Become A Practicing Muslim

Become A Practicing  Muslim

Share

ইসলামের আলোয় সবাইকে আলোকিত করে জান্ন?

15/06/2020

পবিত্র হজ্ব আদায় শেষে ফিরতি ফ্লাইটের জন্য সাঈদ জেদ্দা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর পাশের সিটেই বসেছিলেন আরেকজন হাজী সাহেব।

সালাম বিনিময়ের পর পাশের লোকটি বললেন: আমি একজন ঠিকাদার। আল্লাহ তায়ালা আমাকে দশম হজ্ব পালনের তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে ধন্য করেছেন।

সাঈদ তাঁকে বললেন: মাশাআল্লাহ! আল্লাহ আপনার হজ্ব কবুল করুন এবং আপনার সকল অপরাধ ক্ষমা করুন।

লোকটি হেসে বললেন: আমিন। এরপর সাঈদকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি এবারের আগে আর কখনো হজ্ব করেছেন?

সাঈদ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দ্বিধা করছিলেন। কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করার পর বললেন: আল্লাহর কসম! এটি বেশ লম্বা ঘটনা; এবং আমি চাইনা আমার কথা শুনতে শুনতে আপনি বিরক্ত হয়ে যান।

লোকটি হেসে বললেন: দয়া করে বলুন। আমি ঘটনাটা শুনতে চাই। তাছাড়া এখন তো আমাদের কোনো কাজও নেই। আমরা তো বসে বসে অপেক্ষাই করছি।

সাঈদ হাসি দিয়ে বললেন: হ্যাঁ, আমার গল্পের শুরুটা অপেক্ষা দিয়েই। আমি হজ্বের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিরিশ বছর ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে কাজ করার পর আমি হজ্বের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

একই দিন আমি আমার বেতন আনতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর এক মায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়; যার পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছেলের চিকিৎসা আমি দীর্ঘদিন ধরে করছিলাম। আমি তাকে খুব চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন দেখতে পেলাম।

তিনি আমাকে বললেন: সাঈদ ভাই! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। এই হাসপাতালে এটাই আমাদের শেষ দেখা।

আমি তার কথায় অবাক হলাম। ভাবলাম- তিনি হয়তো আমার চিকিৎসায় সন্তুষ্ট নন; তাই ছেলেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছেন। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

তিনি আমাকে বললেন: না সাঈদ ভাই, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি- আপনি একজন বাবার মতোই আমার ছেলের পাশে ছিলেন। আমরা যখন আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম; তখন আপনিই তার চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে আবার আমাদের মনে আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন।

- তারপর তিনি খুব দুঃখিত ও ব্যথিত মনে আমার সামনে থেকে চলে গেলেন।

পাশের লোকটি এবার সাঈদের করার মাঝখানে বলে ওঠলেন: আশ্চর্য! তিনি যদি আপনার চিকিৎসায় সন্তুষ্ট হন এবং তার ছেলেরও উন্নতি হয় তবে তিনি কেন চলে গেলেন?

সাঈদ উত্তর দিলেন: আমিও এটাই ভেবেছিলাম, তাই প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিলাম।

কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছিল- সম্প্রতি ছেলেটির বাবা চাকরি হারিয়েছে; এজন্য ছেলের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে তারা অক্ষম।

পাশের লোকটি বললেন: খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। আল্লাহ ছাড়া গরিব অসহায়দেরকে আর কেউ নেই। আপনি তাদের জন্য কিছু করেননি?

সাঈদ বললেন: আমি ম্যানেজারের কাছে গিয়ে হাসপাতালের ব্যয় খাত থেকে ছেলেটির চিকিৎসার খরচ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তীব্রভাবে এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন- ‘এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান; কোনো দাতব্য সংস্থা নয়’।

- আমি সেই পরিবারের জন্য কোনো কিছু করতে না পেরে দুঃখিত হলাম। ব্যথিত মন নিয়ে ম্যানেজারের রুম ত্যাগ করলাম।

- তারপর হঠাৎ আমার হাত চলে গেল পকেটে; যেখানে হজ্বের জন্য জমানো টাকাগুলো রেখেছিলাম।

আমি কিছুক্ষণ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। এরপর মাথা উপরে তুলে আমার রবকে বললাম:

হে আল্লাহ! এই মুহূর্তে আমার মনের অবস্থা কী তাতো আপনি ভালো করেই জানেন। এবং আপনি এ-ও জানেন- আপনার ঘরে গিয়ে হজ্ব করা এবং আপনার রাসূলের মসজিদটি স্বচক্ষে দেখার চেয়ে আমার কাছে প্রিয় আর কিছুই নেই।

আপনি জানেন- এই প্রিয় কাজটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমি সারাজীবন কাজ করে যাচ্ছি। একটু একটু সঞ্চয় করছি গত তিরিশটা বছর। আপনার কসম করে বলছি- আমি এই দরিদ্র মহিলা এবং তার ছেলেকে নিজের চেয়ে বেশি পছন্দ করি। সুতরাং আমাকে আপনার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন না।

- আমি অ্যাকাউন্টস ডেস্কে গিয়ে তার চিকিৎসার জন্য আমার হজ্বের জমানো সব টাকা দিয়ে দিলাম। এতে পরবর্তী ছয় মাস তার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ হলো।

- আমি হিসাবরক্ষককে অনুরোধ করলাম মহিলাটিকে জানাতে যে, এটি হাসপাতালের বিশেষ ব্যয় খাত থেকে এসেছে।

তিনি এতে আপ্লুত হয়েছিলেন এবং চোখের জল ছেড়ে বলেছিলেন- আল্লাহ তায়ালা আপনার এবং আপনার মতো লোকদের সবকিছুতে বরকত দান করুন।

তাঁর পাশের লোকটি তখন জিজ্ঞেস করলেন: যদি আপনি আপনার সমস্ত অর্থ দান করেন, তবে হজ্বে গেলেন কীভাবে?

সাঈদ বললেন: আজীবনের জন্য হজ্বের সুযোগ হারিয়ে আমি সেদিন দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরে গেলাম। তবে মুহূর্তেই আমার হৃদয় খুশিতে ভরে ওঠল! কেননা আমি ভদ্রমহিলা এবং তার ছেলের একটি ঝামেলা মেটাতে পেরেছিলাম।

- সেই রাতে আনন্দাশ্রু নিয়ে আমি ঘুমিয়েছিলাম।

- গভীর ঘুমে স্বপ্নে দেখলাম- পবিত্র কাবার চারপাশে আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং লোকেরা আমাকে সালাম দিচ্ছিল‌। তারা আমাকে বলছিল: ‘হাজ্জুন মাবরুর হে সাঈদ! কেননা আপনি পৃথিবীতে হজ্ব করার আগে জান্নাতে হজ্ব করেছেন’!

- আমি সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠলাম এবং অবর্ণনীয় সুখ অনুভব করলাম। আমি সমস্ত কিছুর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা করলাম এবং এই সুখানুভূতি প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।

সকালে আমি যখন ঘুম থেকে উঠি তখন আমার ফোনটিও বেজে ওঠে। দেখি আমার হাসপাতালের ম্যানেজার ফোন দিয়েছেন।

তিনি আমাকে জানান- হাসপাতালের মালিক এই বছর হজ্বে যেতে চান এবং তিনি তাঁর ব্যক্তিগত থেরাপিস্ট ছাড়া যেতে পারবেন না।

তবে সমস্যা হলো থেরাপিস্টের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা এবং তিনি গর্ভাবস্থার শেষ দিনগুলিতে পৌঁছেছেন। তাই স্ত্রীকে এই অবস্থায় রেখে তিনি কিছুতেই যেতে পারবেন না।

এরপর তিনি আমাকে অনুনয় বিনয় করে বললেন- আপনি কি আমার একটু উপকার করবেন? আপনি কি দয়া করে মালিকের সঙ্গে হজ্বে যাবেন?

আমি সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করে সিজদা দিলাম। এবং যেমনটা আপনি দেখতে পাচ্ছেন- আল্লাহ তায়ালা আমাকে কোনো টাকা-পয়সা খরচ করা ছাড়াই তাঁর ঘরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি হজ্বে যেতে সম্মতি জানানোর পর হাসপাতালের মালিক আমাকে তাঁর সঙ্গ দেওয়ার খুশিতে আমার কোনো বিশেষ চাওয়া পূর্ণ করে দেওয়ার জন্য জোর করছিলেন।

আমি তাকে ভদ্রমহিলা এবং তার ছেলের গল্পটি বলেছিলাম। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্যয় থেকে ছেলেটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে দিলেন। শুধু তাই নয়- অভাবী রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে একটি 'অনুদানের বাক্স' স্থাপন করালেন। এবং সর্বোপরি ছেলের বাবাকে তিনি নিজের একটি সংস্থায় ভালো চাকরি দিয়ে দিলেন। এমনকি ছেলেটির চিকিৎসার জন্য আমি প্রথমে যে অর্থ ব্যয় করেছিলাম তার পুরোটাই তিনি আমাকে ফিরিয়ে দিলেন।

আপনি কি আমার রবের অনুগ্রহের চেয়ে মহান অনুগ্রহ দেখেছেন? সুবহানাল্লাহ..

পাশের লোকটি তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন: আল্লাহর কসম! আমি এখন যেমন লজ্জা অনুভব করছি ইতোপূর্বে কখনও আমি এই ধরণের লজ্জা অনুভব করিনি।

প্রতিবছর হজ্ব করার পর আমি ভাবতাম- আমি দুর্দান্ত কিছু করেছি। আমি কতো ভাগ্যবান যে, এতোবার আল্লাহর ঘরে আসতে পেরেছি। নিশ্চয় এর মাধ্যমে আল্লাহ আমার মর্যাদা অনেক উন্নত করেছেন।

তবে আমি এখন বুঝতে পেরেছি- আপনার হজ্ব আমার হাজারটা হজ্বের সমান। কেননা আমি নিজে আল্লাহর ঘরে গিয়েছি, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে তাঁর ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এবং তাঁর ঘরের মেহমান হওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা তিনি নিজেই করে দিয়েছেন। আল্লাহু আকবার। আল্লাহ আপনার হজ্ব কবুল করুন।

সর্বদা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে ভালো চিন্তা করুন। বিশ্বাস রাখুন- তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং আমরা যা কিছু আমল করি তা কবুল করুন।

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে সংকলিত) - সংগৃহিত

27/03/2020

আসুন সময়টাকে এমন কাজে লাগাই যা সারাজীবন ও আখিরাত - উভয়টাতেই কাজেই আসে!

কালামুল্লাহ অর্থাৎ কুর'আনের কতটুকু অংশ আমরা ঠিকঠাক বুঝে পড়েছি ও মনে রেখেছি? আসুন না এই অবসর সময়ে আমরা কুর'আনের তাফসীরের পিছনে সময় দেই। যারা আরবী জানেন তারা প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য তাফসীর গুলো নিয়ে বসুন, একটি আয়াতের তাফসীর সবগুলো তাফসীরে দেখুন।

আর যারা ইংরেজী জানেন তারা বিভিন্ন তাফসীরের বাংলা + ইংরেজী অনুবাদ নিয়ে বসুন, ইবন কাছীরের ইংরেজীটা পড়বেন, বাংলাটা নয়। আর যারা কেবল বাংলা জানেন, তারাও একাধিক তাফসীরকে সামনে নিয়ে বসুন, একটি আয়াতের তাফসীর আগে একটি তাফসীরে দেখবেন, অতঃপর আরেকটি তাফসীরে। এভাবে ২/৩ টি তাফসীর দেখুন, মনে রাখুন, পয়েন্ট করে খাতায় লিখে রাখুন। এক আয়াতকে বুঝতে যদি সারাদিনও লাগে তাহলে লাগুক!

কুর'আনের উম্মাহ আজ কুর'আনকেই ভুলে গেছে! শত শত কিতাব অধ্যয়ন করা হয়, দিনে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়া হয়; কিন্তু কুর'আন? খুলেও দেখা হয় না! আর যারা খুলেন তারা অনেকেই কেবল সূরাহ মূলক, রহমান, ওয়াকিয়াহ ইত্যাদি তিলাওয়াত করে বা অনুবাদ সহ পাঠ করেই ক্ষান্ত হোন!

কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা ছিল না! চলুন না এই অবসর সময়েই অভ্যাস পরিবর্তন করি!

ভাইদের বলছি, ঘরে আছেন বলে সারাদিন স্ত্রীকে রান্নাঘরে রাখবেন না! খাবার কম খান, স্ত্রীকে কাজে সাহায্য করুণ, অতঃপর একসাথে কুর'আন ও তাফসীর নিয়ে বসুন! ধীরে ধীরে তার অভ্যাসও পরিবর্তন হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানের মা যদি কুর'আন বিমুখ হয়, কুর'আনের বুঝ তার না থাকে, আপনার সন্তানের উপর তার প্রভাব পড়বেই!

শাইখ ইবন উছাইমীন রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ কুর'আনের উপর যার দখল যত বেশী, আল্লাহ তা'আলার প্রতি তার ভয় তত বেশী।

তাক্বওয়া অর্জনের জন্য কুর'আনের চেয়ে বড় মাধ্যম আর আছে কী?! সামনে রমাদ্বান, তাক্বওয়া অর্জনের আরেকটি সুযোগ! আসুন রমাদ্বান শুরু হওয়ার পূর্বেই আমরা কুর'আন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করার অভ্যাস গড়ে তুলি, তাহলে রমাদ্বানে সিয়াম ও কুর'আন, উভয়ের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় তাক্বওয়া অর্জন করতে পারবো। আল্লাহ তা'আলা আমাদের মুত্তাক্বীদের অন্তর্ভুক্ত করুক, আমীন।

লেখক - হযরত মাঈনুদ্দীন আহমদ

18/04/2017

মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী দ্বীনের ব্যাপারে একে অপরের সহায়ক, তারা সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকর্ম থেকে নিষেধ করে, নামায কায়েম রাখে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে। তাদের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন।(সূরা -তাওবাহ্,আয়াত ৭১)

24/02/2017

-"গ্রাজু‌য়েশন শেষ করছো বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা আ‌ছে বাবা?"
-"না আং‌কেল কোনো দেশে যাওয়ার ইচ্ছা নাই।"

- "হুজু‌র হয়ে এইসব কী বলো? জানো না মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "জ্ঞানার্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে যাও।"

-"ইয়ে মানে হাদীসটা জাল।" :/
-হুম,বুঝলাম। তাহলে দেশেই থা‌কো। দেশের জন্য কিছু করো। হাদীসে তো আছে,
"দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।"

-"এই হাদীসটাও তো জাল।" :(

-"দুইদিনও হয় নাই দাড়ি রাখা শুরু করছ, এখনই এত জাল-ফাল বলা শুরু করছ; অল্প জ্ঞান জাহির করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া শুরু করছ।
এটা জানো না যে, "মানুষের মন ভাঙা মসজিদ ভাঙার সমান?"

-"আং‌কেল এই হাদীসটাও তো জাল...." -_-

22/02/2017

নতুন বউ আসলে ছেলেপক্ষের আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের কমন প্রশ্ন "মেয়ে বাড়ি থেকে কি দিল?"
চট্টগ্রাম অঞ্চল তো আরও একধাপ উপরে... বিয়ের পর প্রথম কুরবানি ঈদে মেয়ের বাড়ি থেকে গরু গিফট না দিলে নাকি ছেলেপক্ষের মান ইজ্জত থাকে না।
সাড়া বাংলাদেশেই এই লেনদেন প্রথা বেশ জনপ্রিয়... ছেলেপক্ষ এটাকে অনেকটা অধিকার হিসেবেই নেয়।
অথচ বিয়ের সময় কোন যৌতুক মেয়ের পরিবারের কাছে থেকে তো নেওয়া যাবেই না, বিয়ের পরেও জোর করে কোন কিছু আদায় করা যাবে না... ইসলামে এটি নিষিদ্ধ।
বরং বিয়ের সময় স্বামী উল্টো স্ত্রীকে দিতে বাধ্য থাকবে যেটার নাম মোহরানা। এরপর বাকি জীবন স্ত্রীর ভরণ পোষণসহ সকল অর্থনৈতিক দায়িত্ব স্বামীর একার।
এমনকি স্ত্রী যদি চাকুরীও করে, সেই ইনকামে স্বামীর কোন অধিকার নেই। স্ত্রী চাইলে সেটা নিজের জন্য খরচ করতে পারে কিংবা সংসারেও কাজে লাগাতে পারে। সেটা তার সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা।
তবে বিয়ের সময় বা পরে স্ত্রীর পরিবার নিজেদের ইচ্ছায় ছেলেকে কোন কিছু দিতে চাইলে সেটা নেওয়া বৈধ... কারণ এটা উপহার... এটি যে শুধু বিয়ের সম্পর্কেি হতে হবে তা নয়, যে কেউ যে কাউকে উপহার দিতে পারে... বন্ধু বন্ধুকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, প্রতিবেশি আরেক প্রতিবেশীকে... ইত্যাদি ইত্যাদি... এতে সম্প্রীতি বাড়ে...
সমস্যা হল, বিয়ে জিনিসটাকে আমাদের দেশে অনেক কঠিন করে ফেলা হয়েছে... ছেলে পক্ষ যেমন যৌতুক দাবী করে, মেয়ে পক্ষও ছেলের সামর্থ্যের বাহিরে মোহরানা দাবী করে।
স্ত্রীর মোহরানা আদায় করা ফরজ। এটি স্ত্রীর হক। স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই তার মোহরানা আদায় করতে হয়। ফলে বেশি মোহরানা দাবী করা হলে স্বামী সম্পূর্ণরূপে তা পরিশোধ করতে পারে না।
সমস্যা বাঁধে বাসর ঘরে। তখন স্ত্রী বাধ্য হয়ে স্বামীকে বাকি মোহরানা মাফ করে দেয় যাতে তারা বৈধভাবে মিলিত হতে পারে। কিন্তু এটি আসলে মোহরানার নামে ধোঁকা ও তামাশা ছাড়া আর কিছু না...
মাফ নয়, মোহরানা যা ফিক্সড হবে সেটাই সম্পুর্ন পরিশোধ করে দিতে হবে... একসাথে কিংবা যদি পুর্বচুক্তি থাকে তবে কিস্তিতে। এরপর স্ত্রী চাইলে স্বেচ্ছায়, খুশি মনে মোহরের অংশ বিশেষ মাফ করে দিতে পারে কিংবা পুরোপুরিভাবে বুঝে নিয়ে কোন অংশ স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারে।
এই জন্য ইসলামি নিয়ম হল মোহরানা এমন পরিমাণ হবে যাতে স্বামী তা নগদে পরিশোধ করতে পারে। হযরত আলী (রা) যখন ফাতেমা (রা) কে বিয়ে করেন তখন একটি লোহার বর্ম মোহরানা হিসেবে দিয়েছিলেন..
আমাদের সমাজে মেয়ে পক্ষের এমন উচ্চ মোহরানার দাবীর পেছনে অবশ্য কারণ হিসেবে থাকে মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা... কারণ, আমাদের দেশে বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বিয়ে যেমন কঠিন করা হয়েছে, অপরপক্ষে ডিভোর্স জিনিসটাকে খুবই সহজ করে ফেলেছে। হাসপাতালে প্রায়ই দেখি পারিবারিক অশান্তি... মারধর... এরপর ডিভোর্স... এরপর শুরু হয় থানায় বা কোর্টে মামলা... হয়রানি... এভাবেই বাকি জীবন পার হয়ে যায়।
বিয়ের শর্ত হল চারটি... ছেলে মেয়ের সম্মতি, সাক্ষীর উপস্থিতি, মেয়ের মোহরানা আর মেয়ের অভিভাবকের উপস্থিতি... কত সুন্দর সহজ শর্তাবলী।
অথচ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা বিয়ের মত একটি সহজ জিনিসকে কত জটিল করে তুলেছে!
..
Dr Taraki Hasan

21/02/2017

শহিদ হয়েছেন সুমাইয়া (রাঃ),
শহিদ হয়েছেন হামজা (রাঃ),
শহিদ হয়েছেন উমার (রাঃ),
শহিদ হয়েছেন উসমান (রাঃ),
শহিদ হয়েছেন আলী (রাঃ) ।
- তাদের নামে শহীদ মিনার নির্মাণ করে
ফুল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না !
আর আমাদের ভাষার জন্য যারা প্রান দিয়েছেন,
তাদের জন্য শহীদ মিনার নির্মাণ করে ফুল দিতে হয়?
নিজের বিবেককে পশ্চিমাদের কাছে
বিক্রি করে দিবেন না ।
তারা যাই করে সেটাকেই নিজেদের আদর্শ বানিয়ে নিচ্ছেন কেন?
ভাষার জন্য এবং দেশের জন্য যারা প্রান দিয়েছে, তাদের অনেক ভালোবাসি,
তাদের জন্য জান্নাতের দোয়া করি ।
কারণ তারা জুলুমের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে
প্রান দিয়েছে কিন্তু এর সাথে শহীদ মিনার তৈরি করে নিয়ে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের এই সভ্যতা কিভাবে আসতে পারে ?
অন্তত ইসলামে এই সভ্যতা নেই ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে,
কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।"
[ সূরা ইউসূফ, আয়াত ১০৬ ]
সুতরাং, শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে,
তাদের জন্য নামাজ পড়ে ক্ষমার প্রার্থনা করুন ।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন ।
যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকেন ।

Photos 23/01/2016

●|● ঈমানের সংরক্ষণ ।। ১ম পর্ব ●|●

ইনশাআল্লাহ আজকের খুতবায় আমি আপনাদের সাথে কুরআনের ৪৯ তম সুরা হুজুরাত এর একটি নির্দিষ্ট আয়াত আলোচনা করতে চাই যেটাতে আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল খুব ইন্টারেস্টিং একটি বিষয় আলোচনা করেছেন। তিনি ‘আরাব’ নামক একদল লোকের আলোচনা করেছেন। ‘আরাব’রা বেদুইন ছিল, এবং এই আয়াতের প্রেক্ষাপট, আলোচনার মূলভাবটা বলার পূর্বে আমাদেরকে এই লোকেদের সম্পর্কে কিছু জানতে হবে, যেটা আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন। আপনারা জানেন যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) মক্কা নগরীতে উনার দাওয়াত কাজ পরিচালনা করতেন, যেটা ওই অঞ্চলের অন্যান্য এলাকা থেকে ঘনবসতিপূর্ন ছিল। এরপর উনি মদীনা শহরে গেলেন, সেটাও আরেকটি ঘনবসতিপূর্ন এলাকা ছিল। অর্থাৎ এটি ছিল এমন একটি শহর যেখানে অনেক মানুষ কাছাকাছি বসবাস করতো। কিন্তু আরব জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তখন ছিল, “আরাব”।

“আরাব” এমন লোক যারা শহরে বাস করতো না। তারা ঘুরে বেড়াতো। তারা তাদের পশুর পাল নিয়ে মরুভূমির বুকে চড়ে বেড়াতো। অধিকাংশ সময়, বছরের অধিকাংশ সময় তারা বাইরেই থাকত বিরাণ ভূমির মাঝে। তারা শহরে যারা সবসময় বাস করে এমন লোকেদের মত ছিল না। এবং ওইসময় অধিকাংশ আরবদের জীবনযাপনই এরকম বেদুইনদের মত ছিল, যারা তাদের তাঁবু নিয়ে ঘুরে বেড়াতো, তাদের মালপত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। এবং এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা এরকম করে ঘুরে বেড়াতো। তাদের কেউ হয়তো ব্যবসা করতো, আবার কেউবা তাদের পশুদের দুধ বিক্রি করে, এভাবে বিভিন্ন ভাবে তারা জীবিকা নির্বাহ করতো। অর্থাৎ এরা হচ্ছে এমন লোক যারা ঘনবসতিপূর্ন এলাকার অংশ নয়। তো তাদের মাঝে কেউ কেউ তখন মুসলিম হওয়া শুরু করেছে। এই লোকেরা শুধু সাধারণ লোকজনের সংস্পর্শবিহীন ছিল তাই নয়, তাদের সাথে মুসলিমদেরও কোন নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তারা একদম একা ছিল। যদিও তারা মুসলিম ছিল, ইসলাম সম্পর্কে তারা খুব কমই জানতো। তাই যে জিনিসটা আমরা প্রথমেই এই সুরা থেকে জানতে পারি, তাহলো যেহেতু অন্য লোকজনের সাথে তাদের মেলামেশা কম ছিল তাই তারা ‘আদব’ ‘শিষ্টাচার’ এগুলো বুঝতো না। \

আপনারা জানেন যে এরকম হয়, যারা হয়তো শহরে বা লোকালয়ে বাস করে না, তারা জানে না কিভাবে অন্যদের সাথে চলাফেরা করা উচিত। তাই এই লোকেরা যখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কাছে এসে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলো, আল্লাহ সুরার শুরুতেই তাদের বর্ণনা দিয়েছেন, “ان الذين ينادونك من وراء الحجرات اكثرهم لا يعقلون’ এই বেদুইনদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, তারা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর বাড়ির কাছে এসেছে এবং তারা বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উনার নাম ধরে ডাকছিল। এবং তারা ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ’ বলে ডাকেনি। এখানে আমাদেরকে বুঝতে হবে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে উনার পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলে ডাকতেন। উনারা রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে উনার নাম ধরে ডাকতেন না। উনার চাচা উনার নাম ধরে ডাকতেন না, উনার সবচেয়ে ভাল বন্ধু উনার নাম ধরে ডাকতেন না, আশেপাশের সবাই উনাকে উনার উপাধি ‘রাসুলুল্লাহ’ বলে ডাকতেন, এটা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর প্রতি সম্মানেরই অংশ ছিল। কিন্তু এই বেদুইনরা আসলো এবং বলল ‘...ইয়া মুহাম্মদ..’। “মুহাম্মদ বের হও, তোমার সাথে আমাদের কথা আছে”। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে এটা খুবই অশোভনীয় ছিল। তাই যদিও এটা ভুল ছিল, আল্লাহ প্রথমে তাদেরকে একটি অযুহাত দিলেন, “তাদের অনেকেই এটা বুঝবে না” এবং তাদের পূর্বাপর চিন্তা করলে আপনি বুঝতে পারবেন কেন তারা বুঝতে পারবে না, কেননা তারা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাহচর্যে খুব একটা ছিল না। তারা সাহাবাদের সাহচর্যেও খুব একটা ছিল না। তারা প্রশিক্ষিত ছিল না, শিক্ষিত ছিল না যেভাবে অন্য মুসলিমরা শিক্ষিত ছিল। তাই আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) কাছে যে ব্যবহার আশা করা যায়, ওদের কাছ থেকে তা আশা করা যায় না। উসমান (রাঃ) এর কাছ থেকে বা উনাদের মত মানুষদের কাছ থেকে যা আশা করা যায়, ওদের কাছ থেকে তা যায় না। এখন আল্লাহ আবার ওদেরকে শিখানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। ولو انهم صبروا حتى تخرج اليهم لكان خيرا لهم والله غفور رحيم ‘তারা যদি আপনি বের হয়ে এসে তাদের সাথে কথা বলা পর্যন্ত ধৈর্যশীল হত, (৪৯;৫) তাহলে ওটা তাদের জন্য ভাল হত’। (৪৯;৫) তাদের এত অধৈর্যশীল হয়ে এভাবে চিৎকার করে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ঘরের বাইরে ডাকাডাকি করা উচিত হয়নি।

আমি আপনাদেরকে এই ঘটনার একটু অল্পবিস্তর ভূমিকা দিতে চাই আপনাদের জানার জন্য। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সময়েও ঐখানে নানান ধরনের মুসলিম ছিল। আর এটার সাথে তাদের অন্তরে কতটুকু ঈমান ছিল তার কোন সম্পর্ক নেই। কিংবা তারা কতটুকু বেশি ভাল বা কম ভাল ছিল তারও কোন সম্পর্ক নেই। এটা আসলে বলছে তারা কতটুকু ইসলামের সম্পর্কে জানে তার উপর। এই বেদুইনদের রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা উনার সাহাবীদের সাথে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা মুসলিম। আসল ব্যাপার হচ্ছে যেহেতু তারা খুব কম জানতো এবং তারা খুব কমই ইসলাম কে চিনেছে, তাই তারা ওই মুসলিম সমাজের অংশ হতে পারেনি যারা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে, বেড়ে উঠছে, ইসলাম সম্পর্কে আরো জানছে, তাদের ইসলামের সাথে সম্পর্কটা আরো শক্ত হচ্ছে, তারা উম্মাহ হিসেবেও আরো শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু বেদুইনরা এসবের কিছু সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল নয়। তাই সময়ের সাথে যেটা হল সেটা হচ্ছে তারা যেই অল্পটুকু জানতো তাতেই তারা খুব খুশী ছিল। এবং এটাই ভয়ংকর। যখন আপনি অল্প জানেন এবং তাতেই খুশী থাকেন। এই সমস্যাটাই আমি আজকে যেই আয়াতটা আলোচনা করতে চাই তাতে আলোকপাত করা হয়েছে। “قالت الاعراب امن”, বেদুইনরা আসলো আর বলল আমাদের ঈমান আছে, আমরা বিশ্বাস করি। তারা শুধু এটা বলেনি যে তারা মুসলিম, তারা বলল আমাদের ঈমান আছে। এখন যেই মুসলিমরা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাহচর্যে ছিলেন, তারা বুঝে যে প্রকৃত পক্ষে এটা বলা যে ‘আমরা বিশ্বাস করি’ এর সাথে আরো অনেক দায়িত্ব জড়িত।

যখন কেউ বলে ‘আমি ঈমান এনেছি’, ‘আমি বিশ্বাস করেছি’, এটার অর্থ আসলে আমি আমার পুরা জীবন ধারাটিই পরিবর্তন করে ফেলেছি। কিভাবে আমি ঘুমাই, কিভাবে জেগে উঠি, কিভবে খাই, কিভাবে পান করি, কিভাবে চিন্তা করি, আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন জিনিসটা কি? আমার জীবনের লক্ষ্য কি? আমার জীবনের সব জিনিস পরিবর্তিত হবে, একটি কারণে, কারণটি হল ‘আমি বিশ্বাস করি’। এটা কোন সাধারণ ব্যাপার নয়। কিন্তু ওই বেদুইনদের মতে এটা খুব সাধারণ,’ ঠিক আছে এখানে একজন ঈশ্বর আছে, এবং এই ব্যক্তি তাঁর বার্তাবাহক, আর আমরা তাঁর কথা বিশ্বাস করি, যেটা তাঁর কাছে এসেছে, যেটাকে কুরআন বলে, ঠিক আছে, ভাল, আমি গ্রহণ করলাম। এটা তাদের জন্য একটা অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল, এটা জটিল কোন বিষয় ছিল না, এটার জন্য তাদের নিজেদেরকেও একেবারে রূপান্তর করার প্রয়োজন ছিল না। কিছুই ছিল না। তাই তারা বলল, ‘আমান্না’, আমরা ঈমান আনলাম, ভাল। কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল তাদেরকে শুধরে দিলেন আর বললেন, ‘কুল লাম তু’মিনু’, ‘তাদেরকে বল’, রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে উনার নিজস্ব ব্যবহারের ধরন থেকে বের হয়ে তাদেরকে বলতে হল ‘লাম তু’মিনু’, তোমরা বিশ্বাস আননি। ‘ওয়ালা কিন কুলু আসলামনা’ বরং এটা বল যে ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’।

প্রসংগক্রমে- আমরা ইসলাম গ্রহন করেছি, আমরা সমর্পন করেছি এটার মানে হল আমরা শুধু প্রথম পদক্ষেপটাই নিয়েছি। ঈমান অনেক পরিপক্ক একটি বিষয়। ইসলাম শুধু তোমার প্রথম পদক্ষেপ। এবং আপনারা কুরআনে লক্ষ্য করবেন, ‘আমান্না’। ‘আমান্না’ ব্যাপারটি কুরআনে প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণত যখন লোকেরা বলে আমরা বিশ্বাস করতে এসেছি, এটা অবশ্যই একটি ভাল ব্যাপার। কিন্তু এই লোকদের ক্ষেত্রে, আপনাকে বুঝতে হবে যে তারা কোথা থেকে এসেছে, ওরা ছিল, নিজেদের উপর অতিমাত্রায় আস্থাশীল, যে তারা ইসলাম ধরে রাখতে পারবে, তাদের ঈমান একদম নিখুঁত এবং যা যা জানা দরকার তারা সবকিছুই জানে, আমার আর কিছু বুঝার দরকার নেই, আর বেশি জানার চেষ্টা করারও দরকার নেই, আমার নিজের ভিতরে কিছু পরিবর্তন করারও দরকার নেই। এই ‘অতিমাত্রায় আস্থা’ হচ্ছে সমস্যা। এই বেদুইনরা যাদের সাথে বাকি সমাজের যোগযোগ ছিল না, যারা অতি আস্থাশীল ছিল যে তাদের মাঝে ইতোমধ্যেই ঈমান রয়েছে এবং ভাবছে যে এটা কোন ব্যাপারই না। তাদেরকে এটা বলতে হবে যে, তারা শুধু প্রথম পদক্ষেপটাই নিয়েছে, ‘কুল লাম তু’মিনু, ওয়ালা কিন কুলু আসলামনা’ । এখন যখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এটা বলছেন, তারা এটা বুঝতে পারছিল না কেন আল্লাহ মহানবী (সঃ) কে দিয়ে বলাচ্ছেন ‘তোমার শুধু ইসলাম আছে কিন্তু ঈমান নেই’, ‘আমরা আল্লাহ উপর বিশ্বাস করি, আমরা তাঁর রাসূলে বিশ্বাস করি, আমরা আখিরাতে বিশ্বাস করি, আর কি দরকার? সমস্যা কি? কেন আপনি বলছেন যে আমাদের শুধু ইসলাম আছে, ঈমান নেই? আমাদের সেই উঁচু স্তরে যাই নি।’ আল্লাহ নিজে এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। ولما يدخل الايمان في قلوبكم ঈমান, বিশ্বাসের উপহারটা, স্বীকারোক্তি, এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, এখনো তোমাদের অন্তরে পৌছায়নি। এর মধ্য দিয়ে আমরা খুব কঠিন একটা বাস্তবতার দেখা পাচ্ছি। ঈমান এমন কোন ব্যাপার নয় যেটা এমনি এমনি হয়ে যায় এটা আপনি নিজে নিজে এমনি এমনি পেয়ে যাবেন না। এবং আপনি এটাও ভাবতে পারেন না যে আপনার এটা আছেই। আর এমন কিছুও নয় যেটা আপনি নিজে নিজেই রাখতে পারবেন। আপনাকে এটা রক্ষা করতে হবে। কুরআনের অন্য আরেকটি জায়গায় আল্লাহ আসলে পাথরের সাথে তুলনার বর্ননা করেছেন, যার একেবারে গভীরে রয়েছে পানি, এবং আল্লাহ এই পানিটাকেই ঈমানের সাথে তুলনা করেছেন। এখন আল্লাহ এই আয়াতে আমাদেরকে বলছেন, যে এই বেদুইনদের জানতে হবে যে তারা এমনি এমনি তাদের ঈমান ধরে রাখতে পারবে না শুধু মাত্র এই কারনে যে তারা সহজেই ইসলামের ছায়াতলে এসেছে। তারা এর কিছু বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছে এবং তারা ভাবছে এটাই তাদের জন্য যথেষ্ঠ।

কেন আমি এটা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি? কারন পুরো বিশ্বজুড়ে, আমেরিকাব্যাপি, ইউরোপব্যাপি, অস্ট্রেলিয়াব্যাপি, বিশ্বের অনেক জায়গাতেই, বিশেষত যেখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু, অনেক মুসলিম সমাজই খুব অল্প সংখ্যক লোকের সমষ্টি। এবং তাদের জন্য জানার, বেড়ে উঠার সুযোগ খুব সীমিত। তাই উদাহরণ স্বরুপ যেমন বলা যায় কোন জনগোষ্ঠীর বাবা-মাদের ইসলামিক জ্ঞান অত্যন্ত কম। এটা তাদের দোষ না, তারা ইসলাম সম্পর্কে খুবই অল্প জানে, এরূপ তাদের সন্তান হয়, তাদের সন্তানরা স্কুলে যায়, তারা সেখানে ৮ ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা সময় কাটায় বাসার বাইরে, বাবারা থাকে কাজে, এই বাচ্চারা বাসায় ফিরে তারা ৩-৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকে তাদের স্কুলের বাড়ীর কাজ করতে অথবা অন্য কোন কাজে, এরপর তাদের কিছু ভিডিও গেমস খেলতে হয় অথবা টিভি দেখতে হয়, এবং যতক্ষণে দিন শেষ হয়ে যায় আপনি আসলে ইসলাম সম্পর্কিত কিছুই করেন নি। নূন্যতম যেটা হয়তো বা আপনি করেছেন তা হল তাদেরকে বলেছেন ‘এই চলো, নামাজ পড়বো’, অথবা ‘ চল মাগরিব পড়ি’, ‘ওহ, না, আমাকে এখন আবার নামাজ পড়তে হবে? (বাচ্চার অভিব্যক্তি)’। এবং তারপর, এই বাচ্চাটি আসলে ইসলাম সম্পর্কে অত্যন্ত অল্প জানতে পারে। অত্যন্ত অল্প জানতে পারে। কারন তারা যতক্ষণ জাগ্রত থাকে তাদের পুরা সময়টাই যায় মুসলিম বাদে আর অন্য যতভাবে সম্ভব, সেভাবে। আসলে নির্দিষ্ট ভাবে ইসলামিক তেমন কিছু্রই তারা প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হয় না, যাতে তারা ভাবতে পারে যে এটাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। প্রকৃতপক্ষে এরকম সংখ্যালঘু সমাজে, বাচ্চারা যখন স্কুলে যায় তাদেরকে অন্যদের থেকে একদমই আলাদা দেখায়। তারা অন্যদের থেকে একদমই আলাদা ব্যবহার করে। এবং এটা তাদেরকে একদমই একা বোধ করায়। এবং যখন তারা এরকম একাকী বোধ করে তারা ভাবে যে তারা মুসলিম একারনেই। তাই অনেক সময়ই এরকম হয় যে তারা অন্য বাচ্চাদের সামনে নিজেদের কে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতেও সংকোচ করে, তাদের মনে হয় আমাকে এখানে ঠিক মানাচ্ছে না, অন্য বাচ্চাদের সামনে, এবং তারা সংকোচ বোধ করে, নামাজ পড়তে বা এই ধরনের কিছু করতে, অথবা এমন হয়তো যে তাদের বন্ধুরা বাড়ীতে এসেছে, আর তাদের মা নামাজ পড়ছে, তারা মাকে বলছে, ‘মা তুমি কি অন্য ঘরে নামাজ পড়বা, আমার বন্ধুদের কাছে এটা অদ্ভুত লাগছে’? তারা আসলে ইসলামকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নয়। এবং আসলে, এমনকি বাবা-মা রাও, যদিও আমি এতক্ষণ বাচ্চাদেরকে নিয়েই কথা বলছিলাম, আসলে আমার খুতবা কিন্তু বাবা-মাদেরকে নিয়েই। যেসব বাবা-মারা অল্পবিস্তর ইসলাম জানে,তারা সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট, ভাবে যথেষ্ট, আমরা মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জানি যা যা জানা দরকার, সবকিছুই ঠিকঠাক। সবকিছু ততক্ষণ পর্যন্তই ঠিকঠাক, যতক্ষন না আপনার সন্তানরা ১৫-১৬ বছরে পা দেয়। যখন সেই বাচ্চাই, ২০ বছরে পা দেয়, যখন সেই সন্তানই বলে আমি নামাজ পড়ার কোন কারণই দেখতে পাচ্ছি না। আমি দেখি না। তোমরা মুসলিম, ভাল, কিন্তু এটা আমার জন্য নয়।

আমাদেরকে বুঝতে হবে, এই দ্বীন আপনাআপনি বাচ্চাদের কাছে চলে যাবে না, এটা কোন অটোম্যাটিক ব্যাপার না। শুধুমাত্র আপনি মুসলিম, আপনি নামাজ পড়েন, আপনি কুরআন পড়েন এবং আপনি আপনার সন্তানকে নামাজ পড়তে বলেন, এটার নিশ্চয়তা দেই না যে ঈমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে। আসল ব্যাপার হল, এটা তখুনি তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে যখন আপনি আপনার নিজের অন্তরে প্রবেশ করানোর জন্য যথেষ্ঠ চেষ্টা করবেন, ইসলাম যদি আপনার জন্য কোন সাধারণ ব্যাপার হয়ে যায়, ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ যে আপনি সময় বের করে জুমা পড়তে এসেছেন, খুবই ভালো। আল্লাহ আমাদের সকল ইবাদত কবুল করুন, এবং আমদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন, আমরা এসেছি আর জুমা পড়ছি। এর বাইরে, ঘরের ভেতর, সেখানে ইসলামের কিছুই নেই, সত্যি, সত্যিই সেখানে কিছুই নেই, ওখানে কোন কথা বার্তা নেই, আমাদের বাচ্চারা এটাও জানেন না যে, আমাদের রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে ছিলেন, তারা কুরআন কি সেটা জানে না, শুধুমাত্র ছোট কিছু সুরা ছাড়া যেগুলো আপনারা ওদেরকে শিখিয়েছেন, এবং এতটুকুই। এটাই ধর্ম। সেক্ষেত্রে আমাদের সাথে ওই বেদুইনদের তেমন একটা পার্থক্য নেই। যাদের সাথে ইসলামের যোগাযোগ ছিল খুব কম অথচ তারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে তাদের এটি আছে, আর আল্লাহ তাদেরকে বলছেন ‘ এটা এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’ ولما يدخل الايمان في قلوبكم কেননা যদি এটা একবার প্রবেশ করেই থাকে কারো অন্তরে, তাহলে কিছু একটা হবে তাঁর ভিতরে, কিছু একটা হবে যেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, সবাই তার পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত। আপনি হয়তো বলতে পারেন, আমি সর্বক্ষণ ননমুসলিমদের আশেপাশে থাকি, তাই আমার ঈমান দুর্বল হচ্ছে। আমি এমন জায়গায় থাকি যেখানে শিখার কোন জায়গা নেই, শেয়ার করার কোন জায়গা নেই, আমার মুল্যবোধগুলো শক্ত করার কোন জায়গা নেই, হ্যাঁ এটা সত্যি।

কিন্তু জানেন? যখন ঈমান একবার অন্তরে প্রবেশ করে, তখন আপনি একদম নিজে নিজে একা থাকতে পারেন আর তখনও আপনি আপনার ঈমান ধরে রাখতে পারবেন। আপনি হয়তো গুহাবাসীর মত গুহার মাঝে থাকতে পারেন এবং তা স্বত্তেও আপনার ঈমান বজায় থাকবে। আপনি হয়তো ইব্রাহিম (আঃ) এর মত, যিনি ছিলেন, ‘কানা উম্মাতান, একদম নিজে নিজেই উনি একটা উম্মাহ ছিলেন। উনার আশে পাশে উনার কোন সাথী ছিল না। অর্থাৎ আমরা আমাদের পরিবেশকে অযুহাত হিসাবে দাঁড়া করাতে পারি না। বেদুইনদের এই অজুহাত দেয়া হয়নি যে , ‘তোমরা তো শহরে বাস কর না, তোমাদের জন্য এটা ঠিক আছে’। না। ولما يدخل الايمان في قلوبكم ‘وان تطيعوا الله ورسوله لا يلتكم من اعمالكم شيئا’ ‘যদি তুমি আল্লাহর এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর, এখানে রাসুল (স) এর উল্লেখ করাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। ‘وان تطيعوا الله ورسوله কেন ? কারণ, মদিনার বাইরে মরুভূমিতে থেকে রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করাটা সম্ভব নয়। আমাদের জন্য রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করা এক রকম আর বেদুইনদের জন্য রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করা আরেক রকম, আপনাদেরকে তাদের প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে। রাসুল (সাঃ) কি করতে বলছেন সেটা তাদের পক্ষে জানা সম্ভব না যতক্ষণ না তারা উনার সাহচর্যে থাকবেন, যতক্ষণ না ওনাদের সাথে এমন কেউ থাকবে যে বলতে পারবে রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন। তাই তাদের বিকাশের জন্য, আসলে তাদেরকে এমন জায়গায় থাকতে হবে যেখানে এই বিষয়ে পড়াশোনা চলছে, যেখানে এই বিষয়ের বিকাশ হচ্ছে, আলোচনা চলছে। “وان تطيعوا الله ورسوله আরবীতে 'ইতাআ' এর অর্থ শুধু আনুগত্যই নয়, এটা মনোযোগ দেওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ‘ইতাআ’এসেছে ‘তাও’ থেকে যার অর্থ শুধু আনুগত্য বা ঐচ্ছিকই বুঝায় না, এটা মনোযোগ দেয়াও বুঝায়। যদি আপনি মনোযোগ দেন আর তারপর শোনেন এবং আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (সাঃ) আনুগত্য করেন, আপনার কোন কাজ বৃথা যাবে না।

একদিকে তাদেরকে বলা হচ্ছে, তোমাদের প্রকৃত অর্থে ঈমান নেই, তোমাদেরকে সেই ঈমান অর্জন করতে হবে। অন্যদিকে তাদেরকে বলা হচ্ছে, শোন, এর অর্থ এটা নয় যে যা ভাল কাজ তুমি করেছ তা বৃথা গেছে, যদি তুমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (সাঃ) এর আনুগত্যে অটল থাক, তোমার কোন কাজই বৃথা যাবে না। এটা অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। কুরআনের অন্য এক জায়গায় সূরা হাদিদে আল্লাহ তাদের পরিনতি সম্পর্কে বর্ননা করেছেন, যেসব লোকেরা তাদের ঈমানকে সহজভাবে নিয়েছে তারা ভাবে ঠিক আছে আমরা মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ, এর অর্থ সবকিছু ঠিক আছে, না সব ঠিক নেই। না না সব ঠিক নেই। এরকম সম্ভাবনা কি আছে যে কেউ মুসলিম হল, এবং সময়ের সাথে তাদের ঈমান দুর্বল থকে দুর্বলতর হল এমন পর্যায়ে যে তারা এমনকি ইসলাম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু করলো? এটা কি সম্ভব? অবশ্যই। প্রকৃতপক্ষে, হাদীদের আয়াতটিতে যাবার আগে, এমনকি এই সুরাতেও إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا ‘প্রকৃত মু’মিন তারাই যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলে বিশ্বাস করে এবং এরপর কখনো সন্দেহ পোষন করে না’। কেন আল্লাহ বলছেন যে তারা কখনো সন্দেহ পোষন করে না। কারন সেই সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা যদি না থাকতো, তাহলে সেটা উল্লেখ করার কোন দরকারই ছিল না। আসলে আমরা আমাদের ঈমান এমনি এমনি ধরে রাখতে পারবো না, এর জন্য আসলেই প্রচেষ্টা দরকার। অনেক অনেক প্রচেষ্টার দরকার।

Photos 20/01/2016

আল্লাহু আকবর
ইসলাম পুরোটাই বিজ্ঞান
________________
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
পুরুষের প্যান্ট/ কাপড় টাখনুর উপর
পরতে অন্যথায় তা জাহান্নামে যাবে (সহিহ বুখারিঃ৫৩৭১)
_
বিজ্ঞান বলে,পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে
সেক্সুয়াল হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের
প্রয়োজন হয় ।তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে
ঢেকে রাখে তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন
রোগে আক্রান্ত হবে।
..
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
ভ্রুপ্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত (সহিহ বুখারীঃ৫৫১৫)
_
বিজ্ঞান বলে, ভ্রু হল চোখের হিফাজতের জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু
লোম থাকে যদি তা কাটা পড়ে যায় তাহলে
ভ্রুপ্লাগকারী পাগল অথবা মৃত্যুবরন
করতে পারে।
..
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
ধুমপান করা ও জর্দা
খাওয়া হারাম (সহিহ বুখারিঃ ৬১২৪)
_
বিজ্ঞান বলে, ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস
ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়।
ধুম্পান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো
হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায়
এমনকি স্মৃতি শক্তি ও কমে যায়
..
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যাবহার হারাম (মুসলিমঃ১৬৫৫)
_
বিজ্ঞান বলে, স্বর্ণ যেহেতু যৌগ পদার্থ তাই তা স্ক্রীনের সাথে
মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার
পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের সৃমti সব হারিয়ে ফেলবে।
..
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে ( সহিহ বুখারিঃ
৩২৮০)
_
বিজ্ঞান বলে, ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে
পামপ করে আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে
ব্রেনের এনাটমি রস শরিরে প্রবেশ
করতে পারে না যার ফলে ক্যান্সার
হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।
..
**রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্,,
তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ (সহিহ মুসলিমঃ ৪৯৩,৪৯৪)
_
বিজ্ঞান বলে, দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং
৪০ এর আগে যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।
..
** আল্লাহ বলেন্,
আর ব্যভিচারের কাছেও
যেয়ো না। নিশ্চয় এটা
অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের
পথ। ( বনি-ইসরাঈলঃ ৩২)
এবং নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ ( মাইদাহঃ৯০)
_
বিজ্ঞান বলে,, পর্নগ্রাফি , অশ্লিল
সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশা । যদি কেউ এসব নেশজাত
দ্রব্যে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ব্রেনের ফরেন্টাল
এরিয়ার আমাদের পরিচালনা করার ইনটেলুক্টুয়াল সেলগুলো থরথর
করে কাপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে
যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল-
অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে এবং তা
তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
..
** আল্লাহ বলেন্,,
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং
নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।
(আরাফঃ২০৪)
_
বিজ্ঞান বলে, কুরআনের সাউন্ড ওয়েব
শরিরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা
আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং ক্যান্সার রোগিদের। আর
ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে যেমনভাবে ফিউজ
হওয়া ব্যাটারিকে সচল করে।
..............
এইরকম আরো অসংখ্য প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান ইসলামে বিদ্যামান।
মনে রাখবেন,
যদি আপনি ইসলামের কোন বিধান পালন করেন তার
মানে নিশ্চিত থাকুন, আপনি একটি বিজ্ঞান চর্চা করছেন!
..
ইয়া আল্লাহ আমাদের এই বিজ্ঞানময়-কল্যানময় ইসলাম নিজের জিবনে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন।

Photos 20/01/2016

ইসলামে বিবাহ পূর্ব নারী-পুরুষের প্রেমের সম্পর্ক
জায়েজ নাকি হারাম?
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
ইসলামী শরীয়াতে নারী-পুরুষের বিবাহ পূর্ব প্রেমের
সম্পর্ক সরাসরি হারাম। কোন নারী কোন
পুরুষের সাথে এবং কোন পুরুষ কোন নারীর
সাথে প্রেমের মত ভিত্তিহীন অবৈধ
সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারবে না যদি সে
আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করে ঈমান এনে
থাকে এবং তাঁকে ভয় করে থাকে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:- “হে নবী
পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি
তোমরা আল্লাহ কে ভয় কর, তবে পরপুরুষদের
সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিমাতে এমন
ভাবে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি
কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে।”
[সূরা আল-আহযাব আয়াত নাম্বার:- ৩২],
“যারা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে
অশ্লীলতার বিস্তৃত্ব ঘটুক তাদের জন্য আছে
ভয়াবহ শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ
জানেন আর তোমরা জাননা।”
[সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার:- ১৯],
“আর অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেওনা তা
প্রকাশ্যে হোক অথবা অপ্রকাশ্যে হোক না
কেন।”
[সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত নাম্বার:- ১৫১],
“আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান,
পক্ষান্তরে কুপ্রবৃত্তির অনুসারীরা চায় যে,
তোমরা (আল্লাহর নিকট হতে) দূরে বহু দূরে
সরে যাও।”
[সূরা আন-নিসা আয়াত নাম্বার:- ২৭],
“সৎকাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা
পরস্পরকে সহযোগিতা কর, পাপ ও
সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা
করো না। আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ
কঠিন শাস্তিদাতা।”
[সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত নাম্বার:- ০২],
“ব্যাভিচারী পুরুষ কেবল ব্যাভিচারিনী
নারী অথবা মুশরিকা নারী ছাড়া বিয়ে করে
না। আর ব্যাভিচারিনী নারী ব্যাভিচারী
পুরুষ অথবা মুশরিক পুরুষ ছাড়া বিয়ে করে না,
মুমিনদের জন্য তাদেরকে নিষিদ্ধ করা
হয়েছে।”
[সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার:- ০৩],
“চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষের জন্য
আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের
জন্য, চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য
আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য।
তাদের সম্পর্কে লোকেরা যা বলে তা থেকে
তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও
সম্মানজনক জীবিকা।”
[সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার:- ২৬]
“হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণ ও
কন্যাগণএবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা
যেন তাদের কাপড়ের কিয়দংশ নিজেদের
উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ
হবে, ফলে তাদেরকে উত্যাক্ত করা হবে না,
আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”
[সূরা আল-আহযাব আয়াত নাম্বার:- ৫৯]
“মুমিনদেরকে বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত
করতে আর তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষন
করতে এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র, তারা
যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব
ভালভাবে অবগত।”
[সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার:- ৩০]
“আর মুমিনা নারীদেরকে বল তাদের দৃষ্টি
অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থানকে
সংরক্ষন করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য
প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়
তা ব্যাতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার
কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের
স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই,
ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের
মহিলাগণ স্বীয় মালিকানাধীন দাসী
পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর
নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক
ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা
সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন
নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ
করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে।”
[সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার:- ৩১]
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “আমার মৃত্যুর পরে পুরুষদের জন্য
নারীর চেয়ে অধিক ক্ষতিকর ফিতনা আর
কিছু রেখে অথবা ছেড়ে যাচ্ছি না।”
[সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার:- ৫০৯৬]
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “কোন পুরুষ যেন বেগানা (অর্থাৎ-
গায়রে মাহারাম) কোন নারীর সাথে
নির্জনে অবস্থান না করে। কেননা সেখানে
তখন তাদের মধ্যে তৃতীয় জন (ব্যক্তি)
হিসেবে শয়তান উপস্থিত হয়।”
[সুনান আত-তিরমিযী হাদীস নাম্বার:- ১১৭১]
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “তোমাদের কারোর মাথায় লোহার
সুই দিয়ে আঘাত করা তার জন্য অনেক বেশি
শ্রেয় বেগানা (অর্থাৎ- গায়রে মাহারাম)
কোন নারীকে স্পর্শ করার চাইতে।”
[সহীহ আল-জা'মি হাদীস নাম্বার:- ৪৯২১]
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর এবং
নারীকে ভয় কর, কারণ, বনী ইসরাঈলের প্রথম
ফিতনা ছিল নারীর ফিতনা।”
[মুসলিম]
আমি হাজার সম্পদ আমানত রাখার দায়িত্ব
নিতে পারি, কিন্তু একজন গায়রে মাহারাম
নারী সে যদি সুন্দরী নাও হয় তাকে আমানত
রাখার দায়িত্ব নিতে পারবো না।
—আব্দুল্লাহ ইবনে মাসাঊদ রাদিয়াল্লাহু
আনহু
এই দুনিয়াটা সাপের মত। একে ধরতে অনেক
নরম কিন্তু এর কামড় খুবই মারাত্নক।
—হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু
আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1200