06/01/2025
দাগনভূইয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সিলোনিয়া হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রিয় মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ ভাই কে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Silonia High School, High School, Silonia Bazar, Daganbhuiyan, Feni.
06/01/2025
দাগনভূইয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সিলোনিয়া হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রিয় মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ ভাই কে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
27/05/2022
সিলোনীয়া হাই স্কুলের ছেরাজ উদ্দীন আহমেদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ
===================================
এবারের ২০২২ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলোনীয়া হাই স্কুলে আমার শিক্ষক ছেরাজ উদ্দীন আহমেদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়। এটি আমার জন্য একটি বহুল প্রত্যাশিত ঘটনা।
আমি সিলোনীয়া হাই স্কুলে ১৯৭৮ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই। ১৯৮৩ এ স্কুল থেকে কুমিল্লা বোর্ডের বাণিজ্য বিভাগে মেধা তালিকায় দ্বাদশ স্থান অধিকার করে সালে এসএসসি পাস করি।
ছেরাজ উদ্দীন আহমেদ স্যার ১৯৭৭ সালে সিলোনীয়া হাই স্কুলে যোগদান করেন এবং ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি তিনি কর্ণফুলী পেপার মিল হাই স্কুলে যোগদান করেন এবং ২০১৪ সালে অবসর গ্রহন করেন। বর্তমানে ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ীতে অবস্থান করে সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে জড়িত রেখেছেন।
আমাদের সময়ে স্কুলে দু'জন ছেরাজ স্যার ছিলেন। একজন ছেরাজুল হক স্যার, এনায়েত পুর গ্রামের বাসিন্দা। স্কুলে বাংলা, সমাজ, অর্থনীতি এ সকল বিষয়ে পাঠ দান করতেন। আর একজন ছেরাজ উদ্দীন আহমেদ স্যার, যিনি অংক, উচ্চতর গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করতেন। ছেরাজুল হক স্যারকে আমরা চেরাজ স্যার বলতাম আর ছেরাজ উদ্দীন আহমেদ স্যারকে আমরা সিরাজ স্যার বলতাম। সিনিয়র ভাইয়েরা বলতো আমরাও বলতাম কিন্তু স্যারের নামে সিরাজ নেই।
আমরা যখন ১৯৭৮ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই তখন সিরাজ স্যার আমাদের ক্লাসমেট মাহবুব উল আলমদের বাড়ীতে সোনাপুরে লজিং থাকতেন। সেখানে মাহবুবের বড়ভাই ১৯৮০ সালের ব্যাচের ফাস্টবয় রফিক ভাই, তার ছোটভাই খুরশিদ ও শামসুকে স্যার পড়াতেন। (রফিক ভাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এলজিইডিতে চাকুরী করতেন। ২০২০ সালে করোনায় ইন্তিকাল করেন। আল্লাহ রফিক ভাইকে ক্ষমা করুন, জান্নাত নসীব করুন।) মাহবুবের বাবা ইনতিকালের পর ১৯৭৯ সাল থেকে সিরাজ স্যার আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা জনাব সাঈদুর রহমান এর বাড়িতে লজিং থাকতেন। সেখানে তিনি সাঈদুর রহমান সাহেবের ছেলে স্কুলে আমাদের বড় ভাই জাহাঙ্গীর বিন সাঈদ সেলিম ভাই, সালাউদ্দীন বিন সাঈদ শাহীন ভাই, গিয়াস উদ্দীন বিন সাঈদ ভাই ও আমাদের ছোট জসীম উদ্দীন বিন সাঈদ এবং মেজবাহ উদ্দীন বিন সাঈদ লিটনকে পড়াতেন।
আমাদের স্যার থাকা কালে সিরাজ স্যার ছিলেন খুবই পাতলা স্বাস্থ্যের অধিকারী। বয়সেও তিনি তরুন ছিলেন। আইএসসি পাস করে তিনি আমাদের স্কুলে যোগদান করেন। সিলোনীয়া হাই স্কুলে শিক্ষক থাকা অবস্থায় তিনি বিএ পাস করেন ও বিএড করেন। তিনি সব সময় সাদা পাজামা পাজাবী পরিধান করতেন। মাহবুবদের বাড়ি ও গিয়াস ভাইদের বাড়ী হতে স্কুলে যাবার সময় রাস্তায় আমরা অনেক সময়ে স্যারকে পেয়ে যেতাম। আমরা স্যারের পেছনে পেছনে হেঁটে স্কুলে পৌঁছতাম।
সিরাজ স্যার অংকে খুবই ভালো ছিলেন। আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে শ্রীরূপ স্যারের নিকট অংক প্রাইভেট পড়েছি আর সপ্তম শ্রেণি থকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি ক্লাসেই সিরাজ স্যারের নিকট অংক পড়েছি। স্কুল ছুটির পর স্কুলের ক্লাস রুমেই স্যার আমাদের পড়েতেন। স্যারকে প্রাইভেট টিউশন ফি হিসেবে মাসে ৭৫ টাকা দিতাম।
মে মাসের ৮ তারিখে আমাদের খুশিপুর গ্রামের বাড়ী থেকে স্যারের বাড়ির উদ্দেশ্য বের হই। মহিপাল থেকে একটি সিএন্ডজি রিজার্ভ করে যখন স্যারের বাড়ী পৌঁছি তখন মাগরিবের আজান দিচ্ছে। স্যার ফেনী পরশুরাম রোডে স্যারের বাড়ীর রাস্তার মাথায় আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ১৯৮৪ সালের পর স্যারকে আমি আর দেখিনি। ৩৮ বছর পর স্যারকে দেখে আমার চিনতে একটুকু কষ্ট হয়নি। তবে আমার স্মৃতিতে যে তরুন শিক্ষকের ছবি আঁকা ছিল তা' না দেখে দেখলাম একজন প্রবীন মানুষকে।
স্যারের বাড়ীর মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। স্যার এ মসজিদের সভাপতি। স্যারের বাড়িতে গিয়ে কিছুক্ষন গল্প করলাম। স্যারের ছেলে কম্পিউটার সায়েন্স এর মাস্টার্স এর ছাত্র নাস্তা পরিবেশন করল। নাস্তা খেয়ে রাত ৮ টার দিকে স্যারের বাড়ী থেকে বের হলাম। স্যার বড় রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। ভালোলাগার বিশেষ অনুভুতি নিয়ে স্যার থেকে বিদায় নিয়ে আসলাম। স্যারের নিকট বিদ্যার ঋন, যা' কখনো শোধ হবার নয়। তবুও দেখা করতে পেরে একটু হালকা বোধ করলাম।
প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মাঈন উদ্দীন
চেয়ারম্যান
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.০৫.২০২২
31/12/2020
Main Uddin
23h ·
Shared with Public
ফেনী মাইজদীর বাসে বাটা কলম বিক্রয় ও সিলোনীয়া হাই স্কুলে তার কমিক অভিনয়।
========================================
১৯৭৭ সালে আমি খুশিপুর প্রাইমারী স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। বৃত্তি পরীক্ষার সেন্টার পড়েছিল ফেনী পাইলট হাই স্কুলে। বৃত্তি পরীক্ষা দু'দিনের। সিলোনীয়া থেকে ফেনী মাইজদীর বাসে করে ফেনী যাওয়া আবার ফিরে আসা। তখন ফেনী মাইজদী বাস ছাড়তো রাজাজির দীঘির দক্ষিণ পাশে ফেনী পিটিআই এর দেয়ালের পাশ থেকে। পরীক্ষা দিয়ে এসে বাসে বসলাম। বিভিন্ন পণ্যের ক্যানভাসার বাসে পণ্য বিক্রয় করছে। তার মধ্যে বাটা কলম বিক্রি করছে ৩ টাকা দরে। কলমের বিভিন্ন গুণাগুণ ক্যানভাসার সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন। এ বাটা কলম দিয়ে তখন আমরা লিখতাম। মোটা নিবের এ কলমের প্যাচ খুলে কালি ঢুকিয়ে নিতে হতো। এর চেয়ে উন্নত ছিল ফাউন্টেন পেন। এতে টিউব দিয়ে কালি ঢুকানো যেত। ফাউন্টেন পেনের মধ্যে Youth Pen, Wing Sung Pen এর বহুল ব্যবহার ছিল। নবম দশম শ্রেনীতে আমরা এ কলম ব্যবহার করেছি।
১৯৭৮ সালে আমি সিলোনীয়া হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই। স্কুলের কোন এক অনুষ্ঠানে প্রথম বেঞ্চে বসেছি। দশম শ্রেণির বড় ভাই সালাহ উদ্দীন বিন সাঈদ শাহীন ভাই এসেছেন কমিক দেখাতে । তিনি দশম শ্রেণির ফার্স্ট বয়। উনার পিঠে একটি ক্যানভাসারের থলে। তিনি বাটা কলম বিক্রি করছেন। বাসের ক্যানভাসারের চেয়ে উনার দক্ষতা কম নয়। হঠাৎ উনি বাটা কলমের মজবুতি প্রমাণ করতে আমার মাথায় কলম দিয়ে টোকা দিয়ে দেখালেন। সামান্য একটু ব্যথাও পেলাম, মজা পেলাম তার চেয়ে বেশি। উনি সেদিন পুরা হাউজকে হাসাতে পেরেছিলেন।
সিলোনীয়া হাই স্কুলের অনেক স্মৃতিই ভুলে গেছি। কিন্তু এ ঘটনাটা এখনো মনে আছে। Mohammad Salehuddin Sayed শাহীন ভাই এখন সিনিয়র ডাক্তার। নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ। উনিও হয়ত ভুলে গেছেন।
( কলমের ছবি প্রতীকী। )
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন
চেয়ারম্যান
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]
31/12/2020
25/09/2020
চলে গেলেন ইলিয়াছ ভাইয়া
================
জায়লস্কর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াছ ২৫.০৯.২০২০ তারিখ দুপুর ১২ টায় ঢাকাস্থ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন । ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন । ইলিয়াছ ভাইয়া ছিলেন আমার ফুফাতো ভাই। উনার আম্মা আমার আব্বার আপন খালাতো বোন। আমাদের গোলাপী ফুফু। বয়সে আমার আব্বার বড়। তিনি আল্লাহর রহমতে এখনো বেঁচে আছেন। আমার আব্বার সাথে আজও কথা হলো। তিনি ইলিয়াছ ভাইয়ার আম্মার বিয়েতে এনায়েতপুর মিঝি বাড়ীতে গিয়েছিলেন। আবার ইলিয়াছ ভাইয়ার বিয়েতেও ছাগলনাইয়ার শুভপুর গিয়েছিলেন। ইলিয়াছ ভাইয়ের স্ত্রী ৩/৪ বছর আগে হঠাৎ করে ইন্তেকাল করেন। উনার বাচ্চাদের অবলম্বন হিসেবে তিনি বেঁচে ছিলেন। আল্লাহ উনাকেও নিয়ে গেলেন। বাচ্চাদের অভিভাবকের দায়িত্ব আল্লাহ তার জিম্মায় নিয়ে নিন এ দোয়া করি।
ইলিয়াছ ভাইয়া জায়লস্কর হাই স্কুলের বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। পরে ফেনী পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা করে তিনি জায়লস্কর হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে উনার খুবই সুনাম ছিল। জায়লস্কর হাই স্কুলে শিক্ষকতা করা অবস্থায় তিনি বিএ ও বিএড করেন। তিনি দীর্ঘ দিন এ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে দু'বার আমি জায়লস্কর হাই স্কুলে গিয়েছিলাম। ইলিয়াছ ভাইয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উনার সহকর্মীদের সাথে আমাকে উনার মামাতো ভাই ও একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
সিলোনীয়া বাজারে আসলে তিনি আবুল খায়ের স্যারের দোকানে বসতেন। আমার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরে অনেকবারই আবুল খায়ের স্যারের দোকানে ইলিয়াছ ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে। দেখা হলেই আমার পেশাগত খোঁজ খবর নিতেন। আমার আব্বা আম্মার খবর নিতেন।
তার কথাবার্তার মাঝে একটি বিনয়ী ভাব প্রকাশ পেতো। একটু খানি মুচকি হাসি তার মুখে যেন সব সময় লেগে থাকতো। একজন অমায়িক ভদ্র মানুষ ছিলেন ইলিয়াছ ভাইয়া।
ইলিয়াছ ভাইয়াদের পূর্বপুরুষ এনায়েতপুর মিঝি বাড়ীর মানুষ ছিলেন। পরে জায়গা কিনে উনারা রামচন্দ্র পুর মৌলভী বাড়ীতে স্থানান্তর হন। জায়লস্কর হাই স্কুলের শিক্ষকতা কালে ইলিয়াছ ভাইয়া ফেনী মাইজদী সড়কের পাশে বিজিবি ক্যাম্পের সাথে জায়গা কিনে বাড়ী করেন। উনার আম্মা, ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের পরিবার, ইলিয়াছে ভাইয়ার বাচ্চারা বর্তমানে সেখানে বাস করেন।
আল্লাহ ইলিয়াছ ভাইয়াকে ক্ষমা করুন, জান্নাত নসীব, করুন, তার মায়ের প্রতি রহম করুন, বাচ্চাদের হেফাজত করুন। আমিন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন
চেয়ারম্যান
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
29/08/2020
১৯৮১ সালের টর্ণেডো ও সিলোনিয়া হাই স্কুলের হেড স্যারের দূরদর্শিতা
======================================
১৯৮১ সাল। সিলোনীয়া হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব বিএসসি বিএড। শিক্ষক হিসেবে আছেন- ছেরাজ স্যার, হুদা স্যার, শ্রীরুপ স্যার, মাওলানা তাহের করিমি স্যার, ছেরাজ উদ্দিন স্যার, এনামুল হক স্যার, ইউসুফ স্যার, মনোরঞ্জন স্যার। দফতরী আলী আহমদ ও নাইট গার্ড নূর আহাম্মদ মিয়া।
ঢাকা মাইজদী সড়কের পশ্চিম পাশে উত্তর দক্ষিণে লম্বা দুটি টিন শেড ঘরকে যুক্ত করে স্কুল ভবন। স্কুল ভবনের উত্তর পাশে একটু ফাঁকা জায়গার পর বিএডিসির একটি পরিত্যক্ত গুদামঘরকে পরিষ্কার করে স্কুলের অফিস। সেখানে দুটি বড় টেবিলকে যুক্ত করে মাঝ বরাবর হেড স্যার বসেন। উনাকে ঘিরে তিন পাশে শিক্ষকেরা বসেন। দক্ষিন পশ্চিম কোনায় মনোরঞ্জন স্যার যাকে আমরা কেরাণি স্যার বলতাম, তিনি বসতেন। অফিস রুমের বাইরে দফতরী আলী আহমদ একটি টুলে বসতেন।
এ অফিস রুমে প্রবেশ ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত ভয়ের ব্যাপার। কোন শিক্ষক কতৃক কোন কাজের জন্য আদিষ্ট হয়ে আমরা এ রুমে প্রবেশ করার জন্য যেতাম। কাজের মধ্যে ছিল - বেত আনা, চক ডাস্টার আনা, বই আনা, মানচিত্র আনা ইত্যাদি। প্রতিবার প্রবেশের জন্য -May I come in sir বলে অনুমতি নিতে হতো। উপস্থিত স্যারদের কেউ Yes, come in বললেই প্রবেশ করতে পারতাম।
সকাল ১১টায় স্কুল শুরু হয় বিকেল ৪ টায় ছুটি হয়। ৩০ মিনিটের ৮টি ক্লাস প্রতিদিন। দুপুর ১ টা থেকে ২ টা যোহরের নামাজ ও টিফিন বিরতি।
দফতরী আলী আহমদের স্কুলের ঘন্টা বাজানোর আর্ট ছিল। ঘন্টা সমূহের বিশেষ অর্থও ছিল। আমরা অভিজ্ঞতা থেকে এর অর্থ বুঝতে পারতাম। সকাল ১০.৩০ ও ১০.৪৫ মিনিটে টায় তিনি দু'বার সতর্ক ঘন্টা বাজাতেন। এটার আওয়াজ ছিল ঢং ঢং ঢং। সকাল ১১টায় তিনি ১১ টা ঘন্টা দিতেন। এর আর্ট ছিল ৫ জোড়া ঘন্টা ছন্দ করে দিয়ে শেষে ১ টি ঘন্টা। এর মানে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। ১ম ঘন্টা শেষে ১ টি ঘন্টা , ২য় ঘন্টা শেষে ২ টি, ৩য় ঘন্টা শেষে ৩টি এবং ৪র্থ ঘন্টা শেষে যেহেতু টিফিন বিরতি হবে তাই শুধু ঢং ঢং ঢং। টিফিন বিরতি শেষে ২ জোড়া ঘন্টা মানে ক্লাস আবার শুরু হল। আবার ৫ম ঘন্টা শেষে ৫ টি, তারপর ৬ টি, ৭ টি সর্বশেষে ৪ জোড়া ঘন্টা শেষে ঢং ঢং ঢং মানে ছুটি। এ ঘন্টা শোনার জন্য কান খাড়া থাকতো, এটি ছিল চরম আনন্দের ঘন্টা। কোন দিন নোটিশ ছাড়া যদি নির্দিষ্ট ঘন্টা শেষে ঢং ঢং ঢং বেজে উঠতো আমরা বুঝে যেতাম কোণ কারণে আজ ছুটি হয়ে গেছে।
সেদিন ছিল এপ্রিল মাসের ১২ তারিখ। টিফিন বিরতির পর দুপুর ২ টায় ৫ম ঘন্টার ক্লাস শুরু হয়েছে। হঠাৎ আকাশ কালোমেঘে ঢেকে গেল। হেড স্যার বারন্দায় একবার হেটে গেলেন। সাথে সাথে ঢং ঢং ঢং ঘন্টা। স্যারেরা ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলেন। দ্রুত বাড়ী চলে যেতে বললেন। স্কুল থেকে বের হয়ে বাজার পর্যন্ত দু মিনিট না যেতেই প্রচন্ড বৃষ্টি ও বাতাশ শুরু হয়ে গেল। বাজারে আমাদের ক্লাসমেট করিম উল হকের দোকান ছিল। আমরা নবম শ্রেণির ক্লাসমেটদের কয়েকজন ওর দোকানে বসলাম। প্রায় ঘন্টা খানেক পর বৃষ্টি থামলো। ইতিমধ্যে খবর পাওয়া গেল স্কুলের দু'টি ঘরের মধ্য একটি পড়ে গেছে। স্কুলের দিকে গেলাম। দেখলাম উত্তর পাশে ঘরটি যেটিতে এক ঘন্টা আগে নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাস হচ্ছিল সেটি মাঠের মধ্য পড়ে আছে। আল্লাহর অশেষ শোকরিয়া। দু' শতাধিক ছাত্রছাত্রীসহ ঘরটি উপড়ে পড়লে অনেক বড় ক্ষয় ক্ষতি হতে পারতো। হেড স্যার আবহাওয়া দেখে দূরদর্শী পূর্বানুমান করতে পেরেছিলেন এবং তড়িৎ ছুটির সিদ্ধান্ত দিতে পারাতে অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন। স্কুল ছাড়া পুরো এলাকায় আর কোন ক্ষয় ক্ষতি হয়নি।
পরদিন জানতে পেরেছি, এটি ছিল একটি শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাত। এটি মূল আঘাত হানে ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম এলাকায় । এতে প্রায় দু'শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। এর তীব্রতা এত বেশি ছিলযে অনেক টিউবওয়েল উপড়ে যায়, অনেক টিনের ছাউনি গাছের উপর উড়ে গিয়ে আটকে পড়ে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে উপদ্রুত এলাকা সফর করেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন
চেয়ারম্যান
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
12/05/2020
#সিলোনীয়া_হাই_স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ হতে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপনঃ
ফেনী জেলা, দাগনভূঞা উপজেলাধীন, জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র খুশীপুর গ্রামের কৃতিসন্তান, আমাদের সকলের প্রিয় মুখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন;Mohammad Main Uddin
আজ ১২.০৫.২০২০ তারিখ সকাল ১১ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১ম স্ট্যাটিউট এর ৩ (১) ধারা মোতাবেক; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের "হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা" বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন।
আমরা জায়লস্করবাসী সর্বস্তরের জনগনও সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তোরত্বর সফলতা ও নেক হায়াত কামনা করছি।
বিভাগীয় দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন; বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সালমা বানু, বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির ডীন প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ ফরিদুল ইসলাম, বিভাগের প্রফেসর মুহা. আব্দুল্লাহ আল হারুন, প্রফেসর মু. মুনজুর মুরশিদুল আবেদীন, প্রফেসর ড. এম আহসান হাবিব ও ড. মো আনোয়ারুল হক প্রমুখ।
Post By - Mesbah Sayed