21/08/2025
তরুণ প্রজন্মের আইডল মনিরুল আহসান মণি ভাই স্মরণে
=====================================
-এস.এম. আমজাদ হোসেন জুয়েল
AH 24 News
===============================
ভালবাসার একটি নাম মোঃ মনিরুল আহসান মনি। সবার কাছে তিনি মণি ভাই বলেই পরিচিত। তিনি ছিলেন এলাকার ছোট বড় সকলের প্রিয় মানুষ, যুবকদের আদর্শ এবং পথপ্রদর্শক।
এই প্রিয় ভাইটি জন্মেছিলেন ১৯৭৭ সালের ১৭ জানুয়ারী এবং এক বৎসর পূর্বে ৪৮ বৎসরের স্মৃতি রেখে ২০২৪ সালের ৩০ আগষ্ট আমাদের শোক সাগরে ভাসিয়ে, চলে গেলেন আপন নীড়ে- মহান মনিবের কাছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের প্রসিদ্ধ এলাকা আজম ক্লাবেই তার বাড়ি।
এলাকার সকল মানুষের কাছে ভালবাসার একটি নাম ছিলো মোঃ মনিরুল আহসান (মনি)। কোথাও যদি কেউ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হতেন, সেখানেই মুহূর্তেই হাজির হতেন মণি ভাই। কেউ গরীব দুঃখী মানুষদের উপর জুলুম-অবিচার করছেন, সেখানেও মনি ভাই হাজির হয়ে যেতেন। কোন সন্তান তার পিতা-মাতার উপর জুলুম করছে শুনলেই সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে যেতেন তিনি। কোন স্বামী তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন করছে খবর পেলেই সাথে সাথে ছুটে যেতেন তিনি। মিথ্যা কথা বলা, অত্যাচারী, অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে আতংকের নাম ছিলো এই মণি ভাই।
মোহাম্মদ মনিরুল আহসান এর পিতার নাম মরহুম এবিএম আব্দুল মালেক এবং মাতার নাম মরহুমা ছকিনা বেগম। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মোহাম্মদ মনিরুল আহসান সবার ছোট।
মরহুম মোহাম্মদ মনিরুল আহসান পরপারে চলে যাওয়ার সময় এই পৃথিবীতে স্ত্রী ও তিন ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য আত্নীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান।
এই মনিরুল আহসান মণি ঐতিহ্যবাহী আজম ক্লাবের সাবেক সভাপতি, পশ্চিম বাবুনগর ডাক্তার এম এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যকারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, আজম ক্লাব সংলগ্ন নুরে মদীনা জামে মসজিদের কার্যকরী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।
জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টগুলোর একটি হলো প্রিয়জনের মৃত্যু। যখন আমাদের প্রিয় মানুষটি চলে যায়, তখন হৃদয়ে সৃষ্টি হয় এক গভীর শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হয় না। এই কষ্ট, এই শোক, এই না বলা অনুভূতিগুলো অনেক সময় শব্দে প্রকাশ করা কঠিন হয়ে যায়। আর কয়েকটা দিন পর এক-বছর পূর্ণ হবে তবু্ও আপনাকে আমরা ভুলি নাই। আপনার রেখে যাওয়া ছোট ভাইরা এখনো পর্যন্ত এই মিথ্যা পৃথিবীতে বেচে আছে আপনার আর্দশ নিয়ে। যা আপনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। সৎ পথে চলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকা, বিপদ-আপদে মানুষকে সাহায্য করা, পাঞ্জেগানা নামাজ পড়া, মানুষের উপকার করা, সত্য পথে চলা, অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে আসা, এসব নীতি আদর্শ এখনো পর্যন্ত বুকে ধারণ করে রেখেছে আপনার সকল ছোট ভাইয়েরা।
মণি ভাই, আপনি অমর, আমাদের মাঝে আজীবন অমর হয়ে থাকবেন।
মোহাম্মদ মনিরুল আহসান মণি প্রাইমারি শিক্ষা অর্জন করেন তার নিজ এলাকার আজম ক্লাব সংলগ্ন পশ্চিম বাবুনগর ডাক্তার এম এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য চট্টগ্রামে পাড়ি দেন এবং তিনি চট্টগ্রাম সিটিতে প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি ১৯৯৫ ও ১৯৯৭সালে ডিগ্রী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
মোঃ মনিরুল আহসান মনির ভগ্নিপতি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন শাহীন ১৯৯৪ সাল থেকে নাজিরহাট কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বড় বোন ছামিরা বেগম কুমকুম, নানুপুর লায়লা কবির কলেজে ১৯৯৫ সাল থেকে অধ্যাপনায় আছেন।
“অন্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটা আজ নিজেই নিঃশব্দ হয়ে গেল"। যে হৃদয়ে এত ভালোবাসা ছিলো, আজ সে হৃদয়টা নিথর পড়ে আছে। অথচ সময়টা থেমে নেই কিন্তু আমাদের মন থেমে গেছে সেই বিদায়ের দিনেই।
প্রিয়জনের মৃত্যু কখনো মানা যায় না, যতই বলি — মৃত্যু চিরন্তন সত্য, তবুও মন তা মানতে চায় না।
চোখের সামনে প্রিয়জনের চলে যাওয়া যে কী ভয়ংকর কষ্ট দেয়, তা কেবল হারানোর পরই বোঝা যায়। জীবন চলে, কিন্তু মন থমকে থাকে সেই ক্ষণে।
যারা চলে যায়, তারা চিরকাল থেকেও যায় মনের কোনে, স্মৃতির পাতায়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে।বড্ড মিস করছি আপনাকে।
কোনো দিন ভাবিনি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে হবে… কিন্তু আজ প্রতিদিন লড়ছি শুধু স্মৃতির উপর ভর করেই। আপনাকে ভুলিনি, ভুলবোনা এবং কখনোই ভুলতে পারিনা আমরা। আজো মনে পড়ে আপনার সেই হাসিটা।
হে আল্লাহ তুমি আমাদের বড় ভাই, আমাদের প্রেরণার বাতিঘর মরহুম মুহাম্মদ মনিরুল আহসান মণি ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো এবং জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দিও। আমিন 🤲🕋🤲