16/02/2022
আমার প্রকাশিত বই
এটা একটা স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।
16/02/2022
আমার প্রকাশিত বই
23/07/2021
সবাইকে ঈদ মোবারক জানাই।
21/05/2021
08/02/2021
বিয়াল্লিশবর্ষ পূর্তিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই l
আমার প্রিয় শিক্ষক: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
ফরিদুজ্জামান
আমি মাধ্যমিকে গোটা পাঁচেক উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। শিক্ষকদের অনুগ্রহ ও ভালবাসার ধারা পাথেয় হলেও আমার চাওয়া বরাবরই একটু বেশি। তাই থানা শহর থেকে ১৯৮১ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চাওয়া পাওয়ায় ব্যবধান ঘুচতে আরম্ভ হলে আমি যারপর নাই আনন্দিত হয়েছিলাম। যার রেশ আজও ক্ষীণধারায় বহমান। এক ঝাঁক জ্ঞানদীপ্ত বন্ধুকে আমি পেয়েছিলাম এখানেই। 'সহ ' আর 'হিত' এই দুটো শব্দ নিয়েই সাহিত্য শব্দটার সৃষ্টি হয়েছে-তা বন্ধুদের মুখেই প্রথম শুনেছিলাম। বন্ধুরা আরও বলাবলি করত-বাংলাদেশে টেলিভিশনের সূচনালগ্ন থেকে মনস্বী, রুচিমান ও বিনোদন-সক্ষম ব্যক্তিত্ব হিসেবে যে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে লোকে চেনে তিনি আমাদের বাংলা ক্লাশ নিবেন। টেলিভিশনের বিনোদন এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তিনি পথিকৃৎ ও অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব বলে তাঁর কথা শোনার জন্য আমরা উৎকর্ণ হয়ে থাকতাম। বন্ধুরা বলাবলি করত-ষাটের দশকে এদেশে যে নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলন হয়, তিনি তার নেতৃত্বে ছিলেন । শুধু তাই নয় ‘সাহিত্য পত্রিকা কণ্ঠস্বর সম্পাদনার মাধ্যমে সেকালের নবীন সাহিত্যযাত্রাকে যে তিনি নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সংহত ও বেগবান করে রেখেছিলেন এক দশক ধরে’ তাও বন্ধুদের কথায় উঠে আসত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জন্ম ১৯৭৮ সালে। মূলতঃ দেশের আদর্শগত অবক্ষয় দেখে তা থেকে উত্তরণের জন্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদএই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন বলেও অনেকে জানান দিত। আমাদের অনেকেই তখন শুধু গল্প শুনেই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ভক্ত হয়ে উঠেছি। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার আমাদের হৈমন্তী গল্পটি পড়াতেন। তবে শেষ করতে অঢেল সময় নেওয়ায় অনেকেই অনুযোগ করতেন যে, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের চেয়ে শামীম আজাদ ম্যাডাম ভাল পড়ান। আমাদের ভেতর একটা ছোটদল ছিল যার অন্তর্ভুক্তরা আমাদের ‘এ’ সেকশনের অতিরিক্ত অন্যান্য সেকশনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে হলেও স্যারের বক্তৃতা শুনতাম। এ দলভুক্ত বন্ধুদের ভিন্ন দলভুক্ত বন্ধুরা টিটকারী করতো- “বিশ্বসাহিত্য উদ্ধারে ব্যস্ত” আওয়াজ তুলে। ওদের ভাষায়- ”আগুনে পড়িয়া পতঙ্গ যেমন খামাখা পুড়ে মরে রসের...”। বিজ্ঞানের ছাত্র বলে কেউ কেউ বাংলা বিষয়টার ওপর বিষাদগার করত- ”বাংলা আবার কোনো বিষয় হল, কোন জিনিসের আগে বাংলা বসিয়ে দিলে জিনিসটারই মান কমে যায়, যেমন- বাংলা ঘর, বাংলা মদ, বাংলা কূপি ইত্যাদি” বলে। আমরা এ দলভুক্ত বন্ধুদের বিরুদ্ধাচারণের বিষয়গুলো ঠিক বুঝতে পারতাম না। কিন্তু ওসব বন্ধুদের প্রায় ১০০% উন্নত দেশে তাদের শেকড় প্রোথিত করেছে দেখে আজ বুঝতে পারি –ওদের বিষাদগারের মাজেজার রহস্য। উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজেই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর শিক্ষকতা জীবনের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত করেন। সে সময় ঢাকা কলেজ ছিল দেশসেরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলনস্থল। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যখন ঢাকা কলেজে যোগ দেন তখন কলেজটির বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ও গদ্য লেখক শওকত ওসমান৷ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতা জীবন তিনি অত্যন্ত উপভোগ করতেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন-
“ছেলেবেলায়, স্কুল থেকে কলেজে উঠে, অর্থনীতির বইয়ে পড়েছিলাম কেন একজন শিল্পপতি, কন্ট্রাক্টর বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর চেয়ে একজন শিক্ষকের বেতন কম৷ যুক্তি হিসেবে সেখানে বলা ছিল একজন শিক্ষকের জীবন কাটে মার্জিত, পরিশীলিত পরিবেশে, বৈদগ্ধময় ব্যক্তিদের সাহচর্যে, উচ্চতর জীবনচর্চার অবকাশময় আনন্দে৷ জীবনের সেই মর্যাদা, তৃপ্তি বা শান্তি ঐ ব্যবসায়ী বা নির্বাহীর জীবনে নেই৷ এই বাড়তি প্রাপ্তির মূল্য দিতে শিক্ষকের আয় তাদের তুলনায় হয় কম৷ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতায় ঐ তৃপ্তি আমার এত অপরিমেয় হয়েছিল যে কেবল বেতন কম হওয় নয়, আমার জন্য হয়ত বেতন না-থাকাই উচিত হত৷ এই পাওয়া যে কতটা তা বুঝেছিলাম কিছুদিনের জন্য অন্য কলেজে গিয়ে৷”
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকা কলেজে প্রাণবন্ত, সপ্রতিভ, উজ্জ্বল ছাত্রদের পড়ানোর তৃপ্তি, শিক্ষক-জীবনের অনির্বচনীয়তম আস্বাদ ছেড়ে তিনি যেতে চাননি ৷ তাঁর মতে,
“বাংলা বিভাগে যোগদান করাটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো ছাত্রদের ছেড়ে সবচেয়ে খারাপ ছাত্রদের পড়াতে যাওয়ার মত মনে হয়েছে৷”
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কখনোই ক্লাসে রোলকল করতেন না। রোলকলকে তার কাছে মনে হতো সময়ের অপব্যয়৷ তাই বছরের পয়লা ক্লাসেই ঘোষণা করে দিতেন রোলকল না করার ৷ তিনি বলেন,
”অনিচ্ছুক হৃদয়কে ক্লাশে জোর করে বসিয়ে রেখে কী করব? আমার চ্যালেঞ্জ ছিল এক ধাপ বেশি: কেবল শিক্ষক হওয়া নয়, সব ছাত্রের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানো, সব ছাত্রের হৃদয়েকে আপ্লুুত করা৷”
ক্লাশের সেরা ছাত্রটাকে পড়ানোর চেষ্টা করার চেয়ে তিনি পড়াতে চেষ্টা করতেন ক্লাশের সবচেয়ে বোকা ছাত্রটাকে৷ সারাক্ষণ তাকেই বোঝাবার চেষ্টা করতেন, কেননা তার বোঝা মানে ক্লাসের বাকি সবার বোঝা।
উল্লেখ্য যে, মূলতঃ দেশের আদর্শগত অবক্ষয় দেখে তা থেকে উত্তরণের জন্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
”দেশের এই সার্বিক অবক্ষয় এবং সম্ভাবনাহীনতার ভেতর সীমিত সংখ্যায় হলেও যাতে শিক্ষিত ও উচ্চমূল্যবোধসম্পন্ন আত্মোৎসর্গিত এবং পরিপূর্ণ মানুষ বিকশিত হওয়ার পরিবেশ উপহার দেয়া যায়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। একজন মানুষ যাতে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার অধ্যয়ন, মূল্যবোধের চর্চা এবং মানবসভ্যতার যা-কিছু শ্রেয় ও মহান তার ভেতর দিয়ে পরিপূর্ণ মনুষ্যত্বসম্পন্ন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে- আমরা এখানে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। কাজেই আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাণহীন, কৃত্রিম, গতানুগতিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সর্বাঙ্গীণ জীবন-পরিবেশ।”
প্রথমদিকে তার তত্ত্বাবধানে মাত্র পঁচিশ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বিশ্বের মহান সাহিত্যকর্মগুলো পড়তে ও সেগুলোর উপর আলোচনা করা শুরু করে। ধীরে ধীরে এই পাঠচক্রে স্কুল-কলেজ ও সাধারণ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পাঠচক্রগুলোতে বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যেও শ্রেষ্ঠ বইগুলোর পঠন এবং সেগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৫০০টি শাখা দেশের মোট ৫৪টি জেলায় তাদের কর্মকাণ্ড বি¯তৃত করেছে এবং এর সাথে যুক্ত আছেন বহু স্বেচ্ছাসেবী কর্মী।
বাংলাদেশে পাঠাগারের অপ্রতুলতা অনুধাবন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ১৯৯৮ সালে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম আরম্ভ করে। নরওয়েজিয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমে বই-ভর্তি একটি বাস পাঠকের দুয়ারে গিয়ে হাজির হয়। প্রথমদিকে কার্যক্রমটি ঢাকায় আরম্ভ হলেও আজ তা বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।
আমি যে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ছাত্র, এ আমার লাইফ টাইম এসিভমেন্ট। স্যার আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। আজও স্যার কোথায় কী বক্তৃতা দিলেন তা শোনার জন্য উৎকর্ণ হয়ে থাকি-অন্ধকারে পথ হাতড়াতে হাতড়াতে যদি আলোর দিশা পাই।
26/12/2020
জননেত্রী
28/10/2020
12/10/2020
আমরা চাঁদহাট বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৬-১৯৯১ সালের ছাত্র ছিলাম।
তুমি এসো এক শ্রাবণে।।
মো. মোস্তাক খান।।
তুমি এসো এক শ্রাবণে,
যাবো জনে-বিজনে, নির্জনে বনে দুজনে।
কামিনির ডাল থেকে উড়ে যাবে দোয়েল নেড়ে যাবে ডাল ঝরে পড়বে কামিনি কোমল। সেই কামিনিতে ভিজব যুগলে।
বালিহাস হয়ে ভেসে যাবো হিজল তলার জলে, মিলে যাবো দুজনে হিজল ফুলের দলে।
তোমাকে নিয়ে হারাবো জলপিপিদের ভিড়ে , পানকৌড়ি উড়ে যাবে, ডানা থেকে খসে পড়বে জল, নীরবে শুনব সে টুপ-টাপ শব্দ।
তুমি-আমি পদ্মফুলের পাপড়ি ছোয়া শিশির কুড়াবো দিঘির জলে মিইয়ে যাবার আগে।
দেখতে যাবো কাঁশবনের বৃষ্টি, কিভাবে কাঁশের ডাটা বেয়ে নেমে আসে বৃষ্টির ফোটা আর দেখব মৃদু বাতাসে কাঁশের নুইয়ে পড়া।
দেখতে যাবো বৃষ্টির ফোটায় কেঁয়ার দোল খাওয়া, দেখব শুকনো পাতাদের ঘর ছাড়া।
দেখব কিভাবে কচি পাতারা শীতে কুকড়ে যায়,
পাখির ছানারা কিভাবে থাকে মায়ের মমতায়।