13/08/2026
★UNO চড় কান্ড★
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কোনো ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো ব্যক্তিকে প্রহার বা শারীরিক নির্যাতন করার কোনো আইনি সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
আইনি কারণ ও ব্যাখ্যা:
★মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯★ এই আইনের আওতায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নির্ধারিত অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial), জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন। তবে এই আইনের কোথাও ম্যাজিস্ট্রেটকে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা গায়ে হাত তোলার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
* সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "কোনো ব্যক্তিকেই নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া বা তাহার সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।" ফলে তাৎক্ষণিক শাস্তির নামে বা জিজ্ঞাসাবাদের নামে কাউকে মারধর করা সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন।
* ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC): কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় যদি সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবেই কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (পুলিশ বা অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু বলপ্রয়োগ করতে পারে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কাউকে মারধর করার সুযোগ এখানেও নেই।
* দণ্ডবিধি ও শৃঙ্খলা বিধিমালা: বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে গায়ে হাত তুললে তা দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর (Penal Code) অধীন সাধারণ বা গুরুতর আঘাতের অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। এছাড়া "সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮" অনুযায়ী এটি অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল, যার জন্য বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
মোবাইল কোর্টের উদ্দেশ্য হলো আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করে নিয়মমাফিক সাজা বা জরিমানা করা, কোনো অবস্থাতেই শারীরিক নির্যাতন বা গায়ে হাত তোলা আইনসম্মত নয়।