20/09/2021
#আমাদের_কথোপকথনঃ
পর্ব-০১
চিন্ময়ীঃ লাবিব ICDP পাঠশালা যে দিবি সেটার শিক্ষাদান কাঠামো বা সিস্টেমটা কেমন হবে?
লাবিবঃ আমরা শুরুর দিকে ১ থেকে ১০ বা ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করবো। অর্থাৎ আমাদের পাঠশালায় একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই শিক্ষাগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য ১-৫ বছর পর্যন্ত আমরা শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশকে খুবই গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখবো, এই সময়টাতে আমরা মূলত ফোকাস দিবো শিশুর বয়স ভিত্তিক শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশগুলোতে।
আমাদের ICDP-র লাইব্রেরি, শারিরীক স্বাস্থ্য চিকিৎসাকেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা পেরেন্টিং ট্রেনিং সেন্টার এক্ষেত্রে মূলত প্রধান ভূমিকা পালন করবে। সার্বক্ষণিক আমাদের আওতাধীন শিশুদের উপর নজর রাখা, তাদের পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান ইত্যাদি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে আমাদের।
এসবের পাশাপাশি ১-৫ বছরের শিশুর শিক্ষণ পদ্ধতিতে আমরা মূলত মন্টেসরি শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করার চেষ্টা করবো।
শিশুর বয়স যখন ৬ বছর হবে আমাদের ট্রেডিশনাল শিক্ষা পদ্ধতিতে তাঁর ১ম শ্রেণীতে থাকার কথা। তারমানে ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে সাধারণত শিশুর স্কুল জীবন শুরু হয় এই বয়স থেকেই। সুতরাং ৬ বছরের পর থেকে শিক্ষা কাঠামোতে বেশ বড়সড় পরিবর্তন রাখতে হবে আমাদের। একদিক NCTB বা সরকার কর্তৃক প্রণীত পাঠ্যসূচির সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, অন্যদিকে মন্টেসরি শিক্ষা ব্যবস্থার মতো শিশুর শিক্ষার পরিবেশ বাস্তব অভিজ্ঞতা লব্ধ করে তোলাটাও আমাদের বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।
সে সাথে শিশুর সামাজিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক সুষ্ঠ বিকাশের জন্য প্রচুর সহশিক্ষা ও সমাজউন্নয়ণমূলক কার্যক্রম থাকবে আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিতে। আর শিশুর সুষ্ঠ বিনোদন ও ধর্মীয় শিক্ষা বা ভাবাবেগ নিশ্চিত করার ব্যাপারটিও খুবই গুরুত্বের আমাদের ডিল করতে হবে।
সোজা কথায় ১-১২ বছরের যেসব শিশু আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকবে তাঁদের সব রকমের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে বুঝে নিবো আমরা। শিশুর বাবা-মা, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক, ডাক্তার থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রয়াস থাকবে প্রতিটি শিশুর গড়ে ওঠার পেছনে।
আমি গৎবাঁধা স্কুলের বাইরে আমাদের পাঠশালাগুলোকে এক একটা বড় পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে শিশুর সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার জন্য বাবা-মা থেকে শুরু করে ICDP র প্রতিটা সদস্যের সমান অংশগ্রহণ থাকবে। আমাদের শিশুরা সব সময় অনুভব করবে তাঁর বেড়ে উঠার জন্য শুধু তাঁর বাবা-মা একা পরিশ্রম করছে না বরং তাঁর জন্য বিশাল একটা পরিবার পরিশ্রম করছে। বিশাল একটা পরিবারের সে একজন মূল্যবান আদরের সন্তান।