ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সংবর্ধনায় তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য॥
Feni Bulbul
Learning
আলহামদুলিল্লাহ তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরছেন।
প্রথমতঃ আপনার আশেপাশে থাকা যে মানুষগুলো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেছিলেন তারেক রহমান আসবেন না, আসতে পারবেন না এবং তারেক রহমান বৃটিশ নাগরিক, এখন সেই মানুষগুলো সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই ভাবতে হবে। এরা মিথ্যাবাদী গুজববাজ এটা প্রমাণিত।
দ্বিতীয়তঃ এই মিথ্যুক গুজববাজদের নেক্সট ন্যারেটিভ সম্পর্কে সচেতন এবং সাবধান থাকতে হবে। মনে রাখবেন মিথ্যা এবং গুজব কোন ধর্মই অনুমোদন করেনা। সুতরাং কোন মিথ্যুকই প্রকৃত অর্থে ধার্মিক নয়, সে যে ধর্মেরই হোক॥
Sarifuddin Mahmud Bulbul
টাইম লাইনে থাক
25/12/2025
তারেক রহমান বীরের বেশে
আসছে ফিরে বাংলাদেশে 🇧🇩
22/12/2025
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
15/12/2025
মুসলিম স্বার্থ রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যারা ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। প্রথমত, তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশি মুসলিম জাতীয়তাবাদের আদর্শ লালন করে দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থেকে অন্য অনেক ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতার তুলনায় বাস্তবে বেশি সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। ধর্মীয় রাজনীতিকরা অনেক পরিকল্পনা করলেও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেসব বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ত, গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে ওঠার শুরু থেকেই তিনি আলেমসমাজকে কাছে টেনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ফলে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাঁর নীতিনির্ধারণে সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও পূর্ণ মেয়াদে দুই দফায় দেশ পরিচালনা করেন। প্রথমবার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল।
উভয় মেয়াদেই ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার, আলেম সমাজের মূল্যায়ন, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন, ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার নানা নীতি গ্রহণ করা হয়। আজকের আলোচনায় সমসাময়িক সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে প্রমাণসহ সংরক্ষিত কিছু নীতি ও উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হলো।
১. সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রাখা
১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অপরিবর্তিত থাকে। বরং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার বারবার সংসদে ও সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
২০০৫ সালের সংসদীয় কার্যবিবরণীতেও এ অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
২. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ও ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণ
১৯৯২-৯৫ মেয়াদে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ অনুষদ বিস্তারে সরকার কয়েকটি নতুন বিভাগ অনুমোদন দেয়। ১৯৯৩ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেটেও অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
৩. মসজিদ-মাদরাসা সংস্কার ও ফাজিল–কামিল সনদের সমমান প্রদান
২০০১-২০০৬ মেয়াদে ফাজিল সনদকে ডিগ্রি ও কামিল সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মূলধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
এ সময় মাদরাসা উন্নয়নেও বাজেট বৃদ্ধি করা হয়।
৪. কওমি সনদের প্রথম স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ
১৯৯২ সাল থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবি ওঠে। ২০০৫ সালে পল্টনে বিশাল সম্মেলন ও পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর বেগম খালেদা জিয়া উলামাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় গেজেটও প্রকাশ করে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থাকলেও এটাই ছিল কওমি সনদের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
৫. ইসলামী ব্যাংকিং ও শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তার
২০০১-২০০৬ মেয়াদে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও শাখা সম্প্রসারণ পায়। ইসলামী ব্যাংকিং মধ্যবিত্তের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করে এবং এই সময় দ্রুত দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়।
৬. জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
২০০৫-২০০৬ সালে জাতীয় ঈদগাহ উন্নয়ন, বায়তুল মোকাররম সংস্কার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইমাম–মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পায়।
৭. আল্লাহর ওলিদের মাজার উন্নয়ন
১৯৯৩ ও ২০০৫ সালে বিভিন্ন মাজারের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।
৮. মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার
সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইউএই, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে শ্রমবাজার, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। OIC-এ বাংলাদেশের উপস্থিতিও আরো শক্তিশালী হয়।
৯. ইসলামী ধারার অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে অবস্থান
১৯৯২-৯৪ সালে বিভিন্ন ইসলামী ধারার ওপর অভিযোগ উঠলে খালেদা জিয়া সংসদে তদন্তের আশ্বাস দেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।
১০. হজ ব্যবস্থাপনা ও ভিসা সমস্যা সমাধান
২০০৩-২০০৬ সালে হজযাত্রী পরিবহনে বিআইএ-কে শক্তিশালী করা হয় এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভিসাপ্রাপ্তি সহজ হয়।
১১. কওমি আলেমদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ স্থাপন
প্রথমবারের মতো কওমি আলেমদের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়। তাঁদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানো হয় এবং ওয়াকফ সম্পত্তি, মাদরাসার জমি ও কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা অনুমোদন করা হয়।
১২. রমজানে বাজার তদারকি ও জাকাত ফান্ড কার্যক্রম
দুই মেয়াদেই রমজানে মূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
১৩. নবীজিকে নিয়ে অবমাননাকর প্রকাশনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ
২০০৫ সালে ইউরোপে নবীজি সম্পর্কে বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর নিন্দা জানায়।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তিনটি দিক বিশেষভাবে স্পষ্ট ছিল :
এক. রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের মর্যাদা রক্ষা।
দুই. ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে নীতিগতভাবে শক্তিশালী করা।
তিন. মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থান জোরদার করা।
সরকারে না থাকলেও ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে অবস্থান জানিয়েছেন। যেমন— ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের বিতর্কে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দেন। একই বছর শাপলা চত্বরে তৌহিদি জনতার দাবিতে তাঁর সমর্থনও স্মরণীয়।
এমন অসংখ্য দৃষ্টান্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আল্লাহ এই মহীয়সী নারীকে তাঁর কর্ম অনুযায়ী উত্তম প্রতিদান দিন।
কালেরকণ্ঠ - ২ ডিসেম্বর ২০২৫
॥রাজনীতিতে আপনজনদের দ্বিশ্বাসঘাতকতার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত॥
আমি কোনও পক্ষকে খুশি করতে বা কোনও পক্ষকে দোষারোপ করতে লিখিনা। আমি লিখি কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার ধীশক্তির গাণিতিক সূত্রে যেটা আসে সেটা।
যাহোক, অনেককে দেখলাম, যারা একসময় ছাত্রলীগ করতো কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পরে অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে। অথবা নতুন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত হতে। ওকে ফাইন, এটা একটা আতরগ্রুল গাজী কিংবা কুরুলুস ওসমান তুর্কি সিরিজের কৌশল।
এদের অনেকেই আবার এমনও আছে যারা জুলাই বিপ্লব শুরু হওয়ার পরও কার্যত কোনো আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি। সেটাও কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হলো জুলাই বিপ্লবের আগে ছাত্রলীগ করা সবাইকে আমরা গণহারে আর ছাত্রলীগ বলতে পারছিনা। কারণ কিছু সংগঠনের নেতারা যেহেতু সেখানে ছদ্মবেশে ছিলো আরতুগ্রুল গাজী কিংবা ওসমান বে এর গুপ্তচর হিসেবে।
এখন আমার গানিতিক সূত্রে যেটা আসে সেটা হলো ৩৬শে জুলাই এর পর প্রকৃত ছাত্রলীগ পালিয়ে গেছে আর ছদ্মবেশী ছাত্রলীগ তাদের নিজ দলে চলে এসেছে।
প্রশ্ন হলো ওসমান হাদিকে গুলি করা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ কোনটা ? প্রকৃত ছাত্রলীগ নাকি ছদ্মবেশী ছাত্রলীগ? বিগত কয়েকমাস সে কোন দলের হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে? কিভাবে বা কার মাধ্যমে সে ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ হয়েছে? বিষয়গুলো ক্লিয়ার হওয়া দরকার।
তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হলো হাদির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ঘনিষ্ঠজন কে?
রাজনীতির ময়দান এমন জটিল ও বন্ধুর জায়গা যেখানে সততা, উদারতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সহিষ্ণুতার পাশাপাশি অসততা, কুটিলতা, উগ্রতা, দেশদ্রোহিতা ও অনৈতিকতা অবস্থান করে। রাজনীতির মঞ্চ মসৃণ ও স্নিগ্ধ নয়, এই পথ খুবই কঠিন, অসমতল ও বন্ধুর। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না।
এই মঞ্চে কে যে কখন কার শত্রুতে পরিণত হবে, তা যেমন বলা যায় না, তেমনিভাবে কে যে কখন কার বন্ধু হয়ে ওঠে, তাও নিশ্চিত হওয়া দুস্কর। পুরো বিষয়টি নির্ভর করে পারস্পারিক স্বার্থের উপর। সে স্বার্থ কখনো ব্যক্তিগত, কখনো দলীয়, আবার কখনো রাষ্ট্রীয় ব্যাপারও হয়। প্রয়োজনের সময় সেই মিত্রকে বাহুডোরে বেধে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে তাকে কাগজের মতো ছুড়ে ফেলা হয়। আপাতত ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস অধ্যয়ন করলে রাজনীতিতে আপন জনদের বিশ্বাসঘাতকতার ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাবো।
সেই ১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার-উরিষ্যার শাসনকর্তা নবাব সিরাজদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিলো ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে। সেই যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ও নবাবের ফুফা মীর জাফর আলী খানের উপর শতভাগ বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন সিরাজদ্দৌলা। কিন্তু তার বিশ্বাসঘাতায় মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভ পরাজিত করতে পেরেছিল পঞ্চাশ হাজার সৈন্যের নবাব বাহিনীকে।সিরাজদ্দৌলার মৃত্যুর পর বাংলার নবাবের আসনে অধিষ্ঠত হন মির জাফর আলী খান।
মহিশূরের সিংহ নামে ইতিহাসখ্যাত বীর ছিলেন মহীশূরের শাসনকর্তা টিপু সুলতান। ইংরেজদের সাথে তার তিন থেকে চার বার যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ১৭৯৯ সালে সংগঠিত শ্রীরঙ্গপট্টমের যুদ্ধে তার পরাজয় ঘটে এবং তিনি রনক্ষেত্রে নিহত হন। সেই যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন প্রধান সেনাপতি ও টিপু সুলতানের চাচাশ্বশুর মির সাদিক।
পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি সৈয়দ ইস্কান্দার আলী মির্যা ১৯৫৬ সালে থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। নিজের শাসন কার্যের সুবিধার্থে বিশ্বস্ত ভেবে দু`জন সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে মেজর জেনারেল আইয়ুব খানকে বসিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতির পদে। সেই বিশ্বস্ত আইয়ুব খানই ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর বন্দুকের নলের ভয় দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন এবং ইস্কান্দার মির্যাকে সপরিবারে দেশ থেকে বিতারিত করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এই সেনাঅভ্যুত্থানের পর পরই খন্দকার মোস্তাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান কি ঘুণাক্ষরেও ভেবে ছিলেন, নিজের পরে যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন, সেই ঘনিষ্ঠবন্ধু খন্দকার মোশতাক আহমেদ তার বিরুদ্ধে গভীর ষরযন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে?
বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান ও বিশিষ্ট বীরমুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্রগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হন। এই অভ্যুত্থানের নায়ক ছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর । হতবাক হওয়ার বিষয় মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একই সাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তারা উভয়ে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাদের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিলো। অথচ এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হাতেই তাকে নিহত হতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন, তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারেন?
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রিমতী ইন্দিরা গান্ধী তার বিশ্বস্ত দুই দেহরক্ষী সৎবন্ত সিংহ ও বিয়ন্ত সিংহ এর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন, অস্ত্র হাতে যারা তাকে সর্বক্ষন বিরামহীভাবে পাহারা দিচ্ছেন শত্রুর হাত থেকে রক্ষান জন্যে, তাদেরই অস্ত্রের গুলিতে তার প্রাণ যাবে?
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের অপারেশন সার্চ লাইটের ইন্ধনদাতা জুলফিকার আলী ভুট্টো রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের মন্ত্রীসভার অভিজ্ঞ ও চতুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের(১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর) রাষ্ট্রপতি ও দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নিজের শাসন কার্যের সুবিধার্থে ৪/৫ জন সিনিয়ারকে ডিঙ্গিয়ে জেনালের জিয়াউল হককে পাকিস্তানের সেনা প্রধানের পদে বসিয়েছিলেন। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! সেই জিয়াউল হকই ১৯৭৭ সালের ৬ জুলাই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরিয়ে নিজে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। অতঃপর জিয়াউল হকের পরোক্ষ নির্দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আহমেদ রাজা কাসুরিকে হত্যার অভিযোগে ১৯৭৮ সালের ১৮ মার্চ ভুট্টোকে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
কি বিচিত্র ও রহস্যময় উপমহাদেশের তথা পৃথিবীর রাজনীতির ইতিহাস! এখানে খাঁটি মানুষ ও বিশ্বস্ত বন্ধু পাওয়া খুবই দুস্কর ও কঠিন ব্যাপার। সেই প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনীতিতে আপনজনদের দ্বারা বিশ্বস্ততার বিপরীতে বিশ্বাসঘাতকতার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়ে আসছে।
যেটা না হলে আমরা জানতামই না!
হাদী যদি এই অবস্থায় না আসতেন, তাহলে কি আমরা কোনোদিন জানতাম তিনি কাদের সঙ্গে চলাফেরা করছিলেন? কাদের ভিড়িয়েছিলেন দলে? কাদের দ্বারা ভোট টানতে চেয়েছিলেন? জানতাম না। একদমই না। কেন জানতাম না এর দুটো কারণ আছে।
এক, এইসব বিষয় প্রচার হতো না। হাদী জনপ্রিয়, হাদী ভাইকে সবাই ভালোবাসে, ইত্যাদি আবেগী ইমেইজে ঢাকা থাকতো। তার চারপাশের লোকজনকে কেউ খুঁটিয়ে দেখতো না।
দুই, বিএনপি বেকুব। এটা কঠিন কথা, কিন্তু সত্য। বিএনপির তরুণরাও এইসব খবর রাখে না, রাখার সংস্কৃতিও নেই। কে কার সঙ্গে ঘোরে, কে কার নেটওয়ার্ক এই দরকারী ইনফরমেশন ওয়ারে বিএনপি প্রায় জিরো।
এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, জামাত কেন এসব জানার পরও চুপ ছিলো?
কারণ, জামাত শিবির এখন বিএনপিকে দমন করার জন্য করবেনা এমন কোনো কাজ নাই। তারা ভালো করেই জানতো হাদীর সঙ্গে কারা আছে। তারা জানতো এই লোকগুলো লীগের। কিন্তু বলেনি। জানতেও দেয়নি। কারণ বিএনপিকে চাপে রাখতে লীগের লোক দরকার হবে। লীগের গুন্ডাদের ইউজ করা যাবে ভয় দেখাতে, ন্যারেটিভ বানাতে, মাঠ গরম রাখতে, এবং ভোট পেতে।
এখানে একটা ইন্টারেস্টিং প্যাটার্ন দেখা যায়। কিছু ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় হাদীর অফিসে, ব্যক্তিগত জায়গায়, ওই লোকগুলোর মুখে কোনো মাস্ক নেই। কিন্তু হাদীর সঙ্গে পাবলিক স্পেসে গেলে, ক্যাম্পেইনে গেলে সবাই মাস্ক পরে।
এর মানে কী?
এর দুইটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা আছে। এক, হাদী নিজেই চাইতেন না লোকজন তাদের চিনে ফেলুক, তাই বাইরে গেলে মাস্ক বাধ্যতামূলক ছিলো। অথবা দুই, ওই লোকগুলো হাদী ও তার ঘনিষ্ঠদের নিরাপদ মনে করলেও, জনসমক্ষে নিজের চেহারা প্রকাশ করাকে নিরাপদ মনে করতো না। ভয়টা ছিল বাইরের লোকদের নিয়ে হাদী বা তার বলয়ের লোকদের নিয়ে না। কারণ তারাতো হাতেই আছে, চেনে।
এখন একটু স্মৃতিচারণ করুন। কিছুদিন আগে ফেসবুকে অসংখ্য জামাতি আইডি ঘোষণা দিয়েছিলো তারা 'এনিহাউ' ওসমান হাদীকে জিতিয়ে আনবে মীর্জা আব্বাসের বিপরীতে। ভালো কথা। কিন্তু এই 'এনিহাউ' শব্দটার মানে কি? এর মানে, যে কোনো পদ্ধতিতে। নীতি নৈতিকতা বাদ দিয়ে। এভরিথিং ইজ ফেয়ার।
এরপর দেখা গেলো প্রতিটি জামাতি আইডি থেকে হাদীর প্রশংসা। আবেগী লেখা। "বন্ধুকে ফোন দিলাম, টাকা পাঠাবে, চাচাকে ফোন দিলাম, কাঁদলো, দোয়া করতেছে”। এইসব আবেগী ন্যারেটিভে ফেসবুক ভরে গেলো। হাদীকে বানানো হলো ট্রাম্প কার্ড। একজন অতিমানব, ত্রুটিহীন, সহজ-সরল, সবার ভালোবাসার নেতা। পিতারা চাইতে শুরু করলো তাদের সন্তানেরা যেনো হাদীর মত হয়।
এখন প্রশ্ন, মীর্জা আব্বাসের মতো একজন হেভিওয়েট বিএনপি নেতাকে হারাতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কোনটা? উত্তরটা সবাই জানে। লীগকে ব্যবহার করা। প্রয়োজনে লীগ পুনর্বাসন। প্রয়োজনে লীগকে বন্ধু বানানো। প্রয়োজনে লীগের খুনী জেলখাটা গুন্ডা ছেলেদের দলে ঢোকানো। উদ্দেশ্য একটাই, মীর্জা আব্বাসকে হারানো। এটাই ছিল সেই এনিহাউ।
এই কারণেই “চান্দাব্বাস” শব্দে ফেসবুক সয়লাব করা হলো। মীর্জা আব্বাসকে উপস্থাপন করা হলো ভয়ংকর গডফাদার হিসেবে। এই ক্যারেক্টার এসাসিনেশনের কাজটা কারা করলো? দেখলেই বোঝা যায়। এটা ছিলো হাদীকে জিতিয়ে আনার প্রাইমারি স্টেপ।
এসবের মধ্যে হত্যাকারী একদিন অস্ত্র হাতে ডাকাতি টাকা লুট মামলায় জেলে যায়। পত্রিকার এক কোনায় আসে খবরটি। কিন্তু ক্রিমিনালের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখা হয়৷ কোথাও লেখা হয়না র্যাব যাকে ধরেছে সে সাবেক ছাত্রলীগ। একই মিডিয়া কিন্তু দুই প্রতিবেশীর কোন্দলে একটা মুরগী ধরে নিয়ে গেলেও বলে " যুবদল নেতা মুরগী চুরি করেছেন।"
আর জামাতীরা লীগের এসব চাঁদাবাজিকে প্রচার করেছে বিএনপির চাঁদাবাজি হিসেবে।
আর সেকেন্ড স্টেপ ছিলো লীগ ভিড়ানো। লীগের কুকুর পেলেও দলে নেওয়া। এবং এভাবেই তারা বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বিএনপিকে একহাত দেখে নিতে চেয়েছিলো। হাদীর পকেটে বান্ডিল গুঁজে দেয়া, হাদিয়ার নামে টাকা পাঠানো, এসবের উদ্দেশ্য হাদীকে ভালোবাসা দেখানো না। উদ্দেশ্য ছিলো এক এবং একমাত্র বিএনপিকে রুখে দেয়া।
তৃতীয় স্টেপ ঘটেছে হামলার ঠিক পরপর। সমন্বিতভাবে মীর্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে জামাতের সবচেয়ে বড় দুই পদধারী এবং তাদের আইডি থেকে সরাসরি স্ট্যাটাস দেয়া উনাকে ইঙ্গিত করে। যেটি ছিলো অভাবনীয়! তদন্ত ছাড়া, পুলিশ বা আইনশৃংখলা বাহিনীর বিবৃতি ছাড়া, তড়িঘড়ি করে মীর্জা আব্বাসের মত বর্ষীয়ান ও গুরুত্বপূর্ণ ঝানু নেতাকে দায়ী করে স্ট্যাটাস!
এখন কল্পনা করুন উল্টো দৃশ্যটা। ধরুন, বিএনপির কোনো তরুণ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে লীগের বিরুদ্ধে ভোকাল ছিলো। পরে দেখা গেলো, খুনীরা তার সঙ্গে চা খেয়েছে, আড্ডা দিয়েছে, ছবি-ভিডিও আছে।
কি হতো?
“আলহামদুলিল্লাহ” দিয়ে ফেসবুক ভেসে যেত। বলা হতো বিএনপি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মারা খাইছে। লীগ পুনর্বাসন করতে গিয়ে ফল পাইছে। উচিত কাজ হইছে। বলছিলাম না লীগ ফিরলে বিএনপির ঘাড়ে করেই ফিরবে?
কিন্তু হাদীর বেলায় উল্টোটা ঘটলো। ভয়ংকর লীগের সঙ্গে ওঠাবসা করলেও সেটার চিত্রায়ণ হলো "হাদী ভাই কত সহজ-সরল! জানতোই না কিছু! সব মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে!” হাদী লীগ ভিড়ালে সেটা উদারতা। আর বিএনপি নাকি লীগ পূনর্বাসন করে, দলে ভিড়ায়!
শেষ পর্যন্ত উদ্দেশ্য একটাই, বিএনপিকে জিততে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে মীর্জা আব্বাসের মতো হেভিওয়েট কাউকে। বিএনপির জন্য তিনি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রয়োজনে লীগের সঙ্গে মিলবো, লীগের সাহায্য নেবো মীর্জা আব্বাসকে ঠেকাতে। এইটাই প্ল্যান ছিলো না?
কিন্তু মানুষ প্ল্যান করে এক, আর হয় আরেক। সব একদম প্রকাশ হয়ে পড়লো! আল্লাহ কারে যে সেইভ করলেন এই ঘটনায়, কে যে ক্ষতিগ্রস্ত হলো, কার প্ল্যান ভন্ডুল হলো, সব আল্লাহ জানেন। কারণ মানুষের শয়তানি প্ল্যান খাইয়া দেওয়ার জন্য উপরে তিনি একজন আছেন। যিনি সব পরিকল্পনাবিদের চাইতে বড় পরিকল্পনাবিদ।
তিনি যা ঠিক করে রেখেছেন, তার সঙ্গে যুদ্ধ করে জেতার মতো যোদ্ধা এই দুনিয়াতে নাই। আখিরাতেও নাই। হাদির সুস্থতা কামনা করি। এবং আমরা সত্যিকার ঘটনা জানি না৷ মানুষের মন জানিনা। আমরা কেবল ধারণা করে সূত্র মিলিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Website
Address
Mirpur 10
Dhaka
1216