12/03/2026
যে হাসপাতালের ফ্লোরে একদিন নানুকে নিয়ে শুয়ে ছিলাম সেই হাসপাতালেই আজ নিউরোসার্জারির ফেজ-বি রেসিডেন্ট হিসেবে জয়েন করলাম! আলহামদুলিল্লাহ 😇
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলাম।ঠিক তার পরের মাসেই আমার নানা স্ট্রোক করেন😞
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।অনেক রোগী, বেড নেই, জায়গা হলো ফ্লোরে।ইন্টার্ন ভাইয়া-আপুরা দেখে গেলেন ।সকালে বড় স্যারেরা রাউন্ড দিবেন
নানার সাথে আমিও মেঝেতে থেকেছি! ১০ দিন ভর্তি থাকার পর নানাকে স্ট্রোকের ঔষধ দিয়ে ছুটি দেয়া হলো ।সেই মাসেই নানু আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন😞
# # #
আমার নানু পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। নানাবাড়িতে তার সাথে আমার অনেক স্মৃতি গ্রামে গেলেই নানুর সাথে যতটা পারতাম থাকার চেষ্টা করতাম
মাঠে লাঙল দিয়ে চাষ করতেন।দুইটা ষাড় গরু ছিলো।মই দেয়ার সময় সেটার উপর আমাকে দাড়া করায় দিতেন। আলুর সময় মাটি থেকে আলু তোলা কিংবা
শ্যালো মেশিনের পানিতে গোসল করা।
নানাবাড়ি মানেই ছিলো মাটির একদম কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ।নাইনটি'স কিড যারা তাদের সবার নানাবাড়ি নিশ্চয়ই এমনই ছিলো
# # #
একটা মানুষ খুব অসুস্থ নাহলে মেডিকেলে ভর্তি হয়না ।আবার অনেক অসহায় নাহলে সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হয়না।মেডিকেলে আমরা যখন একটা রোগী দেখি, ততক্ষণে সে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে আমাদের পর্যন্ত আসে-
* বাসা থেকে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
* সেখান থেকে সদর হাসপাতাল
* সেখানেও হয়তো কিছু রোগের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় মেডিকেলে পাঠানো হয়
* অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে আসা
* ইমারজেন্সি খুজে বের করা
* রোগীকে ভর্তি করে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পৌছানো
* ভর্তির কাগজ নার্সিং স্টেশনে দেখিয়ে এন্ট্রি করা
* এরপর ডিউটি ডাক্তারদের রুমে গিয়ে তাদেরকে নতুন রোগী ভর্তির ব্যাপারে জানালে তারা গিয়ে রোগী দেখে চিকিৎসা লিখে দেন
* সব ঔষধ মেডিকেলে থাকে না, কিছু ঔষধ কিনতে হয়
* সেগুলো নিয়ে এসে, নার্সকে বললে সেগুলো রোগীর শরীরে পুশ করা
* রোগী একটু সুস্থ হলে, রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা
* অপারেশন লাগলে রক্ত ম্যানেজ করা
এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা দৌড়াদৌড়ি করা লাগে।
চিকিৎসক হিসেবে তাই সবসময় রোগী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভাল ব্যবহার করার চেষ্টা করি
মনযোগ দিয়ে শুনি তাদের সমস্যাগুলো
এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার চেষ্টা করি।
# # #
গ্রামীণফোনে টেলিমেডিসিনে ১.৫ বছর চাকুরী করেছি।এক ট্রেনিং এ সেসময় ৩টি জিনিস শিখেছিলাম।যেগুলো বলে আজকের লেখা শেষ করবো!
১। গবেষণা বলছে, "একজন রোগীকে যদি আপনি না থামিয়ে তার সমস্যার কথা শোনেন, সে সর্বোচ্চ ২ মিনিট বলবে!' আমাদের অনেকের সেই ২মিনিট ধৈর্য্য থাকে না😞
২। গবেষণা আরও বলছে, "অনেক সময় চিকিৎসক ৯ সেকেন্ডের মাথায় রোগীকে থামিয়ে দিয়ে লিড কোয়েশ্চেন করা শুরু করেন, এতে রোগী তার যে সমস্যার কথাগুলো ডাক্তারকে বলবে বলে ভেবে রেখেছিলো সেগুলো ঠিকমতো বলতে পারেনা"
৩। ''ডাক্তার রোগীকে চয়েজ করেনা, বরং রোগীই ডাক্তারকে চয়েজ করে দেখাতে যায়''
👉Follow our official page Platform of Medical & Dental Society
📷 নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটার || ০৯/০৩/২৬
~ Sabbir Ahamed