29/06/2020
বরবরে
মাননীয় মুফতী সাহেব দাঃবাঃ
জামিয়া আবূ বকর সিদ্দীক রাদিঃ আল-ইসলামিয়া ভূজপুর,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম।
বিষয়:সূর্য গ্রহণের সময় করণীয় ও বর্জনীয় প্রসঙ্গে।
প্রশ্নকারী: জনাব শাহাদাত বিন সোলাইমান
প্রশ্ন:সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে বিভিন্ন কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। ওই সময় তৈরি করা খাবার খেতে নেই; তৈরি করলে ফেলে দিতে হবে। গর্ভবতী মায়েরা এ সময় যা করেন, তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়।
এ ধরনের আরও বহু কুসংস্কার ও ভুল বিশ্বাস রয়েছে।
এখন আমার জানার বিষয় হলো: ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক সূর্যগ্রহণের সময় আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় কী?
দলীল সহ জানালে উপকৃত হব।
الجواب بإسم ملهم الصدق و الصواب
حامدا و مصليا و مسلما:
শরয়ী সমাধান:
প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এ ধরনের আরও বহু কুসংস্কার ও ভুল বিশ্বাস আমাদের সমাজে রয়েছে।
অথচ এগুলো বিশ্বাস করে এ সময় কোনো নারীকে কষ্ট দেয়া অন্যায় ও গুনাহের কাজ।
ইসলামী শরিয়াহ্ ও বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর কোনো মিল নেই।
জাহেলি যুগেও সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন রকম ধারণা ছিল। চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হলে মানুষ মনে করত, অচিরেই দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীতে কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করত।
প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) সেগুলোকে ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মহানবী (সা.) সাহাবিদের চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।তবে তা আল্লাহতায়ালার নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে।(বুখারি)
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের কারণে সৃষ্টির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো নিছকই কুসংস্কার।
মহানবী (সা.) এ সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আমাদের উচিত কুসংস্কারগুলো পরিহার করে সুন্নাত অনুযায়ী চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া।
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় জাগতিক কোনো কাজে শরিয়তের বিধিনিষেধ নেই। এ ব্যাপারে যা প্রচলিত রয়েছে, তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। এ ধরনের কোনো নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক গুনাহ হবে। চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন বলে বিশ্বাস করতে হাদিসে বলা হয়েছে। তখন পুরুষদের মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে সালাতুল কুসুফ (সূর্যগ্রহণের নামাজ) ও সালাতুল খুসুফ (চন্দ্রগ্রহণের নামাজ) পড়তে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এর বাইরে ইসলামে আর কোনো নিয়মনীতি নেই।
বিঃদ্রঃ(আরবিতে সূর্যগ্রহণকে ‘কুসুফ’ বলা হয়, আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে ‘নামাজে কুসুফ’ বলা হয়। এ নামাজ দুই রাকাত এবং তা সুন্নাত। এটি জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। এ নামাজে আজান-ইকামত নেই। সালাতুল কুসুফের জামাতে শরিক হওয়ার জন্য লোকদের আহ্বান করা যাবে।
সূর্যগ্রহণের নামাজে সূরা ফাতেহার পর বড় বড় সূরা পড়বে এবং কেরাত আস্তে পড়বে। রুকু, সেজদা অনেক লম্বা করে আদায় করা সুন্নাত। নামাজের পর ইমাম দোয়ায় মশগুল হয়ে যাবেন আর সব মুক্তাদি আমিন আমিন বলবেন। এভাবে সূর্য প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত দোয়া করতে থাকবে।)
الدلائل الشرعية:
★(في تفسير مظهري تحت تفسير الآية: قالو إنا تطيرنا بكم ٧٧/٨ زكريا قديم، ٣٥/٨ جديد دو بند.)
يعنون أن ما نزل بنا إنما هو بشؤمكم و ذلك لاستغرابهم ما ادعوه و استقباحهم له و تنفرهم عنه فإن عادة الجهال أن يتمنوا كل شئى مالت إليه طباعهم و تشاموا ما كرهوه.
★(وفي صحيح البخارى،كتاب الكسوف،باب الصلاة في كسوف الشمس ١٤١/١،رقم:١٠٣١)
عن قيس قال:سمعت أبا مسعود يقول: قال النبي صلى الله عليه وسلم: إن الشمس والقمر لا يخسفان لموت أحد من الناس،ولكنهما آيتان من آيات الله فإذا رأيتموها فقوموا،فصلوا.
★(وفيه أيضاً،كتاب الكسوف،باب الصلاة في كسوف الشمس ١٤١/١،رقم:١٠٣٠)
عن أبي بكرة قال: كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم،فانكسفت الشمس،فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يجر رداءه حتى دخل المسجد،فدخلنا فصلى بنا ركعتين حتى انجلت الشمس،فقال: إن الشمس والقمر لا ينكسفان لموت أحد، و إذا رأيتموها فصلوا و ادعوا حتى يكشف مابكم.
★(و في صحيح مسلم كتاب الاقضية،باب نقض الأحكام الباطلة و رد محدثات الأمور،٧٧/٢.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد.
★(و في الفتاوىٰ الهندية،كتاب الصلاة،الباب الثامن عشر في صلاة الكسوف،١٥٣/١ زكريا قديم. في الفتاوىٰ التاتارخانية،٦٥٧/٢ رقم:٣٥٢٢ زكريا)
و هي سنة تؤدي بجماعة واختلفوا في صفة أدائها،قال علماءنا: يصلي ركعتين كل ركعة بركوع و سجدتين كسائر الصلوات يقرأ فيهما ما أحب،و يدعو بعد الصلاة حتي تنجلي الشمس كمال الانجلاء.
রচনায়:
মুফতী সাখাওয়াত বিন সোলাইমান
মুফতী ও সিনিয়র শিক্ষক:
জামিয়া আবূ বকর সিদ্দীক রাদিঃ আল-ইসলামিয়া
ভূজপুর,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ।