18/12/2025
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন....
আমাদের দেশের রাজনীতি এতটা বাইরের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে যে রাজনীতিবীদ ও জনগনকে জীবন, রক্ত ও সম্পদ দিয়ে এর মাশুল দিতে হচ্ছে দশকের পর দশক ধরে। কোন দল ক্ষমতায় গেলে ভার*ত বা বৃটে*ন খুশি তো আমে*রিকা খুশি নয়। আবার ক্ষমতার পালাবদলে এক পরাশক্তি খুশি তো অন্য পরাশক্তিধর রাষ্ট্রের স্বার্থে ভাটা পরে। তাদের এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জীবন দিতে হচ্ছে হাদি দের, জীবনের শেষ বছরগুলোতে অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয় বেগম খালেদা জিয়া দের ।আর জনগন,
জনগন তো প্রতিবার সম্পদ ও জীবন দিয়ে মায়েদের কোল খালি করা অথবা হাদি ভাইয়ের নিষ্পাপ সন্তানটির মতো বাবার মৃত লাশের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।
উসমান হাদির ঘটনা গভীরভাবে আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতারই ফল। একেক সময় একেক শক্তির প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে আমাদের দেশ পরিণত হয়েছে পরীক্ষাগারে, আর এর মূল্য দিতে হচ্ছে রাজনীতিবিদ, কর্মী ও সাধারণ মানুষকে—রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে।
উসমান হাদি সেই নিষ্ঠুর বাস্তবতার তালিকাকেই বড় করা আর একটি নাম। ক্ষমতার নোংরা খেলায় একজন মানুষ হারিয়ে গেল, একটি পরিবার ভেঙে গেল। এখানে শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হলো। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—এই লড়াইয়ে প্রকৃত বিজয়ী কেউ নয়, ক্ষতিটা শুধু আমাদেরই।
খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের রাজনীতির আর এক করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। পশ্চিমা আধিপত্য ও পরাশক্তির রাজনীতির বলি হওয়া তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একজন স্ত্রী ও মা । বিদেশি ষড়যন্ত্রে স্বামী হারানো, রাজনৈতিক আধিপত্যের চাপে পরিবার ছিন্নভিন্ন হওয়া, সন্তানদের থেকে আলাদা হওয়া, কারাবন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকা—সবকিছুই আমাদের দেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাবের নির্মম উদাহরণ। এ যেন আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্য নির্ধারিত এক বেদনাদায়ক নিয়তি, যেখানে জনগণের বিশ্বাস ও চাহিদার চেয়ে বিদেশি এজেন্ডাই বেশি প্রাধান্য পায়।
খালেদা জিয়া হোক বা উসমান হাদি ভাই—দুজনেই মূলত একই বাস্তবতার শিকার: পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষমতার প্রতিযোগিতা এবং সেই প্রতিযোগিতায় আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা। এই মূল্য শুধু রাজনীতিবিদরা নয়, পুরো জাতিই দিচ্ছে।
তাই রাজনীতি সচেতন প্রতিটি মানুষকেই অবশ্যই ভার*ত বা পশ্চিমা নির্ভর রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে এভাবেই আমাদের মায়েরা সন্তান হারাতে থাকবে অথবা নিষ্পাপ সন্তানরা হতে থাকবে অভিভাবকহীন।
উসমান হাদি ভাইয়ের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা—আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাত নসিব করেন।
🖋️ আদনান
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
16/12/2025
১৯২৪ সালে খিলাফত ধ্বংসের পর বৃটিশরা বিভিন্ন মুসলিম ভূখন্ডে তাদের দালালদেরকে ইনপুট করে, অন্যদিকে সোভিয়েতরা গ্রাউন্ডে তাদের সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে ছড়াতে থাকে। ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকার ভূমিগুলো দখল করে। মুসলিম বিশ্বের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গুলো বৃটিশদের কারণেই হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন মুসলিম ভূখন্ডের জাতির পিতারা ছিল আসলে বৃটিশদেরই দালাল।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা দৃশ্যপটে আসে এবং বিশ্বব্যাপী কতৃত্ব স্থাপন করার উদ্দেশ্যে একের পর এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শর্টকাটে দালাল স্থাপন করে। মুসলিম সেনাবাহিনীতে আমেরিকার অনুপ্রবেশ তখন থেকেই। যার ধারাবাহিকতায় পুর্ব পাকিস্তানে মুজিব হয়ে উঠে ব্রিটিশদের দালাল, কম্যুনিস্ট গুলা ছিল রাশিয়ার দালাল,আর পশ্চিম পাকিস্তানে সেনা শাসনের মাধ্যমে আমেরিকা নিজের বলয়ে প্রবেশ করায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধ ছিল একদিকে আমেরিকা-চীন আর অন্যদিকে সোভিয়েত-বৃটেন-ভারতের মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধ। এখানে ইসলামের কোন প্রসংগই ছিলনা। বাংলাদেশের পুরোনো ইসলামী দলগুলো যদি এই বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারত, তবে সেকুলার গোষ্ঠী আজও মুক্তিযুদ্ধের নামে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতনা....
সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন মুসলিম ভূখন্ডের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, জনগণের রক্ত ঝরছে। ২০০১ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব তিমুর এবং ২০১১ সালে সুদান থেকে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন করা এর উদাহরণ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে দরকার একমাত্র খিলাফত ব্যবস্থা, যার অধীনে তেরশো বছর মুসলিমরা সারা বিশ্বে নেতৃত্বশীল অবস্থানে ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা) ভবিষ্যদ্বানী করে গেছেন, "যুলুমের শাসনের পর আবারো ফিরে আসবে খিলাফত- নবুওয়াতের আদলে।" (মুসনাদে আহমাদ)
🖋️Mehrab Zaman
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
23/11/2025
বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই শাসকগোষ্ঠী রাজধানীকেন্দ্রিক থাকায় উন্নয়নও স্বাভাবিকভাবেই সেই রাজধানীতেই কেন্দ্রীভূত হয়; যেমন, অতীতে ব্রিটিশরাও বিশ্বের নানা অঞ্চল শোষণ করে ক্ষমতা ও সম্পদ লন্ডন—বিশেষত বাকিংহাম প্যালেসের আশপাশ—কেন্দ্রে সঞ্চিত করেছিল। আমাদের দেশে একইভাবে ঢাকাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, বাণিজ্য ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেছে, যার কারণে অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত নগরায়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নই ঢাকায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় কারণ; বর্তমানে শহরের প্রায় ৫৬% ভবন গুরুতর ভূমিকম্পঝুঁকিতে রয়েছে, যা যতটুকু ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি নয়, তার থেকে বেশি প্রশাসন ও পরিষেবা ব্যবস্থার সেন্ট্রালাইজেশনের ফল।
ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন কখনো রাজধানীকেন্দ্রিক হতো না। মুসলিম শাসকরা পশ্চিমাদের মতো অন্য অঞ্চল থেকে সম্পদ চুরি করে নিজের রাজধানীতে সঞ্চিত করতেন না; বরং যেই অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করতেন, সেখানে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করতেন। উদাহরণস্বরূপ, উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী দামাস্কাস হলেও সেসময় মুসলিমরা ভারত উপমহাদেশে এসে সেখানে কৃষি, হস্তশিল্প ও বাণিজ্যে এমন অগ্রগতি ঘটান যে ১৭শ শতকে বিশ্বের মোট GDP-এর প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই অঞ্চলের দখলে ছিল—যা বর্তমান রাজধানীকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব হতো না।
ইসলামিক সিস্টেমে নগর পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিল মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ। উদাহরণস্বরূপ, কুফা নগরী প্রতিষ্ঠার সময় হযরত উমর (رضى الله عنه) শহরের রুপরেখা সম্পর্কে স্মারকপত্রে নির্দেশ দেন, যেখানে মহাসড়কগুলো চল্লিশ হাত প্রশস্ত এবং নিম্নর পরিমাপ যথাক্রমে ত্রিশ ও বিশ হাতের চেয়ে কম নয়—এভাবে শহরকে সুরক্ষিত, সুগঠিত ও নিরাপদে চলাচলযোগ্য রাখা হত।
মুসলিম শাসনামলে স্পেনের সেভিল্লা ও আন্দালুসিয়ার মতো শহরগুলো এত সুপরিকল্পিত ছিল যে, পাশ্চাত্যে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও মুসলিম নগরীর অনুকরণে নিজেদের শহর ও ঘর তৈরি করত। তারা বলত, “মুসলিমদের নগরীগুলো হলো স্বর্গরাজ্য; এত পরিচ্ছন্ন নগর শুধু স্বর্গেই হতে পারে।” এই সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ফলেই মুসলিম শাসনামলে নগরায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এত সুসংগঠিত ও প্রশংসনীয় হয়েছিল।
এখন এই জায়গায় বর্তমান ঢাকার অবস্থা কথা চিন্তা করি। শাসক কেন্দ্রিক ও জনগনকেন্দ্রিক সিস্টেমের পার্থক্য সহজেই অনুধাবন করতে পারব।
©
21/11/2025
ভূমিকম্প হলে করণীয়...এগুলা মিথ্যা সান্ত্বনা ছাড়া কিছুই না।
আমি সবাইকে নিয়ে গেছি ছাদে। দেখলাম রাস্তায় অনেক লোক। দুই পাশে সারি সারি বিল্ডিং। রাস্তায় দাঁড়িয়ে হবেটা কী?
বলে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ান। আমার বিল্ডিং থেকে কাছের মাঠে যাইতে ১০ মিনিট লাগবে। যাইতে পারব তো? মাঠেও তো ৩০০ জনের বেশি মানুষের জায়গা হবে না।
ভূমিকম্প কেন, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় যা ছিল, তার কোনোটাই মাথায় রেখে ঢাকা শহর গড়ে তোলা হয়নি।
ভূমিকম্প তো আমাদের হাতে নাই। কিন্তু ধরেন টানা সাত দিন প্রবল বর্ষণ হইল। পানি সরে যেখানে যাবে সেই খাল-জলাশয় ভরাট করা সারা। কে করল?
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের ওপাশে বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা আর জলাশয় নিজে দেখেছি। সেখানে এখন সারি সারি বিল্ডিং।
আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের বড় পানির গাড়ি বেশির ভাগ গলিতে ঢুকতে পারবে না। রাস্তার দুপাশে দুই ফিট করে ছাড়লাম না কেন আমরা?
এই যে আমাদের সর্বগ্রাসী লোভ, এর বড় মূল্য আমাদের চুকাতেই হবে। কোনো না কেনো দিন...
- Rajib Hasan #
20/11/2025
ভিয়েতনাম কিংবা সিঙ্গাপুর কেউই তাদের বন্দরের একটি টার্মিনালও এককভাবে কোনো বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়নি তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে। বেশিরভাগ টার্মিনাল তারা নিজেরা অপারেট করে।
গতকাল বিডার নির্বাহী আশিক চৌধুরী ভিয়েতনামের কাই মেপ–থাই ভু (Cai Mep–Thi Vai) বন্দরের উদাহরণ টেনেছেন। অথচ এই বন্দরের মোট ৭টি টার্মিনালের একটি টার্মিনালও এককভাবে কোনো বিদেশী অপারেটর অপারেট করে না। সবগুলো ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় অপারেটরের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে বিদেশী ও ভিয়েতনামীয় অপারেটররা অপারেট করে।
আর সিঙ্গাপুরের সমুদ্র বন্দর “সিঙ্গাপুর বন্দর” এর ৩টি টার্মিনালের সবগুলো সিঙ্গাপুর নিজেরাই অপারেট করে। সিঙ্গাপুর এখানে একটি টার্মিনালও বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেয়নি। একটি যাত্রী (ক্রুজ) টার্মিনালে জয়েন্ট ভেঞ্চার আছে শুধু।
কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের দেশীয় অপারেটরদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম পোর্টের প্রায় সবগুলোই এককভাবে বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ চট্টগ্রাম বন্দরের “লালদিয়ার চর“এককভাবে বিদেশী অপারেটর এপিএম টার্মিনালসের হাতে ছেড়ে দেয়া হলো। এপিএম টার্মিনালসের সাথে আমাদের দেশীয় কোনো অপারেটরকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে রাখা হলো না।
বন্দর মানেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৗমত্ব ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের মত রাষ্ট্র বন্দর কেন্দ্রীক তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এককভাবে বিদেশী অপারেটরের হাতে ছেড়ে না দিলেও বাংলাদেশ সেটি বিবেচনায় নিচ্ছে না!
🖋️ Md Ziyaul Haque (সমাজকর্মী)
18/11/2025
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার সাক্ষাৎকার আমাদেরকে কি বার্তা দিচ্ছে?
সুস্পষ্ট বার্তা—হাসিনাকে পশ্চিম সম্পূর্ণ ছুঁড়ে ফেলেনি। পশ্চিমা গণমাধ্যম কারো সাক্ষাৎকার নেওয়ার মানে, তাকে তারা একঘরে করে দেয়নি। অপশনাল স্পেস রেখেছে।
খালেদ মুহিউদ্দিন যখন হাসিনার ইন্টারভিউ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল, সবাই তখন খালেদকে চেপে ধরল। পশ্চিমাদের ইঙ্গিত ছাড়া খালেদের এত সাহস হতো না বাংলাদেশে এসে এটা বলার।
তার কিছুদিন পর রয়টার্স, এএফপি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসিনার সাক্ষাৎকার নিল। খালেদের সমালোচনাকারীরা চুপ হয়ে গেল৷ কারণ পশ্চিমারা এন্টি-হাসিনা ব্লকের লোকেদেরও প্রভু।
পশ্চিমারা এমনটা কেন করছে?
আমার লেখা যারা নিয়মিত পড়েন তাদের মনে থাকার কথা। গতবছর বলেছিলাম—বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো দলকে এককভাবে শক্তিশালী হতে দেবে না আমেরিকা। সবগুলো দলকেই টিকিয়ে রাখা হবে; তবে কোনো দলই এককভাবে আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে না। এটা করা হবে গৃহযুদ্ধ লাগানোর জন্য। বাংলাদেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে আমেরিকার কোনো লাভ নেই; বরং ক্ষতি।
বিগত ১৬ বছরে সম্পূর্ণ সিস্টেম আওয়ামীকরণ করা হয়েছে৷ এটা বদলানো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আওয়ামীমুক্ত করতে কমপক্ষে বিশ বছর লেগে যাবে। আমেরিকার হাতে এতটা সময় নেই।
বার্তা সংস্থা ভয়েস অব আমেরিকা Centre for Economics and Business Research (CEBR)-এর একটা জরীপ দেখিয়ে বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন আমেরিকাকে টপকে পৃথিবীর ১ নম্বর অর্থনীতির দেশ হবে। চীনকে দমাতে আগামীতে আমেরিকা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
তাই রেডিমেড শক্তিশালী পলিটিকাল পার্টি লাগবে আমেরিকার। আর সেটার সবচেয়ে মোক্ষম অপশন আওয়ামী লীগ। জ্বি এখনো আমেরিকা চাচ্ছে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নিজের ব্লকে নিতে।
ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে এটা বোঝানোর জন্য যে, আমার ব্লকে না থাকলে তোমাকে আমরা ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি। তোমার বিচার করতেও পারি আদালতে। আমার কাছে যদি ধরনা দাও, তাহলে তুমি নিরাপদ।
এজন্যই ৫ই আগস্টের পরপর লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে আমেরিকা একমত হয়নি। পশ্চিমা পাপেট মানবাধিকার এনজিওগুলো লীগের বিচার নিয়ে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে।
আমেরিকার গ্রিন সিগনাল পেয়েই লীগ মাঠে নেমে আন্দোলন করার সাহস পাচ্ছে। ইউনুস কোনঠাসা হচ্ছে। আমেরিকা বুঝে গেছে ইউনুসকে দিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না। ইউনুসকে দিয়ে যতটুকু পারছে আদায় করে নিচ্ছে।
তাছাড়া বর্তমান মার্কিন সরকার রিপাবলিকান ব্লকের। হাসিনা রিপাবলিকান ব্লকের পলিটিশিয়ান। আর ইউনুস ডেমোক্র্যাট ব্লকের এনজিওবাদী ফিগার। খেলা একটু গভীরে।
অর্থাৎ আমেরিকা লীগ এবং এন্টি-লীগ উভয়পক্ষকে নিয়েই খেলছে।😥😥😥
~Karim Shawon
13/11/2025
ঢাবি ভিসি কি ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছেন?
ঢাবির ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহম্মেদ নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে চাইলে ভিসি পদে থাকতে পারবেননা। এটাই বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়ম। ডাকসু নির্বাচনের পরই তার ভাগ্য লিখিত হয়ে গেছে। ছাত্রদলের পক্ষে ভূমিকা না রাখাটাই ছিল তার অপরাধ।
এখন বিএনপির সেট-আপে নির্বাচন হলে, ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল হবে। হল দখ*ল হবে, চাঁদাবাজি হবে। তারেক রহমান দেশে আসবে। তার নির্দেশনায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হবে। সেখানে নিয়াজ আহম্মেদ থাকলে ছাত্রদল ও বিএনপির জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবেনা। তাই তাকে জোর করা হচ্ছে পদত্যাগে। এটা সম্মানের সাথে অসম্মানজনক পদচ্যূতি।
২০০২ সালের ২৩ জুলাই রোকেয়া হলে পুলিশী নির্যা*তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলে তৎকালীন ভিসি ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরির পদত্যাগ দাবী করা হয়। অতঃপর খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১ আগস্ট ২০০২ সালে তিনি সম্মানজনক পদত্যাগ করেন। অতঃপর তাকে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয় সম্মান বজায় রাখার জন্য।
একই পদ্ধতিতে সাদা দলের পুরনো রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে ড. নিয়াজ আহম্মেদকেও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের কথা চলছে। এটাও তার সম্মানজনক পদোন্নতি!
বর্তমান সেক্যুলার রাষ্ট্রের উচ্চ বিদ্যাপিঠের অবস্থা এরকমই। যেখানে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা হয় জাতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে। এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তিতে জড়ায়। তৈরি হয় হীন মানসিকতা। স্বার্থ ও চাকরি প্রাপ্তির আশায় সেক্যুলার রাজনীতিতে জড়ায় শিক্ষার্থীরা। সম্মানিত শিক্ষকগণও সাদা দল, নীল দলের রাজনীতে জড়ান পদোন্নতি ও প্রশাসনিক পদ লাভের জন্য।
বিদ্যাচর্চার পরিবর্তে উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো পরিচয় লাভ করে ঔপ*নিবে*শিকদের দালালীর রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে।
দালালীর রাজনীতি করলে ক্যারিয়ার উজ্জ্বল। চাকুরিসহ বিভিন্ন পদ লাভে সার্টিফিকেট হিসেবে কাজ করে এসব রাজনৈতিক পরিচয়। অন্যদিকে আদর্শিক রাজনীতিতে জড়ালে বাতিল হতে পারে ঢাবির ছাত্রত্ব। ধ্বংস হতে পারে ক্যারিয়ার। প্রাগম্যাটিস্টরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েই পদলাভ করে থাকে। বাংলাদেশের পুরো সিস্টেম ও ঢাবির ভিসি এমনই অধঃপতিত রাজনীতির শিকার।
©
11/11/2025
বাংলাদেশের সমস্ত বাণিজ্য, সমস্ত আমদানি-রপ্তানি, বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অর্থনীতি – এর ৯০% এককভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নির্ভরশীল। সেই বন্দরে আমদানি-রপ্তানির উপর মাশুল হঠাৎ করে বাড়ানো হয়েছে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০%❗
আগে যে মালটা বন্দর থেকে ছাড়িয়ে আনতে ১০০ টাকা লাগতো, সেটা আনতে এখন লাগবে ৫০০ টাকা।আগে ১ কোটি লাগলে এখন লাগবে ৫ কোটি।
অথচ এর আগের ৩৯ বছরে কোনো সরকার এই মাশুল বাড়ায় নাই।সেই মাশুলটা বাড়ানো হয়েছে বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর হস্তান্তর করার মাত্র কয়েকদিন আগে!
আগে কন্টেইনার প্রতি (১ TEU) ভাড়া ৯০ ডলারের ভাগাভাগিতে বন্দরের অপারেটর পেতো ৪৫ ডলার, আর পোর্ট অথরিটি তথা সরকার পেতো ৪৫ ডলার।
আর এখন থেকে বিদেশি অপারেটর পাবে ৭২ ডলার, সরকার পাবে ১৮ ডলার, হাসিনার আমলে করা যে বন্দোবস্তে পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতোমধ্যে চলছে।নিউমুরিং টার্মিনাল থেকে ❗ডি পি ও য়া র্ল্ড ❗ও একইভাবে অতিরিক্ত বের করে নিয়ে যাবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার।
ইস রা য়েলের দোসর এই কোম্পানিকে নিয়ে আমি নতুন করে লিখবো না আর আজ।কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালও সরাসরি দেয়া হচ্ছে এক ইস রায়ে লির কোম্পানির কাছে।
লালদিয়া দেয়া হচ্ছে গা জা গণ হ ত্যার জন্যে অস্ত্র বহনকারী মায়ার্সকের কাছে।গ্যাসফিল্ডগুলো দেয়া হচ্ছে গা জায় গণ হ ত্যাকালীন ইস রা য়েলে সবচেয়ে বেশি ইনভেস্ট করা টপ ফাইভের কোম্পানি শেভরনের কাছে।
৮০ পয়সায় তোলা যায় সে গ্যাস না তুলে ৬০ টাকায় ইউনিট প্রতি খরচে লিকুইড এলএনজি আনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ❗পিটার হাসের❗ এক্সিলারেট এনার্জির কাছে।NDA চুক্তি করে ক্যান্সারের বিষ আনা হচ্ছে খাবারের নামে।
🚫⛔ইউনুস সরকারের বন্দোবস্তে এ যেন আঠারো শতাব্দীর অবিভক্ত বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুনঃমঞ্চায়ন!
আপনারা তো শুনেছেন
"১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পরে মানুষ যদি একটা করে ইটও ঢিল মারতো, ব্রিটিশরা বেঘোরে মারা পড়তো"
মানুষ সেদিনও চুপ ছিলো, আজও চুপ করে আছে।
সে কথা বলছে না, প্রতিবাদ করছে না, এখনই ছোট্ট একটা ঢিল মারতে পারে– মারছে না।ফলাফল পেতে তখনও দেরি হয় নাই, '৫৭ সালের পর মাত্র ১৩ বছরের মধ্যে ওরা বাংলাকে ছিঁড়ে-শুষে ছোবড়া বানিয়ে ফেলেছিলো
১৭৭০ সালে, বাংলা ১১৭৬ সনে বাংলায় এক ভয়ংকর ম্যানমেড দুর্ভিক্ষ আসে। কয়েকশো বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীর সবচাইতে ধনী অঞ্চলটায় সেবার শুধু না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিলো এক-তৃতীয়াংশ মানুষ!!!!🚫⛔
এবারও খুব বেশি দেরি হবে না।ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এটাই যে, মানুষ ইতিহাস থেকে শিখে না!চালের কেজি শ্রীলঙ্কায় ৭শ টাকা হয়েছিলো বিপ্লবের আগে, আর বাংলাদেশে হবে বিপ্লবের কিছুদিন পরে
আমি শুধু আপনাদেরকে বলবো, চুজ করুন–
হয় এখনও সময় থাকতে কথা বলুন, প্রতিবাদ করুন, ডিসেম্বরে বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর হস্তান্তরের বিরোধিতা করুন। আর নয়তো পরিবার-পরিজন বউ-বাচ্চাসহ বেঘোরে মারা পড়ার আশু প্রস্তুতি নিন
You bloody scapegoat, you CANNOT escape
~~পরিমার্জিত
🖋️ওমর ফারুক জিলন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
09/11/2025
সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিচ্ছে কেন?
রাজনীতির মাঠে সক্রিয় দলগুলো নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করছে। কেউ একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট দাবী করছে। কেউ দাবী আদায়ে আঙ্গুল বাঁকা করতে চাইছে। কেউ আবার শহীদ মিনারে গণভোটের ঘোষণার দাবী জানাচ্ছে।
বহুমুখী দাবীর কারণে সরকার এখন সিদ্ধান্তহীনতায়। কেননা ৩টি দলই এখানে মা*র্কি*নপন্থী। কোন একটি দল একক অথবা যৌথভাবে যে প্রকারেই ক্ষমতায় বসুক, এদের কারো বেলায় মা*র্কি*নিদের দ্বিমত নাই। মা*র্কি*নিরা তাদের এজেন্ডা ও স্বার্থ রক্ষায় কনসার্ন। এই ৩ দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে যার দাপট বেশি হবে, যে টিকে থাকবে এবং জনগণকে যারা মবিলাইজ করতে পারবে, তাদেরকেই সাপোর্ট দেবে মা*র্কি*নিরা।
প্রশ্ন হলো, দল তিনটি যদি আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারই তার প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেবে; যেটা হবে সম্পূর্ণরূপে মা*র্কি*ন নির্দেশনায়। তাহলে ঐকমত্য টিকুক কিংবা ফেইল করুক, যে দিকেই এগিয়ে যাক দলগুলো, মা*র্কি*ন স্বার্থই শেষমেশ টিকে যাবে। যেসব বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য কিংবা টানটান উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, এর আল্টিমেট পরিণতি হল মা*র্কি*ন আকাঙ্ক্ষা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার কোন বালাই নাই এখানে।
মা*র্কি*ন সমর্থিত দলগুলো জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগণকে ধোকা দিয়ে মা*র্কি*ন পলিসি বাস্তবায়নই এদের রাজনীতি। যে দল যত চাতুর্যের সাথে জনগণকে ধোকা দিতে পারবে, সেটাই ততো দক্ষ রাজনৈতিক দল! এই গণভোট, নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি এগুলো দিয়ে সাধারন জনতার বিন্দুমাত্র স্বার্থ রক্ষা হবেনা। ঔপ*নিবে*শিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে, কোন মুসলিম ভূখণ্ডে কোনদিন স্থিতিশীলতা আসবেনা।
©
05/11/2025
মামদানির জন্য জয়োধ্বনি দেখে "বারাক হুসেন ওবামার" কথা মনে পড়ে গেল। অবাক হব না যদি তাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়। একটি আদর্শিক রাষ্ট্র তার সবকিছু আউটসোর্স করতে পারে। কেবল সিস্টেমটা ধরে রাখে। ব্রিটিশরা যেমন ঋষি সুনাকরে পিএম বানিয়েছিল।
এরা কেউ মুসলিম বা হিন্দু না। এরা লিবারেল, ডেমোক্রেটিক, ক্যাপিটালিস্ট। এরা হিসাব করে ইরাকে কত অ*স্ত্র খরচ করে কত তেল পেলে পোষাবে। মানুষের জীবন নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।
©
04/11/2025
ই*জ'রাইলে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের গণধর্ষণের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় ই*জ'রাইল ও IDF (Is*rael Defense Forces) এর ভাবমূর্তির বিরাট ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ধর্ষণ বড় বিষয় না, ভিডিও ফাঁস হওয়ায় মাথা গরম তাঁর। এসময় চরম অমানবিক নির্যাতন ও কুকুর লেলিয়ে আক্রমণ করতে দেখা যায়। ভিডিও ফাঁসের দায়ে আটক করা হলেও, ধর্ষণের জন্য কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়নি। এদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় প্রতিনিয়ত আক্রমণ তো চলছেই।
তানভীর আঞ্জুম
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়