Noorverse Arabic institute

Noorverse Arabic institute

Share

মানব জীবনে বিভিন্ন সমস্যার কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সমাধানের প্রয়াস চালাতে আমাদের এই পেজ
#NoorVerse Academy

Noorverse Arabic institute বাংলাদেশ
A প্রতিষ্ঠান পরিচিতি।
Noorverse Arabic institute হলো অনলাইন ভিত্তিক ইসলামি শিক্ষার সহজ ও স্মার্ট একটি প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা কার্যক্রমসমূহ
সবার জন্য কুরআন শিক্ষা এবং আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স।
অনলাইন কুরআন শিক্ষা প্রাইভেট প্রোগ্রাম।
ইসলামিক স্ট্যাডিস ও মৌলিক বিষয়ের বিশেষ পাঠদাान।
যোগাযোগ করুন
Hotline: +8801610712003
[email protected]
লক্ষ্য- কুরআন, আর

10/03/2026

রমজানের শেষ দশ রাতকে কাজে লাগানোর জন্য কিছু সহজ আমল।

প্রথম আমল:
প্রতি রাতে মাত্র ৫ টাকা করে সদকা করুন। যদি আপনার এই সদকা লাইলাতুল কদরের রাতে হয়ে যায়, তবে তা যেন হাজার মাস প্রতিদিন সদকা করার সমান সওয়াবের কারণ হবে।

দ্বিতীয় আমল:
প্রতি রাতে অন্তত দুই রাকাত কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) আদায় করুন। যদি এই নামাজ লাইলাতুল কদরের রাতে হয়ে যায়, তবে তা যেন হাজার মাস প্রতিদিন রাতের নামাজ পড়ার সমান সওয়াবের কারণ হবে।

তৃতীয় আমল:
প্রতি রাতে তিনবার সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করুন। যদি এই তিলাওয়াত লাইলাতুল কদরের রাতে হয়ে যায়, তবে তা যেন হাজার মাস প্রতিদিন সম্পূর্ণ কুরআন খতম করার সমান সওয়াবের কারণ হবে।

চতুর্থ আমল:
এই দুআটি বেশি বেশি পাঠ করা,
اللهم إنك عفو كريم تحب العفو فاعف عني
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতে বলেছেন।

আমি অনেক বেশি আমল না করতে পারলেও অন্তত এতটুকু করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমীন!






#ليلةالقدر

06/03/2026

📢প্রিয় প্রবাসী ভাই-বোন আপনাদের এবং আপনার সন্তানদের জন্য নূরভার্স এ্যারাবিক ইনস্টিটিউটের বিশেষ আয়োজন - “অনলাইন প্রাইভেট কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রাম - 2026”।

বিশ্বের যেকোন দেশে বসবাসরত, যেকোন শ্রেণী-পেশায় নিয়োজিত প্রবাসীদের মধ্যে যারা পবিত্র কুরআন মাজীদ শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে চান তাদের জন্য সুখবর!📣

Admission Going On! | সারা বছর ভর্তি চলমান।

★বাংলা অথবা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

🎓 শিখনফল:
কায়দা থেকে শুরু করে সহীহ্-শুদ্ধ ভাবে দেখে দেখে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারা।
আরো থাকবে- সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ, মাসনূন দু’য়া, ইসলামের মৌলিক জ্ঞাণ এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস শিক্ষালাভ করা।

*****
📚 কোর্স ফিচার্স:
✒️আরবি হরফ (বর্ণমালা) শিক্ষা ।
✒️মাখরাজ অনুযায়ী হরফের উচ্চারণ শিক্ষা।
✒️হরকতের পরিচয় ও উচ্চারণ পদ্ধতি।
✒️মুরাক্কাব বা যুক্তবর্ণ শিক্ষা
✒️ গুন্নাহ- নূন ও মীম সাকীন
✒️ মাদ্দের হরফ এবং সকল প্রকার মাদ্দ
✒️ সাকতা ও ওয়াক্ফ করার নিয়ম
✒️ প্রয়োজনীয় তাজবীদ শিক্ষা
✒️ শেষ কয়েকটি সূরা মুখস্ত করণ
✒️কুরআন দেখে দেখে পড়ার সহজ পদ্ধতি শিক্ষা ও অনুশীলন।
✒️সবশেষে থাকবে নাজেরা কোরআন খতম করা।

*****
📚 মাসআ’লা - মাসায়েল:
★ ঈমান ★ ইসলাম ★ সালাস ★ সিয়াম (রোযা)
★ ত্বহারাত - পবিত্রতা ★ যাকাত ★ হজ্জ্ব
★ পর্দা ★ পিতা-মাত ও অন্যের হক্ব ★ পরকাল
★ হাশর - মীযান ★ জান্নাত ★ জাহান্নাম

📚 অপসংস্কৃতি ও তার পরিণাম :

ইউরোপ - আমেরিকাসহ সারাবিশ্বে অমুসলিমরা যে সকল প্রচলিত অপসংস্কৃতির সাথে জড়িত এবং মুসলিমদের উপরে চাপিয়ে দি্চ্ছে যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। সে সমস্ত বিষয়ে সতর্কতা ও এর ভয়াবহ পরিনাম, সম্পর্কে শিশুদেরকে পাঠদান করা হবে।

📚 মাসনূন দু’য়া শিক্ষা:
নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসনূন দু’য়াসমূহ।
যেমন: ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত জরুরী দুয়াসমূহ।

📚 ইসলামের ইতিহাস:
ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান, নবী-রাসূলদের জীবনী, সাহাবায়ে কিরামের জবনী, ইসরা /মিরাজ রজনী, গুরুত্বপূর্ণ জিহাদের বিজয় ও রাসূল (সা:) মাক্কী-মাদানী জীবন ইত্যাদি।

*****

📑 ক্লাসের বিস্তারিত :

🔷 বাংলা/ ইংলিশ ভার্সনে পড়ানো হয়।
🔷 ১জন করে প্রাইভেট ভাবে পড়ানো হয়।
🔷 সপ্তাহে ৩-৪ দিন ক্লাস
🔷 আপনার সুবিধা মত সময়ে ক্লাস।
🔷 লেকচার শীট ও বই (PDF) প্রদান করা হবে।
💻ক্লাস মাধ্যম: গুগল মিট।

বিদ্র: শিশু/নারী/পুরুষ সকলে পড়তে পারবে | দক্ষ শিক্ষক/ শিক্ষিকা দ্বারা ক্লাস নেওয়া হয়।
_____________

✴️বিশেষ সুবিধাসমূহ:
-একা প্রাইভেটভাবে পড়ার সুযোগ।
-সহজ ভাষায় উপস্থাপনা।
-হোম ওয়ার্ক নেওয়া হবে
-নরীদের জন্য মহিলা শিক্ষিকা থাকবেন।
-বিদেশে বসে ক্লাস করার সুযোগ।
-অনলাইন ভিত্তিক পাঠদান।
-সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ।
- সরাসরি (লাইভ) ক্লাস হবে।

*****

💸 ভর্তি ফি: ৫০০ টাকা
💵মাসিক বেতন: ভর্তি লিংকে গিয়ে প্যাকেজ দেখুন!

আরো বিস্তারিত জানতে এবং ভর্তি হতে ভর্তির লিংকে ভিজিট করুন অথবা কল করুন।

ভর্তির ফর্ম লিংক https://forms.gle/45kXH16uWvfYa1NYA
যোগাযোগ
WhatsApp number: 01610712003

----

04/03/2026

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হল ইতিকাফ।

দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততাকে পাশে ঠেলে, একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, আল্লাহর ঘর মসজিদে অবস্থানের এই যে বিধান- নিঃসন্দেহে তা বান্দার প্রতি রাব্বুল আলামীনের অনেক বড় ইহসান। বান্দার উচিত এই মহান বিধানের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া এবং আবেগ ও মহব্বতের সাথে এই আমলের প্রতি উৎসাহী হওয়া।

দুনিয়ার জীবন ব্যস্ততাবহুল। জীবনের সকল অনুষঙ্গই এমন, যা মানুষের ধ্যান ও চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, স্বপ্ন, কর্ম, লক্ষ্য ইত্যাদি বহু বিষয় মানুষকে শতধা-বিক্ষিপ্ত করে রাখে। তাই সহজেই সুযোগ হয় না পরকালীন জীবন নিয়ে ভাবার; কিংবা একান্ত মনোযোগের সাথে ইবাদতে মগ্ন হওয়ার। ইতিকাফ সেই সুযোগকেই অবারিত করে। বান্দাকে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতে সাহায্য করে।

ইসলামে ইতিকাফের বিধান অনেক প্রাচীন। কুরআন মাজীদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

وَ عَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهٖمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ اَنْ طَهِّرَا بَیْتِیَ لِلطَّآىِٕفِیْنَ وَ الْعٰكِفِیْنَ وَ الرُّكَّعِ السُّجُوْدِ.

আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে সেইসকল লোকের জন্য পবিত্র কর, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু ও সিজদা করবে। -সূরা বাকারা (২) : ১২৫

এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইতিকাফের বিধান হযরত ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ.-এর যামানাতেও ছিল।

তাছাড়া এক হাদীসে এসেছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. জাহেলী যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ইতিকাফের মান্নত করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে নবীজী তাকে সেই মান্নত পুরা করার নির্দেশ দেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২৩

ইতিকাফের পরিচয় ও প্রকার

ইতিকাফ আরবী শব্দ। যার অর্থ হল, অবস্থান করা, অভিমুখী হওয়া, নিবেদিত হওয়া, নিরবচ্ছিন্ন হওয়া ইত্যাদি।

পরিভাষায় ইতিকাফ হল, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততাকে গুটিয়ে, এমন মসজিদে অবস্থান করা, যেখানে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়।

ইতিকাফ তিন প্রকার :

১. সুন্নত ইতিকাফ।

রমযানের শেষ দশকে একুশ তারিখের রাত [অর্থাৎ ২০ তারিখ সূর্যাস্তের আগ] থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত ইতিকাফ করা।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর এ দিনগুলোতে ইতিকাফ করতেন, তাই একে সুন্নত ইতিকাফ বলা হয়।

২. নফল ইতিকাফ।

রমযানের শেষ দশকে পূর্ণ দশ দিনের কম ইতিকাফ করা। অথবা বছরের অন্য যেকোনো সময় যতক্ষণ ইচ্ছা, ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা।

৩. ওয়াজিব ইতিকাফ।

মান্নতকৃত ইতিকাফ এবং সুন্নত ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে গেলে তার কাযা আদায় করা।

ইতিকাফের স্থান

সওয়াবের দিক থেকে ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদে হারাম। এরপর মসজিদে নববী। তারপর মসজিদে আকসা। এরপর যেকোনো জামে মসজিদ। তারপর যেকোনো পাঞ্জেগানা মসজিদ।

তবে নারীদের জন্য ইতিকাফের স্থান হল ঘরের নির্দিষ্ট কোনো স্থান। (দ্র. শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪৭০; মাবসূত, সারাখসী ৩/১১৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০-২৮১; রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৯)

ইতিকাফের ফযীলত ও ফায়েদা

ইতিকাফ শিআরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত একটি মাসনূন আমল। উপরন্তু রমযানের ফযীলত ও বরকত লাভ করার ক্ষেত্রে ইতিকাফের ভূমিকা অপরিসীম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদানী জীবনে কেবল একটি রমযানে (জিহাদের সফরে থাকার কারণে ) ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি সব রমযানে ইতিকাফ করেছেন। সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে ইতিকাফে শরীক হয়েছেন। হাদীস শরীফে এসেছে-

أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يعتكِفُ العشرَ الأواخِرَ من رمضانَ، فلم يعتكِفْ عاماً، فلما كان العامُ المُقْبِلُ اعتكفَ عشرينَ ليلةً.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর ইতিকাফ করতে পারেননি। পরবর্তী বছর বিশ রাত (দিন) ইতিকাফ করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৬৩

ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর লাভ করার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাইলাতুল কদর লাভের আশায় একবার রমযানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করেন। এরপর কয়েকবার ইতিকাফ করেন মাঝের দশ দিন। এরপর একসময় শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতে শুরু করেন এবং ইরশাদ করেন-

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ.

তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২০

আরো দ্রষ্টব্য : লাতাইফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ৩৫৩

আরেক হাদীসে এসেছে-

كَانَ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الْأَوْسَطِ مِنْ رَمَضَانَ، فَاعْتَكَفَ عَامًا، حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ مِنْ صَبِيحَتِهَا مِنِ اعْتِكَافِهٖ، قَالَ: مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفِ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ، وَقَدْ أُرِيتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا...

فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ করার পর যখন রমযানের ২১তম রাত এল... তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে, তা শেষ দশকের অমুক রাত।) এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ... সুতরাং তোমরা শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ কর এবং প্রতি বেজোড় রাতে অন্বেষণ কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২৭

ইতিকাফের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফায়দা হল- ইতিকাফকারী অত্যন্ত পবিত্র ও গোনাহমুক্ত পরিবেশে থাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এখানে তার অবস্থানটিই এক ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তাই সে অবসর সময়ে কোনো আমল না করলেও দিনরাত তার মসজিদে অবস্থান করাটাই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

এমনিভাবে ইতিকাফকারী দুনিয়ার যাবতীয় ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে। আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিজেকে পূর্ণ প্রস্তুত করে আল্লাহ-অভিমুখী হয়। অভিজ্ঞজনমাত্রই জানেন, এটা যে কারো জন্য, যে কোনো সময় সহজেই সম্ভব হয় না।

তাছাড়া ইতিকাফের মাধ্যমে রোযার যাবতীয় হক ও আদাব রক্ষা করার তাওফীক হয়।

সর্বোপরি ইতিকাফ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি ইবাদত। যার ফায়েদা ও প্রভাব মানুষের মন ও মননে এবং জীবন ও জগতে অনেক গভীর হয়ে থাকে।

ইতিকাফের প্রস্তুতি

ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মানুষ যেহেতু আল্লাহর ঘর মসজিদে আসে, সেজন্য মানবীয় সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আসা উচিত। মনে রাখা উচিত, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পূত-পবিত্র। আল্লাহর ঘর সর্বোচ্চ সম্মানিত ও পবিত্রতম স্থান। তাই প্রথমে নিজের বাহ্যিক পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করা উচিত। স্মরণ করা উচিত কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াত-

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِیْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ.

হে আদম-সন্তানেরা! যখনই তোমরা কোনো মসজিদে আসবে, তখন নিজেদের শোভা অবলম্বন করবে (অর্থাৎ পোশাক পরে নেবে)। -সূরা আ‘রাফ (০৭) : ৩১

এই আয়াতে পোশাক পরে তাওয়াফ ও নামায আদায়ের নির্দেশ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উত্তম পোশাক পরার কথাও। যে পোশাক পবিত্র ও সুন্দর এবং ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে শোভাবর্ধনকারী। [দ্র. তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪০৫; তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ ২/৩৯২]

পাশাপাশি নিজের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার প্রতিও দৃষ্টি দেওয়া কাম্য। কেননা অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ছাড়া বাহ্যিক পবিত্রতা থেকে কাক্সিক্ষত ফায়েদা লাভ করা যায় না। সেদিকেও ইশারা করা হয়েছে একটি আয়াতে -

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ قَدْ اَنْزَلْنَا عَلَیْكُمْ لِبَاسًا یُّوَارِیْ سَوْاٰتِكُمْ وَ رِیْشًا وَ لِبَاسُ التَّقْوٰی ذٰلِكَ خَیْرٌ .

হে আদম-সন্তানেরা! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং (ব্যবস্থা করেছি) সাজ-সজ্জার বস্তু। তবে তাকওয়ার যে পোশাক, সেটাই সর্বোত্তম। -সূরা আরাফ (৭) : ২৬

অর্থাৎ বাহ্যিক পোশাক যেমন মানুষের দেহকে আবৃত করে রাখে, তেমনি তাকওয়ার পোশাক মানুষের গোনাহপ্রবণ স্বভাবকে আবৃত করে রাখে। আর দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের প্রতিফল- উভয়ক্ষেত্রেই তাকওয়ার পোশাক বেশি উপকারী। (দ্র. তাওযীহুল কুরআন, সংশ্লিষ্ট আয়াতের টীকা)

মোটকথা, আল্লাহর ঘরে হাজির হওয়ার আগে প্রথম কাজ হল, সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করা। তওবার মাধ্যমে নিজের অতীত গোনাহ ক্ষমা করিয়ে নেওয়া এবং আল্লাহর ঘরের আদব রক্ষা করে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং কায়মনোবাক্যে দুআ করা।

এরপর নির্দিষ্ট সময় অবস্থানের জন্য যতটুকু সামানা না হলেই নয়, সেটুকু নিয়ে আসা। কোনো সামানাপত্রের বিষয়ে যেন অন্যের মুখাপেক্ষী হতে না হয়- সেই দিকটিও খেয়াল রাখা।

সেইসাথে ইবাদতের চিন্তা ও মানসিকতা ধারণ করা। ধ্যান ও মনকে আল্লাহ-অভিমুখী করা এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তকে জাগরূক করা।

মসজিদের থাকার কিছু আদব

মসজিদ আল্লাহর ঘর। এ ঘরের মর্যাদা দুনিয়ার সকল ঘর থেকে বেশি। এ জায়গার সম্মান অন্য সকল জায়গার চেয়ে অধিক। হাদীস শরীফে এসেছে-

أَحَبُّ البِلَادِ إِلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا وَأَبْغَضُ البِلَادِ إِلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا.

আল্লাহ তাআলার কাছে সবচাইতে প্রিয় জায়গা হল মসজিদ। সবচাইতে অপ্রিয় জায়গা বাজার। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৭১

ইতিকাফের সময় মানুষ যেহেতু এই পবিত্র মর্যাদাপূর্ণ স্থানেই অবস্থান করে, তাই এ ঘরের সম্মান ও মর্যাদার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে স্মরণ রাখা উচিত।

হাদীস শরীফে মসজিদকে পবিত্র রাখার বিষয়েও জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। (দ্র. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৫৫)

তাই নিজের কারণে যেন মসজিদে কোনো অপবিত্রতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সযত্ন খেয়াল রাখা।

মসজিদে যতক্ষণ থাকা হয়, ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা। হাদীস শরীফে এ বিষয়েও খুব গুরুত্বের সাথে উৎসাহিত করা হয়েছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৪৯)

এমনকি পেঁয়াজ, রসুন এবং এজাতীয় গন্ধযুক্ত কোনো খাবার খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এমন গন্ধযুক্ত কোনো খাবার খেলে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ করা হয়েছে। (দ্র. সুহীহ বুখারী, হাদীস ৫৪৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৬৪)

অহেতুক কথাবার্তা ও উঁচু আওয়াজে কথা বলা থেকে বিরত থাকা। মসজিদে তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৬৮)

সেজন্য অতি প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া মসজিদে অন্য কোনো কথা বলা উচিত নয়।

মসজিদে অবস্থানকালে পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও অপেক্ষাকৃত সুন্দর পোশাক পরে থাকাই কাম্য। সেইসাথে নিজে পরিপাটি হয়ে থাকা এবং সামানাপত্র পরিপাটি করে রাখা। [দ্র. সূরা আ‘রাফ (৭) : ৩১]

সর্বোচ্চ আবেগ ও আগ্রহের সাথে মসজিদ পরিষ্কার রাখা উচিত। একটি হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

আমার সামনে আমার উম্মতের ভালো ও মন্দ আমলসমূহ পেশ করা হয়েছে। তখন তাদের ভালো আমলগুলোর মধ্যে পেলাম- রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর মন্দ আমলগুলোর মধ্যে পেলাম- মসজিদের কফ-থুথু (ময়লা-আবর্জনা) পরিষ্কার না করা। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৫৩

ইতিকাফে বিশেষ করণীয়

ইতিকাফের সময় বান্দা যেহেতু মসজিদে থাকে, তাই মসজিদের যাবতীয় আদব রক্ষা করে থাকা উচিত। পুরো সময় সতর্কতার সাথে থাকা উচিত, যেন কোনো ধরনের কোনো গোনাহ না হয়। এছাড়াও নিম্নোক্ত আমলগুলোর ব্যাপারে খেয়াল রাখা।

মসজিদের প্রধান আমল হল, জামাতের সাথে ফরয নামায আদায় করা। তাই সর্বোচ্চ গুরুতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সাথে আদায় করা।

ইতিকাফের সময় মানুষ যেহেতু দুনিয়াবি সকল কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকে। তাই খুশু-খুযূর সাথে নামায আদায়ের বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এসময় থেকেই খুশু-খুযূকে অভ্যাসে পরিণত করা।

রমযান মাসে প্রতিটি আমলের আজর ও সওয়াব অন্য সকল সময়ের চেয়ে বেশি। সেজন্য অধিক পরিমাণে নফল ইবাদতের চেষ্টা করা।

বিশেষ করে সুন্নত ইতিকাফ যেহেতু রমযান মাসে হয়ে থাকে, সেজন্য রমযান ও রোযার যাবতীয় হক আদায়ের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া।

পুরো সময় কোনো না কোনো ইবাদতে মগ্ন থাকা। তবে অন্যের ইবাদত বা ঘুম-বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে, এমন উদ্যোগ পরিহার করা।

যেমন কেউ নামায পড়ছে কিংবা পাশেই বিশ্রাম করছে, সেসময় উচ্চৈঃস্বরে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কোনো কথা না বলা।

একান্ত প্রয়োজনে কথাবার্তা হলে নম্রতা, কোমলতা ও সম্মান বজায় রেখে কথা বলা।

কারো সাথে কোনো কটু কথা না বলা। ঝগড়া-তর্ক তো সব সময়ই মন্দ কাজ। মসজিদে, রমযান মাসে এবং ইতিকাফরত অবস্থায় সেটা আরো মন্দ কাজ। অতএব সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা।

অধিক পরিমাণে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা। সালাফে সালিহীনের রমযান-কেন্দ্রিক কুরআন তিলাওয়াতের ঘটনাগুলো স্মরণ করা। সে অনুযায়ী বেশি থেকে বেশি কুরআন খতমের চেষ্টা করা। (যাদের পক্ষে সম্ভব) অর্থ মর্ম খেয়াল করে করেই তিলাওয়াত করা। অন্তত কিছু সময় তিলাওয়াতকৃত আয়াতের তরজমা, তাফসীর খেয়াল করে করে পড়া।

নফল নামাযের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। কিছু নফল নামায তো বিভিন্ন সময়ের সাথে নির্দিষ্ট। যেমন তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, যাওয়াল, আওয়াবীন ইত্যাদি। সাধারণ সময়ে নানা কর্মব্যস্ততার দরুন নিয়মিত এ নামাযগুলো আদায় করা হয় না। ইতিকাফের দিনগুলোতে যেন এর কোনোটি না ছোটে সে ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া।

এছাড়াও সালাতুল হাজত, সালাতুশ শোকর, সালাতুত তওবা এবং অন্যান্য নফল নামায আদায়ের চেষ্টা করা।

দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু ও দীর্ঘ সিজদাবিশিষ্ট নামাযেরও বিভিন্ন ফযীলত রয়েছে। সেজন্য ইতিকাফের সময় এভাবে দীর্ঘ নামাযের প্রতিও মনোযোগী হওয়া।

জাগতিক ব্যতিব্যস্ততার কারণে হাদীসে বর্ণিত অনেক যিকির ও তাসবীহ নিয়মিত আদায় করার সুযোগ হয় না। এছাড়াও বুযুর্গদের আমলে যিকিরের যেসব কালিমা ও পরিমাণের কথা পাওয়া যায়, সেগুলোও সুযোগমতো আদায় করার চেষ্টা করা। যেমন, ছয় তাসবীহ, বারো তাসবীহ ইত্যাদি আদায়ের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া।

ইতিকাফকারীর জন্য মসজিদে অবস্থানই একটি স্বতন্ত্র নেক আমল। অতএব তিলাওয়াত, যিকির ও অন্যান্য আমলে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করা কিংবা কিছুক্ষণ শুধু নীরবতাও অবলম্বন করা যায়। অনর্থক গল্প-কথাবার্তার চেয়ে সেটিই বেশি উত্তম।

এ সময় নির্বাচিত কিছু দ্বীনী কিতাবও অধ্যয়ন করা যায়। ইতিকাফের ফাযায়েল ও মাসায়েল এবং বুযুর্গদের ইতিকাফ ও রমযানের আমল বিষয়ক কিতাবও মুতালাআ করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত আমলে শরীক হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমাদের ইতিকাফকে কবুল করুন এবং তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ওসীলা করুন। ইতিকাফের মাধ্যমে আমাদের ঈমান, আমল ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন
#মাহেরমজান

28/02/2026

রমযান মাস। এখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষক ঘোষণা করছে-

يَا بَاغِيَ الخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشّرِّ أَقْصِرْ.

ওহে কল্যাণ-অন্বেষী! নেকীর পথে তুমি আরো অগ্রসর হও। ওহে অকল্যাণের পথিক! তুমি নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬৪২

চারিদিকে কেবল ক্ষমা ও মাগফিরাতের ঘোষণা- রোযা রাখো, পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেব। তারাবী-তাহাজ্জুদ আদায় কর, ক্ষমা লাভে ধন্য হও। লাইলাতুল কদরে ইবাদত কর, মাগফিরাতের সাগরে অবগাহন কর।

ইফতারের সময় ক্ষমা করা হয়, রাতে ক্ষমা করা হয়, দিনে ক্ষমা করা হয়। চারিদিকে ক্ষমা ক্ষমা রব।

এমন সুযোগ যেন আমার হাতছাড়া না হয়। এজন্য সতর্ক হব রমযানের শুরুতেই।

রমযান শেষে আফসোস নয়; সচেতন হই শুরুতেই

রমযানের একেবারে শেষ প্রহরে আমরা আফসোস করে বলি- হায়, রমযান চলে গেল, কিছুই করতে পারলাম না; জানি না- মাগফিরাতের নিআমত লাভ করতে পারলাম কি না!

সুতরাং শুরুতেই সচেতন হই, সাধ্যমতো কাজে লাগাই রমযানকে। (যদিও আল্লাহর নেক বান্দারা সাধ্যমতো আমল করার পরও আফসোস করেন।) স্মরণ রাখি নবীজীর এ হাদীস। জাবের রা. থেকে বর্ণিত-

أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ رَقَى الْمِنْبَرَ، فَلَمّا رَقَى الدّرَجَةَ الْأُولَى قَالَ: آمِينَ، ثُمّ رَقَى الثّانِيَةَ فَقَالَ: آمِينَ، ثُمّ رَقَى الثّالِثَةَ فَقَالَ: آمِينَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، سَمِعْنَاكَ تَقُولُ: آمِينَ ثَلَاثَ مَرّاتٍ؟ قَالَ: لَمّا رَقِيتُ الدّرَجَةَ الْأُولَى جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ رَمَضَانَ، فَانْسَلَخَ مِنْهُ وَلَمْ يُغْفَرْ لَه ٗ، فَقُلْتُ: آمِينَ....

একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন। প্রথম ধাপে উঠে বললেন, আমীন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে উঠেও বললেন, আমীন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর রাসূল! আপনাকে (এভাবে) তিনবার আমীন বলতে শুনলাম?

তখন নবীজী বললেন, আমি যখন মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে আরোহণ করলাম তখন জিবরীল আগমন করলেন এবং বললেন, ঐ ব্যক্তি হতভাগা, যে রমযান মাস পেল, আর রমযান গত হয়ে গেল, কিন্তু তার গুনাহ মাফ হল না। আমি বললাম, আমীন।... -আলআদাবুল মুফরাদ, বুখারী, হাদীস ৬৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৭৪৫১

নবীজী তো কখনো আমাদের ধ্বংস চাইবেন না; তিনি চেয়েছেন- এমন অবারিত সুযোগকে যেন আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি। তাই আসুন, রমযানের শুরুতেই পরিকল্পনা গ্রহণ করি। রমযানের গুরুত্ব অনুধাবন করে একে যথাযথ কাজে লাগাই।

রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত

রোযার মাধ্যমে পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ মাফ হয়

রমযান মাসের রোযা এতটা মহিমান্বিত একটি আমল, যার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বান্দার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِه.

যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা রেখে রমযান মাসে রোযা রাখবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৮

রোযার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন

আল্লাহ তাআলার নিকট বান্দার রোযা অত্যন্ত প্রিয়। এর প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّه ٗ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهٖ، يَدَعُ شَهْوَتَه ٗ وَطَعَامَه ٗ مِنْ أَجْلِي.

মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাত শ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা; কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানাহার থেকে বিরত থাকে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৭১৪

আমার রোযা যেন আমার জন্য ঢাল হয়

হাদীস শরীফে রোযাকে ঢাল বলা হয়েছে। জাহান্নাম থেকে ঢাল। তবে আমার দায়িত্ব এ ঢালকে অক্ষুণ্ন রাখা; বিদীর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করা। ইরশাদ হয়েছে-

الصّومُ جُنّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا.

রোযা ঢাল স্বরূপ, যতক্ষণ না তা বিদীর্ণ করে ফেলা হয়। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৯০

আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজীকে জিজ্ঞেস করা হল, কীভাবে তা বিদীর্ণ হয়? নবীজী বললেন-

بِكَذِبٍ، أَوْ غِيبَةٍ.

মিথ্যা অথবা গীবতের মাধ্যমে। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৪৫৩৬

হাদীস শরীফে আরো এসেছে-

مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزّورِ وَالعَمَلَ بِهٖ وَالجَهْلَ، فَلَيْسَ لِلهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهٗ وَشَرَابَهٗ.

যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খসুলভ আচরণ ছাড়ল না, তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০৫৭

রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের চেয়েও অধিক প্রিয়

রোযাদার ব্যক্তি দিনভর উপোস থাকে। অনাহারে থাকার দরুন তার মুখে একধরনের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। দুনিয়াবি বিবেচনায় তা দুর্গন্ধ মনে হলেও রাব্বুল আলামীনের নিকট তা মেশকের চেয়েও প্রিয়। নবীজী বলেন-

وَالّذِي نَفْسُ مُحَمّدٍ بِيَدِه، لَخُلُوفُ فَمِ الصّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ.

ঐ সত্তার কসম, যার কব্জায় মুহাম্মাদের প্রাণ, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধি থেকেও প্রিয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৪

রোযাদারের জন্য রয়েছে বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لِلصّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهٖ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبّهٖ.

রোযাদারের জন্য দুটি বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হল, ইফতারের সময়। অপরটি হল, যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে (আর তিনি তাকে বিশাল পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত করবেন)। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১

রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

রোযাদার ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট এতটাই মহব্বতের পাত্র যে, সে কিছু চাইলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। নবীজী বলেন-

ثَلاَثَةٌ لاَ تُرَدّ دَعْوَتُهُمْ: الصّائِمُ حَتّى يُفْطِرَ، وَالإِمَامُ العَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ يَرْفَعُهَا اللهُ فَوْقَ الغَمَامِ وَيَفْتَحُ لَهَا أَبْوَابَ السّمَاءِ وَيَقُولُ الرّبّ: وَعِزّتِيV لأَنْصُرَنّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ.

তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না :

এক. রোযাদারের দুআ ইফতার পর্যন্ত।

দুই. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ।

তিন. মজলুমের দুআ। আল্লাহ এ দুআকে মেঘমালার উপরে নিয়ে যান। এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেন। রব বলেন, আমার ইযযতের কসম, বিলম্বে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৭৪৩

রোযাদারের জন্য রোযা সুপারিশ করবে

কিয়ামতের দিন রোযাদারের জন্য রোযা নিজে সুপারিশ করবে। হাদীসে এসেছে-

الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَقُولُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ، مَنَعْتُهُ الطّعَامَ وَالشّهَوَاتِ بِالنّهَارِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النّوْمَ بِاللّيْلِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ، قَالَ: فَيُشَفّعَانِ.

কিয়ামতের দিন সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, ওগো রব! দিবসে আমি তাকে পানাহার ও (বৈধ) জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে নিবৃত্ত রেখেছি। তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, রাতে আমি তাকে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬২৬; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস ৫০৮১

রোযাদারের জন্য থাকবে জান্নাতের বিশেষ তোরণ

রোযাদার হলেন আল্লাহ তাআলার বিশেষ মেহমান। জান্নাতে প্রবেশের জন্য তার সৌজন্যে বিশেষ তোরণের ব্যবস্থা থাকবে। নবীজী বলেন-

إِنّ فِي الجَنّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرّيّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، يُقَالُ: أَيْنَ الصّائِمُونَ؟ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ.

জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন তা দিয়ে রোযাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়?

তখন তারা আসবে। তারা ছাড়া তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। রোযাদাররা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫২
#তাহাজ্জুদ #মাহেরমজান

27/02/2026

রমযানুল মুবারক। বারো মাসের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মাস। জীবনকে আলোকিত করার মৌসুম। আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজতম সুযোগ। খায়ের ও বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের বসন্ত।

সাধারণ আমলের পাশাপাশি এ মাসের বেশকিছু বিশেষ আমল রয়েছে। অন্য সময়ের সাধারণ আমলগুলোরও এ মাসে গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাহাজ্জুদ এধরনেরই একটি আমল। এখানে আমরা তাহাজ্জুদের প্রতি সালাফ ও আকাবিরের যওক-শওক ও আগ্রহ-উদ্দীপনা সম্পর্কে আলোচনা করব। মূল আলোচনার আগে তাহাজ্জুদের ফযীলত ও এর প্রতি নবীজীর যওক-শওক সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যায়।

তাহাজ্জুদের ফযীলত

তাহাজ্জুদ মহিমান্বিত একটি ইবাদত। কুরআন ও হাদীসে এর অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এবং এর প্রতি খুব উৎসাহিত করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ جَنّٰتٍ وَّ عُیُوْن، اٰخِذِیْنَ مَاۤ اٰتٰىهُمْ رَبُّهُمْ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَبْلَ ذٰلِكَ مُحْسِنِیْنَ، كَانُوْا قَلِیْلًا مِّنَ الَّیْلِ مَا یَهْجَعُوْنَ، وَبِالْاَسْحَارِ هُمْ یَسْتَغْفِرُوْنَ.

নিশ্চয় মুত্তাকীগণ উদ্যানরাজি ও ঝরনাসমূহের ভেতর থাকবে। তাদের রব তাদেরকে যা দেবেন, তারা তা উপভোগ করতে থাকবে। তারা এর আগেই সৎকর্মশীল ছিল। তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাত এবং রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত। -সূরা যারিয়াত (৫১) : ১৫-১৮

এখানে মুত্তাকীদের জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তারা দুনিয়াতে সৎকর্মশীল ছিল। তারপর তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম বৈশিষ্ট্য এই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা রাতে খুব অল্প সময় ঘুমাত। রাতের বেশির ভাগ সময় তারা আল্লাহর ইবাদতে কাটাত। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল, সাহরীর সময়, যখন রাত শেষ হয়ে আসত, তখন তারা নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য কাকুতি-মিনতির সঙ্গে ইস্তিগফার করত।

এ থেকে বোঝা যায়, রাতের ইবাদত আল্লাহর কাছে খুব পছন্দনীয় এবং শেষ রজনী অনেক বরকতপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

یٰۤاَیُّهَا الْمُزَّمِّلُ، قُمِ الَّیْلَ اِلَّا قَلِیْلًا، نِّصْفَهٗۤ اَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِیْلًا، اَوْ زِدْ عَلَیْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْاٰنَ تَرْتِیْلًا، اِنَّا سَنُلْقِیْ عَلَیْكَ قَوْلًا ثَقِیْلًا، اِنَّ نَاشِئَةَ الَّیْلِ هِیَ اَشَدُّ وَطْاً وَّاَقْوَمُ قِیْلًا.

হে বস্ত্রাবৃত, রাত্রি জাগরণ করুন, তবে কিছু সময় ছাড়া। অর্ধেক রাত বা তা থেকে কিছুটা কমান কিংবা তা থেকে বাড়িয়ে নিন এবং ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করুন। আমি আপনার প্রতি এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করছি। নিশ্চয় রাত্রি জাগরণ (প্রবৃত্তির) দলনে অধিকতর কঠোর এবং বাক্য উচ্চারণে অধিকতর সঠিক। -সূরা মুযযাম্মিল (৭৩) : ১-৬

এখানে নবীজীকে অর্ধেক রাত বা তার থেকে কিছু কমবেশি সময় তাহাজ্জুদ পড়ার আদেশ করা হয়েছে এবং তাতে ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে এর কিছু উপকারিতাও উল্লেখ করা হয়েছে-

১. রাতে উঠে ইবাদত করা সহজ কাজ নয়। নফস এতে সায় দেবে না। যদি নফসের বিরোধিতা করে তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস করে নেওয়া যায়, তাহলে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে।

২. রাতের বেলা পরিবেশ শান্ত থাকে এবং চারদিকে অখণ্ড নীরবতা বিরাজ করে। এজন্য তখন তিলাওয়াত ও দুআ-যিকির অত্যন্ত সুন্দর ও সঠিকভাবে গভীর মনোযোগের সঙ্গে করা যাবে। দিনের বেলা এ সুবিধা কম থাকে।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

تَتَجَافٰی جُنُوْبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَّطَمَعًا وَّمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ، فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّاۤ اُخْفِیَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّةِ اَعْیُنٍ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ.

তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি জানে না- এরূপ লোকদের জন্য তাদের কর্মফলস্বরূপ চোখ জুড়ানোর কত কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে। -সূরা সাজদা (৩২) : ১৬-১৭

এখানে ওই মুমিনদের প্রশংসা করা হয়েছে, যারা রাতের বেলা মধুর নিদ্রা ও সুখশয্যা ত্যাগ করে আল্লাহর আযাবের ভয় ও রহমতের আশা নিয়ে তাঁকে ডাকে, নামায পড়ে।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

وَ الَّذِیْنَ یَبِیْتُوْنَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا.

এবং যারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রবের সামনে (কখনো) সেজদাবনত অবস্থায় এবং (কখনো) দণ্ডায়মান অবস্থায়। -সূরা ফুরকান (২৫) : ৬৪

এখানে আল্লাহ ‘ইবাদুর রহমানের’ (তাঁর ওই বান্দাদের) প্রশংসা করেছেন, যারা রাতের বেলায় নিদ্রা ও আরামের স্বাদ বিসর্জন দিয়ে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান থাকে, সিজদাবনত হয়, নামাযে মগ্ন থাকে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

يَنْزِلُ رَبّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلّ لَيْلَةٍ إِلَى السّمَاءِ الدّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللّيْلِ الآخِرُ، يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ.

আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছ, আমার কাছে দুআ করবে, আমি তার দুআ কবুল করব। কে আছ, আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব। কে আছ, আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৫৮

লক্ষ করুন, শেষ রজনী কত বরকতপূর্ণ যে, এ সময় খোদ আল্লাহ বান্দাকে ডাকতে থাকেন। কীভাবে ডাকেন তাও আমরা জানলাম। মহান আল্লাহর এমন আহ্বানের পরও বান্দার জন্য ঘুমে বিভোর থাকা বড় আফসোসের বিষয়।

অন্য হাদীসে নবীজী পরিষ্কার বলেন-

أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الرّبّ مِنَ العَبْدِ فِي جَوْفِ اللّيْلِ الآخِرِ، فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ مِمّنْ يَذْكُرُ اللهَ فِي تِلْكَ السّاعَةِ فَكُنْ.

রব বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন রাতের শেষ ভাগে। যদি পার ওই সময় আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও! -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৭৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১১৪৭

নবীজী আরো বলেন-

أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرّمُ، وَأَفْضَلُ الصّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللّيْلِ.

রমযানের পর রোযা রাখার উত্তম সময় মুহাররম মাস আর ফরয নামাযের পর উত্তম নামায রাতের নামায।

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

الصّلاَة فِيْ جَوْفِ اللَّيْلِ.

গভীর রাতে নামায পড়া। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৩৪

অন্য হাদীসে বলেন-

يَاأَيّهَا النّاسُ، أَفْشُوا السّلاَمَ، وَأَطْعِمُوا الطّعَامَ، وَصَلّوا وَالنّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُونَ الجَنّةَ بِسَلاَمٍ.

হে লোক সকল! সালামের প্রসার কর। মানুষকে আহার করাও! আর রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামায আদায় কর! তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪৮৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২৩৭৮৪

একবার নবীজী মুআয রা.-কে বলেন-

أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الخَيْرِ: الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ، وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ.

আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হল-

১. রোযা ঢালস্বরূপ।

২. সদকা গোনাহ এমনভাবে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়।

৩. গভীর রাতের নামায।

এরপর নবীজী সূরা সাজদার ১৬-১৭ নং আয়াত পাঠ করেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬১৬

তাহাজ্জুদের প্রতি নবীজীর যওক-শওক

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রেও আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। তাঁর তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত বিষয়াদি সবিস্তার আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র পুস্তিকার দরকার। এখানে অতি সংক্ষেপে কিছু কথা পেশ করা হল।

তাহাজ্জুদের প্রতি নবীজীর অপরিসীম আগ্রহ ও ভালবাসা ছিল। তিনি সারা বছর সীমাহীন গুরুত্ব ও যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ পড়তেন। বিনা ওজরে কখনো তা তরক করেননি। তিনি এশার নামাযের পর তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তেন। শোয়ার সময় বিভিন্ন দুআ-তাসবীহ পড়তেন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে দ্রুত উঠে যেতেন। ওঠার পরও দুআ-তাসবীহ পড়তেন। তারপর ওযু করে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় নামাযে মশগুল থাকতেন।

তিনি সাধারণত দুই দুই রাকাত করে আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন। কখনো কখনো দশ বা ছয় অথবা চার রাকাতও পড়েছেন। তাতে দীর্ঘ তিলাওয়াত করতেন। ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করতেন। রুকু-সিজদাও দীর্ঘ করতেন। তাহাজ্জুদ শেষে তিন রাকাত বিতির পড়তেন। এবার এ সম্পর্কিত কয়েকটি বর্ণনা দেখুন।

আবদুল্লাহ ইবনে আবী কায়স রাহ. থেকে বর্ণিত, আয়েশা রা. তাঁকে বলেছেন-

لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللّيْلِ، فَإنّ النّبِيّ صَلّى الله عَلَيْهِ وَسَلّمَ مَا كَانَ يَدَعُه، وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلّى قَاعِدًا.

তুমি কিয়ামুল লাইল কখনো ছেড়ো না! কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কখনো ছাড়েননি। কখনো অসুস্থতা বা দুর্বলতা বোধ করলে বসে আদায় করতেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৩০৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১১৩৭

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. আরো বলেন-

إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِه، صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً.

যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের দরুণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) আদায় করতে না পারতেন, তাহলে দিনের বেলায় বারো রাকাত নামায পড়ে নিতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৪৬

এ দুই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, তাহাজ্জুদের প্রতি নবীজীর কত গুরুত্ব ছিল।

আয়েশা রা. আরো বলেন-

كَانَ يُصَلِّي ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ أَنَّهُ صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، تَرَكَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ قُبِضَ حِينَ قُبِضَ وَهُوَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ بِتِسْعِ رَكَعَاتٍ، آخِرُ صَلَاتِهِ مِنَ اللَّيْلِ الْوِتْرُ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তেরো রাকাত নামায পড়তেন। তারপর দুই রাকাত কমিয়ে এগারো রাকাত পড়তেন। মৃত্যুর আগের সময়গুলোতে নয় রাকাত পড়তেন। তাঁর রাতের সর্বশেষ নামায ছিল বিতির। -সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১১৬৮

এই বর্ণনায় উল্লেখিত নামায থেকে বিতির বাদ দিলে বাকি থাকে যথাক্রমে দশ, আট ও ছয় রাকাত। তার অর্থ নবীজী যথাক্রমে দশ রাকাত, আট রাকাত, ছয় রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন।

আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রাহ. আয়েশা রা.-কে নবীজীর রমযানের রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন-

مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে ও রমযানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি (তাহাজ্জুদ) পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে তুমি জানতে চেয়ো না। তারপর চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কেও জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত (বিতির) পড়তেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৪৭

এ থেকে বোঝা যায়, নবীজী রমযানে ও রমযানের বাইরে সাধারণত আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং তাঁর নামায এত দীর্ঘ ও সুন্দর ছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

আয়েশা রা. আরো বলেন-

كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلَاثٍ، وَسِتٍّ وَثَلَاثٍ، وَثَمَانٍ وَثَلَاثٍ، وَعَشْرٍ وَثَلَاثٍ، وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ، وَلَا بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে চার রাকাত (তাহাজ্জুদ) ও তিন রাকাত (বিতির), ছয় রাকাত (তাহাজ্জুদ) ও তিন রাকাত (বিতির), আট রাকাত (তাহাজ্জুদ) ও তিন রাকাত (বিতির), দশ রাকাত (তাহাজ্জুদ) ও তিন রাকাত (বিতির) পড়তেন। তিনি (তাহাজ্জুদ ও বিতির মিলে) সাত রাকাতের কম এবং তেরো রাকাতের বেশি পড়তেন না। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৩৬২

এ থেকে জানা গেল, নবীজী চার রাকাতের কম তাহাজ্জুদ পড়তেন না। আয়েশা রা. অন্য বর্ণনায় বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِتِسْعٍ، فَلَمَّا بَلَغَ سِنًّا وَثَقُلَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদ ও বিতির মিলে) নয় রাকাত পড়তেন। এরপর যখন তাঁর বয়স বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যগতভাবে একটু ভারী হয়ে যান তখন (তাহাজ্জুদ ও বিতির মিলে) সাত রাকাত পড়তেন। -শরহু মাআনিল আছার, হাদীস ১৬৯১

এ থেকে জানা গেল, নবীজী জীবনের শেষ দিকে চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন।

আউফ ইবনে মালেক আশজায়ী রা. বলেন-

قُمْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً، فَقَامَ فَقَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، لَا يَمُرُّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ فَسَأَلَ، وَلَا يَمُرُّ بِآيَةِ عَذَابٍ إِلَّا وَقَفَ فَتَعَوَّذَ، قَالَ: ثُمَّ رَكَعَ بِقَدْرِ قِيَامِهِ، يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ، ثُمَّ سَجَدَ بِقَدْرِ قِيَامِهِ، ثُمَّ قَالَ فِي سُجُودِهِ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ بِآلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَرَأَ سُورَةً سُورَةً.

একবার রাতের বেলায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নামাযে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা বাকারা পড়লেন। রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করলে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করতেন। আর আযাবের আয়াত তিলাওয়াত করলে তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতেন। এরপর কিয়াম সমপরিমাণ রুকু করেন। তারপর কিয়াম সমপরিমাণ সিজদা করেন। তারপর (দ্বিতীয় রাকাতে) দাঁড়িয়ে সূরা আলে ইমরান পড়েন। পরে এক একটি সূরা পড়েন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৮৭৩

এ থেকে অনুমেয়, নবীজী তাহাজ্জুদের নামাযে কিয়াম, রুকু ও সিজদা কত দীর্ঘ করতেন এবং কত চিন্তাভাবনা ও ধ্যানমগ্নতার সঙ্গে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ত।

আয়েশা রা. বলেন-

كَانَ يَقُومُ مِنَ اللّيْلِ حَتّى تَتَفَطّرَ قَدَمَاهُ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এত বেশি নামায পড়তেন যে, তাঁর পা ফুলে যেত।

এ দেখে আয়েশা রা. নিবেদন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এত কষ্ট করছেন, অথচ আপনার পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে!

নবীজী বলেন-

أَفَلاَ أُحِبّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُورًا.

আমার কি উচিত নয় যে, আমি একজন পূর্ণ শোকরগুজার বান্দা হব? -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৮৩৭; সহীহ মুসলিম

#মাহেরমজান #কাফফারা #কাজা #রোজাভঙ্গেরকারণ #সেহরী #তাহাজ্জুদ

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka North City. Uttara Model Town. 10 Number Sector
Dhaka