23/03/2020
দুই ইতালি ফেরত ব্যাক্তি তথ্য গোপন করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার কারনে চার ডাক্তার কোরান্টাইনে!
মালয়েশিয়া ফেরত এক রোগী তথ্য গোপন করে হাসপাতালে আসে চিকিৎসা নিতে। ফলস্বরূপ আমাদের ব্যাচমেট, নব্য চিকিৎসক দুই বন্ধু কোয়ারেন্টাইনে।
ভাই, আপনারা বিদেশ থেকে আসছেন। জানেন ই তো আপনাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা কতটা জরুরী। আর আপনাদের কোয়ারেন্টাইনেই তো রাখছে। জেল, জরিমানা, ফাঁসি তো দিচ্ছে না। ক্রসফায়ার করে মেরে ফেলছে না।
আপনারা বাড়িতে যাচ্ছেন, চা স্টলে যাচ্ছেন, বাজার করছেন, বিয়ে করছেন, গার্লফ্রেন্ড নিয়ে বাইকে ঘুরছেন। বুঝতেছেন একজনের জন্য কতো হাজার মানুষ আক্রান্ত হতে পারে?
এখন আবার নতুন নাটক শুরু। ডাক্তারের কাছে এসে বলছেন ও না আপনি বিদেশ থেকে আসছেন। একজন কিডনির সমস্যা নিয়ে আসছে, চিকিৎসা করে দিয়েছে ডাক্তার। একজন ড্রেসিং করাতে আসছে। করে দিয়েছে। আপনারা আনন্দে বাড়ি চলে গেলেন। এইযে ডাক্তার রা আপনাদের চিকিৎসা দিল তারা কি সারাদিন বসে থাকবে? আপনাকে দেখার পর তারা আরও রোগী দেখবে। আস্তে আস্তে সবার মাঝে ছড়িয়ে গেলো।
অনেকে বলছেন, বিদেশ থেকে আসছে বললে নাকি ডাক্তার দৌঁড়ে পালায়? চীন, ইতালি, স্পেনের সাথে আমাদের ডাক্তারদের তুলনা করতেছেন।
ভাই রে ভাই, পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ই পাচ্ছেন না ডাক্তার রা। নিজেদের প্রটেকশন না থাকলে ডাক্তার আক্রান্ত হবে। তিনি যাদের চিকিৎসা করবেন সবার মাঝে ছড়িয়ে যাবে।
চীনে ডাক্তারদের প্রটেকশন, সেইফটি সর্বোচ্চ দেওয়ার পরেও কয়েকজন ডাক্তার মারা গেছেন। আমাদের দেশে শুধু একটা মাস্ক দেওয়া হয়েছে। কমেন্টে দেখাচ্ছি। শোনলাম বেক্সিমকো কিছু PPE দিচ্ছে। সরকার থেকেও সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কখন? সবার মাঝে ছড়িয়ে যাবার পর?
তাহলে বুঝেন আমাদের দেশের কি হাল?
আস্তে আস্তে ট্যুরিস্ট স্পট, বাস,ট্রেন,ব্যাংক,বীমা সব ই বন্ধ হবে। আজকে মালয়েশিয়াও লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। হয়তো আমাদেরকেও তা করতে হবে।
কিন্তু যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের এটাও ভাবতে হবে রোজ কত হাজার খেটে খাওয়া মানুষ দিন আনে দিন খায়! তাদের ১৪-১৫ দিনের দুইবেলা অন্তত খেয়ে বাঁচার সুযোগ দেওয়া উচিত। যা করার দ্রুত করতে হবে। কিন্তু আমরা অপেক্ষায় আছি আগে কিছু ডাক্তার মারা যাক। পরে তাদের প্রটেকশন দিব।
কিছু গরীব না খেয়ে মারা যাক। পরে তাদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করা হবে।
অনেকে বলবেন এতো প্রটেকশনের দরকার নেই। যা আছে তাই দিয়েও চিকিৎসা দিন। ফলাফল কি হবে জানেন?
ওয়েট।
করোনা আক্রান্ত রোগী > প্রটেকশন ছাড়া ডাক্তার> করোনা আক্রান্ত ডাক্তার> সাধারণ রোগী > করোনা আক্রান্ত রোগী।
বুঝেন কাদের ক্ষতি হবে! সুতরাং প্রটেকশন টা জরুরী।
আর আমাদের নিজেদের সমস্যাও আছে। কি সমস্যা ভাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে? স্কুল,কলেজ,ইউনিভার্সিটি বন্ধ। ট্যুর দেওয়াই লাগবে? ঘরে বসে থাকুন।বই পড়ুন, মুভি দেখুন যা ইচ্ছা ঘরে বসে করুন। সিম কোম্পানির উচিত দুই সপ্তাহের জন্য নেট ফ্রি করে দেওয়া। যাতে সবাই বাসায় বসে কিছু একটা করে সময় কাটাতে পারে। কিন্তু তা করবে না। পারলে এখন ১০০০ টাকায় ১ জিবি নেট দিবে।
যেখানে মাস্কের দাম বাড়ে, স্যানিটাইজার গুম হয়ে যায়, বাস ভাড়া রিক্সা ভাড়া বাড়ে সেখানে কেউ /কারা স্বেচ্ছায় ভালো পদক্ষেপ নিবে এমন টা আমাদের থেকে আশা করা বোকামি।
আমরা অমুক দেশের তমুকের প্রশংসা করব আর নিজেরা থানকুনি পাতা খেয়ে শুয়ে পড়বো।
কালেক্টেড.....
....