Ilfaan

Ilfaan

Share

আল্লাহর নগণ্য এক গোলাম

26/02/2026

আপনি কি দিনের পর দিন আল্লাহর কাছে কেঁদে যাচ্ছেন, কিন্তু মনে হচ্ছে আপনার দোয়া আরশের ওপারে পৌঁছাচ্ছে না? আপনি কি হতাশ হয়ে ভাবছেন— "আল্লাহ কি তবে আমার কথা শুনছেন না?"

থামুন! দোয়া কবুল না হওয়ার পেছনে হয়তো আপনারই কিছু অজান্তে করা ভুল দায়ী। এই ৩টি কারণ মিলিয়ে দেখুন, হয়তো আপনার উত্তর এখানেই লুকিয়ে আছে।

হারাম রিজিক (সবচেয়ে বড় বাধা)
রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির কথা বললেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকায় ক্লান্ত, ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলছে— "ইয়া রব! ইয়া রব!" কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম। নবীজি (সা.) বললেন— "তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" (সহিহ মুসলিম)

আপনি যদি সুদের সাথে যুক্ত থাকেন, ওজনে কম দেন বা কারো হক নষ্ট করেন, তবে সেই হাত তুলে দোয়া করা কেবল পণ্ডশ্রম হতে পারে। আগে নিজের উপার্জনকে পবিত্র করুন।

নবীজি (সা.) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে এবং বলে— আমি এত দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল তো হলো না!" (বুখারী ও মুসলিম)

আমরা দোয়া করেই ফল চাই। কিন্তু আল্লাহ জানেন কখন দিলে আপনার জন্য সেরা হবে। দোয়া কবুল না হওয়া মানেই রিজেক্ট হওয়া নয়, বরং আল্লাহ হয়তো আরও বড় কিছু আপনার জন্য জমা রাখছেন।

দোয়ায় মনোযোগ ও দৃঢ়তার অভাব
অনেকে দোয়া করে এমনভাবে যেন সে পরীক্ষা করছে আল্লাহ দিতে পারেন কি না। রাসূল (সা.) বলেছেন: "তোমরা যখন দোয়া করবে, তখন কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে করবে। জেনে রেখো, আল্লাহ কোনো উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।" (তিরমিজি)

আপনি যখন আল্লাহর কাছে চান, তখন এমনভাবে চান যেন আপনি জানেন তিনি ছাড়া আর কেউ দেওয়ার নেই। ভিখারির মতো আকুতি নিয়ে চান, অভ্যাসবশত দোয়া করবেন না।

হয়তো আপনি যা চাচ্ছেন তা আপনার জন্য ক্ষতিকর, তাই আল্লাহ দয়া করে তা দিচ্ছেন না। অথবা, এই দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ আপনার ওপর থেকে কোনো বড় বিপদ সরিয়ে দিয়েছেন। অথবা, আল্লাহ এই দোয়াটি কিয়ামতের দিনের জন্য জমা রেখেছেন— যা দেখে আপনি সেদিন বলবেন, "হায়! আমার কোনো দোয়াই যদি দুনিয়াতে কবুল না হতো, তবে আজ কতই না ভালো হতো!"

হতাশ হবেন না। চোখের পানি মুছুন এবং আবার সিজদায় গিয়ে বলুন— "ইয়া রব, আমি আপনারই মুখাপেক্ষী।"

আপনার জীবনের এমন কোনো ঘটনা আছে কি, যখন অনেক পরে বুঝেছেন যে সেই দোয়াটি তখন কবুল না হওয়াটাই আপনার জন্য ভালো ছিল? কমেন্টে আমাদের জানান, আপনার গল্প অন্য কাউকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

#দোয়া #ইসলামিক_শিক্ষা #হতাশা_মুক্তি

25/02/2026

ইসলামী বর্ণনা ও বিভিন্ন হাদিস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিচার দিবসের হিসাব বা বিচারের শুরুটা হবে কয়েকটি ভিন্ন আঙ্গিকে:

উম্মত হিসেবে প্রথম বিচার:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মত অর্থাৎ আমরা (মুসলিমরা) হাশরের ময়দানে সবার শেষে আসলেও, বিচার বা হিসাবের জন্য সর্বপ্রথম আমাদের ডাকা হবে।

হাদিস: রাসূল (সা.) বলেছেন, "আমরা সবার শেষে এসেছি, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরাই হব অগ্রগামী, যাদের বিচার সবার আগে করা হবে।" (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

মানুষের হকের (বিবাদের) ক্ষেত্রে প্রথম বিচার:
মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যে বিবাদ বা ঝগড়া হয়েছিল, তার মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার হবে 'রক্তপাত' বা খুনের।

হাদিস: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে ফয়সালা করা হবে, তা হলো রক্তপাত (খুন) সংক্রান্ত।" (সহিহ বুখারী: ৬৩৫০, মুসলিম: ১৬৭৮)

যে তিন ব্যক্তিকে দিয়ে জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে:
হাদিসে এসেছে, সাধারণ মানুষের হিসাবের আগে তিন শ্রেণির মানুষের হিসাব নেওয়া হবে এবং তাদের দিয়েই জাহান্নামের আগুন জ্বালানো হবে:

মিথ্যাবাদী আলেম: যে লোক দেখানোর জন্য জ্ঞান অর্জন করেছিল।

প্রদর্শনকারী দানবীর: যে মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য দান করেছিল।

লোক দেখানো শহীদ: যে বীরত্বের খেতাব পাওয়ার জন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
(সহিহ মুসলিম: ১৯০৫)

20/02/2026

রমজান মাস আমাদের দুয়ারে। রোজা রাখা শুধু ক্ষুধার্ত থাকা নয়, বরং এটি দেহ ও মনের এক গভীর পরিশোধন প্রক্রিয়া। আল্লাহ কেন আমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন? এর উত্তর যেমন রয়েছে পবিত্র কুরআনে, তেমনি আধুনিক বিজ্ঞানও আজ অবাক হয়ে রোজার উপকারিতা স্বীকার করছে।

পবিত্র কুরআনের ঘোষণা:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

"হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)
রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মিক উন্নয়ন এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুসংবাদ:
হাদীসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন:

"রোজা কেবল আমারই জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।" (সহিহ বুখারী)
অন্য এক হাদীসে এসেছে, "রোজা হলো (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার) ঢালস্বরূপ।" (সহিহ মুসলিম)

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজার বিস্ময়কর উপকারিতা:
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান 'অটোফ্যাজি' (Autophagy) নামক এক প্রক্রিয়ার কথা বলে, যার জন্য ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি নোবেল পুরস্কার পান।

অটোফ্যাজি (কোষের পরিচ্ছন্নতা): দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো মৃত বা অসুস্থ কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যানসার ও আলঝেইমারের মতো রোগ থেকে রক্ষা করে।

হজমতন্ত্রের বিশ্রাম: সারাবছর বিরতিহীন কাজ করার পর আমাদের পাকস্থলী ও লিভার রোজার মাধ্যমে বিশ্রাম পায়, যা শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রোজা রাখলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং চর্বি বার্ন হয়, যা ওজন কমাতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা: গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে মস্তিষ্কে 'BDNF' প্রোটিন বৃদ্ধি পায়, যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে।

বাস্তব ও সামাজিক শিক্ষা:
রোজা আমাদের শেখায় ক্ষুধার জ্বালা কী। একজন সম্পদশালী ব্যক্তি যখন সারা দিন না খেয়ে থাকেন, তখন তিনি অনাহারী মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন। এটি সমাজে সহানুভূতি ও দানশীলতা বৃদ্ধি করে।

রোজা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি বাৎসরিক 'সার্ভিসিং'। যা আমাদের আত্মাকে পবিত্র করে আর দেহকে করে রোগমুক্ত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে প্রতিটি রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

#রমজান #রোজার_উপকারিতা

19/02/2026

আমরা অনেকেই মনে করি ধৈর্য মানে কেবল মুখ বুজে সহ্য করা। কিন্তু আসলে ধৈর্য হলো একটি শক্তিশালী সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ৯০ বারেরও বেশি ধৈর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেন ধৈর্যশীল হওয়া আমাদের জন্য জরুরি? চলুন জানি—

পবিত্র কুরআনের আলোয় ধৈর্য:
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

"হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)
চিন্তা করে দেখুন, মহাবিশ্বের স্রষ্টা স্বয়ং ঘোষণা করছেন যে তিনি আপনার পাশে আছেন, যদি আপনি ধৈর্য ধরতে পারেন। এর চেয়ে বড় সান্ত্বনা আর কী হতে পারে?

সুন্নাহ বা হাদীসের দৃষ্টিতে ধৈর্য:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"ধৈর্য হলো একটি জ্যোতি (আলো)।" (সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ, বিপদের অন্ধকারে যখন কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন ধৈর্য মানুষের মনে সঠিক সিদ্ধান্তের আলো দেখায়। এছাড়া রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে ধৈর্য দান করেছেন, তাকে সবচেয়ে বড় কল্যাণ দান করেছেন।

বিজ্ঞানের চোখে ধৈর্যের উপকারিতা: আধুনিক মনোবিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের মধ্যে ৩টি বিশেষ পরিবর্তন ঘটে:

মানসিক প্রশান্তি: ধৈর্য ধরলে আমাদের মস্তিষ্কে 'কর্টিসল' (মানসচাপ সৃষ্টিকারী হরমোন) কম নিঃসরণ হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

সঠিক সিদ্ধান্ত: বিজ্ঞানের মতে, যারা রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে, তাদের মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex (যা যুক্তি দিয়ে কাজ করে) সচল থাকে। ফলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত কম নেয়।

সুখী জীবন: গবেষণায় দেখা গেছে, ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের সামাজিক সম্পর্ক অনেক মজবুত হয় এবং তারা অন্যদের তুলনায় বেশি বিষণ্নতামুক্ত থাকে।

ধৈর্যের বাস্তব প্রতিদান: একটি কথা মনে রাখবেন— "আল্লাহর ঘড়ি কখনও ভুল সময় দেয় না।" তিনি আপনার জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা সঠিক সময়েই আসবে। মাঝখানের এই সময়টুকু বিরক্তি নিয়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করে কাটানোর নামই হলো 'সবর-এ-জামীল' বা সুন্দর ধৈর্য।

বিপদ দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। পাহাড় যেমন ঝড় সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকে, আপনিও তেমন আপনার বিশ্বাসের ওপর অটল থাকুন। মনে রাখবেন, অন্ধকারের পরেই আলোর জন্ম হয়।

আপনি কি বর্তমান জীবনে কোনো কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন? তবে নিজেকে মনে করিয়ে দিন— "আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"

#ধৈর্য #ইসলামিক_শিক্ষা

17/02/2026

জীবনের চলার পথে আমরা কত শত ভুল করি। কিন্তু আমাদের দয়াময় রব আমাদের জন্য রেখেছেন এক বিশেষ সুযোগ। ওমরাহ কেবল একটি সফর নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক পুনর্জন্ম। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন এবং নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘর জিয়ারত করার তৌফিক দিন। (আমীন)

#ওমরাহ #তওবা #ইসলামিক_ভিডিও

16/02/2026

"আমরা অনেকেই আফসোস করি কেন আমাদের অনেক সম্পদ নেই, কেন আল্লাহ সবাইকে সমানভাবে ধনী বানান না। কিন্তু আমরা কি জানি, অনেক সময় আমাদের না পাওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত?

হযরত মুসা (আঃ)-এর সময়ের এক দরিদ্র ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে তার করুণ পরিণতির এই ঘটনাটি আমাদের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আল্লামা শেখ সাদী (রহ.)-এর চমৎকার কিছু উপমা এবং পবিত্র কুরআনের আয়াতের আলোকে সাজানো আজকের এই ভিডিওটি আপনার ঈমান ও ধৈর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।

ভিডিওটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।"

#ইসলামিকগল্প #তাকওয়া

10/06/2024

যে আমাদের রাসুলের চরিত্র নিয়ে কথা বলে তাকে আমারা মাথার তাজ বানিয়ে গুরছি বাহ

17/06/2023

Alhamdulillah🤲🌺

22/02/2023
29/02/2020

এমন যদি হতো ? 🖤🖤

29/02/2020

🤬

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka