01/05/2026
বর্তমান টিনএজদের অবস্থা থেকে রাগের চাইতেও দুঃখ বেশি হয়। এখনো বাবা-মা সচেতন না হলে, কি হবে জানা নেই। মোবাইলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যাবহার, বাবা-মার সাথে সঠিক বন্ধুত্বের অভাব, পুরো ধ্বং*স করার মতো একটা অবস্থা তৈরি হচ্ছে। বাবা-মা রা প্যারেন্টিং করতে করতে প্রি-টিন বা টিনএজে এসে যে সন্তানের প্রতি প্যারেন্টিং বদলাতে হবে এটা ভুলে যান। একটু সচেতন হওয়া দরকার।
চলুন একটু বিস্তারিত আলোচনা করুন।
প্রথমে “Safe Space” তৈরি করুন (নিরাপদ জায়গা) টিনএজাররা তখনই কথা বলে যখন তারা বুঝে, “আমার কথা শুনবে, বিচার করবে না”। কথা বলার সময় interrupt করবেন না, সাথে সাথে উপদেশ না দিয়ে আগে শুনুন। ভুল বললেও সাথে সাথে correct না করে space দিন। বিশেষ করে এই ধরনের কথা বলা বন্ধ করবেন যেমন: “তুমি সবসময় ভুল”, “তোমার বয়সে আমি…অমুক, তমুক ”।এতে তারা shut down করে দেয়, আপনার কথা তখন ভেলুলেস।
Listening বেশি Lecture কম(শোনা বেশি, বলা কম) এই চর্চা করুন। অনেক parent-এর tendency হয়, problem শুনেই solution দেওয়া কিন্তু টিনএজার চায় " সবার আগে বাবা-মা আমাকে বুঝুক”। তাই যা করবেন “তোমার কেমন লাগছে?”, “তুমি কী ভাবছো?” বা ওর থেকে ওর অনুভুতি শোনা। “তুমি হয়তো খুব pressure ফিল করছো, তাই না?”। এই একটা প্রশ্নে ও আপনার কাছে হালকা হবার সুযোগ পাবে, আস্তে আস্তে নিজের মনের কথা বলতে পারবে।
Daily Micro-Connection তৈরি করুন খোলামেলা কথা একদিনে হয় না তাই relationship build করতে হয়।ছোট ছোট habit যেমন: একসাথে খাবার খাওয়া, হাঁটতে যাওয়া, বাচ্চার পছন্দের কোনো জায়গায় একসাথে একটু ঘুরতে যাওয়া, মাঝে মাঝে ওর পছন্দের নায়কের একটা মুভি একসাথে দেখতে যাওয়া। দিনে ১০ মিনিট “no phone time”। নিয়মিত ছোট connection একসময় বড় trust তৈরি করে।
“Open Door Policy” রাখুন শিশুকে বোঝান “তুমি যেকোনো বিষয়ে আমার কাছে আসতে পারো। এটা কেবল মুখে মুখে বললেই হবেনা। বাস্তবে করতে হবে যেমন: sensitive topic (relationship, mistake, fear) নিয়ে calm( শান্ত) থাকা, panic বা overreaction না করা। না হলে তারা বাইরে support খুঁজবে। আপনাকে আর বলবেনা তার বন্ধুই হবে সেই ভরসার জায়গা, আর বন্ধু চর আপনার সন্তান একি বয়সী, দুজনার ব্রেইনের অবস্থা খারাপ সিদ্ধান্ত যা নেবে ভুল নেবে। তাই এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Judgment-free Communication তৈরি করুন টিনএজাররা সবচেয়ে ভয় পায় judge হওয়া নিয়ে। কথা বলার ভাষা পরিবর্তন করুন: “তুমি ভুল করেছো” না বলে বলুন “এই জায়গাটা আরেকটু ভালোভাবে করা যেত, কী বলো?” tone বদলালে communication বদলে যায়, তখন নিরাপদ জায়গা পায়, যেখানে সে মন খুলে কথা বলতে পারবে।
Control না করে, Guidance দিন। এই বয়সে autonomy খুব গুরুত্বপূর্ণ। “এটা করতেই হবে” এভাবে না বলে, বলুন “তোমার কী মনে হয়, কোনটা ভালো option?”, এতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যে তার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং এতে তারা decision-making শিখে।
Emotion Coaching শেখান এটা এখন খুব বেশি দরকারি। টিনএজাররা intense emotion ফিল করে কিন্তু handle করতে পারে না। emotion identify করা (“আমি রাগান্বিত”),healthy release (লেখা, কথা বলা, হাঁটা) কিভাবে করবে। Emotion suppress না করে manage করা শিখবে।
Digital World বুঝুন (শুধু নিষেধ না)। আজকের টিনএজারের বড় একটা অংশ online। যা করতে হবে social media নিয়ে open discussion
risk explain করা। blindly ban না করে guideline দিন। তবে ছোট থেকেই মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ টা পুরো পরিবার জুড়ে রাখুন। ওর দরকারি কাজে ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে দিন, বা কিছুসময় বিনোদনের জন্য নিলেও ল্যাপটপে। অন্তত ইন্টার পাশ না করা পর্যন্ত নিজের স্মার্ট ফোন না। এতে জাত যাবেনা। তার বন্ধু বান্ধবদের বলবে আমার নিজের ল্যাপটপ আছে, এতে মানসম্মানো বজায় থাকবে বন্ধু মহলে, আর ভালো মন্দ খোলামেলা আলোচনা করলে সুফল বেশি পাবেন। আর ছোট থেকে মোবাইল ব্যাবহারে সচেতন না হলে, বড় হলে কোনোভাবেই পারবেন না। তাই ছোট বয়সেই সচেতন হন।নাশুধু rule না, relationship গড়ে তুলুন।না বুঝলে gap তৈরি হয়, আর সেই gap-টাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
Warning Signs খেয়াল করুন
যদি দেখেন, হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, mood swing অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা একা থাকতে চাওয়া (isolation), আগের পছন্দের কাজগুলোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা এসব লক্ষন দেখলে তখন বিষয়টাকে হালকা ভাবে নেবেন না।
calmly ও gently কথা বলুন, তাকে বোঝান“আমি তোমার পাশে আছি”। প্রয়োজন হলে দেরি না করে professional help নিন। কারণ early support অনেক বড় সমস্যাও সহজে সামাল দিতে সাহায্য করে।
“Unconditional Acceptance” দেখান
সবচেয়ে powerful message “তুমি ভুল করতে পারো, কিন্তু তুমি আমার কাছে নিরাপদ” এটা বলার চেয়ে দেখানো বেশি জরুরি। তবে আবার এটা ভাববেন না বাচ্চা যা খুশি তাই করে আসবে, Unconditional acceptance মানে কোনো সীমা না থাকা না। clear boundary থাকবে, respect ও দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে ছোট থেকেই। যে সন্তানের বাবা-মার সাথে এমন খোলামেলা সম্পর্ক থাকে, তাদের মাথায় থাকে বাবা-মার সন্মান আর মনে থাকে অসীম ভালোবাসা।
আপনারা দ্বায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়গুলো খেয়াল করলে, বাচ্চা আপনাকে রেখে অন্য কোথাও বন্ধু খুজতে যাবেনা বা একদম যাতা মার্কা হবেনা। দয়া করে প্রি-টিন ও টিনএজ বাচ্চাদের প্যারেন্টিং করার কৌশল একটু বদলান। বাবা-মা হিসেবে সচেতন হলে জেনারেশন টা ভালো হবে। অনুরোধ একটু সচেতন হবেন।
ধন্যবাদ 🙏
বিদ্র: ছবিতে ShebikAmit আপুর পরিবারের টিনএজ সন্তান। আপুর ভাগনে।
লেখা: ShebikAmit আপু।