18/05/2026
🎯 থুসিডাইডিস ট্র্যাপ/ফাঁদ
থুসিডাইডিস ট্র্যাপ বা থুসিডাইডিস ফাঁদ হলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি বহুল চর্চিত তত্ত্ব, যা কোনো প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি যখন দেখে যে আরেকটি উদীয়মান শক্তি দ্রুত উন্নতি করে তাদের সমকক্ষ বা হুমকি হয়ে উঠছে, তখন সেই ভীতি থেকে দুই দেশের মধ্যে অনিবার্য যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ধারণার মূল উৎস এবং প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
📙উৎপত্তি:
এই পরিভাষাটি প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস-এর নামানুসারে করা হয়েছে। তিনি তাঁর 'হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার' (পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের ইতিহাস) গ্রন্থে লিখেছিলেন, "এথেন্সের শক্তির উত্থান এবং তা স্পার্টার মধ্যে যে ভীতি তৈরি করেছিল, সেটিই যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।"
📙তত্ত্বটির রূপরেখা:
আধুনিক মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন ২০১০-এর দশকে এই ধারণাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জনপ্রিয় করে তোলেন। তত্ত্বটির মূল ভিত্তি হলো:
📙 প্রতিষ্ঠিত শক্তি (Dominant Power):
বিদ্যমান পরাশক্তি (যেমন- প্রাচীন গ্রিসে স্পার্টা)।
📙উদীয়মান শক্তি (Rising Power): নতুন পরাশক্তি (যেমন- প্রাচীন গ্রিসে এথেন্স)।
📙সঙ্কট: উদীয়মান শক্তির অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক উত্থান প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে আতঙ্কিত করে তোলে। আধিপত্য হারানোর এই ভয় থেকেই শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধ বেধে যায়।
📙আধুনিক প্রেক্ষাপট:
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনবর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে এই তত্ত্বটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন-এর মধ্যকার উত্তেজনাকর সম্পর্ক বোঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এখানে এথেন্সের মতো চীনের দ্রুত উত্থানকে বর্তমান সময়ের স্পার্টা তথা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ ও আধিপত্যের লড়াই একসময় ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে, ঠিক যেমনটি থুসিডাইডিসের আমলে এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে ঘটেছিল।