ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা চাঁদপুর

  • Home
  • Bangladesh
  • Faridgonj
  • ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা চাঁদপুর

ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা চাঁদপুর Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা চাঁদপুর, School, Faridgonj.

06/07/2026

তলাবায়ে কেরাম! নিজেকে রক্ষার বিষয়ে সতর্ক হোন: মুফতী মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد!

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দ্বীনী মাদারিসের চারপাশে দ্বীন-ঈমান, আকীদা-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, আদব-আখলাক, আযমত-মহব্বত ও তালীম-তরবিয়তের এমন মজবুত প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছেন যে, বাইরের অসংখ্য ফেতনার ঢেউ এই প্রাচীরের কাছে এসে মিলিয়ে যায়। তাই দেখা যায়, বাইরের মানুষেরা নানা রকম ফেতনায় জর্জরিত হয়ে আছে। অথচ এই নিরাপদ সুরক্ষিত মজবুত দুর্গের ভেতরে যারা অবস্থান করছে, তাদের এসব ফেতনা ছুঁতেও পারেনি। এমনকি অনেকের কল্পনায়ও আসেনি– এরকম ফেতনায় কেউ লিপ্ত হতে পারে।

কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, আমরা নিজেরাই নিজেদের হাতে সেই প্রাচীর ভেঙে ফেলছি। আর বাইরের ফেতনা আমাদেরও গ্রাস করে ফেলছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কেবল বেড়েই চলেছে।

কওমী পড়ুয়াদের কারও কারও মধ্যে নাস্তিকতার অনুপ্রবেশ, কাদিয়ানিয়াত ও ঈসাইয়্যাতের সহযোগিতা, মুলহিদ-যিন্দীক লোকদের অনুসরণ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত চিন্তা-চেতনার সমর্থন এর দলীল।

যারা আকাবিরে দ্বীন ও আসাতিযায়ে কেরাম থেকে দ্বীনের তালীম ও তরবিয়ত যথাযথভাবে হাসিল করে না, উল্টো যেসব মাধ্যমে ফেতনার অনুপ্রবেশ ঘটে, সেগুলো অবলম্বন করে, তাদের এসব ফেতনায় আক্রান্ত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক।

সন্তানের হাতে বাবা-মা নিহত হওয়ার ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে। আল্লাহ তাআলা এই গযব থেকে আমাদের সমাজকে রক্ষা করুন। কিন্তু দ্বীনী পরিবারের কোনো ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার কথা কি কেউ কল্পনা করেছিল কখনো? কিন্তু সেটাও ঘটল। সংবাদের বিবরণ অনুযায়ী, সেই ছেলে এই জঘন্য পাপকাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছে মোবাইলের মাধ্যমে। এই ঘটনা অনেক বড় অশনিসংকেত বহন করে।

প্রিয় তালিবে ইলম ভাইয়েরা! নিজেকে রক্ষার বিষয়ে সতর্ক হোন। নিজের কল্যাণের জন্যই মোবাইলসহ ফেতনার সমস্ত আসবাব থেকে দূরে থাকুন। মন্দ সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকুন। ফেতনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শুরুতেই বোঝা যায় না; কিন্তু যখন বোঝা যায়, তখন হয়তো কিছুই করার থাকে না। কারণ ততদিনে সেটা বিশাল বিষবৃক্ষে পরিণত হয়ে গেছে।

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে–

تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا.

فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا، نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا، نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ.

حَتَّى تَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ :

عَلَى أَبْيَضَ مِثْلِ الصَّفَا، فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ.

وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مُرْبَادًّا كَالْكُوزِ، مُجَخِّيًا، لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا، إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهُ.

চাটাই বুননের মতো এক এক করে ফেতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকবে।

যে অন্তরে কোনো ফেতনা ঢুকবে, তাতে একটি কালো দাগ পড়ে যাবে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে, তাতে একটি শুভ্রোজ্জ্বল চিহ্ন পড়বে।

এভাবে একপর্যায়ে অন্তরগুলো দুই ধরনের হয়ে যায়–

এক প্রকার হয় শ্বেতপাথরের মতো। আসমান ও জমিন যতদিন থাকবে, কোনো ফেতনা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

আরেক প্রকার হয় উল্টানো কালো কলসির মতো। কোনো ভালোকে সে ভালো মনে করে না এবং কোনো মন্দকে সে মন্দ মনে করে না। তার ভেতরে যে প্রবৃত্তি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল সেটারই সে অনুসরণ করে। –সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪৪

নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন। যারা তারজামাতু মাআনিল কুরআনিল কারীম অধ্যয়নের পর্যায়ে পৌঁছেছেন তারা সামান্য সময়ের জন্য হলেও তাদাব্বুর ও তাযাক্কুরের সঙ্গে কুরআন মুতালাআ করুন। সঙ্গে আততরীক ইলা তাফসীরিল কুরআনিল কারীম, আসান তাফসীরে কুরআন, তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, তাফসীরে উসমানী বা বুরহানুল কুরআনের মতো সংক্ষিপ্ত কোনো তাফসীর রাখুন।

উস্তাযগণের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখুন। কেবল নিয়মের সম্পর্ক নয়; উসতায-শাগরিদের যে পবিত্র নিসবত, সেটাকে যিন্দা করার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, আসাতিযায়ে কেরাম থেকে যারাই বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসাতিযায়ে কেরাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ কখনো তাফাক্কুহ হাসিল করতে পারেনি। তাই তাদের থেকে আদব-আখলাক শিখুন, দ্বীনের সমঝ, আফকার ও যওক হাসিলের চেষ্টা করুন। তাদের তাম্বীহ ও তরবিয়ত ইকরাম ও মহব্বতের সঙ্গে গ্রহণ করুন। আজকাল এর বড়ই অভাব।

অনেক ছাত্র ও সন্তান উসতায ও বাবা-মায়ের তরবিয়ত ও শাসন যথাযথভাবে গ্রহণ করে না। মনে রাখা উচিত, বাবা-মা ও আসাতিযায়ে কেরামই আমাদের সবচেয়ে বড় কল্যাণকামী। আমাদের কল্যাণের জন্যই তারা আমাদের সতর্ক করেন এবং শাসন করেন। এই অনুভূতি যদি আমাদের মধ্যে জাগ্রত থাকে, তাহলে মুরব্বীদের শাসন ও ধমকের দ্বারা আমাদের অন্তরে তাদের প্রতি আরও মহব্বত ও আযমত তৈরি হবে, যেটা আমাদের যিন্দেগীতে আরও নূর ও বরকত নিয়ে আসবে। নতুবা কেবল ক্ষতি আর ক্ষতি।

আকাবির ও আসলাফের জীবনী এবং তাদের মালফুযাত ও মাকতুবাত অধ্যয়নের প্রতি যত্নবান হোন। এর জন্য বিরতির সময়গুলোকে কাজে লাগান।

কওমী মাদরাসার আদর্শ-ঐতিহ্য ও চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে ইতিপূর্বে এ বিভাগে অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অবসরে সেগুলো পুনরায় পড়ে নিলে ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ।

হাদীস শরীফে শয়তানের ওয়াসওয়াসা, নফসের অনিষ্ট এবং ফেতনা ও গোমরাহী থেকে আত্মরক্ষার অনেক দুআ বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত। এ ধরনের কিছু দুআ এই :

১. কুরআন কারীমের দুআ–

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَ هَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ.

(সূরা আলে ইমরান (০৩) : ০৮)

২. সকাল-সন্ধ্যা ও রাতে ঘুমানোর সময়–

اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَه، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ، لَا شَرِيْكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلٰى نَفْسِيْ سُوْءًا، أَوْ أَجُرَّه إِلٰى مُسْلِمٍ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা.-কে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই দুই শিখিয়েছেন।

(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫১, ৮১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৬৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৯২, ৩৫২৯)

৩. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, নবীজী এই দুআ করতেন–

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ.

(সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭১৬)

৪. শাকাল ইবনে হুমাইদ রা. একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি দুআ শেখানোর আবেদন করলেন, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরলেন এবং ইরশাদ করলেন, বলো–

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي.

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৫১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৯২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৯৭৫৫)

৫. এক হাদীসে আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশে আরয করলেন–

تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الْفِتَنِ، مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ.

‘তোমরা প্রকাশ্য-গোপন সমস্ত ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করো।’

সাহাবায়ে কেরাম বললেন–

نَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الْفِتَنِ، مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ.

আমরা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সমস্ত ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি। –সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৬৭

৬. নামাযের শেষ বৈঠকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআও পড়তেন–

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ.

(সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৩২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৮৯)

৭. আরেকটি দুআ–

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالجُبْنِ وَالبُخْلِ وَالهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ.

(সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩৬৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সমস্ত ফেতনা থেকে হেফাযতে রাখুন– আমীন।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.


[ মাসিক আলকাউসার || জুমাদাল উলা ১৪৪৭ || নভেম্বর ২০২৫ ]

06/07/2026

তালিবুল ইলমের পাথেয়: ফকিহুল উম্মতের ১২টি মূল্যবান নসিহত

আমরা জানি, দুনিয়ার সাধারণ কোনো বস্তুও যথাযথ নীতিমালা ও আদব রক্ষা ছাড়া অর্জন করা যায় না। তাহলে ইলম- আল্লাহ তাআলার গুণাবলির অন্যতম একটি গুণ এবং তাঁর নূর- কত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এক আসমানী সম্পদ! এ মহান সম্পদ কি শরীয়ত ও আদবের পাবন্দি ছাড়া অর্জন করা সম্ভব? নিঃসন্দেহে নয়। ইলম অর্জনের জন্য আমাদের পূর্বসূরি আকাবিরগণ অবর্ণনীয় ত্যাগ ও সাধনা করেছেন, যা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। তাঁদের জীবনে ইলম অর্জনের জন্য অসংখ্য শর্ত ও আদব পালনের বাধ্যবাধকতা ছিল।

কিন্তু কালের পরিক্রমায় আমরা দুর্বল হয়ে পড়েছি। আমাদের দুর্বলতা ও অলসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একারণে ফকিহুল উম্মত হযরত মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রহ.) বর্তমান যুগের ছাত্রদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের জন্য বারোটি সহজ শর্ত ও আদব সংকলন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন- ہدايات إثنا عشريه برائے طلبه

আল্লাহ তাআলার দরবারে আমরা আশাবাদী যে, এই আদবগুলো অনুসরণ আমাদের সবাইকে ইলমে নাফে (উপকারী জ্ঞান) ও তার বরকত লাভে সহায়ক হবে।

হযরত মুফতি মাহমুদ গাঙ্গুহী (রহ.)এর ১২টি মূল্যবান উপদেশ
১. বিশুদ্ধ নিয়ত

নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা। অর্থাৎ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও আত্মশুদ্ধির লক্ষ্যে দ্বীনের গভীর জ্ঞান এবং হালাল-হারাম নির্ণয়ের যোগ্যতা অর্জন করা এবং আমৃত্যু এর ওপর দৃঢ় থাকা।

২. তাকওয়া ও খোদাভীতি
তাকওয়া ও খোদাভীতির সঙ্গে ইলম অর্জন করা। ‘তা’লিমুল মুতাআল্লিম’ কিতাবে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি তাকওয়া ছাড়া ইলম অর্জন করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তিনটি শাস্তির যেকোনো একটিতে নিক্ষেপ করবেন-

ক) সে অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করবে।
খ) আল্লাহ তাকে কোনো অত্যাচারী শাসকের সেবায় নিয়োজিত করবেন।
গ) তাকে এমন জায়গায় বসবাস করাবেন, যেখানে তার ইলম দ্বারা উপকৃত হওয়ার মতো কেউ থাকবে না।

৩. আল্লাহর আহকামের ওপর আমল
ফরজ ও ওয়াজিব বিধান পালনে যত্নবান হওয়া। সুন্নত ও আদবের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা এবং সিলেবাসভুক্ত বিষয়সমূহে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা।

৪. ইলমের প্রতিবন্ধকতা পরিহার
ইলম অর্জনের পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। যেমন-

ক) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা: ছোট-বড় সব ধরনের গুনাহ, বিশেষত চোখ, লজ্জাস্থান ও জিহ্বার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। কুদৃষ্টি, অশ্লীল কথাবার্তা এবং অবৈধ আকাক্সক্ষা ইলমের নূরকে নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে শ্মশ্রুবিহীন সুশ্রী বালকদের প্রতি বদনজর অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা মাসিহুল্লাহ খান (রহ.) বলতেন, “মৌলভি সাহেব! ছেলেদের থেকে বেঁচে থেকো”।

খ) অতিরিক্ত বন্ধুত্ব: পড়াশোনার ক্ষতি করে এমন গাঢ় ও অতিরিক্ত বন্ধুত্ব পরিহার করা।

গ) বিবাহ: ফকিহুল উম্মত (রহ.) বলেন- لِكُلِّ شَيْءٍ آفَةٌ، وَلِلْعِلْمِ آفَاتٌ، أَوَّلُهَا التَّزَوُّجُ অর্থ- “প্রত্যেক বস্তুর জন্য প্রতিবন্ধকতা থাকে, আর ইলমের জন্য প্রতিবন্ধকতা অনেক। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো বিবাহ।” একারণে আমাদের আকাবিরগণ ছাত্রজীবনে বিবাহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিতেন।

ঘ) অসৎ সঙ্গ: এমন ছাত্রের সঙ্গে ওঠা-বসা না করা, যে পড়াশোনায় মনোযোগী নয়; বরং ভবঘুরে ও উদাসীন।

ঙ) মন্দ পরিবেশ: ইলমের জন্য অনুপযোগী পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

চ) হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাবার: এ ধরনের খাবার বর্জন করা, কারণ তা অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি করে।

ছ) অনর্থক কাজ: অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা।

৫. অধ্যয়নে কঠোর পরিশ্রম
পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রম করা। একটি প্রবাদ আছে- اَلْعِلْمُ لَا يُعْطِيْكَ بَعْضَهُ حَتَّى تُعْطِيَكَ كُلَّكَ অর্থ- “তুমি নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে না দিলে ইলম তার সামান্য অংশও তোমাকে দান করবে না”।

৬. উস্তাদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক
এর দু’টি লক্ষণ রয়েছে- ক) পরিপূর্ণ আদব ও সম্মান: কিছু ছাত্র উস্তাদের সামনে অত্যন্ত আদব দেখায় ও প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে, কিন্তু উস্তাদের আড়ালে গিয়ে তাঁর সমালোচনায় লিপ্ত হয়। এমন ছাত্ররা নিজেদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। খ) খিদমতের আকাক্সক্ষা: উস্তাদের প্রতি অন্তরে খিদমতের অকৃত্রিম আকাক্সক্ষা পোষণ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও আরামের প্রতি খেয়াল রাখা।

৭. ইলমের উপকরণের সম্মান
কিতাব, কলম, কাগজ, শ্রেণিকক্ষ, এমনকি মাদরাসার বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দারোয়ানের সঙ্গেও সম্মানজনক আচরণ করা। মনে রাখতে হবে, ইলম অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় হলো সম্মান। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন- “আমি যা কিছু পেয়েছি, সম্মানের মাধ্যমেই পেয়েছি। আর যারা ইলমের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তারা আদব ও সম্মান রক্ষা না করার কারণেই হয়েছে”।

৮. মাদরাসার নিয়মশৃঙ্খলা পালন
মাদরাসার সব নিয়মকানুন, বিশেষ করে সময়ের প্রতি যত্নবান হওয়া। সময় স্বর্ণের চেয়েও দামি। একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। খাজা আযিযুল হাসান মাজযুব (রহ.) কত সুন্দর বলেছেন-

ہو رہى ہے عمر مثل برف كم
چپکے چپکے رفتہ رفتہ دم بدم

অর্থ- “জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে বরফগলা পানির মতো, চুপিসারে ধীরে ধীরে প্রতিটি নিশ্বাসে”।

৯. আকার-আকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদ
পোশাক-পরিচ্ছদ ও চালচলনে উলামায়ে কেরাম ও সলফে সালেহিনের অনুসরণ করা। দাড়ি সুন্নত মোতাবেক রাখা। চুল লম্বা রাখলে তার যত্ন নেওয়া কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। তাই ছাত্রদের জন্য ‘হলক’-এর (মাথা মুণ্ডানো) সুন্নতের ওপর আমল করাই উত্তম। এতে আকাবিরদের সুন্নাতের অনুসরণ হবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে।

১০. উপকারী ইলমের জন্য দোয়া
আল্লাহ তাআলা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)কে অধিক ইলম প্রার্থনার নির্দেশ দিয়ে বলেন- وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِيْ عِلْمًا অর্থ- “এবং বলুন, হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন”। (সূরা ত্ব-হা- ১১৪)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন- اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا অর্থ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি”।

আবার কখনো এই দোয়া করতেন- اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ অর্থ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই, যা কোনো উপকার দেয় না”।

১১. কিতাব লেখকদের জন্য ঈসালে সওয়াব
যেকোনো কিতাব শুরু বা শেষ করার সময় তার লেখকের (যদি তিনি মুমিন হন) জন্য দোয়া করা এবং কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ ইত্যাদি পড়ে ঈসালে সওয়াব করা। এর মাধ্যমে লেখকের রুহানি ফয়েজ ও বরকত লাভের আশা করা যায়।

১২. উলামা-মাশায়েখের সঙ্গে রুহানি সম্পর্ক
আল্লাহ তাআলা বুযূর্গদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন ছাড়া ইলম ও আমলে স্বাদ পাওয়া কঠিন। আগেকার আকাবিরগণ ছাত্রদের বাইআত করাতেন না, যেন তাদের পূর্ণ সময় পড়াশোনায় ব্যয় হয়। কিন্তু বর্তমান যুগে ছাত্ররা যেহেতু বিভিন্ন অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করে, তাই পরবর্তী আকাবিরগণ এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছেন।

তাঁদের মতে, ছাত্ররা কোনো কামেল শায়েখের হাতে বাইআত হলে এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী চললে অনর্থক কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। এতে অন্তরে ইলমের একাগ্রতা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। যদি কোনো কামেল শায়েখের সান্নিধ্য লাভ সম্ভব না হয়, তবে আকাবিরদের জীবনী ও তাঁদের লিখিত কিতাবাদি পাঠ করবে। ইনশাআল্লাহ, এর মাধ্যমে আখেরাতের ফিকির ও আত্মশুদ্ধির প্রেরণা সৃষ্টি হবে।

ছাত্রদের প্রতি সর্বশেষ আরয হলো, অবসর সময়ে আকাবিরদের কিতাব মনোযোগ দিয়ে মুতালাআ করবে। কারণ, তাঁদের কিতাব তাঁদের সান্নিধ্যের স্থলাভিষিক্ত। আশা করি, ছাত্ররা এই নির্দেশনাগুলোর ওপর আমল করার পরিপূর্ণ চেষ্টা করবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

– আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, মুহতামিম- দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।

04/07/2026

ফজরের নামাযের দশটি ফযীলত
মাওলানা মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয। মুমিন মাত্রই যত্নের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে থাকেন। তবে মানবজাতির চিরশত্রু ইবলিস সর্বদাই চেষ্টা করে, যেন মুমিনগণ নামায থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। শয়তানের ধোঁকা ও গাফলতের কারণে অনেকেই নামাযে অবহেলা করেন বা নামায ছেড়ে দেন; যা মুমিনের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে ফজর ও আসরের নামাযে বেশি গাফলতি হয়ে থাকে। মহান রাব্বুল আলামীন তাই কুরআনুল কারীমে এই দুই নামাযের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে-

حٰفِظُوْا عَلَی الصَّلَوٰتِ وَ الصَّلٰوةِ الْوُسْطٰی.

তোমরা সকল নামায এবং (বিশেষ করে) মধ্যবর্তী (তথা আসরের) নামাযের প্রতি যত্নবান হও। -সূরা বাকারা (০২) : ২৩৮

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-

وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَ قَبْلَ غُرُوْبِهَا.

এবং স্বীয় রবের সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকুন; সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। -সূরা ত্ব-হা (২০) : ১৩০

এই আয়াতে গাফলতের দুই ওয়াক্ত ফজর ও আসরের নামাযের কথা উল্লেখ করে এর সবিশেষ গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

যাইহোক, এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নামাযের মধ্যে আজ আমরা আলোচনা করব ফজরের নামায বিষয়ে; যে নামাযের মাধ্যমে মুমিনের দিবসের সূচনা হয়। এই নামাযের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে বেশ কিছু আয়াত ও হাদীস বর্ণিত হয়েছে; সেখান থেকে কিছু বিষয় আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

এক. আল্লাহ কসম করেছেন ফজরের

প্রতি ওয়াক্ত নামাযই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফজরের গুরুত্ব অন্য সব ওয়াক্তের তুলনায় বেশি। কুরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফজরের কসম করেছেন। ইরশাদ হয়েছে-

وَ الْفَجْرِ وَ لَیَالٍ عَشْرٍ.

কসম ফজর-কালের। এবং দশ রাতের। -সূরা ফাজর (৮৯) : ১-২

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরই কসম করেন। যেহেতু আল্লাহ ফজরের কসম করেছেন, তাই এটি সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এই সময় এবং এই সময়ে আদায়কৃত নামাযের গুরুত্ব অন্য সময় ও নামাযের তুলনায় বেশি।

ফজরের নামায এবং ফজরের তিলাওয়াতের গুরুত্ব প্রকাশ করে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیْلِ وَ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ ؕ اِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا.

(হে নবী!) সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের সময় কুরআন পাঠে যত্নবান থাকুন। স্মরণ রাখুন, ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ। -সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৭৮

শায়খুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনে এ আয়াতের টীকায় লেখেন-

“মুফাসসিরগণ এর [অর্থাৎ ‘ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ’- একথার] দুই রকম ব্যাখ্যা করেছেন :

ক. অধিকাংশ মুফাসসির বলেন, ফজরের নামাযে যে তিলাওয়াত করা হয়, তাতে ফিরিশতাদের দল উপস্থিত থাকে। বিভিন্ন হাদীস দ্বারা জানা যায়, মানুষের তত্ত্বাবধানের কাজে যেসকল ফিরিশতা নিয়োজিত আছে, তারা নিজেদের দায়িত্ব পালাক্রমে আঞ্জাম দিয়ে থাকে। একদল আসে ফজরের সময়। তারা দিনের বেলা দায়িত্ব পালন করে। আরেক দল আসে আসরের সময়। তারা রাতের বেলা দায়িত্ব পালন করে। প্রথম দল ফজরের নামাযে এসে শরীক হয় এবং কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনে। আয়াতে সে কথাই বলা হয়েছে।

খ. একদল মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা মুসল্লীদের উপস্থিতি বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফজরের নামাযে মানুষ যেহেতু ঘুম থেকে উঠে শরীক হয়, তাই তারা যাতে ঠিকভাবে নামায ধরতে পারে, সে লক্ষ্যে নামাযে তিলাওয়াত দীর্ঘ করা বাঞ্ছনীয়।”

সুতরাং ফজরের জামাতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া কাম্য।

আসলে ফজরের জামাতে উপস্থিত হতে না পারা বহু কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার নামান্তর।

দুই. ফজরের জামাতে উপস্থিত হতে পারা ঈমানী শক্তির পরিচায়ক

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِنَّ أَثْقَلَ صَلَاةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ، وَصَلَاةُ الْفَجْرِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا.

এশা ও ফজরের নামায মুনাফিকদের জন্য সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ নামাযের পুরস্কার বা সওয়াব কত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুই নামাযে (জামাতে) হাযির হত। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫১

তিন. ফজরের নামায আদায় করুন, আল্লাহ তাআলার জিম্মায় দিনযাপন করুন

সাহাবী জুনদুব আলকাসরী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَلّٰى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ..

যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মায় চলে গেল।... -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৭

ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, فِي ذِمَّةِ اللهِ অর্থ হল-

في أمان الله وفي جواره.

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে থাকা।

যে আল্লাহ তাআলার আশ্রয়ে থাকে, কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। -আলমুফহিম লিল কুরতুবী ২/২৮২

চার. ফিরিশতাগণ আল্লাহর কাছে আপনার পক্ষে সাক্ষী হবেন

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ، وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ، وَصَلَاةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ.

ফিরিশতাগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমণ করেন। এক দল দিনে, এক দল রাতে। আসর ও ফজরের নামাযে উভয় দল একত্র হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি যখন উঠে যান, তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় দেখে এলে? অবশ্য তিনি নিজেই বান্দাদের ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত।

উত্তরে ফিরিশতারা বলেন, আমরা তাদের নামাযরত দেখে এসেছি। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাযরত ছিল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩২

সুতরাং যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজর ও আসরের নামায জামাতে আদায় করছে ফিরিশতারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে তার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করছে- আমরা যখন পৃথিবীতে গিয়েছি তাকে নামাযরত দেখেছি, আবার যখন পৃথিবী থেকে প্রস্থান করেছি তখনও তাকে নামাযরত দেখেছি। বান্দার জন্য ফিরিশতাদের এ সাক্ষ্য কত মূল্যবান! এ দুই নামাযে যত্নবান হওয়ার ফলে ফিরিশতারা এমনভাবে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, যেন সে সারাদিনই সালাত-ইবাদতে মগ্ন ছিল।

পাঁচ. জান্নাতের সুসংবাদ

সাহাবী আবু মূসা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَلّٰى البَرْدَيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ.

যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডার সময়ের (অর্থাৎ ফজর ও এশার) নামায আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৫

জান্নাত অর্জন একজন মুমিনের পরম চাওয়া। যত ইবাদত-রিয়াযত এবং মেহনত-মুজাহাদা সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভ। জান্নাত লাভের সুসংবাদ শুনতে মুমিন খুব পছন্দ করে। সুতরাং এশা ও ফজরের ব্যাপারে যত্নবান হোন এবং নবীজীর যবানে জান্নাতের সুসংবাদ শুনে আনন্দিত হোন। আল্লাহ সকল মুমিনকে জান্নাতের জন্য কবুল করে নিন।

ছয়. সারা রাত ইবাদতের সওয়াব অর্জন করুন

উসমান ইবনে আফ্ফান রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَلّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَمَنْ صَلّٰى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلّٰى اللَّيْلَ كُلَّهُ.

যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতে আদায় করল সে যেন অর্ধরাত নামাযে দণ্ডায়মান থাকল। যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতে আদায় করল সে যেন সারা রাত নামায আদায় করল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৬

এই হাদীসটি একজন মুমিনের জন্য বিশাল সুসংবাদ। কারণ, সারা রাত ঘুমিয়ে থেকেও রাতভর নামায আদায়ের সওয়াব আমলনামায় লেখা হচ্ছে।

দুই নামায জামাতে আদায়ের মাধ্যমে সারা রাত ইবাদতের সওয়াবের অধিকারী হতে পারা অবশ্যই একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক। আল্লাহ বড় মেহেরবান!

কোনো বুদ্ধিমানই এ ফযীলত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবে না।

সাত. ফজরের নামায আদায়কারী লাভ করবে আল্লাহর দীদার

সাহাবী জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন-

كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ نَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ، فَقَالَ: أَمَا إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا، لاَ تُضَامُّونَ - أَوْ لاَ تُضَاهُونَ - فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا، فَافْعَلُوا، ثُمَّ قَالَ: وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَ قَبْلَ غُرُوْبِهَا .

আমরা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা অচিরেই তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেমন এ চাঁদ দেখতে পাচ্ছ। তোমরা আল্লাহকে দেখতে কোনো প্রকার ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। যদি এ নিআমত লাভ করতে চাও, তাহলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাযের (অর্থাৎ ফজর ও আসরের) প্রতি যথাসাধ্য যত্নবান হও (কোনো প্রকার গাফলতের শিকার হয়ো না এবং শয়তানের কাছে পরাস্ত হয়ো না)। অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনে কারীমের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন-

وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَ قَبْلَ غُرُوْبِهَا.

[এবং স্বীয় রবের সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকুন- সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। -সূরা ত্ব-হা (২০) : ১৩০] -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৮৫১

আলোচ্য হাদীসটিতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার মতো বাক্য হল-

فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا...

অর্থাৎ, তোমরা এ নামাযদ্বয়ের ব্যাপারে শয়তান বা গাফলতের কাছে পরাস্ত হয়ো না।

বোঝা যাচ্ছে, আসর ও ফজরের নামায আদায়ের ক্ষেত্রে মানবীয় দুর্বলতা ও গাফলতের একটা বিষয় রয়েছে। এসময় মানুষ ঘুমে বা বিশ্রামে থাকে এবং গাফলতের শিকার থাকে। ফলে নফসের সাথে লড়াই করে নামাযের জন্য জামাতে উপস্থিত হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর এর সাথে যুক্ত হয় মানবজাতির চিরশত্রু শয়তানের ওয়াসওয়াসা! শয়তান বলতে থাকে, ‘আজ না হয় থাক, কাল থেকে ইনশাআল্লাহ...’, ‘বাসায় নামায আদায় করলেও তো হয়, সওয়াব একটু কম হবে, কিন্তু নামায তো হয়ে যাবে’ ইত্যাদি। এসব কারণে বনী আদম কাবু হয়ে যায়। পরাস্ত হয়ে যায় নফস ও শয়তানের কাছে। তাই এই দুই নামাযের ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

যেহেতু নফস ও শয়তানের সাথে অনেক মুজাহাদা করে একজন মুমিনকে এই দুই ওয়াক্ত নামায আদায় করতে হয়, তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক বড় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন; আল্লাহর দীদার লাভের পুরস্কার! বান্দা আপন রবকে দেখতে পাবে- এর চেয়ে বড় পাওয়া ও বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে। এ পুরস্কার লাভের জন্য তো বান্দা যেকোনো কষ্ট স্বীকার করতেও রাজি।

আট. জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা

উমারা ইবনে রুআইবা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-

لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلّٰى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا- يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ.

যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের ও সূর্যাস্তের পূর্বে অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায আদায় করে সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৪

মানুষের বড় বড় সফলতার একটি হল, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারা। জান্নাতের আশাও যেমন থাকবে, তেমনি জাহান্নাম থেকে বাঁচার আকুতিও থাকতে হবে; তবেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন-

ففَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ.

যাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দিয়ে জান্নাতে দাখিল করা হল সে-ই সফলকাম হল। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৮৫

নয়. দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝের সবকিছুর চেয়ে দামী কিছু পেতে চাই!

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.

ফজরের দুই রাকাআত নামায (আমার কাছে) দুনিয়া ও এর মাঝে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে উত্তম। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৫

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ দুনিয়া কামাই করার জন্য কত পরিশ্রমই না করে। অথচ এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। অতি শীঘ্রই তা শেষ হয়ে যাবে। অপরদিকে আখেরাত চিরস্থায়ী। একজন মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরকালের জীবন শুরু হবে; কিন্তু শেষ হবে না কোনোদিন-অনিঃশেষ। এই জীবনের পাথেয় হল ইবাদত ও আমল। ফজরের দুই রাকাত নামায এই অনিঃশেষ জীবনের এক মূল্যবান পাথেয়।

দশ. কিয়ামতের দিন নূরপ্রাপ্তির সুসংবাদ

আখেরাত জীবনের কঠিন কঠিন ঘাটি পার হওয়ার জন্য প্রয়োজন নূর ও আলোর। রাতের শেষ অন্ধকারে আদায় করা এই নামায আমার জন্য শেষ দিবসের আলো হবে; যা আমাকে জান্নাত পর্যন্ত পথ চলতে সাহায্য করবে; যা না হলে আমি সেখানের অন্ধকারে হারিয়ে যাব। যদি নূরের অধিকারী হতে পারি, তাহলেই পৌঁছতে পারব পরম কাক্সিক্ষত জান্নাতে।

বুরায়দা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

অন্ধকারে পায়ে হেঁটে (ফজরের নামায আদায় করতে) মসজিদে গমনকারী ব্যক্তিদেরকে সুসংবাদ দাও- কিয়ামতের দিন তাদেরকে পরিপূর্ণ নূর দান করা হবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫৬১; জামে তিরমিযী, হাদীস ২২৩

শেষ কথা

যত বড় বিষয়, তা অর্জনের জন্য আমাদের প্রস্তুতিও হয় তত আগ থেকে এবং সে পরিমাণ গুরুত্বের সাথে। ফজরের নামাযের এসকল পুরস্কার ও ফযীলত যদি লাভ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে এর জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। কেবল মৌখিক ইচ্ছা আর (প্রচেষ্টাহীন) দুআ যথেষ্ট নয়। আমার ইচ্ছা ও দুআ অনুযায়ী আমার সারাদিনের কাজ গুছিয়ে আনতে হবে। রাতে আগে আগে শুয়ে যেতে হবে। রাতে ঘুমাব দেরি করে আর আকাক্সক্ষা করব- সময়মত ঘুম ভাঙার- তা হবে না।

আসলে চেষ্টা তো থাকবে একটু আগে উঠে দুই-চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায়ের; তাহলে আশা করা যায়, আন্তত ফজর কখনো কাযা হবে না। তবে এজন্য রাতে আগে আগে ঘুমানোর কোনো বিকল্প নেই।

আমরা নবীজীর শেষ রাতের ইবাদতের কথা শুনি এবং নিজের জন্য তা কামনা করি; কিন্তু এটার প্রতি আমাদের মোটেও ভ্রুক্ষেপ নেই যে, নবীজী এশার পর দ্রুত ঘুমিয়ে যেতেন এবং আমাদেরকেও দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন। ফলে এশার পর গল্প-গুজবে লিপ্ত হওয়া মাকরূহ। তাই আসুন রাতে আগে শুয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করি, তাহাজ্জুদ আদায় করি এবং জামাতের সাথে ফজর আদায় করে লাভ করি দুনিয়া ও আখেরাতের নূর ও আলো।

গাফলতকালের দুই ওয়াক্ত নামায যে নিয়মিত আদায় করতে পারে, তার জন্য বাকি নামাযগুলো আদায় করা আর তেমন কঠিন থাকে না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল নামায নিয়মিত জামাতের সাথে মসজিদে গিয়ে আদায় করার তাওফীক দান করুন- আমীন।

02/07/2026

জুমার দিন যে সময় দুআ কবুল হয়

মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন

দুআর মাধ্যমে বান্দার আবদিয়্যাত গুণের প্রকাশ ঘটে। দুআ হল আল্লাহর সামনে বান্দার সমর্পণ, বান্দার হীনতা ও দীনতার প্রকাশ, আল্লাহমুখিতা এবং আল্লাহ ও বান্দার মাঝে বিশেষ সম্পর্কের উত্তম বহিঃপ্রকাশ। আর এসব বিষয় হল ইবাদত ও আবদিয়্যাতের রূহ ও প্রাণ। তাই দুআ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

নুমান ইবনে বাশীর রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ.

দুআই ইবাদত।

এরপর এর সমর্থনে তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেছেন-

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ.

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [সূরা মুমিন (৪০) : ৬০] -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯৬৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৮২৮

যে দুআ করে আল্লাহ তার প্রতি খুশি হন, আর যে দুআ করে না আল্লাহ তার প্রতি নারায হন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ.

যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৭৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৭০১; আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৬৫৮

ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেছেন-

وَالدّعَاءُ رَأْسُ الْعِبَادَةِ وَاللهُ يُحِبُّ أَنْ يُسْأَلَ،وَقَدْ أَمَرَ أَنْ يُسْأَلَ مِنْ فَضْلِهِ لِقَوْلِهِ عَزّ وَجَلّ وَسْـَٔلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهٖ.

দুআ ইবাদতের মূল। আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে প্রার্থনা করা পছন্দ করেন। তাই তিনি ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) ‘তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো’। [সূরা নিসা (৪) : ৩২] -আলইসতিযকার ৮/১৪৪

যদি রিযিক হালাল হয় এবং গোনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দুআ না করা হয়, তাহলে সে দুআ অবশ্যই কবুল হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

وَاِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ اُجِیْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَ لْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ.

(হে নবী!) আমার বান্দাগণ যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন (আপনি তাদেরকে বলুন,) আমি এত নিকটবর্তী যে, কেউ যখন আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি। সুতরাং তারাও আমার কথা অন্তর দিয়ে গ্রহণ করুক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়। -সূরা বাকারা (২) : ১৮৬

আল্লাহ তাআলা দুআ কবুল করার ওয়াদা করেছেন। সব সময় সব হালতেই তিনি দুআ কবুল করেন। তবে হাদীস শরীফে বিশেষভাবে জুমার দিনের একটি সময়ের কথা বলা হয়েছে, বান্দা তখন আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তা দান করবেন। আবু হুরায়রা রা. বলেন-

أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ ذَكَرَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَقَالَ: >فِيهِ سَاعَةٌ، لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا، إِلّا أَعْطَاهُ إِيّاهُ< وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন জুমার দিনের আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, এইদিন একটা সময় আছে তখন কোনো মুসলিম নামাযরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট যা চাইবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দেবেন।

(আবু হুরায়রা রা. বলেন,) এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করেছেন, ঐ মুহূর্তটা অতি অল্প সময়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫২

মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় স্পষ্ট এসেছে-

وَهِيَ سَاعَةٌ خَفِيفَةٌ.

সে মুহূর্তটি খুব সামান্য সময়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫২

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً، وَلَا يُوجَدُ عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللهَ شَيْئًا إِلّا آتَاهُ اللهُ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ السّاعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ.

জুমার দিন বারো ভাগ। (এর মধ্যে একটি সময় আছে, যাতে) কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছে যা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা নিশ্চয় তা দান করবেন। সে সময়টি তোমরা অনুসন্ধান কর আসরের পর দিনের শেষ অংশটিতে। -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ১০৩২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৪৮; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১৩৮৯১

সেই মুহূর্ত কোনটি?

উপরের হাদীসগুলো থেকে জানা গেল, জুমার দিন একটি সময় বান্দার দুআ অবশ্যই কবুল হয়। সেই ফযীলতপূর্ণ সময়টা কখন? জুমার দিনের যে সময়টিতে দুআ কবুলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে সেটা কোন্ সময়? এ সম্পর্কে সাহাবা, তাবেঈন ও পরবর্তী উলামায়ে কেরামের একাধিক বক্তব্য পাওয়া যায়।

হাফেয ইবনে হাজার রাহ. লেখেন-

وَلَا شَكّ أَنّ أَرْجَحَ الْأَقْوَالِ الْمَذْكُورَةِ حَدِيثُ أَبِي مُوسَى وَحَدِيثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ.

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এসব মতের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য মত হল- আবু মূসা আশআরী রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর হাদীসে উল্লেখিত দুটি মত। -ফাতহুল বারী ২/৪৮৮

ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর বক্তব্য থেকে জানা গেল, জুমার দিনের সেই বিশেষ সময়টি সম্পর্কে যত মত আছে এর মধ্যে অগ্রগণ্য হল দুটি :

এক. যে সময়ের কথা পাওয়া যায় আবু মূসা আশআরী রা.-এর হাদীসে। সেই হাদীসে এসেছে, জুমার দিনের দুআ কবুলের সময় হল, খতীব (খুতবার জন্য) মিম্বরে বসার পর থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত।

আবু বুরদা রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, জুমার দিনের দুআ কবুলের সময় সম্পর্কে আপনার পিতা আবু মূসা আশআরী রা.-এর কাছ থেকে কোনো হাদীস শুনেছেন?

আমি বললাম, হাঁ, শুনেছি। তাঁকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصّلَاةُ.

সে সময়টি হল, খতীব (খুতবার জন্য মিম্বরে) বসার পর থেকে জুমার নামায শেষ করা পর্যন্ত। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৪৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৭৩৯

দুই. যে সময়ের কথা পাওয়া যায় আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর হাদীসে। সেখানে এসেছে, দুআ কবুলের বিশেষ সময়টি হল, আসরের পর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত।

আবু সালামা রাহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-কে প্রশ্ন করলাম-

أَيّةُ سَاعَةٍ هِيَ؟

ঐ সময়টা কোনটা?

তিনি বলেছেন-

آخِرُ سَاعَاتِ النّهَارِ.

তা হল, দিনের শেষ ভাগ। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৭৮১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৩৯

আরেক হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. একবার কা‘ব আহবার রাহ.-কে কয়েকটি হাদীস শুনিয়েছেন। একটি হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللهَ شَيْئًا، إِلاّ أَعْطَاهُ إِيّاهُ.

জুমার দিন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম নামাযরত অবস্থায় তখন আল্লাহর নিকট যা চাইবে আল্লাহ অবশ্যই তা দান করবেন।

কা‘ব আহবার রাহ. বললেন-

ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ.

এই দিনটি প্রতি বছর এক দিন।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি বললাম-

بَلْ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ.

না, বরং প্রত্যেক জুমার দিন।

তখন তিনি তাওরাত খুলেছেন এবং তা দেখার পর বলেছেন-

صَدَقَ رَسُولُ اللهِ صَلى الله عَلَيهِ وَسَلمَ.

হাঁ, আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, এরপর একদিন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তাকে কা‘ব আহবারের সাথে সাক্ষাতের বিষয় এবং তাকে যে হাদীস শুনিয়েছি এর বিবরণ দিই। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বললেন-

قَدْ عَلِمْتُ أَيّةَ سَاعَةٍ هِيَ.

সে সময়টা কখন, তা আমি জানি।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি বললাম, আমাকে বলুন, আমার সাথে কৃপণতা করবেন না।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বললেন-

هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ.

সময়টি হল, জুমার দিনের শেষ সময়।

আবু হুরায়রা রা বলেন, আমি বললাম, ঐ সময় কীভাবে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম বান্দা ঐ সময় নামাযরত থাকবে! আর আছরের পর তো নামায পড়া যায় না?

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. উত্তর দিয়েছেন-

أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللهِ صَلى الله عَلَيهِ وَسَلمَ: مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصّلاَةَ فَهُوَ فِي صَلاَةٍ حَتّى يُصَلِّيَ؟

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি, কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকবে, ততক্ষণ সে নামাযে আছে?

আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি বললাম, হাঁ।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বললেন-

فَهُوَ ذَلِكَ.

হাদীসে (নামাযরত বলার দ্বারা) এটাই উদ্দেশ্য। -মুয়াত্তা মালেক, হাদীস ২৯১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৭৮৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৪৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৯১

অর্থাৎ দুআ কবুলের হাদীসটিতে যে বলা হয়েছে, নামাযরত অবস্থায় দুআ করবে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, দিনের শেষ সময়ে বসে মাগরিবের নামাযের অপেক্ষায় থাকবে এবং দুআ করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় থাকে সে নামাযেই থাকে।

যাইহোক আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বলেছেন, হাদীস শরীফে জুমার দিনের যে সময় দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সে সময়টি হল, দিনটির শেষ অংশ। এই কথা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসেও উল্লেখ হয়েছে। যেমন ইতিপূর্বে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-এর হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ السّاعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ.

সে সময়টি তোমরা অনুসন্ধান কর আসরের পর দিনের শেষ অংশটিতে।

মোটকথা জুমার দিনের দুআ কবুলের সময় কোন্টি, তা নির্ধারণ নিয়ে যদিও বহু মত রয়েছে, তবে এসবের মধ্যে অগ্রগণ্য মত হল দুইটি :

এক.

খতীব খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠার পর থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত। আবু মূসা আশআরী রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা., আবু বুরদা রাহ. প্রমুখ এই মতের প্রবক্তা। (দ্রষ্টব্য : মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, বর্ণনা ৫৫০৬, ৫৫০৭; আততামহীদ, ইবনে আবদুল বার ১৯/২২

দুই.

জুমার দিনের শেষ সময় তথা আসরের নামাযের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা., আবু হুরায়রা রা., আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., কা‘ব আহবার রাহ., সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ., মুজাহিদ রাহ. ও তাউস রাহ. প্রমুখ এই মত গ্রহণ করেছেন। (দ্রষ্টব্য : মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, বর্ণনা ৫৫০৩-৫৫০৫, ৫৫১৪; আততামহীদ ১৯/২০, ২৩-২৪; আলইস্তিযকার ৫/৮২, ৮৬, ৯৭)

সুতরাং আমরা জুমার দিন এই দুই সময় দুআর এহতেমাম করব। তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের ঐ বিশেষ সময়ের ফযীলত লাভ হবে এবং আমাদের দুআ আল্লাহ কবুল করবেন। ইমাম আবু উমর ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেছেন-

والذي ينبغي لكل مسلم الاجتهادُ في الدعاء للدين والدنيا في الوقتين المذكورين رجاءَ الإجابة، فإنه لا يخيب إن شاء الله.

প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, কবুলের আশা নিয়ে তার দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ের জন্য এই দুই সময়ে গুরুত্বের সাথে দুআ করা। তাহলে ইনশাআল্লাহ, তার দুআ বৃথা যাবে না। -আততামহীদ ১৯/২৪

সালাফে সালেহীন যেভাবে এ সময়টার কদর করতেন

সালাফে সালেহীনের মধ্যে যাঁদের মতে দুআ কবুলের সময় হল জুমার নামাযের সময় তাঁরা তো ঐ সময়ই সে সৌভাগ্য লাভ করার জন্য ব্যাকুল থাকতেন। আর যাঁদের বক্তব্য, সেই সময়টি দিনের শেষ বেলা, তাঁরা আসরের নামায পড়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরো সময়টাই দুআ ও যিকিরে মগ্ন থাকতেন। সালেম রাহ. বলেন-

وَكَانَ سَعِيدٌ إِذَا صَلّى الْعَصْرَ لَمْ يُكَلِّمْ أَحَدًا إِلَى غُرُوبِ الشَمْسِ.

সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ. জুমার দিন আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলতেন না। (দুআ-যিকিরে মগ্ন থাকতেন।) -আততামহীদ, ইবনে আবদুল বার ১৯/২৩-২৪; আলইস্তিযকার, ইবনে আবদুল বার ৫/৮৬-৮৭

লাইছ ইবনে আবী সুলাইম রাহ. বলেন-

وَكَانَ طَاوُسٌ إِذَا صَلّى الْعَصْرَ لَا يُكَلِّمُ أَحَدًا وَلَا يَلْتَفِتُ، مَشْغُولًا بِالدّعَاءِ وَالذِّكْرِ حَتّى تَغِيبَ الشّمْسُ.

তাউস রাহ. (জুমার দিন) আসরের পর কারো সাথে কথা বলতেন না এবং এদিক ওদিক তাকাতেন না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মশগুল থাকতেন। -আলইস্তিযকার ৫/৯৭; আততামহীদ ২৩/৪৬

অন্যান্য অনেক বুযুর্গের মত শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলবী রাহ. এবং তাঁর আব্বাজান হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলবী রাহ.-এরও এই মা‘মূল ছিল। জুমার দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মগ্ন থাকতেন। সেদিন আসরের পরের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম মাগরিবের পরে করতেন।

আল্লাহ আমাদের আমলের তাওফীক দিন-আমীন।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.



টীকা :

১.

قال الحاكم: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ. وقال النووي في الخلاصة: رَوَاهُ أَبُو دَاوُد، وَالنَّسَائِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح. وقال العراقي في طرح التثريب: هُوَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ . وقال الحافظ في الفتح: رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنّسَائِيُّ وَالْحَاكِمُ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ.

.
[ মাসিক আলকাউসার || রবিউল আখির ১৪৪৪ || নভেম্বর ২০২২ ]

Address

Faridgonj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা চাঁদপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category