17/07/2026
শায়খ আহমাদুল্লাহকে নিয়ে একটা গল্প বলি। যে গল্পের পেছনের কাহিনি শায়খ নিজেও জানেননা।
দুই মাস আগে সিলেটে একটি প্রোগ্রাম ছিলো শায়খের৷ 'দ্বীনি হালাকা' শিরোনামের এই প্রোগ্রামে আমিও ছিলাম।
সিলেটের নয়াসড়কস্থ সাদেক টাওয়ারে এই প্রোগ্রাম শেষ হয় রাত দশটায়। রাত্রি যাপন করে পরদিন সিলেটের আলোচিত ডিসি সারওয়ার সাহেবের বাসায় ছিলো নাস্তার দাওয়াত। দাওয়াত শেষ করে সাড়ে আটটার ফ্লাইটে শায়খ আহমাদুল্লাহ ঢাকা চলে যাবেন।
এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিলো। সমস্যা বাধলো যিনি শায়খকে দাওয়াত দিয়েছেন তিনি মাহফিলের পর হাদিয়া দিতে চাচ্ছেন কিন্তু শায়খ আহমাদুল্লাহ হাদিয়া নিতে চাচ্ছেন না। এমনকি এই দ্বীনি হালাকার তারিখ কনফার্ম করার আগেই যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তন্মধ্যে একটা ছিলো, কোনোরূপ হাদিয়া দেওয়া যাবেনা।
কিন্তু মাহফিলের আয়োজক সাদেক ভাই হাদিয়া দিতে মরিয়া৷ এক লক্ষ টাকার হাদিয়ার খাম শায়খ আহমাদুল্লাহ বিনয়ের সাথেই ফেরত দিয়েছেন রাতেই ৷ এবং বলেছেন, এটা সম্পূর্ণ জায়েজ, কিন্তু আমি হাদিয়া না নেওয়ার আমল করছি। আমাকে এই আমলে অটল থাকতে দেন।
ডিসি সাহেবের বাসা থেকে বের হওয়ার পর আমরা সিলেট এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছি। শায়খ গাড়ির সামনের সিটে৷ আমরা পেছনের সিটে৷ সাদেক ভাই যেকোনো ভাবে হাদিয়া দিতে দিবেন ৷ কিন্তু শায়খ নিবেননা।
অগত্যা সাদেক ভাই একটা বুদ্ধি বের করলেন। একটা খামে চেক লিখে শায়খের সফর সংগি যিনি তার কাছে দিলেন। বললেন,প্লেন ছেড়ে দেওয়ার পর এই খাম শায়খকে দিবেন।
উনি তাই করলেন।
কিন্তু শায়খ ঢাকায় নেমে আমাকে এস এম এস করলেন। আমি আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অফিসে পরবর্তীতে যাব বলে রিপ্লাই দিলাম।
কিন্তু সাদেক ভাইয়ের সাথে পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ অল্প ক'দিন পর শায়খ হজ্বের সফরে যাবেন, এটা আমি জানি।
ঠিকই কয়েকদিন পর শায়খ হজ্বের সফরে চলে যান৷ আমারও আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনে আর যাওয়া হয়নি।
আর হ্যা ওই চেকে কি ছিলো জানেন? চেকে লেখা ছিলো আগের চেয়ে পাচগুণ বেশি টাকা।
হজরত আব্বাসী সাহেব যে অভিযোগ করলেন, ফাউন্ডেশন যারা চালায় তারা ওয়াজ করেনা, তরিকত চর্চা করেনা, তারা চলে কিভাবে? সংসার চালায় কিভাবে?
আল্লাহ কাউকে কাউকে তার নিজের পক্ষ থেকে এভাবেই চালান।
শায়খের যে কয়েকটি বই বাজারে আছে সেগুলো কী পরিমাণ চলে তা ত অজানা কিছুনা৷ রকমারি ওয়াফিলাইফ সহ সকল অনলাইন প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে এবং প্রায় সবগুলোই বেস্ট সেলার হয়।
আট দশটি বই। গড়পড়তা প্রতিটি বই যদি পঞ্চাশ হাজার পিস বিক্রি হয় এবং বইপ্রতি যদি দশ টাকা প্রফিট হয় তাহলে কত টাকা হয়?
একজন মানুষের চলার জন্য কত টাকা লাগে?
এরকম মানুষের টাকা ইনকামের জন্য ওয়াজ করা কিংবা তরিকতের মেহনত করা কেন লাগবে ইয়া হাবিবি?
উনার ইনকাম সোর্স জানার জন্য উনার সাথে কথা বললেও হত। এজন্য বক্তৃতা দিতে হবে, পাবলিকলি তাকে প্রশ্নবোধক করতে হবে, এটা কোন ধরনের নিয়ম ?
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক উপলব্ধি দান করুন।
©Ruhul Amin Sadi