সূরা আন-নাজিআত থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারি — সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে নিচে দিলাম:
১. মৃত্যুর বাস্তবতা
ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ কষ্ট দিয়ে নেয় আর মুমিনদের প্রাণ শান্তিতে নেয় — এতে বোঝা যায় মৃত্যুর মুহূর্তও ঈমানের উপর নির্ভরশীল।
২. কিয়ামতের অবশ্যম্ভাবিতা
মানুষ যতই অস্বীকার করুক, আল্লাহ এক আহ্বানে সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন।
৩. অহংকারের পরিণতি
ফেরাউন আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু’ বলেছিল, শেষপর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে। অহংকার ও অবাধ্যতা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয়।
৪. আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন
আকাশ, পৃথিবী, রাত, দিন, পাহাড়, পানি — সবই আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ; এগুলো দেখে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃতজ্ঞতা বাড়ানো উচিত।
৫. আখেরাতের প্রতিদান
দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে গোনাহে লিপ্তরা জাহান্নামে যাবে।
আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয় ও প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণকারীরা জান্নাতে যাবে।
৬. দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী
কিয়ামতের দিন দুনিয়ার জীবন মনে হবে শুধু এক সকাল বা সন্ধ্যার মতো। তাই স্থায়ী জীবনের (আখেরাতের) জন্য প্রস্তুতি জরুরি।
Faridpur Foreign Language School 日本語)
It helps everyone to know the Japanese language, culture, and the study as well as Job facility.
🎉 স্বাগতম আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে!
আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনি পাবেন—
📘 ভাষা শিক্ষা (জাপানি, আরবি ও ইংরেজি)
🧠 দক্ষতা উন্নয়ন_Engineering
🌐 অনলাইন কোর্স ও লাইভ ক্লাস
🎓 বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ সম্পর্কিত গাইডলাইন
✅ যারা নিজেকে একধাপ এগিয়ে নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।
আমাদের লক্ষ্য— **"সহজে, মজায়, শিখি নতুন কিছু!"**
🔔 নিয়মিত আপডেট পেতে পেইজটি **Follow** করতে ভুলবেন
সূরা আন-নাজিআত — পরিচিতি
নাম: আন-নাজিআত (তীব্রভাবে টেনে নেওয়ারা)
আয়াত সংখ্যা: ৪৬
অবতরণের স্থান: মক্কা
মূল বিষয়:
মৃত্যুর ফেরেশতারা কিভাবে প্রাণ তুলে নেয়
কিয়ামতের ভয়াবহতা
মূসা (আ.) ও ফেরাউন এর ঘটনা
আসমান-জমিন সৃষ্টির নিদর্শন
আখেরাতের প্রতিদান
আয়াতভিত্তিক বাংলা অর্থ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর
আয়াত 1–5
অর্থ:
শপথ সেই ফেরেশতাদের, যারা কঠিনভাবে প্রাণ টেনে নেয়,
এবং শপথ তাদের, যারা কোমলভাবে প্রাণ নেয়,
আর শপথ তাদের, যারা দ্রুত সাঁতরে চলে যায়,
তারপর যারা অগ্রগামী হয়ে পৌঁছে যায়,
এবং যারা আল্লাহর আদেশ পরিচালনা করে।
তাফসীর:
এখানে ফেরেশতাদের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কাজের কথা বলা হয়েছে। কেউ কাফিরদের প্রাণ কষ্ট দিয়ে নেয়, আর কারো দায়িত্ব মুমিনদের প্রাণ শান্তভাবে নেয়। কেউ ওহি পৌঁছে দেয়, কেউ আল্লাহর আদেশ পালন করে।
আয়াত 6–14
অর্থ:
যেদিন ভয়ংকর কম্পন আসবে,
তার পরপরই আসবে আরেক কম্পন,
সেদিন বহু হৃদয় ভয়ে কাঁপতে থাকবে,
তাদের চোখ হবে ভীত-সন্ত্রস্ত।
তারা বলে, “আমরা কি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবো?
যখন আমরা ক্ষয়প্রাপ্ত হাড় হবো?”
তারা বলে, “এ তো হবে ক্ষতির মতো!”
কিন্তু আসলে, এটা হবে মাত্র এক আহ্বান,
অবিলম্বে তারা জাগ্রত ভূমিতে উপস্থিত হবে।
তাফসীর:
এখানে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের কথা বলা হয়েছে। অবিশ্বাসীরা এটাকে অসম্ভব মনে করতো, কিন্তু আল্লাহর জন্য এটা খুব সহজ — শুধু একবার ‘কুন’ (হও) বললেই সবাই কবর থেকে বের হয়ে আসবে।
আয়াত 15–26 (মূসা ও ফেরাউন এর ঘটনা)
অর্থ:
তোমার কাছে কি মূসার কাহিনী এসেছে?
যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে তূওয়া উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন:
“ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে।
তাকে বল, তুমি কি পবিত্র হতে চাও?
আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের পথে পরিচালিত করব, যাতে তুমি ভয় করো।”
তখন তিনি (মূসা) তাকে বড় নিদর্শন দেখালেন,
কিন্তু সে অস্বীকার করলো ও অবাধ্য হলো,
তারপর সে ফিরে গিয়ে (মানুষকে) একত্র করল,
এবং বলল, “আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।”
তখন আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি দিলেন।
নিশ্চয় এতে আছে শিক্ষা, যে ভয় করে।
তাফসীর:
ফেরাউন অহংকারে আল্লাহকে অস্বীকার করে নিজেকে ‘সবচেয়ে বড় প্রভু’ বলেছিল। মূসা (আ.) নিদর্শন দেখালেও সে মানেনি, ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
আয়াত 27–33 (আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন)
অর্থ:
তোমরা কি সৃষ্টি করায় কঠিন, না আসমান, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
তিনি তার ছাদ উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন,
তার রাতকে করেছেন অন্ধকার, আর সকালকে উদ্ভাসিত করেছেন।
এবং এর পরে তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
তার থেকে পানি ও চারণভূমি বের করেছেন,
এবং পর্বতমালা দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন —
তোমাদের ও তোমাদের চতুর্পদ প্রাণীদের জীবিকার জন্য।
তাফসীর:
আল্লাহ আকাশ-জমিনের মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন নিখুঁতভাবে। তাই পুনরুত্থান তাঁর জন্য কিছুই কঠিন নয়।
আয়াত 34–46 (আখেরাতের প্রতিদান)
অর্থ:
যখন মহা বিপর্যয় (কিয়ামত) আসবে,
যেদিন মানুষ তার যা কিছু চেষ্টা করেছে সব স্মরণ করবে,
আর জাহান্নাম প্রকাশিত হবে —
যে সীমালঙ্ঘন করেছে ও দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে,
তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
কিন্তু যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করেছে ও প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে,
তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
তারা তোমার কাছে কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, “কখন হবে?”
তুমি তার সময় জানাতে নও,
তার শেষ জ্ঞান শুধু তোমার প্রতিপালকের কাছেই।
তুমি তো শুধু তাকে সতর্ক করছ, যে ভয় করে।
যেদিন তারা তা দেখবে, তারা মনে করবে — দুনিয়াতে তারা এক সন্ধ্যা বা এক সকালই অবস্থান করেছিল।
তাফসীর:
কিয়ামতের দিন মানুষ তার দুনিয়ার কাজের হিসাব দেখবে। অবাধ্যরা জাহান্নামে যাবে, আর যারা আল্লাহকে ভয় করেছে ও গোনাহ থেকে বিরত থেকেছে, তারা জান্নাতে যাবে। দুনিয়ার জীবন তখন খুব ক্ষণস্থায়ী মনে হবে।
সূরা আল-কাহফ – একনজরে
📜 সূরা নং: ১৮
📍 আয়াত সংখ্যা: ১১০
🌍 অবতরণের স্থান: মক্কা
📌 মূল বিষয়: ঈমানের পরীক্ষা, ধৈর্য, দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্কতা, আল্লাহর কুদরত
1️⃣ নামকরণের কারণ
“আল-কাহফ” অর্থ গুহা।
এতে গুহাবাসী যুবকদের কাহিনী (আসহাবে কাহফ) বর্ণিত হয়েছে, যাঁরা আল্লাহর পথে ঈমান রক্ষার জন্য গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
2️⃣ প্রধান চারটি ঘটনা
আসহাবে কাহফ – ঈমান রক্ষার জন্য গুহায় লুকানো যুবকেরা, যাদেরকে আল্লাহ বহু বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন। (আয়াত 9-26)
দুই বাগানের মালিক – অহংকারী ধনীর কাহিনী, যিনি আল্লাহকে ভুলে গিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েন। (আয়াত 32-44)
মূসা ও খিজির – ধৈর্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের শিক্ষা। (আয়াত 60-82)
যুলকারনাইন – ন্যায়পরায়ণ শাসক যিনি ইয়াজুজ-মাজুজের থেকে মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। (আয়াত 83-98)
3️⃣ সূরার মূল শিক্ষাসমূহ
ঈমান রক্ষায় ত্যাগ স্বীকারের গুরুত্ব
দুনিয়ার ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী
ধৈর্য ও বিনয় আল্লাহর পথে অপরিহার্য
অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই
নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফ জরুরি
4️⃣ বিশেষ ফজিলত
ফিতনা-দাজ্জাল থেকে সুরক্ষা:
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।”
— [সহিহ মুসলিম, 809]
শুক্রবারে পাঠের ফজিলত:
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত আলো থাকবে।”
— [সহিহ আল-জামি, 6470]
5️⃣ সূরা আল-কাহফ সংক্ষেপে চিত্ররূপে
বিষয় আয়াত শিক্ষা
আসহাবে কাহফ 9-26 ঈমান রক্ষা ও ত্যাগ
দুই বাগান মালিক 32-44 দুনিয়ার ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী
মূসা ও খিজির 60-82 ধৈর্য ও অদৃশ্য জ্ঞান
যুলকারনাইন 83-98 ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব
শুক্রবার (ইয়াওমুল জুমুআ) কুরআন ও সহিহ সুন্নাহতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এ দিনে কিছু বিশেষ আমলকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিস অনুযায়ী শুক্রবারের আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
📖 কুরআনের আলোকে
জুমুআর নামাজে অংশগ্রহণ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ...
(সূরা আল-জুমুআ: 9)
আল্লাহ বলেন, জুমুআর আজান হলে আল্লাহর স্মরণে (জুমুআর নামাজে) ছুটে আসো এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।
☀️ সহিহ হাদিসে প্রমাণিত শুক্রবারের আমল
1. গোসল করা
রাসূল ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে গোসল করবে, সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে, সুন্দর পোশাক পরবে, সুগন্ধি ব্যবহার করবে, তারপর জুমুআর নামাজের জন্য যাবে এবং কারো উপর দিয়ে লাফিয়ে যাবে না, তারপর যা আল্লাহ লিখে দিয়েছেন তা নামাজ পড়বে, এরপর ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে চুপ থাকবে—তার এ জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
— [সহিহ মুসলিম, 857]
2. সুগন্ধি ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা
সহিহ বুখারি (883) ও মুসলিমে এসেছে—জুমুআর দিনে সুন্দর পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাহ।
3. সূরা আল-কাহফ পড়া
রাসূল ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত আলো থাকবে।”
— [সহিহ আল-জামি, 6470]
4. দরুদ বেশি বেশি পাঠ করা
রাসূল ﷺ বলেন:
“তোমরা জুমুআর দিনে বেশি বেশি আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
— [আবু দাউদ, 1047; সহিহ]
5. দুয়া কবুলের বিশেষ সময় অনুসন্ধান করা
রাসূল ﷺ বলেন:
“জুমুআর দিনে একটি ঘন্টা আছে—যে মুহূর্তে কোনো মুসলিম দাঁড়িয়ে নামাজে আল্লাহর কাছে কিছু চাইবে, আল্লাহ তাকে তা দেবেন।”
— [বুখারি 935, মুসলিম 852]
অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময় আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে।
6. ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
রাসূল ﷺ বলেন:
“যে জুমুআর দিনে গোসল করবে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে, তার জন্য এক জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
— [বুখারি 883, মুসলিম 857]
7. মসজিদে আগে যাওয়া
রাসূল ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি প্রথম সময় জুমুআতে যাবে, সে যেন উট কুরবানির সওয়াব পেল; দ্বিতীয় সময়ে গেলে গরুর সওয়াব, তৃতীয় সময়ে গেলে ভেড়ার সওয়াব, চতুর্থ সময়ে গেলে মুরগির সওয়াব, পঞ্চম সময়ে গেলে ডিমের সওয়াব।”
— [বুখারি 881, মুসলিম 850]
8. নফল নামাজ পড়া (খুতবার আগে)
জুমুআর ফরজ নামাজের আগে মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ পড়া সুন্নাহ (যত খুশি, দুই রাকাতে দুই রাকাতে) — [মুসলিম 875]
সারসংক্ষেপ চেকলিস্ট (শুক্রবারের আমল)
✅ গোসল করা
✅ সুন্দর পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার
✅ সূরা আল-কাহফ পড়া
✅ বেশি বেশি দরুদ পাঠ
✅ বিশেষ সময়ে দুয়া করা (আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে)
✅ আগে আগে মসজিদে যাওয়া
✅ খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
✅ ফরজের আগে নফল পড়া
সূরা আন-নাবা (সূরা ৭৮) এর আয়াতভিত্তিক সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর তাফসির (তাফসির ইবন কাসীর, তাফসির সা'দী, জালালাইন প্রভৃতি নির্ভর করে) উপস্থাপন করা হলো যাতে আয়াতগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং চিন্তার দ্বার খুলে দেয়।
১-৫: ভূমিকা ও কিয়ামত নিয়ে সংশয়
عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ... كَلَّا سَيَعْلَمُونَ
🔍 তাফসির:
মক্কার কুরাইশরা কিয়ামতের সংবাদকে অবিশ্বাস করত এবং উপহাস করত। আল্লাহ বলছেন, "তোমরা জানতে পারবে" – অর্থাৎ বাস্তবেই যখন তা সামনে আসবে, তখন আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।
৬-১৬: আল্লাহর কুদরত ও নিদর্শন
أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ ... وَجَنَّاتٍ أَلْفَافًا
🔍 তাফসির:
আল্লাহ পৃথিবী, পাহাড়, ঘুম, রাত-দিন, বৃষ্টি ও উদ্ভিদ দিয়ে তাঁর অসীম কুদরত দেখিয়েছেন। উদ্দেশ্য – মানুষ যেন চিন্তা করে এবং বুঝে যে এমন শক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা পুনরুত্থান ঘটাতেও সক্ষম।
১৭-২০: কিয়ামতের দৃশ্য
يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ ... فَكَانَتْ سَرَابًا
🔍 তাফসির:
শিঙ্গায় ফুঁক দিলে সব মৃত জেগে উঠবে। পাহাড় উড়ে যাবে, আকাশ খুলে যাবে – সবকিছু বদলে যাবে। কিয়ামতের ভয়াবহতা প্রকাশ করা হয়েছে এসব আয়াতে।
২১-৩০: জাহান্নামের বর্ণনা ও কাফিরদের পরিণাম
إِنَّ جَهَنَّمَ ... فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا
🔍 তাফসির:
অত্যাচারীরা জাহান্নামে থাকবে যুগের পর যুগ। তারা শুধু ফুটন্ত পানি ও পুঁজ খাবে। এর কারণ তারা পরকালের বিশ্বাস করেনি, আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলেছে। তাদের প্রতিটি কাজ লেখা আছে।
৩১-৩৬: মুত্তাকীদের পুরস্কার
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ... عَطَاءً حِسَابًا
🔍 তাফসির:
যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারা পাবে চিরন্তন জান্নাত। সেখানে থাকবে বাগান, ফল, সঙ্গী ও শান্তি। এই পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দান করবেন – পরিমিতভাবে ও দয়ার সাথে।
৩৭-৩৮: আল্লাহর মহিমা ও বিচার দিনের ভয়াবহতা
رَّبِّ السَّمَاوَاتِ ... وَقَالَ صَوَابًا
🔍 তাফসির:
কিয়ামতের দিন কেউ কথা বলতে পারবে না, ফেরেশতারা সারিবদ্ধ দাঁড়াবে। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো সুপারিশও হবে না।
৩৯-৪০: চূড়ান্ত সতর্কতা ও আহ্বান
ذَٰلِكَ الْيَوْمُ الْحَقُّ ... عَذَابًا قَرِيبًا
🔍 তাফসির:
এটা কোনো কল্পনা নয় – বাস্তব দিন। এখন যার ইচ্ছা সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুক। কারণ, কিয়ামত খুব কাছেই, আর তখন শুধুই শাস্তি হবে, করুণা নয়।
🧭 সারাংশ (সংক্ষিপ্ত উপদেশ):
কিয়ামতের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ নয়, বরং প্রস্তুতি দরকার।
আল্লাহর নিদর্শন চিন্তা করলেই পরকালের উপর বিশ্বাস জন্মায়।
জাহান্নাম শুধু গুনাহের ফল, আর জান্নাত মুত্তাকীদের পুরস্কার।
আজ ফিরে আসার সময় – কাল শুধু বিচার।
✅ ১. যোহরের নামায জান্নাতে যাওয়ার একটি মাধ্যম:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
❝جعل اللهُ تحت كلِّ صلاةٍ يُصلِّيها العبدُ كفَّارةً لما بينها وبين الصلاةِ التي تليها ما لم يُؤتَ كبيرةً❞
“আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক সালাতকে বান্দার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নামাযের মাঝে গুনাহর কাফফারা (মোচনকারী) বানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে কোনো বড় গুনাহ করে।”
—📚 সহীহ মুসলিম: ২৩০
🟢 অর্থাৎ, যোহরের নামায আদায় করলে ফজরের পরবর্তী সময় পর্যন্ত ছোট গুনাহসমূহ মাফ হয়।
✅ ২. জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা:
রাসূল ﷺ বলেন:
❝لن يلجَ النارَ أحدٌ صلَّى قبلَ طلوعِ الشمسِ وقبلَ غروبِها❞
“যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজর) এবং সূর্যাস্তের পূর্বে (আসর/যোহর) সালাত আদায় করে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।”
—📚 সহীহ মুসলিম: ৬৩৪
🟢 যোহর নামায নিয়মিত পড়লে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ও আশ্রয়ের ওয়াদা আছে।
✅ ৩. আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
❝ورجلٌ قلبُه معلقٌ في المساجدِ❞
“যে ব্যক্তি নামাযের প্রতি এত ভালোবাসা রাখে যে তার হৃদয় মসজিদের সাথেই লেগে থাকে — তাকে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন।”
—📚 বুখারী ও মুসলিম
🟢 নিয়মিত যোহরের সালাত মসজিদে জামাতে আদায় করলে এ ফজিলত অর্জিত হতে পারে।
✅ ৪. যোহরের আগে ও পরে সুন্নত নামাযের ফজিলত:
রাসূল ﷺ বলেন:
❝من يحافظْ على أربعِ ركعاتٍ قبلَ الظهرِ، وأربعٍ بعدَها حرَّمه اللهُ على النارِ❞
“যে ব্যক্তি যোহরের আগে ৪ রাকাত ও পরে ৪ রাকাত নামায নিয়মিত পড়ে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন।”
—📚 তিরমিযী: ৪২৮, সহীহ
🟢 হানাফি মতে যোহরের আগে ৪ এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা; তবে এখানে ৪+৪ হলে আরও বেশি ফজিলত।
✅ ৫. জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা:
যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের বিশেষ মর্যাদা।
কুরআনে বলা হয়েছে:
وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ – أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْوَٰرِثُونَ – ٱلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ
“যারা তাদের সালাতসমূহের হেফাজত করে — তারাই জান্নাতের উত্তরাধিকারী, তারা ফিরদাউস জান্নাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে।”
—📚 সূরা মু’মিনুন: ৯–১১
✅ উপসংহার:
যোহরের নামাজ—
গুনাহ মোচনের উপায়
জাহান্নাম থেকে মুক্তির ওয়াদা
জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম
সুন্নতগুলো পড়লে আগুন হারাম
এবং কিয়ামতের দিন আরশের ছায়া লাভ।
えいがの 後、カラオケに いきました。
①まえ ②ぜん ③あと ④ご
五日に テストが あります。
①ふつか ②むいか ③いつか ④ようか
がくせいが 「百人」 います。
①ひゃくにん ②ひゃくじん ③せんにん ④せんじん
せんせいに 「話して」 ください。
①かえして ②はなして ③だして ④わたして
この コーヒーは 「甘い」です。
①あまい ②にがい ③あつい ④つよい
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Faridpur
7800