08/06/2025
আর্থিক দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ৯ বই
সাব্বির হোসেন
একসঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতি ও মিতব্যয়ী হতে সঠিক অর্থনৈতিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা অনেকেই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যায় পড়ি। তার মধ্যে আমরা কীভাবে সঞ্চয় করব, বিনিয়োগ করব বা বাজেট তৈরি করব—এসব সমস্যা অন্যতম। এমন সব সমস্যা সমাধানে কয়েকটি বইয়ের শিক্ষা আমাদের বাস্তবজীবনে কাজে লাগানো যেতে পারে। চলুন, বইগুলোর নাম ও সারসংক্ষেপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড
রবার্ট টি. কিয়োসাকি
‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইটি ব্যক্তিগত আর্থিক জ্ঞান সম্পর্কে লেখা একটি জনপ্রিয় বই। এ বইয়ে লেখক রবার্ট কিয়োসাকি দুজন বাবার গল্প বলেছেন। একজন ‘ধনী বাবা’ এবং অন্যজন ‘গরিব বাবা’। ধনী বাবা একজন উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী ছিলেন। আর গরিব বাবা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং একজন চাকরিজীবী। বইটির মূল বক্তব্য হলো, প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও অর্থনৈতিক শিক্ষা থাকা উচিত। এটি সম্পদ সৃষ্টির জন্য সঠিক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কৌশল শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আপনাকে কর্মজীবনে আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে সাহায্য করবে। The Great Bangladesh
হোয়াই ‘এ’ স্টুডেন্টস ওয়ার্ক ফর ‘এ’ স্টুডেন্টস অ্যান্ড ‘বি’ স্টুডেন্টস ওয়ার্ক ফর দ্য গভার্নমেন্ট
রবার্ট টি. কিয়োসাকি
রবার্ট কিয়োসাকি তাঁর আরেকটি জনপ্রিয় বই ‘হোয়াই ‘এ’ স্টুডেন্টস ওয়ার্ক ফর ‘এ’ স্টুডেন্টস অ্যান্ড ‘বি’ স্টুডেন্টস ওয়ার্ক ফর দ্য গভার্নমেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, কেন একাডেমিক সাফল্যই সব নয়। অনেক ‘এ’ গ্রেডের শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভালো চাকরির পেছনে ছুটে, যেখানে ‘সি’ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের ব্যবসা শুরু করে সফল উদ্যোক্তা হয়। বইটি এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেয়, যা আর্থিক শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।
কোয়াইট লাইক অ্যা মিলিয়নিয়ার
ক্রিস্টি শেন ও ব্রাইস লিউং
ক্রিস্টি শেন ও ব্রাইস লিউংয়ের লেখা এই বইটি দেখায়, কীভাবে সাধারণ একটি চাকরিজীবীও মিলিয়নিয়ার হতে পারেন। লেখক দম্পতি তাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, কীভাবে তারা চাকরি ছেড়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন জীবনযাপন শুরু করেছেন। এখানে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ছাড়াই কীভাবে সঞ্চয় বাড়ানো যায় এবং জীবনের মানোন্নয়ন করা যায়, সেই কৌশলগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। যারা আর্থিক স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ নির্দেশিকা।
দি অ্যালমানাক অব নাভাল রাভিকান্ত এরিক জর্গেনসন
নাভাল রাভিকান্ত একজন সফল উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী। জীবন নিয়ে তার দর্শন এবং ব্যবসায়িক চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে লেখা ‘দি অ্যালমানাক অব নাভাল রাভিকান্ত’ বইটি আমাদের শিখিয়ে দেয়, কীভাবে নিজেকে আর্থিক ও মানসিকভাবে স্বাধীন করা যায়। এটি কোনো প্রথাগত অর্থনৈতিক বই নয়; বরং এটি আমাদের শেখায় কীভাবে ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে উন্নতি করা যায় এবং জীবনের প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়।
হাউ টু গেট রিচ
ফিলিক্স ডেনিস
ফেলিক্স ডেনিস ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা এবং প্রকাশক। ‘হাউ টু গেট রিচ’ বইতে তিনি তার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, কীভাবে ধনী হওয়া যায়। বইটি একদিকে যেমন প্রেরণা জোগায়, অন্যদিকে একজন ব্যবসায়ীর জন্য সঠিক কৌশলও তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য যেসব ঝুঁকি নিতে হয় এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্য কম্পাউন্ড এফেক্ট
ড্যারেন হার্ডি
ছোট ছোট অভ্যাস এবং প্রতিদিনের ছোট সিদ্ধান্ত কীভাবে আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে, তা ‘দ্য কম্পাউন্ড এফেক্ট’ বইটিতে দেখানো হয়েছে। লেখক ড্যারেন হার্ডি এ বইতে ছোট পদক্ষেপ এবং নিয়মিত অভ্যাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে কীভাবে আমরা বড় পরিবর্তন আনতে পারি এবং আর্থিকভাবে সফল হতে পারি, তা এই বইয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন ব্যাবিলন
জর্জ এস. ক্লেসন
ব্যাবিলনের প্রাচীন জ্ঞান এবং অর্থনৈতিক দর্শন নিয়ে লেখা ‘দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন ব্যাবিলন’ একটি ক্লাসিক বই। এখানে প্রাচীন ব্যাবিলনের অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার ভিত্তিতে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণমুক্ত জীবনযাপনের নীতিমালা আলোচনা করা হয়েছে। বইটি কেবল আর্থিক পরিকল্পনার জন্য নয়, বরং জীবনের সামগ্রিক পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আই উইল টিচ ইউ টু বি রিচ
রামিত সেঠি
রামিত সেঠির লেখা ‘আই উইল টিচ ইউ টু বি রিচ’ বইটি আপনার ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে। এখানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের কৌশল এবং সঠিক বাজেটিং কীভাবে করতে হয়, তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি একটি সহজ ভাষায় লেখা বই, যা নতুন আর্থিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
দ্য সাইকোলজি অব মানি
মর্গ্যান হাউসেল
অর্থ এবং মানব মনের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ‘দ্য সাইকোলজি অব মানি’ একটি অনন্য বই। মর্গান হাউজেল এখানে অর্থের সঙ্গে মানুষের মানসিকতার সম্পর্ক, আবেগপ্রবণতা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তে মনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানসিক স্থিতি এবং ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বইটি আপনাকে আর্থিক আচরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।
আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত
08/06/2025
ইকিগাই বইয়ের ১০ শিক্ষা
বই থেকে শেখা
হেক্টর গার্সিয়া ও ফ্রান্সেস্ক মিরালসের লেখা ‘ইকিগাই: দ্য জাপানিজ সিক্রেট টু অ্যা লং অ্যান্ড হ্যাপি লাইফ’ বইটি ২০১৬ সালের এপ্রিলে জাপানে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি সারা বিশ্বে বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। জাপানিদের দীর্ঘজীবন এবং সুখের রহস্য নিয়ে লেখা এই বইটি আমাদের জীবনে সুখী ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপন করতে সহায়ক হতে পারে। এ বইটির ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
আপনার ইকিগাই খুঁজুন
ইকিগাই হলো একটি জাপানি ধারণা, যা জীবনের উদ্দেশ্য এবং বেঁচে থাকার কারণকে বোঝায়। এটি চারটি বিষয়ের সমন্বয় যেমন: আপনি কী করতে ভালোবাসেন; আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ; বিশ্বের জন্য কী প্রয়োজন; আপনি কিসের জন্য অর্থ পান। যে কাজগুলো করতে আপনি ভালোবাসেন এবং দক্ষ, সেগুলোকে গুরুত্ব দিন। ইকিগাই খুঁজে পেতে আবেগ ও প্রতিভার মধ্যে ভারসাম্য আনুন।
আপনার কাজ উপভোগ করুন
এমন কাজ করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়। আনন্দদায়ক কাজ করলে কাজের সফলতা পাওয়া যায়। কাজে ক্লান্তিও আসে না।
সাদামাটা জীবনযাপন করুন
অতিরিক্ত চাহিদা না রেখে সাদাসিধে জীবনযাপন করুন। এটি মানসিক প্রশান্তি আনে এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়াতে সাহায্য করে।
সক্রিয় থাকুন
দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের অন্যতম রহস্য হলো সক্রিয় থাকা। অলস বসে না থেকে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকুন। এর মানে এই নয় যে
আপনাকে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি, শখের কাজ করা বা ছোটখাটো শরীরচর্চা করলেই বড় ফলাফল আসতে পারে। শরীর সক্রিয় থাকলে মনও সতেজ থাকে।
The Great Bangladesh
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
আপনার খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যকর খাবার খান। যেমন: ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন। বইটিতে উল্লেখিত ‘হারা হাচি বু’ নামক পরিভাষার অর্থ হলো পেটের ৮০% পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া এবং প্রতিটি কামড়ের স্বাদ
উপভোগ করা।
পর্যাপ্ত ঘুমান
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। এটি কর্মদক্ষতা বাড়ায়, শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মেজাজ খিটখিটে হয়, ধৈর্য কমে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
সম্পর্ক তৈরি করুন
মানুষ সামাজিক জীব। সুন্দর জীবনযাপনের জন্য অন্যের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। জাপানি ‘মোয়াই’ পরিভাষা বোঝায়, একই মানসিকতা ও লক্ষ্যযুক্ত মানুষের সঙ্গে একটি কমিউনিটি তৈরি করা। ভালো বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সময় কাটান। সম্পর্কের যত্ন নিন এবং একাকিত্ব দূর করুন। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য এই ধরনের সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের জন্য বাঁচুন
জীবনের সেরা উপায় হলো বর্তমানে বাঁচা। অতীতের দুঃখ বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা না করে বর্তমান উপভোগ করুন। ছোটখাটো বিষয়ও উপভোগ করুন, যেমন একটি সুন্দর খাবার, বাগানে হাঁটা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্যাপন করুন।
কৃতজ্ঞ থাকুন
সুখী ও পরিপূর্ণ জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন ছোট-বড় যেকোনো বিষয়ে কৃতজ্ঞতার কথা ভাবুন। কৃতজ্ঞতা একটি শক্তিশালী আবেগ যা জীবনে সুখ ও প্রশান্তি নিয়ে আসে।
শেখা কখনো থামাবেন না
জীবনব্যাপী শিক্ষা ও আত্মোন্নয়ন ইকিগাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নতুন কিছু শেখা, বই পড়া বা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন। প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন। বইয়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ইকিগাই হলো একটি ধ্রুবক বিবর্তন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তরুণ থাকতে শেখার প্রতি আগ্রহ বজায় রাখতে হবে।’
সোর্স আজকের পত্রিকা
03/01/2024
আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে ধর্মবিদ্বেষী লেখিকা তসলিমা নাসরিন একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলো।
স্ট্যাটাসটি ছিলো এমন- “সায়েন্স পড় সায়েন্স পড় বলে বলে মানুষকে র্যাশনাল (যুক্তি নির্ভর) হওয়ার উৎসাহ দিয়েছি জীবনভর। লাভ হয়নি। সায়েন্সে পড়া মানুষগুলো, মানে ওই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারগুলো, ফিজিক্স কেমেস্ট্রির পন্ডিতগুলো, বেশির ভাগই দেখি ধর্মের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। ধর্মের আজগুবি গপ্প নিয়ে সন্দেহ করে, প্রশ্ন করে,বা ধর্ম থেকে সরে আসে যারা, তারা অধিকাংশই আর্টসের সাব্জেক্ট নিয়ে লেখাপড়া করেছে, সাহিত্য বা দর্শন পড়েছে, আর্ট কলেজে পড়েছে ,ফিল্ম নিয়ে পড়েছে। তাহলে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার জন্য বিজ্ঞান মুখস্ত করার দরকার হয় না, বিজ্ঞান পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ারও দরকার হয় না!!”
(তসলিমা নাসরিক ফেসবুক স্ট্যাটাস, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮)
এ স্ট্যাটাস থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ধর্মবিদ্বেষী দলরা জানে, সাইন্স বা বিজ্ঞান পড়লে মানুষ এক সময় ধার্মীক হয়। অপরদিকে আর্টসের পড়ুয়াদের মধ্যে কেউ কেউ ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়। এজন্য দেখবেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে ধার্মীকদের পরিমাণ বেশি। অপরদিকে আর্টস ফ্যাকাল্টিতে সাইন্স ফ্যাকাল্টির তুলনায় ধর্মহীনদের পরিমাণ বেশি।
বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামে পাঠ্যবইগুলোতে সাইন্স-আর্টস-কমার্স এক করে সাইন্স পাঠকে শিকেয় তোলা হয়েছে। সাইন্স পাঠ কতটুকু হ্রাস করা হয়েছে, ড. জাফর ইকবাল প্রণীত নবম দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ বইটি পড়লে তা বুঝা সম্ভব। যেমন আগে, পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান আলাদা আলাদা বই ছিলো। কিন্তু এখন একটি মাত্র বইয়ের মধ্যে ৩টি বিষয় নিয়ে আসা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে প্রণীত কারিকুলামে ৯ম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিলো ৩৫৪টি।
অপরদিকে, ২০২৪ সালে নতুন কারিকুলামে ‘বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ’ এ পদার্থ বিজ্ঞান শেখানো হয়েছে মাত্র ৫৮টি পৃষ্ঠার মাধ্যমে। ৩৫৪ পাতার শিক্ষা মাত্র ৫৮ পাতায় কিভাবে দেয়া হবে, কেউ বলতে পারবেন ?
১৯৯৬ সালে প্রণীত কারিকুলামে (সর্বশেষ ২০১২) রসায়ন বিজ্ঞান বইয়ে পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিলো ২২৮টি। অপরদিকে ২০২৪ সালে ড. জাফর ইকবাল প্রণীত ‘বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ’-এ রসায়ন পাঠ মাত্র ৪৯ পৃষ্ঠা। ২২৮ পাতার রসায়ন শিক্ষা কিভাবে মাত্র ৪৯ পাতায় শেখানো হবে ?
১৯৯৬ সালের কারিকুলামে (সর্বশেষ ছাপা ২০১২) ৯ম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বইয়ে পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিলো ২৬৮টি। অপরদিকে ২০২৪ সালে ড. জাফর ইকবাল প্রণীত ‘বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ’- এ জীব বিজ্ঞান শেখাতে পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৭৬ পাতা। ২৬৮ পাতার জীব বিজ্ঞান শিক্ষা কি মাত্র ৭৬ পাতা শিক্ষা দিয়ে পূরণ করা যাবে ?
সাইন্স হ্রাস করা হলেও পাঠ্যবইগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আর্টসের সাবজেক্ট। যেমন- নাচ, গান, খেলাধূলা, নাটক, আকা, মূর্তি বানানোতে বেশি ঝুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টি মনে হচ্ছে, স্কুলের প্রতিটি ক্লাস যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এক একটি শাখাতে রূপান্তরিত হয়েছে।
লক্ষণীয়, বর্তমান পাঠবই প্রণয়নকারী বলছে, এ কারিকুলামের মূল উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনষ্ক হিসেবে তৈরী করা। অথচ বিজ্ঞান আর বিজ্ঞানমনষ্ক – কিন্তু এক নয়। বিজ্ঞানমনষ্কতা হচ্ছে এক ধরনের দার্শনিকতা, যা বিজ্ঞানের মত পরীক্ষা নিরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত কোন বিষয় নয়। বিজ্ঞানমনষ্কতা বলতে যা বুঝায় তা হচ্ছে আসলে কলাবিজ্ঞান মনষ্কতা। অর্থাৎ দেখলে মনে হবে সাইন্স, কিন্তু বাস্তবে তা এক প্রকার দর্শন, যা প্রমাণিত কিছু নয়। সুতরাং এই কলাবিজ্ঞান পড়িয়ে আমাদের বাচ্চারা কিভাবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে কিংবা বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অগ্রসর হবে, তা খুব চিন্তার বিষয়।
31/12/2023
ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টস একাডেমির পক্ষ থেকে সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
30/12/2023
নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী যোগ্যতার ৪টি উপাদান।
১। জ্ঞান ২। দক্ষতা ৩।মূল্যবোধ ৪ দৃষ্টিভঙ্গি।
১। জ্ঞান : গাড়ি চালানোর নিয়ম কানুন জানা হলো জ্ঞান।
২। দক্ষতা : গাড়ি ভালোভাবে চালাতে পারা হলো দক্ষতা।
৩। দৃষ্টিভঙ্গি : সিগন্যালে গাড়ি নেই, সার্জেন্টে নেই , আপনি নিয়ম মানবেন কিনা, সেটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি।
৪। মূল্যবোধ : সব সময় নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়া হলো মূল্যবোধ।
# যোগ্যতা : নিয়ম কানুন মেনে ভালো ভাবে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে যেতে পারা হচ্ছে তার যোগ্যতা।
26/12/2023
ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে!
ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টস একাডেমিতে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি চলছে।
আমাদের রয়েছেঃ
✅ বিষয়ভিত্তিক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ও নতুন কারিকুলামে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বারা পাঠদান।
✅ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও জিপিএ- 5 পাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা।
✅ নার্সারি, কেজি ও ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সার্বক্ষণিক শিক্ষক দ্বারা তদারকি ও পাঠদান।
✅ পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণে ছুটির পরে অতিরিক্ত ক্লাস ও সমাধান নিশ্চিত করে ছুটি প্রদান।
✅ শিক্ষার্থীদের সুন্দর হস্তাক্ষর, ছবি আঁকা চর্চা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সৃজনশীল করে গড়ে তোলা।
✅ ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদনের লক্ষ্যে প্রতি বছর দর্শনীয় স্থানে শিক্ষা সফর ও বনভোজনের ব্যবস্থা করা।
26/12/2023
সকল শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল - ২০২৩।
26/12/2023
বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল - ২০২৩।