28/04/2026
বজ্রপাত একটি জীবনঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে সঠিক সময়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। নিচে বজ্রপাতের সময় আপনার করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো:
# # # ১. খোলা স্থানে থাকলে করণীয়
* **দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন:** বজ্রপাত শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। টিনের চালা বা কাঁচা ঘর খুব একটা নিরাপদ নয়।
* **উঁচু গাছ ও খুঁটি থেকে দূরে থাকুন:** কোনো অবস্থাতেই বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার বা ধাতব খুঁটির নিচে দাঁড়াবেন না।
* **মাঠে থাকলে পজিশন নিন:** যদি আশেপাশে কোনো আশ্রয় না থাকে, তবে নিচু হয়ে বসে পড়ুন। মাথা দুই হাঁটুর মাঝখানে রেখে কানে হাত দিয়ে গুটিসুটি হয়ে বসুন। **কখনোই মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।**
# # # ২. বাড়িতে থাকাকালীন করণীয়
* **বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন:** টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখুন। ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন (মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঝুঁকি কম)।
* **ধাতব স্পর্শ বর্জন করুন:** জানালার গ্রিল, বারান্দা, সিঁড়ির রেলিং এবং কল বা পাইপ স্পর্শ করবেন না।
* **পানির ব্যবহার এড়িয়ে চলুন:** বজ্রপাতের সময় গোসল করা, হাত-মুখ ধোয়া বা বাসন মাজা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ পাইপলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।
# # # ৩. যানবাহনে থাকলে করণীয়
* **গাড়ির ভেতরে থাকুন:** আপনি যদি গাড়িতে থাকেন, তবে গাড়ির ভেতরেই থাকা নিরাপদ। তবে খেয়াল রাখবেন যেন গাড়িটি কোনো গাছ বা খুঁটির নিচে না থাকে। গাড়ির কাঁচ তুলে দিন এবং ধাতব কোনো অংশ স্পর্শ করবেন না।
# # # ৪. কেউ আহত হলে কী করবেন?
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে মনে রাখবেন, তার শরীরে বিদ্যুৎ জমে থাকে না, তাই তাকে স্পর্শ করা নিরাপদ।
* **প্রাথমিক চিকিৎসা:** আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হলে প্রয়োজনবোধে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস (CPR) দিন।
* **শরীরের পোড়া অংশ:** পোড়া জায়গায় সাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসা দিন।
# # # ৫. কখন ঘরের বাইরে বের হবেন?
বজ্রপাত এবং মেঘের গর্জন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর অন্তত **৩০ মিনিট** অপেক্ষা করে তারপর ঘর থেকে বের হওয়া নিরাপদ।
> **বিশেষ সতর্কতা:** আকাশ কালো হয়ে মেঘ জমলে এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকালে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে আগেভাগেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন।
>