25/07/2021
প্রথমে জেনে নিই, রংধনু কাকে বলে?
মেঘ করে বৃষ্টির পর আকাশ হয়ে যায় ঝকঝকে। আকাশে তখন আবার সূর্য ওঠে। মাঝে মাঝে বৃষ্টির পর আকাশে নানা রঙের ঝিলিক দেখা যায়। মনে হয়, নানা রঙের ধনুক আকাশ জুড়ে আছে। নানা রঙের এই ধনুককে বলে রংধনু। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, রংধনু বা রামধনু বা ইন্দ্রধনু হল একটি দৃশ্যমান ধনুরাকৃতি আলোর রেখা যা বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত জলকণায় সূর্যালোকের প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে ঘটিত হয়। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু দেখা যায়। রংধনুতে সাতটি রঙের সমাহার দেখা যায়। দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা হওয়ায় এটির নাম রংধনু। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আকাশে কেন রংধনু দেখা যায়? উত্তর হচ্ছে… বৃষ্টির পর আকাশ পরিষ্কার মনে হয়। কিন্তূ কিছু কিছু পানির কণা তখনও বাতাসে ভাসতে থাকে। সূর্যের আলো এ পানির কণা ভেদ করে পৃথিবীতে আসে। পানির কণা ভেদ করার সময় সূর্যের আলো বেঁকে যায়। আর সূর্যের সাদা রং সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়। এ রঙগুলো হলো-বেগুনি নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। এ সাতটি রঙকে আমরা রংধনুর আকারে আকাশে দেখি। আকাশে রংধনু সব সময় সূর্যের উল্টো পাশে দেখা যায়। রংধনু উঠলেই বোঝা যায় বৃষ্টি আর হবে না। রংধনু ওঠে দু’টি করে!! আসল যে রংধনু, তার একটু উপরে আরেকটি রংধনু ওঠে। সেটা অবশ্য আসল রংধনুর চেয়ে কম উজ্জ্বল, আর রংগুলোও থাকে বিপরীতক্রমে। আর এই দুই রংধনুর মাঝখানের অংশে আকাশের অন্যান্য অংশের চেয়ে আলো একটু কম থাকে। এগুলো অবশ্য খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, দ্বিতীয় রংধনু আর মাঝের কম আলোকিত। অংশ দেখতে হলে একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করতে হবে। রংধনুর আলো বেঁকে গেলে সাতটি রং আলাদা করে কেন দেখা যায়? সাতটি রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও আলাদা আলাদা; তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা বলেই আলোগুলোর আলাদা আলাদা রং হয়। এখন, এই আলাদা তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য প্রতিটি আলোর বেঁকে যাওয়ার পরিমাণও আলাদা হয়। এই যেমন লাল রঙের আলো ৪২ ডিগ্রি কোণে বাঁকে। আবার বেগুনি রঙের আলো বাঁকে ৪০ ডিগ্রি কোণে। অন্য রঙের আলোগুলো ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে বাঁকে। এই কারণে রংধনুতে রঙগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সারিতে সবসময় দেখা যায়।