23/11/2025
গতকাল ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের নরসিংদীর ৫.৭ মাত্রার তীব্র ভুমিকম্পের পর আজ সকাল ১০ টা ৩৬ মিনিটে সাভার ও গাজীপুরের মধ্যবর্তী বাই পাইলে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি মৃদু ভুমিকম্প অনুভব করেছেন স্থানীয় মানুষ,
সর্বশেষ ১৯১৮ সাথে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার কাছাকাছি একটা বড় ভুমিকম্প হয়েছিল বাংলাদেশে, তারপর ১০০ বছরের বেশি সময় চলে গেছে কিন্তু এই অঞ্চলে তেমন বড় ভুমিকম্প হয় নি, তাই বাংলাদেশ রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ৯ মাত্রার একটা বড় ভুমিকম্পের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশী বিদেশি অনেক ভুমিকম্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ভুমিকম্প নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে ভূমিকম্প সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের ভুমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে, আসুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
ভূমিকম্পের সময় অকারণে দৌড়াবেন না, করণীয় সম্পর্কে জানুন, ক্ষতি কমানো ও বাঁচার চেষ্টা করুন!
ঢাকার অধিকাংশ আবাসনই ৫–৭ তলার অ্যাপার্টমেন্ট। এ ধরনের ভবনে ভূমিকম্পে বাঁচা বা মারা যাওয়ার সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করে আপনার প্রথম ১০–২০ সেকেন্ডে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আপনি কোথায় অবস্থান করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার করণীয়।
আপনি যদি দ্বিতীয় তলা বা তার উপরে থাকেন তাহলে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে যাওয়াই সবচেয়ে সাধারণ ভুল এবং এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ। আসুন এবার প্রথমেই জানি কী করা যাবে না, অর্থাৎ যেসব কাজ ভুমিকম্পে ক্ষয় ক্ষতি ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
➤ কম্পন শুরু হলে যে ভুলগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে
১. সিঁড়ির দিকে দৌড়ানো
ভূমিকম্পের সময় সিঁড়ি ভবনের সবচেয়ে দুর্বল অংশগুলোর একটি
কম্পনের সময় দৌড়ালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, আলো নিভে যাওয়া—আহত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি কম্পন চলাকালীন সিঁড়ি ব্যবহার করলে ধসের সময় সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আপনি প্রথম বা দ্বিতীয় তলায় থাকলে দ্রুত প্রধান দরোজা খুলে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন, এর উপরে থাকলে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা আত্মঘাতী হতে পারে।
২. বারান্দায় যাওয়া
বারান্দা সাধারণত ক্যান্টিলিভার স্ট্রাকচার, ভূমিকম্পে এগুলো বেশি নড়ে এবং ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বেশি, রেলিং ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা, ওপরের তলা থেকে পড়ে আসা বস্তুর আঘাত এগুলো আপনার জন্য বিপদ জনক হতে পারে।
৩. লিফট ব্যবহার
লিফট জ্যাম হয়ে আটকে পড়া, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে বন্দি থাকা
ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ।
৪. জানালা বা কাঁচের কাছে থাকা
ভাঙা কাঁচের টুকরো গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে, তাই বড় জানালা, আয়না, শোকেস থেকে দূরে থাকুন।
৫. দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো
অনেকে মনে করেন দরজার ফ্রেম নিরাপদ, কিন্তু এটি আধুনিক স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সঠিক নয়, আধুনিক ভবনে দরজার ফ্রেম অন্য অংশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয় যাতে এস্কেপ রুট বন্ধ না হয়, দরজা খুলে রাখা জরুরি, কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নয়।
➤ বাঁচার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়:
Drop – Cover – Hold On
বিশ্বব্যাপী জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো (FEMA, Red Cross, WHO) এই পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
(শুয়ে পড়ুন), মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসুন বা শুয়ে পড়ুন কারণ দাঁড়িয়ে থাকলে কম্পনে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি
(আচ্ছাদন নিন), মাথা ও ঘাড় রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি, মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকুন, খাটের নিচে আশ্রয় নিন, কিছু না পেলে হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন, ভুমিকম্পের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হেড ইনজুরি।
(ধরে রাখুন), যে আশ্রয় নিয়েছেন সেটি শক্ত করে ধরে রাখুন
কম্পন চলাকালীন নড়াচড়া করবেন না, কম্পন সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
➤ বহুতল বিল্ডিংয়ে অবস্থানের তলা অনুযায়ী করণীয়
১ম বা ২য় তলায় থাকলে
আপনার বের হওয়ার সুযোগ আছে—কিন্তু সঠিক উপায়ে:
- প্রথম ৫ সেকেন্ড: দরজা খুলে দিন (জ্যাম হলে বের হতে পারবেন না)
- ৬–১০ সেকেন্ড: মূল্যবান কিছু না নিয়ে দ্রুত সিঁড়ির দিকে যান
- ১০–২০ সেকেন্ড: দ্রুত সাবধানে নিচে নামুন (দৌড়াবেন না, পড়ে যাবেন)
- বাইরে এসে ভবন থেকে নূন্যতম ৫০–১০০ ফুট দূরে দাঁড়ান
- বিদ্যুতের খুঁটি, তার, গাছ, অন্য ভবনের কাছে যাবেন না
- খোলা মাঠ বা পার্কে অবস্থান নিন।
সতর্কতা: কম্পন ৩০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হলে বা খুব তীব্র মনে হলে, Drop-Cover-Hold On করুন, দৌড়াবেন না।
৩য় তলা বা তার ওপরে থাকলে
- আপনার একমাত্র নিরাপদ বিকল্প: ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া
- দরজা খুলে দিন (কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না)
- অবিলম্বে Drop-Cover-Hold On করুন
- সবচেয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজুন:
বেডরুমে: খাটের নিচে
ড্রয়িং/ডাইনিং: মজবুত টেবিলের নিচে
বাথরুম: শক্ত স্ট্রাকচার, টয়লেটের পাশে বা বাথটাবের পাশে বসে থাকুন
কিচেন: রান্নার চুলা, ফ্রিজ থেকে দূরে থাকুন
কোনো আশ্রয় না পেলে: দেয়ালের ভেতরের কোণে (load-bearing wall-এর কাছে) বসে মাথা ঢেকে রাখুন
- কাঁচ, জানালা, আয়না, বড় ফ্রেম, ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন
- ভারী আসবাবপত্র (আলমারি, বুককেস) থেকে দূরে থাকুন
মাথা রক্ষার ব্যবস্থা
ভূমিকম্পে বেশিরভাগ মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত হয় মাথায় পড়ে আসা বস্তুর আঘাতে। আপনার হাতের কাছে যা পাবেন:
হেলমেট
বালতি (মাথায় উল্টো করে)
বড় ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক
বালিশ
মোটা বই
যেকোনো শক্ত বস্তু যা মাথা ঢাকতে পারে
মনে রাখবেন: হাত দিয়ে মাথা ঢাকলেও কিছুটা সুরক্ষা পাবেন।
➤ ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে কী করবেন?
- আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করবেন না কারণ এতে ধুলা ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসনালী বন্ধ করে দিতে পারে, শক্তি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, অক্সিজেন দ্রুত শেষ হবে।
- আগে থেকে হুইসেল সংগ্রহে রাখুন ও হুইসেল বাজান, হুইসেলের শব্দ দূর থেকে সহজে শোনা যায় এবং কম শক্তি লাগে। প্রতি ৫–১০ মিনিট পর পর ৩ বার হুইসেল বাজান।
- হুইসেল না থাকলে: টোকা দিন, দেয়াল, পাইপ, বা শক্ত কিছুতে ৩ বার করে টোকা দিন, এটি আন্তর্জাতিক "SOS Rescue Signal" নিয়মিত বিরতিতে সংকেত পাঠান।
- মোবাইল ফোন, অতিরিক্ত অন্ধকার হলে টর্চ অন রাখুন (কিন্তু স্ক্রিন বন্ধ রাখুন—ব্যাটারি বাঁচবে), ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখবেন না, পরিচিত কেউ বা রেসকিউ টিম কল করতে পারে, উদ্ধার কার্য চালানোর সময় আক্রান্ত স্থানে বা আটকে পড়া স্তুপে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে তা আপনার দ্রুত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
- SMS পাঠানোর চেষ্টা করুন, নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও SMS যেতে পারে
প্রয়োজন ছাড়া কথা বলবেন না, ব্যাটারি ও অক্সিজেন বাঁচান।
- শ্বাস-প্রশ্বাস: মুখে কাপড় (রুমাল, গামছা, জামার অংশ) চেপে রাখুন
ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, অক্সিজেন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে
আতঙ্কিত হবেন না, শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ আতঙ্কিত হয়ে কোন লাভ নেই, তাতে আপনার ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেবে, ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
- অবস্থান পরিবর্তন করবেন না, যতটুকু সম্ভব স্থির থাকুন, নড়াচড়া করলে আপনার শক্তি কমে যাবে এবং এতে আরও ধস নামতে পারে।
- পানি ও খাবার, যদি হাতের কাছে থাকে, অল্প অল্প করে খান, একবারে বেশি খাবেন না।
➤ আজ থেকেই যা প্রস্তুতি নিন
জরুরি কিট প্রস্তুত করুন
১. মোবাইলে ভুমিকম্প এলার্ট সেট করে রাখুন, দূরত্ব ভেদে ৫-৪৫ সেকেন্ড আগে ভুমিকম্প সতর্কতা সংকেত পাবেন যা আপনার নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. হুইসেল (প্রতিটি ঘরে ১টি করে রাখুন)
৩. টর্চলাইট + অতিরিক্ত ব্যাটারি বা গিয়ার টর্চ।
৪. ফার্স্ট এইড বক্স
৫. পানির বোতল (প্রতি সদস্যের জন্য ৩ দিনের পানি)
৬. শুকনো খাবার (বিস্কুট, চিড়া, মুড়ি)
৭. প্রয়োজনীয় ওষুধ (যদি কারও নিয়মিত ওষুধ থাকে)
৮. মোবাইল চার্জার + পাওয়ার ব্যাংক
৯. নগদ টাকা (এটিএম কাজ নাও করতে পারে)
১০. গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি (একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে)
➤ ঘরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করুন
১. ভারী আলমারি, ফ্রিজ, বুককেস দেয়ালে স্ক্রু/বোল্ট দিয়ে আটকে রাখুন
২. গ্যাস সিলিন্ডার চেইন দিয়ে বেঁধে রাখুন
৩. শোকেস, বড় আয়না দেয়ালে শক্ত করে লাগান
৪. ঝুলন্ত বড় ছবি/ফ্রেম সরিয়ে ফেলুন বা ভালোভাবে আটকান
৫. বিছানার মাথায় ভারী কিছু ঝুলাবেন না, বিছানার পাশে রাখুন
৬. জুতা (ভাঙা কাঁচের উপর দিয়ে হাঁটতে হতে পারে)
৭. হেলমেট/মোটা বালিশ
৮. হুইসেল
৯. টর্চলাইট
১০ মোবাইল ফোন (চার্জ করা)
➤ দরজা ও জানালা
১. দরজায় অটো-লক রাখবেন না
২. চাবি সবসময় নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন (যেন অন্ধকারেও খুঁজে পান)
৩. জানালার কাছে ভারী কিছু রাখবেন না
➤ পরিবারের সাথে পরিকল্পনা করুন
১. প্রতিটি কক্ষের "নিরাপদ স্থান" চিহ্নিত করুন
২. জরুরি ফোন নম্বর সবার ফোনে সেভ করুন:
ফায়ার সার্ভিস: ১৬১৬৩ / ১০১
জাতীয় জরুরি হটলাইন: ৯৯৯
পুলিশ: ১০০
অ্যাম্বুলেন্স: ১০২
১. পরিবারের বাইরে একটি "মিটিং পয়েন্ট" ঠিক করুন (যদি আলাদা হয়ে যান)
২. বাচ্চাদের শেখান কীভাবে Drop-Cover-Hold On করতে হয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ
৩. গ্যাসের মেইন লাইনের ভালভ কোথায় তা জেনে রাখুন
৪. বিদ্যুতের মেইন সুইচ কোথায় তা জানুন
৫. ভূমিকম্পের পর গ্যাস লিক সন্দেহ হলে মেইন বন্ধ করুন
➤ ভূমিকম্পের পরপরই কী করবেন?
কম্পন থামার পর (প্রথম ৫ মিনিট)
১. নিজে আহত কিনা চেক করুন
২. পরিবারের সবাইকে চেক করুন
৩ গ্যাসের গন্ধ পেলে মেইন লাইন বন্ধ করুন, জানালা খুলে দিন
৪. ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকলে মেইন সুইচ বন্ধ
বহুতল ভবনের উপর থেকে বাইরে বা নীচে যাওয়ার আগে
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, মোবাইল, চার্জার, পানি নিন
১. হেলমেট/জুতা পরুন
২. লিফট নয়—সিঁড়ি ব্যবহার করুন
৩. সাবধানে নামুন—সিঁড়িতে ফাটল থাকতে পারে
বাইরে আসার পর
১. ভবন থেকে দূরে দাঁড়ান (৫০–১০০ ফুট)
২. বিদ্যুতের তার, গাছ, দেয়াল থেকে দূরে থাকুন
৩. Aftershock (পরবর্তী ঝাঁকুনি) আসতে পারে, সতর্ক থাকুন
৪. আবার ভেতরে ঢুকবেন না যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ঘোষণা করে।
➤ অফিস, শপিং মল, বা জনবহুল স্থানে থাকলে
১. Drop-Cover-Hold On করুন
২. ভিড়ে দৌড়ানো বা ঠেলাঠেলি করবেন না
৩. শপিং মলে থাকলে: সেলফ, বড় কাঁচ, এসকেলেটর থেকে দূরে থাকুন
৪. লিফট ব্যবহার করবেন না
৫. কম্পন শেষে জরুরি নির্গমন পথ (emergency exit) ব্যবহার করুন
➤ গাড়িতে থাকলে
১. নিরাপদে রাস্তার পাশে গাড়ি থামান
২. ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বিদ্যুতের তার, গাছের নিচে থামাবেন না
৩. গাড়ির ভেতরেই থাকুন (গাড়ি সুরক্ষা দেয়)
৪. সিটবেল্ট পরে রাখুন
৫. কম্পন শেষ হলে সাবধানে গাড়ি চালান, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত থাকতে পারে।
➤ খোলা জায়গায় থাকলে
১. সৌভাগ্যবান, আপনি নিরাপদ জায়গায় আছেন
২. ভবন, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে সরে যান
৩ মাটিতে বসে পড়ুন—দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
➤ ভূমিকম্পের পরে যোগাযোগ
১. SMS ব্যবহার করুন—নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও SMS যায়
২. Facebook Safety Check / Google Person Finder ব্যবহার করুন
৩. জরুরি না হলে ফোন কল করবেন না, নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকবে
৪. একটি নির্দিষ্ট বাইরের যোগাযোগ (অন্য শহর/দেশের) রাখুন, স্থানীয় নেটওয়ার্ক বিকল হলেও তারা আপনার পরিবারকে জানাতে পারবেন।
➤ মনে রাখার মূলমন্ত্র
১. ৩য়/৪র্থ তলা বা তার উপরে থাকলে:
"দৌড়ানো = মৃত্যু। Drop-Cover-Hold On = বাঁচা।"
২. ১ম–২য় তলায় থাকলে:
"প্রথম ২০ সেকেন্ড = আপনার জীবন। দ্রুত কিন্তু সাবধানে বের হন।"
৩. সব তলার জন্য:
"দরজা খুলে দিন
আশ্রয় নিন
নড়বেন না
কম্পন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন"
➤ ভুল ধারণা সংশোধন
১. "Triangle of Life" তত্ত্ব
অনেকে বলেন আসবাবের পাশে শুয়ে থাকলে "লাইফ ট্রায়াঙ্গেল" তৈরি হয়। বিশ্বের প্রধান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো (FEMA, Red Cross) এই তত্ত্বকে বিপজ্জনক বলে মনে করে। সঠিক পদ্ধতি: Drop-Cover-Hold On
২. দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো সবচেয়ে নিরাপদ
আধুনিক ভবনে এটি আর সত্য নয়। দরজা খোলা রাখুন, কিন্তু মজবুত টেবিল/খাটের নিচে আশ্রয় নিন।
৩. ভূমিকম্পে মাটি ফেটে মানুষ গিলে ফেলে
এটি চলচ্চিত্রের কল্পনা। বাস্তবে ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ভবন ধসে বা পড়ে যাওয়া বস্তুর আঘাতে।
➤ ঢাকা শহরের বিশেষ প্রেক্ষাপট
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ শহর। এখানে কিছু বিশেষ বিষয়:
১. বেশিরভাগ ভবন পুরনো বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি, ভূমিকম্প ঝুঁকি বেশি।
২. সংকীর্ণ রাস্তা, রেসকিউ টিম পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে।
৩. ঘনবসতি, একসাথে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৪. প্রস্তুতির অভাব, বেশিরভাগ মানুষ জানেন না কী করতে হবে তাই আপনার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি আরও বেশি জরুরি।
➤ আরও বিস্তারিত জানতে
১. বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স: ভূমিকম্প প্রস্তুতি গাইডলাইন
২. FEMA (ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি): Earthquake Safety Checklist
৩. Red Cross: Earthquake Preparedness Guide
শেষ কথা
ভুমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, মানুষের জন্ম মৃত্যু সবই পূর্ব নির্ধারিত, তাই অকারণ আতঙ্ক নয়, করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, প্রস্তুতি নিন, আল্লাহ সুবহানাতালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন আমাদের ভূমিকম্প সহ সব ধরনের বিপদ আপুদ থেকে নিরাপদ রাখেন, রক্ষা করেন, ফি আমানিল্লাহ।
নিজে জানুন, প্রস্তুতি নিন, সতর্ক থাকুন, শেয়ার বা কপি করে আপনার আত্মীয় বন্ধুদের জানানের মাধ্যমে তাদেরকেও সতর্ক থাকার সুযোগ করে দিন।