Hazi Abul Hossain College

Hazi Abul Hossain College

Share

" সত্য-সুন্দর-জ্ঞানের পথ,
আলোকিত পৃথিব?

29/11/2025

ছোট্ট একটা ওয়েবসাইটে গোটা বিশ্বের রেডিও 🤯
এটি এমন একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ রেডিও প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পৃথিবীর যেকোনো দেশের লাইভ রেডিও স্টেশন আপনি গ্লোব ঘুরিয়ে শুনতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা মূলত এটা ব্যবহার করে থাকে—দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের কালচার, মিউজিক ও নিউজ এক ক্লিকেই শোনার জন্য; ভিন্ন ভাষার স্টেশন এক্সপ্লোর করার জন্য; নিজের পছন্দের শহর বা দেশের রেডিও স্টেশনে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধার জন্য; আর ট্রাভেলিং বা রিলাক্সেশনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিন্ন ধরনের সাউন্ডস্কেপ উপভোগ করার জন্য।
নিচে লিঙ্ক দিচ্ছি 👇🏼
https://radio.garden/visit/tamluk/FShfaBOZ

Faisal Ebne Mostafa Hazi Abul Hossain College

24/11/2025

আটশো বছর আগে, ইরানের ইসফাহানে, এক নির্মাতার হাতে জন্ম নেয় এক বিস্ময়। তিনি বানিয়েছিলেন চার ডায়ালের এমন এক কম্বিনেশন তালা, যার সম্ভাব্য কম্বিনেশন সংখ্যা ছিল ৪.২ বিলিয়নেরও বেশি! সময়ের তুলনায় এটি ছিল শত শত বছর এগিয়ে থাকা এক প্রযুক্তি।

তালাটির গায়ে লেখা ছিল এক নাম- অ্যাস্ট্রোল্যাব নির্মাতা মুহাম্মদ ইবন হামিদ আল-আস্তুরলাবি। তাঁর হাতেই যন্ত্রশিল্প আর নৈপুণ্য যেন মিলে গিয়েছিল এক অপূর্ব সৃষ্টিতে।

মসৃণ যান্ত্রিক কাঠামো আর শিল্পময় নকশা মিলিয়ে সেই তালা হয়ে উঠেছিল এক অসাধারণ চমক, যা এখনো মানুষকে বিস্মিত করে।


23/11/2025

গতকাল ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের নরসিংদীর ৫.৭ মাত্রার তীব্র ভুমিকম্পের পর আজ সকাল ১০ টা ৩৬ মিনিটে সাভার ও গাজীপুরের মধ্যবর্তী বাই পাইলে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি মৃদু ভুমিকম্প অনুভব করেছেন স্থানীয় মানুষ,
সর্বশেষ ১৯১৮ সাথে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার কাছাকাছি একটা বড় ভুমিকম্প হয়েছিল বাংলাদেশে, তারপর ১০০ বছরের বেশি সময় চলে গেছে কিন্তু এই অঞ্চলে তেমন বড় ভুমিকম্প হয় নি, তাই বাংলাদেশ রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ৯ মাত্রার একটা বড় ভুমিকম্পের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশী বিদেশি অনেক ভুমিকম্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ভুমিকম্প নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে ভূমিকম্প সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের ভুমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে, আসুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

ভূমিকম্পের সময় অকারণে দৌড়াবেন না, করণীয় সম্পর্কে জানুন, ক্ষতি কমানো ও বাঁচার চেষ্টা করুন!
ঢাকার অধিকাংশ আবাসনই ৫–৭ তলার অ্যাপার্টমেন্ট। এ ধরনের ভবনে ভূমিকম্পে বাঁচা বা মারা যাওয়ার সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করে আপনার প্রথম ১০–২০ সেকেন্ডে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আপনি কোথায় অবস্থান করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার করণীয়।

আপনি যদি দ্বিতীয় তলা বা তার উপরে থাকেন তাহলে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে যাওয়াই সবচেয়ে সাধারণ ভুল এবং এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ। আসুন এবার প্রথমেই জানি কী করা যাবে না, অর্থাৎ যেসব কাজ ভুমিকম্পে ক্ষয় ক্ষতি ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

➤ কম্পন শুরু হলে যে ভুলগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে

১. সিঁড়ির দিকে দৌড়ানো
ভূমিকম্পের সময় সিঁড়ি ভবনের সবচেয়ে দুর্বল অংশগুলোর একটি
কম্পনের সময় দৌড়ালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, আলো নিভে যাওয়া—আহত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি কম্পন চলাকালীন সিঁড়ি ব্যবহার করলে ধসের সময় সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আপনি প্রথম বা দ্বিতীয় তলায় থাকলে দ্রুত প্রধান দরোজা খুলে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন, এর উপরে থাকলে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা আত্মঘাতী হতে পারে।

২. বারান্দায় যাওয়া
বারান্দা সাধারণত ক্যান্টিলিভার স্ট্রাকচার, ভূমিকম্পে এগুলো বেশি নড়ে এবং ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বেশি, রেলিং ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা, ওপরের তলা থেকে পড়ে আসা বস্তুর আঘাত এগুলো আপনার জন্য বিপদ জনক হতে পারে।

৩. লিফট ব্যবহার
লিফট জ্যাম হয়ে আটকে পড়া, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে বন্দি থাকা
ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ।

৪. জানালা বা কাঁচের কাছে থাকা
ভাঙা কাঁচের টুকরো গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে, তাই বড় জানালা, আয়না, শোকেস থেকে দূরে থাকুন।

৫. দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো
অনেকে মনে করেন দরজার ফ্রেম নিরাপদ, কিন্তু এটি আধুনিক স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সঠিক নয়, আধুনিক ভবনে দরজার ফ্রেম অন্য অংশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয় যাতে এস্কেপ রুট বন্ধ না হয়, দরজা খুলে রাখা জরুরি, কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নয়।

➤ বাঁচার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়:
Drop – Cover – Hold On
বিশ্বব্যাপী জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো (FEMA, Red Cross, WHO) এই পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
(শুয়ে পড়ুন), মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসুন বা শুয়ে পড়ুন কারণ দাঁড়িয়ে থাকলে কম্পনে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি
(আচ্ছাদন নিন), মাথা ও ঘাড় রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি, মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকুন, খাটের নিচে আশ্রয় নিন, কিছু না পেলে হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন, ভুমিকম্পের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হেড ইনজুরি।

(ধরে রাখুন), যে আশ্রয় নিয়েছেন সেটি শক্ত করে ধরে রাখুন
কম্পন চলাকালীন নড়াচড়া করবেন না, কম্পন সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

➤ বহুতল বিল্ডিংয়ে অবস্থানের তলা অনুযায়ী করণীয়

১ম বা ২য় তলায় থাকলে
আপনার বের হওয়ার সুযোগ আছে—কিন্তু সঠিক উপায়ে:
- প্রথম ৫ সেকেন্ড: দরজা খুলে দিন (জ্যাম হলে বের হতে পারবেন না)
- ৬–১০ সেকেন্ড: মূল্যবান কিছু না নিয়ে দ্রুত সিঁড়ির দিকে যান
- ১০–২০ সেকেন্ড: দ্রুত সাবধানে নিচে নামুন (দৌড়াবেন না, পড়ে যাবেন)
- বাইরে এসে ভবন থেকে নূন্যতম ৫০–১০০ ফুট দূরে দাঁড়ান
- বিদ্যুতের খুঁটি, তার, গাছ, অন্য ভবনের কাছে যাবেন না
- খোলা মাঠ বা পার্কে অবস্থান নিন।
সতর্কতা: কম্পন ৩০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হলে বা খুব তীব্র মনে হলে, Drop-Cover-Hold On করুন, দৌড়াবেন না।

৩য় তলা বা তার ওপরে থাকলে
- আপনার একমাত্র নিরাপদ বিকল্প: ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া
- দরজা খুলে দিন (কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না)
- অবিলম্বে Drop-Cover-Hold On করুন
- সবচেয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজুন:
বেডরুমে: খাটের নিচে
ড্রয়িং/ডাইনিং: মজবুত টেবিলের নিচে
বাথরুম: শক্ত স্ট্রাকচার, টয়লেটের পাশে বা বাথটাবের পাশে বসে থাকুন
কিচেন: রান্নার চুলা, ফ্রিজ থেকে দূরে থাকুন
কোনো আশ্রয় না পেলে: দেয়ালের ভেতরের কোণে (load-bearing wall-এর কাছে) বসে মাথা ঢেকে রাখুন
- কাঁচ, জানালা, আয়না, বড় ফ্রেম, ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন
- ভারী আসবাবপত্র (আলমারি, বুককেস) থেকে দূরে থাকুন
মাথা রক্ষার ব্যবস্থা
ভূমিকম্পে বেশিরভাগ মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত হয় মাথায় পড়ে আসা বস্তুর আঘাতে। আপনার হাতের কাছে যা পাবেন:
হেলমেট
বালতি (মাথায় উল্টো করে)
বড় ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক
বালিশ
মোটা বই
যেকোনো শক্ত বস্তু যা মাথা ঢাকতে পারে
মনে রাখবেন: হাত দিয়ে মাথা ঢাকলেও কিছুটা সুরক্ষা পাবেন।

➤ ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে কী করবেন?
- আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করবেন না কারণ এতে ধুলা ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসনালী বন্ধ করে দিতে পারে, শক্তি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, অক্সিজেন দ্রুত শেষ হবে।
- আগে থেকে হুইসেল সংগ্রহে রাখুন ও হুইসেল বাজান, হুইসেলের শব্দ দূর থেকে সহজে শোনা যায় এবং কম শক্তি লাগে। প্রতি ৫–১০ মিনিট পর পর ৩ বার হুইসেল বাজান।

- হুইসেল না থাকলে: টোকা দিন, দেয়াল, পাইপ, বা শক্ত কিছুতে ৩ বার করে টোকা দিন, এটি আন্তর্জাতিক "SOS Rescue Signal" নিয়মিত বিরতিতে সংকেত পাঠান।
- মোবাইল ফোন, অতিরিক্ত অন্ধকার হলে টর্চ অন রাখুন (কিন্তু স্ক্রিন বন্ধ রাখুন—ব্যাটারি বাঁচবে), ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখবেন না, পরিচিত কেউ বা রেসকিউ টিম কল করতে পারে, উদ্ধার কার্য চালানোর সময় আক্রান্ত স্থানে বা আটকে পড়া স্তুপে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে তা আপনার দ্রুত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
- SMS পাঠানোর চেষ্টা করুন, নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও SMS যেতে পারে
প্রয়োজন ছাড়া কথা বলবেন না, ব্যাটারি ও অক্সিজেন বাঁচান।
- শ্বাস-প্রশ্বাস: মুখে কাপড় (রুমাল, গামছা, জামার অংশ) চেপে রাখুন
ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, অক্সিজেন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে
আতঙ্কিত হবেন না, শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ আতঙ্কিত হয়ে কোন লাভ নেই, তাতে আপনার ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেবে, ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
- অবস্থান পরিবর্তন করবেন না, যতটুকু সম্ভব স্থির থাকুন, নড়াচড়া করলে আপনার শক্তি কমে যাবে এবং এতে আরও ধস নামতে পারে।
- পানি ও খাবার, যদি হাতের কাছে থাকে, অল্প অল্প করে খান, একবারে বেশি খাবেন না।

➤ আজ থেকেই যা প্রস্তুতি নিন
জরুরি কিট প্রস্তুত করুন
১. মোবাইলে ভুমিকম্প এলার্ট সেট করে রাখুন, দূরত্ব ভেদে ৫-৪৫ সেকেন্ড আগে ভুমিকম্প সতর্কতা সংকেত পাবেন যা আপনার নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. হুইসেল (প্রতিটি ঘরে ১টি করে রাখুন)
৩. টর্চলাইট + অতিরিক্ত ব্যাটারি বা গিয়ার টর্চ।
৪. ফার্স্ট এইড বক্স
৫. পানির বোতল (প্রতি সদস্যের জন্য ৩ দিনের পানি)
৬. শুকনো খাবার (বিস্কুট, চিড়া, মুড়ি)
৭. প্রয়োজনীয় ওষুধ (যদি কারও নিয়মিত ওষুধ থাকে)
৮. মোবাইল চার্জার + পাওয়ার ব্যাংক
৯. নগদ টাকা (এটিএম কাজ নাও করতে পারে)
১০. গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি (একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে)

➤ ঘরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করুন
১. ভারী আলমারি, ফ্রিজ, বুককেস দেয়ালে স্ক্রু/বোল্ট দিয়ে আটকে রাখুন
২. গ্যাস সিলিন্ডার চেইন দিয়ে বেঁধে রাখুন
৩. শোকেস, বড় আয়না দেয়ালে শক্ত করে লাগান
৪. ঝুলন্ত বড় ছবি/ফ্রেম সরিয়ে ফেলুন বা ভালোভাবে আটকান
৫. বিছানার মাথায় ভারী কিছু ঝুলাবেন না, বিছানার পাশে রাখুন
৬. জুতা (ভাঙা কাঁচের উপর দিয়ে হাঁটতে হতে পারে)
৭. হেলমেট/মোটা বালিশ
৮. হুইসেল
৯. টর্চলাইট
১০ মোবাইল ফোন (চার্জ করা)

➤ দরজা ও জানালা
১. দরজায় অটো-লক রাখবেন না
২. চাবি সবসময় নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন (যেন অন্ধকারেও খুঁজে পান)
৩. জানালার কাছে ভারী কিছু রাখবেন না

➤ পরিবারের সাথে পরিকল্পনা করুন
১. প্রতিটি কক্ষের "নিরাপদ স্থান" চিহ্নিত করুন
২. জরুরি ফোন নম্বর সবার ফোনে সেভ করুন:
ফায়ার সার্ভিস: ১৬১৬৩ / ১০১
জাতীয় জরুরি হটলাইন: ৯৯৯
পুলিশ: ১০০
অ্যাম্বুলেন্স: ১০২
১. পরিবারের বাইরে একটি "মিটিং পয়েন্ট" ঠিক করুন (যদি আলাদা হয়ে যান)
২. বাচ্চাদের শেখান কীভাবে Drop-Cover-Hold On করতে হয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ
৩. গ্যাসের মেইন লাইনের ভালভ কোথায় তা জেনে রাখুন
৪. বিদ্যুতের মেইন সুইচ কোথায় তা জানুন
৫. ভূমিকম্পের পর গ্যাস লিক সন্দেহ হলে মেইন বন্ধ করুন

➤ ভূমিকম্পের পরপরই কী করবেন?
কম্পন থামার পর (প্রথম ৫ মিনিট)
১. নিজে আহত কিনা চেক করুন
২. পরিবারের সবাইকে চেক করুন
৩ গ্যাসের গন্ধ পেলে মেইন লাইন বন্ধ করুন, জানালা খুলে দিন
৪. ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকলে মেইন সুইচ বন্ধ

বহুতল ভবনের উপর থেকে বাইরে বা নীচে যাওয়ার আগে
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, মোবাইল, চার্জার, পানি নিন
১. হেলমেট/জুতা পরুন
২. লিফট নয়—সিঁড়ি ব্যবহার করুন
৩. সাবধানে নামুন—সিঁড়িতে ফাটল থাকতে পারে

বাইরে আসার পর
১. ভবন থেকে দূরে দাঁড়ান (৫০–১০০ ফুট)
২. বিদ্যুতের তার, গাছ, দেয়াল থেকে দূরে থাকুন
৩. Aftershock (পরবর্তী ঝাঁকুনি) আসতে পারে, সতর্ক থাকুন
৪. আবার ভেতরে ঢুকবেন না যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ঘোষণা করে।

➤ অফিস, শপিং মল, বা জনবহুল স্থানে থাকলে
১. Drop-Cover-Hold On করুন
২. ভিড়ে দৌড়ানো বা ঠেলাঠেলি করবেন না
৩. শপিং মলে থাকলে: সেলফ, বড় কাঁচ, এসকেলেটর থেকে দূরে থাকুন
৪. লিফট ব্যবহার করবেন না
৫. কম্পন শেষে জরুরি নির্গমন পথ (emergency exit) ব্যবহার করুন
➤ গাড়িতে থাকলে
১. নিরাপদে রাস্তার পাশে গাড়ি থামান
২. ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বিদ্যুতের তার, গাছের নিচে থামাবেন না
৩. গাড়ির ভেতরেই থাকুন (গাড়ি সুরক্ষা দেয়)
৪. সিটবেল্ট পরে রাখুন
৫. কম্পন শেষ হলে সাবধানে গাড়ি চালান, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত থাকতে পারে।

➤ খোলা জায়গায় থাকলে
১. সৌভাগ্যবান, আপনি নিরাপদ জায়গায় আছেন
২. ভবন, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে সরে যান
৩ মাটিতে বসে পড়ুন—দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

➤ ভূমিকম্পের পরে যোগাযোগ
১. SMS ব্যবহার করুন—নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও SMS যায়
২. Facebook Safety Check / Google Person Finder ব্যবহার করুন
৩. জরুরি না হলে ফোন কল করবেন না, নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকবে
৪. একটি নির্দিষ্ট বাইরের যোগাযোগ (অন্য শহর/দেশের) রাখুন, স্থানীয় নেটওয়ার্ক বিকল হলেও তারা আপনার পরিবারকে জানাতে পারবেন।

➤ মনে রাখার মূলমন্ত্র
১. ৩য়/৪র্থ তলা বা তার উপরে থাকলে:
"দৌড়ানো = মৃত্যু। Drop-Cover-Hold On = বাঁচা।"
২. ১ম–২য় তলায় থাকলে:
"প্রথম ২০ সেকেন্ড = আপনার জীবন। দ্রুত কিন্তু সাবধানে বের হন।"
৩. সব তলার জন্য:
"দরজা খুলে দিন
আশ্রয় নিন
নড়বেন না
কম্পন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন"

➤ ভুল ধারণা সংশোধন
১. "Triangle of Life" তত্ত্ব
অনেকে বলেন আসবাবের পাশে শুয়ে থাকলে "লাইফ ট্রায়াঙ্গেল" তৈরি হয়। বিশ্বের প্রধান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো (FEMA, Red Cross) এই তত্ত্বকে বিপজ্জনক বলে মনে করে। সঠিক পদ্ধতি: Drop-Cover-Hold On
২. দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো সবচেয়ে নিরাপদ
আধুনিক ভবনে এটি আর সত্য নয়। দরজা খোলা রাখুন, কিন্তু মজবুত টেবিল/খাটের নিচে আশ্রয় নিন।
৩. ভূমিকম্পে মাটি ফেটে মানুষ গিলে ফেলে
এটি চলচ্চিত্রের কল্পনা। বাস্তবে ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ভবন ধসে বা পড়ে যাওয়া বস্তুর আঘাতে।

➤ ঢাকা শহরের বিশেষ প্রেক্ষাপট
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ শহর। এখানে কিছু বিশেষ বিষয়:
১. বেশিরভাগ ভবন পুরনো বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি, ভূমিকম্প ঝুঁকি বেশি।
২. সংকীর্ণ রাস্তা, রেসকিউ টিম পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে।
৩. ঘনবসতি, একসাথে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৪. প্রস্তুতির অভাব, বেশিরভাগ মানুষ জানেন না কী করতে হবে তাই আপনার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি আরও বেশি জরুরি।

➤ আরও বিস্তারিত জানতে
১. বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স: ভূমিকম্প প্রস্তুতি গাইডলাইন
২. FEMA (ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি): Earthquake Safety Checklist
৩. Red Cross: Earthquake Preparedness Guide

শেষ কথা
ভুমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, মানুষের জন্ম মৃত্যু সবই পূর্ব নির্ধারিত, তাই অকারণ আতঙ্ক নয়, করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, প্রস্তুতি নিন, আল্লাহ সুবহানাতালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন আমাদের ভূমিকম্প সহ সব ধরনের বিপদ আপুদ থেকে নিরাপদ রাখেন, রক্ষা করেন, ফি আমানিল্লাহ।

নিজে জানুন, প্রস্তুতি নিন, সতর্ক থাকুন, শেয়ার বা কপি করে আপনার আত্মীয় বন্ধুদের জানানের মাধ্যমে তাদেরকেও সতর্ক থাকার সুযোগ করে দিন।

22/11/2025

মোবাইলে ভূমিকম্প এলার্ট: কতটা আগে পাওয়া যায় এবং কেন এটি জরুরি

ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো কিছু বিভ্রান্তি আছে। অনেকেই ভাবেন কম্পন শুরু হওয়ার পর ফোনে অ্যালার্ট আসে। বাস্তবটা ভিন্ন। মোবাইলের ভূমিকম্প এলার্ট মূলত এক ধরণের আগাম সংকেত, যা কম্পন আপনার এলাকায় পৌঁছানোর আগে আপনাকে সতর্ক করে।

ভূমিকম্প এলার্ট আসলে কীভাবে কাজ করে
ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমে যে সিসমিক তরঙ্গ বের হয়, সেটি অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত ধরা যায়। সেন্সরগুলো সেই প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারে পাঠায়। সার্ভার আপনার অবস্থানের ভিত্তিতে হিসাব করে ফোনে এলার্ট পাঠায়। ফলে মূল আঘাত (S-wave) আপনার জায়গায় পৌঁছানোর আগে কিছু সময় হাতে পাওয়া যায়।

আপনি কত সেকেন্ড আগে সতর্কতা পাবেন
১. সাধারণ অবস্থায় ৫ থেকে ৪৫ সেকেন্ড আগে এলার্ট পাওয়া যায়।
২. উৎপত্তিস্থল যত দূরে হবে, সময় তত বেশি পাওয়া সম্ভব।
৩. উৎসস্থল খুব কাছাকাছি হলে সময় কমে গিয়ে কয়েক সেকেন্ডেও নেমে আসতে পারে।
৪. এই সময়সীমা স্থির নয়; ভূমিকম্পের গভীরতা, অবস্থান ও সেন্সর-কভারেজের ওপর নির্ভর করে।

এই কয়েক সেকেন্ডই আসলে সবচেয়ে মূল্যবান। বাড়ির ভেতর নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া, বাচ্চা বা বয়স্কদের ধরে স্থির জায়গায় দাঁড়ানো কিংবা আগুনের উৎস বন্ধ করা, এগুলো করার জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।

আপনার ফোনে ভূমিকম্প এলার্ট অন আছে কি না দেখে নিন
১. Android এ Settings এ যান।
২. Safety and Emergency বা Alerts and Warnings অপশনে প্রবেশ করুন।
৩. Earthquake Alerts অন করুন।
৪. Location সার্ভিস সক্রিয় রাখুন।
৫. ইন্টারনেট থাকলে এলার্ট দ্রুত আসে, তবে সেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও অনেক সময় কাজ করে।

কেন এই তথ্য জানা জরুরি
আগাম সতর্কতা মানে আতঙ্ক নয়। আগাম সতর্কতা মানে প্রস্তুতি। ভূমিকম্প থামানো আমাদের হাতে নেই, কিন্তু ক্ষতি কমানো অনেকটাই সম্ভব। সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করে।

এই কারণেই মোবাইলের ভূমিকম্প এলার্ট শুধু একটি ফিচার নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

21/10/2025
15/10/2025

হৃদপিণ্ড দেহের রক্ত সঞ্চালনের মূল চালিকাশক্তি হলেও, পায়ের গভীরে একটি বিশেষ পেশি রয়েছে যা অগোচরেই একইরকম গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে। এটি হলো সোলিয়াস পেশি, যাকে প্রায়শই “দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড” নামে অভিহিত করা হয়। বৈদ্যুতিক স্পন্দনের মাধ্যমে নয়, বরং গতির মাধ্যমেই এই গভীর ও নীরব পেশি রক্ত সঞ্চালনে অবদান রাখে।

প্রতিবার হাঁটার সময়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় অথবা পায়ের আঙুলের ওপর ভর করে দাঁড়ানোর সময় সোলিয়াস পেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সক্রিয় হওয়ার সাথে সাথেই এটি অসাধারণ ভাবে কাজ সম্পূর্ণ করে – অভিকর্ষের বিরুদ্ধে পায়ের শিরা থেকে রক্তকে পুনরায় হৃদপিণ্ডে পাঠায়।

এই অসাধারণ পেশির অবস্থান পায়ের পিছনের অংশে, গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস (পেণ্ডুলাম বা কাফ মাসল) পেশির গভীরে। এই মাসল বিস্ফোরক বা দ্রুতগতির না হলেও, অত্যন্ত দৃঢ় এবং সহনশীল। দেহের ভারসাম্য ও স্থায়িত্ব রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম।

কেন সোলিয়াস এত গুরুত্বপূর্ণ?

১. দেহের নিম্নভাগে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে এবং সুষ্ঠু রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে।

২. রক্ত জমাট বাঁধা ও শিরায় রক্ত জমাটবদ্ধতা প্রতিরোধ করে।

৩. পায়ের অপ্রয়োজনীয় পানি জমা (এডেমা) প্রতিরোধ করে ফোলাভাব কমায়।

৪. হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমিয়ে সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই পেশি স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও কাজ করে।

দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করার অভ্যাস থাকলে সোলিয়াস পেশিকে সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য কয়েকটি সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:

❥ কয়েক মিনিট হাঁটা।
❥ পায়ের গোড়ালি বারবার ওঠানো-নামানো
(হিল রেইজ)।
❥ গোড়ালি বা অ্যাঙ্কেল ফ্লেক্স করা।
❥ পায়ের পাতা দিয়ে বৃত্তাকার নড়াচড়া করা।

এগুলো ছোট ছোট দৈনন্দিন অঙ্গভঙ্গি মনে হলেও, সোলিয়াস পেশির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী।

অনুবাদ: AH Abubakkar Siddique

তথ্যসূত্র:
1. Aster Hospitals: The Second Heart – Your Soleus Muscle.

2. ResearchGate: Role of Soleus Muscle in Venous Return.

3. Corporate Wellness Magazine: How the
Soleus Muscle is Your Second Heart.

4. PubMed/NCBI: The muscle pump of the lower leg.

5. Journal of Applied Physiology: The soleus muscle: a key player in human metabolism and blood pressure regulation.

09/10/2025

মৌমাছিদের পাতাল ঘর -১

সব মৌমাছি গাছে চাক বানায় না। অনেকেই থাকে মাটির নিচে। তাদের একার সংসারে।

গ্রামের প্রাচীন বটগাছের গোড়ায় মাঝে মাঝে একটা হালকা গুঞ্জন শোনা যায়। মানুষ ভাবে, ভূতের আওয়াজ নাকি!

ওরা ভূত নয়, ওরা ভূমি-মৌমাছি। একা একা গর্ত খুঁড়ে বাসা বানায়। খনিজীবী মৌমাছিরা মাটির নিচে সুরঙ্গ তৈরি করে তাদের বংশ বৃদ্ধি করতে। মধু ও পরাগ জমিয়ে রেখে লার্ভাদের চেম্বারের মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে অন্য পোকা ও পতঙ্গ বা ব্যাকটেরিয়া সহজে আক্রমণ না করতে পারে।

দুনিয়ার আশ্চর্য এই সব কান্ডকারখানা শুধুই ফুলের পরাগ মিলনের জন্য তৈরি হয়েছে। যার ফল স্বরূপ আমরা ফল ও খাদ্য পাই।

ছবি :

মাটির নিচের মৌমাছি (যেমন, মেলিসোডস)।
মূল সুড়ঙ্গের বাইরে পাশের শাখাগুলি লার্ভা কোষের দিকে নিয়ে যায়। এই ব্রুড কোষগুলিতে পরাগ-প্লাস-নেকটার থাকে, খাদ্য সরবরাহ, যার উপর একটি ডিম পাড়া হয়।

03/09/2025

১৬৩১ সালে মমতাজ মহলের স্মৃতিতে মোগল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণের আদেশ দেন। একই সময়ে, ১৬৩৬ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। দুইটি স্থাপত্যই বিশ্ববিখ্যাত—তবে একটির শিকড়ে শোক ও সৌন্দর্যের আরেকটির ভিত গড়ে উঠেছে জ্ঞান ও শিক্ষার ওপর।

তাহলে প্রশ্ন জাগে: একসময় যারা তাজমহল বানাচ্ছিল, অন্যদিকে তারা কি চাইলে হার্ভার্ড বানাতে পারতেন না?

শুধু তাজমহল নয়, ভারতবর্ষের ইতিহাসজুড়ে ছড়িয়ে আছে অগণিত প্রাসাদ, উদ্যান, সমাধি আর সোনা-রুপার অলংকারের গল্প। অথচ সেই যুগেও হাজার হাজার মানুষ ছিল শিক্ষাহীন, চিকিৎসাহীন, দারিদ্র্যপীড়িত।

এমনকি আজও আমরা প্রায়শই দেখি—উপমহাদেশের ধনকুবেরদের অর্থ ব্যয় হয় ব্যক্তিগত বিলাসিতা, বিয়ের শোভাযাত্রা, নায়ক-নায়িকা দিয়ে নাচানো কিংবা নামজাদা রিসোর্টে একচেটিয়া ভোগে।

অথচ পশ্চিমে দৃশ্যটা একেবারে আলাদা।

বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, মার্ক জুকারবার্গ—বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় থাকা এদের অনেকেই জীবনের শেষে তাদের সম্পদ বিলিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের লক্ষ্য: পৃথিবীকে একটু ভালো করে রেখে যাওয়া। তারা হাসপাতাল গড়েন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি তহবিল তৈরি করেন, চিকিৎসা গবেষণায় অনুদান দেন।

সম্প্রতি একজন মার্কিন ধনকুবের নারী তার জীবনের সব সঞ্চয় দান করে গেছেন আলবার্ট আইনস্টাইন মেডিকেল স্কুলে। ফলাফল? সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের এখন আর শিক্ষাঋণ নিতে হবে না—তারা ফ্রি পড়তে পারবে। একজন অচেনা নারী আজীবনের জন্য রয়ে যাবেন ভবিষ্যৎ ডাক্তারদের হৃদয়ে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকে তারা হয়তো হাজার মানুষকে সেবা করবে।

এই মানবিক মূল্যবোধটাই সত্যিকার উন্নয়নের ভিত্তি।
উপমহাদেশের চিত্র কিছুটা করুণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নবাব সলিমুল্লাহর সহায়তায়। এরপর কী?

আর কোনো বিশিষ্ট ধনকুবের কি নিজ উদ্যোগে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছেন? তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে—ভারত, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই রাষ্ট্রনির্ভর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ধনকুবেরদের অংশগ্রহণ থাকলেও তা মূলত লাভের উদ্দেশ্যে, জনসেবার মানসে নয়।

এদিকে আমেরিকার বহু নামী বিশ্ববিদ্যালয় যেমন - স্ট্যানফোর্ড, কর্নেল, রকফেলার, কার্নেগি মেলন—এসব সবই কোনো না কোনো দানশীল ব্যক্তির নামধারী। তারা ব্যবসা করেছেন, সম্পদ গড়েছেন, তারপর সেই সম্পদ মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন।

আমাদের সংস্কৃতি কেন পিছিয়ে?

উপমহাদেশে ধনকুবের হওয়া মানেই—ছেলের বিয়েতে হীরার কোট, মেয়ের বিয়েতে সোনার পালঙ্ক, গাড়ির বহর, আর ফটোসেশনে নামজাদা সেলিব্রিটি।

কেউ কেউ জীবনের শেষে মসজিদ, মন্দির বা গীর্জা গড়েন সমাজসেবার তকমা জুটিয়ে নেওয়ার আশায়।
তারপর মৃত্যুর পরেই শুরু হয় সম্পদের জন্য উত্তরাধিকারীদের হানাহানি, মামলা-মোকদ্দমা, এমনকি মারামারি।

আলফ্রেড নোবেল ইউরোপের ধনকুবের ছিলেন। মৃত্যুর আগমুহূর্তে তিনি তার সম্পদের প্রায় পুরোটাই দিয়ে গিয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য।
তাঁর বদৌলতেই আজ পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিরা সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পান।

কিন্তু তিনি যদি আমাদের উপমহাদেশে জন্মাতেন?

সম্ভবত তিনি ছেলের পৈত্রিক জমিতে তিনতলা বাড়ি করতেন, মেয়ের বিয়েতে দিল্লি থেকে ডিজে আনাতেন, এবং শেষ বয়সে দুইটা ঘর মসজিদে লাগিয়ে “দাতব্য” হিসেবে প্রশংসা কুড়াতেন।

এই লেখার উদ্দেশ্য তুলনা করা নয়, বরং আত্মবিশ্লেষণ।
একজন ধনকুবের কী করবেন, সেটি অবশ্যই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের সংস্কৃতিতে যদি ‘দান’ শব্দটি লোক দেখানো অনুষ্ঠান না হয়ে, সত্যিকারের মানবিক দায়িত্ববোধ হয়ে ওঠে—তাহলেই হয়তো আমরাও বিশ্বমানবতার অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে পারব।

একদিন যদি আমাদের কেউ—বিল গেটসের মতো একটি স্কুল গড়ে দেন, কোনো দরিদ্র শিক্ষার্থীর ঋণ মকুব করে দেন, কিংবা গবেষণার জন্য অর্থ তহবিল দেন, সেটিই হবে সত্যিকার নায়কোচিত আচরণ।

যেদিন এই ট্রেন্ড শুরু হবে, সেদিন হয়তো আমরা এক-একজন শাহরুখ বা সালমানের চেয়েও বড় নায়ক পাবো—যারা নাচিয়ে নয়, গড়ে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হবেন।

©️ Hazi Abul Hossain College

10/08/2025

সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প নিশ্চয় শুনেছেন। মাটিতে বসবাসকারী Cupriavidus metallidurans নামের দণ্ডাকৃতি ক্ষুদ্র এক ব্যাকটেরিয়া বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো অদ্ভুত ক্ষমতায়। এটা মাটিতে থাকা বিষাক্ত ধাতু বিশেষ করে তামা ও সোনার বিষাক্ত রূপকে নিষ্ক্রিয় কঠিন সোনায় পরিণত করে। আর তাতে ক্ষুদ্র সোনার দানা তৈরি হয়। এই কাজের নেপথ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম— CupA ও CopA কাজ করে।
CupA সাধারণত অতিরিক্ত তামা কোষ থেকে সরিয়ে পেরিপ্লাজম নামের ফাঁকা জায়গায় জমা করে, যাতে বিষাক্ত প্রভাব কমে। কারণ, সামান্য তামা দরকার হলেও বেশি তামা ব্যাকটেরিয়ার জন্য বিষ।
কিন্তু ঝামেলা বাধে যখন সোনার আয়ন হাজির হয়। এখানে আয়ন হলো সোনার সেই রূপ, যেখানে এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারিয়েছে, ফলে তৈরি হয় অস্থিতিশীল অবস্থা। সোনার আয়ন CupA কে কার্যত অচল করে দেয়। তখন তামাও আটকে যায় ভেতরে, সোনাও জমতে থাকে—দুটোই মারাত্মক।
তখন সক্রিয় হয় CopA, যা তামা ও সোনার আয়ন থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে তাদের স্থিতিশীল ধাতব কণায় রূপান্তর করে। তখন এই ক্ষুদ্র সোনার কণাগুলি পেরিপ্লাজমে জমা হয়, যেখানে তারা আর ক্ষতিকর নয়। সময় হলে ব্যাকটেরিয়ার বাইরের ঝিল্লি ফেটে যায়, আর বেরিয়ে আসে সেই সোনার দানা। এভাবেই ব্যাকটেরিয়াটি বেঁচে থাকতে গিয়ে প্রকৃত অর্থেই সোনা সৃষ্টি করে!
বর্তমানে সোনা আহরণে পারদের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য সমান ক্ষতিকর। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার এই প্রক্রিয়াটা মানুষ যদি নকল করতে পারে, তাহলে খুব কম সোনা থাকা আকরিক থেকেও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সোনা তোলা যাবে।
নাছরিন আক্তার তারিন
লেখক, বিজ্ঞান্বেষী
ছবি: প্রতীকী (এআই জেনারেটেড)

19/07/2025

আগামী ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫ হতে ৯ মাস বয়স থেকে ১৫ বছর বয়স/৯ম শ্রেনী পর্যন্ত সকল শিশুকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় (EPI) টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। টিকা পেতে হলে প্রত্যেক শিশুর ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ থাকতে হবে। তাই যে শিশুর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নাই তারা দ্রুত ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ করে নিন।
মনে রাখবেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আপনার শিশুকে টাইফয়েড টিকা দিতে হলে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করুন এবং পরবর্তীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় টাইফয়েড টিকা দেওয়ার সময়সূচী ঘোষিত হবার পর টিকা দেওয়ার জন্য শিশু ও ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ সহ EPI সেন্টারে নিয়ে আসুন।

https://vaxepi.gov.bd এই সাইটে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
ইতিমধ্যে আপনারা জানেন যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার এইচপিভি(HPV) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। যারা তখন নিবন্ধন করেছেন তাদের আর নতুন করে নিবন্ধন লাগবেনা। তারা vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করবেন এবং টাইফয়েড ভ্যাকসিনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করবেন। যাদের করা নাই তারা দুইবার এ কাজটি করতে হবে।প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে এবং দ্বিতীয়বার টাইফয়েডের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করবেন। যারা পূর্বে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন কিন্তু মোবাইল নাম্বার ভুলে গেছেন তারা ফরগেট মোবাইল নাম্বার অপশনে গিয়ে মোবাইল নাম্বার বের করতে পারবেন।না পারলে মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে লগইন করতে পারবেন।শুধুমাত্র ইনস্ট্রাকশন ফলো করলেই বুঝতে পারবেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Faridpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Momin Khar Hat
Faridpur
7800