30/01/2026
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল একবার এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তখনো তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি। রাজনীতিতে সদ্য প্রবেশ করা এই মানুষটি তখন তাঁর অসাধারণ বক্তৃতার জন্য দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠছেন। ঠিক সেই সময় বিবিসি তাঁকে একটি সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।
সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার পথে তিনি একটি ট্যাক্সি নেন। বিবিসি ভবনের সামনে নেমে চালককে অনুরোধ করেন—তিনি ফিরে আসা পর্যন্ত যেন প্রায় চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করেন। কিন্তু চালক বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে জানায়, সে অপেক্ষা করতে পারবে না। কারণ আজ বিবিসিতে উইনস্টন চার্চিলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার হবে, আর সে বাড়ি ফিরে সেই সাক্ষাৎকার শুনতে চায়।
এই কথা শুনে চার্চিল একি সাথে বিস্মিত ও আনন্দিত হন। একজন সাধারণ মানুষ যে কিনা তাঁকে চিনেই না। অথচ তাঁর কথা শোনার জন্য এতটা আগ্রহী! নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে চার্চিল ভাড়ার পাঁচ পাউন্ডের বদলে চালককে পুরো বিশ পাউন্ড দিয়ে দেন।
আর সাথে সাথেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট ।
ট্যাক্সি চালক সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, স্যার, আপনি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি প্রয়োজনে ঘন্টা অপেক্ষা করব। চার্চিল বক্তৃতায় কি বললো বা না বললো- তাতে আমার কী আসে যায়!
এই মুহূর্তেই চার্চিল গভীর উপলব্ধি করেন- অর্থের কাছে মানুষের নীতি ও নৈতিকতা কত দ্রুত বদলে যায়। টাকার জন্য মানুষ নিজের বিবেক বিক্রি করে, সম্মান বিসর্জন দেয়, পরিবার ভাঙ্গে, বন্ধুত্বে ফাটল ধরে, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয়। এমনকি অর্থ আর স্বার্থের মোহে গোটা একটি জাতি দাসত্বে আবদ্ধ হতে পারে।
ইতিহাস তার জ্বলন্ত সাক্ষী— অর্থ আর স্বার্থে ব্রিটিশ শাসনামলে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ( ০.০৫% ) মানুষের কাছে গোটা ভারতবর্ষ দুশ বছরের জন্য পরাধীন হয়ে পড়ে।
তাই ভালো মানুষকে আপনার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করুন। তা না হলে- সামান্য স্বার্থ আর লোভের খেলায় মাত্র ৩৩০ জন মানুষের দাসে পরিণত হতে পারে আঠারো কোটি মানুষ।