21/11/2025
মসজিদের সাধারণ আদাব (যা প্রতিটি মুসলমানের জানা ও মানা আবশ্যক)
১ পবিত্রতার সাথে প্রবেশ করা
ওযু করে মসজিদে ঢোকা সুন্নত। ওযু না থাকলেও ঢোকা যায়, কিন্তু নামাজের জন্য ওযু লাগবে।
জুনুবী (নাপাক), হায়েজ-নিফাস অবস্থায় মসজিদে ঢোকা ও অবস্থান করা হারাম।
২ ডান পা দিয়ে প্রবেশ, বাঁ পা দিয়ে বের হওয়া
দোয়া পড়ে:
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
(আবু দাউদ, মুসলিম)
৩ মসজিদে দুর্গন্ধ নিয়ে না ঢোকা
পেঁয়াজ-রসুন খেয়ে, সিগারেট খেয়ে, দুর্গন্ধযুক্ত জুতা বা শরীর নিয়ে মসজিদে আসা নিষেধ। (বুখারী-মুসলিম)
৪ তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদের সালাম)
মসজিদে ঢুকেই বসার আগে ২ রাকাত নফল পড়া সুন্নত (যদি হারাম ও মাকরূহ সময় না হয়)।
৫ মসজিদে উঁচু আওয়াজে কথা না বলা
হৈচৈ, চিৎকার, ঝগড়া, দুনিয়াবী বেচাকেনা, হারানো জিনিসের ঘোষণা—সবই নিষেধ।
রাসূল (সা.) বলেছেন: “কিয়ামতের আলামত হলো মসজিদগুলোকে রাস্তা বানানো হবে।” (আহমাদ)
৬ মসজিদ পরিষ্কার রাখা
জুতা নির্ধারিত স্থানে রাখা, ময়লা না ফেলা, কার্পেট নোংরা না করা।
৭ কাতার সোজা করা ও ফাঁক বন্ধ করা
কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো। শয়তানের জন্য ফাঁক রাখা গুনাহ।
৮ মসজিদে অপ্রয়োজনে ঘুমানো, খাওয়া-দাওয়া, ব্যবসা নিষেধ
শুধু প্রয়োজনে (মুসাফির, অসহায়) ঘুমানো যায়।
নিয়মিত মসজিদকে আস্তানা বানানো মাকরূহ।
৯ মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ করা
রিংটোন বেজে নামাজ বা খুতবা নষ্ট করা বড় গুনাহ।
১০ ইমাম ও মুসল্লিদের সম্মান করা
ইমামের সামনে দিয়ে না যাওয়া
কাতারের মাঝে দিয়ে সামনে না যাওয়া (যদি জায়গা থাকে)
খুতবার সময় কথা না বলা (এমনকি অন্যকে চুপ করতেও নিষেধ)
১ ১ বের হওয়ার সময় দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
(মুসলিম)
১২ মসজিদকে ভালোবাসা ও বেশি যাওয়া
রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে যাওয়া-আসা পছন্দ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন।” (মুসলিম)
এই আদবগুলো মেনে চললে মসজিদে প্রবেশের প্রতি কদমে সওয়াব হয় এবং মসজিদের হুরমত (সম্মান) অটুট থাকে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মসজিদের সঠিক আদব শিখিয়ে মানার তাওফিক দিন। আমিন।