15/12/2024
শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে সব মহলের মাতামাতি দেখছি মাত্রাতিরিক্ত। অনেকে বুজে না বুজে কয়েকদিন থেকে দেখছি পোস্ট করে যাচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহন করার পর দেশকে সংস্কার করার জন্য বিভিন্ন কমিশন গঠন করলেন। সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের দিলেন মেজিস্টিস পাওয়ার নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।কিন্তু শিক্ষা সংস্কার বিষয়ক কোনো কমিশন গঠন করা হলো না। জানতে চাইলেন না, কিভাবে চলছে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষকদের মনোবাসনাই বা কি। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমলারা নেয় বছরে ৮টি বোনাস, শিক্ষকেদর জন্য আদা-কাচকলা। শিক্ষকদের মাঝে তৈরি করে রেখেছেন চরম বৈষম্য। আবার বছরে যে দুটি সিকিয়ানা বোনাস দেন সেখানেও বৈষম্য করে রেখেছেন কর্মচারীদের সাথে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যোগা-খিচুড়ি করে রেখেছেন শিক্ষা ব্যবস্থায়। নতুন কারিকুলামের বদলতে শিক্ষার্থীদেরকে বানানো হয়েছে স্মার্টফোন আসক্ত, হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সেটা কি যে যন্ত্রণা সেটা বর্তমানে অভিভাবকরা বুঝতেছে। প্রাইমারী, মাধ্যমিক এমনকি কলেজ পর্যায়ে সব ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য। নাই কোনো গবেষনা মন গড়া ফতুয়ার মাধ্যমে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখানে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে উন্নত দেশের বেতন ব্যবস্থা কেন দিবেন না। চাইছেন ষোলো আনা আর দিবেন মাত্র চারআনা। স্বল্প বেতনে শিক্ষকরা সব সময় তাদের দিনগুলো কিভাবে কাটাবে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা কিভাবে হবে এই দুঃচিন্তায় থাকে। শিক্ষকদের যদি অর্থনৈতিক মুক্তি না দেন, তাহলে শিক্ষার মুক্তি কিভাবে আসা করেন। এখন আর কেউ নিজেকে সুশিক্ষত বা স্বশিক্ষিত করার জন্য পড়ালেখা করে না। সবাই চায় পড়াশুনা ও উন্নত প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়তে। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বর্তমান এমনকি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষকতা পেশায় আসবেনা। এ পেশা তার মর্যাদা হারাবে। আর কোনো শিক্ষার্থীর মুখে শোনা যাবে না যে সে শিক্ষক হবে, কারন সে জানে এখানে অর্থনৈতিক মুক্তি নেই। আমি আমার স্কুলের শিক্ষার্থীর কাছেও শুনিনি তারা শিক্ষক হতে চায় না। তার চিন্তা থাকবে ব্যবসা, পলিটিক্স, ডাক্তার, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত করা। সবাই ভালো থাকবেন।