07/07/2026
কামরাঙ্গীরচরের ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন ভদ্রলোক। নিজের ছোট্ট ব্যবসার কাজে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তার আগের দিন একজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ঘরটি দেখে গিয়েছিল। বিষয়টি তখন খুব স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল তার কাছে।
পরদিন সকালে সেই একই ব্যক্তি আবার হাজির। তবে এবার তার সঙ্গে ছিল এক নারী, আর নারীর কোলে একটি ছোট্ট শিশু। ভদ্রলোক তাদের বলেন যে বাসা নিতে চাইলে আগে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলতে।
কথা বলার সুযোগেই নারীটি শিশুকে কোলে নিয়েই ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঠিক তখনই সঙ্গে থাকা ব্যক্তি আচমকা ভদ্রলোককে শক্ত করে জাপটে ধরে। আর নারীটি কাপড়ের আড়াল থেকে একটি ইনজেকশন বের করে তাঁর পেছনে সেটি পুশ করার চেষ্টা করে।
মুহূর্তের মধ্যেই ভদ্রলোক বুঝে যান, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। উপস্থিত বুদ্ধি হারাননি তিনি। জাপটে ধরা লোকটিকে নিয়েই প্রাণপণ ধস্তাধস্তি করতে করতে দরজার বাইরে বেরিয়ে আসেন। তারপর সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার শুরু করেন।
তাঁর সেই আর্তচিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে। স্থানীয়রা দ্রুত দুজনকে ধরে ফেলে। তাদের সঙ্গে যে ব্যাগ ছিল সেটা খুলে দেখা যায় যে নানান ধরনের অস্ত্রসস্ত্র, এমন কি এক ধরনের দড়ি যা গলায় পেঁচিয়ে ধরলে মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা যায়।
সতর্কতা ও উপস্থিত বুদ্ধির কারণে একটি সম্ভাব্য বড় অপরাধের ঝুঁকি থেকে তিনি সেদিন বেঁচে যান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের সতর্কতাও অপরিহার্য। কারণ অপরাধীরা এখন অনেক সময় এমন মুখোশ পরে আসে, যা দেখে সন্দেহ করার সুযোগই থাকে না।
সময়টা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অপরাধীরা আর ভয়ংকর চেহারা নিয়ে আসে না। তারা আসে হাসিমুখে, ভদ্রতার মুখোশ পরে, কখনো পরিবার সেজে, কখনো কোলে নিষ্পাপ একটি শিশুকে ঢাল বানিয়ে। তাই এই সময়ে অন্ধ বিশ্বাস নয়, আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে শুধু সতর্কতা। দরজা খোলার আগে, ঘরে ঢুকতে দেওয়ার আগে, নিজের নিরাপত্তার কথা একবার ভাবতে হবে। কারণ এক মুহূর্তের অসতর্কতা সারাজীবনের অনুশোচনা হয়ে যেতে পারে। আজকের পৃথিবীতে যদি নিরাপদে বাঁচতে চান, তবে বিশ্বাসের আগে সতর্কতাকেই চর্চা করুন।