27/08/2022
শিশুর ডাক্তার - Doctors For Children
শিশুর বিভিন্ন সমস্যায় কি করনীয় , ডাক্ত
27/08/2022
24/05/2022
আমার বাবু খায় না...
~~~~~~~~~~~~~~
(লিখাটা দীর্ঘ। পাঠকদের অনুরোধ করছি, পুরোটা পড়ার জন্য)
আরহাম রহমান (১৭ মাস) এর ডাক পরতেই মা আনিসা রহমান (নাম ছদ্ম, ঘটনা সত্য) একটা হৃষ্টপুষ্ট বাবুকে নিয়ে চেম্বারে ঢুকলেন। বাবুটার মুখের শিশুশুলভ কোমলতা উবে গেছে থলথলে চর্বির অশ্লীল আধিক্যে। চেয়ারে বসতেই মায়ের হাহাকার, "স্যার! আমার বাবুটা না খেতে খেতে একদম শুকিয়ে গেছে"।
আমার অনুসন্ধৎসু চোখ পুরো চেম্বারে ঘুরছে সেই 'শুকিয়ে যাওয়া' বাবুর খোঁজে (আমার সামনে যে বাবুটা আছে তার জন্য যে 'শুকিয়ে গেছে' শব্দটা বড্ড বেমানান)। সেরকম কাউকে না পেয়ে আমার জিজ্ঞেস, " আপনার বাবুটা কোথায়? "
মাঃ এ-ই তো আমার বাবু!
আমি অনেক কসরত করে বিস্ময় লুকিয়ে শান্ত ভাবে বাবুটার ওজন নিলাম। ১৬.৩ কেজি মাত্র!!
খাবারের ইতিহাস জানতে আমার জিজ্ঞাসাঃ
--আরহাম গতকাল সারাদিনে কি কি খেয়েছে তা কি আপনি বলতে পারবেন?
মায়ের চটপট উত্তরঃ "আচ্ছা, এক এক করে বলি; সকালে একটা ডিম দিলাম, খেলো। দুপুরের ডিমটা কষ্ট করে খেলো। সন্ধ্যার ডিমটা অর্ধেক খেলো আর রাতের ডিমটা জোর করেও খাওয়ানো গেলো না!!" (মায়ের শব্দচয়ন সহ পুরো ঘটনাটি পাঠকবৃন্দ কে বিশ্বাস করার জন্য আমি জোড় অনুরোধ করছি)।
আমি এ পর্যায়ে মা কে থামিয়ে দিয়ে বললাম, 'ঠিক আছে, আমি বুঝতে পারছি। আপনার অন্য খাবারগুলো কষ্টসাধ্য খাওয়ানোর বর্ণনা আর না দিলেও চলবে।'
শান্ত বাচ্চাটির শারিরীক পরীক্ষা শেষে মাকে বোঝানোর লক্ষ্যে আমি বলতে শুরু করলামঃ
~~ দেখুন, ১৭ মাস বয়সে একটা বাচ্চার স্বাভাবিক ওজন আমরা ১০-১১ কেজি আশা করি। সে তুলনায় আপনার বাচ্চার ওজন যথেষ্ট ই বেশী ......................। কথার শেষ দিকে অল্প বয়সে বেশি ওজনের (childhood obesity) কুফল বর্ণনা সহ অনেক কিছুই বোঝানোর চেষ্টা করলাম। অনেক চেষ্টা করে ও আমি তাকে আমার বক্তব্য বোঝাতে ব্যর্থ হলাম। শেষে তিনি মুখ ভার করে উঠে চলে গেলেন। বাচ্চাটি যখন মায়ের সাথে প্রস্থান করছিল, তার শরীরের ভার বহন করার কষ্টকর প্রচেষ্টা তার কিঞ্চিৎ শ্বাসকষ্টের কারণ বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছিল। যাওয়ার সময় মা হয়ত ভাবছিলেন, 'ভিজিটের টাকাটাই জলে গেলো। '
আমিও তখন মনে মনে আফসোস করছিলাম, 'আহা! বেচারি যদি আমার কথাগুলো বুঝতো/ মানতো!'
এরকম বা এর কাছাকাছি ঘটনা আমার মতো শিশু চিকিৎসকের চেম্বারের প্রতিদিনের চিত্র। বাচ্চার মাথা ব্যাথা থাকুক বা পেট ব্যাথা, জ্বর থাকুক বা পাতলা পায়খানা, সাথে একটা কমন কথা প্রায় সব সময়ই থাকবেঃ 'আমার বাবু কিছুই খায় না'।
অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা এখনকার বাচ্চাদের সঠিক ওজন বা স্বাভাবিক এর তুলনায় বেশি ওজন পেয়ে থাকি।
সত্যিকার ব্যাপার হলো, মায়েদের মনের সাইজ বড় আর বাচ্চাদের পেটের সাইজ থাকে ছোট। আর তাই, মায়ের মন আর বাচ্চার পেটের এই যুদ্ধে বাচ্চা হয় পরাস্ত। বাচ্চাগুলো প্রথম বছরের শেষ থেকে ৪/৫ বছর পর্যন্ত এমনিতেই একটু কম খায়। আর এ সময়েই মায়েদের খাওয়ানোর ইচ্ছা, প্রচেষ্ট বা আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশী।
ফলাফলঃ নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে স্থুলতা কে সঙ্গী করে অথবা প্রচন্ড খাদ্য ভীতি নিয়ে।
যে খাবার শৈশবকালীন অন্যতম বড় বিনোদন হওয়ার কথা ছিল তা আজ বাচ্চাদের অন্যতম ভীতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
আসুন, একটা অংক করে আজকের দীর্ঘ লেখাটা শেষ করিঃ
এক থেকে ৬ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী মোটামুটি ওজনের সুত্র হলো~~
""বয়স(বছর) ×২+৭(অথবা ৮)।""
যেমনঃ তিন বছর বয়সে একটি বাচ্চার মোটামুটি ওজন হবার কথাঃ
বয়স(৩)×২+৭(অথবা ৮)=১৩/১৪ কেজি।
পাদটীকাঃ স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা একটি বাচ্চা জন্মের প্রথম বছরে জন্ম ওজনের সাথে যোগ করে ৬/৭ কেজি, পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতি বছর যোগ করে মাত্র ২ কেজি।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ডাঃ খালিদ আহমেদ সাইফুল্লাহ।
সহকারী অধ্যাপক (শিশু)
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর।
#শিশু_বিশেষজ্ঞের_প্রকারভেদ
বড়দের ডাক্তারদের মত শিশুবিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরও ব্রাঞ্চ বা সাবস্পেশালিটি আছে। বড়দের যেমন মেডিসিন, সার্জারী, গাইনীর বাইরেও কার্ডিওলজি, হেপাটোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি ইত্যাদি ভাগ আছে, তেমনি শিশু চিকিৎসকদেরো শ্রেণীবিভাগ আছে।
আগে জেনে নেয়া যাক, শিশু কারা কিংবা কারা এই বিভিন্ন রকমের শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে দেখাবেন। এই বয়সসীমা নিয়ে মতভেদ আছে, বিভিন্ন আঙ্গিকে ও প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বয়সসীমায় ভাগ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে জন্ম হতে শুরু করে ১২-১৮ বছর পর্যন্ত শিশু। ১২ বছরের আগে কোনোক্রমেই শিশু বিশেষজ্ঞ ছাড়া দেখানো যাবেনা।
অনেককেই দেখা যায়, শিশুদের কিডনি সমস্যা, পেটের সমস্যা, লিভারের রোগ, ব্রেইনের রোগ, সার্জারী, হার্ট, জয়েন্ট বা বাতের সমস্যায় সেই বিষয়ের এডাল্ট বিশেষজ্ঞ দেখাচ্ছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিকিৎসক রোগীকে তার যথাযোগ্য চিকিৎসকের কাছে রেফার করে দেয়ার কথা, কিন্তু অনেক সময়ই তা হয়ে ওঠেনা।
বড়দের অনেক রোগ শিশুদেরও হয়, তবে তার প্রকাশভঙ্গী, পরিক্রমা, জটিলতা, ডায়াগনস্টিক টেস্ট এবং চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। আবার শিশুদের অনেক রোগ আছে, যা বড়দের হয়ই না, এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল জেনেটিক ডিজিজ এবং ইম্যুনোলজিকেল ডিজিজ।
আসুন দেখে নেয়া যাক, কি কি ধরনের শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন।
১. জেনারেল পেডিয়াট্রিশিয়ান (এফসিপিএস বা এমডি বা ডিসিএইচ ডিগ্রিধারী)। উনারা সব ধরনের রোগীকে প্রাথমিকভাবে দেখতে পারবেন, চিকিৎসা করতে পারবেন, এবং ক্ষেত্রবিশেষে রেফার করবেন।
২. নিউনেটোলজিস্ট (এমডি বা এফসিপিএস ডিগ্রি)। উনারা জন্ম থেকে ২৮ দিন বয়স পর্যন্ত শিশুদের যাবতীয় সমস্যা দেখেন।
৩. পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্ট (এমডি বা এফসিপিএস) শিশু কিডনি, মুত্রথলি, প্রস্রাব সংক্রান্ত রোগীদের দেখেন।
৪. পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট (এমডি বা এফসিপিএস) উনারা শিশুদের পেট, খাদ্যনালী ও লিভারের যাবতীয় সমস্যা দেখবেন।
৫. পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট (এমডি বা এফসিপিএস) নামেই বুঝা যাচ্ছে, ব্রেইন ও স্নায়বিক ডাক্তার।
৬. পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট (এমডি, এফসিপিএস) শিশুদের হৃদরোগ দেখবেন।
৭. পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি (এমডি বা এফিসিপিএস?) শিশুদের রক্তরোগ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন।
৮. শিশু সার্জন (এমএস বা এফসিপিএস) শিশুদের শল্য চিকিৎসা করেন।
৯. Child and adolescent psychiatrist (এমডি) শিশুদের মানসিক সমস্যা দেখেন।
সরাসরি ডিগ্রী চালু না থাকলেও শিশু রিউম্যাটোলজি এবং শিশু এন্ডোক্রাইনোলজি উইং চালু আছে বিএসএমএমইউ তে। এছাড়া শিশু পালমোনলজিও আছে। আবার একবছরের ফেলোশিপ ট্রেইনিং এরও ব্যবস্থা আছে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়ানো যায়।
কারো কারো একাধিক ডিগ্রি থাকে। সেক্ষেত্রে তিনি তদনুযায়ী রোগী দেখবেন। তবে শুধুমাত্র সাবস্পেশালিটি তে এমডি করা চিকিৎসকগণ তার প্রেস্ক্রিপশনে বা প্রচারে শুধুমাত্র তার বিষয়েরই উল্লেখ করবেন। ঢালাওভাবে শিশু বিশেষজ্ঞ লিখবেন না। এই কথাটা এডাল্ট বিশেষজ্ঞের বেলায়ও সমভাবে প্রযোজ্য। যেমন কেউ কিডনি বিষয়ে ডিগ্রীধারী হলে সেটাই উল্লেখ করবেন, সাথে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা শিশু বিশেষজ্ঞ লিখবেন না।
আপনি যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডাক্তার না পান, তবে একজন জেনারেল পেডিয়াট্রিশিয়ান দেখাবেন। তিনি প্রয়োজন হলে তদনুযায়ী রেফার করবেন বা তিনি নিজেই চিকিৎসা করবেন। সবসময় আপনার পক্ষে সাবিস্পেশালিস্ট নির্ধারণ করাও সম্ভব না।
শেষ কথা, বিশেষজ্ঞ চিনার আগে ডাক্তার চিনুন। জেলা, উপজেলা, মফস্বলের কথা বাদ দিলাম, খোদ রাজধানীর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানেও ভুয়া চিকিৎসক পাওয়া গেছে। এরা মিশে আছে সবখানে, এদের সনাক্ত করুন আগে।
সহজ উপায়, বিএমডিসি রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার মিলিয়ে নেয়া। নিয়মমাফিক এটা প্রেস্ক্রিপশনে বা কার্ডে উল্লেখ থাকার কথা, কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার নিজের সব কার্ডেও উল্লেখ করা নাই। তবে কেউ জানতে চাইলে অবশ্যই বলতে হবে। বিএমডিসি কিন্তু মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট বা সাকমোদেরও রেজিষ্ট্রেশন দেয়। আবার, বিএমডিসির নকল হিসাবে বিসিএমডিসিও ভুয়া ডাক্তার উৎপাদন করে। একটু চক্ষু মেলিয়া দেখিতে হইবে। সন্দেহ হলেই আপনার এলাকার স্বাস্থ্য প্রশাসনে অভিযোগ করুন।
ধন্যবাদান্তে
ডাঃ খন্দকার মোবাশ্বের আহমেদ
এফসিপিএস (শিশু)
এমডি (শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি)।
বিঃদ্রঃ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পুরোপুরি লিখলে পোষ্ট আরও লম্বা হয়ে যাবে৷ আমি শুধু ইংগিত দেয়ার চেষ্টা করেছি। তথ্যে ভুল থাকলে সঠিক তথ্য দিয়ে কৃতার্থ করবেন।💓💓
আমাদেরকে অনেক অনেক সচেতন হতে হবে।আমাদের সকলের বাসায়ই বাচ্চা আছে।কিছু সচেতনতা নিম্নরুপ -
১)বুকের দুধ খাওয়ানোর পর ৫-৭ মিনিট বাচ্চাকে কাধে নিয়ে হাটতে হবে এবং আলতো করে বাচ্চার পিঠে থাবা দিতে হবে,তাহলে দুধটা হজমে সহায়তা করবে,খাওয়ানোর সাথে সাথে শুইয়ে দিলে বাচ্চা বমি করে দম বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে।
২)বাচ্চাকে জোর করে কখনো খাওয়ানো যাবেনা।ধস্তাধস্তি করতে গেলে বাচ্চা ঘাড়ে আঘাত পাবে ও শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে কারণ আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস কেন্দ্র ঘাড়ে অবস্থিত।
৩)বাচ্চাকে চামচে অল্প করে খাওয়াতে হবে।একসাথে বেশি দিলে বাচ্চা গিলতে পারবেনা।
৪)৪ বছরের নিচের বাচ্চাকে কক্ষনোই চকলেট খেতে দেওয়া উচিত না।
৫)৩ বছরের নিচের বাচ্চাকে আটি জাতীয় খাবার যেমন-কুল,লিচু,জাম,ছোট আম ইত্যাদি খেতে দিলে অবশ্যই আটি ফেলে শুধু শাসটুকু খেতে দিতে হবে।
৬)বাচ্চার হাতের নাগালে কোন কারেন্টের সকেট থাকলে অবশ্যই সেগুলাতে টেপ লাগিয়ে রাখতে হবে।
৭)বাচ্চা যে সময় ঘুমাবে সেই সময় গোসল করতে যেতে হবে, কাপড় আয়রন করতে হবে।
৮)যারা হিটার/ইলেকট্রনিক চুলায় রান্না করেন,সেগুলাকে বাচ্চার হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
৯)গরম পানির বালতি থেকে বাচ্চাকে দুরে রাখতে হবে।
১০)গরম পানি বালতিতে ঢালার সময় বা অন্য গরম কিছু অন্য কোথাও ঢালার সময় বাচ্চা পিছনে আছে কিনা আগে দেখে নিতে হবে।
১০)ঘরে কোথাও পানি পড়ে থাকলে সাথেসাথেই মুছে ফেলতে হবে।
১১)দরজার কোন ছিটকিনি বাচ্চার হাতের নাগালে থাকলে সেটা বেধে রাখতে হবে।
১২)শীতকালে বাচ্চাকে মাঝখানে রেখে একই কম্বলে বাবা-মা দুইপাশে ঘুমাবেননা।বাচ্চাকে আলাদা কম্বল দিয়ে একপাশে রাখবেন।
১৩)সিড়ির দরজা সবসময় বন্ধ রাখবেন।
১৪)ঘর সব-সময় পরিস্কার রাখতে হবে,যেন কোন পোকামাকড় না থাকে।
১৫)বাচ্চাকে গামলাতে অল্প পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে,এবং সাথে থাকতে হবে যেন বাচ্চা ডুবে না যায়।
১৬)বাসার কাছে বড় ড্রেন বা পুকুর,ডোবা থাকলে বাচ্চাকে সবসময় নজরে রাখতে হবে।
১৭)ছুরি,কাচি,বটি,দা,ব্লেড ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র নিরাপদে রাখতে হবে।
১৮)যে কোন ওষধ বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
১৯)ছোট বাচ্চাকে দড়ি অথবা তার দেওয়া যাবেনা খেলার জন্য,সে গলায় পেচিয়ে ফেলতে পারে।
২০)বাচ্চা যেন খাট থেকে পড়ে না যায় সেইজন্য নিচু খাট অথবা মেঝেতে তোশক বিছিয়ে বাচ্চাকে রাখতে হবে।
★ কোক কিংবা পেপসির বোতলে কেরোসিন তেল কিংবা এই ধরনের বিষাক্ত কিছু কখনোই রাখা যাবেনা। এই দূর্ঘটনা অনেক কমন।
আজকের শিশুই আগামীর ভবিষ্যত।তাই আমদেরকে আমাদের নিজেদের জন্যই অনেক বেশি সচেতন হতে হবে বাবুগুলাকে নিরাপদে রাখার জন্য।আর কোন বাচ্চাই যেন এভাবে অকালে ঝরে না যায়।
Courtesy :Dr.Md Aminul Islam Amin
তাইফুর রহমান স্যারের লেখা থেকে -
(আমজনতা সহ সবাই পড়বেন, দেখুন কি লস হচ্ছে)
ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব কতটুকু? অধিকার কতটুকু? নিজের করে ভাবার সুযোগ কতটুকু? ভাবনার অতল গহীনে হারিয়ে যাই ক্ষণে ক্ষণে।
-------------------_---------------------------------------------------------
পরীক্ষা গুলো কোথায় করাবেন?
এখানে করাবো না স্যার ।দাম বেশি নেয়।
এখানের পরীক্ষার মান ভালো। টাকা একটু বেশি গেলেও সঠিক রিপোর্টটা খুব জরুরি। ভুল রিপোর্টে ভুল চিকিৎসা হবে।এতে আপনার মৃত্যুও হতে পারে।
অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে।
আমি তবুও দায়িত্ব নিয়ে বলি তাহলে এই এই সেন্টারে করান।
রুগী চলে যায় আমার সম্পর্কে একটা খারাপ ধারণা নিয়ে, আমি কমিশন খোর ডাক্তার!!
জেনারেল হাসপাতালের চিফ টেকনিশিয়ান সেলিম সাহেব আমার কাছে উনার ভাইস্তিকে নিয়ে এসে বললেন, স্যার ওরতো বাত জ্বর হয়ে গেছে, এএসও ৮০০। শুধু এএসও টাইটার দিয়েতো বাত জ্বর ডায়াগনোসিস হয় না। তবুও জনমনে এটা কমন বিশ্বাস এএসও বেশি মানেই বাত জ্বর।
আমি বললাম আমাদের এখানে আবার পরীক্ষাটা করান।
স্যার আমি নিজের হাতে করেছি!!
দেখুন সেলিম সাহেব, মেয়েটার বয়স তের। আমি ইনজেকশন দেই আর ট্যাবলেট দেই আরো নয় বৎসর দিতে হবে। সুতরাং নিশ্চিত হয়ে দেয়া উচিত না?
রিপোর্ট নিয়ে হা করে দাঁড়িয়ে আছেন সেলিম সাহেব , স্যার রিপোর্টে তো আসলো মাত্র ১৫০! কেন এমন হলো।
আমি বললাম, আপনি করেছেন কলরোমিটার দিয়ে আর এখানে করেছে এলাইজা মেথডে।
লাইফ সাপোর্টে থাকা মিজান মিয়ার লোকজন আর একমুহূর্তও হাসপাতালে রাখবে না। এক্ষুনি খুলে দেন, বাড়িতে নিয়ে যাবো।
মুখ গলিয়ে লম্বা নল ঢুকানো এবং ফেন্টা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা মানুষটাকে দেখলে আপাতদৃষ্টিতে মৃতই মনে হবে। তাদের আর দোষ কি?
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন নিয়ে যাবেন?
আমাদের টাকা নাই। খাগড়াছড়ি থাকি।গরীব মানুষ।
এই মূহুর্ত পর্যন্ত হিসাব করে বললাম এই টাকাটা পরিশোধ করেন বাকিটা আমি দিবো। কাল ছুটি দিবো ইনশাআল্লাহ।
তার সব সাপোর্ট কমিয়ে আনা হয়েছে। ভাইটালস ভালো। বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এমন একটা রুগীকে হঠাৎ লাইফ সাপোর্ট উইথড্র করে মেরে ফেলাটা মারাত্মক অপরাধ।
আলহামদুলিল্লাহ। পরদিন রুগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি গেল।
তার লোকজন বলে,স্যার আমরা মনে করছিলাম মরা মানুষ শোয়াইয়া রাইখা বিল তুলতাছেন।
খোকন সাহা তার মৃত্যুপথযাত্রী বউকে টেনে হিঁচড়ে এনে শোয়ালো এক্সামিনেশন টেবিলে। অন্য রোগীর অর্ধেক প্রেশার মাপা বাদ দিয়ে এখানে এটেন্ড করলাম।
পালস, বিপি নন রেকর্ডেবল। রুগী গ্যাস্পিং।
বললাম সোজা উপরে নিয়ে ভর্তি করে দেন।
স্যার, মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাই?
অতদূর যেতে যেতে রুগী বাঁচবে না। এখানের বিল পরে দেখা যাবে।
সে ভিজিট দিতে পকেটে হাত ঢুকালো।
বললাম এখন ভিজিট নেয়ারও সময় নেই। আপনি আগে রুগী বাঁচান।
রমজান মাসে আমি ইফতারের পর রুগী দেখি না। এটা ছিলো সেদিনের শেষ রুগী। তারাবির নামাজের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতাল থেকে ফোন আসলো একটা রুগী মারা গেছে। ঝামেলা হচ্ছে। আপনি একটু আসেন।
আমি গেলাম। খোকন সাহা হাউমাউ করে কাঁদছে। এলাকার নেতা পারভেজ ও তার লোকজন হইচই করছে, সাংবাদিক সাহেব ভিডিও করছে। পুলিশ স্যম্পল নিচ্ছে।
খোকন সাহা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, বাবু আপনার কোন দোষ নাই।কিন্তু ডিউটি ডাক্তার সীমান্ত কর্মকার কি যেন ইনজেকশন দিলো আর সাথে সাথে মরে গেলো আমার স্ত্রী । সাড়ে এগারোটার দিকে সবাই বললো আপনি চলে যান, রাত হয়েছে।
পরদিন ফেসবুকে আহাজারি আর খিস্তি খেউড়ের ঢল, ভুল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যু।
দুই বছর পরও আমি আর ডা. সীমান্ত কর্মকার জুতোবিহীন নগ্ন পায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াই।
খোকন সাহার আইনজীবী আমার চোখের দিকে আঙুল তাক করে বলে, ব্যাবসার উদ্দেশ্য নিয়েই মেডিক্যাল কলেজে যেতে দেয়নি রুগীকে আর তারপর অবহেলা, ভুল চিকিৎসা।
তবুও ক্ষীণ কন্ঠে বলি, মাননীয় আদালত, আমার প্রেসক্রিপশনের দিকে দেখুন। ওখানে লেখা আছে পালস, বিপি নন রেকর্ডেবল। এই রুগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? এই হাসপাতালের মালিক তো আমি নই! আমার ভিজিটটা পর্যন্ত রাখিনি। তারপরও বলবেন ব্যবসার ধান্ধা?
এখন আর দায়িত্ব নেই না। জোর দেইনা ভর্তি হওয়ার জন্য।
মাত্র ক'দিন আগের কথা।
রুগীর পালস,বিপি নাই। হার্ট এটাকের রুগী।
বললাম, রুগীর অবস্থা খারাপ। সিসিইউ তে ভর্তি করাতে হবে।
রুগীর লোকজন হাসি দিয়ে বলেন, খারাপ দেখলেন কই? রুগীতো কথা বলছে। ঔষধ লিখে দেন, বাড়ি নিয়ে যাবো।
কথা বাড়ালাম না। ঔষধ লিখে বিদায় দিলাম।
বাইরে রুগী বসে আছে হুইল চেয়ারে। রুগীর লোকজন ফোনে কথা বলছেন কার কার সাথে।
প্রায় পনেরো মিনিট পর, বাহিরে হইচই। রুগী ঘাড় ফেলে দিয়েছে।
আমার দেয়া একটা ঔষধও সেবন করা হয়নি তার। লিফটের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আমাকে পূর্ণ ভিজিট দেয়া রুগী।
আফসোস!!
30/03/2022
শিশুকে সময় দেয়া
প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে আর্দশ সময় কাটান
মোবাইল বন্ধ করে, কম্পিউটার বন্ধ করে নিজের সন্তানকে একবার বলুন, পরের বিশ মিনিট শুধু আমরা দুজন গল্প করবো।
কী করবো এখন আমরা দুজন?
তাকেই ঠিক করতে দিন।
পৃথিবীজুড়ে শিশুদের নাকাল হওয়ার তো শেষ নেই, কিন্তু এই বিশ মিনিটের জন্য তাকে প্রাধান্য দিন এবং তাকেই জিততে দিন।
হাসি মনের তিক্ততা, বিদ্বেষ আর অশান্তি দূর করে। তাই তাকে আশ্বস্ত করুন নিরীহ খেলা ও হাসির মাধ্যমে।
বালিশ দিয়ে মারামারি খেলুন,
কুস্তি করুন, পাশাপাশি শুয়ে থাকুন।
তাকে ছোটাছুটি করতে, চেঁচামিচি করতে, তার প্রিয় কাজগুলো করতে দিন।
তার সব অনুভূতিগুলোকে আদর দিন।
নিজের শতভাগ তাকে দিন।
শিশুরা যখন জানবে, প্রতিদিন তাদের বাবা-মায়ের কাছে তারা একটা নির্দিষ্ট বিশেষ সময় পাবে খেলাধুলা করার জন্য, সেটা তাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে, তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করবে এবং সেটা তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে।
24/01/2022
#সত্যই_কি_বুকের_দুধ_কম_হয়?
নবজাতক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সবচেয়ে বেশী সময় দিতে হয় - Lactating মায়েদের কাউন্সিলিং-এ (Counselling) ।
সবচেয়ে সমস্যা হয়, বাচ্চা জন্মের প্রথম ২-৩ দিন বয়স পর্যন্ত! কারণ এই সময় শাল দুধ হয়, যার পরিমাণ ২৪ ঘন্টায় মাত্র ১-২ চামচ সমপরিমাণ! ফলে মায়েদের ধারণা, বাচ্চা দুধ পাচ্ছে না!
অথচ এই সামান্য দুধেই আছে নবজাতকের সম্পূর্ণ পুষ্টি! শুধু তাই নয়, এই দুধে আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর তাই শাল দুধকে নবজাতকের প্রথম ভ্যাকসিনও বলা হয়!
এছাড়াও জন্মের প্রথম ৪৮ ঘন্টা প্রস্রাব না হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাচ্চা যদি জন্মের ১০-১২ ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব না করে, মা-বাবা/বাড়ির মুরুব্বি অস্থির হয়ে যান।
আর প্রথম মা হলে তো, আরও বেশী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একদিকে শাল দুধ, যা পরিমাণে অত্যন্ত অল্প - তার সাথে যদি বাচ্চা কান্না করে, মা/মুরুব্বিদের প্রথম অভিযোগ থাকে বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছে না।
ফলে এই প্রথম ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যেই বেশীর ভাগ নবজাতক Infant formula পেয়ে থাকে। অথচ খুউব সহজেই এই সময়ে মাকে - Counselling করলে, এই অন্যায় প্রতিরোধ করা সম্ভব!
আবার ৩ সপ্তাহ বয়স হতে - বাচ্চারা Infantile colic নামে একধরনের পেট ব্যথায় কান্না করে। যার প্রধান কারণ - বুকের দুধের সাথে সাথে বাচ্চা বাতাস (Air) গিলে ফেলে!
অনেক মায়েরাই - এই সমস্যাকে গ্যাসের সমস্যা মনে করে থাকেন! ফলে অনেক মা এসেই বলেন - বাচ্চার জন্ম থেকেই গ্যাসের সমস্যা আছে। আবার অনেকে মনে করেন, বাচ্চা দুধ পাচ্ছে না - তাই কান্না করে!
অথচ এই রোগের চিকিৎসাই হলো - পেট থেকে বাতাস বের করে দেওয়া। যার কারণে ব্যথা, সেই কারণের (বাতাস) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
ফলে এখানে counselling অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে, মায়েরা বুকের দুধ কম হচ্ছে মনে করে - বাহিরের দুধ (Infant formula) খাওয়ানো আরম্ভ করে।
ফলে মাকে পেটের ব্যথার কারণ এবং কিভাবে পেট থেকে বাতাস বের করতে হয়, তা বুঝিয়ে বলতে হয়।
ে_কেন_অন্যায়_বলেছিঃ
অন্যায় বলার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ - চিকিৎসা বিজ্ঞানে আছে, নবজাতক প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাবে। এমন কি এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত খাওয়ানো নিষেধ!
৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধের বহু উপকারিতা আছে! যদি সংক্ষেপেও বলি - তাহলেও লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে। কিন্তু আমার এলেখার উদ্দেশ্য বুকের দুধের উপকারিতা নিয়ে নয়।
তাই সে আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না!
বুকের দুধ কম হওয়ায় বা infant formula বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল - এধরণের কোন কারণ দেখিয়ে, যদি বাচ্চাকে কেউ বাহিরের দুধ খাওয়ানোর উপদেশ দেয়, তার জন্য সরকার কঠোর আইন করেছে। যা অনেক স্বাস্থ্যকর্মী/অভিভাবক জানেন না।
-
এই আইনে বলা আছে - কোন স্বাস্থ্যকর্মী (চিকিৎসক/নার্স বা মায়ের সেবায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তি) অথবা কোম্পানির লোকজন, বুকের দুধের পরিবর্তে অন্য কোন দুধ (Infant formula) খাওয়ার জন্য উপদেশ দেয় বা উৎসাহিত করে (এমন কি শুধুমাত্র লিফলেট বিলি করলেই অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে), তার জন্য ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হবেন!
এই আইনে অপরাধী কোন জামিন পাবেন না। শুধু তাই নয় - অন্য যেকোন আইনই থাকুক না কেন, তাহাতে এই অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না।
#দন্ডঃ
অপরাধ সংঘটিত হলে ---
১) প্রথমবার অপরাধ করলে - ৩ বছরের জেল/৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
২) পরবর্তীতে একই অপরাধ করলে - শাস্তি দিগুণ হবে। বারে বারে করতে থাকলে, প্রতিবারই আগের বারের দিগুণ শাস্তি ভোগ করতে হব।
৩) যদি এই অপরাধে বাচ্চা অসুস্থ অথবা মৃত্যু হয় - তাহলে ১০ বছরের জেল/৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত বাচ্চার পরিবার পাবে।
উপরের আলোচনায় বুঝা গেল - কাউকে Infant formula খাওয়ার উপদেশ দেওয়া বা খাওয়াতে উৎসাহিত করা ফৌজদারি অপরাধ!
#তাহলে_এই_দুধ_কেন_বাজারে_পাওয়া_যায়??
এই Infant formula লেখার কিছু absolute indication (অকাট্য কারণ) আছেঃ
১) বাচ্চার জন্মের সাথে সাথে মা মারা গেলে বা পালক নবজাতক বাচ্চা হলে!
২) মা যদি ক্যান্সারের ঔষধ পায়!
৩) কিছু কিছু জন্মগত ত্রুটি - যেমন Galactosemia, যেখানে বুকের দুধ খেলে বাচ্চা অন্ধ হয়ে যায়।
৪) মা যদি Antithyroid drugs পায়।
৫) মা যদি antipsychotic drug পায় (অনেকে relative contraindications বলে থাকেন)
আরও কিছু কারণ আছে।
কিন্তু মা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস/করোনা পজিটিভ, এইডস রোগে আক্রান্ত বা যক্ষা রোগ হলেও বুকের দুধ খাওয়াতে নিষেধ নাই। এইদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই এইসব রোগে বুকের দুধ খাওয়াবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন!
উপরোক্ত absolute indication আছে বলেই - Infant formula দুধ বাজারে এখনো পাওয়া যায়! নাহলে, হয়তো এদেশে এইসব দুধ নিষিদ্ধ হতো!
এছাড়াও পরিমিত বুকের দুধ হওয়ার জন্য বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক ----
১) মায়ের Privacy (নির্জন স্থান)। মা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, অবশ্যই নির্জনস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
২) জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। কারণ এই সময় সবচেয়ে ভাল Sucking reflex (দুধ চোষার ক্ষমতা) থাকে। তারপর এই ক্ষমতা কমতে থাকে।
৩) স্বাভাবিক অবস্থায় মা যতটুকু খাবার খেতেন - তার দেড় গুণ বেশী খাবার খাবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় - আগে যদি মা এক প্লেট (থালা) ভাত খেতেন, বুকের দুধ পরিমাণ মত হওয়ার জন্য দেড় প্লেট ভাত খাবেন। দুই টুকরো মাছ/মাংস খেলে - এখন তিন টুকরো খাবেন।
৪) মা প্রতিদিন Full cream/গরুর দুধ খাবেন। কারণ বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ায় - মায়ের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
৫) প্রতিদিন প্রচুর পানি খাবেন। কারণ বুকের দুধে প্রচুর পরিমাণে মায়ের শরীরের পানি খরচ হয়।
৬) Position এবং Attachment - নতুন মায়ের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপদেশ। এমন কি, অনেক সময় একমাত্র কারণ। বাচ্চা কি ভাবে ধরবেন এবং অবশ্যই breast এর কালো অংশ যেন মুখের ভিতর থাকে। এই বিষয়ে সব মাদেরই উচিৎ একজন নবজাতক/শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
৭) রাতে অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়াবে - কারণ বুকের দুধ রাতে বেশী হয় (Prolactin হরমোন, যার কারণে বুকে দুধ হয়, রাতে বেশী secretion হয়)।
৮) প্রতিবার বুকের দুধ খাওয়ানোর পর বাচ্চার ঢেকুর তুলবেন। না হলে, বাচ্চা পেটের ব্যথায় কান্না করবে (Infantile Colic), আর মা মনে করবে - বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছে না।
৯) অনেক ক্ষেত্রে Breast এর বিভিন্ন রোগ যেমন- Breast ফুলে ব্যথা/বোটা (Ni**le) ফেটে যাওয়া, ফোঁড়া ইত্যাদি সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন!
#মাদের_কিছু_প্রশ্নের_উত্তরঃ
১) প্রথম ২-৩ দিন বুকের দুধ কম পাওয়ায়, মায়েরা বাহিরের দুধ দাবি করে। কোন দুধটি ভাল হবে?
উত্তরে বলি - যদি প্রথম ২/৩ দিন, শাল দুধ না হয়ে, স্বাভাবিক দুধ আসে, তাহলেই তো সমস্যা! কেন স্বাভাবিক দুধ আসলো? কারণ এই প্রথম ২-৩ দিন শাল দুধই আসতে হবে। ফলে প্রথম ২-৩ দিন দুধ বেশী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। কারণ এই সময় শাল দুধই প্রয়োজন। আর বেশী দুধ হওয়া অস্বাভাবিক!
২) বাচ্চা দুধ কম পাওয়ায় শুধু কান্নাকাটি করে!
উত্তরে বলি - বাচ্চা কান্নাকাটি আর বুকের দুধ (Suck) পান করা শিখেই পৃথিবীতে এসেছে। ফলে বাচ্চা শুধু ক্ষুধার জন্য কান্না করে না। প্রস্রাব/পায়খানা করলে, গরম/ঠান্ডা লাগলে বা এমন কি মায়ের কোলে যাওয়ার জন্যও কান্না করে!
তার হাসতে শিখতে সময় লাগবে!
৩) বুকের দুধ বা ফিডার দিলে তো কান্না থেমে যায়?
উত্তরে বলি - মুখ তো একটা, সেখানে একটি আঙুল দিলেও কান্না থেমে যাবে! যদি দুটো মুখ থাকতো - তাহলে এক মুখে কান্না করতো, আরেক মুখে হয়তো ফিডার খেতো! আর বাচ্চাতো এই Suck করা শিখেই পৃথিবীতে এসেছে। ফলে মুখে কিছু দিলেই - চুষতে থাকবে!
৪) বাচ্চা খাওয়ালেও শুধু কান্না করতেই থাকে!
উত্তরে Infantile Colic সম্পর্কে বলি - Rule of 3 (Three), বুঝাই। বেশীর ভাগ মা, স্বীকার করে নেন - কাঁধে তুলে রাখলে, কিছুক্ষণ পর কান্নাকাটি কমে যায়।
আরও বলি পৃথিবীতে এমন কোন রোগ বা ঔষধ নাই, যার কারণে বুকের দুধ কমে যায়! একজন মা একসাথে তিনজন বাচ্চার প্রয়োজনীয় বুকের দুধ দিতে পারে। যা পরীক্ষীত!
এছাড়াও মাদের বলি - আচ্ছা মা, আপনি যদি বাহিরের দুধ কিনতে যান, কার টাকা খরচ হয়?
নিশ্চয়ই আমার টাকায় কিনেন না! তাহলে আমি কেন না করি?
কারণ আপনার বাচ্চার ক্ষতি হউক, আমি চাই না! আর এই বিষয় দেখাই আমার দায়িত্ব!
যদি কেউ দুধ লিখে দেয় - তিনি তার সঠিক দায়িত্ব পালন করেন নাই! আর একটা কারণ হতে, পারে আপনাদের (মাদের) বললাম না।
সবশেষে মাদের জিজ্ঞেস করি - বাচ্চা ঠিকমত বুকের দুধ পাচ্ছে বা পাচ্ছে না, তা কি ভাবে বুঝবেন??
প্রায় সবাই কান্নাকাটি করা বা না করার কথা বলেন! (যদিও একটি কারণ)
তাদের বলি - বাচ্চা যদি ২৪ ঘন্টায় ৬ বার বা তার বেশী প্রস্রাব করে এবং সঠিক ভাবে ওজন বাড়ে, তাহলেই বুঝতে হবে, বাচ্চা পরিমাণ মত দুধ পাচ্ছে (আমি এই দুটি কারণকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি)।
এই কথায় প্রায় সব মা বলেন - প্রস্রাব তো দিনে ১৫/২০ বার করে! তখন বলি - মা বাতাস খেয়ে কি এতো বার প্রস্রাব সম্ভব? নিজের (মা) ক্ষেত্রে দেখবেন - যেদিন কম পানি খাবেন, সেদিনই প্রস্রাব কমে যাবে।
সবশেষে বলতে চাই - বাচ্চার কান্না করা মানেই, বুকের দুধ কম পাওয়া নয়!
লিখেছেন: ডা. নেয়ামত হোসেন রিপন
10/01/2022
রোগী নয় শিশু দেখতেই যার ভাল লাগে। শিশু ডাক্তার শিশু দেখতে দেখতেই বুড়া হয়ে গেল। মানুষের ভালবাসায় ধন্য যিনি।
02/11/2021
শিশুদেরও ডায়াবেটিস হয়ঃ
********************************
বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও ডায়াবেটিস হয়। মূলত এটা টাইপ-১ ডায়াবেটিস। দিন দিন এর প্রকোপ বাড়ছে। তবে সময়মতো রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে শিশুটি সুস্থ থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি শিশু টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে ভুগছে।
#টাইপ-১ ডায়াবেটিস কী?
আমাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় প্যানক্রিয়াসের বিটা সেল থেকে। যদি কোনো কারণে এই বিটা সেল থেকে ইনসুলিন উৎপাদন না হয় অথবা ব্যাহত হয়, তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এতে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হতে পারে। একে জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিসও বলা হয়। এই মারাত্মক ঘাটতির ফলে রক্তপ্রবাহ থেকে গ্লুকোজ সব দেহকোষে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ইনসুলিন দিয়ে ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে শিশুটি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তবে সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে শিশুটি সুস্থ থাকে।
যাদের হয় যেকোনো বয়সী শিশু টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি খুব ছোট শিশুদেরও এই রোগ হয়। তবে কিশোর বয়সে যাদের ওজন অনেক বেশি, তাদের টাইপ-২ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
#কারণ: ঠিক কী কারণে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়, সে সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো—
❏ পরিবারের রোগের ইতিহাস থাকলে অর্থাৎ বংশগত (চার-সাত বছর এবং ১০-১৪ বছর বয়সীদের)। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে।
❏ পরিবেশগত কিছু উপাদানের সংমিশ্রণ।
❏ মাম্পস, রুবেলা, ককজেকি ধরনের ভাইরাসের কারণে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী সেল নষ্ট হলে।
❏ জন্মের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ পান না করালে।
#উপসর্গ টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো অনেকটা হঠাৎ করেই আসে। এর কিছু লক্ষণ হলো—
❏ অস্বাভাবিক তৃষ্ণা পাওয়া বা বেশি বেশি পানি পান করা।
❏ বারবার প্রস্রাব করা।
❏ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা। রাতে ঘুম ভেঙে পানি বা খাবার খাওয়া।
❏ কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
❏ অবসাদ, ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা। অল্পতে হাঁপিয়ে পড়া, কাজে উৎসাহ কম থাকা।
❏ ক্ষত হলে বা কাটাছেঁড়া থাকলে শুকাতে বেশি সময় লাগা। যেকোনো রোগজীবাণু তাদের বেশি আক্রান্ত করতে পারে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরও ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে না আসা।
❏ বিরক্ত বা অস্বাভাবিক আচরণ, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন।
❏ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা।
ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কিটোএসিডোসিস একটি জরুরি অবস্থা, যা হঠাৎ ঘটে থাকে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে বা শকেও চলে যেতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়ে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) চর্বি ভেঙে রক্তে কিটোন নামের অম্ল তৈরি হতে থাকে এবং ক্রমে এই কিটোন দেহে জমে রক্তের অম্লত্ব অস্বাভাবিক বেড়ে বাইকার্বোনেট কমে যাওয়ার মতো (মেটাবলিক এসিডোসিস) মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে।
কেউ যদি কয়েক দিন ইনসুলিন না নেয়, না বুঝে ইনসুলিনের ডোজ বেশি কমিয়ে দেয়, জ্বর বা সংক্রমণের কারণে রক্তে শর্করা যদি বেড়ে যায়, তবে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের এক দিনও ইনসুলিন বন্ধ করা উচিত নয়।
#জটিলতা: দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শিশুরা আক্রান্ত থাকলে এবং এর মাত্রা বেশি হলে দেহের প্রধান অঙ্গগুলো, বিশেষ করে স্নায়ু, চোখ ও কিডনির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে। যেমন—
রেটিনোপ্যাথি : চোখের রেটিনার রক্তনালিগুলো নষ্ট করে ফেলে। এ ছাড়া চোখে ছানি পড়তে পারে। এমনকি অন্ধও হয়ে যেতে পারে।
নেফ্রোপ্যাথি : এটি হলো ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ, যাতে কিডনি আক্রান্ত হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বিকল হতে পারে। তাই রোগীদের শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুব জরুরি।
নিউরোপ্যাথি : রক্তে মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজ কৈশিক নালিকার দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি করে, যেগুলো স্নায়ুর দেখাশোনা করে, বিশেষ করে পায়ের স্নায়ুগুলোর। ফলে পায়ের পাতা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে দেহের ওপরের দিকে অসাড়তা, জ্বলুনি বা ব্যথা অনুভূত হয়। একপর্যায়ে অনুভবক্ষমতা হারিয়ে শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিক ফুট : ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের রোগ ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিক পা। এতে পায়ে ইনফেকশন বা ক্ষত হয়। ফলে শিশুটি হাঁটতে পারে না, জটিলতা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পা কেটেও ফেলতে হয়।
হরমোনাল সমস্যা : টাইপ-১ ডায়াবেটিসের সঙ্গে থাইরয়েড হরমোন বা অন্যান্য এন্ডোনাল গ্রান্ড আক্রান্ত হতে পারে।
এ ছাড়াও টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কারণে আরো কিছু অঙ্গের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে জটিলতাগুলো অনেকটাই কমে যায়।
#পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্ল্যাড সুগার টেস্ট : এই পরীক্ষাটা করালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত তা জানা যায় বা ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানা যায়।
এইচবিএওয়ানসি : এই পরীক্ষায় গত তিন মাসের গড় সুগারের মাত্রা পাওয়া যায়।
অন্যান্য পরীক্ষা : এ ছাড়া কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, যেমন চোখের পরীক্ষা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইলেকট্রোলাইটস, ইউরিন ফর মাইক্রো অ্যালবুমিন, ইউরিন আরএমই ইত্যাদি।
#চিকিৎসা ও করণীয় ❏ টাইপ-১: ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা ইনসুলিন যার কোন বিকল্প নেই। ইনসুলিন না নিলে বরং জীবন বিপন্ন হবে।
❏ আক্রান্ত শিশুদের প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে শারীরিক ব্যায়াম করাতে হবে।
❏ পুষ্টিবিদদের পরামর্শে সঠিক খাদ্যতালিকা তৈরি করে হেলদি ডায়েট দিতে হবে। রিফাইন সুগার বা সরাসরি চিনিজাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত।
❏ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত ফলো আপে থাকতে হবে।
#প্রতিরোধে যা করবেন:
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ফাস্ট ফুড ও চর্বিজাতীয় খাবার পিত্জা, বার্গার, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চকোলেট ইত্যাদি খাবার বর্জন করতে হবে। খাদ্যতালিকায় তাজা ফল ও শাকসবজি রাখতে হবে।
খেলাধুলা ও ব্যায়াম শিশুরা যাতে মুটিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খোলা মাঠে প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টার মতো খেলাধুলা করা বা ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে। বেশিক্ষণ টিভি না দেখা, মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে দুই ঘণ্টার বেশি থাকা বা অবস্থান করা ঠিক নয়। বসে বসে ভিডিও দেখা বা কম্পিউটার গেমস খেলার অভ্যাস বন্ধ করাসহ জোরে হাঁটা বা জগিং, সাঁতার কাটা, সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম বেছে নিতে হবে। শিশুরা যাতে স্বাভাবিক শারীরিক ওজনের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মায়ের দুধ ও টিকা জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। যথাসময় মামস্, রুবেলা ইত্যাদি ভাইরাসের টিকাগুলো দিতে হবে।
(লিখেছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা ও শিশু হরমোন বিভাগের প্রধান ডা. ফৌজিয়া মোহসিন)
Early_Childhood_Development:
আমাদের বাচ্চাদের ব্রেইনের ৯৫% গঠন হয় প্রথম ৫ বছরে। বাকি ৫% গঠন হয় পরের ৩ বছরে। তাই প্রথম ৮ বছর আপনার সন্তানের জন্য - সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এর ভিতর ৫ বছর বেশী গুরুত্বপূর্ণ!
ফলে এই সময়ে সবচেয়ে careful থাকা উচিৎ! এই গঠন বলতে বুঝায় - ব্রেইনের connection তৈরী হওয়া।
যার যত connection তৈরী হবে, সে তত ব্রিলিয়ান্ট হবে!
এই connection তৈরীতে রঙিন খেলনা, পুষ্টিকর খাবার, বাচ্চার সাথে খেলা করা, গল্প বলা - এমনই অনেক কিছু নির্ভরশীল!
কিন্তু আমাদের দেশে - বাচ্চা কথা বলা শেখার আগেই - সবাই লাঠি নিয়ে বসে - ঠিকমত পড়ালেখা শিখছে তো?
খাবারঃ
একসময় এদেশে মায়েদের বাচ্চার খাবারই ছিল - বার্লি আর সাগু!
তখন বার্লি Face বলে, একটা অপুষ্টির লক্ষ্মণ দেখা যেত। বাচ্চা হতো মোটাতাজা, মা মনে করতো - বেশ ভাল স্বাস্থ্য হয়েছে!
আজ সেই জায়গাটা নিয়েছে, সুজি! সুজি হয় চালের গুড়া, নাহলে গমের।
আবার এর সাথে কোন না কোন দুধ মিশ্রিত করে, সাথে থাকে চিনি। অথচ এর সবগুলোই অপুষ্টির জন্য যথেষ্ট।
কারণ গরীব হলে, গরুর দুধ মিশ্রিত করে - আর টাকা থাকলে infant formula. অথচ দুটোই বাচ্চার জন্য ক্ষতিকারক!
Infant formula'তে কোন কিছু মিশানো নিষেধ। আবার কোন চিকিৎসক লিখে দিলে - শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আমরা জানি সবসময়ই সুষম খাবার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে খিচুড়ি হলো, বাচ্চার সুষম খাবার।
অথচ মা'দের বুঝানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাথে যোগ হয়েছে - দাদা/দাদি, নানা/নানি।
মুরুব্বিদের ধারণা - তারাও তো বাচ্চা মানুষ করেছে, কখনো তো সমস্যা হয় নাই!
এর উত্তরে অনেক সময় বলি, দেশ যে ব্রিলিয়ান্ট জনসংখ্যার সংকটে ভুগছে, তা আপনাদের দান!
জাপানে প্রাইমারি স্কুলে কোন পরীক্ষা নেয় না! ওরা এই early childhood development এর উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
আর তাই সেরা ব্রিলিয়ান্ট ঐদেশে তৈরী হয়। আমাদের মত লাঠি হাতে নিয়ে শিক্ষা দেয় না।
কেন_খিচুড়ি_সেরা?
আমরা সবাই বা অনেকেই জানি essential amino acid বলে, একটা শব্দ আছে। যা শরীর তৈরী করতে পারে না। ফলে বাহিরের খাবার খেয়ে সেই অভাব পূরণ করতে হয়।
একমাত্র খিচুড়িতেই সবগুলো পাওয়া সম্ভব (চালে আটটি আর বাকিগুলো ডালে থাকে)। ফলে চাল-ডাল একসাথে থাকলেই শুধু সবগুলো essential amino acid পাওয়া সম্ভব!
এছাড়াও ডিমে এইসবগুলো essential amino acid থাকে।
ফলে_বাচ্চার_খাবার_হওয়া_উচিৎঃ
১) মায়ের বুকের দুধ ২ বছর পর্যন্ত, এর বাহিরে আর কোন দুধ নয়।
২) খিচুড়ি (চাল+ডাল+সয়াবিন/অলিভ ওয়েল+সবজি)
৩) ডিম
৪) মা যখন যা খাবেন - সেখান থেকে মাছ/মাংস/সবজি বাচ্চাকে দিবেন। (ফ্রেশ হতে হবে)
৫) সারাদিনে একবার ফল খাবে। আঙ্গুর বাদে। বাচ্চা সকাল/দুপুর/রাত, প্রচুর ফল খায় - এটাও ভাল লক্ষ্মণ নয়। কারণ পেট ভরা থাকায়, অন্য প্রয়োজনীয় খাবার খাবে না।
সবশেষে মা'দের বলি - আপনার সন্তান যদি পড়ালেখা নাও করে - Early Childhood Development ঠিক থাকলে, রিক্সা চালক হলে - সেরা রিক্সা চালক হবে। বা চোর হলেও সেরা চোর হবে!
তাই সবাই Early Childhood Development এর উপর সময় দিন। সঠিক খাবার নিশ্চিত করুন! সুজি/গরু/ছাগলের (২ বছর বয়স পর্যন্ত) দূধ খাওয়ানো বন্ধ করুন।
বি.দ্র. ছাগলের দূধে অতিরিক্ত অসুবিধা, এক ধরনের রক্তশূন্যতা রোগ হয়।
collected
23/10/2021
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Address
DMC Care, Jhilmil Hospital, Cunkutia Chowrasta, Keranigonj
Dhaka
1310