07/08/2023
এক্সাম
বাইরে ঘন কুয়াশা, চারদিকে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আমি হাত দিয়ে দুই চোখ ভালো করে ঘসলাম, নাহ কিছুই তো নেই। আরো কয়েক কদম এগিয়ে গেলাম, এবার চোখে পড়ল লাল ইটের একটা বিল্ডিং আর চিরচেনা গেট৷ সামনে যেতেই গার্ড মামাকে দেখলাম কম্বল গায়ে দিয়ে চেয়ার উপর পা তুলে বসে আছে।
লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ার আগেই চলে গেলাম, আমাকে দেখে জায়গা করে দিলো এক ভাই, বাকিরা ক্যান জানি আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। পরে বুঝলাম শীতের দিনে মাথা, কপালে ঘাম দেখা যাচ্ছে।
আসলে আজকে ফাইনাল এক্সাম, বাস মিস করায় অটো নিতে হইছে, টেনশনে এই অবস্থা, আর এই সাবজেক্ট টা আসলেই কঠিন, খালি ম্যাথ আর ম্যাথ।
রুমে গিয়ে দেখি খাতা দিয়ে দিছে, পোলাপান মাথা নিচ করে লেখতেছে। দেখেই মনে হয় প্রশ্ন সহজ হইছে। ঝটপট খাতা আর প্রশ্ন নিয়ে গিয়ে জায়গায় বসলাম। পিছনের জনের সেই পরিচিত ডায়ালগ শুনলাম, দোস্ত দেখাস কিন্তু, পাস করা লাগবে।
এক টানে রোল, কোর্স কোড টাইটেল লিখে প্রশ্ন দেখতে লাগলাম। ওমা, কোনো ম্যাথ নাই৷ খালি থিউরি।
কিন্তু কেমন যেনো আনকমন প্রশ্ন মনে হলো, কিন্তু নাহ, লিখা লাগবে, এক্সট্রা পেজ নিতে হবে।
৩ ঘন্টার এক্সাম ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে শেষ করলাম। খাতা জমা দিতে গিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্ট এর এক স্যার কে দেখলাম, আমাকে দেখে মুচকি হেসে খাতাটা নিলো। আর উল্টে পালটে দেখতে লাগল। আমি ব্যাগ নিয়ে বাইরে চলে আসলাম।
খুব রিলাক্স এ হাটতেছি, পরিচিত এক স্যারের দেখা হইল, স্যার এক্সাম কেমন হইছে জানতে চাইল। আমি বলে দিলাম, ফাটাই লিখছি, এ+ শিউর।
মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে দেখি সামনের চায়ের দোকানে আমার ক্লাসমেট পোলাপান চা খাচ্ছে। আমি অবাক, আমি দিলাম খাতা জমা ওরা আবার আমার আগে আসলো কেম্নে।
কিরে তোরা এক্সাম কেমন দিলি??
আমার প্রশ্ন শুনে সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে হা করে, জুয়েল বলতেছে এক্সাম তো কাল ব্যাটা, আজকে তো সবাই আসছি শিট ফটোকপি করতে।
আমি আরো অবাক, ধুর ব্যাটা মশকরা করিস, আমি ২.৫ ঘন্টা এক্সাম দিয়ে আসলাম।
জয় আমার কাছে প্রশ্ন চাইল, আমি বললাম ভূলে ফেলাই আসছি রুমে, দাড়া নিয়ে আসি।।
আমি গিয়ে দেখি এক্সাম রুম ফাকা, আমার সিট এর জায়গা টা এখনো গরম, মনে হয় ৫ মিনিট আগে কেউ বসে ছিলো। নিচে দেখলাম প্রশ্নটা উলটো দিকে পরে আছে। আমি উঠিয়ে দেখলাম পুরা প্রশ্ন ম্যাথ দিয়ে ভরা। মাথা চক্কর দিচ্ছে।
এক্সাম রুম এর লোকজন কই গেলো, ঘড়িতে দেখলাম এখনো এক্সাম শেষের ২০ মিনিট বাকী।
বিল্ডিং থেকে বের হয়ে দেখি সন্ধ্যা নামছে, কিন্তু আমি তো ১২.৪০ এ বের হওয়ার কথা, নাহ ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭ টা বাজে।
কোনো রকম ভাবে মেসে গেলাম, রুমমেট আমাকে দেখে অবাক, কাল রাত থেকে নাকি আমি রুমে নাই। ফোন অফ সবাই চিন্তা করছে আমাকে নিয়ে।
আমি কথা না বলে শুয়ে পড়লাম, ভাবতে লাগলাম। আমি তাহলে কই দিলাম এক্সাম। কোন সাবজেক্ট এর, কলম টার কালিও দেখি হাফ হয়ে গেছে। প্রশ্ন টাও মিলছে না। মাথা পুরাই হ্যাং।
রুমমেট কাগজে করে ঝালমুড়ি দিয়ে গেলো, খাইতে লাগলাম, কাগজ টা চেনা চেনা লাগছে। আমি অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম, আজকে আমি যে এক্সাম দিলাম তার অতিরিক্ত পেজ এটা। আমার তরতাজা হাতের লিখা এখনো স্পষ্ট। বানান ভুলটা স্পট দেখা যাচ্ছে।
আর কিছু ভাবতে পারলাম না, মাথা ঘুরতেছে। চোখ অফ করে শুয়ে ভাবতে লাগলাম, কি ঘটছে আমার সাথে।
আমার পিছনের বন্ধুর কন্ঠ এখনো কানে বাজছে, দোস্ত হেল্প করিস, পাস করা লাগবে। তার ফোনে ফোন দিলাম, ফোনে রিং হচ্ছে কিন্তু ধরছে না। আমার উত্তেজনা বাড়তে লাগল।
হঠাৎ ভার্সিটির গ্রুপে পোস্ট, আমার সেই বন্ধু রোড এক্সিডেন্ট এ কাল রাতে মারা গেছে। আজকে দুপুরে জানাযা শেষ এ দাফন হইছে। মাথা চক্কর দিয়ে উঠল।
বিস্তারিত আসবে সামনে, পার্ট বাই পার্ট। পুরাটা লিখে ফেলব ভাবছি।