29/05/2026
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মন্ত্রীসাহেব অপমান করেছেন, কতো বড় সাহস! এটা নিয়ে আজকে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে একটা অপিনিয়ন দিতে চাই। যেহেতু আমিও সেই "গর্বিত ঢাবিয়ান" কমিউনিটির মেম্বার, আমার এই কথায় হয়তো ম্যাক্সিমাম মানুষ রাগ করবেন/আমার সাথে একমত হতে চাইবেন না।
পোস্টটা একরাশ রাগ, ক্ষোভ, দু:খ থেকেই লিখা। মন্ত্রীসাহেব যেটা বলেছেন, সেটা ভুল নাকি ঠিক, সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। কিন্তু তাঁর কথার রেসপন্সে যেভাবে সবাই ফুঁসে উঠেছে, এটা জায়গা মতো দেখাতে পারলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের আজ এই অবস্থা হতো না।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ২ বছর পার করেছি, মোটামোটি সব কোর্সের ক্লাস কিছু না কিছু হলেও করা হয়েছে। সাইন্স ফ্যাকাল্টির অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের ক্লাসের এক্সপেরিয়েন্স নেয়া হয়েছে। যেই ভার্সিটি নিয়ে এতো প্রাইড দেখাচ্ছেন, সেই ভার্সিটির ম্যাক্সিমাম শিক্ষকের ক্লাস, I repeat, ম্যাক্সিমাম শিক্ষকের ক্লাস c/d ক্যাটেগরি বললেও ভুল হবে। পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এসব ক্লাস/slide নিয়ে আসা হলে বেশিরভাগ সম্মানিত শিক্ষকই, অন্তত national level-এই, হাসির পাত্র হয়ে যেতে পারেন। International teaching metrics তো বাদই দিলাম।
পড়ানো তো দূরের কথা, podium-এর সামনে গুছিয়ে সুন্দর করে কথা বলার skill ও অনেকের নেই। Q1 journal-এ publication আছে, research profile ভালো-এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, এটা আমি মানি। কিন্তু আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার সম্মানিত faculty-দের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা, প্রতি সপ্তাহে ১৫–২০ ঘণ্টা ক্লাস করে আপনি আসলে কতটুকু knowledge অর্জন করেছেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা হলো, এখানে ম্যাক্সিমাম শিক্ষার্থীই জানে না সে কী পড়ছে, কেন পড়ছে। হাতে গোনা কয়েকটা ডিপার্টমেন্টের কিছু শিক্ষক ছাড়া বাকিরা মূলত slide-এর content আর previous year question গিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। High-profile faculty থাকলে হয়তো 4th year / Masters-এ project বা thesis ভালো হয়। সেই লেভেলে এখনো যাইনি, তাই সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। যারা ওই লেভেল পার করেছেন, তারা ভালো বলতে পারবেন।
এই তো গেল academic দিক। এর বাইরে একজন “সম্মানিত শিক্ষক”-এর যে basic sense থাকা দরকার, সেটাও কতটা আছে-সে বিষয়েও আমি কিছুটা সন্দিহান।
। ক্লাসরুম ও ক্লাসরুমের বাইরে শিক্ষার্থীদের যতোভাবে মেন্টাললি টর্চার করা সম্ভব, সবটাই উনারা করেন। আমার পরিচিত একজন শিক্ষক ক্লাসে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সবার সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার CG কত? জানতাম তোমার CG এমনই হবে। এই CG নিয়ে লাইফে কী করবে?”
ফার্স্ট ইয়ারে একটা শিক্ষার্থী অনেক আশা-স্বপ্ন নিয়ে পাবলিক ভার্সিটিতে পড়তে আসে। কিন্তু ভার্সিটির academic environment সেই স্বপ্নগুলো ৩–৪ মাসের মধ্যেই
পায়ের নিচে পিষে ফেলে। মেজরের প্রতি প্যাশন তৈরি হওয়া দূরে থাক, মেজরের প্রতি বিতৃষ্ণতা আর ভয় নিয়েই শুরু হয় প্রতিটা শিক্ষার্থীর একাডেমিক যাত্রা।
Faculty বা department-কে শিক্ষার্থীরা কতটা own করতে পারে সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। আমার কাছে অনেক সময় ভার্সিটিটা একটা conformist worker তৈরির system বলেই মনে হয়।
নিজের মেধা ও যোগ্যতায় এখানে আসার পরও অনেক সময় মনে হয়-আমাকে যেন দয়া করে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটি এই ভার্সিটিকে own করে-কীভাবে করে, কেন করে, এটা জানা নেই। কিন্তু own করে বলেই শিক্ষার্থীরা এই কমিউনিটির কাছে জিম্মি।
গবেষণা গবেষণা করে গলা ফাটিয়ে কি লাভ, যদি Basement এর এই অবস্থা হয়? একজন ভালো গবেষক হওয়ার জন্য যে support এবং grooming দরকার, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কতটা দিতে পারছে।
অনেকে বলতে পারেন-তবুও তো research হচ্ছে, ভালো paper বের হচ্ছে। 3rd world country র এটাই আসলে সমস্যা, আমরা ভাত না খেতে পেয়ে এখন পচা গলা ভাতকেই আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিচ্ছি।