দলাদলি: বিভক্তি ও সংঘাতের মূল কারণ
----------------
আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জামেয়া রশীদিয়া, লস্করহাট, ফেনী
Al-Islah JR জামেয়া রশীদিয়া
জামেয়া রশীদিয়া,লস্করহাট,ফেনী কর্তৃক পরিচালিত ফেসবুক পেজ।
পরিচিতি: >>>>>
এই পেজটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত 'জামেয়া রশীদিয়া,লস্করহাট,ফেনী'র বহুমুখী দাওয়াতী কার্যক্রমের একটি অংশ। হযরত মাওলানা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দারুল উলূম দেওবন্দের ধারার একটি দীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। এই প্রতিষ্ঠানের দাওয়াতী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে 'AL ISLAH JR' এর সূচনা, যা হযরত মাওলানা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা. এর ইসলাহী বয়ান নিয়মিত আপলোড ও মাদ্রাসার মিড
24/05/2026
নফসের বড় একটি দোষ হলো; সে রিযিক নিয়ে অতি মাত্রায় চিন্তিত থাকে, অথচ আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং বান্দার রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফরজ আমলগুলো আদায় করা একান্তই বান্দার দায়িত্ব। এটি এমন এক ঋণ যা অন্য কেউ শোধ করতে পারবে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রধানতম দায়িত্বের ব্যাপারেই নফস সবচেয়ে বেশি গাফেল!
এর প্রকৃত চিকিৎসা হলো, আমাদের অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস লালন করতে হবে যে, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাদের রিযিকের জোগান দেবেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের রিযিক দান করেছেন।” (সূরা আর-রুম: ৪০)
সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তিনি যেমন কারো মুখাপেক্ষী নন, তেমনি রিযিকের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও তিনি কারোর মুখাপেক্ষী নন।
বিখ্যাত বুযুর্গ হাতিম আল-আসম (রহ.) বলেন:
প্রতিদিন সকালে শয়তান আমার মনের ভেতর কুমন্ত্রণা দিয়ে বলে,
“আজ তুমি কী খাবে? কী পরবে? কোথায় থাকবে?”
তখন আমি তাকে কড়া জবাব দিয়ে বলি,
“আমি মৃত্যু খাব (মৃত্যুর স্বাদ নেব), কাফন পরব, আর কবরে বাস করব!”
যে ব্যক্তি আখিরাতকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে সামনে রাখে, তার কাছে দুনিয়ার অভাব আর দুশ্চিন্তা তুচ্ছ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, যে কেবল দুনিয়ার রিযিক নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকে, সে তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য (আল্লাহর ইবাদত) ভুলে বসে।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে নফসের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুলের তাওফিক দান করুন। আমিন
© Salman Farsi
সূত্র: উয়ুবুন নফস -- আবু আব্দুর রহমান আস সুলামি রহ
23/05/2026
অনেকেই বলে, "নফসকে তো কন্ট্রোল করতে পারছি না, ইবাদতে স্বাদ পাচ্ছি না কেন?" এর উত্তর লুকিয়ে আছে 'রিয়াজাতুন নাফস' বা আত্মার প্রশিক্ষণের গভীর দর্শনে।
'রিয়াজাত' শব্দের মূল অর্থ হলো, কোনো কিছু 'ভেঙে ফেলা'। আমাদের নফস জন্মগতভাবেই সস্তা আনন্দ আর গুনাহের গোলামি করতে অভ্যস্ত। একে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়াটি অনেকটা শিশুর 'দুধ ছাড়ানোর' মতো।
একটি শিশু যখন মায়ের দুধ খেতে অভ্যস্ত থাকে, সেটির অভাবেই সে ছটফট করে। কিন্তু যখন মা তাকে শক্ত খাবার বা অন্যান্য সুস্বাদু খাবারের স্বাদ চিনিয়ে দেন, তখন সে আর সেই দুধের দিকে ফিরেও তাকায় না।
নফসকেও ঠিক একইভাবে গুনাহের স্বাদ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। শুরুতে একটু ছটফটানি হবে, কিন্তু যখনই সে 'আল্লাহর ভালোবাসার' স্বাদ পেয়ে যাবে, তখন আগের সব গুনাহ তার কাছে তিতা বা বিস্বাদ মনে হবে।
আপনার হৃদয়কে একটি আয়নার সাথে তুলনা করুন। আমরা যেমন আয়নাকে আমাদের নিঃশ্বাসের ভাপ থেকে বাঁচাই যেন তা ঝাপসা না হয়, ঠিক তেমনি হৃদয়কেও কুপ্রবৃত্তির ধোঁয়া থেকে রক্ষা করতে হয়।
আপনি যখন সন্দেহজনক কাজগুলো ত্যাগ করবেন, তখন আপনার হৃদয়ের আয়নাটি পালিশ হতে থাকবে। যত বেশি পালিশ হবে, তত বেশি সেখানে পরকালের দৃশ্য স্পষ্ট হতে থাকবে।
একবার নবীজি ﷺ হযরত হারিসা (রা.)-কে তাঁর ঈমানের অবস্থা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন:
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে মনে হয় আমি যেন আমার রবের 'আরশ' চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি! আমি যেন দেখছি জান্নাতিরা একে অপরের সাথে দেখা করছে আর জাহান্নামিরা আর্তনাদ করছে।"
নবীজি ﷺ তখন বলেছিলেন: "তুমি সত্যকে চিনতে পেরেছ, এখন এতে অটল থাকো। এটি এমন এক বান্দার গুণ যার অন্তরকে আল্লাহ ঈমানের নূর দিয়ে আলোকিত করেছেন।"
আপনার আধ্যাত্মিক পথ কি আজ ধুলোবালিতে ঢাকা? তবে দুটি কাজ করুন:
প্রথমত: নফসকে পাপাচার থেকে জোর করে 'দুধ ছাড়িয়ে' দিন।
দ্বিতীয়ত: নিজের আমলের ওপর 'গর্ব' না করে কেবল আল্লাহর দয়ার দিকে তাকিয়ে কলবকে পরিষ্কার রাখুন।
যখন বান্দা ও রবের মাঝখানের সব পর্দা সরে যাবে, তখন আপনি আপনার 'অন্তরের চোখ' দিয়ে সেই জগত অনুভব করতে পারবেন, যা সাধারণ মানুষ কখনও কল্পনাও করতে পারে না।
আল্লাহ আমাদের নফসকে পবিত্র করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর মহব্বতের মিষ্টতা দান করুন। আমিন
© Salman Farsi
তথ্যসূত্র: আদাবুন নফস --- হাকিম তিরমিযী রহ.
অভিভাবক ও শিক্ষকগণ, বয়ানটি শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন।
বন্ধের ছুটিতে তালেবে ইলমদের করণীয় ও বর্জনীয়
----------------
আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জামেয়া রশীদিয়া, লস্করহাট, ফেনী
22/05/2026
আগামীকাল ২৩ মে ২০২৬ ইং, রোজ শনিবার থেকে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জামেয়া রশীদিয়া,ফেনী'র বন্ধের ছুটি শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ছুটি শুরুর পূর্বে আগামীকাল সকল জামাতে নির্ধারিত কিতাবের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ১১:০০ ঘটিকায় পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি কার্যকর হবে। ইনশাআল্লাহ
22/05/2026
দুজন কুলি খুব ভারী একটি কাঠ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা একে অপরের সাথে ছন্দ মিলিয়ে গান গাইছিল এবং কথা বলছিল। একজন কিছু বললে অন্যজন মনোযোগ দিয়ে শুনছিল এবং উত্তর দিচ্ছিল।
ইমাম ইবনুল জাওযি (রহ.) বলেন,
যদি তারা এই গল্প বা ছন্দে মেতে না থাকত, তবে এই বোঝা তাদের কাছে আরও কয়েক গুণ ভারী মনে হতো। কিন্তু একে অপরের সাথে কথার ছলে তাদের চিন্তা সেদিকে আটকে গেছে, ফলে পথের দূরত্ব আর বোঝার ভার তারা ভুলে গেছে।
মানুষের ওপর বড় বোঝা হলো নিজের 'নফস'কে নিয়ন্ত্রণ করা। মন যা পছন্দ করে (গুনাহ) তা থেকে তাকে আটকে রাখা এবং যা অপছন্দ করে (ইবাদত) তাতে অভ্যস্ত করা অনেক কঠিন কাজ।
নফসকে শুধু শাসন করলে হবে না, বরং একে কৌশল করে ভুলিয়ে রাখতে হবে। যেমন মরুভূমিতে চলার সময় তৃষ্ণার্ত সাথীকে বলা হয়, "পরের কূপে পানি পান করব"। এভাবে আশা দিয়ে দিয়ে পথ পার করা হয়।
হযরত বিশর হাফী (রহ.) একবার সফরের সময় তাঁর সঙ্গী তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি চাইলেন। তিনি বললেন, "সামনের কূপ থেকে পানি পান করব।" সেখানে পৌঁছালে বললেন, "পরের কূপ থেকে পান করব।" এভাবে আশা দিয়ে দিয়ে তিনি পুরো পথ পার করে দিলেন।
তারপর বললেন, "এভাবেই দুনিয়ার সফর শেষ করতে হয়।"
আবু ইয়াজিদ (রহ.) বলতেন, "আমি আমার নফসকে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর দিকে টেনে নিয়ে যেতাম, এক সময় দেখলাম সে হাসতে হাসতে আল্লাহর দিকে যাচ্ছে।"
নফসকে মাঝেমধ্যে এভাবে বোঝাতে হয়, "তুমি যা পছন্দ করো, আমি তোমাকে তা থেকে বঞ্চিত করছি না, বরং তোমার ওপর মায়া করেই তোমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে চাইছি।"
নফসকে শুধু কঠোর শাসনে রাখবেন না, বরং সুন্দর ভবিষ্যতের ওয়াদা দিয়ে তাকে ভুলিয়ে রাখুন। তাকে জান্নাতের সুখের আশা দিন, রবের সন্তুষ্টির কথা শোনান।
এভাবেই আপনি দুনিয়ার কঠিন পথগুলো অনায়াসে পার হতে পারবেন।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে যাবতীয় গুনাহ থেকে বেঁচে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন
© Salman Farsi
সূত্র: সইদুল খাতির -- ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.
21/05/2026
পবিত্র ঈদুল আযহার বন্ধের ই’লান
শিক্ষাবর্ষ: ১৪৪৭-৪৮ হি./২০২৬-২৭ ইং
জামেয়া রশীদিয়া,ফেনী
21/05/2026
এক বুযুর্গ একদা একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি কবরবাসীদের কথা স্মরণ করে কিছু সূরা পাঠ করলেন এবং তাদের আত্মার শান্তির জন্য ঈসালে সওয়াব করলেন।
সেদিন রাতে তিনি এক বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখলেন। দেখলেন, কবরস্থানের সব মৃত ব্যক্তি এক জায়গায় জড়ো হয়ে আছেন। হঠাৎ আকাশ থেকে এক ব্যক্তি একটি বড় নূরের পুঁটলি নিয়ে নিচে নামলেন।
পুঁটলিটি রাখা মাত্রই সব মৃত ব্যক্তিরা হাহাকার করে সেদিকে দৌড়ে গেলেন, যেমন ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের দিকে ছুটে যায়। প্রত্যেকেই সেখান থেকে নিজের ভাগ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
কিন্তু বুযুর্গ লক্ষ্য করলেন, একজন বৃদ্ধ লোক একপাশে খুব শান্ত হয়ে বসে আছেন। তিনি অন্যদের মতো সেই পুঁটলির দিকে দৌড়াদৌড়ি করছেন না।
বুযুর্গ কৌতূহলী হয়ে বৃদ্ধ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "সবাই নিজের ভাগের জন্য দৌড়াচ্ছে, আপনি কেন বসে আছেন? আপনার কি সওয়াবের প্রয়োজন নেই?"
বৃদ্ধ মুচকি হেসে বললেন, "প্রয়োজন তো অবশ্যই আছে বাবা, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আমার একজন কলিজার টুকরো সন্তান আছে। তাকে আমি পবিত্র কুরআনের হাফেজ বানিয়েছি।
সে প্রতিদিন দোকানে বসে কুরআন তেলাওয়াত করে আর সেই সওয়াব আমার কবরে পাঠায়। তার পাঠানো সওয়াবের উপহারে আমার কবর এতই আলোকিত যে, অন্যের ভাগের ওপর আমার আশা করতে হয় না।"
পরদিন সকালে বুযুর্গ সেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় গেলেন। গিয়ে দেখলেন, সত্যিই এক যুবক দোকানে বসে আছে। যখনই কোনো ক্রেতা থাকছে না, সে অমনি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শুরু করে দিচ্ছে।
বুযুর্গ বুঝতে পারলেন, এই সন্তানের আমলই তার বাবার কবরের শান্তির মাধ্যম হয়ে আছে।
সন্তানকে দ্বীনদার বানানো বাবা-মায়ের জন্য পরকালের সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট। জীবিতদের পক্ষ থেকে দোয়া বা দান-সদকা মৃত ব্যক্তিদের কবরে বিশাল আরাম ও শান্তির মাধ্যম হয়।
মানুষ মারা গেলেও তার নেক সন্তানের আমলনামা থেকে বাবা-মা সওয়াব পেতে থাকেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
"মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; তিনটি মাধ্যম ছাড়া: ১. সদকায়ে জারিয়া (চলমান দান), ২. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, ৩. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহীহ মুসলিম)
© Salman Farsi
সূত্র: খুতুবাতে ফকির - যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী রহ.
সফলতার পথে কার্যকরী দুটি আমল
----------------
আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জামেয়া রশীদিয়া, লস্করহাট, ফেনী
স্নিগ্ধ বিকেলে, হৃদয়ের প্রশান্তিতে...
📍জামেয়া রশীদিয়া,ফেনী
20/05/2026
আমরা সবাই কমবেশি নফসের জালে বন্দি। কিন্তু নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল না জানলে আধ্যাত্মিক উন্নতি অসম্ভব। ইমাম ইবনুল জাওযি রহ. নফসকে দমানোর কিছু কার্যকর উপায় উল্লেখ করেছেন।
নফসকে বশে আনতে হলে 'দৃঢ় সংকল্পের চাবুক' ব্যবহার করুন। নফস যখন দেখবে আপনি আপনার সিদ্ধান্তে অটল, তখন সে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে।
এমনকি মাঝে মাঝে কিছু বৈধ আনন্দ থেকেও নিজেকে দূরে রাখুন, যাতে হারাম বর্জন করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়।
শয়তান বা দুনিয়া আপনার বাইরের শত্রু, কিন্তু নফস হলো আপনার ভেতরের শত্রু। তাই নফসের বিরুদ্ধে নিজের ভেতর থেকে জিহাদ শুরু করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
নফস যখন পাপে মত্ত হতে চায়, তখন তাকে তাকওয়ার লাগাম দিয়ে টেনে ধরুন।
যখন ইবাদতে অলসতা করে, তাকে মুজাহাদার চাবুক দিয়ে সচল করুন।
যখন সে অহংকার করে, তাকে তার তুচ্ছ উৎপত্তির কথা মনে করিয়ে দিন।
সালাফগণ বলতেন, নফস হলো একটি মন্দ কুকুরের মতো; পেট ভরলে সে ঘুমিয়ে পড়ে আর ক্ষুধার্ত হলে ঘেউ ঘেউ করে। একে কেবল ত্যাগের মাধ্যমে শাসনে রাখা যায়।
মনে রাখবেন, তেতো ওষুধ না গিললে যেমন শরীরে সুস্থতা আসে না, নফসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কষ্ট না সইলে আত্মিক মুক্তি মেলে না।
হযরত ইউসুফ (আ.) যদি নফসের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে "কারাগার আমার কাছে বেশি প্রিয়" না বলতেন, তবে তিনি মিশরের সিংহাসনের সেই রাজকীয় সম্মান পেতেন না।
আপনি যদি ফসল কাটার স্বপ্ন দেখেন, তবে আপনাকে বীজ বপন করতেই হবে। অর্থাৎ, জান্নাত পেতে হলে নফসের সাথে লড়াইয়ের কষ্ট সইতেই হবে।
আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো হলো খালের মতো। যদি খালের পানি (চিন্তা ও কাজ) নাপাক হয়, তবে ফসলে (আমলে) দুর্গন্ধ আসবেই।
যারা সারাটা দিন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপের কাজে ছেড়ে দেয়, নামাজের সময় তাদের মনে একাগ্রতা আসবে কোত্থেকে? তাই আগে দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং অন্তরকে আল্লাহর ভয়ে সজাগ রাখুন।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের নফসকে পবিত্র করার তাওফিক দান করুন। আমিন
© Salman Farsi
সূত্র: আল লাতাইফ --- ইমাম ইবনুুল জাওযি রহ.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Feni