজের সিনিয়র নয় অন্য আইনজীবী সিনিয়রদের অনূকরনের মাধ্যমেও নিজেকে শিখে নিতে হয়।মূলত সিনিয়রদের কর্ম ও পেশা জীবনের কারুকার্য অর্জনই জুনিয়র আইনজীবীদের থাকে প্রথম লক্ষ্য।ইংল্যান্ড সহ বেশির ভাগ দেশেই এই বিষয়গুলো বার কাউন্সিল সনদপ্রাপ্তির পূর্ব শর্ত হিসেবে প্রাধান্য থাকলেও আমাদের দেশে বার কাউন্সিল সনদ প্রাপ্তিতে নেই এর বাধ্য বাধকতা। আর তাই আমাদের দেশে শিখতে হয় সিনিয়রকে ফলো করেই। এসব কারনেই হয়তো এখনও সিনিয়রের সম্মান এবং অগ্রাধিকার আইন অঙ্গনের বাধ্যতামূলক রেয়াজ বা রিতী।
সময়ের পরিবর্তনে আমাদের আইন অঙ্গনে আইনজীবীদের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষত গত ১০ বছরে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কয়েক গুন। এর প্রধান কারন বিষয় এবং পেশা হিসেবে আইনের জনপ্রিয়তা। এবং সে কারনেই বেসরকারী বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে আইন বিভাগের প্রবর্তন এখন আবশ্যিক।কিন্তু বিপত্তি বাঁধছে যে পরিমান মানুষ আইনজীবী হিসেবে সনদ গ্রহন করছেন সে পরিমান সিনিয়র চেম্বার আমাদের নেই এবং যাওবা আছে সেখানে জুনিয়র উপস্থিতি সীমিত; আর তাই আইন অঙ্গনে জুনিয়র আইনজীবীদের আধিক্য থাকলেও যোগ্য জুনিয়র তৈরি হচ্ছে সংখ্যায় খুবই নগন্য। অনেক জুনিয়রকে আবার গর্বের সাথে বলতে শোনা যায় সিনিয়র লাগেনা❗️একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে-“যার জ্ঞান যত কম, তার ভয়ও তত কম”। এর অবশ্য আরেকটি বাস্তবিক কারন হচ্ছে সুপ্রীম কোর্টে এখন বেশিরভাগ মামলাই আর সরাসরি প্রাকটিসরত আইনজীবী চেম্বারে আসেনা।কোর্টকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিনিয়র আইনজীবীদের শুধু সিনিয়র ব্রিফেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। সিনিয়রদের চেম্বারে নেই আগের মত সিনিয়রের ডিকটেশন নিয়ে ড্রাফটিং করার প্রচলন। ড্রাফটিং চলেগেছে চার তলার কম্পিউটারে কপি-পেস্টের জগতে। আর সেকারনে সিনিয়রদেরও এখন আর সেরকম ভাবে জুনিয়রের প্রয়োজন হয়না বরং জুনিয়ররাই চারতলা থেকে মামলা রেডি করে কোর্ট অনুযায়ী সিনিয়র বাছাই করেন। ফলে সিনিয়রদের হাত গলে এখন আর কম্পিটেন্ট জুনিয়র তৈরী হয়না; যাদের হাতে ভবিষ্যত আইন অঙ্গন থাকবে নিরাপদ, হয়ে উঠবে নির্ভরতার প্রতিক, বরং আইনঅঙ্গনে তৈরি হচ্ছে বিশাল যোগ্য, প্রথিতযশা আইনজীবী শূন্যতা। এমন পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে জাতিকে ভিষন ভয়াবহ ফলাফলের সুম্মূখিন হতে হবে অতি নিকট ভবিষ্যতে। একই সাথে দেখতে হবে আমাদের আইন অঙ্গনের দীর্ঘ দিনের লালিত গৌরব বাধ্যতামূলক রেয়াজ সিনিয়রকে সম্মান আর সিনিয়রের কাছ থেকে শেখার রিতীর বিলুপ্তি।
গত কিছু দিন ধরে শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাম নিয়ে আইনের সনদ প্রাপ্ত কিছু ব্যাক্তিরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা গ্রহনের দীর্ঘ সূত্রিতা এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারনে ভাইভা না হবার কারনে পরীক্ষা গ্রহনের দাবিতে আন্দোলন করছেন।খুবই যৌক্তিক দাবি তাদের; কিন্তু এই যৌক্তিক দাবি করতে গিয়ে তারা একটি অবান্তর দাবীও করেফেলেছেন, আর তা হলো পরীক্ষা না নিয়ে গেজেট করে আইনজীবী হিসেবে তাদের ঘোষনা দেয়া। কতিপয় ব্যাক্তির পরীক্ষার বৈতরনী পার হতে না পেরে পরীক্ষাকে ভয় পেয়ে এমন মহামারী পরিস্থিতিকে অগ্রায্য করে তাদের এই অবান্তর দাবী করতে গিয়ে অনেকে আবার ভাষা ও আচরণ জ্ঞান হাড়িয়ে ফেলছেন।হুমকির সম্মুখীন করছেন আইন অঙ্গনের বাধ্যতামূলেক রীতিকে। সিনিয়রদের উদ্দেশ্য করে অসম্মানমূলক বক্তব্য রাখছেন বিভিন্ন মিডিয়া মাধ্যমে। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বারের সম্পাদক সাহেবের সাথে তাদের বাক্যবান আইনঅঙ্গনের গৌরব রেয়াজকে ম্লান করে দিয়ে সকলকে করছে শঙ্কিত❗️এভাবে চলতে থাকলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাংলাদেশের আইন অঙ্গনের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সংশ্লিস্ঠ সকলকে এখনই ভাবতে হবে। কেননা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট দেশের সমগ্র নাগরিকের শেষ ভরসার অপর নাম।
তামান্না ফেরদৌস
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
২৬শে জুলাই,২০২০।
বিবাহ বিচ্ছেদ বলতে বিবাহ চুক্তির সমাপ্তি বুঝায়। ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে দম্পতির সর্বশেষ পন্থা যখন আর কোন মতেই একসাথে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ সম্পর্কে আল্লাহ্র নবী (সাঃ) বলেন, “ইসলামের নিকৃষ্ট হালাল বস্তু হল তালাক”- (আল- হাদিস)। ইসলাম কখনই সম্পর্ক ছিন্ন করা সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ্ এজন্যে তালাককে সর্বশেষ উপায় হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং সময় ও সুযোগ দিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার।
বাংলাদেশে বিয়ে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কতগুলো আইন আছে এর মধ্যে অন্যতম হল- বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১। এই সবগুলো আইন-ই ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক গঠিত এবং পরিচালিত। বিবাহ বিচ্ছেদ মুলতঃ দুই ভাবে হয়ে থাকে- ১) কোন পক্ষের মৃত্যু হলে ২) যে কোনো এক পক্ষের পদক্ষেপের মাধ্যমে। পদক্ষেপ আবার ৩ ভাবে হতে পারে- ক) স্বামী খ) স্ত্রী গ) পারস্পরিক সমঝোতা।
এর বিস্তারিত জানার আগে আমাদের কিছু বিষয় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন:
ইদ্দতকাল:
ইদ্দত অর্থ হচ্ছে গণনা অথবা অপেক্ষা করা। তালাকের পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব আদান প্রদানের জন্য মহিলাদের যতদিন অপেক্ষা করা লাগবে সেটাই আসলে ইদ্দতকাল। আল্লাহ্ তায়ালা ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন যাতে স্ত্রী বুঝতে পারে যে সে গর্ভাবস্থায় আছে কিনা। ইদ্দতকাল অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন হয়ে থাকে। কোরআন মোতাবেক স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দতকাল পালন করতে হব। ডিভোর্সের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্বামীর প্রথম তালাক ঘোষণার পর ৯০ দিন এবং কোরআন মোতাবেক ৩ টি পিরিয়ডকালীন (ঋতুস্রাব) সময় হচ্ছে ইদ্দতকাল যা অতিক্রম হওয়ার পর ডিভোর্স কার্যকর হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তালাহ কোরআনে বলেছেন,
হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের-ই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। (সূরা আত-তালাক: ১)
তুহুর:
মেয়েদের পিরিয়ডের পরবর্তী পবিত্রকালীন সময়কে তুহুর বলে। এর সময়সীমা প্রথম পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকে।
আমরা এখানে আলোচনা করবো ৩টি পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন এবং ইসলামে এই সম্পর্কিত বাধা-নিষেধ।
বাংলাদেশে ডিভোর্সের বিদ্যমান আইন
কারো স্ত্রী যদি মৃত্যুবরণ করে তবে সে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে, কোন সময় পর্যন্ত তার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। যদি কারো স্বামী মারা যায় তবে স্ত্রীকে ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে। আইন অনুযায়ী এই ইদ্দতকাল হচ্ছে ৪ মাস ১০ দিন। সে আসলে গর্ভবতী কিনা তা নিরূপণ করার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন। গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মগ্রহণের পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে। যদি স্ত্রী এবং স্বামীর দাম্পত্য জীবন পূর্ণতা পাবার আগেই স্বামী মারা যায় তবে বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী এই ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না।
তালাকদাতার অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। নাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কের নয় এমন কেউ অথবা তার পক্ষে তার পরিবারের কেউ ডিভোর্স দিতে পারবে না। এটি হচ্ছে ডিভোর্সের পূর্বশর্ত।
বাংলাদেশে বিদ্যমান মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী যে কেউই ডিভোর্স দিতে পারে। যেকোন পদ্ধতিতেই ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ৩ টি ধাপে তারা তাদের বিবাহের নিষ্পত্তি করতে হবে-
১। লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে
২। সালিশি পরিষদে অংশগ্রহন করতে হবে
৩। ৯০ দিন অতিক্রম হওয়ার পর রেজিস্ট্রারের নিকট হতে ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হবে
মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। এই নোটিশ আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এবং না পাঠালে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী নোটিশ না পাঠালে তালাকদাতার ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ১ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। নোটিশ আপনি নিকাহ রেজিস্টার/কাজী, নোটারী অথবা আপনার উকিলের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। এলাকার চেয়ারম্যান অথবা কাউন্সিলর নোটিশ পাবার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবে। আইন অনুযায়ী দুই পক্ষের এই সালিশি পরিষদে একসাথে বসতে হবে। তবে মানুষ খুব কমই এই সালিশি পরিষদে অংশগ্রহণ করে। এই পরিষদে বসে তারা বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় তারা কেন একসাথে থাকবে না এবং আসলেই কি তাদের একসাথে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারম্যান/ কাউন্সিলর যদি দেখে যে আসলেই তাদের আর একসাথে থাকা সম্ভব না সেক্ষেত্রে উনি সিদ্ধান্ত দিবেন যে ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হবে। যদি তাদের দুই জনের একজনও সালিশি পরিষদে না আসে তবে ধরে নেয়া হয় যে দুই জনই ডিভোর্সের পক্ষে। তখন নোটিশ পাঠানোর ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যায়।
এই ৯০ দিন অপেক্ষাকে ইদ্দতকাল বলে।স্ত্রী যদি গর্ভাবস্থায় থাকে তবে যেটির সময় বেশি তার পরে তালাক কার্যকর হবে, অর্থাৎ যদি সন্তান ১০০ দিন পরে হয় তবে ১০০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে কিন্তু যদি সন্তান ৮০ দিন পরে হয় তবে ৯০ দিন (নির্ধারিত সময়) পরেই তালাক কার্যকর হবে। ডিভোর্স ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে তালাকদাতা ডিভোর্স প্রত্যাহার করতে পারে। ৯০ দিন পর যদি তাদের মনে হয় ডিভোর্স নেয়াটা ঠিক হয়নি, একসাথে থাকতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের পুনরায় বিয়ে করতে হবে।
স্বামী তার স্ত্রীকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই ডিভোর্স দিতে পারে। অনেকের আবার প্রশ্ন থাকতে পারে স্বামী যদি রাগের মাথায় তালাক দিলাম বলে ফেলে তখন কি হবে। আইন ও ইসলাম অনুযায়ী এই ডিভোর্স গ্রহণযোগ্য হবে না।
এইদিকে কয়েকটি নির্ধারিত কার
ক. স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে
খ. তালাক-ই-তৌফিজ-এর মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে
গ. খুলা’র মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে, এছাড়া
ঘ. স্বামী-স্ত্রী দুজনই মুবারতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
1. মুখে মুখে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হবে কি ?
উত্তর. না, ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টেশন আইন অনুযায়ী কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনকে পাঠাতে হবে।
2. স্বামী কতৃর্ক স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান ছাড়া তালাক দিলে তালাক কি কার্যকর হবে ?
উত্তর. হ্যাঁ, তালাক কার্যকর হবে, তবে নোটিশ প্রদান না করায় স্বামীর ১ বছরের কারাদন্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ড হবে।
3. স্ত্রী কি স্বামীকে কোন কারণ ছাড়া তালাক দিতে পারেন ?
উত্তর. না, আইনে উল্লেখিত কারণ ছাড়া স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না।
4. বিচ্ছেদপ্রাপ্ত/ তালাকপ্রাপ্ত স্বামী- স্ত্রী কি পুনরায় ঘর সংসার করতে পারেন?
উত্তর. ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৭ (৬) ধারা অনুসারে তালাকের মাধ্যমে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, বিচ্ছেদপ্রাপ্ত/ তালাকপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী পুনরায় একত্রে ঘর- সংসার করতে চাইলে নতুন করে নিয়ম অনুসারে বিয়ে করতে হবে; তবে পুনর্বিবাহ করে ঘর-সংসার করায় আইনতঃ কোন বাধা নেই।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ-১৯৬১ অনুযায়ী
ধারা-৭:
(১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বা কোন স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে যে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করবার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিসের মাধ্যমে জানাবে ও স্ত্রীকেও/স্বামীকেও এর এক কপি পাঠাবে।
(২) কোন ব্যক্তি ১ নং উপধারার বিধান লঙ্ঘন করলে সে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডে বা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে অথবা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডিত হবে।
(৩) ৫ নং উপধারার বিধান অনুযায়ী অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক পূর্বাহ্নে প্রত্যাহার না করা হলে ১ নং উপধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিসের তারিখ হতে ঌ০ দিন অতিরিক্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকরী হবে না।
(৪) ১নং উপধারা অনুযায়ী নোটিস প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতর চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুর্নমিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুর্নমিলন ঘটাবার নিমিত্ত সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
(৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩ উপধারায় বর্ণিত মেয়াদ বা গর্ভকাল- এই দুই-এর মধ্যে যা পরে হবে তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না।
(৬) এই ধারা অনুসারে কার্যকরী তালাক মাধ্যমে যে স্ত্রীর বিবাহ ভঙ্গ হয়েছে ,ঐ বিবাহ ভঙ্গ তৃতীয়বারের মতো কার্যকরী না হয়ে থাকলে তৃতীয় ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তীকালীন কোন বিবাহ ব্যতীতই তার আগের স্বামীর সাথে পূনর্বিবাহে কোন প্রকার বাধা থাকবে না।
ধারা-৮:
তালাক ব্যতীত অন্যভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ:
যেক্ষেত্রে তালাক দেওয়ার অধিকার যথাযথভাবে স্ত্রীর নিকট অর্পণ করা হয় ও সে উক্ত অধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক হয় বা যেক্ষেত্রে একটি বিবাহের পক্ষদ্বয়ের যে কোন একপক্ষ তালাক ব্যতীত অন্যভাবে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে ইচ্ছুক হয় সেইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী ৭ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
অন্যান্য
তালাক কখন কার্যকরী হয় না?
গর্ভাবস্থায় তালাক দিলে সন্তান ভূমিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না৷ এক্ষেত্রে ৯০ দিন এবং সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার মধ্যে যেদিনটি পরে হবে সেদিন থেকে তালাক কার্যকরী হবে৷ অর্থাত্ স্ত্রী গর্ভবতী হলে, সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না৷ মনে রাখতে হবে এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্ত্রী পূর্ণ ভরণপোষণ পেতে আইনত হকদার৷
তালাকপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী কি পুনরায় বিয়ে করতে পারবে ?
হাঁ পারে৷ ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশের ৭ (৬)ধারা অনুযায়ী তালাকের মাধ্যমে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, তালাক হওয়া দম্পতি পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে সেক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ে করতে হবে।
তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে ?
তালাকের পর সন্তান মায়ের কাছে থাকবে। এক্ষেত্রে ছেলে সন্তান ৭ বছর পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বয়ঃসদ্ধিকাল পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে৷ তবে তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা বহন করবে৷ যদি বাবা দায়িত্ব পালন না করে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান সালিসীর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেন।
তালাক কখন প্রত্যাহার করা যায় ?
৯০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগেই তালাক প্রত্যাহার করা যায়৷ ঌ০ দিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এটা মাথায় রেখে যাতে এ সময়ের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষ ঠান্ডা মাথায় সব কিছূ ভেবে চিন্তে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে পারে। একটা বিষয় পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, তালাক দেওয়ার নব্বই দিন পর তালাক কার্যকরী হয় কিন্তু এই ঌ০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগে যে কোন দিন তালাক প্রত্যাহার করা যাবে।
তালাক রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কি না ?
মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে তালাক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
মুসলিম বিয়ে ও তালাক ( রেজিস্ট্রেশন ) আইন ১৯৭৪ এর বিধান অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে তালাক রেজিস্ট্রি করতে পারেন ৷পর্দানশীন মহিলার ক্ষেত্রে তার কর্তৃত্ব প্রাপ্ত কোন ব্যাক্তি তালাকের আবেদন পেশ করতে পারেন৷ স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করেছিলেন সে মর্মে কোন দলিল বা দলিলের সত্যায়িত প্রতিলিপি ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তৌফিজ হিসেবে পরিচিত কোন তালাক রেজিস্ট্রি করবেন না ৷ নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকার করলে উক্ত অস্বীকৃতির ত্রিশ দিনের মধ্যে আবেদনকারী জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট আপীল দায়ের করতে পারেন এবং সে ক্ষেত্রে জেলা রেজিস্ট্রারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গন্য হবে (ধারা-৬)।
কোন বিয়ে বা তালাক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হবার পর নিকাহ রেজিস্ট্রার সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে নিকাহনামা বা তালাকনামার সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রদান করবেন এবং ঐরূপ সত্যায়িত প্রতিলিপির জন্য কোন ফি আদায় করা যাবে না (ধারা-৯)৷
তালাক রোধে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব:
অনেক সময় দেখা যায়,মানুষ রাগের মাথায় অথবা আবেগের বশবর্তী হয়ে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু তখন কি করবে তা বুঝে উঠতে পারে না। এক্ষেত্রে যদি চেয়ারম্যান সালিসীর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে ডেকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার দ্বারা তাদের মধ্যে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করে দেন তবে দু'পক্ষেরই ভালো হয়। এজন্য বলা হয় তালাক রোধে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম।
উল্লেখ্য যে, স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে স্বামী এক বছর বিনাশ্রম কারাদ- অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দ-নীয় হবেন, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। উক্ত তালাক কার্যকর হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ প্রধান না করলে তালাক হবে না এই বিধান উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছাঃ হেলেনা বেগম ও অন্যান্য।
সানজানা শাহরিন মুক্তা
এডভোকেট
জেলা ও দায়রা আদালত, ঢাকা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Fulbaria