20/08/2026
“ঈর্ষা এক নীল আগুন”—
আগুনের নীল শিখা সাধারণত শান্ত, স্থির ও কম দৃশ্যমান হয়, অথচ তার তাপ অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। ঈর্ষার প্রকৃতিও অনেকটা এমন।
রাগের আগুন বাইরে দেখা যায়—মানুষ চিৎকার করে, প্রতিবাদ করে, ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিন্তু ঈর্ষা অনেক সময় নীরবে জ্বলে। মুখে হাসি থাকে, সম্পর্কও থাকে, অথচ মনের গভীরে অন্যের সাফল্য সহ্য না হওয়ার যন্ত্রণা কাজ করে।
দু’টি উদাহরণ দিচ্ছি—
১। ধরা যাক, আমার একজন বন্ধু সফল হয়েছে। তার সাফল্য দেখে আমি যদি ভাবি—“আমিও চেষ্টা করে এমন কিছু অর্জন করব।” তাহলে সেটি ঈর্ষা নয় বরং অনুপ্রেরণা বা সুস্থ প্রতিযোগিতা।
কিন্তু যদি মনে হয়—“সে কেন সফলতা পেল?
ও না পেলেই ভালো হতো। ও নিশ্চয়ই দুই নম্বর পথে পেয়েছে। কিংবা বাবার জোরে পেয়েছে।”
সে যে নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের বলে কিছু অর্জন করতে পারে এটা মাথাই আসে না।
এই সকল ভাবনা থেকেই ঈর্ষার জন্ম হয়।
২। একটি স্কুলের একজন পুরোনো-দুর্বল শিক্ষার্থী হঠাৎ ভালো রেজাল্ট করে ফেললো।
অন্য অভিভাবকরা বলতে শুরু করলো—-
“ওরতো ভালো করার কথা না। তার প্যারেন্টস নিশ্চয়ই স্যারদের সাথে খাতির করে প্রশ্ন আউট করেছে।
ও নিশ্চয়ই স্কুলের টিচারের কাছে প্রাইভেট পরে।”
ভাবনাটা যদি এমন হতো, “বাহ, ছেলেটা ভালো করলো, সে ও তার মা-বাবা নিশ্চয়ই অনেক প্ররিশ্রম করছে। আমার ছেলের যত্ন আমি বাড়িয়ে দেব। আমার ছেলেও ভালো রেজাল্ট করবে, ইনশাল্লাহ।”
এটা হতো চমৎকার প্রতিযোগিতা। তা না করে ঐ অভিভাবককে প্রশ্ন করে “আপনার বাবুকে আর কতো দিন এই স্কুলে রাখবেন? অনেক দিনতো হলো।”
এটাই ঈর্ষা।
ঈর্ষার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—
এটি প্রথমে যাকে ঈর্ষা করা হচ্ছে তাকে নয়, ঈর্ষাকারীকেই পোড়ায়। অন্যের অর্জন ঠিকই অক্ষত থাকে, কিন্তু ঈর্ষান্বিত মানুষের নিজের শান্তি নষ্ট হয়।
সে নিজের যা আছে তা উপভোগ করতে পারে না, কারণ তার চোখ থাকে সব সময় অন্যের দিকে।
আর এখানেই “নীল আগুন” রূপকটি গভীর হয়ে ওঠে।
আগুন বাইরে জ্বললে মানুষ পানি ঢালে,
কিন্তু মনের আগুন বাইরে দেখা যায় না বলে অনেক সময় নেভানোর চেষ্টাও করা হয় না।
ঈর্ষাকে জয় করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো--
"তুলনার দিক পরিবর্তন করা।"
অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের গতকালের সঙ্গে আজকের নিজেকে তুলনা করা।
অন্যের সাফল্যকে নিজের অপমান হিসেবে না দেখে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা আর অনুভব করা--
"মানুষের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।"
শেষ কথা—
ঈর্ষা এক নীল আগুন—
যে আগুন শত্রুর ঘর পোড়ানোর আগে
নিজের মনের ঘরটিই পুড়িয়ে দেয়।
আসলে অন্যের আলো নিভিয়ে নিজের পৃথিবী উজ্জ্বল হয় না। নিজের প্রদীপটাই জ্বালাতে হয়।