30/07/2024
মানবদেহ, মানবাধিকার ও বাংলাদেশ = স্বাধীনতা
মানবদেহের সবচেয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি সম্ভবত মস্তিষ্ক, তাই আমরা মানুষের অধিকার অর্থাৎ জুলুম ও অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়ে সুস্থ সমাজে নিজের স্বীকৃত সকল সুযোগ ও সুবিধাকে মানবাধিকার বলছি এবং তা এই মস্তিষ্কের মধ্যেই চিন্তা করি।
বাংলাদেশ এখন এই মানবাধিকার অর্থাৎ ব্যক্তির অধিকার নিয়ে চিন্তা করতেও ভয় হয়।
এরপরই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রবণ অঙ্গ অর্থাৎ যাকে কান বলা হয়। এই কানে এখন মানবাধিকার বিরোধী বিভিন্ন তথ্য যেমন- খুন, গুম, হত্যা, নির্যাতন এসব নিয়ে কোনকিছু উচ্চ সাউন্ডে শুনতেও ভয়।
[তখন, কর্ণাস্হি এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস পর্যায়ক্রমে খুলে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ]
এরপর আসি পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ক্যামেরা অর্থাৎ চোখ। চোখেকে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মনে করছি।
এই চোখে বাংলাদেশের পক্ষ ও বিপক্ষ এবং নিরপেক্ষ এসবের সবই দেখছি তবে তা দেখতেও ভয়।
এই চোখে গুলি দেখি, রক্ত দেখি,মৃত্যু দেখি।
তখন মনে হয় চোখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থাকি, সেটাও যদি কোন প্রশাসনিক চোখ কিংবা যারা বাংলাদেশের পক্ষ নিজেকে দাবি করে তাদের চোখ দেখে ফেলে তাতেও বিপত্তি সেটাতেও ভয়।
চতুর্থ অঙ্গটি আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশিই ভয়ের সেটি মুখ।
মাঝেমধ্যেই মস্তিষ্ক, কাণ, চোখ দিয়ে দেখে ফেললেই স্বয়ংক্রিয় ভাবেই মুখ দিয়ে আফসোস, অভিশাপ এরপরই অতিরিক্ত এবং সহ্য না হইলে প্রতিবাদ করে ফেলি,সেটাও যদি কেউ শুনে ফেলে তাতেও ভয়।
মুখ বন্ধ রাখতে স্বেচ্ছায় মস্তিষ্ক নির্দেশনা দিলো, কালো কাপড় বাঁধার...!
ইচ্ছে হলো সেটাও নাকি প্রতিবাদ এবং তা যদি পুনরায় কেউ,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি কিংবা প্রশাসন দেখে ফেলে আজীবন মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।
এটাও মস্তিষ্ক চিন্তা করতে আবারও ভয় পাচ্ছে, চোখে জ্বল গড়িয়ে পড়ছে, এবং কান গরম হয়ে যাচ্ছে এতেও ভয় হচ্ছে।
পঞ্চম অঙ্গটি হইলো হাত, কবিতা লিখি, গান লিখি, উপন্যাস লিখি, প্রবন্ধ লিখি মাঝেমধ্যে রম্য নাটক ও বিতর্ক লিখি।
এখানেও অনেক আকাঙ্খিত শব্দ কেঁটে দিতে হয়, খসড়া পাতায় থেকে যায় আমার আসল কবিতা, গান,উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্য নাটক, আপাতত যোক্তিক বিতর্ক লিখছি না প্রচুর ভয়ে আছি।
আসল লেখাগুলো থাকে খসড়া পাতায়, নকল সব লেখা এখন পত্রিকা অফিসে পাঠিয়ে দেই। তারাও গাঁ বাঁচিয়ে লিখি বলেই সেগুলো ছাপে।
শেষ এবং ষষ্ঠ অঙ্গটি হইলো পা এবং পাদুকা।
যদিও পাদুকা কোন মানবদেহের অঙ্গ নয়, তবুও সে মাঝেমধ্যেই প্রশাসনিক কেউ বাসায় আসলে হারিয়ে যায়,সেও ভয় পায়।
পাদুকা বিহীন আমি "পা" নিয়ে যখন দৌড়ানের চেষ্টায় পেছনে ফিরে দেখি ১,৪৭,৬১০ বর্গকিলোমিটারের সকল মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা বন্দুকের নলের গুলি কখনো আমার ভয়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দিচ্ছে...
যেভাবে ভয় কমলো আমার - প্রথম বুলেটটি মস্তিষ্ক দিয়ে ঢুকে চোখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, পরের বুলেটটি বুকের বাঁ পাশে ছেদ করেছে, তারপরের বুলেটির প্রয়োজন না হলে মৃত লাশের উপর তারা চালিয়েছে...
এরপরও থামেনি পত্রিকা কোন এক কলামিস্ট লিখেছে ৬ টি বুলেট পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ দেহে।
বুলেটের কি বাঁধাহীন কোন স্বাধীনতা আছে...? না কি সে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেবাদাস।
বুলেট কি ন্যায় - অন্যায় বোঝে না?
কি সব বোকার মতো চিন্তা করছি সে তো জড়বস্তু তার আবার স্বাধীনতা কি কিংবা ন্যায় - অন্যায় কি?
সেও তো পরাধীন, সেও চাকুরি করে আমার ট্যাক্সের টাকায় বেতন পায়...
~Alomgir H Araf